সড়ক হবে ৪ লেন, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক

সড়ক চার লেন করার প্রকল্প অনুমোদনের পর নির্মাণাধীন একটি ভবন। ছবি: নিউজবাংলা

সড়ক হবে ৪ লেন, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক

শরীয়তপুর-নাওডোবা সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তিনটি প্যাকেজে ২৭ কিলোমিটার সড়ক চার লেন, ২৭টি কালভার্ট ও ২টি সেতু নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ২৩১ কোটি ১৮ লাখ টাকা ধরা হয়েছে জমি অধিগ্রহণে।

শরীয়তপুর থেকে নাওডোবা পর্যন্ত সড়ক চার লেন করার প্রকল্প অনুমোদন পাওয়ার পর থেকেই দুই পাশে স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক পড়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, সড়ক প্রশস্ত করতে উভয় পাশেই জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে বেশি অর্থ হাতিয়ে নিতে এসব স্থাপনা নির্মাণ করছে একটি চক্র। এ জন্য রাতারাতি তোলা হচ্ছে ঘর। লাগানো হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির চারাগাছ। নির্মাণ করা হচ্ছে কারখানা ও খামার।

অবৈধ স্থাপনা তৈরি করে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বেশি টাকা বাগিয়ে নিলে প্রকল্প ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা সড়ক বিভাগের।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানিয়েছে, ‘শরীয়তপুর-জাজিরা-নাওডোবা (পদ্মা সেতুর সংযোগ) সড়ক উন্নয়ন’ নামে প্রকল্পটি ২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি একনেক সভায় অনুমোদন পায়। একই বছর অক্টোবরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে প্রশাসনিক চিঠি পায় শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

এ প্রকল্পের আওতায় তিনটি প্যাকেজে ২৭ কিলোমিটার সড়ক, ২৭টি কালভার্ট ও ২টি সেতু নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ২৩১ কোটি ১৮ লাখ টাকা ধরা হয়েছে জমি অধিগ্রহণে।

সড়কের জন্য শরীয়তপুর জেলা প্রশাসনকে ১০৫ দশমিক ৫৬ হেক্টর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে সড়ক বিভাগ। জমি অধিগ্রহণে নোটিশও জারি করে প্রশাসন।

সড়ক হবে ৪ লেন, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক
ফসলি জমিতে নির্মাণ করা ঘর

এ খবর পাওয়ার পরই সক্রিয় হয়ে ওঠে দালাল চক্র। বাসিন্দা না থাকলেও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকার জমিতে তোলা হয়েছে ঘরবাড়ি। রোপণ করা হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির শত শত চারাগাছ। সমিল, মাছের খামার, পোলট্রি খামারসহ বিভিন্ন স্থাপনাও নির্মাণ করা হয়েছে।

জাজিরার টিঅ্যান্ডটি মোড় পেরোলেই সড়কের পশ্চিম পাশে ফসলি জমিতে দেখা যাবে ১০টি টিনশেড ঘর। প্রতিটি ঘরের দরজায়ই ঝুলছে তালা। বসবাস তো দূরের কথা, আশপাশে বসতিও নেই।

এই জমিতে রোপণ করা হয়েছে চারাগাছ। বসানো হয়েছে অগভীর নলকূপ। লম্বা করে নির্মাণ করা হয়েছে মুরগির খামার। অবকাঠামো থাকলেও নেই প্রাণের অস্তিত্ব।

পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় রিকশাচালক আজগর আলী বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়া বছরের পর বছর রিকশা চালাই। এইয়া সব চাষের জমিন। কিছুদিন ধইরা গরডি উডাইছে। রাস্তা বড় করব হুইন্যা হের নিগ্যাই এই গরগুলান উডাইছে।

‘গর উডালে টাহা পাইব। টাহার উছিলায় কইব, এইডা আমার বাড়ি। টাহার লোবেই উডাইছে। এট্টা গরেও মানুষ থাকে না। সবগুলান তালা মারা।’

শরীয়তপুর থেকে নাওডোবার দিকে যেতে সড়কের উভয় পাশেই দেখা গেছে নির্মাণাধীন পাকা, আধা পাকা ও টিনশেডের বসতঘর, দোকান, করাতকল, মাছ, মুরগি ও গরুর খামার।

