চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা ও আলুকদিয়ায় সর্বাত্মক লকডাউন

চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা ও আলুকদিয়ায় সর্বাত্মক লকডাউন

জেলা প্রশাসক জানান, লকডাউন করা এলাকায় জরুরি সেবা ছাড়া সব ধরনের যানবাহন বন্ধ থাকবে। ওষুধের দোকান ছাড়া সব ধরনের দোকান বন্ধ থাকবে। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কাঁচাবাজার খোলা থাকবে। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে কঠোর অবস্থানে থাকবে প্রশাসন।

করোনা সংক্রমণ বাড়ার কারণে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা ও সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নে আগামী সাত দিনের সর্বাত্মক লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শনিবার বিকেল ৪টার দিকে জেলা করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধসংক্রান্ত কমিটির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানান কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন, ‘রোববার সকাল ৬টা থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত জেলায় কঠোর লকডাউন কার্যকর করা হবে।’

জেলা প্রশাসক জানান, লকডাউনের বিষয়ে পরে একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, লকডাউন করা এলাকায় জরুরি সেবা ছাড়া সব ধরনের যানবাহন বন্ধ থাকবে। ওষুধের দোকান ছাড়া সব ধরনের দোকান বন্ধ থাকবে। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কাঁচাবাজার খোলা থাকবে। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে কঠোর অবস্থানে থাকবে প্রশাসন।

করোনায় আক্রান্তদের বাড়ি লকডাউনের পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও খাদ্যসহায়তা দেয়া হবে। এ ছাড়া শ্রমিক ও দিনমজুরদের খাদ্যসহায়তা দেয়া হবে।

এর আগে গত ১৫ জুন লকডাউন করা হয় জেলার সীমান্তবর্তী দামুড়হুদা উপজেলা। ১৮ জুন বিশেষ বিধিনিষেধ জারি করা হয় জীবননগর উপজেলায়।

জরুরি সভায় উপস্থিত ছিলেন করোনা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধসংক্রান্ত উপকমিটির আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনিরা পারভীন, জেলার সিভিল সার্জন এ এস এম মারুফ হাসান, চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ খালেকুজ্জামানসহ আরও অনেকে।

জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম জানান, চুয়াডাঙ্গায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে করোনার সংক্রমণ। মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ জেলায় নতুন করে আরও ৭৬ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এটাই করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সর্বোচ্চ শনাক্ত। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ৫২৩ জনে। সুস্থ হয়েছেন ৭ জন; মোট সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৯৩৮ জন। শনিবার বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার ব্যবধানে মারা গেছেন এক নারীসহ তিনজন। এ নিয়ে জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮০ জনে।

করোনার সংক্রমণ রোধে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

আরও পড়ুন:
দিনাজপুরে পথে পথে বাঁশের ব্যারিকেড, মানছে না অনেকেই
সাতক্ষীরায় বাড়ল লকডাউনের মেয়াদ
মাগুরায় লকডাউনেও সংক্রমণ বাড়ছে
বেনাপোল ও শার্শায় এক সপ্তাহের লকডাউন
যশোরে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৫ মৃত্যু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বসুরহাটে ছাত্রলীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ

বসুরহাটে ছাত্রলীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ করিম উদ্দিন শাকিল। ছবি: নিউজবাংলা

গুলিবিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মীর নাম করিম উদ্দিন শাকিল। ২৪ বছরের শাকিল কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারী বলে জানা গেছে।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তিনি বর্তমানে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বসুরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মিস্ত্রি বাড়িতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মীর নাম করিম উদ্দিন শাকিল। ২৪ বছরের শাকিল কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারী বলে জানা গেছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মাহবুবুর রশিদ মঞ্জু বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার থেকে ফেসবুক লাইভে এসে আমাকে, আমার খালাতো ভাই রাহাত ও ছাত্রলীগ কর্মী শাকিলকে হত্যার হুমকি দেয় কাদের মির্জার অনুসারী রাসেল। হুমকির দুই দিন পর রাসেলের নেতৃত্বে কাদের মির্জার অনুসারীরা শাকিলের ওপর হামলা চালায়। রাসেল এ সময় শাকিলকে গুলি করে।’

