চেয়ারম্যানের পুনর্বহাল দাবিতে ইউপি কার্যালয়ে তালা

চেয়ারম্যানের পুনর্বহাল দাবিতে ইউপি কার্যালয়ে তালা

গণ-উপদ্রব সৃষ্টি ও ফৌজদারি অপরাধে কারাগারে থাকায় চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি ভূরুঙ্গামারী সদর ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান রোজেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। পরে তাকে স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। গত ৪ মে হাইকোর্ট বরখাস্তের আদেশটি ৬ মাসের জন্য স্থগিত করে।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ‘বরখাস্ত’ চেয়ারম্যানকে পুনর্বহাল দাবিতে ইউপি কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন তার অনুসারীরা।

রোববার রাত আটটার দিকে ২০/৩০ জন নারী-পুরুষের একটি দল ইউপি কার্যালয়ের প্রতিটি কক্ষে তালা লাগিয়ে বারান্দায় অবস্থান নেন বলে জানিয়েছেন প‍্যানেল চেয়ারম‍্যান আনিছুর রহমান আনিছ।

এর আগে বিকেলে চেয়ারম্যানের অনুসারী শতাধিক নারী-পুরুষের একটি দল ঝাড়ু ও লাঠি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবন ঘেরাওয়ের চেষ্টা করেন। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর আলম ও পুলিশ গিয়ে তাদের সরিয়ে দেন।

এরপরই তাদের একটি অংশ ইউপি কার্যালয়ে গিয়ে তালা দেন। এ কারণে সোমবার ইউপিরি সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকে।

গণ-উপদ্রব সৃষ্টি ও ফৌজদারি অপরাধে কারাগারে থাকায় চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি ভূরুঙ্গামারী সদর ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান রোজেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। পরে তাকে স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়।

সাময়িক বরখাস্তের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে চেয়ারম্যান হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। গত ৪ মে হাইকোর্ট বরখাস্তের আদেশটি ৬ মাসের জন্য স্থগিত করে।

এ বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান বলেন, কয়েকজন ব্যক্তি প্রতিটি কক্ষে তালা দিয়ে অবস্থান নেয়ায় ইউপির স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

তিনি বলেন, বরখাস্ত চেয়াম্যানের নির্দেশে ৩ জুন কিছু ব্যক্তি ইউপি কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে উদ্যোক্তা ও সচিবকে রুম থেকে বের করে দিয়ে ব্যবহৃত ল্যাপটপ, প্রিন্টার নিয়ে যান। ইউএনওকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। থানায় মামলা করতে গেলে রহস্যজনক কারণে এখনও তা নেয়া হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে ইউএনও দীপক কুমার দেব শর্মা বলেন, ‘উক্ত চেয়ারম্যানকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সাময়িক বরখাস্ত করেছে। তাকে পুর্নবহাল করবে ওই মন্ত্রণালয়। আমি এখনও পুর্নবহালের কোনো চিঠি পাইনি।’

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, ‘প্যানেল চেয়ারম্যান এখনও কোনো এজাহার দাখিল করেন নাই। এজাহার দাখিল করলে মামলা নেয়া হবে।’

এই বিষয়ে বরখাস্ত চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন:
পুলিশকে লাঞ্ছিত মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দেশি বাগানে সৌদির খেজুর

দেশি বাগানে সৌদির খেজুর

ময়মনসিংহের ভালুকায় সৌদি আরবের বিভিন্ন জাতের খেজুরের বাগান গড়ে তুলেছেন আফাজ পাঠান। ছবি: নিউজবাংলা

২০১৬ সালের শেষের দিকে সৌদি আরবের এক বন্ধুর কাছ থেকে খেজুরের বীজ সংগ্রহ করেন আফাজ পাঠান। সে বছরই দুই বিঘা জমিতে আড়াই হাজার চারা হয়।

মরিয়ম, আজওয়া, ছুকারি, আমবার, বারহী, চেগী, নেপতা, মেগজুনসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন জাতের খেজুর ঝুলছে দেশেরই হাসানিয়া সৌদিয়া নামের এক বাগানে।

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের পাড়াগাঁও গ্রামের আফাজ পাঠান পাঁচ বছর আগে ১০ বিঘা জমিতে গড়ে তোলেন এই খেজুর বাগান।

