১৮ জেলায় বজ্রাঘাতে ৩২ মৃত্যু

১৮ জেলায় বজ্রাঘাতে ৩২ মৃত্যু

বজ্রাঘাতে সিরাজগঞ্জ ও চট্টগ্রামেই মৃত্যু ১০ জনের। মৃতদের মধ্যে নারী, শিশু ও শ্রমিক রয়েছেন। এর আগে বজ্রাঘাতে শনিবার ৭ জন ও শুক্রবার ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিউজবাংলার হিসাবে এ নিয়ে গেল তিন দিনে মৃত্যু হলো ৪৮ জনের।

১৮ জেলায় বজ্রপাতে ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ ও চট্টগ্রামেই মারা গেছেন ১০ জন।

মৃতদের মধ্যে নারী, শিশু ও শ্রমিক রয়েছেন।

এর আগে বজ্রাঘাতে শনিবার ৭ জন ও শুক্রবার ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিউজবাংলার হিসাবে এ নিয়ে গেল তিন দিনে মৃত্যু হলো ৪৮ জনের।

সিরাজগঞ্জের চার উপজেলায় বজ্রপাতে স্কুলছাত্রসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

উল্লাপাড়ার আগদিঘল, বেলকুচির চর সমেশপুর, সলঙ্গার আঙ্গারু এবং শাহজাদপুরের চর আঙ্গারু ও বাতিয়া গ্রামে রোববার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলেন উল্লাপাড়া উপজেলার আগদিঘল গ্রামের নবম শ্রেণির ছাত্র ফরিদুল ইসলাম, বেলকুচির চর সমেশপুর গ্রামের লাইলি বেগম, সলঙ্গার আঙ্গারু গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও শাহজাদপুর উপজেলার চর আঙ্গারু গ্রামের কৃষক জুয়েল রানা ও বাতিয়া গ্রামের কৃষক আলহাজ পণ্ডিত।

উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল নিউজবাংলাকে জানান, ফরিদুল মাঠে ধান কাটা শেষে বাড়ি ফেরার সময় আগদিঘল গ্রামের কবরস্থানের কাছে পৌঁছালে বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।

শাহজাদপুর উপজেলায় দুই কৃষকের মৃত্যুর বিষয়টি কায়েমপুর ইউপির চেয়ারম্যান হাসিবুল হক হাসান ও নরিনা ইউপির চেয়ারম্যান ফজলুল হক, বেলকুচিতে একজনের মৃত্যুর বিষয়টি বেলকুচি থানার ওসি গোলাম মোস্তফা, সলঙ্গায় একজনের মৃত্যুর বিষয়টি সলঙ্গা থানার ওসি আব্দুল কাদের জিলানী নিশ্চিত করেছেন।

বজ্রাঘাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রামেও।

ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ছমুরহাট এলাকায় সকাল ৮টার দিকে বজ্রাঘাতে মারা গেছেন ভানুমিত দাশ ও লাকি রানী দাশ। এ সময় আহত হয়েছেন মালতী দাশ ও শোভা রানী দাশ।

তাদের বাড়ি কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামে।

ছমুরহাট বাজার কমিটির সভাপতি মাওলানা আনিছুর রহমান জানান, ওই চারজন কৃষিশ্রমিক। সকালে ছমুরহাট বাজারের পাশে একটি জমিতে কাজ করছিলেন তারা। সে সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তারা আহত হন। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ভানুমিত ও লাকিকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকিদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

ফটিকছড়ি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ ইলিয়াছ ফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বজ্রপাতে দুই নারীর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। এখন ঘটনাস্থলে আছি।’

জেলার বোয়ালখালীতে বেলা ১১টার দিকে বজ্রাঘাতে মারা গেছেন মো. জাহাঙ্গীর নামের এক দিনমজুর। উপজেলার জৈষ্ঠ্যপুরা পাহাড়ের গরজংগিয়া এলাকায় লেবু বাগানে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে আহত হন জাহাঙ্গীর। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে কাজ করার সময় বজ্রপাতে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা সাতটায় মৃত্যু হয় তার।

মৃত মোহাম্মদ জলিল আহাম্মদ উপজেলার বার আউলিয়ার হাফিজ জুট মিল এলাকার মৃত নুরুল আলমের ছেলে। তার বয়স ৪০ বছর।

১৮ জেলায় বজ্রাঘাতে ৩২ মৃত্যু


হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক এএসআই শীলব্রত বড়ুয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বার আউলিয়ার একটি শিপইয়ার্ডে কাজ করার সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে তার ভাই ফয়েজ আহম্মেদ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে নিয়ে এলে সন্ধ্যা সাতটার দিকে তার মৃত্যু হয়।’

তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে বলে জানান শীলব্রত বড়ুয়া।

এ ছাড়া মিরসরাইয়ে সাজ্জাদ হোসেন নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সাহেরখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আইয়ুব আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মানিকগঞ্জের ঘিওরে বজ্রাঘাতে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন তার মা।

উপজেলার বৈলট এলাকায় রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

১৮ বছর বয়সী শাহীন হোসেন ঘিওর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি শিবালয়ের মহাদেবপুর ইউনিয়ন ডিগ্রি কলেজে পড়তেন।

ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিপ্লব বলেন, শাহীন ও তার মা ধানক্ষেতে কাজ করছিলেন। বৃষ্টি শুরু হলে বাড়ি ফেরার সময় বজ্রপাতে শাহীনের মৃত্যু হয়। আহত হন তার মা।

