বর্ষণে ধসের শঙ্কা, তবু পাহাড়ে বসবাস

বর্ষণে ধসের শঙ্কা, তবু পাহাড়ে বসবাস

মাত্র বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে পাহাড়ের কিছু মাটি ধসে গেছে। বৃষ্টি এলে তারা রাতে ঘুমাতে পারেন না। আতঙ্কে ভোগেন। বড় ধসের আশঙ্কার মধ্যেও পাহাড়েই বসবাস খাগড়াছড়ির বহু পরিবারের।

তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে ধসের আলামত দেখা দিচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ঘটতে পারে বড় পাহাড়ধস। তবু ঝুঁকি নিয়ে খাগড়াছড়ির ৯ উপজেলায় পাহাড়ে এবং তার পাদদেশে বসবাস করছেন হাজার হাজার মানুষ।

শুধু খাগড়াছড়ি পৌর শহরেই পাহাড়ের গোড়ায় সাড়ে ৩ হাজারের বেশি পরিবারের বসবাস। ভারী বর্ষণেও তারা আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে ইচ্ছুক নন। প্রশাসনের সতর্কবার্তা তারা কানে তুলছেন না।

একটানা বৃষ্টি হলে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের সবুজবাগ, শালবাগান, কুমিল্লাটিলা, কলাবাগান, কদমতলীসহ শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। তা ছাড়া দীঘিনালা, রামগড়, মানিকছড়ি, লক্ষ্মীছড়ি, মহালছড়ি, পানছড়ি, গুইমারা, মাটিরাঙ্গা উপজেলার কিছু অংশ ঝুঁকিতে পড়ে।

সবুজবাগে গিয়ে দেখা যায়, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পাঁচটি পাহাড়ের আংশিক ধসে পড়েছে।

এখানকার বাসিন্দা আব্দুল মোতালেব, রহুল আমিন ও সানজিদা খাতুন জানান, মাত্র বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে পাহাড়ের মাটি ধসে গেছে। এ জন্য বৃষ্টি হলেই আতঙ্কে ভুগতে থাকেন তারা। রাতে ঘুম আসে না। গত বছর এখানে পাহাড়ধস হলেও তা রোধে প্রশাসন কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

পাহাড়ধস রোধে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে স্থানীয় প্রশাসন যেসব উদ্যোগ নেয়, সেগুলো সবই সাময়িক। প্রশাসন স্থায়ী ও টেকসই কোনো পরিকল্পনা নেয় না।

কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এখানে তারা বসবাস করছেন বছরের পর বছর। অন্য কোথাও তাদের থাকার জায়গা নেই। ভূসম্পত্তি ছেড়ে তারা অন্য কোথাও যেতেও চান না। তাদের অভিযোগ, অবৈধ বসতি স্থাপন এবং অপরিকল্পিতভাবে ঘরবাড়ি বানানোয় ধসের ঘটনা ঘটছে। অবৈধ পাহাড় কাটা রোধে স্থানীয় প্রশাসন নির্বিকার থাকে। ভূমিদস্যুরা পাহাড় কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে।

তা ছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন কাজেও নিয়ম না মেনে সরকারিভাবে পাহাড় কাটা হয়।

খাগড়াছড়ি পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলনের সভাপতি প্রদীপ চৌধুরী জানান, পাহাড় কাটা রোধে আইনের প্রয়োগ নেই। কারণ সরকারিভাবেও পাহাড় কাটা হচ্ছে। ধস রোধে সরকারের কোনো টেকসই ব্যবস্থা নেই।

খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র নির্মলেন্দু চৌধুরী জানান, পৌর এলাকায় চারটি জায়গায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি আছে। প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে বসবাসকারীদের সতর্ক করা হয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের পৌরসভা সার্বিক সহায়তা করবে। ভবিষ্যতে পৌর আবাসন এলাকায় তাদের পুনর্বাসন করা হবে।