জাজিরার বড় কৃষ্ণনগর এলাকায় গরুর খামার নির্মাণ করছিলেন ৬-৭ জন রাজমিস্ত্রি এবং ৪-৫ জন কাঠমিস্ত্রি।

সড়ক হবে ৪ লেন, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক
নির্মাণাধীন গরুর খামার

রাজমিস্ত্রি মানিক হোসেন বলেন, ‘গত তিন দিন ধইরা আমরা ছয়জন-সাতজন কইরা কাজ করতাছি। আর অহনতোরি সপ্তা খানিক লাগব। আমাগো তাড়াতাড়ি বানাইতে কইছে। আমরা শ্রমিক। আতিক ভাই বানাইতে কইছে আমরা বানাইতাছি। কিয়ের লিগ্যা বানায় হেইয়া আমরা কইতে পারুম না।’

২৭ কিলোমিটারের এই সড়কে রয়েছে ছোট-বড় অন্তত ১২টি বাজার। প্রতিটি বাজারেই নির্মাণ করা হয়েছে স্থাপনা। তেমনি একটি আনন্দবাজার। এখানে অন্তত ১৮টি নতুন দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সবগুলোতে তালাবদ্ধ।

বাজারের দোকানদার হাবিব সিকদার বলেন, ‘সাতখান দোকান উডাইছে নাওডোবার কাদের সিকদার। ওইয়্যা অল্প কয় দিন অয় বানাইছে। এসি ল্যান্ড আইছিল হের পর বন্ধ রাখছে, আবার কাম করছে। মাইকিংও করছে, কিন্তু কাম বন্ধ হয় নাই। সব বাজারে এমন গর উডছে।’

এই বাজারের একটু সামনেই সড়কের কুতুবপুর অংশ। সেখানে সড়কের পাশে রোপণ করা হয়েছে মেহগনি আর রেইনট্রি গাছের পাঁচ শতাধিক চারা। একটি গাছ থেকে আরেকটির দূরত্ব সর্বোচ্চ তিন ফুট। গাছগুলো গত বুধবার লাগানো হয়েছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম খাঁ।

তিনি বলেন, ‘গাছ লাগাইছে বিলের আশায়। রাস্তার জায়গা সরকারে নিব। রাস্তার আশপাশে সরকারি যে বিল দেয় ঘরের বিল, গাছের বিল, জাগার বিল এই আশায় গাছ লাগাইছে।’

জাজিরার পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়কসংলগ্ন জমাদ্দার স্ট্যান্ডে লাল পতাকা দিয়ে অধিগ্রহণের স্থান নির্দিষ্ট করে দিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। সেই নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যেই নির্মাণ করা হয়েছে অবৈধ স্থাপনা।

ওই এলাকার ওষুধের দোকানি জসিম জমাদ্দার বলেন, ‘পদ্মা সেতুর জমি অধিগ্রহণের সময়ও এ চক্র সক্রিয় ছিল। এরপর রেলওয়ের জমি অধিগ্রহণ, শেখ হাসিনা তাঁতপল্লি নির্মাণ- সব ক্ষেত্রেই প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঁতাত করে তারা এসব কাজ হাসিল করে নিচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শরীয়তপুর-নাওডোবা সড়ক উন্নয়ন হচ্ছে, এ কথা আগেই জেনেছে ওই চক্রের সদস্যরা। তখন থেকেই স্থাপনা নির্মাণ করে যাচ্ছে। এখন কিছু টিনের ঘর আর গাছ রোপণ হচ্ছে। এটা আর কত। বড় বড় বিল্ডিং তো আগেই করে ফেলেছে।’

শুরু থেকেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে শরীয়তপুর সড়ক বিভাগ। কাজের শুরুতেই প্রকল্প এলাকার ভিডিওচিত্র ধারণ করে তা জমা দেয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের দপ্তরে।

শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ভূঁইয়া রেদওয়ানুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে যেভাবে অবৈধ স্থাপনাগুলো গড়ে উঠছে, এটা যদি বাছবিচার না করে ক্ষতিপূরণের টাকা দিই, সে ক্ষেত্রে প্রকল্প ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে।

‘তাই এ বিষয়ে আমরা একেবারেই জিরো টলারেন্স। আমাদের ভিডিওতে যদি ধরা না পড়ে, সে ক্ষেত্রে তারা ক্ষতিপূরণ পাবেন না।’

শরীয়তপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (ভূমি) আসমাউল হুসনা লিজা জানান, যারা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করছেন, তাদের তালিকা করা হচ্ছে। প্রতিনিয়তই কর্মকর্তারা এলাকায় গিয়ে তালিকা আপডেট করছেন।

এসব ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে না বলে মাইকিং করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আইনের বাইরে গিয়ে ক্ষতিপূরণ দেয়ার সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন:
তিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
দুর্নীতি দেখে মাথা হেট আ. লীগের এমপির
কাজ না করেই বিল তোলার অভিযোগ ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে
পাসপোর্ট অফিসে ঘুষ নেয়ার ভিডিও
১০ কোটি টাকার প্রকল্পে ২ কোটি টাকার গাড়ি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নীলফামারীতে গ্রামে গ্রামে জ্বর

নীলফামারীতে গ্রামে গ্রামে জ্বর

চিকিৎসকরা বলছেন, সিজনাল জ্বর হচ্ছে। আবহাওয়ার পরিবর্তন, প্রচণ্ড গরম, শরীরে ঘাম শুকিয়ে যাওয়া এবং গরমের কারণে ঠান্ডা পানীয় গ্রহণ করায় এমন হয়ে থাকে। নাপা জাতীয় ওষুধ সেবনেই এই জ্বর নেমে যাচ্ছে।

নীলফামারী শহরের মিলন পল্লী এলাকার বাসিন্দা রিপন কুমার মজুমদার। পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিনি নিজেসহ পরিবারের পাঁচ সদস্য জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন গেল কয়েকদিনে। তবে জ্বরের স্থায়ীত্ব ২৪ ঘণ্টার বেশি হয়নি।

তার নিজের চার ঘণ্টায় জ্বর নেমেছে। এজন্য নাপা সেবন করেছিলেন তিনি।

রিপন কুমার মজুমদার বলেন, ‘তেমন কোন সমস্যা ছিল না আমাদের। স্বাভাবিকভাবে জ্বর হলে আমরা যে ওষুধ খাই সেটি সেবন করে জ্বর নেমে যায় সবার।’

শহরের বাবুপাড়া এলাকার মুদি দোকানি রশিদুল ইসলাম। তিনিসহ তার পরিবারের চার সদস্য জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন বুধবার রাতে। এরমধ্যে স্ত্রী, ছেলে ও শ্যালকও ছিল। এখন জ্বর নেমেছে সবার।

রশিদুল ইসলাম বলেন, বুধবার রাতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সেখানে জ্বরের অনেক রোগী দেখতে পাই। চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খেয়ে জ্বর নেমে গেছে সবার।

ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ফায়ার সার্ভিস এলাকার বাসিন্দা মোমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আমার বাড়িতে দুইজনের জ্বর। আমি গত রাত থেকে জ্বর অনুভব করছি। তবে শুক্রবার দুপুরে জ্বর নেমে গেছে। আমার বাড়ির পাশের অনেকেরই জ্বর।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুক্রবার সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ৪৬ জন রোগী চিকিৎসা নেন। এরমধ্যে ৩৫ জন জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। বেশিরভাগই ওষুধ নিয়ে চলে গেছেন। আর কয়েকজন ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালে।

হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জ্বরে স্বাভাবিক যে ওষুধ দিয়ে থাকি আমরা, এখনও সে ওষুধই দিয়েছি রোগীদের। দ্রুত সুস্থ হচ্ছেন রোগীরা। তবে অন্যান্য সময়ের চেয়ে এখন রোগীর সংখ্যা একটু বেশি।’

নীলফামারী জেনালের হাসপাতালেও জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। শুক্রবার সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ১১৩ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এরমধ্যে ১৪ জনের শুধুমাত্র জ্বর এবং অন্যান্য রোগের সঙ্গে জ্বর ছিল অন্তত ১৬ জনের।

