সেই ওসির মেয়ে এখন সুখে

সেই ওসির মেয়ে এখন সুখে

প্রেম করে বিয়ে করে পুলিশ কর্মকর্তা বাবার রোষানলে পড়েছিলেন সামিয়া প্রেমা। নিউজবাংলা এ নিয়ে সংবাদ প্রচারের পর বাবা-মেয়ের সম্পর্কের বরফ গলেছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায় সামিয়া প্রেমা ও আলামিন রাজীবের প্রেম। গোপনে সেরে ফেলেন বিয়েও। তবে পরবর্তীতে তাদের সম্পর্কের কথা জেনে বেঁকে বসেন প্রেমার বাবা পুলিশ কর্মকর্তা মীর শাহীন শাহ পারভেজ।

এক সময় ঢাকা জেলা ডিবি পুলিশে কর্মরত ওসি পদবীর এই দাপুটে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ তোলেন তার মেয়ে প্রেমা। ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ওপর হামলা, একাধিক মিথ্যা মামলা, তার নিজের ওপর নির্যাতনের অভিযোগও করেন তিনি বাবার বিরুদ্ধে।

রাজীব ও প্রেমা যুগলের যন্ত্রণাময় জীবনকাহিনী তুলে ধরে নিউজবাংলা। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর প্রায় দুই মাস পর মন গলে ওসি শাহিন পারভেজের। মেয়ে ও তার জামাতাকে মেনে নেন তিনি। মাঝে মধ্যে প্রেমা-রাজীব ‍যুগলের সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার প্রতিবেদকের। তারা বেশ আনন্দেই সুখের সংসার করছেন বলে জানান। ইতোমধ্যে কক্সবাজারে মধুচন্দ্রিমাও সেরে নিয়েছেন এই জুটি। এ জন্য নিউজবাংলাকে ধন্যবাদ দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এই যুগল।

প্রেমা এখন সাভারে আশুলিয়ার গকুলনগর এলাকায় স্বামী আলামিন রাজীবের সাথে তার শ্বশুরবাড়িতেই থাকছেন।

সামিয়া প্রেমা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আছি এখন ভালোই। মাঝে মধ্যে আব্বুর সাথে কথা হয়। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। কোনো সমস্যা নাই। অনেক কিছুই তো হইছে। অনেক ঝামেলাও ছিল। এখন আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। আর কোনো সমস্যা হবে না আশা করি।’

ধামরাই ও মোহাম্মদপুর থানার মামলার বিষয়ে বলেন, ‘ওইটা ঠিক হয়ে গেছে। ধামরাই থানার মামলায় ফাইনাল রিপোর্টটা দিয়ে দিছে। এসআইয়ের সঙ্গে কথা হইছিল, উনি বলছিল দিয়ে দিছে। একটা লিখিত দিয়ে দিছে। মামলা রাখবে না ওই লিখিত দিয়েছিল। আর মামলা উঠায় নেওয়ার কথা বাবা বলছে।

সেই ওসির মেয়ে এখন সুখে

‘মোহাম্মদপুরের মামলাটাও ঠিক হইছে। মামলা থেকে নামটা কেটে দেয়ার কথা বলেছিল। আমার পরিবারের লোকজন যখন এসেছিল, তখন তারা মামলা তুলে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েই আমাকে বাড়িতে নিয়ে গেছিল। আব্বু বলেছিল, কোনো সমস্যা নাই। দুই-একবার হাজিরার সময় কোর্টে যাইতে হবে।’

আলামিন রাজীব বলেন, ‘প্রথমের দিকে ওদের পরিবারের সবার সাথে কথা হইত না। তবে এখন হয়। মানুষটা অনেক রাগী হলেও মনটা অনেক ভালো। আমরা দুইজন আল্লাহর রহমতে বেশ ভালো আছি। যেখানে মন চায় ঘুরি। দোয়া করবেন। তবে এখনো জব পাইনি। চেষ্টা করতেছি। খুশির খবর হলো, আল্লাহর রহমতে আমি বাবা হতে চলেছি। আর মামলার ঝামেলাগুলোও সব শেষ হয়ে গেছে। এ জন্য আপনাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করতে চাই না ভাই।’