খাগড়াছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজা মতিন জানান, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের শঙ্কা রয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় তাদের সার্বিক সব প্রস্তুতি রয়েছে।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, টানা বর্ষণ শুরু হলে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে পৌর এলাকায় কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সড়কে পাহাড়ধস হলে দ্রুত সময়ে তা সরানোর ব্যবস্থা নিতে ও জানমালের নিরাপত্তায় প্রস্তুতি সভায় অবহিত করা হয়। দুর্যোগ-সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তা ছাড়া ভূমিকম্প হলে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর প্রস্তুতি হিসেবে জেলার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরির জন্য কমিটি গঠন করা হবে।

বর্ষণে ধসের শঙ্কা, তবু পাহাড়ে বসবাস


পরিবেশ নিয়ে কাজ করে এমন কয়েকটি বেসরকারি সংস্থার জরিপ থেকে জানা গেছে, সদর উপজেলার সবুজবাগ, শালবাগান, কুমিল্লাটিলা, কলাবাগান, কদমতলীসহ ৯টিটি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের পাদদেশে অপরিকল্পিতভাবে বসতি গড়ে তুলেছে প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি পরিবার। এ বছরও নতুন নতুন বসতি গড়ে ওঠায় গত বছরের তুলনায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের সংখ্যা আরও অনেক বেড়ে গেছে।

বাংলাদেশ মৃত্তিকা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মৃত্তিকা কর্মকর্তা মাহাবুব আলম জানান, পাহাড়ের মাটির ধরন ভিন্ন। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে মাটির ওপরের অংশ ক্ষয়ে যায়। পানি মাটির গভীরে প্রবেশ করে। এতে মাটির ভিত সরে যায়। ফলে পাহাড় ধসে পড়ে। এ ছাড়া পাহাড় কাটা, জুমচাষ, পাথর উত্তোলন, নির্বিচারে বৃক্ষ কর্তন ইত্যাদি কারণে পাহাড়ের মাটি দুর্বল হয়ে যায়। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে একসময় মাটি ধসে পড়ে।

খাগড়াছড়ির ৯ উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, গত দুই বছরে অন্তত ২০০ পাহাড়ে কোথাও আংশিক অথবা সম্পূর্ণ বৃক্ষশূন্য হয়ে গেছে। কেবল মাটিরাঙ্গা উপজেলাতেই কাটা হয়েছে শতাধিক পাহাড়। রাতের আঁধারে এগুলো কাটা হয়েছে।

মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতি, তাইন্দং, তবলছড়ি, বেলছড়ি, খেদাছড়া, আদর্শ গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক পাহাড় কাটা হয়েছে। বাড়ি নির্মাণ, রাস্তা সংস্কার, ইটভাটাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য পাহাড় কাটছে একটি চক্র। দিনের আলোয় পাহাড় কাটা হলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবেশকর্মীরা। গত কয়েক বছর ধরে খাগড়াছড়িসহ তিন পার্বত্য জেলায় পাহাড়ধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও পাহাড় কাটা বন্ধ হয়নি।

এ ছাড়া বেশির ভাগ পাহাড় কাটা হয়েছে খাড়াভাবে। এতে পাহাড়ধসের শঙ্কা আরও বেড়েছে। একই অবস্থা খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলায়। উপজেলা চোংড়াছড়িসহ খাগড়াছড়ি-মহালছড়ি সড়ক লাগোয়া বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কাটা হয়েছে। মহালছড়ি উপজেলায় মহালছড়ি-চোংড়াছড়ি সড়কের শান্তিনগর এলাকায় খাড়াভাবে পাহাড় কাটা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় শত ফুট উচ্চতার খাড়া পাহাড়ের একটি বড় অংশ কেটে নেয়া হয়েছে। একইভাবে পাহাড় কেটে সাবাড় করা হচ্ছে জেলার দীঘিনালা, রামগড়, পানছড়িতে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘সিরিয়াফেরত জঙ্গি’ ৩ দিনের রিমান্ডে

