ভাঙনের কবলে তিস্তা নদী

ভাঙনের কবলে তিস্তা নদী

তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘বুধবার হঠাৎ তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহ বেড়েছে। উজানের ঢেউ ও বৃষ্টিপাতে এমনটি হয়েছে। যে অবস্থা দেখছি তাতে পানি আরও বাড়তে পারে।’

লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করেছে। ভারী বৃষ্টি আর উজানের পাহাড়ি ঢলে বেড়েছে তিস্তার পানিপ্রবাহ।

বুধবার সকাল ৯টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৫১। অর্থাৎ বিপৎসীমার মাত্র ৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তলদেশ ভরাট হয়ে তিস্তা নদীর দুই পাড়ের চরাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে ভাঙতে শুরু করেছে সমতল এলাকাগুলো। এরই মধ্যে চরাঞ্চলের ভুট্টা, বাদাম, মিষ্টি কুমড়াসহ নানান সবজির ফসল ডুবে গেছে।

তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘বুধবার হঠাৎ তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহ বেড়েছে। উজানের ঢেউ ও বৃষ্টিপাতে এমনটি হয়েছে। যে অবস্থা দেখছি তাতে পানি আরও বাড়তে পারে।’

স্থানীয়রা জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে শুকিয়ে যাওয়া তিস্তা আবারও যৌবন ফিরে পেয়েছে। জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম; হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, সিংগিমারী; কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, কাকিনা; আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, পলাশী ও সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুন্ডা, ইউনিয়নে তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার পরিবারের পানিবন্দি হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে হঠাৎ তিস্তায় পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় সৃষ্ট বন্যায় চরাঞ্চলের সবজি, বাদাম ও ভুট্টাসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সবকিছু পানিতে ডুবে গেছে। আর ভাঙতে শুরু করেছে নিম্নাঞ্চলগুলো। এ কারণে চিন্তিত তিস্তাপাড়ের মানুষরা। পানিবন্দি পরিবারগুলো শিশু, বৃদ্ধ ও গবাদি পশুপাখি নিয়ে পড়েছে বিপাকে। তারা তাদের বাড়িঘর নিয়ে যাচ্ছে দূরের কোনো এক অজানা বাঁশঝাড়ে । অনেকে ঠাঁই নিচ্ছেন অন্যের বাড়িতে। তিস্তাপাড়ের ফাতেমা আহাজারি করে বলেন, ‘হামাক বাঁচান ব্যাড়ে, হামার শোগ শ্যাষ। সব নদীত ভাঙ্গিয়া গেইছে ব্যাড়ে। হামাক বাঁচান। হামরা কৈ যাম কি খামা করি করম শোগ নদী ভাঙি নিয়া যাবার লাগছে। সরকার এগুলা কি কইরবার লাগছে। হামাক বাঁচান ব্যাড়ে, হামা বাঁচান।’

তিস্তাপাড়ের বালাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সজল বলন, ‘হামার বাড়ি ভাঙ্গি যাবার লাগছে তাই যাতে নদীর পানি ভুঁই বাঠিত না যায় তার জন্য আইল দিবার লাগছি। নদী ত কয়েকবার ভাঙ্গচে। সব তো শেষ। এখন আইল কি আর টিকে। তাপ দেই।’

তিস্তাপাড়ের শিক্ষার্থী আবু সায়েম বলেন, ‘তিস্তা নদীর কাজ কিছুতেই হচ্ছে না। সবাই আশা দেয় কিছু করতেছে না। আজ নদীর পানি বাড়তেছে গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি নিয়ে কই যাব আমরা। এই যে দেখেন নদী ভাঙতে ভাঙতে আমাদের বাড়ির পাশে এসেছে। কই যাব আমরা। সবাই শুধু সান্ত্বনা দেয়। আমাদের জায়গা জমি ত সব নদীতে চলে গেছে। কি করব আমরা?’

হাসান আলী বলেন, ‘নদীর মাঝখানে আমার বাড়ি ছিল। বাড়ি ভাঙতে ভাঙতে আজ যেখানে বাড়ি দেখতেছেন তার পাশ পর্যন্ত ভাঙন আসছে। আমার বাড়িটা যেকোনো সময় ভাঙতে পারে। কাচারত আসছে ভাঙন। শুধু প্রশাসন আমাদেক সান্ত্বনা দেয়। যদি শুকনো মৌসুমে বালুর বস্তা দিত তা হলে আর ভাঙত না। গতবারের মতন আজ আবার পানি বাড়তে শুরু করেছে। আমরা কই যাব, যাওয়ার তো জায়গা নাই।’

