শেখ হাসিনা সেতুর সংযোগ সড়কে ধস, চলাচলে ভোগান্তি

শেখ হাসিনা সেতুর ধসে পড়া সংযোগ সড়কের অংশ। ছবি: নিউজবাংলা

শেখ হাসিনা সেতুর সংযোগ সড়কে ধস, চলাচলে ভোগান্তি

স্থানীয় লোকজন জানান, প্রায় ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি ২০১৭ সালে উদ্বোধন করা হয়। এর এক বছর না পেরোতেই সেতুর উপরিভাগের বিভিন্ন স্থানের ঢালাই উঠে গিয়ে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে সেতুর ওপর দিয়ে ধীরগতিতে যানবাহন চালাতে হচ্ছে চালকদের। এখন আবার সংযোগ সড়কে ধস নামল।

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ধলেশ্বরী নদীতে শেখ হাসিনা সেতুর সংযোগ সড়কের একাংশ ধসে গেছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দুই দিনের ভারী বৃষ্টিতে বৃহস্পতিবার সেতুর পূর্ব পাশের সংযোগ সড়কে ধস নামে। এরপর থেকে ঝুঁকি নিয়েই ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করছে বিভিন্ন যান।

সেতুর পূর্ব পাশে গিয়ে দেখা যায়, গাইড ওয়ালের ব্লকগুলো সরে গিয়ে সেতু থেকে সংযোগ সড়কের প্রথমাংশেই মাটি ধসে গেছে। এতে সড়কের এক পাশে তৈরি হয়েছে বড় গর্ত।

স্থানীয় লোকজন জানান, প্রায় ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি ২০১৭ সালে উদ্বোধন করা হয়। এর এক বছর না পেরোতেই সেতুর উপরিভাগের বিভিন্ন স্থানের ঢালাই উঠে গিয়ে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়।

শেখ হাসিনা সেতুর সংযোগ সড়কে ধস, চলাচলে ভোগান্তি

এরপর থেকে সেতুর ওপর দিয়ে ধীরগতিতে যানবাহন চালাতে হচ্ছে চালকদের। এখন আবার সংযোগ সড়কে ধস নামল।

বাসচালক সাইফুল ইসলাম জানান, দ্রুত সেতু ও সংযোগ সড়কে সংস্কার প্রয়োজন। তা না হলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

ভ্যানচালক হাসমত আলী বলেন, ‘আমরা রাইত-বিরাতে ভ্যানগাড়ি চালাই। অন্ধকার থাকে যখন, তখন আইয়া ভ্যান নিয়া পইড়া যাবার পারি এ গাতার (গর্ত) মধ্যে। আমি চাই তাড়াতাড়ি এইটুকু ঠিক কইরা দিক।’

টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথের উপসহকারী প্রকৌশলী এস এম আলামিন জানান, শেখ হাসিনা সেতুর উপরিভাগের গর্ত এবং সংযোগ সড়কে ধসের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। তারা গাইড ওয়াল এমনভাবে মেরামত করছেন যাতে বৃষ্টির পানি লিক করতে না পারে।

ব্রিজের উপরিভাগের গর্তগুলো শিগগিরই মেরামত করা হবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
কার গাফিলতিতে ভাঙল তিন সেতু
পায়রা-বিষখালী সেতু নেই বাজেটে, হতাশ বরগুনা
ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পে বরাদ্দ বেড়েছে
ফেরি বন্ধ, বিকল্প রুট বঙ্গবন্ধু সেতু
পদ্মা সেতু প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ল আরও দুই বছর

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘সড়কের কাজে এদিক-ওদিক হয়’

‘সড়কের কাজে এদিক-ওদিক হয়’

পাবনার ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় লোকজন। ছবি: নিউজবাংলা

অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী তরিকুল বলেন, ‘সড়কের কাজে এদিক-ওদিক হয়। কিছু ইটে সমস্যা ছিল, তা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আমি নিজে সংস্কারকাজ তদারক করছি। এখন নিম্নমানের কাজ হচ্ছে না।’

পাবনার ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় লোকজন।

ঈশ্বরদী পৌর এলাকার পোস্ট অফিস মোড় থেকে বাঘইল রেলওয়ে সাঁকো পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তাদের অভিযোগ, নিম্নমানের বালু, ইট ও সুরকি ব্যবহার করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জানায়, গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংস্কার প্রকল্পের আওতায় এক কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির নির্মাণকাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সততা ট্রেডার্স। এর স্বত্বাধিকারী তরিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি।