‘সিরিয়াফেরত জঙ্গি’ ৩ দিনের রিমান্ডে

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) রাছিব খান জানান, সাখাওয়াতের পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত তিনদিন দিয়েছে। তাকে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার ‘সিরিয়াফেরত জঙ্গির’ তিনদিনের রিমান্ড আবেদন গ্রহণ করেছে আদালত।

চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম হোসেন মো. রেজার আদালত শনিবার বিকেল ৪টার দিকে সাখাওয়াত আলীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) রাছিব খান নিউজবাংলাকে জানান, সাখাওয়াতের পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। তাকে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন শাখার উপপরিদর্শক (এসআই) আবছার উদ্দিন রুবেল জানান, ২০১২ সালে ভায়রাভাই আরিফ মামুনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামে যোগ দেন সাখাওয়াত। ওই সংগঠনের নেতা চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াসহ অন্যদের মাধ্যমে জিহাদি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

এরই অংশ হিসেবে ২০১৭ সালে সাখাওয়াত তুরস্কে যান। সেখান থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত দিয়ে সিরিয়ায় গিয়ে জঙ্গিনেতা হায়াত তাহরির আশরাকের কাছ থেকে ভারী অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নেন। সিরিয়ার ইদলিব এলাকায় প্রায় ছয় মাস প্রশিক্ষণ নেন তিনি।

পরে সিরিয়া থেকে ইন্দোনেশিয়ায় আসেন। সেখান থেকে শ্রীলঙ্কা হয়ে আবার ইন্দোনেশিয়ায় যান। চলতি বছর মার্চে তিনি দেশে ফিরে আসেন।

নগরীর দক্ষিণ খুলশী এলাকা থেকে শুক্রবার রাতে তাকে আটক করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। এ সময় তার কাছ থেকে নিষিদ্ধঘোষিত বই ও নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়।

আটকের পর শুক্রবার রাতেই এসআই রাছিব তার বিরুদ্ধে খুলশী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন।

আবছার উদ্দিন রুবেল বলেন, ‘আমরা আদালতে বলেছি, যদি তাকে রিমান্ডে নেয়া যায় তাহলে তার কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়া যাবে এবং এই নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের আরও সক্রিয় কর্মী যারা আছেন তাদেরকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হবে পুলিশ।’

শেয়ার করুন

মন্ত্রীপুত্রের বাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন গ্যাসের অবৈধ ২২ সংযোগ

মন্ত্রীপুত্রের বাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন গ্যাসের অবৈধ ২২ সংযোগ

শুক্রবার বিকেলে ও শনিবার সকালে দুই দফায় এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় বলে জানিয়েছেন কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নূরুল আবসার সিকদার।

সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলামের ছেলে মুজিবুর রহমানের বাড়িতে থাকা গ্যাসের অবৈধ ২২টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

চান্দগাঁও সানোয়ারা আবাসিক এলাকা থেকে এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল)।

শুক্রবার বিকেলে ও শনিবার সকালে দুই দফায় এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় বলে জানিয়েছেন কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (কোম্পানি সচিব) মোহাম্মদ নূরুল আবসার সিকদার।

জালিয়াতি করে মুজিবুর রহমানকে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেয়া এবং স্থানান্তরের অভিযোগে বৃহস্পতিবার কেজিডিসিএল বর্তমান ও সাবেক দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে দুদক।

তারা হলেন মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং ও সার্ভিসেস) সরোয়ার হোসেন ও সাবেক ব্যবস্থাপক মুজিবুর রহমান।

শুক্রবার তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এই মামলায় অন্য তিন আসামি হলেন কেজিডিসিএলের সাবেক মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, টেকনিশিয়ান দিদারুল আলম এবং অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেয়া মুজিবুর রহমান।

দুদকের এজাহারে বলা হয়, হালিশহরে এমএ সালাম নামে একজনের নামে বরাদ্দ করা ১৮টি দ্বৈত চুলার সংযোগ থেকে ১২টি সংযোগ চান্দগাঁও সানোয়ারা আবাসিক এলাকায় স্থানান্তর করা হয়। মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ‘ভুয়া চুক্তিনামা’ দেখিয়ে এটি করা হয়। অথচ এক গ্রাহকের নামে বরাদ্দ সংযোগ অন্য গ্রাহককে দেয়ার বিধান নেই।

