তুষ্টির শেষ বিদায়ের সঙ্গী হলো বাবা-মায়ের চোখের জল

তুষ্টির শেষ বিদায়ের সঙ্গী হলো বাবা-মায়ের চোখের জল

রোববার রাত সোয়া ১০টার দিকে তুষ্টির মরদেহবাহী গাড়িটি নীলকণ্ঠপুরের বাড়িতে এসে পৌঁছায়। মরদেহ আসার খবরে এলাকার মানুষও ছুটে যান বাড়িটিতে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান তুষ্টিকে চোখের জলে শেষ বিদায় জানিয়েছেন তার মা, বাবা, পরিবার, স্বজনসহ এলাকাবাসী।

সোমবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলার নীলকণ্ঠপুরের গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

এর আগে সকাল ৯টার দিকে সুখারী ইউনিয়নের ঈদগাহ মাঠে জানাজা হয়৷

জানাজায় সুখারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন খোকনসহ এলাকার শ শ মানুষ অংশ নেন।

রোববার রাত সোয়া ১০টার দিকে তুষ্টির মরদেহবাহী গাড়িটি নীলকণ্ঠপুরের বাড়িতে এসে পৌঁছায়। মরদেহ আসার খবরে এলাকার মানুষও ছুটে যান বাড়িটিতে।

রাজধানীর আজিমপুর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের একটি ভবনের টয়লেট থেকে রোববার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ইসরাত জাহান তুষ্টির মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।

তুষ্টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। করোনার কারণে হল বন্ধ থাকায় তিনি আজিমপুর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারে সাবলেটে থাকতেন।

যেভাবে উদ্ধার হয় মরদেহ

রোববার ভোর ছয়টার দিকে পলাশী আবাসিক কোয়ার্টারের ১৮ নম্বর বাসার নিচ তলার একটি রুমের বাথরুমের দরজা ভেঙে তুষ্টির মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। তুষ্টি যে বাসায় সাবলেট থাকতেন সে বাসায় তিনটি রুম। এর একটি রুমে আরও তিনজনের সঙ্গে থাকতেন তিনি। বাথরুমটি ছিল রুমের বাইরে।

তুষ্টির সহপাঠী রাহনুমা তাবাসসুম রাফির সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার। তিনি বলেন, ‘গতকাল দুপুরে তুষ্টি তোশক আনতে হলে (বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল) গিয়েছিল। রুম থেকে নেয়া তোশক হলের গেস্টরুমে রেখে কালো ক্লিপ এবং বেল্ট আনতে আমাকে নিয়ে সে নিউ মার্কেট নিয়ে যায়। সেসময় বৃষ্টি পড়ছিল। সাথে ছাতা না থাকাতে বৃষ্টির পানি পড়েছিল তার শরীরে।

‘তুষ্টির আগে থেকেই অ্যাজমা এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যা। সে ইনহেলার ব্যবহার করতো। বৃষ্টিতে ভিজলে নাকি এগুলো বেড়ে যায়। তুষ্টি তখন আমাকে বলেছে, রাফি আমার মনে হয় রাতে শরীর খারাপ করবে।’

তুষ্টির শেষ বিদায়ের সঙ্গী হলো বাবা-মায়ের চোখের জল

তার আরেক রুমমেট রাহনুমা বলেন, ‘নিউ মার্কেটের কাজ শেষে হলের গেস্টরুমে রাখা তোশক নিয়ে বিকেল তিনটার দিকে আমরা বাসায় চলে আসি। বিকেল পাঁচটার দিকে আমি ক্যাম্পাসে যাই। যাওয়ার সময় তুষ্টিকেও ডেকেছিলাম। তার শরীর খারাপ লাগছে তাই সে আমার সাথে যায়নি। রাত নয়টার দিকে আমি ক্যাম্পাস থেকে বাসায় ফিরে আসি। ক্যাম্পাস থেকে আসায় আমিও ক্লান্ত ছিলাম। খাওয়া শেষে ১০টার দিকে শুয়ে পড়ি। বারোটার দিকে ঘুমিয়ে যাই। সেও (তুষ্টি) আমার সাথে শুয়েছিল। তখন সে হয় মুভি দেখছিল, না হয় ফেসবুকে স্ক্রল করছিল। এরপর আর কী হয়েছে আমি জানি না।’