সৌদি আরবের ১০ জাতের খেজুরের প্রায় ৫ হাজার গাছ ও ৫ হাজার চারা আছে তার বাগানে। বাগান পরিচর্যায় কাজ করেন ১৫ শ্রমিক।

দেশি বাগানে সৌদির খেজুর

২০১৬ সালের শেষের দিকে সৌদি আরবের এক বন্ধুর কাছ থেকে খেজুরের বীজ সংগ্রহ করেন। সে বছরই দুই বিঘা জমিতে আড়াই হাজার চারা হয়।

আফাজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতিটি চারা ২ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করি। তবে আমি যে চারাগুলো ২৫ হাজারে বিক্রি করি সেটির বাজারমূল্য ১ লাখ টাকা। তবুও বাংলাদেশে এই জাতের চারা ছড়িয়ে দেয়ার জন্য কম দামে বিক্রি করছি। প্রতি বছর ২৫ লাখ টাকার চারা বিক্রি করি।

‘লাভের পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি হওয়ায় আরও জায়গা কিনেছি। বর্তমানে ১০ বিঘা জমিতে খেজুর চাষ করছি। বাগানের একটা গাছে সাধারণত ১৫০ কেজি খেজুর ধরে। তবে গাছ ৫ থেকে ১০ ফুট লম্বা হলে আরও বেশি হয়।’

খেজুর গাছের চারা বিক্রি করলেও এখনও খেজুর বিক্রি শুরু করেননি আফাজ।

তিনি বলেন, ‘আমি যখন প্রথম খেজুর চাষের উদ্যোগ নেই তখন মনে মনে শপথ করেছিলাম কয়েক বছর খেজুর বাজারে বিক্রি করব না। যা হবে সব বিনা মূল্যে মানুষকে খেতে দেব। স্থানীয় লোকজনকে তো দেইই, যারা বাগান দেখতে আসে তাদের সবাইকে খেজুর দেই। তবে আগামী বছর থেকে বাজারে বিক্রি করব।’

দেশি বাগানে সৌদির খেজুর

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তার বাগান থেকে দেশে সৌদি আরবের খেজুরের চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে মনে করেন আফাজ।

খেজুর চাষ করে শুধু আফাজের ভাগ্যই ফেরেনি, কর্মসংস্থান হয়েছে এলাকার কিছু মানুষেরও।

বাগানে কাজ করতে করতে আব্দুল করিম নামের এক শ্রমিক জানান, আগে দূরে গিয়ে কাজ করার সময় থাকা-খাওয়ায় অনেক টাকা খরচ হয়ে যেত। এখন বাড়ির পাশেই কাজ করছেন। প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে পান। সংসার খরচের পর কিছু টাকা জমাতে পারছেন।

স্থানীয় কৃষক আফছর উদ্দিন খান বলেন, ‘আফাজ পাঁচ বছর আগেও অনেক কষ্টে দিন কাটিয়েছে। এখন তার দেয়া বেতনে অনেকের সংসার চলে। এই সফলতা এসেছে তার পরিশ্রম ও ইচ্ছাশক্তির কারণে।’

ভালুকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জেসমিন নাহার জানান, অনেক বেকার যুবক ও স্থানীয় কৃষক আফাজের খেজুর বাগান দেখে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। কেউ খেজুর চাষ করতে চাইলে তাকে সব ধরনের পরামর্শ দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
পুলিশকে লাঞ্ছিত মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

শেয়ার করুন

কিস্তির টাকা চাওয়ায় ব্যাংক কর্মকর্তাকে মারধর

কিস্তির টাকা চাওয়ায় ব্যাংক কর্মকর্তাকে মারধর

ব্যাংক কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি আনিচুর রহমান মোল্লা জানান, এনআরবিসি ব্যাংকের আড়াইহাজার শাখা থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন স্থানীয় জাকির খান, সজীবুল ইসলাম ও তার মা তাছলিমা আক্তার। কিস্তির টাকা চাওয়া নিয়েই ঘটেছে মারপিট ও হামলা।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ঋণের কিস্তির টাকা চাওয়ায় এনআরবিসি ব্যাংকের শাখা কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। মামলা হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

লাসারদী গ্রামে ব্যাংক কর্মকর্তার বাড়িতে ঢুকে বুধবার রাত ৮টার দিকে তাকে মারধর করে কয়েকজন। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে খাগকান্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের ভাইসহ চারজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিচুর রহমান মোল্লা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাংক কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

