পানিতে ডুবে কোয়ান্টাম স্কুলের দুই ছাত্রের মৃত্যু

পানিতে ডুবে কোয়ান্টাম স্কুলের দুই ছাত্রের মৃত্যু

বিকেলে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে বৃষ্টির পানিতে খেলতে গিয়েছিল দুই জন। এ সময় মাঠে একটি পানি ভর্তি বিরাট পাইপে ডুবে যায় তারা। সহপাঠীরা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে খবর দিলে তারা দুইজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। তখন চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

বান্দরবানের লামায় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন পরিচালিত স্কুলের মাঠে পানিতে ডুবে দুই ছাত্র মারা গেছে।

সোমবার বিকালে উপজেলার সরই ইউনিয়নে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কসমো স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটে।

প্রাণ হারানো দুই শিশু এই স্কুলেই পড়ত। তারা হলো ষষ্ঠ শ্রেণির আব্দুল কাদের জিলানী এবং শ্রেয় মোস্তাফিজ।

এদের মধ্যে কাদেরের বাড়ি চাঁপাইনবাবঞ্জ ও শ্রেয়র বাড়ি ঠাঁকুরগাও জেলায়।

পুলিশ জানায়, বিকেলে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে বৃষ্টির পানিতে খেলতে গিয়েছিল দুই জন। এ সময় মাঠে একটি পানি ভর্তি বিরাট পাইপে ডুবে যায় তারা। সহপাঠীরা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে খবর দিলে তারা দুইজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। তখন চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

শ্রেয় মোস্তাফিজের চাচা জাকির মোস্তাফিজ মিলুর অভিযোগ, শিশুদের দায়িত্ব নিয়ে কোয়ান্টাম অবহেলা করেছে, তাই এই মৃত্যু হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘কীভাবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ছেলেটি স্কুল থেকে বের হয়ে এভাবে মারা গেল, আমরা এর জবাব চাই। অবহেলাকারীদের কঠোর বিচার চাই।’

বান্দরবানের লামা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর জানান, ময়নাতদন্ত শেষে ছাত্রদের মরদেহ পরিবারে কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং এই বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
পুকুরে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু
সিলেটে যুবকের মৃত্যু নিয়ে রহস্য
খেলতে গিয়ে ‘ডুবে মরল’ যমজ ভাই-বোন
মেঘনায় ভাসল নিখোঁজ জেলের মরদেহ
পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জমি নিয়ে দ্বন্দ্বে দায়ের কোপে যুবক নিহত

জমি নিয়ে দ্বন্দ্বে দায়ের কোপে যুবক নিহত

বুধবার বেলা ১১টার দিকে মাসুদ ওই বিরোধ চলা জমিতে ধানের চারা রোপণ করতে যান। এ সময় আব্দুল আজিজের ছেলে সুমন তাকে বাধা দেন। তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে মাসুদ দা দিয়ে সুমনকে কোপ দেন।

ময়মনসিংহের নান্দাইলে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের দায়ের কোপে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

উপজেলার ৩ নম্বর নান্দাইল ইউনিয়নের উত্তর রসুলপুর গ্রামে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সুমন আকন্দের বয়স ২৮ বছর। তার বাড়ি রসুলপুর গ্রামে।

স্থানীয় লোকজন জানান, একই গ্রামের আব্দুল আজিজ ও মাসুদ আকন্দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। তারা সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে মাসুদ ওই বিরোধ চলা জমিতে ধানের চারা রোপণ করতে যান। এ সময় আব্দুল আজিজের ছেলে সুমন তাকে বাধা দেন। তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে মাসুদ দা দিয়ে সুমনকে কোপ দেন।

স্থানীয় লোকজন তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে সুমনের মৃত্যু হয়।

নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান আকন্দ জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় সুমনের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আরও পড়ুন:
পুকুরে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু
সিলেটে যুবকের মৃত্যু নিয়ে রহস্য
খেলতে গিয়ে ‘ডুবে মরল’ যমজ ভাই-বোন
মেঘনায় ভাসল নিখোঁজ জেলের মরদেহ
পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