তিস্তাপাড়ের দুলাল মিয়া (৫৫) বলেন, ‘আমরা রিলিপ-টিলিপ কিছু চাই না। বালুর বান্ধ থাকি শুরু করি নদীর পাশে যদি বস্তা দিত তাহল আর নদী ভাঙত না।’ আমরা বালুর বান্দ চান্দা কালেকশন করিয়া বান্দিছি। ডিসি মহোদয় আসিয়া কইছে আমি বস্তা দিব। কিন্তু কোনো বস্তা দেয়নি। সব ভাঙি যাবার লাগছে। আমরা নিজেরা উদ্যোগ নিয়া বালুর বাধ দিবার লাগছি। কিন্তু বাধ দেয়া শেষ কোনো মন্ত্রী এমপি আসল না। বালুর বান্দ থাকি পুরা ৪ ও ৫ নম্বর ওয়াড নদী ভাঙবার লাগছে। কিন্তু কাও খোঁজ করে না। কাও ভাল করে না। বারবার নদী ভাঙ্গে খালি দেখি যায় কিন্তু ভালো করার কোন অ্যাকশন নেয় না। থাইকপার জায়গা নাই, জমি নাই সব ভাঙি নিয়া গেইছে তিস্তা।’

তিস্তাপাড়ের মহিষখোচা বালাপাড়ার রজব পাড়ার আব্দুল হাসিব (৬০) বলেন, ‘আজ পানি বাড়তেছে। আমাদের বাড়িঘর থাকে না। খালি ভাঙি যায়। আমাদের জমি নাই জায়গা নাই। আমরা যাব কোথায়। আমাদের যাবার স্থান নাই। নদীতে যদি কিছু বস্তা দেয়া যায়, তাহলে নদীটা টিকসই হবে আর ভাঙনটাও কমবে।’

শোভা বলেন, ‘আমাদের ভুট্টাবাড়ী ৪ দোন মাটি আবাদ কচ্চি। খুব কষ্ট করি। বাড়ি পাকা করছি তায়ও শোগ ভাঙ্গি যাবার নাগছে। তোমরা বোল্ডার ফেলে দেও। তা হলে ভাল হবে। ৫০০ টাকার জন্য কি ভোট দেই তোমাক। হামার শরম লজ্জা থুইয়া হামরা ভোট দেই। বয়স্ক দেন, বিদুয়া দেন, আরও বাউরা হবে। আর খ্যায় লোব বাড়ি যাইবে। ওগলা বেবাক বন্দ করি দেন। ওই টাকা দেয়া বন্দ করি দেন। ওই টাকা দিয়া তোমরা বস্তা দেও বোল্ডার ফেলান। মানুষের জাহান বন্ধ হয়া যাবার লাগছে কাবিল হয়া। কিসের না চিড়া গুর ধরি আইসেনি। চিনি গুর খ্যায়া মাইনসে হাবরে আরও বেশি হয়া যায়। আরও বাউরা হয়্যা যায়। আমি যদি শেখ হাসিনা হনু হয় তাইলে এই দুনিয়া ঠাণ্ডা করি দিলাম হয়।’

ফরিদা বলেন, ‘হামরা রাস্তার মুরিত বাড়ি করি আছি। এখন সেটে পানি ভরা হবার নাগছে। হামরা কোটে যেয়া থাকম কোটে যেয়া খামো তার কোন ভইয়াকার নাই। ৪ মাসে ৬ মাসে কি এক না দেয় ওমাকে না আটে।’

মর্জিনা বলেন, ‘কি করম কোনো বুদ্ধি নাই। আমার যে কোনো বাস্তবে টাকা পয়সা তা নাই। হাতে করি পেটে খাই। এই বাস্তটা একনা তাও ভাঙ্গি যাবার লাগছে। এই যে বাইরে পাক কইরবার লাগছি। সরকার একটা ঘর দিছে তাও ভাঙি যাবার লাগছে। বাল বাচ্চা নিয়া কি করম। দুইটা ঘর তারও একটা রাস্তাত থুয়া আছি। আমি করি খাইতে পাই না দেখি সরকার আমাক ঘর দিছে। মানুষের ঋণও এখন শোধ কইরবার পাই নাই ফির ভাঙিবার লাগছে। সামনে বস্তা ফেলা চলো ভাঙে নাই। এখন বস্তাগুলো পানিত গেছে তাই ভাঙিবার লাগছে। এই মুহূর্তে যদি বস্তা ফেলায় তাহলে একনা নিন পাইরবার পামো। না হলে শোগ রাইতোতে ধুয়া নিয়া যাবে নদী।’