এদিকে দৌলতপুরে বজ্রপাতে দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে।

উপজেলার বাঁচামারা ইউনিয়নের চরভারাঙ্গা এলাকায় রোববার বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

মৃত গোলাম মোস্তফা চরকাঠুরী এলাকায় আব্দুল বাতেন মিয়ার ছেলে। তিনি মহিষের গাড়ি চালাতেন।

ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রমজান আলী বলেন, বাদাম আনতে বিকেলে চরভারাঙ্গা এলাকায় যান গোলাম মোস্তফা। এ সময় হঠাৎ বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নে বজ্রাঘাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরও তিনজন।

চৌবাড়িয়া ও তালা উপজেলার খলিশখালী ইউনিয়নে হরিণখোলা গ্রামে রোববার বিকেলে এই ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলেন- হরিণখোলা গ্রামের আশুতোষ মন্ডলের ছেলে কিশোর মন্ডল ও চৌবাড়িয়া গ্রামের বজলুর রহমানের মেয়ে রাবেয়া খাতুন। আহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের আলমপুরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বজ্রাঘাতে এক শিশু ও এক কিশোরী মারা গেছে।

মৃতরা হলো ৬ বছর বয়সী আল আমিন ও ১৫ বছর বয়সী তামান্না আক্তার।

সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম জানান, সকালে উপজেলার আলমপুর গ্রামের আনু ফরাজি বাড়ির সোলেমানের মেয়ে তামান্না আক্তার ও বাহার উল্লার ছেলে আল আমিন বৃষ্টির সময় ঘর থেকে বের হয়। তখনই বজ্রপাত হলে তারা আহত হয়। স্বজনরা তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি জানান, কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ দুটি তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পটুয়াখালীতে বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

সদর ও মির্জাগঞ্জ উপজেলায় রোববার বিকেলে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলেন সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া গ্রামের প্রয়াত মুনসুর আলী হাওলাদারের ছেলে মজিবর রহমান এবং মির্জাগঞ্জ উপজেলার তারাবুনিয়া গ্রামের প্রয়াত সেরজন আলী হাওলাদারের ছেলে আবদুল জলিল হাওলাদার।

জলিল পেশায় একজন কৃষক এবং মজিবর শ্রমিক ছিলেন।

মির্জাগঞ্জ ও সদর থানা পুলিশ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিকেল ৪টার দিকে মজিবর বাজার থেকে বাড়িতে ফিরছিল। এসময় রাস্তায় বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।

মির্জাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিবুল্লাহ জানান, মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে জলিল নিজ বাড়ির পাশে কৃষি জমিতে বীজ রোপণ করছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

১৮ জেলায় বজ্রাঘাতে ৩২ মৃত্যু

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

উপজেলার ভাদ্রা ও বেকড়া ইউনিয়নে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলেন ভাদ্রার গাংবিহালী গ্রামের বক্তার খানের ছেলে আলমাস খান এবং বেকড়ার বেকড়া মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত পলান মিয়ার ছেলে সোনা মিয়া।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মুসলেম উদ্দিন বলেন, বিকেলে গাংবিহালী চকে ধানের খড় শুকাচ্ছিলেন আলমাস। এসময় বজ্রবৃষ্টি শুরু হলে তিনি বাড়ি ফিরে আসতে থাকেন। পথে বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।

বেকড়া মধ্যপাড়ার সোনা মিয়া রাতে নিজ বাড়ির উঠানে বজ্রপাতে মারা যান।

নাগরপুর থানার ওসি (তদন্ত) বাহালুল খান বাহার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বগুড়ার ধুনটে আম কুড়ানোর সময় বজ্রপাতে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরেক শিশু।

উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের নিত্তিপোতা গ্রামে রোববার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

মৃত ৮ বছর বয়সী আদিল হোসেনের বাবার নাম আব্দুল মোমিন। আহত হয়েছে সাত বছরের আরমান হোসেন।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃপা সিন্ধুবালা বলেন, আদিল ও আরমানের বাড়ি পাশাপাশি। ঝড়ের সময় আদিলের বাড়ির উঠানে দুজনই আম কুড়াচ্ছিল।

এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই আদিল মারা যায়। আহত হয় আরমান। আরমানকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

১৮ জেলায় বজ্রাঘাতে ৩২ মৃত্যু


মাদারীপুরের
শিবচরে বজ্রপাতে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

উপজেলার চরজানাজাত ইউনিয়নের বালুরটেকে এলাকায় রোববার বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত ৫০ বছর বয়সী আয়েশা বেগম ওই এলাকার ছোরফান হাওলাদারের স্ত্রী।

শিবচর থানার ওসি মিরাজ হোসেন জানান, দুপুরে আয়েশা বেগম নিজ জমিতে বাদাম তুলতে যান। বিকেলের দিকে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

মেহেরপুরের মুজিবনগরে বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

দারিয়াপুর ইউনিয়নে রোববার বিকেলে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

মৃত ফরিদ নওদা ওই ইউনিয়নের পুরুন্দপুর গ্রামের প্রয়াত বক্স নওদার ছেলে।

মুজিবনগর থানার ওসি আবুল হাশেম নিউজবাংলাকে বলেন, বিকেলে নটগাড়ির মাঠে নিজ আবাদি জমির ফসল দেখতে যান ফরিদ। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় তার। পরে পুলিশের সহায়তায় তার মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