২০১৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাস সংযোগ দেয়া বন্ধ থাকলেও সানোয়ারা আবাসিক এলাকায় মুজিবুর রহমানের নামে আরও ১০টি সংযোগ দেয়া হয়।

২০১৬ সালের ২ মার্চ থেকে পরের বছরের ২ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব সংযোগ দেয়া হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় গত ৯ জুন দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিন পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

শেয়ার করুন

এবারও হচ্ছে না শাহজালাল মাজারের ওরস

এবারও হচ্ছে না শাহজালাল মাজারের ওরস

হযরত শাহজালাল (র.) মাজার প্রাঙ্গণ। ফাইল ছবি।

সংবাদ সম্মেলনে ফতেহ উল্লাহ বলেন, আগামী ১ ও ২ জুলাই শাহজালাল (র.) এর ৭০২ তম ওরস মোবারক যথাযথ আনুষ্ঠানিকতায় পালিত হওয়ার কথা। তবে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় অন্যান্য বছরের মতো আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হবে না। ভক্ত ও আশেকানদের স্ব স্ব স্থানে থেকে ইবাদত বন্দেগি করার অনুরোধ জানান তিনি।

সিলেটের সাতশ' বছরের ঐতিহ্য হযরত শাহজালাল (র.) মাজারের ওরস এবারও হচ্ছে না। করোনা সংক্রমণ উর্ধমুখী থাকায় গত বছরের মতো এবারও উরস আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাজার কমিটি।

সংবাদ সম্মেলনে শনিবার দুপুরে এ তথ্য জানান শাহজালাল (র.) মাজারের মতোয়াল্লি ফতেহ উল্লাহ আল আমান।

সাতশ' বছরের ধারাবাহিকতায় ছেদ ঘটিয়ে গত বছরই প্রথমবারের মতো ওরসের আয়োজন করা হয়নি। এবারও ওরস মোবারকের কোনো আনুষ্ঠানিকতা থাকছে না।

সংবাদ সম্মেলনে ফতেহ উল্লাহ বলেন, আগামী ১ ও ২ জুলাই শাহজালাল (র.) এর ৭০২ তম ওরস মোবারক যথাযথ আনুষ্ঠানিকতায় পালিত হওয়ার কথা। তবে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় অন্যান্য বছরের মতো আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হবে না। ভক্ত ও আশেকানদের স্ব স্ব স্থানে থেকে ইবাদত বন্দেগি করার অনুরোধ জানান তিনি।

এর আগে, করোনা পরিস্থিতিতে গত বছরও ৭০১ তম ওসর মোবারক আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়নি।

দরগাহ কর্তৃপক্ষ জানায়, করোনার কারণে কর্তৃপক্ষ কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের নিয়ে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা পালিত হবে। এ সময় মাজারের মূল ফটক বন্ধ থাকবে। ফলে সাধারণ মানুষজন প্রবেশ করতে পারবেন না।

প্রতিবছর ওরসের সপ্তাহখানেক আগে 'লাকড়ি ভাঙা' নামে এক ধরণের অনুষ্ঠান করা হয়। এবার লাকড়ি ভাঙা অনুষ্ঠানও হয়েছে সীমিত পরিসরে।

ইয়েমেন থাকা আসা পীর হযরত শাহজালাল (র.)-এর মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রতিব্ছর এই ওরসের আয়োজন করা হয়। দেশ-বিদেশ থেকে শাহজালালের লক্ষাধিক ভক্ত ওরস চালাকালে মাজার প্রাঙ্গণে সমেবত হন। দুইদিনব্যাপী ওরসে জিকির আসকার ও ধর্মীয় নানা আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন তারা।

শেয়ার করুন

আ.লীগের দুই পক্ষের হাতাহাতি, পুলিশের লাঠিচার্জ

আ.লীগের দুই পক্ষের হাতাহাতি, পুলিশের লাঠিচার্জ

মাদারীপুরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের হাতাহাতির ঘটনায় পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ছবি: নিউজবাংলা