সোমবার স্থানীয় লোকজন জানান, বাঘইল রেলওয়ে সাঁকো এলাকায় সড়ক সংস্কারের জন্য নিম্নমানের ইট এনে খোয়া বানানো হচ্ছে। নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তড়িঘড়ি করে সংস্কারকাজ চলছে। সড়কের কাজের জন্য উপজেলা সদরের আবুল মনসুর খান স্টেডিয়ামের সামনে মজুত করা হয়েছে নিম্নমানের বালু ও সুরকি।

পাকশী রূপপুর বাজারের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হোছাইন বলেন, ‘চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে যেনতেনভাবে সড়কটির সংস্কারকাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।’

অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী তরিকুল বলেন, ‘সড়কের কাজে এদিক-ওদিক হয়। কিছু ইটে সমস্যা ছিল, তা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আমি নিজে সংস্কারকাজ তদারক করছি। এখন নিম্নমানের কাজ হচ্ছে না।’

এলজিইডির ঈশ্বরদী উপজেলা প্রকৌশলী এনামুল কবির বলেন, ‘আমি পরিদর্শনে গিয়ে সংস্কারকাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের সত্যতা পেয়েছি। এ ব্যাপারে ঠিকাদারকে সতর্ক করা হয়েছে। সংস্কারকাজে আমাদের নিয়মিত নজরদারি রয়েছে। এরপরও কোনো অনিয়ম করা হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
কার গাফিলতিতে ভাঙল তিন সেতু
পায়রা-বিষখালী সেতু নেই বাজেটে, হতাশ বরগুনা
ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পে বরাদ্দ বেড়েছে
ফেরি বন্ধ, বিকল্প রুট বঙ্গবন্ধু সেতু
পদ্মা সেতু প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ল আরও দুই বছর

শেয়ার করুন

এবার মিলল লাশের পা, গ্রেপ্তার ১

এবার মিলল লাশের পা, গ্রেপ্তার ১

র‍্যাব-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট রওশুনুল ফিরোজ জানান, আজিজুর তার তিনটি মেডিক্যাল প্রোডাক্ট বিক্রি করে দিলে ২১ হাজার টাকা পাবে বলে জানায় আশরাফ। আজিজুর কিছু প্রোডাক্ট বিক্রির পর ৩ হাজার টাকা চাইতে গেলে হোমিওপ্যাথিক চেম্বারেই তাকে ছুরিকাঘাত করেন আশরাফ।

মাগুরা মহম্মদপুরের বিনোদপুর এলাকায় পুকুর থেকে উদ্ধার খণ্ডিত মরদেহের একটি পা উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৬। তবে এখনও নিখোঁজ মরদেহের মাথা।

মাগুরার জগদল ইউনিয়নের বিএনপির মোড় এলাকার পাটক্ষেত থেকে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পা উদ্ধার করা হয়।

এই পা আজিজুর রহমানের বলে নিশ্চিত করেছেন যশোর র‍্যাব-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট রওশুনুল ফিরোজ।

এ ঘটনায় যশোরের শার্সা থেকে আশরাফ আলী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আশরাফ আলীর বাড়ি মাগুরা সদরের মালিকগ্রামে। হিজমা থেরাপি নামে মাগুরায় তার একটি হোমিওপ্যাথিক চেম্বার আছে।

র‍্যাব-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট রওশুনুল ফিরোজ জানান, টাকাপয়সা লেনদেন নিয়ে আজিজুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। আজিজুর ঢাকার একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। তিনি তিনটি মেডিক্যাল প্রোডাক্ট বিক্রি করে দিলে ২১ হাজার টাকা পাবে বলে জানায় আশরাফ।

আশরাফের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, আজিজুর কিছু প্রোডাক্ট বিক্রির পর ৫ জুন দুপুরে ৩ হাজার টাকা চাইতে গেলে হোমিওপ্যাথিক চেম্বারেই তাকে ছুরিকাঘাত করেন আশরাফ। হত্যার পর তিনি মরদেহ ছয় টুকরা করেন।

মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারক বিশ্বাস নিউজবাংলাকে জানান, ৬ জুন সকালে এক নারী মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুরের কালুকান্দি গ্রামের এক পুকুরপাড় ঝাড়ু দিতে গিয়ে রক্তমাখা বস্তা দেখে আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে বস্তার ভেতরে পলিথিনে মোড়ানো দুই হাত, দেহ ও একটি পা বের করে। মাথা ও আরেকটি পা সেখানে ছিল না।

মরদেহের গায়ের পোশাক দেখে তা নিজের ভাইয়ের বলে শনাক্ত করেন হাবিবুর রহমান নামের এক ব্যক্তি।