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের (একাংশ) সভাপতি ইস্কান্দার হায়দার চৌধুরী বাবুল বলেন, ‘পারিবারিক শুত্রুতার জেরে করিম উদ্দিন শাকিল নামের একজন হামলার শিকার হয়েছে বলে শুনেছি। এখানে কাদের মির্জার কোনো কর্মী বা সমর্থক জড়িত নয়। ব্যক্তিগত ইস্যুকে রাজনৈতিক অঙ্গনে এনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে একটি পক্ষ।’

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম জানান, শাকিলের দুই পায়ে গুলির স্প্লিন্টারের আঘাত ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুদ্দিন আনোয়ার বলেন, ‘একজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
দিনাজপুরে পথে পথে বাঁশের ব্যারিকেড, মানছে না অনেকেই
সাতক্ষীরায় বাড়ল লকডাউনের মেয়াদ
মাগুরায় লকডাউনেও সংক্রমণ বাড়ছে
বেনাপোল ও শার্শায় এক সপ্তাহের লকডাউন
যশোরে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৫ মৃত্যু

শেয়ার করুন

ফুফুর বাড়ি থেকে ফিরল তিন বোনের নিথর দেহ

ফুফুর বাড়ি থেকে ফিরল তিন বোনের নিথর দেহ

রংপুরে নদীতে ডুবে মারা গেছে একই বাড়ির তিন মেয়ে। ছবি: নিউজবাংলা

ওই তিন মেয়ের পরিবার জানায়, গত সপ্তাহে তারা নাটারাম শেখপাড়ায় তাদের ফুফু কোহিনুর বেগমের বাড়িতে বেড়াতে যায়। বৃহস্পতিবার বিকেলে তারা যমুনেশ্বরী নদীতে নামেন। এ সময় নদীর স্রোতে তলিয়ে যায় তারা। তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

করোনার কারণে বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই সুযোগে গত সপ্তাহে ফুফুর বাড়ি বেড়াতে যায় তিন বোন। ওই বাড়ির পাশেই নদী। সাঁতার না জানা তিন বোন সাহস করে নেমে যায় নদীতে।

ওই সাহসই ডেকে আনে সর্বনাশ। নদীর স্রোতে তলিয়ে যায় তিনজনই। তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে রংপুরের বদরগঞ্জে।

উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের নাটারাম শেখপাড়া গ্রামে যমুনেশ্বরী নদীতে নমেছিল তারা ।

নিহতরা হলো একই ইউনিয়িনের ওসমানপুর গ্রামের ১০ বছর বয়সী রাবেয়া বাশরী, তার বড় বোন ১৬ বছরের রুবিনা আক্তার এবং তাদের চাচাত বোন ১১ বছরের সাদিয়া আক্তর।

রাবেয়া ও রুবিনা ওই গ্রামের রবিউল ইসলামের মেয়ে। সাদিয়ার বাবার নাম সাইদুল ইসলাম। তারা একই বাড়ির বাসিন্দা।

ওই তিন মেয়ের পরিবার জানায়, গত সপ্তাহে তারা নাটারাম শেখপাড়ায় তাদের ফুফু কোহিনুর বেগমের বাড়িতে বেড়াতে যায়। বৃহস্পতিবার বিকেলে তারা যমুনেশ্বরী নদীতে নামেন। এ সময় নদীর স্রোতে তলিয়ে যায় তারা। তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

ওই তিন মেয়ের চাচা বাদশা মিয়া বলেন, ‘আমার কোনো ভাতিজিই সাঁতার জানত না।’

বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক এ এইচ এম সানাউল হক বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই ওই তিন মেয়ের মৃত্যু হয়।’

বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, ‘কারো কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ তিনটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
দিনাজপুরে পথে পথে বাঁশের ব্যারিকেড, মানছে না অনেকেই
সাতক্ষীরায় বাড়ল লকডাউনের মেয়াদ
মাগুরায় লকডাউনেও সংক্রমণ বাড়ছে
বেনাপোল ও শার্শায় এক সপ্তাহের লকডাউন
যশোরে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৫ মৃত্যু

শেয়ার করুন

দলীয় কর্মসূচিতে স্লোগান দিয়ে আলোচনায় ওসি

দলীয় কর্মসূচিতে স্লোগান দিয়ে আলোচনায় ওসি

শরীয়তপুরের চৌরঙ্গী মোড়ে রাজনৈতিক স্লোগান দেন পালং থানার ওসি আক্তার হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, ওসি আকতার হোসেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্লোগান দিচ্ছেন। তিনি বলেছেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, শেখ কামালের জন্মদিন। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। আমরা সবাই মুজিব সেনা, ভয় করি না বুলেট বোমা।’