মামলার বরাত দিয়ে ওসি জানান, এনআরবিসি ব্যাংকের আড়াইহাজার শাখা থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন স্থানীয় দুবাই প্লাজার জাকির খান কম্পিউটার অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের মালিক জাকির খান, খাগকান্দা ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই সজীবুল ইসলাম ও তার মা তাছলিমা আক্তার। কিস্তির টাকা চাওয়া নিয়েই ঘটেছে মারপিট ও হামলা।

ঋণ নেয়ার পর তারা কয়েকটি কিস্তির টাকা পরিশোধ না করায় তাগাদা দেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। বুধবার দুপুরে ব্যাংকের কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, শাখা ব্যবস্থাপক কচি শিকদার ও ক্রেডিট অফিসার আজহারুল হক যান ঋণগ্রহীতাদের বাড়িতে। জাকির, সজীব ও তাছলিমা বেগমকে কিস্তি পরিশোধের জন্য তাগিদ দেন। এ সময় আসামিরা উত্তেজিত হয়ে হুমকি দেন।

পরে রাতে ৮টায় ঘটে হামলার ঘটনা। ব্যাংক কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামের বাসায় গিয়ে তাকে মারধর করে কয়েকজন। স্ত্রী আয়েশা বানু বাধা দিলে তাকেও পিটিয়ে জখম করা হয়। ভাঙচুর করা হয় ঘরের আসবাব।

ওসি জানান, হামলার ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম মামলা করেছেন। আসামি করা হয়েছে সজীবুল ইসলাম সজীব, তাছলিমা আক্তার, জাকির খান ও মুজাহিদ নামে চারজনকে।

আরও পড়ুন:
পুলিশকে লাঞ্ছিত মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

শেয়ার করুন

নিখোঁজের ৫ দিন পর মাদ্রাসার ৩ ছাত্রী উদ্ধার

নিখোঁজের ৫ দিন পর মাদ্রাসার ৩ ছাত্রী উদ্ধার

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বাংলা বাজার এলাকার দারুত তাক্বওয়া মহিলা ক্বওমী মাদ্রাসা। ছবি: নিউজবাংলা

জামালপুরের ইসলামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুমন মিয়া জানান, মাদ্রাসা থেকে পালানোর পর রোববার ভোরে ইসলামপুর স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠে ঢাকায় যায় মাদ্রাসার এই তিন ছাত্রী। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে রিকশায় ওঠে তিন ছাত্রী। স্টেশন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে রিকশাচালককে শনাক্তের পর মুগদা থানার মানডা এলাকার একটি বস্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ইসলামপুর থানা পুলিশ। পরে রিকশাচালকের বাড়ি থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় ওই তিন ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।

নিখোঁজের পাঁচ দিন পর জামালপুরের তিন মাদ্রাসাছাত্রীকে ঢাকা থেকে উদ্ধার করেছে ইসলামপুর থানার পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় ঢাকার মুগদার একটি বস্তিতে অভিযান চালিয়ে এক রিকশাচালকের ঘর থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীরা হলো ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের পোড়ারচর সরদারপাড়া গ্রামের মাফেজ শেখের মেয়ে মীম আক্তার, গোয়ালেরচর ইউনিয়নের সভুকুড়া মোল্লাপাড়া গ্রামের মনোয়ার হোসেনের মেয়ে মনিরা এবং সুরুজ্জামানের মেয়ে সূর্যবানু।

জামালপুরের ইসলামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সুমন মিয়া জানান, মাদ্রাসা থেকে পালানোর পর রোববার ভোরে ইসলামপুর স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠে ঢাকায় যায় মাদ্রাসার এই তিন ছাত্রী। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে রিকশায় উঠে তিন ছাত্রী। স্টেশন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে রিকশাচালককে শনাক্তের পর মুগদা থানার মানডা এলাকার একটি বস্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ইসলামপুর থানা পুলিশ। পরে রিকশাচালকের বাড়ি থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় ওই তিন ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।