চিকিৎসকরা বলছেন, সিজনাল জ্বর হচ্ছে। আবহাওয়ার পরিবর্তন, প্রচণ্ড গরম, শরীরে ঘাম শুকিয়ে যাওয়া এবং গরমের কারণে ঠান্ডা পানীয় গ্রহণ করায় এমন হয়ে থাকে।

নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা অমল রায় বলেন, মূলত আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। এটি তেমন কোনো বিষয় নয়। ওষুধ সেবন করলে জ্বর নেমে যাচ্ছে।

সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু মোহাম্মদ আলেমুর বাশার বলেন, ‘সিজনাল জ্বর গ্রামগঞ্জে হচ্ছে। তারা নিজেরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। অনেকে করোনার নমুনা দেন আবার অনেকে দেন না। তবে করোনার নমুনা আমরা শহর থেকে বেশি পাই। আমরা মাস্ক পড়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করছি।’

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) নীলফামারীর সভাপতি তাহমিন হক ববি বলেন, ‘সীমান্তবর্তী হিসেবে করোনার জন্য নীলফামারী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। কিন্তু আমরা উদাসীন। ১০০ টাকা খরচ করে পরীক্ষা করতে চাচ্ছি না।’

সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর কবিরের সঙ্গে দুই দফায় যোগাযোগ করে পাওয়া না গেলেও নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন) রেজাউল করিম বলেন, ‘মহামারির এই সময়ে জ্বর হলে করোনার জন্য নমুনা দেয়া ভালো। কারণ কার পজিটিভ হবে আর কার হবে না সেটি আমরা পরীক্ষা না করে বলতে পারব না। আমি মনে করি মাস্ক ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, গেল ২৪ ঘণ্টায় নীলফামারীতে নতুন করে ১৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
তিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
দুর্নীতি দেখে মাথা হেট আ. লীগের এমপির
কাজ না করেই বিল তোলার অভিযোগ ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে
পাসপোর্ট অফিসে ঘুষ নেয়ার ভিডিও
১০ কোটি টাকার প্রকল্পে ২ কোটি টাকার গাড়ি

শেয়ার করুন

কুমিল্লায় করোনায় আরও ৪ মৃত্যু

কুমিল্লায় করোনায় আরও ৪ মৃত্যু

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা জরুরি বিভাগ। ছবি: নিউজবাংলা

জেলার সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসাইন জানান, এ পর্যন্ত জেলা থেকে নমুনা পাঠানো হয়েছে ৮২ হাজার ২৯৩ জনের। প্রতিবেদন পাওয়া গেছে ৮১হাজার ৭০৩ জনের।

কুমিল্লায় বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে চারজন মারা গেছেন। এদিকে, নতুন ৮৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

নিউজবাংলাকে শুক্রবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসাইন।

তিনি জানান, এ নিয়ে জেলাজুড়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩ হাজার ৭১০জন।

করোনায় কুমিল্লা জেলায় এখন পর্যন্ত ৪৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবারও করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান চারজন।

সিভিল সার্জন জানান, এ পর্যন্ত জেলা থেকে নমুনা পাঠানো হয়েছে ৮২ হাজার ২৯৩ জনের। প্রতিবেদন পাওয়া গেছে ৮১হাজার ৭০৩ জনের।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের পরিচালক মহিউদ্দিন জানান, চলতি সপ্তাহে হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের ভীড় বেড়েছে। তবে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে হাসপাতালে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ও লোকবল রয়েছে।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘জেলায় করোনা সংক্রমণের হার কমাতে ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালতের একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আরও বেশকিছু পরিকল্পনা করেছি, আগামী দিনগুলোতে সংক্রমণের হারের উপর নির্ভর করে আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করব।’

আরও পড়ুন:
তিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
দুর্নীতি দেখে মাথা হেট আ. লীগের এমপির
কাজ না করেই বিল তোলার অভিযোগ ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে
পাসপোর্ট অফিসে ঘুষ নেয়ার ভিডিও
১০ কোটি টাকার প্রকল্পে ২ কোটি টাকার গাড়ি