শরীয়তপুরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (আচারণ) বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগের একটি দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তার রাজনৈতিক স্লোগান, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মিষ্টি খাওয়ার ভিডিও ছড়িয়েছে ফেসবুকে।

তবে ওই পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, তিনি দলীয় কর্মসূচিতে একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে অংশ নিয়েছেন। এটাকে অন্যভাবে নেয়ার সুযোগ নেই।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পুত্র শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার রাত ১২টার দিকে সদরের শরীয়তপুরের চৌরঙ্গী মোড়ে মোমবাতি প্রজ্জ্বালন ও পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন পালং মডেল থানার ওসি আক্তার হোসেন।

ওই অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, ওসি আকতার হোসেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্লোগান দিচ্ছেন।

ভিডিওতে দেখা যায় আওয়ামী লীগ নেতাদের মাঝে দাঁড়িয়ে ওসি বলেছেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, শেখ কামালের জন্মদিন। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। আমরা সবাই মুজিব সেনা, ভয় করি না বুলেট বোমা।’

দলীয় কর্মসূচিতে স্লোগান দিয়ে আলোচনায় ওসি
পুষ্পস্তবক অর্পণ করছেন ওসি আক্তার হোসেন

শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে, সদর উপজেলার সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, পৌরসভা কমিটির সভাপতি এমএম জাহাঙ্গীরসহ আরও অনেকে।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তাফা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শেখ কামালের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ওসি অংশ নিয়েছিলেন। প্রথমে আমি স্লোগান দিয়েছিলাম। আমার পরে ওসি স্লোগান দিয়েছেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পালং মডেল থানার ওসি আক্তার হোসেন বলেন, ‘ওইটা আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে দিয়েছি। আমি রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে দেইনি। এটা একটা জাতীয় প্রোগ্রাম ছিল। এখানে দেয়া যায়। এটা অন্যভাবে নিবেন না, ভাই।’

দলীয় কর্মসূচিতে স্লোগান দিয়ে আলোচনায় ওসি
পালং মডেল থানার ওসি আক্তার হোসেন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাজনৈতিক সভা-সেমিনারে কোনো পুলিশ সদস্য এভাবে অংশ নিতে পারেন না। এটা সরকারি কর্মচারি বিধিমালা (আচারণ) ১৯৭৯ এর পরিপন্থি।’

সরকারি কর্মচারি বিধিমালা (আচারণ) ১৯৭৯ এর বিধি-২৫ (রাজনৈতিক ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ) এ বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দল বা রাজনৈতিক দলের কোনো অঙ্গ সংগঠনের সদস্য হতে পারবে না। বাংলাদেশ এবং বিদেশে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বা কোনো প্রকারেই সহযোগিতা করতে পারবে না।

ওসির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সোহেল রানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একজন পু‌লিশ কর্মকর্তা বা সদস্যের করণীয় এবং সেই করণীয় পদ্ধ‌তি ও উপায় সু‌নি‌র্দিষ্টভা‌বে আই‌নে উ‌ল্লেখ আ‌ছে। মৌ‌লিক প্র‌শিক্ষণ থে‌কে শুরু করে নানা সময় পু‌লি‌শের সব সদস্য‌কে সে বিষ‌য়ে জানানো হয়। সু‌নি‌র্দিষ্ট তথ্য ও অ‌ভি‌যো‌গের ক্ষে‌ত্রে যে কো‌নো বিচ্যু‌তির বিষ‌য়ে আই‌নি ব্যবস্থা নেয়া হ‌য়ে থা‌কে।’

আরও পড়ুন:
দিনাজপুরে পথে পথে বাঁশের ব্যারিকেড, মানছে না অনেকেই
সাতক্ষীরায় বাড়ল লকডাউনের মেয়াদ
মাগুরায় লকডাউনেও সংক্রমণ বাড়ছে
বেনাপোল ও শার্শায় এক সপ্তাহের লকডাউন
যশোরে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৫ মৃত্যু