ওই দিনই তিনি হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগ এনে অজ্ঞাতপরিচয়দের আসামি করে মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
কার গাফিলতিতে ভাঙল তিন সেতু
পায়রা-বিষখালী সেতু নেই বাজেটে, হতাশ বরগুনা
ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পে বরাদ্দ বেড়েছে
ফেরি বন্ধ, বিকল্প রুট বঙ্গবন্ধু সেতু
পদ্মা সেতু প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ল আরও দুই বছর

শেয়ার করুন

বাসের সঙ্গে মাহিন্দ্র ও অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ২

বাসের সঙ্গে মাহিন্দ্র ও অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ২

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বাসের সঙ্গে মাহিন্দ্র ও অটোরিকশার সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী জানান, উপজেলার বড়ইতলায় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে কিশোরগঞ্জগামী একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা মাহিন্দ্র ও অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়৷ এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশাচালক সুরুজ ও যাত্রী আব্দুর রশিদ মারা যান।

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বাসের সঙ্গে মাহিন্দ্র ও অটোরিকশার সংঘর্ষে অটোরিকশার চালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।

ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের বড়ইতলায় সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার অটোরিকশার চালক সুরুজ আলী, গৌরীপুর উপজেলার বড়ইতলা গ্রামের আব্দুর রশিদ। আহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পরেনি পুলিশ।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, উপজেলার বড়ইতলায় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কিশোরগঞ্জগামী একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাহিন্দ্র ও অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়৷ এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশাচালক সুরুজ ও যাত্রী রশিদ মারা যান।

এসময় আরও পাঁচ যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদেরকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত বাসটিকে জব্দ করলেও চালক পালিয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

আরও পড়ুন:
কার গাফিলতিতে ভাঙল তিন সেতু
পায়রা-বিষখালী সেতু নেই বাজেটে, হতাশ বরগুনা
ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পে বরাদ্দ বেড়েছে
ফেরি বন্ধ, বিকল্প রুট বঙ্গবন্ধু সেতু
পদ্মা সেতু প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ল আরও দুই বছর

শেয়ার করুন

শার্শায় বাড়ি পেল ২৫ ভূমিহীন পরিবার

শার্শায় বাড়ি পেল ২৫ ভূমিহীন পরিবার

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন। তিনি ২৫ ভুমিহীন পরিবারের হাতে বাড়ির চাবি তুলে দেন।

‘শেখ হাসিনার অবদান ভুমিহীনদের বাসস্থান’ এই স্লোগানে যশোরের শার্শা উপজেলার গুচ্ছগ্রাম ২য় পর্যায় (সিভিআরপি) প্রকল্পের আওতায় সরকারি অর্থায়নে কুলপালা গুচ্ছ গ্রামে বাড়ি পেয়েছে ২৫ ভূমিহীন পরিবার।

এ উপলক্ষে সোমবার দুপুরে কুলপালা গুচ্ছ গ্রামে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলিফ রেজা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন। তিনি ২৫ ভুমিহীন পরিবারের হাতে ঘরের চাবি তুলে দেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জু, সহকারী কমিশনার (ভুমি) রাসনা শারমিন মিথি, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা লাল্টু মিয়া ও স্থানীয় চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন।

আরও পড়ুন:
কার গাফিলতিতে ভাঙল তিন সেতু
পায়রা-বিষখালী সেতু নেই বাজেটে, হতাশ বরগুনা
ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পে বরাদ্দ বেড়েছে
ফেরি বন্ধ, বিকল্প রুট বঙ্গবন্ধু সেতু
পদ্মা সেতু প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ল আরও দুই বছর

শেয়ার করুন

রোহিঙ্গাদের সনদ: সাবেক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

রোহিঙ্গাদের সনদ: সাবেক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

মামলার অন্য আসামিরা হলেন ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা ওয়ার্ডের জন্মনিবন্ধন সনদ সহকারী সুবর্ণ দত্ত, দালাল সিরাজুল ইসলাম, রোহিঙ্গা নাগরিক মোহাম্মদ ইসমাইল ও তার স্ত্রী অহিদা এবং তার মেয়ে মেহেরজান। 

অবৈধ উপায়ে রোহিঙ্গাদের জাতীয় সনদ দেয়ায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পাথরঘাটা ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইসমাইল বালিসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দীন বাদী হয়ে রোববার বিকেল ৪টার দিকে এই মামলা করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা ওয়ার্ডের জন্মনিবন্ধন সনদ সহকারী সুবর্ণ দত্ত, দালাল সিরাজুল ইসলাম, রোহিঙ্গা নাগরিক মোহাম্মদ ইসমাইল ও তার স্ত্রী অহিদা এবং তার মেয়ে মেহেরজান।