শেয়ার করুন

ভবনের সিঁড়ি থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

ভবনের সিঁড়ি থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

শুক্রবার বিকেলে ভবনে কাজ করার সময় দ্বিতীয় তলার সিঁড়ি থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন রাজ। তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নির্মাণাধীন ভবনের সিঁড়ি থেকে পড়ে শাহ রাজ নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে উপজেলার তকিরহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ১৮ বছরের শাহ রাজের বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া এলাকায়।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারি উপপরিদর্শক (এএসআই) শীলব্রত বড়ুয়া নিউজবাংলাকে জানান, শুক্রবার বিকেলে ভবনে কাজ করার সময় দ্বিতীয় তলার সিঁড়ি থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন রাজ। তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মরদেহ চমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
তিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
দুর্নীতি দেখে মাথা হেট আ. লীগের এমপির
কাজ না করেই বিল তোলার অভিযোগ ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে
পাসপোর্ট অফিসে ঘুষ নেয়ার ভিডিও
১০ কোটি টাকার প্রকল্পে ২ কোটি টাকার গাড়ি

শেয়ার করুন

মনপুরায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের দাবি

মনপুরায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের দাবি

জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পেতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকাস্থ মনপুরা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির মানববন্ধন। ছবি: নিউজবাংলা

মানবন্ধনে জানানো হয়, ওয়েস্টার্ন রিনিউবল এনার্জি কোম্পানির বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য মনপুরার বাসিন্দাদের দিতে হচ্ছে ইউনিট প্রতি ৩০ টাকা। বিদ্যুতের এমন দাম বিশ্বের কোথাও নেই।

মাত্রাতিরিক্ত দাম হওয়ায় ভোলা জেলার মরপুরার তিনটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা সোলার প্যানেল থেকে সরবরাহ করা ওয়েস্টার্ন রিনিউবল এনার্জি কোম্পানির বিদ্যুৎ আর চাচ্ছে না। জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের দাবি জানিয়েছে তারা।

এ দাবিতে শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানবন্ধন করেছে ঢাকাস্থ মনপুরা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি।

মানবন্ধনে জানানো হয়, ওয়েস্টার্ন রিনিউবল এনার্জি কোম্পানির বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য মনপুরার বাসিন্দাদের দিতে হচ্ছে ইউনিট প্রতি ৩০ টাকা। বিদ্যুতের এমন দাম বিশ্বের কোথাও নেই।

মনপুরা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান জানান, কোম্পানিটি এককালীন মিটার খরচ বাবদ নিচ্ছে ৫-৮ হাজার টাকা। আর প্রতি ইউনিট প্রতি চার্জ নিচ্ছে ৩০ টাকা, সঙ্গে মাসিক ভ্যাট ৭০ টাকাও রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এত দামের বিদ্যুৎ বিশ্বের কোথাও নেই। মনপুরাবাসীর জন্য এ ব্যয় বহন করা কষ্টসাধ্য। কারণ এখানকার ৯৫ ভাগ মানুষ দিনমজুর, জেলে ও কৃষক।

‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, শতভাগ বিদ্যুতায়ন বাস্তবায়নে ভোলা জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলসহ বাংলাদেশের অনেক দুর্গম চরে ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। ভোলার মনপুরা উপজেলার আশপাশে মাত্র ১০-১২ হাজার মানুষ বসবাসকারী একটি ওয়ার্ড যুক্ত চরেও বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। কিন্তু দুভার্গবসত মনপুরার ৩ ইউনিয়নে আজও জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি। এজন্য অবিলম্বে সরকারের কাছে মনপুরা বাসীর জন্য জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের দাবি জানাই।’

মনপুরা ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির সদস্য সচিব মো. ইয়াছিন বলেন, মৎস আহরণে জিডিপিতে মনপুরার মৎসজীবীদের অবদান রয়েছে। কিন্তু এই মৎসজীবীরা আহরণ করা মাছ সংরক্ষণ ও বাজারজাত করতে পারছে না শুধুমাত্র বিদ্যুৎ না থাকার কারণে। এখানে ডিজেল চালিত একটি বিদ্যুৎ স্টেশন থাকলেও তা উপজেলা সদরের মাত্র দেড় হাজার বাসিন্দাদের রাতে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে, যা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম।

