করোনার ভারতীয় ধরন: ঝুঁকি অবৈধ যাতায়াত

করোনার ভারতীয় ধরন: ঝুঁকি অবৈধ যাতায়াত

স্থলবন্দর দিয়ে যারা ভারত থেকে দেশে ফিরছেন, সীমান্তে তাদের করোনা পরীক্ষা, কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু অবৈধ পথেও বিপুলসংখ্যক মানুষ যাওয়া-আসা করেন। তারাই তৈরি করেছেন ঝুঁকি। পশ্চিম সীমান্তের সব জায়গায় আবার নেই কাঁটাতারের বেড়া। সেসব এলাকা দিয়ে চলছে অবাধ যাতায়াত।

করোনার ভারতীয় ধরন নিয়ে যে উদ্বেগ সেটি ঠেকিয়ে রাখা গেল না। ভারত সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলা, বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে তা। যাদের মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে, তাদের বাড়ি সীমান্ত থেকে দূরে আর এদের কেউ সে দেশে যানওনি।

ভারত সীমান্ত বন্ধ এপ্রিলের ২৬ তারিখ থেকেই। এর পরও সে দেশ থেকে মানুষের আসা বন্ধ ছিল না। তবে বন্দরে নেয়া হয়েছে নানা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।

যারা এসেছেন, তাদের সীমান্তে করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। ১৪ দিন সেখানেই থাকতে হয়েছে কোয়ারেন্টিনে। এই সময়ে যাদের মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়নি, তারা ফিরতে পেরেছেন বাড়িতে। আর যাদের করোনা শনাক্ত হয়েছে, তাদের চিকিৎসা নিতে হয়েছে হাসপাতালে।

ভারতের সঙ্গে স্থল বন্দর আছে এই জেলারও। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ থেকে এই সোনামসজিদ বন্দর নিয়ে ৬০ থেকে ৭০ জন এসেছেন । আর সীমান্তে কোয়ারেন্টিনে থেকেই তারা ফিরতে পেরেছেন বাড়িতে।

এরপরেও কেন, কীভাবে ভাইরাস ছড়াল-সেটির জবাব একটি হতে পারে, অবৈধপথে আসা-যাওয়া।

চোরাচালান, বিশেষ করে গরু আনতে এই জেলা থেকে প্রায়ই ভারতে গোপনে যাওয়ার প্রবণতা আছে। করোনাকালেও এটি বন্ধ নেই। আর যারা যাওয়া-আসা করেন, তাদের তো আর কোয়ারেন্টিন বা করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। তারা ভারত থেকে এসে অবাধে মিশছেন সাধারণের সঙ্গে।

এটি কেবল এই জেলার সমস্যা না, ভারত সীমান্তবর্তী প্রতিটি জনপদেই এই চিত্র।

করোনার ভারতীয় ধরন: ঝুঁকি অবৈধ যাতায়াত

স্থলবন্দর ছাড়াই অবাধ যাতায়াত

কুড়িগ্রামের শিমুলতলা এলাকায় ১০২১ সীমান্ত পিলারসংলগ্ন কোনো কাঁটাতার নেই। কলসের আকৃতি মতোই এখানে ভারত-বাংলাদেশ আলাদা হয়েছে। এখানকার প্রায় আড়াই থেকে তিন কিলোমিটার এলাকা দিয়ে নানা সময়ই চলে যাতায়াত।

এই সীমান্তে ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবড়ি জেলার গোপালগঞ্জ থানার ফাইসার কুটি গ্রাম এবং বাংলাদেশের কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার ইউনিয়নের ছোট খামার গ্রাম।

ভারতের নাগরিকরা প্রায়ই বাংলাদেশে এসে হাটবাজার করে থাকেন। এই দুই গ্রামের মানুষেরা গরু-ছাগলকে ঘাস খাওয়ানোসহ বিভিন্ন কাজে প্রতিবেশীর মতোই চলাফেরা করে থাকেন।

কাঁটাতারহীন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা পাথরডুবি ইউনিয়নের বাঁশজানি গ্রামেও একই অবস্থা। এখানে ভারত-বাংলাদেশের ঘর দেখে বোঝার উপায় নেই এগুলো কোন দেশের বাসিন্দার বসত।

বিএসএফ পাহারা আর সীমান্ত পিলার দিয়েই দুই দেশকে ভাগ করা হয়েছে। এই এলাকায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার দীঘলটারী গ্রাম।