বালাপাড়ার মোহাম্মদ আলী (৬০) বলেন, ‘তেরো বার বাড়ি ভাঙছে। বাড়ি ভাঙতে ভাঙতে ওপার থাকি মহিষখোচা পর্যন্ত আসিয়া গেছি। মহিষখোচা আসিয়াও আমরা পানি টানি বাঙ্গরি টাংরি হায় হুলাচতুল। এই গরু বাচুর মানুষ আমরা অসহায় যাব কোথায়। কোথায় খাব। ৫০ বছর থাকি শুনবার লাগছি নদী খনন হবে। খননও নাই কোন নদীর ব্যবস্থাও নাই। কি আমার সরকার কি কইরবার লাগছে। আমরা যাব কোথায়? বাড়িঘর সব ভাসি যাবার লাগছে। এ যে ভূট্টা ৪ দোন ৫ দোন সব ভাসি যাবার লাগছে। কোথায় যাবার মতো জায়গা নাই।’

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা বাঁধ নির্মাণের জন্য বাজেটের আবেদন করেছি, কিন্তু এখন পর্যান্ত বাজেট পাইনি। কিছু বস্তা ফেলা হয়েছে, কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয়। নদীর পানি বাড়ছে এবং বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীর ভাঙনও বাড়ছে। আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি, যাতে করে ভাঙন রোধ করা যায়।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর বলেন, ‘আজ পানি বাড়ছে কি না তা বলতে পারছি না। তবে একটা মিটিং আছে, শেষ হলেই আমি সেখানে যাব। আর তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা করা লাগলেও করা হবে। যদি বস্তা হলে ভাঙন রোধ হয়, তা হলে আমরা সেই ব্যবস্থাও করব। আর পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার মজুত আছে, ভাঙনকবলিত এলাকায় দ্রুত সেসব বিতরণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
তিস্তায় শুরু হচ্ছে বৃহত্তম সেচ প্রকল্পের কাজ
তিস্তা চুক্তির দাবিতে ‘স্তব্ধ’ ২৩০ কিলোমিটার
তিস্তা বাঁচাতে এবার ২৩০ কিলোমিটারে ‘স্তব্ধ’ কর্মসূচির ডাক
তিস্তা চুক্তি হয়নি, ‘সইয়ের’ ব্যাখ্যা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
তিস্তা চুক্তি না হওয়ার কারণ জানালেন দোরাইস্বামী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শ্রেণিকক্ষই প্রধান শিক্ষকের ‘আবাস’

শ্রেণিকক্ষই প্রধান শিক্ষকের ‘আবাস’

বরগুনার পাথরঘাটায় শ্রেণিকক্ষকেই আবাস হিসেবে ব্যবহার করছেন প্রধান শিক্ষক। ছবি: নিউজবাংলা

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসাইন মোহাম্মদ আল মুজাহিদ বলেন, ‘বিষয়টি আমারও জানা নেই। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলছি সরেজমিনে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।’

বরগুনার পাথরঘাটার জালিয়াঘাটা এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের দুটি শ্রেণিকক্ষকে আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহার করছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক।

তবে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার দাবি, পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক মো. ফিরদৌস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে বসবাস করলেও বিষয়টি তার জানা নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের মাধ্যমেই তিনি সেখানে বসবাস করছেন।

সোমবার ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, তিনতলা বিদ্যালয় ভবনটির দ্বিতীয় তলায় দুটি শ্রেণিকক্ষে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন ফিরদৌস। শ্রেণিকক্ষের কয়েকটি বেঞ্চ দিয়ে খাটিয়ার মতো তৈরি করে নিয়েছেন তারা।

ছাত্রীদের ব্যবহারের টয়লেটও দখলে নিয়েছেন তারা। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্বলিত ব্যানার দিয়ে রান্নাঘরে ঘের দেয়া হয়েছে।

শ্রেণিকক্ষই প্রধান শিক্ষকের ‘আবাস’
বরগুনার পাথরঘাটার জালিয়াঘাটা এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের দুটি শ্রেণিকক্ষ নিয়েই থাকছেন এর প্রধান শিক্ষক

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ফিরদৌস বলেন, ‘এটা হেডমাস্টারের স্পেশাল রুম। সরকার এটাকে করেছেই শিক্ষকরা রান্না করবে, থাকবে এই জন্য। বিদ্যালয়ে কাজ চলছে, নির্মাণ শ্রমিকদের খাওয়ানোর জন্য রান্না করতে হয়। আমি বিদ্যালয়ের অব্যহৃত কক্ষেই বসবাস করি, এটা সবাই জানে। আপনি শিক্ষা অফিসারকে জিজ্ঞাস করেন।’