আরও পড়ুন:
তিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
দুর্নীতি দেখে মাথা হেট আ. লীগের এমপির
কাজ না করেই বিল তোলার অভিযোগ ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে
পাসপোর্ট অফিসে ঘুষ নেয়ার ভিডিও
১০ কোটি টাকার প্রকল্পে ২ কোটি টাকার গাড়ি

শেয়ার করুন

দর্শনা দিয়ে ফিরলেন আরও ২৭ বাংলাদেশি

দর্শনা দিয়ে ফিরলেন আরও ২৭ বাংলাদেশি

দর্শনা জয়নগর চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল আলিম জানান, ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে নতুন অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিয়ে শুক্রবার ২৭ বাংলাদেশি দর্শনা চেকপোস্টে প্রবেশ করেন। সেখানে আসার পর স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়।

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরেছেন ভারতে আটকে পড়া আরও ২৭ বাংলাদেশি। এ নিয়ে ৩৯ দিনে এই চেকপোস্ট দিয়ে ১ হাজার ৪০ জন দেশে ফিরলেন।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভারতের গেদে চেকপোস্ট হয়ে দেশে প্রবেশ করেন ওই বাংলাদেশিরা।

দেশে প্রবেশের পর ওই চেকপোস্টেই অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্পে তাদের র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি দল। তবে এদিন তাদের মধ্যে কারও শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়নি।

দর্শনা জয়নগর চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল আলিম জানান, ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে নতুন অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিয়ে শুক্রবার ২৭ বাংলাদেশি দর্শনা চেকপোস্টে প্রবেশ করেন। সেখানে আসার পর স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়।

তবে কেউ করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হননি। সেখান থেকে নির্ধারিত পরিবহনযোগে ২৫ জনকে চুয়াডাঙ্গা প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) ও দুইজনকে স্থানীয় হোটেল ভিআইপিতে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।

করোনা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধসংক্রান্ত উপকমিটির আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনিরা পারভীন জানান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশের অভিবাসনবিষয়ক শাখা (ইমিগ্রেশন) ও শুল্ক বিভাগের (কাস্টমস) আনুষ্ঠানিকতা শেষে সেখান থেকে ভারতফেরতদের নির্ধারিত পরিবহনযোগে (মাইক্রোবাস) জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত কোয়ারেন্টিন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তারা ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকবেন।

আরও পড়ুন:
তিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
দুর্নীতি দেখে মাথা হেট আ. লীগের এমপির
কাজ না করেই বিল তোলার অভিযোগ ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে
পাসপোর্ট অফিসে ঘুষ নেয়ার ভিডিও
১০ কোটি টাকার প্রকল্পে ২ কোটি টাকার গাড়ি

শেয়ার করুন

কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে সৎ বাবা কারাগারে

কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে সৎ বাবা কারাগারে

মামলার এজাহারে বলা হয়, দুই সপ্তাহ আগে মেয়েটির সৎ বাবা তাকে ধর্ষণ করেন। মাকে বিষয়টি জানালে তিনি বিশ্বাস করেননি। এরপর বুধবার ভোরে তাকে আবার ধর্ষণ করেন। মেয়েটি বৃহস্পতিবার তার কারখানার মালিককে বিষয়টি জানালে তিনি ৯৯৯ এ কল করেন।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে সৎ বাবাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

জেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম কাউসার আলমের আদালত শুক্রবার বিকেলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

এর আগে ৯৯৯ এ কল পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ১৩ বছর বয়সী ওই মেয়ের বাবাকে ফতুল্লার মাসদাইরের একটি ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান নিউজবাংলাকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, মেয়েটি কাজ করে একটি হোসিয়ারি কারখানায়। তিন বছর আগে তার বাবার মৃত্যুর পর মা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তারা তিনজন একসঙ্গেই থাকেন।