শেয়ার করুন

সিঙ্গারের গুদামে আগুনের সূত্রপাত নিয়ে ধোঁয়াশা

সিঙ্গারের গুদামে আগুনের সূত্রপাত নিয়ে ধোঁয়াশা

সিঙ্গার কারখানার গুদামে লাগা আগুনে পুড়ে গেছে মালামাল। ছবি: নিউজবাংলা

ফায়ার সার্ভিসের ভাষ্য, পুড়ে যাওয়া ট্রান্সফরমার থেকে ড্রপ তারের মাধ্যমে আগুন গুদামে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি বলছে, সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি থাকলেও আগুন লাগার কারণ অন্য কিছু। আর ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গেই গুদামের ভেতর থেকে ধোয়া বের হতে শুরু করে বলে জানিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

ঢাকার সাভারে সিঙ্গারের কারখানার গুদামে অগুনে পুড়ে গেছে বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক পণ্য। প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।

অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন কথা বলছে ফায়ার সার্ভিস ও পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি।

ফায়ার সার্ভিসের ভাষ্য, পুড়ে যাওয়া ট্রান্সফরমার থেকে ড্রপ তারের মাধ্যমে আগুন গুদামে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি বলছে, সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি থাকলেও আগুন লাগার কারণ অন্য কিছু।

কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গেই গুদামের ভেতর থেকে ধোয়া বের হতে শুরু করে।

ঢাকার সাভারে ইলেক্ট্রনিক পণ্যের প্রতিষ্ঠান সিঙ্গার বাংলাদেশের গুদামে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে আগুন লাগে।

ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম নিউজবাংলাকে জানান, প্রথমে দুইটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে যায়। পরে নিয়ন্ত্রণে কাজে যোগ দেয় আশপাশের আরও বেশ কয়েকটি ইউনিট।

ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা জানান, গুদামে সিঙ্গারের ফ্রিজ, এসি ও টিভিসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য ছিল।

চার ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা পুড়ে যাওয়া গুদাম পরিদর্শন করে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রেস্তোরা মালিক জীবন সরকার বলেন, ‘আমরা ভোর ৪টার দিকে দোকান খুলছি। সকাল সাড়ে ৭টার পর খাম্বা থেকে দুইটা ফায়ার হয়। একটা ফায়ার খুব জোরে হয়। তহন আমরা এই দিকে আয়্যা পড়ি। তখন একটা তার ঝুইলা থাকে।

‘ওই তারটা বাড়ি খায়্যা আবার ফায়ার হয়। তখন এই জায়গাটা থাইকা একটা তার ছিড়া যায়। ছিড়া তার থেকে গুদামের পিছনে মিটারে আগুনডা ধইরা যায়। পরে পুরা গোডাউনে আগুন ধইরা যায়।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ’সকালে গুদামের সামনে প্রথম টান্সমিটারে বিস্ফোরণ হইছে। তখন একটা তার ছিড়া নিচে পড়ে। পরে দেখি গুদামে আগুনের সূত্রপাত হইছে। আমরা ফায়ার সার্ভিসে খবর দিছি।’

সিঙ্গারের ওয়্যারহাউজ ম্যানেজার মৃণাল কান্তি জানান, ‘হঠাৎ করে আমরা খবর পাই ভেতর থেকে ধোঁয়া আসতেছে। তখন সাথে সাথে চলে আসছি। সিকিউরিটি গার্ড ছিলেন একজন, উনি আমাদের ফোন করছে।

‘আমাদের স্থানীয় লোকজন জানান, বাইরে যে ট্রান্সমিটার ছিল, ওইটা ব্লাস্ট হইছিল। কিন্তু ওনারা বুঝতে পারে নাই যে ভেতরে আগুন লাগছে। পরে যখন ধোঁয়া উঠছে তখনি আমাদের ইনফর্ম করে। তবে মানুষের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয় নাই।

‘ভিতরে ম্যাক্সিমাম নতুন ফ্রিজ আর কিছু জিনিসপত্র ছিল। সবকিছু পুড়ে গেছে। আগুন নেভাতে ৩-৪ ঘণ্টা লাগছে।’

ফায়ার সার্ভিসের ৪ নম্বর জোন কমান্ডার আব্দুল আলীম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের প্রথম যে ম্যাসেজ দিয়েছেন, তিনি জানান, এখানে একটা ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ ঘটছে। পরে ট্রান্সফরমারে আগুন লেগে গেছে। এই আগুন থেকে গুদামে আগুন লেগে গেছে।’

এভাবে আগুন লাগতে পারে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ট্রান্সফরমার থেকে ড্রপ তার সরাসরি গুদামের ভেতরে গেছে। ওই সাইডে গিয়ে আগুন লেগে গেছে। এভাবে আগুন লাগা সম্ভব। অবশ্যই এটা একটা বড় কারণ।