রাহনুমা আরও বলেন, ‘ভোর ছয়টার দিকে সাবলেটের আন্টি এসে বলেন, তোমরা সবাই রুমে তাহলে ওয়াশরুমে কে। পানি পড়ছে, লাইট জ্বালানো। পরে ইতি আপু (আরেক রুম মেট) দেখে, তুষ্টি নেই। অনেকক্ষণ বাথরুমের দরজায় নক করছে। কিন্তু ভিতর থেকে কোন শব্দ নেই৷ আমি দেখি তুষ্টির ফোন তার বেডেই। পরে ঘটনাটা আমি তুষ্টির আব্বুকে জানাই। এরপর আমি আমাদের বন্ধু সাফায়াত আহমেদ রাজুকে ফোন দেয়। সে এসে ভেন্টিলেটর দিয়ে দেখে ভিতরে কারো পা দেখা যাচ্ছে। তারপর সে ৯৯৯ ফোন দেয়। এরপর ফায়ার সার্ভিসের কয়েকজন এসে তার মরদেহ নিয়ে যায়।’

তুষ্টির রুমমেট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী লুৎফুন্নাহার ইতি বলেন, ‘তুষ্টি মাত্র পাঁচ দিন আগে আমাদের বাসায় আসে। গতকাল বিকেল তিনটায় নিউমার্কেট থেকে এসে বলে, “আপু তোমরা কীভাবে বৃষ্টিতে ভেজো। আমি একটু ভেজার পর গলা চুলকাচ্ছে”। এর আগে আমি জানতাম না তার অ্যাজমা আছে।’

রাতের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, 'রাতে আমরা আড্ডা দিয়ে, হাসি, ঠাট্টা করে ঘুমিয়ে যাই। দুইটা বাজে আমি ঘুম থেকে উঠে কয়েকবার বাথরুমের দরজায় নক করি। কিন্তু তখন দরজা খুলেনি। তবে আমি কলের পানি পড়ার শব্দ পাচ্ছিলাম। বাড়িওয়ালা মনে করে আমি ঘুমিয়ে পড়ি। ভোর ৬টায় বাড়ির মালিকের ধাক্কাধাক্কিতে ঘুম ভাঙে। বাড়ির মালিক বলেন, “বাথরুমে কলের পানি পড়ছে ভেতরে কে?” তখন আমরা তাকিয়ে দেখি তুষ্টি বিছানায় নেই।’

সুরতহাল রিপোর্ট

তুষ্টির সুরতহাল রিপোর্ট নিউজবাংলার হাতে এসেছে। রিপোর্টে দেখা যায়, বাথরুম থেকে উদ্ধার করে যখন তুষ্টির দেহ মর্গে আনা হয় তখন তার পরনে ছিল লাল হাফ হাতা গেঞ্জি এবং নেভি ব্লু রঙের ট্রাউজার। চোখ-মুখ ছিল অর্ধ খোলা অবস্থায়, জিহ্বা দাঁত দিয়ে সামান্য কামড়ানো। বুক, পেট, পিঠ, কোমর হতে পা পর্যন্ত স্বাভাবিক ছিল। হাত দুটি ছিল অর্ধমুষ্টি অবস্থায়। বাম হাতের কনুই এবং পিঠের বাম পাশে পুরাতন দাগ ছিল।

ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিক্যালের মর্গ থেকে তুষ্টির মরদেহ বিকেল তিনটার দিকে নিজ বাড়ি নেত্রকোনার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে তুষ্টির নামাজে জানাজা হওয়ার কথা থাকলেও বৈরি আবহাওয়ার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

লালবাগ থানার ওসি (তদন্ত) খন্দকার হেলালুদ্দীন বলেন, ‘আমরা স্পটে যাওয়ার আগে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন তাকে (তুষ্টিকে) হাসপাতালে নিয়ে আসে। এখন পর্যন্ত তেমন কোনো কিছুই বলতে পারছি না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘একটি ঘটনা শেষ হতে না হতেই আরও একটি ঘটনা ঘটে গেল। আমাদের জন্য অনেক বড় দুসংবাদ। আমরা তার মৃত্যুর কারণ জানার চেষ্টা করছি।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কোড বললেই ছিদ্র দিয়ে বেরিয়ে আসে ইয়াবা

কোড বললেই ছিদ্র দিয়ে বেরিয়ে আসে ইয়াবা

চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং আবু সওদাগরের কলোনির গেটের সামনে চলে ইয়াবা বেচাকেনা। ছবি: নিউজবাংলা