দুই সপ্তাহ আগে মেয়েটির সৎ বাবা তাকে ধর্ষণ করেন। মাকে বিষয়টি জানালে তিনি বিশ্বাস করেননি। এরপর বুধবার ভোরে তাকে আবার ধর্ষণ করেন। মেয়েটি বৃহস্পতিবার তার কারখানার মালিককে বিষয়টি জানালে তিনি ৯৯৯ এ কল করেন।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুজ্জামান নিউজবাংলাকে জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ৯৯৯ এ কল পেয়ে মেয়েটির সৎ বাবাকে আটক করা হয়। এরপর মেয়েটির মা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে মেয়েটি ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
তিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
দুর্নীতি দেখে মাথা হেট আ. লীগের এমপির
কাজ না করেই বিল তোলার অভিযোগ ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে
পাসপোর্ট অফিসে ঘুষ নেয়ার ভিডিও
১০ কোটি টাকার প্রকল্পে ২ কোটি টাকার গাড়ি

শেয়ার করুন

ফকিরগঞ্জ বাজারে জল-কাদায় ভোগান্তি

ফকিরগঞ্জ বাজারে জল-কাদায় ভোগান্তি

পঞ্চগড়ের ফকিরগঞ্জ বাজারে কাদাপানির কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহান ব্যবসায়ীসহ বাসিন্দারা। ছবি: নিউজবাংলা

‘ছোট থেকে বড় হলাম কোনো দিন চোখে পড়ল না, এখানকার কোনো উন্নয়ন। জীবনে কোনো দিন হবে কি না সন্দেহ আছে।’

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে প্রসিদ্ধ ফকিরগঞ্জ বাজারে। চাকরি, ব্যবসাসহ নানা প্রয়োজনে প্রতি দিনই এ বাজারে আসেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শত শত মানুষ।

বর্ষায় উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এ বাজারে এসে ভোগান্তি পড়েন তারা। কারণ বর্ষা এলেই বাজারের চারপাশে জমে থাকে বর্ষার পানি। প্রতি বছর প্রায় তিন মাস ধরে থাকে এ অবস্থা।

থকথকে কাদাপানিতে যেমন হাঁটার উপায় থাকে না আবার ছোট যান চলাচলেও ঘটে বিঘ্ন। প্রায় এক যুগ ধরে এভাবেই ভোগান্তি পোহাচ্ছে উপজেলাবাসী।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিরা প্রতি বছরই পানি নিষ্কাশন ও বাজার পরিষ্কার করার আশ্বাস দিলেও কোনো কাজই করা হয়নি।

বাজারের ব্যবসায়ী আশরাফুল আলম বলেন, ‘ছোট থেকে বড় হলাম কোনো দিন চোখে পড়ল না, এখানকার কোনো উন্নয়ন। জীবনে কোনো দিন হবে কি না সন্দেহ আছে।’

ফকিরগঞ্জ বাজারে জল-কাদায় ভোগান্তি

আটোয়ারী বাসস্ট্যান্ডে মনোহারির দোকানদার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ভোটের আগে রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রতিশ্রুতি ছিল ফকিরগঞ্জ বাজারের উন্নয়ন করা হবে। কিন্তু নির্বাচিত হয়ে নেতারা তাদের নিয়েই ব্যস্ত। কে রাখে কার খবর।’

উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম অবশ্য দাবি করেছেন, বাজারের পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্ষার শেষে এর কার্যক্রম শুরু হবে।

জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ উপলব্ধি করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জলবদ্ধতা নিরসনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে দাবি করে ইউএনও আবু তাহের মোহাম্মদ সামসুজ্জামান জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থা হলে জনগণ উপকৃত হবে। তাদের আর চলাচলে ভোগান্তিতে পড়তে হবে না।

আরও পড়ুন:
তিন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
দুর্নীতি দেখে মাথা হেট আ. লীগের এমপির
কাজ না করেই বিল তোলার অভিযোগ ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে
পাসপোর্ট অফিসে ঘুষ নেয়ার ভিডিও
১০ কোটি টাকার প্রকল্পে ২ কোটি টাকার গাড়ি

শেয়ার করুন