নোয়াখালীর হাতিয়ার সোনাদিয়া ইউনিয়নে বজ্রপাতে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে।

উপজেলা সোনাদিয়া ইউনিয়নের মাইজচরা গ্রামে রোববার বিকেল ৫টায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

মৃত আবদুল মান্নান মাইজচরা গ্রামের মৌলভী সৈয়দ আহমেদের ছেলে এবং স্থানীয় মাইজদী বাজারের পান ব্যবসায়ী।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইমরান হোসেন বলেন, রোববার বিকেলে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে মাঠ থেকে গরু আনতে যান খোকন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। পরে আশপাশের লোকজন এসে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

পাবনার আটঘরিয়ায় বজ্রপাতে এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

মৃত যুথি খাতুন পাবনা সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের পাইকেল গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে।

আটঘরিয়া থানার ওসি হাফিজুর বলেন, বিকেলে বাড়ির পাশের বাগানে আম কুড়াতে গেলে বজ্রপাতে যুথির মৃত্যু হয়। মেয়েটি কয়রাবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ত।

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় বজ্রপাতে এক নারীর মৃত্যু হয়।

তার নাম ছকিরন বেগম। তিনি বিনোদপুর ইউনিয়নের ঘুল্লিয়া গ্রামের সুরমাউন শেখের স্ত্রী।

ঘুল্লিয়া ঠাকুর পাড়ায় রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান শিকদার নিউজবাংলাকে বলেন, বিকেল থেকেই বৃষ্টিসহ বজ্রপাত হচ্ছিল। এ সময় উঠানে কাজ করছিলেন ছকিরন। হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় তার।

মহম্মদপুর থানার ওসি তারক বিশ্বাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি মৃত্যুর খবর শুনেছি। ঝড়বৃষ্টি থামলে পুলিশ পাঠাব।’

শরীয়তপুরে
বজ্রপাতে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

জাজিরা উপজেলায় রোববার সন্ধ্যা ৭টায় তার মৃত্যু হয়।

মৃত আতিকুর রহমান জাজিরা উপজেলার ছোট কৃষ্ণনগর গ্রামের মো. ফারুক মাদারের ছেলে।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় বাড়ি ফিরছিল আতিকুর। বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।

বরিশালের উজিরপুরে বজ্রাঘাতে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরও এক শ্রমিক।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উজিরপুর মডেল থানার পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সুমন হোসেন।

সাতলা ইউনিয়নের সাতলা গ্রামে রোববার বিকেলে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

মৃত নান্টু বালী ওই এলাকার ইউনুস বালীর ছেলে। আহত সুমন একই এলাকার পল্টু খানের ছেলে।

এএসআই সুমন বলেন, বিকেলে ঝড় ও বৃষ্টির মধ্যে কচা নদী থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু তুলছিলেন নান্টু ও সুমন। এ সময় বজ্রপাতে তারা দুজনেই গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক নান্টুকে মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় সুমনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া বরিশালের মুলাদীতে বজ্রপাতে কৃষক হাচেন আলী সরদারের মৃত্যু হয়েছে। মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

আলমডাঙ্গা উপজেলার রুইথনপুর গ্রামে রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

মৃত কোরবান আলী একই গ্রামের মৃত ফকির আলীর ছেলে।

আলমডাঙ্গা থানার ওসি আলমগীর কবীর জানান, বিকেলে বৃষ্টি শুরু হলে রুইথনপুর গ্রামের মাঠে যান কৃষক কোরবান। তার নিজ কচুক্ষেতে সার ছিটানোর সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে মাঠের অন্য কৃষকরা তার মরদেহ উদ্ধার করে বাড়ি নেয়।

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে বৃষ্টির মধ্যে মাঠে খেল‌তে গি‌য়ে বজ্রপাতে কলেজছাত্রের মৃতু হয়েছে। আহত হয়েছে আরও দুইজন।

শেখরননগর মাঠে ফুটবল খেলতে গিয়ে রোববার বিকেল ৩টায় দিকে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আহত দুজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মৃত অপূর্ব বর্মন উপ‌জেলার শেখরনগর ইউনিয়নের শেখরনগর জেলে পাড়া গ্রামের স্বপন বর্মনের ছেলে এবং আলী আজগর অ্যান্ড আব্দুল্লাহ কলেজের এইচ এসসির পরীক্ষার্থী। আহতরা হলেন অপু বর্মন ও পরিচয় বর্মন।

শেখরনগর ইউপি চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের চর মটুকপুর গ্রামে রোববার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

মৃত আমিনুর রহমান ওই গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে।

গংগাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুশান্ত কুমার সরকার বলেন, জমিতে কাজ শেষে বাড়িতে ফেরার পথে বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয় তার। এ ঘটনায় জিডি হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সিরাজগঞ্জে বজ্রপাতে ৫ জনের প্রাণহানি
নোয়াখালীতে বজ্রপাতে মৃত্যু হলো ৫ গরুর
বজ্রাঘাতে দুই জেলায় প্রাণ হারাল শিশুসহ ৫
মহেশখালীতে বজ্রাঘাতে কিশোরের মৃত্যু
তিন জেলায় বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন ৫ জন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নির্বাচনী মহড়ায় প্রকাশ্যে শটগান

নির্বাচনী মহড়ায় প্রকাশ্যে শটগান

পাথরঘাটার কাকচিড়া ইউপি নির্বাচনি মহড়া থেকে শটগানসহ আজিম হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