‘আমরাও ধারণা করছি ওইটাই হয়েছে। পোড়া তার ওখানে ছিল। উপস্থিত লোকজনও এটাই বলছে। বিদ্যুতের লোকজন পরে ট্রান্সফরমারটা খুলে নিয়ে গেছেন।’

ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ে তিনি বলেন, ‘লকডাউনের কারণে মাল বিক্রি করা যায় নাই। সেই মালগুলো এখানে জমা ছিল। ফ্রিজ, এসি, টিভি, রাইস কুকার, সেলাইমেশিনসহ আরও জিনিস ছিল। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।’

আগুন নেভাতে সময় লাগলো কেন এ বিষয়ে বলেন, ‘ওনারা যেটা বলেছেন গুদামটা ১৭ হাজার স্কয়ার ফুট। টিনশেডের গুদামের ভেতরে কোন পাটিশন বা ওয়াল ছিল না। ওয়াল থাকলে আগুনটা স্প্রেড হতে পারতো না। যে কারণে আগুনের তীব্রতা বেশি ছিল।’

এই কর্মকর্তা বলেন, ‘শুক্রবার নাগাদ এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি হতে পারে। তবে এটা অধিদপ্তরের বিষয়।’

ঢাকা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ হারুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের লাইনের কোন সমস্যা হয় নাই। লাইন থেকে ওই খানে আগুন লাগবে কীভাবে? তার ছিঁড়ছে আমার সাব-স্টেশনের কাছে, সেখানেতো আগুন লাগে নাই। সেটা কোন ফেইস তার না। উপরে থাকে নিউট্রল তার। বজ্রপাতের প্রটেকশনের জন্য যেটা থাকে।

‘তার পোড়ার সঙ্গে সঙ্গে ১৪২ সেকেন্ডের একভাগ সময় লাগবে বন্ধ হতে। এটা অটো বন্ধ হয়ে যাবে। না হলেতো আমার ট্রান্সফরমার, সাবস্টেশন সবকিছু পুড়ে যাবে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে প্রথমে মানুষ বিদ্যুৎ হ্যানত্যান এসব বলে। অন্য কারণে গুদামে আগুন লাগতে পারে। অনেক কিছুইতো হতে পারে। ভেতরে কী হয়েছে আমরাও বুঝতে পারতেছি না।’

আরও পড়ুন:
দিনাজপুরে পথে পথে বাঁশের ব্যারিকেড, মানছে না অনেকেই
সাতক্ষীরায় বাড়ল লকডাউনের মেয়াদ
মাগুরায় লকডাউনেও সংক্রমণ বাড়ছে
বেনাপোল ও শার্শায় এক সপ্তাহের লকডাউন
যশোরে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৫ মৃত্যু

শেয়ার করুন

কারখানায় নামাজ পড়া যাবে না নোটিশ প্রত্যাহার

কারখানায় নামাজ পড়া যাবে না নোটিশ প্রত্যাহার

সমালোচনার মুখে আগের নোটিশ প্রত্যাহার করে নতুন নোটিশ দেয় কর্তৃপক্ষ। ছবি: নিউজবাংলা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি সমালোচিত হলে বুধবার কোরিয়ান প্রতিষ্ঠানটি দুঃখ প্রকাশ করে অনিচ্ছাকৃত ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার জন্য ক্ষমা চায়।

গাজীপুরের টঙ্গীর একটি কারখানায় নামাজ, টুপি ও পাঞ্জাবি পরা যাবে না বলে নোটিশ দেয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি সমালোচিত হলে বুধবার কোরিয়ান প্রতিষ্ঠানটি দুঃখ প্রকাশ করে অনিচ্ছাকৃত ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার জন্য ক্ষমা চায়।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সাতাইশ দাড়াইল এলাকার এসঅ্যান্ডপি বাংলা লিমিটেড নামের একটি কারখানার নোটিশে বলা হয়, ‘সকল শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, কারখানার ভেতরে নামাজ পড়া যাবে না। সেই সঙ্গে কারখানায় পাঞ্জাবি ও টুপি পড়া নিষেধ।’

কারখানায় নামাজ পড়া যাবে না নোটিশ প্রত্যাহার
কারখানাতে দেয়া এই নোটিশটি ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে আর সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয় সমালোচনা