এজাহারে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা নাগরিক অহিদা ও ইসমাইল ২০১৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জাতীয়তা সনদ পাওয়ার জন্য ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর ইসমাইল বালির কাছে আবেদন করেন। ওই দিনই তাদের সনদ দেয়া হয়।

এরপর তারা আবার জন্মনিবন্ধন ফরমের জন্য আবেদন করলে একই বছরের ৭ নভেম্বর সেই সনদও দেন কাউন্সিলর বালি। পরে দুজনই পাঁচলাইশ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন।

সেখানে তাদের পরিচয়ের সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়টি এড়াতে দালাল হিসেবে পরিচিত সিরাজুল ইসলামকে ধরেন অহিদা ও তার স্বামী ইসমাইল।

জাতীয়তা সনদপত্র ও জন্মনিবন্ধন দেয়ার পর তাদের দুজনের সেই পাসপোর্টের ফরমেও কাউন্সিলর ইসমাইল সত্যায়িত করেন। ওই সময়ে ২০১৯ সালের ১৯ নভেম্বর দুদকের অভিযানে পাঁচলাইশ পাসপোর্ট অফিস থেকে দালাল সিরাজুল আটক হন।

সেই সময় অহিদা ও তার স্বামী পরিচয়দানকারী ইসমাইলকে জালিয়াতির মাধ্যমে পাসপোর্ট বানিয়ে দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নেন ইসমাইল। একই সঙ্গে অহিদার স্বামী ইসমাইল ও মেয়ে মেহেরজান নন বলেও তদন্তে বের হয়ে আসে। তবে তারা সবাই রোহিঙ্গা এবং সৌদি প্রবাসী।

শুধুমাত্র কাউন্সিলর ইসমাইলের দেয়া জন্মনিবন্ধন সনদ ও জাতীয়তা সনদের ওপর ভিত্তি করেই চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার নির্বাচন কর্মকর্তা অহিদাকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন। বালির এই কাজে সহযোগিতা করেন ওই ওয়ার্ডের জন্মনিবন্ধন সনদ সহকারী সুবর্ণ দত্ত।

দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দীন জানান, তারা মূলত একে অপরের যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া পরিচয়, জন্মনিবন্ধন সনদ ও জাতীয় পরিচয় তৈরি করে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

আরও পড়ুন:
কার গাফিলতিতে ভাঙল তিন সেতু
পায়রা-বিষখালী সেতু নেই বাজেটে, হতাশ বরগুনা
ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পে বরাদ্দ বেড়েছে
ফেরি বন্ধ, বিকল্প রুট বঙ্গবন্ধু সেতু
পদ্মা সেতু প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ল আরও দুই বছর

শেয়ার করুন

‘জমি দখলে ২ লাখ টাকায় ভাড়াটে কিলার দিয়ে খুন’

‘জমি দখলে ২ লাখ টাকায় ভাড়াটে কিলার দিয়ে খুন’

মাদারীপুরের রাজৈরে ভ্যানচালক মোতাহার দর্জি হত্যা মামলায় চার জনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

মাদারীপুরের এসপি গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘মোতাহার দর্জির সঙ্গে একই এলাকার এমারত ফরাজীর জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিরোধপূর্ণ জমি দখলে নিতে দুই লাখ টাকায় ভাড়াটে খুনি দিয়ে মোতাহারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন এমারত। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেন এমারতসহ সাতজন। ভাড়াটে খুনিদের অগ্রিম এক লাখ টাকা দেয়া হয়েছিল।’

মাদারীপুরের রাজৈরে ভ্যানচালক মোতাহার দর্জি হত্যা মামলায় চারজনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

আসামিরা হলেন উপজেলার মজুমদারকান্দি গ্রামের ইলিয়াস মোল্লা, আনোয়ার মোল্লা, মহিদুল মোল্লা এবং বাসাবাড়ি গ্রামের এমারত ফরাজী।

আসামি ইলিয়াস মোল্লা হত্যায় অংশ নেয়ার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন আদালতে।

গত বুধবার রাজৈরের বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে নেয়া হলে বিচারক সবাইকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মাদারীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) গোলাম মোস্তফা রাসেল।

ইলিয়াস মোল্লার স্বীকারোক্তিসহ আসামিদের বরাত দিয়ে এসপি বলেন, ‘বিরোধপূর্ণ জমি দখল নেয়ার জন্য এলাকার এমারত ফরাজী ভাড়াটে কিলার দিয়ে মোতাহারকে হত্যা করেন।’