পাথরঘাটা থানার ওসি জানান, মোটরসাইকেল মিছিল থেকে শটগানসহ আজিম হোসেন নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে তার আগ্নোয়াস্ত্রটি নিবন্ধিত। তিনি নির্বাচনী এলাকায় কেন শটগান নিয়ে ঘুরছিলেন জিজ্ঞাসাবাদের পর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বরগুনার পাথরঘাটার কাকচিড়া ইউপি নির্বাচনি মহড়া থেকে শটগানসহ আজিম হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের ফকিরহাট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

৪৫ বছর বয়সী আজিম উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের কাটখালি এলাকার বাসিন্দা। তিনি বরিশালে বসবাস করেন।

কাকচিড়া ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আলাউদ্দীন পল্টুর দাবি, আটক আজিম ঘোড়া মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক।

স্থানীয় লোকজন জানান, কাকচিড়া ইউনিয়নের ফকিরহাট (৪নম্বর ওয়ার্ড) এলাকায় সভা শেষে নৌকার প্রার্থী আলাউদ্দীন পল্টু কর্মী-সমর্থক নিয়ে ফিরছিলেন। একই সময় ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান পহলানের কর্মীরা-সমর্থকরাও মোটরসাইকেল বহর নিয়ে ওই এলাকা অতিক্রম করছিল। মহড়ার মধ্যে শটগানসহ আজিম নামের একজনকে দেখে পুলিশ তাকে আটক করে। পরে তাকে পাথরঘাটা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার জানান, মোটরসাইকেল মিছিল থেকে শটগানসহ আজিম হোসেন নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে তার আগ্নোয়াস্ত্রটি নিবন্ধিত। তিনি নির্বাচনী এলাকায় কেন শটগান নিয়ে ঘুরছিলেন জিজ্ঞাসাবাদের পর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলাউদ্দীন বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী এলাকায় ভোট নেই বুঝতে পেরে সন্ত্রাসী বাহিনী ভাড়া করে ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। প্রকাশ্যে আগ্নোয়াস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়া হচ্ছে।’

এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান পহলান বলেন, ‘আটক আজিম আমাদের কর্মী বা সমর্থক নন। এমনকি তিনি আমাদের বহরের সঙ্গে মোটরসাইকেলে ছিলেন না। আমার বিরুদ্ধ এমন প্রচরাণা চালিয়ে প্রতিপক্ষ নির্বাচনের মাঠে ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছে।’

আরও পড়ুন:
সিরাজগঞ্জে বজ্রপাতে ৫ জনের প্রাণহানি
নোয়াখালীতে বজ্রপাতে মৃত্যু হলো ৫ গরুর
বজ্রাঘাতে দুই জেলায় প্রাণ হারাল শিশুসহ ৫
মহেশখালীতে বজ্রাঘাতে কিশোরের মৃত্যু
তিন জেলায় বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন ৫ জন

শেয়ার করুন

নির্মাণ শেষের আগেই মুজিব কিল্লায় ফাটল

নির্মাণ শেষের আগেই মুজিব কিল্লায় ফাটল

বাঁশখালীতে নির্মাণাধীন মুজিব কিল্লা নামের ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের কাজ শেষ হওয়ার আগেই ফাটল দেখা দিয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

‘মুজিব কিল্লা নির্মাণের শুরুতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে স্থানীয় লোকজন কাজ বন্ধ করে দেয়। সঠিকভাবে কাজ করার শর্তে পুনরায় নির্মাণ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এবার কাজ শেষ হওয়ার আগেই ফাটল দেখা দিয়েছে। কিল্লার পেছনের অংশে সঠিকভাবে পাইলিং না করায় দেয়াল দেবে ফেটে গেছে।’

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে নির্মাণাধীন মুজিব কিল্লা নামের ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের কাজ শেষ হওয়ার আগেই ফাটল দেখা দিয়েছে।

উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের বালুখালীতে প্রকল্প এলাকার লোকজনের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণে মুজিব কিল্লায় ফাটল দেখা দিয়েছে।

এলাকার মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রকল্পে মাটির কাজ, স্লোপ প্রোটেকশন, ক্যাটল শেডসহ বিভিন্ন কাজ হয়েছে অত্যন্ত নিম্নমানের। ফলে স্লোপ প্রোটেকশন ও ক্যাটল শেডে ফাটল দেখা দিয়েছে।’

আরেক বাসিন্দা জমির বিন হাসান বলেন, ‘মুজিব কিল্লা নির্মাণের শুরুতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে স্থানীয় লোকজন কাজ বন্ধ করে দেয়। সঠিকভাবে কাজ করার শর্তে পুনরায় নির্মাণ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এবার কাজ শেষ হওয়ার আগেই ফাটল দেখা দিয়েছে। কিল্লার পেছনের অংশে সঠিকভাবে পাইলিং না করায় দেয়াল দেবে ফেটে গেছে।’

ছনুয়া ইউপি চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ জানান, অবকাঠামোতে ফাটল দেখা দেয়ায় এরই মধ্যে ইউনিয়নের পরিষদের পক্ষ থেকে প্রকল্প কর্মকর্তাদের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে মুজিব কিল্লায় ফাটল দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সপ্তাহখানেক আগে আমরা বিষয়টি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের লোকজনকে জানিয়েছি। আমরা উপজেলা প্রশাসনকেও জানিয়েছি। তারা বিষয়টি দেখবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুজিব কিল্লার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী জয়নাল আবেদীন কাজল বলেন, 'আমি কেন মুজিব কিল্লার কাজের দায়িত্ব পাবো? আমি কি কোনো সরকারি কর্মকর্তা?’ বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘কাজটি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের। উনাদের ঠিকাদার, ইঞ্জিনিয়ার সবকিছু দেখভাল করছেন। আমাদের তদারকির সুযোগ নেই।’