ডবলমুরিং থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রোববার ওইস্থানে ইয়াবা বেচাকেনার সময় নিলুফাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাকিকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৫২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।’

চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং আবু সওদাগরের কলোনির গেটের সামনে চলে ইয়াবা বেচাকেনা। গেটের সামনে দাঁড়িয়ে শুরুতে দুই টোকা দিতে হয়। এরপর ভেতর থেকে আওয়াজ আস কে। তখন বলতে হয় নির্দিষ্ট গোপন কোড। কোড বললেই ছোট ছিদ্র দিয়ে বেরিয়ে আসে ইয়াবা।

কোডিং পদ্ধতিতে ইয়াবা বিক্রির সময় দুই নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার রাতে আবু সওদাগরের কলোনি গেট থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার সন্ধ্যায় এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন লাকী আক্তার ও নিলুফা বেগম। লাকীর বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় ছয়টি এবং নিলুফার বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে।

পুলিশ জানায়, আবু সওদাগরের কলোনির গেটের সামনে তারা ইয়াবা বিক্রি করতেন। গেটের সামনে দাঁড়িয়ে শুরুতে দুই টোকা দিলে ভেতর থেকে আওয়াজ আস কে। তখন গোপন কোড বললেই ছোট ছিদ্র দিয়ে বের করে দেন ইয়াবা।’

ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ মহসীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রোববার ওইস্থানে ইয়াবা বেচাকেনার সময় নিলুফাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাকিকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৫২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।’

ওসি আরো বলেন, ‘ তাদের যে কোড ওয়ার্ড, সেটা একেক সময় একেক রকম হতো। যেমন, গতকাল ছিল 'বিস্কুট'। নির্দিষ্ট সংখ্যক বিস্কুট বলার পর সেই সংখ্যক ইয়াবাই বের হয়। এর আগে 'গরুর গোশত' 'হাড্ডি' ' বিচি' ইত্যাদি কোড ওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।’

গ্রেপ্তারকৃত দুজনের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা করা হয়েছে।

সোমবার বিকেলে তাদেরকে চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে নিলে বিচারক কারাগারে পাঠিয়েছেন বলে জানান ওসি।

শেয়ার করুন

আইসিইউ অচল, কেন্দ্রীয় অক্সিজেনও নেই হাসপাতালে

আইসিইউ অচল, কেন্দ্রীয় অক্সিজেনও নেই হাসপাতালে

পাবনা জেনারেল হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু না থাকায় সংকটাপন্ন রোগীদের সেবা দেয়া যাচ্ছে না। ছবি: নিউজবাংলা

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট সালেহ মোহাম্মদ জানান, আইসিইউ পরিচালনায় সহায়তা দিতে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও এগিয়ে এসেছে। তাদের সঙ্গে চুক্তির পরও কেবল কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু না থাকায় সংকটাপন্ন রোগীদের সেবা দেয়া যাচ্ছে না।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালে অচল পড়ে আছে চার শয্যার আইসিইউ ইউনিট। কাজে আসছে না ভেন্টিলেটর, হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলাসহ মুমূর্ষু করোনা রোগীর চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় উপকরণও।

প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রাংশ থাকার পরও চালু করা যায়নি কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা। এতে সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না জেলার প্রধান এ হাসপাতালে।

পাবনা জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে হাসপাতালটিতে আইসিইউ ইউনিট চালুর জন্য চারটি শয্যা ও চারটি কার্ডিয়াক মনিটর আনা হয়। চলতি বছরের ফেব্রয়ারিতে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য দরপত্র হয়। জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্পেকট্রা ইন্টারন্যাশনাল এখনও প্ল্যান্টের নির্মাণ কাজই শুরু করতে পারেনি।

ওয়ার্ডগুলোতে পাইপলাইন এবং তরল অক্সিজেন ট্যাংকারের কাজ শুধু শেষ হয়েছে। এখন তরল অক্সিজেন পাওয়া গেলেই কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রুহুল হোসেন জানান, সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহের জন্য লিকুইড অক্সিজেন কাঠামো নির্মাণ ১৫ দিন আগে শেষ হয়েছে। তবে লিকুইড অক্সিজেন সরবরাহ না থাকায় এটি চালু করা যাচ্ছে না।

হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে বড় সিলিন্ডার সংযোগ দিয়ে মেডিফোল্ড পদ্ধতিতে হাই-ফ্লো অক্সিজেন সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয় বলে জানান তিনি।

তরল অক্সিজেনের মাধ্যমে কবে নাগাদ পাবনা জেনারেল হাসপাতালে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ শুরু হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।

স্পেকট্রা ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘পাবনা হাসপাতালে লিকুইড ট্যাংকার ও পাইপ লাইন সংযোগের কাজ শেষ। তবে যেসব হাসপাতালে অক্সিজেন ট্যাংকারে সরবরাহ চালু আছে তাদেরই আমরা পর্যাপ্ত তরল অক্সিজেন দিতে পারছি না। পাবনায় কবে চালু করা যাবে নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।’

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট সালেহ মোহাম্মদ আলী জানান, করোনা রোগীদের সেবা দিতে হাসপাতালে ১৫০ শয্যার করোনা ইউনিট চালু করা হয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আইসিইউ পরিচালনায় সহায়তা দিতে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও এগিয়ে এসেছে। তাদের সঙ্গে চুক্তির পরও কেবল কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু না থাকায় সংকটাপন্ন রোগীদের আইসিইউ, এইচডিইউ সুবিধা দেয়া যাচ্ছে না।

পাবনার সিভিল সার্জন মনিসর চৌধুরী বলেন, তরল অক্সিজেন বরাদ্দ পেলে জেলায় করোনা রোগীদের সর্বোচ্চ আধুনিক চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব হবে। তরল অক্সিজেন বরাদ্দ চেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই তরল অক্সিজেন পাওয়া যাবে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, পাবনায় করোনা রোগীর সংখ্যা রোববার ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। তাদের মধ্যে ৫ হাজার ৪১৫ জন শনাক্ত হয়েছেন জুলাইয়ে।

শেয়ার করুন

পরিত্যক্ত ঘরেই প্রাণ গেল প্রিয় শিক্ষকের

পরিত্যক্ত ঘরেই প্রাণ গেল প্রিয় শিক্ষকের

পরিত্যক্ত ঘরে শিক্ষক জয়নুল আবেদিন। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে বুড়িরবাঁধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওই পরিত্যক্ত ঘরে থাকতেন শিক্ষক জয়নুল। অনেক দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচায় পরিত্যক্ত একটি ঘরেই ১৫ বছরের বেশি কাটিয়ে দেন শিক্ষক জয়নুল আবেদিন। সেই ঘরেই সোমবার ভোরে মারা যান তিনি।

এলাকার প্রিয় এই শিক্ষক ৮৫ বছর বয়সেও ছিলেন অবিবাহিত। ছিল না পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আচকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুব্রত কুমার বর্মণ।

সুব্রত কুমার বর্মণ জানান, চাঁদপুরে জন্ম হলেও জয়নুল মাস্টার পরিবারের সঙ্গে অভিমান করে দিনাজপুরে চলে যান। এরপর ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে পড়া শেষে প্রথমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাইভেট পড়ানো শুরু করেন।

১৯৭৫ সালে উপজেলার খড়িবাড়ী উচ্চবিদ্যালয়ে ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আদর্শ শিক্ষক হিসেবে এলাকায় পরিচিতি পান। তবে কয়েক বছর পর মানসিক সমস্যা দেখা দিলে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে বুড়িরবাঁধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওই পরিত্যক্ত ঘরেই থাকতেন তিনি। অনেক দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। গত ফেব্রুয়ারিতে তাকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।

এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন তাকে বয়স্কভাতার একটি কার্ড করে দেন। একইসঙ্গে একটি ঘর বানিয়ে দেয়ার আশ্বাস দেন। তিনি সে ঘর নিতে রাজি হননি।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, সকালে পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় জয়নুল মাস্টারকে তিনি অনেকবার ডাকেন। সাড়া না পেয়ে ঘরে ঢুকে তাকে মৃত দেখতে পান।

তিনি আরও বলেন, মাস্টারের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউ আসতে রাজি হয়নি। এ জন্য নিজেদের উদ্যোগেই পরিত্যক্ত ওই ঘরের পাশেই তাকে দাফন করা।