এই সীমান্তে এমন চিত্র দেখা যায়, যেখানে দুটি পুকুরের মাঝের পার দিয়ে দেশ ভাগ হয়ে গেছে। বিজিবি-বিএসএফের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবাধে চলাফেরা করেন দুই দেশের নাগরিকরা।

করোনার ভারতীয় ধরন: ঝুঁকি অবৈধ যাতায়াত

জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে সাতটি উপজেলার সঙ্গে ভারতের তিনটি রাজ্যের সীমান্ত রয়েছে ২৭৮ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ৩২ কিলোমিটার সীমান্তে নেই কাঁটাতার। এ ছাড়া নদীপথ রয়েছে ৩১৬ কিলোমিটার।

এর মধ্যে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম রাজ্যের সীমানায় কুড়িগ্রাম-২২ বিজিবির অধীনে ১৯৮ কিলোমিটার সীমান্ত।

জামালপুর-৩৫ বিজিবির আওতায় সীমানা প্রায় সাড়ে ৪৬ কিলোমিটার কাঁটাতার। আর ওপারে ভারতের আসাম ও মেঘালয় রাজ্য।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সীমানায় লালমনিরহাট-১৫ বিজিবির অধীনে ৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত। এসব সীমন্তের বেশ কিছু পয়েন্ট দিয়ে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে গরু, মাদকসহ চোরাচালান এবং অবৈধভাবে অনুপ্রবেশেরও ঘটনা ঘটছে।

কাঁটাতারবেষ্টিত ভারতের অভ্যন্তরে বাসিন্দাদের কৃষিকাজের জন্য বিএসএফ গেট খুলে দেয়ায় নো-ম্যানস ল্যান্ডে এসে চাষাবাদ করছেন সেখানকার কৃষকেরা। প্রায় সময় দুই রাষ্ট্রের সীমান্তরক্ষীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা মেলামেশাও করে থাকেন।

করোনা দুর্যোগের মধ্যে সীমান্ত এলাকায় বেড়াতে এসে কাঁটাতার ঘেঁষে সেলফি তুলতে দেখা যাচ্ছে।

ছোট খামার গ্রামের বাসিন্দা শমসের আলী বলেন, ‘এখানে কোনো কাঁটাতার নাই। আমরা দুই রাষ্ট্রের মানুষ হলেও প্রতিবেশীর মতোই বসবাস।’

একই এলাকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শুধুমাত্র পিলার দিয়েই ভারত-বাংলাদেশ বোঝানো হয়েছে। গরু-ছাগলকে ঘাস খাওয়াতে গেলে মাঝেমধ্যে তাদের গ্রামে যান বাংলাদেশিরা। তারাও আসেন বাজারহাট করতে।’

‘ভারতে যেভাবে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে তাতে আমরা চিন্তিত। কখন যে কীভাবে এখানে ভাইরাস আসে বলা মুশকিল’-বলেন তিনি।

করোনার ভারতীয় ধরন: ঝুঁকি অবৈধ যাতায়াত

বাঁশজানি গ্রামের বাসিন্দা মো. শামীম বলেন, ‘এই গ্রামে ঘরবাড়ি দেখে বোঝার উপায় নেই কোনটা ভারত-বাংলাদেশ। পুকুরের পাড় দিয়েও দুই দেশকে ভাগ করা হয়েছে।’

আজগর আলী বলেন, ‘যেখানে কাঁটাতার দিয়েই গরু, মাদক পাচার হয়, সেখানে কাঁটাতার না থাকলে কী হয় সবাই বুঝতে পারে।

‘বিএসএফ কাঁটাতারের গেট খুলে দিলে ওখানকার কৃষক এসে আবাদ করেন। মাঝেমধ্যে গরু-ছাগল আসলে তারা অনায়াসে এসে নিয়ে যান। যাদের আত্মীয়-স্বজন রয়েছে তারা প্রায় সময় বেড়াতে আসেন।’

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন হাবিবুর রহমান বলেন, সীমান্তবর্তী এবং বৃহৎ নদ-নদীময় জেলা হওয়ায় এখানে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

কুড়িগ্রাম-২২ ব্যাটালিয়ন (বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জামাল হোসেন বলেন, ‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট কিংবা করোনার প্রভাব বিস্তারসহ চোরাচালান এবং অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি টহল জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে বিজিবি।