এ বিষয়ে জানার জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিও) আবুল কালাম মিয়াজীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের অধীনে ২০২০ সালের ১৯ আগস্ট ছনুয়া টেক আপদকালীন ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র মুজিব কিল্লার নির্মাণকাজ শুরু হয়। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় দুই কোটি সাত লাখ ২৫ হাজার টাকা। কাজের দায়িত্ব পায় কাজল অ্যান্ড ব্রাদার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

মুজিববর্ষের উপহার স্বরূপ সারাদেশের মতো বাঁশখালীতেও এই মুজিব কিল্লা নির্মিত হচ্ছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তা এখনও শেষ হয়নি।

আরও পড়ুন:
সিরাজগঞ্জে বজ্রপাতে ৫ জনের প্রাণহানি
নোয়াখালীতে বজ্রপাতে মৃত্যু হলো ৫ গরুর
বজ্রাঘাতে দুই জেলায় প্রাণ হারাল শিশুসহ ৫
মহেশখালীতে বজ্রাঘাতে কিশোরের মৃত্যু
তিন জেলায় বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন ৫ জন

শেয়ার করুন

তাসবিহ জপে টাকা, বকেয়া ৩৩ লাখ

তাসবিহ জপে টাকা, বকেয়া ৩৩ লাখ

ময়মনসিংহের নান্দাইলের বাঁশহাটি গ্রামে নারীদের দেয়া তসবিহ। ছবি: নিউজবাংলা

ময়মনসিংহের নান্দাইলের বাঁশহাটি গ্রামের হাবিবুল্লাহর স্ত্রী নাসরিন বেগমের সঙ্গে দুই বছর আগে রাজধানীর লালমাটিয়ার বাসিন্দা একই নামের এক নারীর পরিচয় হয়। তিনি নাসরিনকে বলেন, গ্রামের নারীদের মধ্যে ইসলাম প্রচার করার জন্য। এজন্য তসবিহ জপার পরামর্শ দিয়ে তিনি পারিশ্রমিক দেয়ার কথা জানান।

শুধু তসবিহ জপার জন্য মাসে পাওয়া যাচ্ছিল সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা। এভাবে টাকা মিলেছে প্রায় এক বছর। তবে আট মাস আগে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় টাকা। এরপর টাকার জন্য স্থানীয় সমন্বয়ককে তাগাদা দেয়া হচ্ছে।

ঘটনাটি ময়মনসিংহের নান্দাইলের বাঁশহাটি গ্রামের।

স্থানীয় লোকজন জানান, গ্রামের হাবিবুল্লাহর স্ত্রী নাসরিন বেগমের সঙ্গে দুই বছর আগে রাজধানীর লালমাটিয়ার বাসিন্দা একই নামের এক নারীর পরিচয় হয়। তিনি নাসরিনকে বলেন, গ্রামের নারীদের মধ্যে ইসলাম প্রচার করার জন্য। এজন্য তসবিহ জপার পরামর্শ দিয়ে তিনি পারিশ্রমিক দেয়ার কথা জানান।

তারা আরও জানান, ওই নারীর কথা অনুযায়ী নাসরিন ১২৪ জন নারীকে বাছাই করেন। তাদের প্রত্যেককে প্রথমে এক হাজার টাকা ও এক হাজার দানার একটি তাসবিহ ছড়া দেয়া হয়। এরপর তাসবিহ ছড়া এক হাজারবার পড়লে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা করে দেয়া হতো। মাস শেষে নারীদের হাতে টাকা পৌঁছে দিতেন গ্রামের নাসরিন।

এভাবে প্রায় এক বছর ধরে তাসবি জপার জন্য টাকা পেয়ে আসছিলেন গ্রামের নারীরা। তবে আট মাস আগে হঠাৎ টাকা আসা বন্ধ হয়ে যায়। রাজধানী থেকে টাকা না পেয়ে এক পর্যায়ে গ্রামের নারীদের তসবিহ পড়া বন্ধ রাখতে বলেন নান্দাইলের নাসরিন।

তবে নারীরা নাসরিনের কথা না মেনে তসবিহ জপছেন, আবার মাস শেষে তার বাড়িতে গিয়ে টাকার জন্য তাগাদা দিচ্ছেন। ওই নারীদের হিসাব অনুযায়ী, তাদের প্রায় ৩৩ লাখ টাকা পাওনা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান।

তবে এ বিষয়ে জানতে বাঁশহাটি গ্রামের নাসরিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ওসি জানান, টাকার জন্য মঙ্গলবার বিকেলে বাঁশহাটি গ্রামের নাসরিনের বাড়িতে যান ওই নারীরা। তবে নাসরিন কোনো টাকা দিতে পারেননি। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠান।

তিনি আরও জানান, লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় কাউকে আটক করা হয়নি। তবে ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
সিরাজগঞ্জে বজ্রপাতে ৫ জনের প্রাণহানি
নোয়াখালীতে বজ্রপাতে মৃত্যু হলো ৫ গরুর
বজ্রাঘাতে দুই জেলায় প্রাণ হারাল শিশুসহ ৫
মহেশখালীতে বজ্রাঘাতে কিশোরের মৃত্যু
তিন জেলায় বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন ৫ জন