শেয়ার করুন

কোরিয়ান ইপিজেডের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ পরিবার

কোরিয়ান ইপিজেডের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ পরিবার

কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃষ্টির কারণে কেইপিজেডের হ্রদগুলোতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানির চাপ বাড়ায় একটি হ্রদের কালভার্টের মুখ খুলে গেলে মুহূর্তেই পানি প্রবেশ করে দৌলতপুর গ্রামে।

চট্টগ্রামের কোরিয়া রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলের (কেইপিজেড) হ্রদের কালভার্টের মুখ খুলে গিয়ে লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ২০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কেইপিজেডের গলফ মাঠের পূর্ব পাশে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কর্ণফুলীর বড়উঠান ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে এই পানি ঢুকে পড়ে।

কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃষ্টির কারণে কেইপিজেডের হ্রদগুলোতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানির চাপ বাড়ায় একটি হ্রদের কালভার্টের মুখ খুলে গেলে মুহূর্তেই পানি প্রবেশ করে দৌলতপুর গ্রামে। ওই সময় গ্রামের পুকুর, জলাশয় ভেসে যায়। ফাটল দেখা যায় মাটির ঘরে। খবর পেয়ে রাতেই কালভার্টটি বন্ধ করে কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় বড়উঠান ইউপির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ দিদারুল আলম জানান, এ ঘটনায় ৩৫০টি ঘর আংশিক ক্ষতি হয়েছে। সাতটি পুকুর ভেসে গেছে। এ ছাড়া ২৩টি মাটির ঘরের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। অন্তত ২০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, ‘পানিতে পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। আমার ফসলের ক্ষতি হয়েছে।’

কোরিয়ান রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলের এজিএম মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা ক্ষয়ক্ষতি চিহ্নিত করে ক্ষতিপূরণ দেব। বুধবার বিকেলে আপাতত ২০০ পরিবারের জন্য খাদ্যসামগ্রী দেয়া হয়েছে স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে।’

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার সকালে কেইপিজেডের দৌলতপুর গেটে মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা। এতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ দিদারুল আলম।

আরও পড়ুন:
পুকুরে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু
সিলেটে যুবকের মৃত্যু নিয়ে রহস্য
খেলতে গিয়ে ‘ডুবে মরল’ যমজ ভাই-বোন
মেঘনায় ভাসল নিখোঁজ জেলের মরদেহ
পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

শেয়ার করুন

ধঞ্চেক্ষেত থেকে মরদেহ উদ্ধার

ধঞ্চেক্ষেত থেকে মরদেহ উদ্ধার

মৃত ব্যক্তির নাম জয়নাল মিয়া। ৪০ বছরের জয়নাল একই ইউনিয়নের লোপাড়া গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

চুন্টা ইউনিয়নের ঘাগড়াজোর গ্রামের একটি ধঞ্চেক্ষেত থেকে বুধবার বেলা ১১টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

মৃত ব্যক্তির নাম জয়নাল মিয়া। ৪০ বছরের জয়নাল একই ইউনিয়নের লোপাড়া গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, জয়নাল মিয়া পেশায় রিকশাচালক ছিলেন। সুযোগ পেলে দিনমজুরের কাজ করতেন। তার দুই স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী মোমরাজ বেগম দুই সন্তানকে নিয়ে সিলেটে বাস করেন।

দ্বিতীয় স্ত্রী সুইটি বেগমের ঘরেও দুই সন্তান রয়েছে। তাদের নিয়ে চুন্টা ইউনিয়নের ঘাগড়াজোর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বাস করতেন জয়নাল।

সুইটি বেগমের পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি জয়নাল। বুধবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ধঞ্চেক্ষেতে তার মরদেহ দেখতে পেয়ে তাদের খবর দেন এলাকাবাসী।

জয়নালের বাবা আব্দুল লতিফ ও শ্বশুর আসিদ মিয়া বলেন, ‘কাউকে সন্দেহ করতে পারছি না। তাকে খুন করার মতো শত্রু নেই।’