রাজীবের চাচাতো ভাই আসিফ মাহমুদ জানান, ‘মধ্যস্থতার মাধ্যমে ওনারা যাইতে বলে আমাদেরকে। যাদের যাদের নামে মামলা, তাদের সবাইকে যাইতে বলে। পরে রাজীব, প্রেমা, দাদা, আমি গেছিলাম। পরে মধ্যস্থতাকারী, ওর চাচা, মামা, মা ছিল ওনারা ছিলেন। ওরা পরে ২০ লাখ টাকা কাবিননামা করে বিয়ে পড়ায় দিছে। বিয়ে পড়ানোর পরে ওসি সাহেব বলেন, তোমরা স্বাধীনভাবে থাকো। কোনো অসুবিধা নাই। পরে দুই পরিবারের একে অপরের বাসায় গেছে মিষ্টি নিয়া। আর মামলার বিষয়টাও সমঝোতার মাধ্যমে ক্লোজড করা হইছে বলে জানতে পারছি।’

মীর শাহীন শাহ পারভেজ ঢাকা জেলা উত্তর (সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই থানা) এর ডিবি পুলিশের ওসি হিসেবে দায়িত্বপালন শেষে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ওসি হিসেবে যোগ দেন। পরে সেখান থেকে ক্লোজড হয়ে বর্তমানে তিনি মানিকগঞ্জ পুলিশ লাইনে কর্মরত।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৭০ ভরি স্বর্ণ জব্দ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৭০ ভরি স্বর্ণ জব্দ

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে কুতুপালং পাঁচ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের  মো. আইয়ুবের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ঘরের মাটি খুঁড়ে তিনটি স্বর্ণের বার, ১৯টি স্বর্ণের আংটি, দুই জোড়া কানের দুলসহ ৭০ ভরি স্বর্ণের গয়নার পাশাপাশি ২৬ লাখ তিন হাজার ১২০ টাকা ও ৩১ লাখ ৭৪ হাজার ৮০০ কিয়াত (মিয়ানমারের মুদ্রা) জব্দ করা হয়।

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে স্বর্ণের বারসহ বিপুল দেশি ও বিদেশি মুদ্রা জব্দ করেছে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।

এ সময় বাড়ির মালিক মো. আইয়ুব ও তার স্ত্রী নুরে নেচ্ছাকে আটক করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ১৪ এপিবিএন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এসপি নাঈমুল হক।

এতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে কুতুপালং পাঁচ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মো. আইয়ুবের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ঘরের মাটি খুঁড়ে তিনটি স্বর্ণের বার, ১৯টি স্বর্ণের আংটি, দুই জোড়া কানের দুলসহ ৭০ ভরি স্বর্ণের গয়নার পাশাপাশি ২৬ লাখ তিন হাজার ১২০ টাকা ও ৩১ লাখ ৭৪ হাজার ৮০০ কিয়াত (মিয়ানমারের মুদ্রা) জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় উখিয়া থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ১৪ এপিবিএন পুলিশ।

শেয়ার করুন

‘বাংলাদেশের উন্নয়নে পাকিস্তানে হা-হুতাশ’

‘বাংলাদেশের উন্নয়নে পাকিস্তানে হা-হুতাশ’

রাঙ্গুনিয়ায় রোববার আশ্রয়ণ প্রকল্পের জমিসহ ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ছবি: নিউজবাংলা

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সব মানব উন্নয়ন সূচক, সামাজিক সূচক, অর্থনৈতিক সূচকে পাকিস্তান আমাদের পেছনে। এ নিয়ে তারা হা-হুতাশ করছে। আর মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে আমরা ভারতকে পেছনে ফেলেছি। ভারতে মানুষের মাথাপিছু আয় যেখানে ২ হাজার ডলার, সেখানে আমাদের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ২২৭ ডলারে উন্নীত হয়েছে; জুন মাসে তা আরও বাড়বে।’

বাংলাদেশের উন্নয়ন দেখে পাকিস্তান হা-হুতাশ করছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

রোববার বেলা ৩টার দিকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ১৬৫ গৃহহীন অতিদরিদ্র পরিবারের মাঝে আশ্রয়ণ প্রকল্পের জমিসহ ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী বহলপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে উপকারভোগীদের মাঝে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে দুই শতক জমিসহ ঘরের কবুলিয়তনামা হস্তান্তর করা হয়।

অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সব মানব উন্নয়ন সূচক, সামাজিক সূচক, অর্থনৈতিক সূচকে পাকিস্তান আমাদের পেছনে। এ নিয়ে তারা হা-হুতাশ করছে। আর মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে আমরা ভারতকে পেছনে ফেলেছি। ভারতে মানুষের মাথাপিছু আয় যেখানে ২ হাজার ডলার, সেখানে আমাদের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ২২৭ ডলারে উন্নীত হয়েছে; জুন মাসে তা আরও বাড়বে। আমরা মানব উন্নয়ন সূচক এবং সামাজিক সূচকে ভারতকে বহু আগেই পেছনে ফেলেছি।’

এর আগে গণবভন থেকে রাঙ্গুনিয়ায় অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ের দুই শতক জমিসহ সেমিপাকা ঘর দেয়ার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাঙ্গুনিয়া প্রান্ত থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমান ও উপকারভোগী জাহানারা বেগম প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। ইউএনও এ সময় দুই দফায় রাঙ্গুনিয়ার ১৬৫ গৃহহীন অতিদরিদ্র পরিবারের মাঝে দুই শতক জমিসহ সেমিপাকা ঘর হস্তান্তর এবং দলীয়ভাবেও আরও কিছু ঘরের নির্মাণকাজ চলছে বলে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সব অর্জন শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে হয়েছে। যেখানে সবাই প্রশংসা করছে, সেখানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কী বলেন? দেশের ৫০ বছরের অর্জন নিয়ে তিনি যে কথা বলেছেন, তাতে মনে হচ্ছে বয়সের কারণে ওনার মতিভ্রম ঘটেছে। বিএনপির ডাক্তারদের সংগঠন ড্যাবকে অনুরোধ জানাব মির্জা ফখরুলের মানসিক স্বাস্থ্যের পরীক্ষা করাতে।’

তিনি বলেন, দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৪১ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। খাদ্যঘাটতির দেশ থেকে খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর হয়েছে। আজকে বিশ্বের পত্রপত্রিকায় লেখা হচ্ছে, একসময়ের ঋণ গ্রহীতা বাংলাদেশ এখন অন্য দেশকে ঋণ দেয়। বিএনপি এবং তাদের মিত্ররা এসব উন্নয়ন দেখে না। তাদের রাজনীতির মূল বিষয় হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য এবং তারেক রহমানের শাস্তি।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, আগে অনেক মানুষের মানসম্মত ঘর ছিল না, বঙ্গবন্ধুকন্যার ঘোষণা অনুযায়ী এখন ঘরের সমস্যারও সমাধান হয়েছে। এখন যারা ঘর পেয়েছেন, তারা কখনো স্বপ্নেও ভাবেননি এভাবে জমিসহ ঘর পাবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন। স্বপ্নকেও হার মানিয়েছে তাদের প্রাপ্তি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সাম্প্রতিক সময়ে দুই শ বিলিয়ন ডলার শ্রীলঙ্কাকে ঋণ দিয়েছি। আমরা আরও দেশকেও ঋণ দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছি।’

বেগম জিয়ার সুস্বাস্থ্যের সঙ্গে দীর্ঘায়ু কামনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সুস্থ হয়ে খালেদা জিয়া বাড়ি ফিরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে, দেশে তিনি সুচিকিৎসা পেয়েছেন। তারা যে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার দাবি করেছিলেন তা অমূলক প্রমাণ হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার কামরুল হাসান, ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান, পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান স্বজন কুমার তালুকদার, মেয়র শাহজাহান সিকদারসহ অনেকে।

শেয়ার করুন

বাবা দিবসে শ্রমজীবী বাবাদের মৌসুমী ফল ও মাস্ক উপহার


বাবা দিবসে শ্রমজীবী বাবাদের মৌসুমী ফল ও মাস্ক উপহার

আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব প্রণব দাস বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে জনজীবন বিপর্যস্ত। তাই গতবারের মতো এ বছরও স্বল্প পরিসরে এ দিবসের আয়োজন করা হয়েছে। সন্তানদের প্রতি পিতা-মাতার যে অবদান তা স্মরণ করিয়ে দিতেই এ আয়োজন।’