শেয়ার করুন

সড়ক দুর্ঘটনায় কসবা থানার এসআই নিহত

সড়ক দুর্ঘটনায় কসবা থানার এসআই নিহত

প্রতীকী ছবি।

নিহত এসআইয়ের নাম গোলাম মোস্তফা। ৫৭ বছরের গোলাম মোস্তফা ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার পৈহারা এলাকার হাজী আলী আজমের ছেলে। কসবা থানার এসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।

সড়ক দুর্ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার একজন এসআই নিহত হয়েছেন।

উপজেলার কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের কালামুড়িয়া গ্রামে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত এসআইয়ের নাম গোলাম মোস্তফা। ৫৭ বছরের গোলাম মোস্তফা ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার পৈহারা এলাকার হাজী আলী আজমের ছেলে। কসবা থানার এসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা মোহাম্মদ শহীন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কালামুড়িয়া গ্রামে দায়িত্ব পালনের সময় একটি পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় গুরুতর আহন হন গোলাম মোস্তফা। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কসবা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পিকআপ ভ্যানটি আটক করা যায়নি। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হবে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মির্জা মো. সাইফ বলেন, ‘গোলাম মোস্তফাকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার মাথায় আঘাতের কারণে রক্তক্ষরণ হয়েছে। এ ছাড়া ডান পায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এক ঘণ্টা পর তার মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন:
সিরাজগঞ্জে বজ্রপাতে ৫ জনের প্রাণহানি
নোয়াখালীতে বজ্রপাতে মৃত্যু হলো ৫ গরুর
বজ্রাঘাতে দুই জেলায় প্রাণ হারাল শিশুসহ ৫
মহেশখালীতে বজ্রাঘাতে কিশোরের মৃত্যু
তিন জেলায় বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন ৫ জন

শেয়ার করুন

বাইকে মায়ের কোল থেকে ছিটকে শিশুর মৃত্যু

বাইকে মায়ের কোল থেকে ছিটকে শিশুর মৃত্যু

চাটমোহর থানার ওসি জানান, মোটরসাইকেলে বাড়ি থেকে উপজেলা সদরের দিকে যাচ্ছিলেন রফিকুল ও তার স্ত্রী পপি। মায়ের কোলে ছিল আট মাসের কন্যা রওশন। পথে করিমনের সঙ্গে সংঘর্ষে ছিটকে পড়েন তিনজন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত স্বামী-স্ত্রী হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

আট মাস বয়সী কন্যা রওশন ও স্ত্রী পপি খাতুনকে মোটরসাইকেলে নিয়ে বের হন রফিকুল ইসলাম। পথে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত করিমনের সঙ্গে সংঘর্ষে মায়ের কোল থেকে রাস্তায় ছিটকে পড়ে শিশুটির মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত স্বামী-স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে পাবনার চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের পূর্ব টিয়ারতলায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

২৫ বছর বয়সী রফিকুল ইসলাম চাটমোহরের সাহাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি। তার বাড়ি উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামে।

চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, মোটরসাইকেলে বাড়ি থেকে চাটমোহর উপজেলা সদরের দিকে যাচ্ছিলেন রফিকুল ও তার স্ত্রী পপি খাতুন। পপির কোলে ছিল আট মাসের শিশু রওশন। পূর্ব টিয়ারতলা এলাকায় শ্যালো ইঞ্জিনচালিত করিমনের সঙ্গে সংঘর্ষে রাস্তায় ছিটকে পড়েন মোটরসাইকেল আরোহী তিনজন।

গুরুতর আহত তিনজনকে আটঘরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

গুরুতর আহত স্বামী-স্ত্রীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সিরাজগঞ্জে বজ্রপাতে ৫ জনের প্রাণহানি
নোয়াখালীতে বজ্রপাতে মৃত্যু হলো ৫ গরুর
বজ্রাঘাতে দুই জেলায় প্রাণ হারাল শিশুসহ ৫
মহেশখালীতে বজ্রাঘাতে কিশোরের মৃত্যু
তিন জেলায় বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন ৫ জন

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সম্পর্ক গড়ে ব্ল্যাকমেইল, গ্রেপ্তার ৩

ফেসবুকে সম্পর্ক গড়ে ব্ল্যাকমেইল, গ্রেপ্তার ৩

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, কর্মকর্তাকে বাড়িতে নেয়ার পর রিনাসহ অন্যদের ব্যবহার পরিবর্তন হয়ে যায়। তাকে তারা বলেন, যত সহজে আসছিস, তত সহজে যেতে পারবি না। ওই সময় কর্মকর্তা বাড়ি যেতে চাইলে তার কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করা হয়। কর্মকর্তা টাকা দিতে রাজি হননি। এতে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার হাত-পা বেঁধে তাকে মারধর করতে থাকেন অভিযুক্তরা। এ সময় কর্মকর্তার পকেটে থাকা নগদ পাঁচ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন তারা। পরে কর্মকর্তাকে বিবস্ত্র করে মোবাইল ফোনে ছবি তোলা হয়।