এ বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম হোসেন বলেন, ‘জয়নালের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
পুকুরে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু
সিলেটে যুবকের মৃত্যু নিয়ে রহস্য
খেলতে গিয়ে ‘ডুবে মরল’ যমজ ভাই-বোন
মেঘনায় ভাসল নিখোঁজ জেলের মরদেহ
পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

শেয়ার করুন

গৃহবধূ ধর্ষণচেষ্টায় আটক এক

গৃহবধূ ধর্ষণচেষ্টায় আটক এক

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, এক সন্তানের জননী ওই গৃহবধূর স্বামী মুদি দোকানি। তার অনুপস্থিতিতে দুপুর বাড়িতে ঢুকে গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন ওই যুবক। এ সময় তার চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এসে গৃহবধূকে উদ্ধার করে।

বগুড়ার শেরপুরে গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের একটি গ্রাম থেকে বুধবার দুপুর ১টার দিকে তাকে আটক করা হয়।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আজাহার আলী।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, এক সন্তানের জননী ওই গৃহবধূর স্বামী মুদি দোকানি। তার অনুপস্থিতিতে দুপুর বাড়িতে ঢুকে গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন ওই যুবক। এ সময় তার চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এসে গৃহবধূকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তকে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশে দেয়া হয়।

উপপরিদর্শক (এসআই) আজাহার আলী নিউজবাংলাকে জানান, গোলাম হোসেনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
পুকুরে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু
সিলেটে যুবকের মৃত্যু নিয়ে রহস্য
খেলতে গিয়ে ‘ডুবে মরল’ যমজ ভাই-বোন
মেঘনায় ভাসল নিখোঁজ জেলের মরদেহ
পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

শেয়ার করুন

গাজীপুর কারাগারে হাজতির মৃত্যু

গাজীপুর কারাগারে হাজতির মৃত্যু

‘চুরি ও মারামারির মামলায় আব্দুর রহিম জেলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। বুধবার ভোরে কারাগারের ভেতর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন।’

গাজীপুর জেলা কারাগারে এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে।

অসুস্থ অবস্থায় বুধবার সকালে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই ব্যক্তির নাম আব্দুর রহিম।

৫৫ বছর বয়সী আব্দুর রহিমের বাড়ি শ্রীপুর উপজেলার ডালেশ্বর এলাকায়।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন সদর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানান, চুরি ও মারামারির মামলায় আব্দুর রহিম জেলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। বুধবার ভোরে কারাগারের ভেতর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এ সময় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ মৃতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আরও পড়ুন:
পুকুরে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু
সিলেটে যুবকের মৃত্যু নিয়ে রহস্য
খেলতে গিয়ে ‘ডুবে মরল’ যমজ ভাই-বোন
মেঘনায় ভাসল নিখোঁজ জেলের মরদেহ
পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

শেয়ার করুন

ট্রান্সফরমার বিকলে বিপাকে পঞ্চগড়বাসী

ট্রান্সফরমার বিকলে বিপাকে পঞ্চগড়বাসী

দুইটি ট্রান্সফরমারের মাঝে একটি বিকল হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে পঞ্চগড়ের মানুষ। ছবি: নিউজবাংলা

পৌর মেয়র জাকিয়া খাতুন জানান, বারবার লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজের কারণে পৌরসভার পানির পাম্প সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। জনগণ নিরবচ্ছিন্ন পানির সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এখন হঠাৎ করে ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ায় পাম্প পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

পঞ্চগড়ে জাতীয় গ্রিড থেকে সঞ্চালিত বিদ্যুৎ ধারণ করার দুটি ট্রান্সফরমারের মধ্যে একটি বিকল হয়ে যাওয়ায় জেলার বিদ্যুৎব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

ট্রান্সফরমারটি মঙ্গলবার দুপুরে বিকল হয়ে যায়। নেসকো কর্তৃপক্ষ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ট্রান্সফরমার মেরামতের কথা জানালেও এখনও সমস্যার সমাধান হয়নি।