৫০ জন প্রবীণ শ্রমজীবী বাবাকে মৌসুমী ফল ও মাস্ক উপহার দেয়ার মধ্য দিয়ে যশোরে উদযাপন করা হয়েছে বিশ্ব বাবা দিবস।

‘আজি শুভ দিনে পিতার ভুবনে অমৃত সদনে চলো যাই’ শ্লোগানকে সামনে রেখে বিশ্ব বাবা দিবস উদযাপন পর্ষদের আয়োজনে যশোরে ষষ্ঠবারের মতো এ দিবস উদযাপন করা হয়েছে।

করোনা মহামারির কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সীমিত পরিসরে রোববার সকালে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক প্রবীণ রাজনীতিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিরুল ইসলাম রন্টু অসুস্থতার কারণে অনুপস্থিত থাকায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বুলু।

সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জয়তী সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক অর্চণা বিশ্বাস ইভা। স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ব বাবা দিবস উদযাপন পর্ষদের সদস্য সচিব প্রণব কুমার দাস।

বক্তৃতা শেষে শহরের (প্রেসক্লাবের সামনে মুজিব সড়ক, বিবর্তন যশোরের সামনে কেশবলাল রোড ও জলযোগের সামনে চিত্তরঞ্জন সড়ক) চলতিপথে ৫০ প্রবীণ শ্রমজীবী বাবাকে আম ও মাস্ক উপহার দেয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিল্পকলা একাডেমির সহসভাপতি সুকুমার দাস, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি তরিকুল ইসলাম তারু, তির্যক যশোরের সাধারণ সম্পাদক দিপংকর দাস রতন, উদীচী যশোরের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান খান বিপ্লব, বিবর্তন যশোরের সাধারণ সম্পাদক দীপংকর বিশ্বাস, চারুতীর্থের সভাপতি কাজী ইমদাদুল হক দুলাল, জেলা আইডিইবির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আফজাল হোসেন দোদুল, স্বচ্ছ আর্ট স্কুলের পরিচালক চিত্রকর কাজী ইসরাত সাহেদ টিপ, ক্যাম্পাস থিয়েটার আন্দোলন যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান রিপনসহ আরও অনেকে।

আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব প্রণব দাস বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে জনজীবন বিপর্যস্ত। তাই গতবারের মতো এ বছরও স্বল্প পরিসরে এ দিবসের আয়োজন করা হয়েছে। সন্তানদের প্রতি পিতা-মাতার যে অবদান তা স্মরণ করিয়ে দিতেই এ আয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, বিশ্ব বাবা দিবস উদযাপন পর্ষদের প্রত্যশা হচ্ছে বাবা-মা যেমন বটবৃক্ষের মতো তাদের সন্তানদের আগলে রাখেন; তেমনি প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানরাও তাদের বাবা-মাকে আমৃত্যু আগলে রাখবেন।

শেয়ার করুন

স্কুলমাঠে যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ

স্কুলমাঠে যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, বন্ধুদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার বিকেলে হাজীগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত যুবকের নাম হৃদয় হোসেন। ২৫ হাজীগঞ্জ উচাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা হৃদয় পেশায় বিদ্যুৎমিস্ত্রি ছিলেন।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান নিউজবাংলাকে জানান, মরদেহের মাথায় ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। উদ্ধারের পর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ওসি বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, বন্ধুদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

হৃদয়ের বড় ভাই মো. রনি জানান, শনিবার রাত ১২টার দিকে বাসা থেকে বের হন হৃদয়। রাতে আর বাসায় ফেরেননি তিনি। স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে পরে জানতে পারেন তার ভাইয়ের মরদেহ স্কুলমাঠে পাওয়া গেছে।

তিনি আরও জানান, তার ভাইয়ের কারও সঙ্গে কোনো বিরোধ ছিল না। তবে কয়েকজন মাদকাসক্তের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল।

শেয়ার করুন

ভিজিডির ৬১ বস্তা চাল জব্দ

ভিজিডির ৬১ বস্তা চাল জব্দ

ওসি জানান, আব্দুল কাদের নিজ বাড়িতে সরকারি চাল অবৈধভাবে মজুত ও বিক্রি করেছিলেন, এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। জব্দ করা হয় ১ হাজার ৮৩০ কেজি চাল। এ সময় পালিয়ে যান অভিযুক্ত আব্দুল কাদের। জব্দ চাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার জিম্মায় রাখা হয়েছে।