শেয়ার করুন

ডেঙ্গুর রোগী ময়মনসিংহেও

ডেঙ্গুর রোগী ময়মনসিংহেও

আক্রান্তরা হলেন মহানগরের নওমহল এলাকার খায়রুল বাসার, উপজেলা সদরের পরানগঞ্জের ওহাব আলী, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আইনজীবী আতিকুর রহমান। অপরজন একটি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের কর্মীরা।।

ঢাকায় উদ্বেগ তৈরি করা মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন চারজন।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত চারজন ভর্তি হয়েছেন, যাদের একজন আবার স্থানীয় একটি উপজেলার বাসিন্দা। অন্য তিনজন ঢাকার বাসিন্দা ছিলেন।

আক্রান্তরা হলেন মহানগরের নওমহল এলাকার খায়রুল বাসার, উপজেলা সদরের পরানগঞ্জের ওহাব আলী, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আইনজীবী আতিকুর রহমান। অপরজন একটি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের কর্মীরা।

অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান ভর্তি হন গত ২৭ জুলাই, খায়রুল বাসার আসেন পরদিন আর ওহাব আলী ভর্তি হন গত ৩০ জুলাই। তবে মেডিক্যাল শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তির তারিখ ও তার নাম জানা যায়নি।

হাসপাতালের ডেঙ্গুবিষয়ক ফোকাল পার্সন হরিমোহন পন্ডিত নিউটন জানান, হাসপাতালের তৃতীয়তলার ১৫ নম্বর মেডিসিন ইউনিটে তিনজন ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে একজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে তিনজন ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করতেন।

শেয়ার করুন

তাস খেলে আটক উপজেলা চেয়ারম্যান, মুচলেকায় মুক্তি

তাস খেলে আটক উপজেলা চেয়ারম্যান, মুচলেকায় মুক্তি

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ তোতা বলেন, নয়াকান্দি বাজারে বসে তাস খেলছিল রনি মিয়া, পৌরসভার কুশেরচর এলাকার ইদ্রিস আলী ও আলাল মিয়াসহ কয়েকজন। পরে খেলতে শুরু করেন তিনিও। এ সময় তাদের আটক করা হয়। 

মানিকগঞ্জ তাস খেলা অবস্থায় তিন সঙ্গীসহ আটক হওয়ার পর মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ তোতা। তবে আটক ও ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি র‌্যাবের পক্ষ থেকে গোপন করা হয়েছে।

রোববার রাতে পৌর এলাকার নয়াকান্দি বাজারে একটি টংঘর থেকে তাস খেলা অবস্থায় তাদের আটক করা হয়।

তারা হলেন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ তোতা, পার্শ্ববতী বেতিলা-মিতরা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রনি মিয়া, পৌরসভার কুশেরচর এলাকার ইদ্রিস আলী ও আলাল মিয়া।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ তোতা বলেন, নয়াকান্দি বাজারে বসে তাস খেলছিল রনি মিয়া, পৌরসভার কুশেরচর এলাকার ইদ্রিস আলী ও আলাল মিয়াসহ কয়েকজন। পরে খেলতে শুরু করেন তিনিও।

তিনি জানান, সেখান থেকে র‌্যাব সদস্যরা হাতকড়া পরিয়ে তাদের আটক করে। খবর পেয়ে স্থানীয় নয়াকান্দি জামে মসজিদের সভাপতি দেওয়ান আব্দুল মতিন ও নয়াকান্দি বাজার সমিতির পক্ষে দেলোয়ার হোসেন মুচলেকা দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে রাখেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের ভাই ও মানিকগঞ্জ পৌর মেয়র মো. রমজান আলী বলেন, র‌্যাব সদস্যরা তাকে ফোন করে জানালে ঘটনাস্থলে যান তিনি। পরে র‌্যাবের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের ছাড়ানো হয়।

র‌্যাব-৪-এর মানিকগঞ্জ অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরিফ জানান, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাস খেলা অবস্থায় তাদের আটক করে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়। পরিচয় পাওয়ার তাদের হ্যান্ডকাফ খুলে দেয়া হয়। তিনি যে জনপ্রতিনিধি তা জানা ছিল না।’

শেয়ার করুন

ছোট ভাইকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

ছোট ভাইকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

মধুখালীতে খুন হওয়া সাদ্দামের স্বজনদের আহাজারি। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলতাফ শেখের ৬ ছেলে। ২২ জুলাই মারা যান আলতাফ শেখ। শুক্রবার তার মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল হওয়ার কথা। রোববার আলতাফ শেখের চতুর্থ সন্তান আনিছ শেখ ছোট ভাই সাদ্দামকে পিটিয়ে হত্যা করেন।