একপর্যায়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিনিধিকে বলেন, ‘আমি এইখানে থাকি, আপনাদের সমস্যা কী? আপনারা যা পারেন করেন।’

ওই এলাকার একাধিক অভিভাবক জানান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাহায্য নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে ফিরদৌস বিদ্যালয়ের কক্ষ দুটি দখল করে বসবাস করছেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক হওয়ায় কেউ তাকে কিছু বলার সাহস পায় না।

ওই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘ওই প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পরিবার নিয়ে থাকছেন। তার জন্য আসলে আলাদা করেও বাসভবনের ব্যবস্থা নেই। তবে বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটিকে জানিয়ে অনুমতি নেয়া উচিত। আমার জানামতে, তিনি সেটি না করেই ওই কক্ষ দুটি ব্যবহার করেছেন।’

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক সভাপতি জালাল আহমেদ বলেন, ‘বিদ্যালয়টির বর্তমানে কোনো ব্যবস্থাপনা কমিটি নেই। এডহক কমিটি দিয়েই চলছে সব ধরনের কার্যক্রম। প্রধান শিক্ষকের থাকার জন্য বিদ্যালয়ে কোনো কক্ষ বরাদ্দ দেয়া নেই। ওই শিক্ষক অনেক আগে একবার বিদ্যলয়ে বসবাস শুরু করেছিলেন। পরে আমরা তাকে নেমে যেতে বলার পর তিনি কক্ষ ছেড়েছিলেন। এরপর আবারও উঠেছেন শুনছি।’

পাথরঘাটা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মুহাম্মদ মুনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি তিনি পরিবার নিয়ে স্কুলের শ্রেণিকক্ষ দখল করে বসবাস করে থাকেন তবে বিষয়টি আমরা দেখব।’

এ বিষয়ে জেলার ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমার জানামতে প্রধান শিক্ষক নিজস্ব বাসা নিয়ে থাকেন। শ্রেণিকক্ষ দখল করে থাকার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এ ব্যপারে খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসাইন মোহাম্মদ আল মুজাহিদ বলেন, ‘বিষয়টি আমারও জানা নেই। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলছি সরেজমিনে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।’

আরও পড়ুন:
তিস্তায় শুরু হচ্ছে বৃহত্তম সেচ প্রকল্পের কাজ
তিস্তা চুক্তির দাবিতে ‘স্তব্ধ’ ২৩০ কিলোমিটার
তিস্তা বাঁচাতে এবার ২৩০ কিলোমিটারে ‘স্তব্ধ’ কর্মসূচির ডাক
তিস্তা চুক্তি হয়নি, ‘সইয়ের’ ব্যাখ্যা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
তিস্তা চুক্তি না হওয়ার কারণ জানালেন দোরাইস্বামী

শেয়ার করুন

ক্লাসে টিকটক ভিডিও, অভিভাবক ডেকে সতর্ক

ক্লাসে টিকটক ভিডিও, অভিভাবক ডেকে সতর্ক

কুমিল্লায় ক্লাসরুমে টিকটক ভিডিও করায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সতর্ক করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত

ইবনে তাইমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহা. শফিকুল আলম হেলাল বলেন, ‘আমাদের স্কুলের পাঁচ শিক্ষার্থী ক্লাসে টিকটক ভিডিও তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে সেটি। বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে আমি খুব বিব্রত। তবে আমরা ওই শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করিনি। সর্বোচ্চ সতর্ক করেছি।’

খালি ক্লাশরুম। স্কুলের পোশাকে কয়েকজন ছাত্রী, চোখে কালো চশমা। সেখানে হিন্দি গানের সঙ্গে নানান অঙ্গভঙ্গি করে তৈরি করেছেন টিকটক ভিডিও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরে ভিডিওটি হয়েছে ভাইরাল।

এমন টিকটক ভিডিও তৈরি করেছে কুমিল্লা নগরীর টমসমব্রিজ এলাকার ইবনে তাইমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের একদল শিক্ষার্থী।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নজরে আসলে হতবাক স্কুল কর্তৃপক্ষ।

টিকটক ভিডিও তৈরি করা পাঁচ ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষার্থী।

ভাইরাল ভিডিওটি আবার অনেকেই শেয়ার করে লিখেছেন, ভিডিও করা পাঁচ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিতে গেলে ইবনে তাইমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহা. শফিকুল আলম হেলাল বলেন, ‘আমাদের স্কুলের পাঁচ শিক্ষার্থী ক্লাসে টিকটক ভিডিও তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে সেটি। বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে আমি খুব বিব্রত। তবে আমরা ওই শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করিনি। সর্বোচ্চ সতর্ক করেছি।’