এই বিষয় নিয়ে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিন ১২ সেপ্টেম্বর ভোরে ফজরের নামাজের সময় উপজেলার গোয়ালেরচর ইউনিয়নের বাংলাবাজা এলাকার দারুত তাক্বওয়া মহিলা কওমি মাদ্রাসা থেকে নিখোঁজ হয় তিন ছাত্রী। এ ঘটনায় ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে অভিভাবকদের উপস্থিতিতে ইসলামপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন মাদ্রাসাটির মোহতামিম মো. আসাদুজ্জামান সিদ্দিকী।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মঙ্গলবার সকালে মাদ্রাসাটির মোহতামিম মো. আসাদুজ্জামান, সহকারী শিক্ষক মোছা. রাবেয়া আক্তার, শুকরিয়া আক্তার এবং মো. ইলিয়াস হোসেনকে থানায় আনে পুলিশ। এ সময় মাদ্রাসাটির পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়।

এই ঘটনায় বুধবার রাতে নিখোঁজ মনিরার বাবা মনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে মানবপাচার বিরোধ আইনে একটি মামলা করেন। পরে চার শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়ে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। সোমবার রিমান্ড শুনানির দিন ঠিক করে আদালত।

আরও পড়ুন:
পুলিশকে লাঞ্ছিত মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

শেয়ার করুন

বান্দরবানে জিপ থেকে ছিটকে পড়ে নারী নিহত

বান্দরবানে জিপ থেকে ছিটকে পড়ে নারী নিহত

স্থানীয়রা জানান, লোহাগাড়া থেকে জিপ গাড়িতে বান্দরবানে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন তৈয়বা। জিপ গাড়িটি সুয়ালক এলাকার লম্বা রাস্তায় আসলে ছিটকে পড়ে যান তিনি। জিপ থেকে পড়ার পরই অপরদিক থেকে আসা আরেকটি গাড়ি তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়।

বান্দরবানে জিপগাড়ি থেকে ছিটকে পড়ে তৈয়বা সুলতানা নামে এক নারী প্রাণ হারিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান ফেরার পথে সুয়ালক এলাকার লম্বা রাস্তায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, লোহাগাড়া থেকে জিপ গাড়িতে বান্দরবানে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন তৈয়বা। জিপ গাড়িটি সুয়ালক এলাকার লম্বা রাস্তায় আসলে ছিটকে পড়ে যান তিনি।

তারা জানান, জিপ থেকে পড়ার পরই অপরদিক থেকে আসা আরেকটি গাড়ি তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এসময় ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান তৈয়বা।

বান্দরবান সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই গোবিন্দ বলেন, ‘কোন চালক চাপা দিয়ে পালিয়েছে সেটি এখনও জানা যায়নি। পরে তদন্ত অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
পুলিশকে লাঞ্ছিত মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

শেয়ার করুন

দেবীগঞ্জে ইজিবাইকের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু 

দেবীগঞ্জে ইজিবাইকের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু 

প্রতীকী ছবি

বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে দেবীগঞ্জ-ভাউলাগঞ্জ সড়ক পার হওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে ছিল সুমাইয়া। এ সময় দেবীগঞ্জ থেকে ভাউলাগঞ্জগামী একটি ইজিবাইক ধাক্কা দিলে সড়কে ছিটকে পড়ে সুমাইয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক সুমাইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। 

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ইজিবাইকের ধাক্কায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের চর তিস্তা পাড়া এলাকায় দেবীগঞ্জ-ভাউলাগঞ্জ সড়কে বৃহস্পতিবার বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মৃত শিশুর নাম সুমাইয়া আক্তার। আট বছরের সুমাইয়া চর তিস্তা পাড়া এলাকার আবদুল কুদ্দুসের মেয়ে এবং কসিম উদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে দেবীগঞ্জ-ভাউলাগঞ্জ সড়ক পার হওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে ছিল সুমাইয়া। এ সময় দেবীগঞ্জ থেকে ভাউলাগঞ্জগামী একটি ইজিবাইক ধাক্কা দিলে সড়কে ছিটকে পড়ে সুমাইয়া। গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক সুমাইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

দেবীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হেলাল উদ্দীন জানান, কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
পুলিশকে লাঞ্ছিত মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

শেয়ার করুন

ফেসবুক ‘হ্যাক করে’ ধর্মীয় কটূক্তি, উত্তেজনার মুখে গ্রেপ্তার

ফেসবুক ‘হ্যাক করে’ ধর্মীয় কটূক্তি, উত্তেজনার মুখে গ্রেপ্তার

পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, ‘প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের কাজ চলছে। গৌরাঙ্গ চন্দ্রকে ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য তার বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