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপলোয় এক নারীসহ ফেসবুকে প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়া নারী ফেসবুকের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে বাড়িতে ডেকে এনে ব্ল্যাকমেইল করে করে অর্থ হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এমন অভিযোগে বৃহস্পতিবার সকালে নন্দীগ্রাম থানায় মামলা করেন একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) একজন কর্মকর্তা। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন, নন্দীগ্রাম উপজেলার ভদ্রদিঘী গ্রামের রিনা বেগম, কহুলী গ্রামের লিটন হোসেন ও একই গ্রামের গোলাম রাব্বি।

মামলার আরেক আসামি বুলু পলাতক রয়েছেন। তিনি উপজেলার কহুলী গ্রামের বাসিন্দা।

মামলায় বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী ওই এনজ্ওি কর্মকর্তা চাকরির সুবাদে সিলেটে বসবাস করেন। তার স্ত্রীসহ পুরো পরিবার নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলায় বসবাস করেন। ফেসবুকে বগুড়া নন্দীগ্রাম উপজেলার রিনা বেগমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

গত মঙ্গলবার ওই কর্মকর্তা গ্রামের বাড়ি নাটোরের উদ্দেশ্যে সিলেট থেকে রওনা দেন। বিষয়টি জানতেন রিনা বেগম। ফলে তার সঙ্গে দেখা করতে তাকে অনুরোধ করেন রিনা। একপর্যায়ে কর্মকর্তাও রিনার সঙ্গে দেখা করতে রাজি হয়ে যান। মঙ্গলবার রাতে সিলেট থেকে রওনা দেন কর্মকর্তা।

বুধবার সকালে তিনি বগুড়া নন্দীগ্রাম উপজেলায় রিনার বাড়ির সামনে পৌঁছান। সেখানে তার রিনার সঙ্গে দেখা হয়। রিনা তাকে বাড়িতে আসতে বারবার অনুরোধ করতে থাকেন। কিন্তু কর্মকর্তা রাজি হচ্ছিলেন না। একপর্যায়ে রিনা বলেন তার স্বামী সৌদি আরব প্রবাসী। রিনার স্বামী বাড়িতে নেই শুনে ওই কর্মকর্তা বাড়িতে আর প্রবেশ করতেই চাননি। ওই সময় রিনাসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা অপ্যায়ন করার কথা বলে তাকে জোর করেই বাড়ির ভিতরে নিয়ে আসেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, কর্মকর্তাকে বাড়িতে নেয়ার পর রিনাসহ অন্যদের ব্যবহার পরিবর্তন হয়ে যায়। তাকে তারা বলেন, যত সহজে আসছিস, তত সহজে যেতে পারবি না। ওই সময় কর্মকর্তা বাড়ি যেতে চাইলে তার কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করা হয়। কর্মকর্তা টাকা দিতে রাজি হননি। এতে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার হাত-পা বেঁধে তাকে মারধর করতে থাকেন অভিযুক্তরা। এ সময় কর্মকর্তার পকেটে থাকা নগদ পাঁচ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন তারা। পরে কর্মকর্তাকে বিবস্ত্র করে মোবাইল ফোনে ছবি তোলা হয়।

তাদের মারধরের শিকার হয়ে কর্মকর্তা তার এক সহকর্মীকে বলে তাদেরকে বিকাশের মাধ্যমে ১৫ হাজার ২০০ টাকা দেন। পরে অভিযুক্তরা আরও ৮৫ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে তারা মোত্তালিবের মোবাইলে থাকা একটি মেমোরি কার্ড, মানিব্যাগে থাকা একটি সাউথ-ইষ্ট ব্যাংক ও একটি ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম কার্ড কেড়ে নেন। সবশেষে বুধবার সন্ধ্যায় দুইটি ফাঁকা নন-জুডিসিয়াল ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে কর্মকর্তা ছেড়ে দেওয়া হয়।

নন্দীগ্রাম থানার ওসি মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন:
সিরাজগঞ্জে বজ্রপাতে ৫ জনের প্রাণহানি
নোয়াখালীতে বজ্রপাতে মৃত্যু হলো ৫ গরুর
বজ্রাঘাতে দুই জেলায় প্রাণ হারাল শিশুসহ ৫
মহেশখালীতে বজ্রাঘাতে কিশোরের মৃত্যু
তিন জেলায় বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন ৫ জন

শেয়ার করুন

প্ল্যাকার্ড হাতে বাবা হত্যার বিচার চাইল সন্তানেরা

প্ল্যাকার্ড হাতে বাবা হত্যার বিচার চাইল সন্তানেরা

ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হত্যার বিচার দাবিতে গ্রামবাসীর সঙ্গে মানবন্ধনে অংশ নেয় তার চার বছরের সন্তান শাফিন মাহমুদ সামী। ছবি: নিউজবাংলা

ফরিদপুরের মধুখালীতে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন মিয়ার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গ্রামবাসীদের সঙ্গে রাস্তায় মানববন্ধনে দাঁড়ায় তার চার বছর বয়সী ছেলে শাফিন মাহমুদ সামী ও ১৩ বছর বয়সী মেয়ে ঢাকার ভিকারুন্নেসা নুন স্কুলের ছাত্রী জান্নাতুল জাহান প্রীতি ও দশম শ্রেণির ছাত্রী মাহমুদা জাহান জ্যোতি ।

চার বছর আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত মাকে হারিয়েছে তিন সন্তান। বাবাই ছিল একমাত্র ভরসা। সেই বাবাও সন্ত্রাসমূলক কাজে বাধা দিতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হয়েছেন। বাবার খুনিদের বিচার চেয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় নেমে আসে তিন সন্তান।