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এহসানুল রহমান ভূঁইয়া বলেন, প্রতিবাদ থেকে একটা সময় উত্তেজিত নেতা-কর্মীরা পাশের বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের ঘটকচর শাখা এবং বেশ কয়েকটি দোকান-ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেন।

সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী ও মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান খানের বাবা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মৌলভি আছমত আলী খানকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে মানববন্ধনে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন তিন পুলিশসহ অন্তত ১৫ জন।

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সদর উপজেলার কলাবাড়ি এলাকায় শনিবার সকাল ১০টায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় মহাসড়কে ঘণ্টাখানেক যান চলাচল বন্ধ ছিল।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সম্প্রতি রাজৈরে এক অনুষ্ঠানে আছমত আলী খানকে নিয়ে কটূক্তি করে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লা। এ জন্য তার পদত্যাগের দাবিতে সকালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের কলাবাড়ি এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভের ডাক দেন শাজাহান খান সমর্থিত কর্মীরা।

একই সময় একই স্থানে সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লার সমর্থকরা প্রতিবাদ সভার আয়োজন করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

পুলিশ জানায়, উত্তেজনার একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকেরা হাতাহাতি শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এহসানুল রহমান ভূঁইয়া বলেন, প্রতিবাদ থেকে একটা সময় উত্তেজিত নেতা-কর্মীরা পাশের বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের ঘটকচর শাখা এবং বেশ কয়েকটি দোকান-ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেন।

তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এ সময় নেতা-কর্মীদের হামলায় তিন পুলিশও আহত হয়।

এখন ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

নৌকার প্রার্থীর প্রচারে হামলা

নৌকার প্রার্থীর প্রচারে হামলা

বরগুনার আয়লা-পাতাকাটা ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর প্রচারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর হয় মোটরসাইকেল। ছবি: নিউজবাংলা

আওয়ামী লীগ মনোনীত ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মজিবুল হক কিসলু বলেন, ‘কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রচারে নেমেছিলাম। পথে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোশাররফ হোসেনের সন্ত্রাসী বাহিনী আমার সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। তাদের হামলায় অন্তত ১০ সমর্থক আহত হয়েছে। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে মোটরসাইকেল।'

বরগুনার আয়লা-পাতাকাটা ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর প্রচারে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

ইউনিয়নের নয়বাজার এলাকায় শনিবার দুপুর দুইটার দিকে এই হামলা হয়।

নৌকার প্রার্থীর অভিযোগ, স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা হামলা চালিয়ে ১০ জনকে আহত করে। এ সময় অন্তত ১২টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।

আয়লা-পাতাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার আশশাকুর ফিরোজ জানান, নৌকার প্রার্থী মজিবুল হক কিসলু দুপুর দুইটার পর মোটরসাইকেলে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচারে বের হন। নয়াবাজার এলাকায় পৌঁছালে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে তার সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালিয়ে দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়, ভাঙচুর করে ১২টি মোটরসাইকেল।

স্থানীয় বাসিন্দা জুলহাস মিয়া জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বেশ কিছু মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে চলে যায়।

নৌকার প্রার্থীর প্রচারে হামলা

আওয়ামী লীগ মনোনীত ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মজিবুল হক কিসলু বলেন, ‘কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রচারে নেমেছিলাম। পথে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোশাররফ হোসেনের সন্ত্রাসী বাহিনী আমার সমর্থকদের উপর হামলা চালায়। তাদের হামলায় অন্তত ১০ সমর্থক আহত হয়েছে। মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, ভাঙচুর করা হয়েছে ১২ টি মোটরসাইকেল।’

তিনি বলেন, ‘মোশাররফ হোসেন পরাজয় নিশ্চিত জেনে শুরু থেকেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। আজকের হামলাও তারই ধারাবাহিকতা।’