এ নোটিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এরপর কারখানা কর্তৃপক্ষ নোটিশটি প্রত্যাহার করে নতুন নোটিশ দেয়।

এতে বলা হয়, ‘সকল শ্রমিক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, কারখানার অভ্যন্তরে নামাজ পড়া, পাঞ্জাবি ও টুপি পরা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা প্রদান অনিচ্ছাকৃত ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। যার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

‘কারখানার কর্মকর্তা, কর্মচারীরা আগের মতোই যার যার ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী পোশাক পরিধানসহ স্বাধীনভাবে ইবাদত করতে পারবেন।’

এসঅ্যান্ডপি বাংলা লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. মাহবুব আলম বলেন, ‘কোরিয়ান নাগরিকদের মালিকানাধীন কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে গার্মেন্টস পণ্য উৎপাদন করে যাচ্ছে। সম্প্রতি মালিকপক্ষ কারখানায় নামাজ, টুপি ও পাঞ্জাবি না পরতে একটি নির্দেশনা দেয়। এটা মূলত কোরিয়ান মালিকপক্ষের ভাষাগত ভুল ছিল। পরে আরেকটি চিঠির মাধ্যমে মালিকপক্ষ আদেশটি প্রত্যাহার করে নেয়।’

আরও পড়ুন:
দিনাজপুরে পথে পথে বাঁশের ব্যারিকেড, মানছে না অনেকেই
সাতক্ষীরায় বাড়ল লকডাউনের মেয়াদ
মাগুরায় লকডাউনেও সংক্রমণ বাড়ছে
বেনাপোল ও শার্শায় এক সপ্তাহের লকডাউন
যশোরে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৫ মৃত্যু

শেয়ার করুন

কিশোরী ধর্ষণ মামলায় কিশোর গ্রেপ্তার

কিশোরী ধর্ষণ মামলায় কিশোর গ্রেপ্তার

পুলিশ জানায়, গত ২৮ জুলাই বেলা ১১টার দিকে কিশোরীর বড় বোন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার বাবা-মা অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে যান। এ সুযোগে বাসায় ঢুকে কিশোরীকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত দুজন।

গাজীপুরের টঙ্গীতে কিশোরীকে ধর্ষণ মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পূর্ব আরিচপুর এলাকা থেকে বুধবার রাতে ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে তাকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে টঙ্গী পূর্ব থানায় ওই কিশোরীর মা দুজনকে আসামি করে মামলা করেন।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন টঙ্গী পূর্ব থানার উপপরিদর্শক পারভেজ।

পুলিশ জানায়, গত ২৮ জুলাই বেলা ১১টার দিকে কিশোরীর বড় বোন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার বাবা-মা অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে যান। এ সুযোগে বাসায় ঢুকে কিশোরীকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত দুজন।

উপপরিদর্শক পারভেজ হোসেন জানান, পলাতক অপর আসামিকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

কিশোরীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
দিনাজপুরে পথে পথে বাঁশের ব্যারিকেড, মানছে না অনেকেই
সাতক্ষীরায় বাড়ল লকডাউনের মেয়াদ
মাগুরায় লকডাউনেও সংক্রমণ বাড়ছে
বেনাপোল ও শার্শায় এক সপ্তাহের লকডাউন
যশোরে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৫ মৃত্যু

শেয়ার করুন

কর্মসৃজন প্রকল্প: অসহায় শিক্ষকও পাননি পুরো মজুরি

কর্মসৃজন প্রকল্প: অসহায় শিক্ষকও পাননি পুরো মজুরি

কর্মসৃজনের টাকা বিতরণ এলাকার পাশে বসে এভাবেই শ্রমিকের টাকা কেটে রাখেন ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের লোকজন। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয় এমপি বলেন, ‘একজন শিক্ষক কতটুকু অসহায় হলে শ্রমিকের কাজ করতে পারেন। আর তাদের ন্যায্য মজুরি জোরপূর্বক হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি অত্যন্ত ঘৃণিত। শুধু এসব শিক্ষকদের নয়, সেখানে বেশিরভাগ উপকারভোগীর কাছ থেকে একইভাবে চার হাজার করে টাকা কেটে নেয়া হয়েছে।’

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের একটি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম। এমপিওভুক্ত না হওয়ায় আট বছর ধরে বিনা বেতনে ছড়িয়েছেন শিক্ষার আলো।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সরকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। টিউশনও বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম বিপাকে পড়েন নুরুল ইসলামসহ ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