তিনি বলেন, ‘রোববার ওই পাঁচ শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ডেকে এনেছি। আমরা অভিভাবকদের সতর্ক করেছি। শিক্ষার্থীদেরও সতর্ক করেছি।

‘অভিভাবকরা জানিয়েছে, আবার এমন কাজ করলে স্কুল কর্তৃপক্ষ যে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।’

আরও পড়ুন:
তিস্তায় শুরু হচ্ছে বৃহত্তম সেচ প্রকল্পের কাজ
তিস্তা চুক্তির দাবিতে ‘স্তব্ধ’ ২৩০ কিলোমিটার
তিস্তা বাঁচাতে এবার ২৩০ কিলোমিটারে ‘স্তব্ধ’ কর্মসূচির ডাক
তিস্তা চুক্তি হয়নি, ‘সইয়ের’ ব্যাখ্যা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
তিস্তা চুক্তি না হওয়ার কারণ জানালেন দোরাইস্বামী

শেয়ার করুন

স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি: গ্রেপ্তার ৮, উদ্ধার ৬৯ ভরি

স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি: গ্রেপ্তার ৮, উদ্ধার ৬৯ ভরি

মুন্সিগঞ্জ সদরের চিতলিয়া বাজারে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার ৮ জন। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন জানান, জেলা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ দল চার জেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ৬৯ ভরি স্বর্ণ ও ১৫ হাজার টাকা। জব্দ হয় ম্যাগজিনসহ একটি পিস্তল, ৪ রাউন্ড শটগানের গুলি, একটি চাপাতি ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি স্পিডবোট।

মুন্সিগঞ্জ সদরের চিতলিয়া বাজারে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার ৮ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সোমবার বেলা ৩টার দিকে মুন্সিগঞ্জের ১ নম্বর আমলী আদালতে তোলা হলে, বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

যাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে তারা হলেন, ডাকাত দলের প্রধান সাব্বির ওরফে হাতকাটা স্বপন, আরিফ হাওলাদার, মোহাম্মদ আলী, বিল্লাল মোল্লা, আনোয়ার হোসেন, ফারুক খান, আফজাল হোসেন ও আক্তার হোসেন। তাদের বাড়ি শরীয়তপুর, চাঁদপুর ও মাদারীপুর জেলায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান।

জেলা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে রোববার মুন্সিগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও ঢাকা থেকে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় খোয়া যাওয়া স্বর্ণের ৬৯ ভরি।

জব্দ করা হয় ম্যাগজিনসহ একটি পিস্তল, ৪ রাউন্ড শটগানের গুলি, একটি চাপাতি ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি স্পিডবোট।

স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি: গ্রেপ্তার ৮, উদ্ধার ৬৯ ভরি
অভিযানে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ ও অস্ত্র। ছবি: নিউজবাংলা

মুন্সিগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন।

তিনি জানান, জেলা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ দল চার জেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ৬৯ ভরি স্বর্ণ ও ১৫ হাজার টাকা। জব্দ হয় ম্যাগজিনসহ একটি পিস্তল, ৪ রাউন্ড শটগানের গুলি, একটি চাপাতি ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি স্পিডবোট।

স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি: গ্রেপ্তার ৮, উদ্ধার ৬৯ ভরি
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন। ছবি: নিউজবাংলা

১৫ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে মুন্সিগঞ্জের চিতলিয়া বাজারের দুটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি হয়। দোকান মালিকদের দাবি, আনুমানিক ১০০ ভরি স্বর্ণ ও ৪০ লাখ টাকা ডাকাতি হয়েছে।

এ ঘটনায় ১৬ সেপ্টেম্বর ক্ষতিগ্রস্থ এক দোকানের মালিক রিপন বণিক মুন্সিগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ১৮ থেকে ২০ জনের নামে মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
তিস্তায় শুরু হচ্ছে বৃহত্তম সেচ প্রকল্পের কাজ
তিস্তা চুক্তির দাবিতে ‘স্তব্ধ’ ২৩০ কিলোমিটার
তিস্তা বাঁচাতে এবার ২৩০ কিলোমিটারে ‘স্তব্ধ’ কর্মসূচির ডাক
তিস্তা চুক্তি হয়নি, ‘সইয়ের’ ব্যাখ্যা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
তিস্তা চুক্তি না হওয়ার কারণ জানালেন দোরাইস্বামী

