তসবিহ জপে টাকা, বকেয়া ৩৩ লাখ

তসবিহ জপে টাকা, বকেয়া ৩৩ লাখ

ময়মনসিংহের নান্দাইলের বাঁশহাটি গ্রামে নারীদের দেয়া তসবিহ। ছবি: নিউজবাংলা

ময়মনসিংহের নান্দাইলের বাঁশহাটি গ্রামের হাবিবুল্লাহর স্ত্রী নাসরিন বেগমের সঙ্গে দুই বছর আগে রাজধানীর লালমাটিয়ার বাসিন্দা একই নামের এক নারীর পরিচয় হয়। তিনি নাসরিনকে বলেন, গ্রামের নারীদের মধ্যে ইসলাম প্রচার করার জন্য। এজন্য তসবিহ জপার পরামর্শ দিয়ে তিনি পারিশ্রমিক দেয়ার কথা জানান।

শুধু তসবিহ জপার জন্য মাসে পাওয়া যাচ্ছিল সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা। এভাবে টাকা মিলেছে প্রায় এক বছর। তবে আট মাস আগে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় টাকা। এরপর টাকার জন্য স্থানীয় সমন্বয়ককে তাগাদা দেয়া হচ্ছে।

ঘটনাটি ময়মনসিংহের নান্দাইলের বাঁশহাটি গ্রামের।

স্থানীয় লোকজন জানান, গ্রামের হাবিবুল্লাহর স্ত্রী নাসরিন বেগমের সঙ্গে দুই বছর আগে রাজধানীর লালমাটিয়ার বাসিন্দা একই নামের এক নারীর পরিচয় হয়। তিনি নাসরিনকে বলেন, গ্রামের নারীদের মধ্যে ইসলাম প্রচার করার জন্য। এজন্য তসবিহ জপার পরামর্শ দিয়ে তিনি পারিশ্রমিক দেয়ার কথা জানান।

তারা আরও জানান, ওই নারীর কথা অনুযায়ী নাসরিন ১২৪ জন নারীকে বাছাই করেন। তাদের প্রত্যেককে প্রথমে এক হাজার টাকা ও এক হাজার দানার একটি তাসবিহ ছড়া দেয়া হয়। এরপর তাসবিহ ছড়া এক হাজারবার পড়লে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা করে দেয়া হতো। মাস শেষে নারীদের হাতে টাকা পৌঁছে দিতেন গ্রামের নাসরিন।

এভাবে প্রায় এক বছর ধরে তাসবি জপার জন্য টাকা পেয়ে আসছিলেন গ্রামের নারীরা। তবে আট মাস আগে হঠাৎ টাকা আসা বন্ধ হয়ে যায়। রাজধানী থেকে টাকা না পেয়ে এক পর্যায়ে গ্রামের নারীদের তসবিহ পড়া বন্ধ রাখতে বলেন নান্দাইলের নাসরিন।

তবে নারীরা নাসরিনের কথা না মেনে তসবিহ জপছেন, আবার মাস শেষে তার বাড়িতে গিয়ে টাকার জন্য তাগাদা দিচ্ছেন। ওই নারীদের হিসাব অনুযায়ী, তাদের প্রায় ৩৩ লাখ টাকা পাওনা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান।

তবে এ বিষয়ে জানতে বাঁশহাটি গ্রামের নাসরিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ওসি জানান, টাকার জন্য মঙ্গলবার বিকেলে বাঁশহাটি গ্রামের নাসরিনের বাড়িতে যান ওই নারীরা। তবে নাসরিন কোনো টাকা দিতে পারেননি। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠান।

তিনি আরও জানান, লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় কাউকে আটক করা হয়নি। তবে ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য