আত্মমর্যাদা জলাঞ্জলি দিয়ে একপর্যায়ে নুরুল ইসলামসহ চার শিক্ষক কাজ নেন সরকারের কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্পে।

অভিযোগ উঠেছে, এ প্রকল্পে মাটি কাটার সামান্য মজুরির পুরোটাও পাননি তারা। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা মজুরির ১৬ হাজার টাকার মধ্যে চার হাজার টাকা নিয়ে নিয়েছেন।

প্রতিকার চেয়ে নুরুল ইসলাম জেলা প্রশাসকসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক এমএ মতিনের কাছে দিয়েছেন লিখিত অভিযোগ। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন এমপি মতিন।

কর্মসৃজন প্রকল্প: অসহায় শিক্ষকও পাননি পুরো মজুরি
শিক্ষক নুরুল ইসলামের দেয়া লিখিত অভিযোগ

অভিযোগে বলা হয়, ৮ বছর আগে দুর্গম চরাঞ্চল ব্রহ্মপুত্র নদ বিচ্ছিন্ন উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের ১০ শিক্ষক নিয়ে ‘দৈ খাওয়ার চর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ গড়ে তোলেন নুরুল। তখন থেকে ওই শিক্ষকরা বিনা বেতনে চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি বিভিন্ন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তারা।

করোনা পরিস্থিতিতে সব বন্ধ হয়ে গেলে নুরুলসহ বিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষক মানবেতর জীবনযাপন করে আসছিলেন। বাধ্য হয়েই সরকারের কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্পে মাটি কাটার কাজ নেন তারা।

এতে আরও বলা হয়, ২০২০-২১ অর্থ বছরে দুই ধাপে ৮০ দিন কাজ করেন তারা। ২০০ টাকা মজুরি হিসাবে জনপ্রতি তাদের ১৬ হাজার টাকা পাওয়ার কথা। গত ৩০ জুলাই ওই ইউনিয়নে শ্রমিকদের মজুরির টাকা বিতরণ করা হয়।

নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ব্যাংক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মজুরির টাকা নিয়ে বের হতেই ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের প্রতিনিধি আলী হোসেন, ইউসুফ আলী ও আয়নাল হক মৃধা বারান্দা থেকে প্রত্যেক উপকারভোগীর কাছ থেকে জোর করে চার হাজার টাকা নিয়ে নেন।

ওই সময় তিনিসহ অন্য শিক্ষকরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদেরকে নানা হুমকি দেয়া হয়। উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন মন্টুর নির্দেশে টাকা তোলা হচ্ছে জানালে বাধ্য হয়ে তিনিসহ শিক্ষক মনসুর আলী, শাহীন আলম, শহিদুল আলম ও শহিদুল ইসলাম তাদের মোট ২০ হাজার টাকা দেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা চেয়ারম্যানের তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন থেকে কল করে তাকে গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনার পর প্রতিকার চেয়ে তিনি জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় এমপি সদস্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন মন্টুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো মন্তব্য করতে পারব না।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও ভিডিও ফুটেজ দেখে সংশ্লিষ্ট ইউএনওকে বিষয়টি তদন্ত করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে ওই শিক্ষকের লিখিত অভিযোগ এখনও পাইনি।

স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক এমএ মতিন অভিযোগ পাবার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘একজন শিক্ষক কতটুকু অসহায় হলে শ্রমিকের কাজ করতে পারেন। আর তাদের ন্যায্য মজুরি জোরপূর্বক হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি অত্যন্ত ঘৃণিত।

‘শুধু এসব শিক্ষকদের নয়, সেখানে বেশিরভাগ উপকারভোগীর কাছ থেকে একইভাবে চার হাজার করে টাকা কেটে নেয়া হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে এর সত্যতা পাই। এ বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবার সুপারিশ করব।’

আরও পড়ুন:
দিনাজপুরে পথে পথে বাঁশের ব্যারিকেড, মানছে না অনেকেই
সাতক্ষীরায় বাড়ল লকডাউনের মেয়াদ
মাগুরায় লকডাউনেও সংক্রমণ বাড়ছে
বেনাপোল ও শার্শায় এক সপ্তাহের লকডাউন
যশোরে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৫ মৃত্যু

শেয়ার করুন