শেয়ার করুন

৪৮ ঘণ্টায় রেফার কন্টেইনারের পণ্য খালাসের নির্দেশ

৪৮ ঘণ্টায়  রেফার কন্টেইনারের পণ্য খালাসের নির্দেশ

চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি: নিউজবাংলা

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, নৌ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (রেফার) কন্টেইনার সংকটে পণ্য রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে চিঠি দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইয়ার্ডে থাকা রেফার কন্টেইনার পণ্য নামিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য নামিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (রেফার) কন্টেইনার বেসরকারি ডিপােতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর।

বন্দর কর্তৃপক্ষ সোমবার এক চিঠিতে সব আমদানিকারককে এ নির্দেশনা দেয়।

রেফার কন্টেইনার সংকটের কারণে দেশ থেকে মাছ-মাংস রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। পর্যাপ্ত রেফার কন্টেইনার না থাকায় বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা। পরিস্থিতি উত্তরণে বাণিজ্য ও নৌ মন্ত্রণালয় চট্টগ্রাম বন্দরকে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেয়।

চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বলেন, ‘নৌ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কন্টেইনার সংকটে পণ্য রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে পরিস্থিতি উত্তরণে চিঠি দিয়েছে। এরপরই আমরা ইয়ার্ডে থাকা রেফার কন্টেইনার পণ্য নামিয়ে ৪৮ ঘণ্টায় বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছি। আশা করি এক সপ্তাহের মধ্যে সুফল মিলবে।’

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ছিদ্দিক ট্রেডার্সের মালিক ওমর ফারুক বলেন, ‘বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেয়েছি। তবে সবক্ষেত্রে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে রেফার কন্টেইনার থেকে পণ্য খালি করা সম্ভব নয়। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত খালাসের।’

বন্দর সূত্র জানায়, রেফার কন্টেইনারে সামুদ্রিক মাছ, মাংস, ফলমূল আমদানি হয়। জাহাজে সেই কন্টেইনার চট্টগ্রাম বন্দরের নির্দিষ্ট ইয়ার্ডে রাখার সময় থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে হয়। আমদানিকারক তার সুবিধামতো কন্টেইনার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ছাড় নেয়ায় ইয়ার্ডে জট লেগে যায়।

বেসরকারি ডিপােতে খালি রেফার কন্টেইনারে মাছ, ফলমুল, শাক-সবজিসহ বিভিন্ন পণ্য ভর্তি করে বন্দরে নিয়ে জাহাজীকরণ করা হয়।

আরও পড়ুন:
তিস্তায় শুরু হচ্ছে বৃহত্তম সেচ প্রকল্পের কাজ
তিস্তা চুক্তির দাবিতে ‘স্তব্ধ’ ২৩০ কিলোমিটার
তিস্তা বাঁচাতে এবার ২৩০ কিলোমিটারে ‘স্তব্ধ’ কর্মসূচির ডাক
তিস্তা চুক্তি হয়নি, ‘সইয়ের’ ব্যাখ্যা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
তিস্তা চুক্তি না হওয়ার কারণ জানালেন দোরাইস্বামী

শেয়ার করুন

ঋণ খেলাপ: ইলিয়াছ ব্রাদার্সের এমডির বিরুদ্ধে পরোয়ানা

ঋণ খেলাপ: ইলিয়াছ ব্রাদার্সের এমডির বিরুদ্ধে পরোয়ানা

গ্রেপ্তারের আদেশ পাওয়া অন্যরা হলেন মোহাম্মদ ইলিয়াছ ব্রাদার্স লিমিটেড কোম্পানি ও এডিবল ওয়েল রিফাইনারি ইউনিট-২ এর চেয়ারম্যান নুরুল আবছার, পরিচালক নুরুল আলম, কামরুন নাহার বেগম ও তাহমিনা বেগম।

১৮৩ কোটি টাকা ঋণ খেলাপি মামলায় মেসার্স ইলিয়াছ ব্রাদার্স (এমইবি) গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শামসুল আলমসহ ৫ পরিচালককে গ্রেপ্তারের আদেশ দিয়েছে আদালত।

সোমবার দুপুর ২টার দিকে চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতের বিচারক মুজাহিদুর রহমান এ আদেশ দেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নেতা শামসুল আলম সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন।

গ্রেপ্তারের আদেশ পাওয়া অন্যরা হলেন মোহাম্মদ ইলিয়াছ ব্রাদার্স লিমিটেড কোম্পানি ও এডিবল ওয়েল রিফাইনারি ইউনিট-২ এর চেয়ারম্যান নুরুল আবছার, পরিচালক নুরুল আলম, কামরুন নাহার বেগম ও তাহমিনা বেগম।

ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড খাতুনগঞ্জ শাখার করা মামলায় এ আদেশ দেয়া হয়।