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার হিন্দা কসবা গ্রামের এক বাড়ি থেকে ভিজিডির ৬১ বস্তা চাল জব্দ করেছে পুলিশ।

রোববার বিকেলে ওই গ্রামের আব্দুল কাদেরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সরকারি চালের এসব বস্তা জব্দ করা হয়।

৫০ বছর বয়সী আব্দুল কাদের ওই গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে।

ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিরেন্দ্রনাথ মণ্ডল জানান, আব্দুল কাদের নিজ বাড়িতে সরকারি চাল অবৈধভাবে মজুত ও বিক্রি করেছিলেন, এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। জব্দ করা হয় ১ হাজার ৮৩০ কেজি চাল। এ সময় পালিয়ে যান অভিযুক্ত আব্দুল কাদের। জব্দ চাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার জিম্মায় রাখা হয়েছে।

ওসি বলেন, কাদেরের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

শেয়ার করুন

‘আচমকা সব শেষ হয়ে গেল’

‘আচমকা সব শেষ হয়ে গেল’

নরসিংদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় পরিবারের পাঁচজনকে হারিয়ে একই ঘটনায় আহতরাও ভেঙে পড়েন কান্নায়। ছবি: নিউজবাংলা

‘গাড়িতে আমার স্ত্রী রুবি ও মেয়ে ইসরাত পেছনে ছিল। সাথে আরেক ভাইয়ের বউ-বাচ্চাও ছিল। হঠাৎ করেই কী হলো বুঝতে পারলাম না। আচমকা সব শেষ হয়ে গেল।’

নরসিংদীতে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে একই পরিবারের শিশুসহ পাঁচজন নিহতের ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে সাভারে তাদের গ্রামের বাড়িতে।

পাঁচদোনা-ঘোড়াশাল-টঙ্গী আঞ্চলিক মহাসড়কে শনিবার রাতের দুর্ঘটনায় নিহতদের দেহ রোববার আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার বাড়িতে পৌঁছায়।

এরপর স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। তাদের বিলাপে চোখ ভিজে ওঠে এলাকাবাসীরও। পরে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে জানাজা শেষে মরদেহগুলো দাফন করা হয়।

নিহত পাঁচজন হলো একই পরিবারের তিন ভাই সাইফুল ইসলামের স্ত্রী মুক্তি আক্তার ও আট বছরের ছেলে মো. সাদেকুল, আব্দুর রশিদের স্ত্রী রুবি আক্তার ও পাঁচ বছরের মেয়ে মোছা. রহিমা এবং আরেক ভাই হারুন মিয়ার শাশুড়ি রোকেয়া বেগম।

আহতরা হলেন আব্দুর রশিদ, সাইফুলের ১২ বছরের মেয়ে সাইফা, হারুনের স্ত্রী শারমিন বেগম ও আট বছরের মেয়ে ইসরাত জাহান। এ ছাড়া ওই পরিবারের রাজিয়া বেগম, কাজিম উদ্দিন ও মোছা. সামসুন্নাহার নামে তিন স্বজনও আহত হয়েছেন।

‘আচমকা সব শেষ হয়ে গেল’
সাভারের বাড়িতে মরদেহ পৌঁছানোর পর স্বজন ও এলাকাবাসীর ভিড়

রশিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গাড়িতে আমার স্ত্রী রুবি ও মেয়ে ইসরাত পেছনে ছিল। সাথে আরেক ভাইয়ের বউ-বাচ্চাও ছিল। হঠাৎ করেই কী হলো বুঝতে পারলাম না। আচমকা সব শেষ হয়ে গেল।

‘আমি দেখি গাড়িতেই বসে আছি। আর মানুষ খালি আমাদের সামনে এসে হাউকাউ করতেছে। আর আমাদের গাড়ির ভেতর থেকে বের করার চেষ্টা করছে।’

স্ত্রী ও ছেলে হারানো সাইফুল বিলাপ করছিলেন, ‘আমি কোনোদিনই ভাবতে পারিনি আমার স্ত্রী ও ছেলে সাদেকুল এভাবে মারা যাবে। মেয়ে সাইফা অল্পের জন্য বেঁচে গেছে। আমার সন্তান ও স্ত্রীকে আমি এখন কোথায় পাব?’