একটি ট্রান্সফরমার থেকে ৬টি ফিডারে সরবরাহ করায় বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ যাচ্ছে। ভোল্টেজও থাকছে খুব কম।

পঞ্চগড় নেসকোর আবাসিক প্রকৌশলী আতিফুর রহমান জানান, মঙ্গলবার ৩৩ হাজার কেভির সঞ্চালন লাইনের ট্রান্সফরমারে ত্রুটি দেখা দিলে এটি রংপুর বিদ্যুৎ বিভাগের ডিপোতে পাঠানো হয়। এটি ঠিক করতে ২৪ ঘণ্টা মতো লাগার কথা থাকলেও এখনও কাজ শেষ হয়নি। বৃহস্পতিবারের মধ্যে হয়তো সংকট কেটে যাবে।

তিনি আরও জানান, একটি ট্রান্সফরমার দিয়ে পুরো জেলায় একসঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব নয়। সচলটি দিয়ে কোনোমতে কাজ চালানো হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় জনবল, আধুনিক উপকরণসহ পরিবহনসংকটের কারণে জেলার মানুষ দীর্ঘদিন থেকেই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎসুবিধা থেকে বঞ্চিত। লোডশেডিং প্রতিদিনের নিয়মিত ঘটনা। মিটারের রিডিং দেখে বিল না করায় মাঝেমাঝেই আসে অতিরিক্ত বিল।

জেলা শহরের কায়েতপাড়া গ্রামের সামসুন নাহার জানান, দিনের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ বার বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করে। প্রতিদিন এই ভোগান্তি ভালো লাগে না।

পৌর মেয়র জাকিয়া খাতুন জানান, বারবার লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজের কারণে পৌরসভার পানির পাম্প সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। জনগণ নিরবচ্ছিন্ন পানির সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এখন হঠাৎ করে ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ায় পাম্প পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

লোডশেডিংয়ের বিষয়টি স্বীকার করে নেসকো কর্তৃপক্ষ জানায়, জাতীয় গ্রিড থেকে অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করায় গ্রাহকের এই ভোগান্তি।

নির্বাহী প্রকৌশলী আতিফুর রহমান জানান, জনবলসহ পরিবহনসংক্রান্ত যে সংকটের মধ্য দিয়ে তারা যাচ্ছেন, তার জন্য কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। অচিরেই এই সমস্যার সমাধান হবে।

তাদের অভিযোগ, এই জেলায় ছয়টি ফিডারে তাদের গ্রাহক প্রায় ৩১ হাজার। তাদের মধ্যে আবাসিক গ্রাহক ২৬ হাজার ৫৩১ জন ও বাণিজ্যিক ৪ হাজার ১৪৯ জন। গ্রাহকদের কাছ থেকে তাদের বকেয়া বিল প্রায় ৭ কোটি টাকা।

নেসকোর সহকারী প্রকৌশলী সত্যজিৎ দেব শর্মা বলেন, ‘সাধারণ গ্রাহকের সহযোগিতা পেলে অচিরেই সব সমস্যা দূর হবে।’

আরও পড়ুন:
পুকুরে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু
সিলেটে যুবকের মৃত্যু নিয়ে রহস্য
খেলতে গিয়ে ‘ডুবে মরল’ যমজ ভাই-বোন
মেঘনায় ভাসল নিখোঁজ জেলের মরদেহ
পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

শেয়ার করুন

বজ্রপাতে একসঙ্গে এত মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জ

বজ্রপাতে একসঙ্গে এত মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জ

একসঙ্গে এতজন স্বজনকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে আছে মামুনের পরিবার। ছবি: নিউজবাংলা

নৌকা থেকে নামার পর বৃষ্টি শুরু হলে কয়েকজন দৌড়ে কনের বাড়ি চলে যান। প্রায় ২০ জন ঘাটের একটি টিনের ছাউনিতে আশ্রয় নেন। ওই টিনের ছাউনির ওপর বজ্রপাত হলে নিচে দাঁড়িয়ে থাকা ১৭ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন বাকি তিনজন।