তাদের বিরুদ্ধে ১৮৩ কোটি ৩ লাখ টাকা ঋণ খেলাপির অভিযোগে মামলা করে ব্যাংকটি।

চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতে এমইবি গ্রুপের কাছ থেকে ঋণ আদায়ের আবেদন করে।
এমইবির এখন এক ডজন ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ আছে। প্রায় সব ঋণ এখন খেলাপি।

আরও পড়ুন:
তিস্তায় শুরু হচ্ছে বৃহত্তম সেচ প্রকল্পের কাজ
তিস্তা চুক্তির দাবিতে ‘স্তব্ধ’ ২৩০ কিলোমিটার
তিস্তা বাঁচাতে এবার ২৩০ কিলোমিটারে ‘স্তব্ধ’ কর্মসূচির ডাক
তিস্তা চুক্তি হয়নি, ‘সইয়ের’ ব্যাখ্যা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
তিস্তা চুক্তি না হওয়ার কারণ জানালেন দোরাইস্বামী

শেয়ার করুন

দেবীগঞ্জে নৌকার পরাজয়

দেবীগঞ্জে নৌকার পরাজয়

রেল ইঞ্জিন প্রতীকে ২ হাজার ৯৮১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবু বক্কর আবু।

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আবু বক্কর আবু।

রেল ইঞ্জিন প্রতীকে ২ হাজার ৯৮১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী পেয়েছেন ২ হাজার ২৪৭ ভোট। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

এক হাজার ৩৯৮ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে আওয়ামী লীগের আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী আসাদুজ্জামান আসাদ। ক্যারাম বোর্ড প্রতীকে লড়েছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রত্যয় হাসান সোমবার রাত ৮টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, দেবীগঞ্জ পৌর এলাকার ৯ ওয়ার্ডে মোট ভোটার ১০ হাজার ৯১৪ জন। এবারের নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৮ হাজার ৫৯৮টি।

২০১৪ সালে দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ও দেবীডুবা ইউনিয়নের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হয় দেবীগঞ্জ পৌরসভা।

আরও পড়ুন:
তিস্তায় শুরু হচ্ছে বৃহত্তম সেচ প্রকল্পের কাজ
তিস্তা চুক্তির দাবিতে ‘স্তব্ধ’ ২৩০ কিলোমিটার
তিস্তা বাঁচাতে এবার ২৩০ কিলোমিটারে ‘স্তব্ধ’ কর্মসূচির ডাক
তিস্তা চুক্তি হয়নি, ‘সইয়ের’ ব্যাখ্যা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
তিস্তা চুক্তি না হওয়ার কারণ জানালেন দোরাইস্বামী

শেয়ার করুন

পৌর নির্বাচনের ৫টিতে আ. লীগ, একটিতে স্বতন্ত্র

পৌর নির্বাচনের ৫টিতে আ. লীগ, একটিতে স্বতন্ত্র

ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খোকন, যশোরের নওয়াপাড়ায় নৌকার সুশান্ত কুমার দাস শান্ত, পঞ্চগড়র দেবীগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক (আবু), ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নৌকার আবু রেজা মো. ফয়েজ, কক্সবাজারের মহেশখালীতে নৌকার মকছুদ মিয়া এবং চকরিয়ায় নৌকার আলমগীর চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, দুজনের প্রাণহানি ও কিছু প্রার্থীর ভোট বর্জনের মধ্য দিয়ে সোমবার ১৬০টি ইউনিয়ন পরিষদ ও ৯টি পৌরসভার নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়েছে।

সব পৌরসভায় ভোট হয়েছে ইভিএমে। ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মধ্যে ১১টিতে ইভিএমে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা।

ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খোকন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। যশোরের নওয়াপাড়া পৌরসভায় সুশান্ত কুমার দাস শান্ত টানা দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র হয়েছেন।

পঞ্চগড়র দেবীগঞ্জ পৌরসভায় নৌকার প্রার্থীর ভরাডুবি হয়েছে। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা আবু বক্কর সিদ্দিক (আবু) মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। ফরিদপুরের ভাঙ্গা মডেল পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবু রেজা মো. ফয়েজ আবারও মেয়র হয়েছেন।

কক্সবাজারের মহেশখালী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী মকছুদ মিয়া এবং চকরিয়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের আলমগীর চৌধুরী বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

নিউজবাংলা প্রতিনিধিদের বিস্তারিত খবর-

সোনাগাজীতে জয় পেল নৌকা

ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খোকন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। নৌকা প্রতীকে তিনি ৫ হাজার ৩৬১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু নাছের মোবাইল প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৭৫ ভোট।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫৯ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সেলিম পেয়েছেন ৭৯ ভোট।