নৌকার প্রার্থীর প্রচারে হামলা

এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মোশাররফ হোসেনের মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম তারিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নৌকার প্রার্থীর প্রচারে হামলা

মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও পুড়িয়ে দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ওসি তারিক বলেন, ‘আলামত হিসেবে মোটরসাইকেলগুলো থানায় নিয়ে আসব। এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ করলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।’

শেয়ার করুন

সাত দিনের লকডাউনে নড়াইল

সাত দিনের লকডাউনে নড়াইল

শনিবার থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্তু আগামী সাতদিন নড়াইল পৌরসভা,লোহাগড়া পৌরসভা ও কালিয়া পৌরসভাসহ সদর উপজেলার কলোড়া,সিংগাশোলপুর,বিছালি ইউনিয়ন এবং লোহাগড়া উপজেলার শাল নগর ইউনিয়ন এলাকায় লকডাউন চলবে।

নড়াইলে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাত দিনের লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে করোনা প্রতিরোধ কমিটির এক জরুরি সভায় শুক্রবার রাত ৮টার দিকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় জানানো হয়, শনিবার থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্তু আগামী সাতদিন নড়াইল পৌরসভা, লোহাগড়া পৌরসভা ও কালিয়া পৌরসভাসহ সদর উপজেলার কলোড়া, সিংগাশোলপুর,বিছালি ইউনিয়ন এবং লোহাগড়া উপজেলার শালনগর ইউনিয়ন এলাকায় লকফডাউন চলবে।

লোহাগড়া উপজেলা প্রশাসন ও কালিয়া উপজেলা প্রশাসন করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এছাড়া করোনা ঠেকাতে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবে জেলা প্রশাসন।

করোনায় নড়াইলে ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত হয়েচেন ৫১ জন। এদের মধ্যে সদর উপজেলায় ৩৬, লোহাগড়া উপজেলায় ১২ ও কালিয়া উপজেলায় ৩ জন।

শেয়ার করুন

বেতন দাবিতে সড়কে চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা, পুলিশের লাঠিপেটা

বেতন দাবিতে সড়কে চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা, পুলিশের লাঠিপেটা

নারায়ণগঞ্জে বকেয়া পাওনার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছে পোশাককারখানার শ্রমিকরা। ছবি: নিউজবাংলা

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী নিউজবাংলাকে জানান, মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের জন্য আন্দোলনরত শ্রমিকদের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শ্রমিকরা এ আশ্বাস না মেনে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী ইপিজেড এলাকায় বকেয়া বেতনের দাবিতে শনিবার সকাল আটটা থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে একটি পোশাক কারখানার চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা।

স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, আদমজী ইপিজেডের সামনে কুনতুং এ্যাপারেলস লি. (ফ্যাশন সিটি) নামের পোশাক কারখানার চাকরিচ্যুত দুই শতাধিক শ্রমিক শনিবার সকাল আটটার দিকে নারায়ণগঞ্জ-আদমজী সড়কে এ বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বেতনের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। এতে দুই পাশে দীর্ঘ যানজট লেগে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বেলা ১১টার দিকে লাঠিপেটা ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় অন্তত ৫ শ্রমিক আহত হন। দুপুর ২টার দিকে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

গত মাসের বেতন চেয়ে কারখানা মালিকদের পক্ষ থেকে কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনরত এক শ্রমিক।

তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করেই আমাদের দুই শতাধিক শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। কিন্তু গত মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়নি আজও। এ জন্য চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে সকালে নারায়ণগঞ্জ-আদমজী সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় পুলিশ আমাদের লাঠিপেটা করে ও টিয়ার শেল মারে। এতে আমাদের অন্তত পাঁচ শ্রমিক আহত হয়েছেন।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী নিউজবাংলাকে জানান, মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের জন্য আন্দোলনরত শ্রমিকদের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শ্রমিকরা এ আশ্বাস না মেনে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা সড়ক অবরোধ করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন। পরে পুলিশ তাদের ধাওয়া, লাঠিপেটা ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

শেয়ার করুন