ফরিদপুরের মধুখালীতে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে ছোট ভাইকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার রাত ৮টার দিকে উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের দাড়ির পাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবকের নাম সাদ্দাম শেখ। গ্রামের মৃত আলতাফ শেখের পঞ্চম সন্তান তিনি। গ্রামেই কৃষি কাজ করতেন। ছয় মাস আগে বিয়ে করেন সাদ্দাম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলতাফ শেখের ৬ ছেলে। ২২ জুলাই মারা যান আলতাফ শেখ। শুক্রবার তার মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল হওয়ার কথা। রোববার আলতাফ শেখের চতুর্থ সন্তান আনিছ শেখ ছোট ভাই সাদ্দামকে পিটিয়ে হত্যা করেন।

তবে পরিবারের সদস্যদের দাবি, আনিছ মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ছিলেন। দীর্ঘদিন তার চিকিৎসা চলছে।

সাদ্দামের বড় ভাই আওয়াল শেখ জানান, আনিছ দীর্ঘদিন ধরেই মানসিকভাবে অসুস্থ।

রোববার রাতে হঠাৎ করেই সে পাগলামি শুরু করে। এসময় তাকে থামাতে গেলে আনিছ বাঁশের মোথা দিয়ে সাদ্দামকে পিটিয়ে আহত করে। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাদ্দামের স্ত্রী মদিনা বেগম বলেন, বিয়ের মাত্র ছয় মাস হয়েছিল। এর মধ্যেই স্বামীকে হারাতে হলো।

জাহাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইসহাক আলী মোল্যা বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় বড় ভাই ছোট ভাইকে হত্যা করেছে। ঘটনাটি হৃদয়বিদারক।

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, রাতেই আনিছকে আটক করা হয়েছে। তবে সে মানসিক ভারসাম্যহীন। সাদ্দামের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

শেয়ার করুন

‘পিটিয়ে হত্যার’ পর মরদেহের মুখে বিষ

‘পিটিয়ে হত্যার’ পর মরদেহের মুখে বিষ

বাচ্চাকে নিয়ে বাগবিতণ্ডা হলে স্বামী শফিকুল ইসলাম লাঠি দিয়ে মর্জিনাকে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ বাড়িতে ফেরত নিয়ে এসে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে ঘরের সব আসবাবপত্র নিয়ে পালিয়ে যান স্বামী শফিকুল ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা করে মরদেহের মুখে বিষ ঢেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে।

রোববার গভীর রাতে উপজেলার গোড়ল ইউনিয়নের দুলালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগে জানা গেছে।

সোমবার সকালে উপজেলার গোড়ল ইউনিয়নের দুলালী গ্রাম থেকে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় শ্বশুর আজিজারকে আটক করে আনা হয়।

সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়নের বালাটারী গ্রামের মজিবর রহমানের মেয়ে মর্জিনা বেগমের সঙ্গে পাঁচ বছর আগে বিয়ে হয় শফিকুল ইসলামের। তাদের সংসারে কিরণবালা নামের এক মেয়ের জন্ম হয়।

রোববার বিকেলে কিরণ বালা বাড়ির উঠানে মলত্যাগ করে। কিন্তু তা পরিষ্কার করতে দেরি হওয়ায় মর্জিনাকে গালমন্দ করেন শাশুড়ি ও দেবর। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয় তাদের মধ্যে।

সন্ধ্যায় আবারও তাদের মধ্যে বাচ্চাকে নিয়ে বাগবিতণ্ডা হলে স্বামী শফিকুল ইসলাম মর্জিনাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

পরে মরদেহ বাড়িতে ফেরত নিয়ে এসে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে ঘরের সব আসবাবপত্র নিয়ে পালিয়ে যান স্বামী শফিকুল ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানায় মেয়েকে হত্যার অভিযোগ দেন মর্জিনার বাবা মজিবর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েকে তুচ্ছ ঘটনায় পিটিয়ে হত্যা করে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে আত্মহত্যার কথা বলে বাড়ির সবাই পালিয়ে যায়।’

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরজু মো. সাজ্জাদ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। মর্জিনার শ্বশুরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

শেয়ার করুন