রিটার্নিং কর্মকর্তা এ এম জহিরুল হায়াত এসব তথ্য জানিয়েছেন।

সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট চলে। এই পৌরসভায় মোট ভোটার ১৫ হাজার ৯৮৫ জন। ভোট দিয়েছেন ৬ হাজার ৮৯৯ জন। এর মধ্যে ২৫টি ভোট বাতিল হয়েছে।

সোনাগাজী পৌরসভায় এবারেই প্রথম ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ হয়।

পৌরসভায় মেয়র পদে ৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। আর কাউন্সিলর পদে ৯টি ওয়ার্ডে ২৩ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

অভয়নগরে আবারও মেয়র শান্ত

যশোরের অভয়নগরে নওয়াপাড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী সুশান্ত কুমার দাস শান্ত টানা দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। নৌকা প্রতীকে তিনি ২২ হাজার ৯১৮ ভোট পেয়েছেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের এইচ এম মহসীন পেয়েছেন ৭ হাজার ৮২৯ ভোট। লাঙল প্রতীকের জাতীয় পার্টির প্রার্থী আলমগীর ফারাজী পেয়েছেন ৭৩৫ ভোট।

সোমবার রাত ৯টায় বেসরকারিভাবে এ ফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুর রহমান।

২০১৬ সালে নওয়াপাড়া পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের সুশান্ত কুমার দাস শান্ত বিএনপির প্রার্থীকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন।

দেবীগঞ্জ পৌরসভায় আ. লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর জয়

পঞ্চগড়র দেবীগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক (আবু) মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। রেল ইঞ্জিন প্রতীকে তিনি ২ হাজার ৯৮১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

তার নিটকতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২ হাজার ২৪৭ ভোট।

সোমবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রিটার্নিং অফিসার ও দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রত্যয় হাসান।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ ক্যারাম বোর্ড প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ হাজার ৩৯৮ ভোট।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ভোটার ১০ হাজার ৯১৪ জন। এর মধ্যে ৮ হাজার ৫৯৮ জন ভোট দিয়েছেন। ভোট পড়েছে ৭৮.৭৭ শতাংশ।

ভাঙ্গায় আবু রেজা আবারও মেয়র

ফরিদপুরের ভাঙ্গা মডেল পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবু রেজা মো. ফয়েজ আবারও মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিম উদ্দিন খান জানান, আবু রেজা ১২ হাজার ২৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী আছাদুজ্জামান আছাদ মিয়া হাতপাখা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৩৭ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইসমাইল মুন্সি নারিকেল গাছ প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৭১৯ ভোট।

কক্সবাজারে দুই পৌর নির্বাচনে নৌকার জয়

কক্সবাজারের মহেশখালী পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মকছুদ মিয়া এবং চকরিয়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলমগীর চৌধুরী বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

মহেশখালী পৌরসভায় নৌকা প্রতীকে মকছুদ মিয়া ৬ হাজার ৯৭৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। মকছুদ মিয়া টানা তৃতীয়বারের মতো মহেশখালী পৌরসভার মেয়র হলেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নারিকেল গাছ প্রতীকের প্রার্থী সাবেক মেয়র সরওয়ার আজম ৫ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়েছেন।

মহেশখালী পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আমিন আল পারভেজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে চকরিয়া পৌরসভায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আলমগীর চৌধুরী ২১ হাজার ৪৯০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

আলমগীর চৌধুরী দ্বিতীয়বারের মতো চকরিয়া পৌরসভার মেয়র হলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নারিকেল গাছ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াবুল হক পেয়েছেন ৯ হাজার ৭৬২ ভোট।

চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও ইউএনও সৈয়দ শামসুল তাবরীজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। এর মধ্যে সহিংসতার জেরে কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়।

সহিংসতায় কক্সবাজারে প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, ভোটের আগেই ৪৪টি ইউপির চেয়ারম্যান পদে ও ৩টি পৌরসভার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় একক প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। সেখানে ভোট হয়েছে অন্য পদগুলোতে।

আরও পড়ুন:
তিস্তায় শুরু হচ্ছে বৃহত্তম সেচ প্রকল্পের কাজ
তিস্তা চুক্তির দাবিতে ‘স্তব্ধ’ ২৩০ কিলোমিটার
তিস্তা বাঁচাতে এবার ২৩০ কিলোমিটারে ‘স্তব্ধ’ কর্মসূচির ডাক
তিস্তা চুক্তি হয়নি, ‘সইয়ের’ ব্যাখ্যা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
তিস্তা চুক্তি না হওয়ার কারণ জানালেন দোরাইস্বামী

শেয়ার করুন