ফরিদপুরের মধুখালীতে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন মিয়ার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গ্রামবাসীদের সঙ্গে রাস্তায় মানববন্ধনে দাঁড়ায় তার চার বছর বয়সী ছেলে শাফিন মাহমুদ সামী ও ১৩ বছর বয়সী মেয়ে ঢাকার ভিকারুন্নেসা নুন স্কুলের ছাত্রী জান্নাতুল জাহান প্রীতি ও দশম শ্রেণির ছাত্রী মাহমুদা জাহান জ্যোতি ।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে মধুখালীর মাকড়াইল বাজারের চৌরাস্তায় এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন মধুখালীর কামালদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুল বাশার, কামালদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. ইউনুস মিয়া, জাহাঙ্গীর হোসেনের বাবা হারুন-অর-রশিদ হিরু মিয়াসহ, বড় মেয়ে মাহমুদা জাহান জ্যোতিসহ অনেকে।

হিরু মিয়া বলেন, ‘১১ দিন আগে জাহাঙ্গীরকে হত্যার পর মামলা করলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।’

নিহতের মেয়ে মাহমুদা জাহান জ্যোতি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘আমার বাবা সারা জীবন সততার সঙ্গে জীবন পরিচালিত করেছেন। তিনি কারও ওপর কোনো অন্যায় আচরণ করেছেন বলে শুনিনি। গ্রামে মাদক, সন্ত্রাস ও ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় তাঁকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’

কামালদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুল বাশার বলেন, ‘এলাকার মাদক ব্যবসায়ী মামুন জাহাঙ্গীরকে হত্যা করেছেন। তিনি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। মাদক ব্যবসা ও নারী পাচারের সাথে জড়িত মামুন। জাহাঙ্গীরকে নির্মমভাবে হত্যার আগেও এলাকায় একাধিক অপকর্ম করেছেন মামুন। এলাকায় মামুনের একটি বাহিনী রয়েছে। মামুন ও তার বাহিনীর অত্যাচারে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।’

ইউপি চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘জাহাঙ্গীর হোসেনকে হত্যার আগের দিন তারা মেছোড়দিয়ায় তাঁর ভগ্নিপতির বাড়িতে বসে গোপন বৈঠক করেন। এরপর তারা পরিকল্পিতভাবে জাহাঙ্গীর হোসেনকে হত্যা করে। এর আগে এই মামুন ঢাকায় ব্যাংক ডাকাতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে জেলও খেটেছেন। র‌্যাবের হাতে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন। এখনও তিনি এলাকায় তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এসব অঘটন ঘটিয়ে চলেছেন।’

তিনি বলেন, ‘মামলা দায়েরের ১২ দিন পার হলেও আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আমি চাই জাহাঙ্গীর হোসেনের খুনিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক।’

এ ব্যাপারে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার তদন্তভার ও আসামিদের গ্রেফতারের বিষয়টি সিআইডি দেখছে। আমাদের সহায়তা চাইলে সর্বাত্মক সহায়তা করা হবে।

ফরিদপুরের সিআইডির পরিদর্শক আক্তারুজ্জামান মিনা বলেন, মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। আমরা সঠিক পথেই এগোচ্ছি। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, মধুখালী উপজেলার কামালদিয়া ইউনিয়নের মাকরাইল গ্রামের সম্ভ্রান্ত গৃহস্থ হারুনুর রশীদ হিরু মিয়ার বড় সন্তান জাহাঙ্গীর হোসেন (৫২)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকাতেই মোটর পার্টসের ব্যবসা করেছেন। তবে সাম্প্রতিক করোনাভাইরাস মহামারির কারণে তিনি ঢাকা থেকে নিজ গ্রাম মাকরাইলে ফিরে আসেন এবং মধুখালী বাজারে পার্টসের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেন।

তার স্ত্রী সাজেদা মাহমুদ বিথী ঢাকার ভিকারুন্নেসা স্কুলের ইংরেজির শিক্ষক ছিলেন। গত বছরের ৪ নভেম্বর সাজেদা মাহমুদ বিথী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

৫ জুন দুপুরে মধুখালী বাজার থেকে ভ্যানযোগে বাড়ি আসছিলেন জাহাঙ্গীর। মাকরাইল গ্রামের উত্তর পাড়া পৌঁছামাত্রই রাস্তার উপরে প্রকাশ্যে দিবালোকে মামুন ও তার লোকজন জাহাঙ্গীরের উপর হামলা চালিয়ে পৈশাচিকভাবে পিটিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে মৃত ভেবে ফেলে যায়।

পরে গ্রামের লোকজন তাকে উদ্ধার করে মধুখালী হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে সন্ধ্যায় ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত দেড়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জাহাঙ্গীর হোসেন।

এ ঘটনায় নিহতের পিতা হিরু মিয়া বাদী হয়ে ওয়ালিদ হাসান মামুনকে প্রধান আসামি এবং আরও কয়েকজনকে আসামি করে মধুখালী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
সিরাজগঞ্জে বজ্রপাতে ৫ জনের প্রাণহানি
নোয়াখালীতে বজ্রপাতে মৃত্যু হলো ৫ গরুর
বজ্রাঘাতে দুই জেলায় প্রাণ হারাল শিশুসহ ৫
মহেশখালীতে বজ্রাঘাতে কিশোরের মৃত্যু
তিন জেলায় বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন ৫ জন

শেয়ার করুন