সুরাইয়া বেগম জানান, তার তিন চাচাতো ভাই সাইফুল, হারুন ও রশিদ সিলেটে শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। শুক্রবার রাত ৩টার দিকে বাচ্চাসহ ১৫ জন একটি গাড়িতে রওনা দেয়। তবে গাড়িতে ছিল শুধু রশিদ। সাইফুল ও হারুন বাড়িতেই ছিলেন।

সিলেটের বিভিন্ন মাজার ঘুরে সন্ধ্যায় আশুলিয়ায় বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয় তারা। পরে নরসিংদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের মধ্যে পাঁচজন নিহত হয়।

প্রতিবেশী জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের এলাকায় এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা আগে ঘটেনি। এলাকার সবাই আমরা মর্মাহত।’

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এনামুল হক সাগর বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে দুই যানের চালকই পলাতক। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।

শেয়ার করুন

চার বন্ধু মিলে ব্যবসায়ীকে শ্বাসরোধে হত্যা

চার বন্ধু মিলে ব্যবসায়ীকে শ্বাসরোধে হত্যা

‘রোববার দুপুরে চার আসামিকে জেলার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে তোলা হয়। তখন তারা জবানবন্দি দেন। পরে আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়।’

ময়মনসিংহের নান্দাইলে হাত-পা বাঁধা ও মুখে বালিশচাপা অবস্থায় এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধারের পর চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

মৃত জাহিদ তালুকদার হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার গানপুর গ্রামের মাহতাব উদ্দিনের ছেলে। তিনি উপজেলার গাংগাইল ইউনিয়নের অরণ্যপাশা গ্রামের হাবিবুর রহমানের বাড়ি ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করতেন।

যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা হলেন হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার মুরাদপুর গ্রামের নাঈম ইসলাম, রাজধানীর কোটবাড়ী এলাকার হোসেন আলী, ময়মনসিংহের নারায়ণপুর গ্রামের রাসেল মিয়া ও একই এলাকার সুমন মিয়া।

নিউজবাংলাকে রোববার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি শাহ কামাল আকন্দ।

তিনি বলেন, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার গাংগাইল ইউনিয়নের অরণ্যপাশা গ্রামের ভাড়া বাসা থেকে জাহিদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় রাতে মৃতের বড় ভাই আসাদ মিয়া তালুকদার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। মামলার পরদিন (শনিবার) ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।

ওসি বলেন, গ্রেপ্তারের পর নাঈম ইসলাম জানান, প্রায় ছয় মাস ধরে তারা আটজন হকার ও মহাজন জাহিদ মিলে নান্দাইলের ওই গ্রামের চৌরাস্তা এলাকার ভাড়া বাসায় থেকে কাঠের তৈরি বিভিন্ন তৈজসপত্রের ব্যবসা করছিলেন। মহাজনকে প্রতিদিন তিন থেকে চার হাজার টাকা জমা দিতে হতো। এর মধ্যে এক দিনের প্রায় তিন হাজার টাকা তিনি মহাজনকে দেননি।

এ নিয়ে প্রতিদিন তাগাদা দিতেন জাহিদ। একপর্যায়ে নাঈম ঢাকায় চলে আসেন। ঘটনাটি বন্ধুদের জানান তিনি। বন্ধুরা সিদ্ধান্ত দেন, নান্দাইলে গিয়ে জাহিদকে হত্যা করবেন।

এ কথায় রাজি হয়ে নাঈম ও তার তিন বন্ধু বৃহস্পতিবার রাতে নান্দাইলে এসে জাহিদের বাসায় ওঠেন। পরে রাতে খেয়ে জাহিদ ঘুমিয়ে পড়েন। তখন চারজনে মিলে তাকে হাত-পা বেঁধে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেন।

পরদিন শুক্রবার খুব ভোরে তারা ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। সঙ্গে নিয়ে যান জাহিদের দুটি মোবাইল ফোন ও নগদ এক হাজার টাকা।

শাহ কামাল আকন্দ আরও বলেন, রোববার দুপুরে তাদের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে তোলা হলে জবানবন্দি দিয়েছেন সবাই। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

শেয়ার করুন