তিন দিন আগে বিয়ে হয় সুমি ও মামুনের। কথা ছিল, কয়েক দিন পরই আনুষ্ঠানিকভাবে বউকে নিয়ে আসা হবে শ্বশুরবাড়ি।

সুমি স্বামীর সঙ্গে শ্বশুরবাড়ি ফিরলেন ঠিকই, তবে এই ফেরায় ছিল না কোনো আনন্দ। নৌকায় স্বজনদের মরদেহ নিয়ে ফিরতে হয়েছে এই নবদম্পতিকে।

বর-বউ আনতে যাওয়ার সময় বজ্রাঘাত কেড়ে নিয়েছে ১৬ বরযাত্রীসহ ১৭ জনের প্রাণ। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পাকা ইউনিয়নের দক্ষিণ পাকার দুড়াউড়ি ঘাট এলাকায় বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

বরের মামা মাইদুল ইসলাম জানান, ১ আগস্ট পাকা ইউনিয়নের সুমির সঙ্গে বিয়ে হয় নারায়ণপুর ইউনিয়নের মো. মামুনের। বুধবার সকাল ১০টার দিকে ৫০ জন বরযাত্রী নারায়ণপুর আলীনগর ঘাট থেকে নৌকায় রওনা দেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পৌঁছান পাকা ইউনিয়নের দক্ষিণ পাকার দুড়াউড়ি ঘাটে।

মাইদুলসহ একে একে সবাই নামতে থাকেন ঘাটে। এ সময় বৃষ্টি শুরু হলে কয়েকজন দৌড়ে কনের বাড়ি চলে যান। প্রায় ২০ জন ঘাটের একটি টিনের ছাউনিতে আশ্রয় নেন। ওই টিনের ছাউনির ওপর বজ্রপাত হলে নিচে দাঁড়িয়ে থাকা ১৭ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন বাকি তিনজন।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাকিব আল রাব্বি নিউজবাংলাকে জানান, মৃতদের মধ্যে পাঁচজন নারী। মরদেহ পরিবারকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

বজ্রপাতে একসঙ্গে এত মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জ
বজ্রপাতে মৃতদের মরদেহ নৌকায় নিয়ে ফেরেন স্বজনরা

ছেলে মো. সজীবেরসহ ১৩ জনের মরদেহ একটি নৌকায় নিয়ে ফেরেন মামুনের চাচা দুরুল হুদা। আরেকটি নৌকায় বরের খালা ল্যাচন বেগম ও মামি টকিয়ারা খাতুনের মরদেহ নিয়ে ফেরেন নবদম্পতি। আরেকটি নৌকায় নেয়া হয় আরেক মৃত আত্মীয়র দেহ।

বরযাত্রীদের বাইরে যিনি মারা গেছেন তিনি হলেন উপজেলার পাকা গ্রামের মো. রফিক। তার মরদেহ আত্মীয়রা নিয়ে গেছেন।

মামুনের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, পাশাপাশি কবর খোঁড়া শেষ। চলছে দাফনের প্রস্তুতি।

একই সঙ্গে বাবা মো. শরীফুল ও এতজন স্বজন হারিয়ে নির্বাক মামুন। তার সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো কথা বলা যায়নি।

পাশেই কাঁদছিলেন চাচা দুরুল হুদা। তিনি জানান, বজ্রপাতের পর আশপাশের লোকজন বলেছিল মুখে ফুঁ দিলে ছেলে হয়তো আবার শ্বাস নেবে। বারবার চেষ্টা করেছেন ছেলের মুখে ফুঁ দিয়ে তাকে আবার বাঁচিয়ে তোলার কিন্তু ছেলে আর ফেরেনি।

এ দুর্ঘটনায় আহত তিনজনের চিকিৎসা চলছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে। তাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।

আরও পড়ুন:
পুকুরে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু
সিলেটে যুবকের মৃত্যু নিয়ে রহস্য
খেলতে গিয়ে ‘ডুবে মরল’ যমজ ভাই-বোন
মেঘনায় ভাসল নিখোঁজ জেলের মরদেহ
পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

শেয়ার করুন