‘জমি দখলে ২ লাখ টাকায় ভাড়াটে কিলার দিয়ে খুন’
মাদারীপুরের রাজৈরে ভ্যানচালক মোতাহার দর্জি হত্যা মামলায় চারজনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

এসপি বলেন, ‘গত ২৩ মে রাজৈরের মজুমদারকান্দিতে পাটক্ষেত থেকে ভ্যানচালক মোতাহার দর্জির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ২৫ মে রাজৈর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে তার স্ত্রী সালমা বেগম হত্যা মামলা করেন। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে পুুলিশ অভিযান চালিয়ে ৯ জুন ইলিয়াস, আনোয়ার, মহিদুল ও এমারতকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে ইলিয়াস আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।’

মাদারীপুরের এসপি গোলাম মোস্তফা আরও বলেন, ‘মোতাহার দর্জির সঙ্গে একই এলাকার এমারত ফরাজীর জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে দুই লাখ টাকায় ভাড়াটে খুনি দিয়ে মোতাহারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন এমারত। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেন এমারতসহ সাতজন। ভাড়াটে খুনিদের অগ্রিম এক লাখ টাকা দেয়া হয়েছিল।’

আরও পড়ুন:
কার গাফিলতিতে ভাঙল তিন সেতু
পায়রা-বিষখালী সেতু নেই বাজেটে, হতাশ বরগুনা
ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পে বরাদ্দ বেড়েছে
ফেরি বন্ধ, বিকল্প রুট বঙ্গবন্ধু সেতু
পদ্মা সেতু প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ল আরও দুই বছর

শেয়ার করুন

ডেকে এনে মদ খাইয়ে দুই ভাইকে হত্যা: পুলিশ

ডেকে এনে মদ খাইয়ে দুই ভাইকে হত্যা: পুলিশ

দুই খালাতো ভাইকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার শাহজালাল। ছবি: নিউজবাংলা

আগের ক্ষোভ থেকেই রায়হানকে হত্যার পরিকল্পনা করেন শাহজালাল। পরিকল্পনা অনুযায়ী রায়হান ও রায়হানের খালাতো ভাই নাজমুলকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরের পাটক্ষেতে যান। সেখানে তাদের দুজনকে মদ খাওয়ানোর পর তার সহযোগী রবিউলকে সঙ্গে নিয়ে তাদের ছুরিকাঘাতে হত্যা করে পালিয়ে যান।

সাভারে পাশাপাশি পাটক্ষেত ও ধঞ্চেক্ষেত থেকে দুই খালাতো ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) আব্দুল্লাহ হিল কাফি সোমবার দুপুরে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রোববার রাতে সাভার থেকে মো. শাহজালালকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এএসপি আব্দুল্লাহিল কাফি জানান, শাহজালাল জানিয়েছেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে দুই ভাইকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। শাহজালাল নিহত রায়হানের ফুফাতো ভাই। তিনি রায়হানদের বাড়িতেই থাকতেন। সে সময়ে বিভিন্ন পারিবারিক কারণে রায়হানের সঙ্গে মনোমালিন্য হয় তার। পরে রায়হানদের বাসা ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যান।

এই ক্ষোভ থেকেই রায়হানকে হত্যার পরিকল্পনা করেন শাহজালাল। পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রায়হান ও রায়হানের খালাতো ভাই নাজমুলকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরের পাটক্ষেতে যান। সেখানে তাদের দুজনকে মদ খাওয়ান।

এরপর তার সহযোগী রবিউলকে সঙ্গে নিয়ে দুই ভাইকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে পালিয়ে যান।

সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নের হিরুলিয়া গ্রামের চক থেকে শুক্রবার সকালে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি ও শাহজালালের প্যান্টও ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়।

রায়হান হেমায়েতপুর এলাকার আলনাছির ল্যাবরেটরি স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী ও নাজমুলও বরিশালের একটি স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার সে বরিশাল থেকে খালার বাড়ি বেড়াতে আসে।

এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় শুক্রবার রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে দুজনের নামে মামলা করা হয়।

পুলিশ জানায়, মামলার আরেক আসামি মো. রবিউলকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন:
কার গাফিলতিতে ভাঙল তিন সেতু
পায়রা-বিষখালী সেতু নেই বাজেটে, হতাশ বরগুনা
ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পে বরাদ্দ বেড়েছে
ফেরি বন্ধ, বিকল্প রুট বঙ্গবন্ধু সেতু
পদ্মা সেতু প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ল আরও দুই বছর

শেয়ার করুন