ভোলায় সর্বজনীন দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি গৌরাঙ্গ চন্দ্র দেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বৃহস্পতিবার রাতে তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে গৌরাঙ্গ চন্দ্রের ফেসবুক আইডি হ্যাক হয় বলে জানিয়েছিল পুলিশ। এ অভিযোগে গৌরাঙ্গ থানায় জিডিও করেন। বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য আইডির তথ্য ও মেসেঞ্জারের বার্তার স্ক্রিনশট পাঠানো হয়েছে পুলিশ সদর দপ্তরের আইসিটি বিভাগে।

স্ক্রিনশটটি বুধবার রাত ১০টার দিকে ভাইরাল হওয়ার পর নিরাপত্তা শঙ্কায় ভোলা সদর থানায় একটি জিডি করার পাশাপাশি সেখানেই অবস্থান নেন গৌরাঙ্গ।

ওই রাতেই ভোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে জানান, পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। ওই আইডির তথ্য যাচাইয়ের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

তবে রাতেই ভোলা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড কাচিয়া কলোনিতে গৌরাঙ্গ চন্দ্রের বাড়িতে থাকা গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় এক দল লোক।
এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা বৃহস্পতিবার বিকেলে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এ সময় গৌরাঙ্গ চন্দ্রকে গ্রেপ্তারে ৭২ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেয়া হয়।

ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বৃহস্পতিবার রাতে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের কাজ চলছে। গৌরাঙ্গ চন্দ্রকে ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজন হিসাবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য তার বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাতে গৌরাঙ্গর মেসেঞ্জার থেকে ‘জয় রাম’ নামের এক জনের মেসেঞ্জারে ধর্মীয় কটূক্তি করা হয়। পরে কথোপকথনের স্ক্রিনশট জয় রামের ফেসবুক আইডি থেকে ছড়িয়ে দেয়া হয়, যা দ্রুত ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনার রাতেই ভোলা সদর মডেল থানার ওসি এনায়েত হোসেন নিজের ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ভোলা জেলার সর্বজনীন দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি গৌরাঙ্গ চন্দ্র দের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি (গৌরাঙ্গ দে জিসি দেব) কে বা কারা হ্যাক করে অসত্য, বানোয়াট ও উসকানিমূলক বিভিন্ন তথ্য শেয়ার করছে। আইডি হ্যাক হওয়ার বিষয়ে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

জয় রামের আইডি থেকে ছড়ানো কনটেন্টের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার কথা জানিয়ে বলা হয়, ‘কেউ গুজবে কান দেবেন না।'

আরও পড়ুন:
পুলিশকে লাঞ্ছিত মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

শেয়ার করুন

পুকুরে ডুবে দুই চাচাতো বোনের মৃত্যু

পুকুরে ডুবে দুই চাচাতো বোনের মৃত্যু

পুলিশ জানায়, বিকেল ৩টার দিকে তানিয়া ও হাবিবাসহ কয়েকটি শিশু বাড়ির পাশে পুকুরে গোসল করতে নামে। এক পর্যায় তানিয়া ও হাবিবা ডুবে যায়। তখন অন্য শিশুদের চিৎকারে লোকজন এসে দুই শিশুকে উদ্ধার করে। দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

ময়মনসিংহের নান্দাইলে পুকুরের পানিতে ডুবে তানিয়া আক্তার ও উম্মে হাবিবা নামের দুই চাচাতো বোনের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার চণ্ডিপাশা ইউনিয়নের কুড়াটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

৯ বছর বয়সী তানিয়া ওই গ্রামের তারা মিয়ার মেয়ে এবং ৮ বছরের হাবিবা বাচ্চু মিয়ার মেয়ে।

নান্দাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) উবায়দুর রহমান নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, বিকেল ৩টার দিকে তানিয়া ও হাবিবাসহ কয়েকটি শিশু বাড়ির পাশে পুকুরে গোসল করতে নামে। এক পর্যায় তানিয়া ও হাবিবা ডুবে যায়। তখন অন্য শিশুদের চিৎকারে লোকজন এসে দুই শিশুকে উদ্ধার করে। দ্রুত নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
পুলিশকে লাঞ্ছিত মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

শেয়ার করুন