আরও পড়ুন:
উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৮৯
সীমান্তে গ্রেপ্তার নারী করোনা পজিটিভ
বগুড়ায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর দোকানপাট বন্ধ
বাংলাদেশের পথে যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি কোভিড উপকরণ
করোনা শনাক্ত কমলেও মৃত্যু বেড়ে ৪৩

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নবীনগর হেফাজতের সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার

নবীনগর হেফাজতের সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগরের হেফাজতে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কাইয়ূম ফারুকী।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‌‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের চালানো তাণ্ডবের ঘটনায় তিনি প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। এ কারণে শনিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগরের হেফাজতে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কাইয়ূম ফারুকীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জেলা শহরের কান্দিপাড়া থেকে শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‌‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের চালানো তাণ্ডবের ঘটনায় তিনি প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। এ কারণে শনিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় জেলা সদরে ৪৯টি, আশুগঞ্জে ৪, সরাইলে ২ ও আখাউড়া রেলওয়ে থানায় ১টি মামলা হয়।

এসব মামলায় ৪১৪ জনের নামে ও অজ্ঞাতপরিচয় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার লোককে আসামি করা হয়। এ পর্যন্ত আবদুল কাইয়ূম ফারুকীকে নিয়ে ৫৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ বছর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত জেলায় ব্যাপক ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালায়।

এ সময় হামলাকারীরা সরকারি, বেসরকারি অর্ধশতাধিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।

আরও পড়ুন:
উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৮৯
সীমান্তে গ্রেপ্তার নারী করোনা পজিটিভ
বগুড়ায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর দোকানপাট বন্ধ
বাংলাদেশের পথে যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি কোভিড উপকরণ
করোনা শনাক্ত কমলেও মৃত্যু বেড়ে ৪৩

শেয়ার করুন

গৃহবধূ ধর্ষণের মামলায় দুই ভাই গ্রেপ্তার

গৃহবধূ ধর্ষণের মামলায় দুই ভাই গ্রেপ্তার

প্রতীকী ছবি

ওই নারীর স্বামী বিদেশে থাকেন। সেই সুযোগে ওই নারীর ভাশুর গত বছরের ২১ জুন তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরে ঘটনাটি পারিবারিকভাবে ধামাচাপা দেয়া হয়। চলতি বছরের ১০ মে রাতে ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণ করেন তার দেবর। এরপর ৭ জুন রাতে ওই ব্যক্তি আবার ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তখন বাধা দেয়ায় ওই ব্যক্তি তাকে মারধর করেন।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টার ও ধর্ষণ মামলায় দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা ওই নারীর দেবর ও ভাশুর।

উপজেলার একটি এলাকা থেকে শনিবার রাত ১১টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে রাত ৮টার দিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দুটি মামলা করেন ওই নারী।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ জানান, ওই গৃহবধূর করা ধর্ষণচেষ্টা মামলায় তার ভাশুরকে ও ধর্ষণ মামলায় দেবরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের রোববার আদালতে পাঠানো হবে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ওই নারীর স্বামী বিদেশে থাকেন। সেই সুযোগে ওই নারীর ভাশুর গত বছরের ২১ জুন তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরে ঘটনাটি পারিবারিকভাবে ধামাচাপা দেয়া হয়।

চলতি বছরের ১০ মে রাতে ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণ করেন তার দেবর। এরপর ৭ জুন রাতে ওই ব্যক্তি আবার ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তখন বাধা দেয়ায় ওই ব্যক্তি তাকে মারধর করেন। পরদিন ওই নারী তার বাবার বাড়ি চলে যান। এরপর শনিবার রাতে তিনি রূপগঞ্জ থানায় তার ভাশুর ও দেবরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালায়। রাত ১১টার পর অভিযুক্ত দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৮৯
সীমান্তে গ্রেপ্তার নারী করোনা পজিটিভ
বগুড়ায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর দোকানপাট বন্ধ
বাংলাদেশের পথে যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি কোভিড উপকরণ
করোনা শনাক্ত কমলেও মৃত্যু বেড়ে ৪৩

শেয়ার করুন

বাসের ধাক্কায় লরি উল্টে আগুন, পুড়ল ২ জন

বাসের ধাক্কায় লরি উল্টে আগুন, পুড়ল ২ জন

বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর পুড়ে যাওয়া লরির এই ছবি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে নেয়া

ঘটনাটি শনিবার রাত ৩টার দিকের। বঙ্গবন্ধু সেতুর ১৯ নম্বর পিলারের কাছে উত্তরবঙ্গগামী লেনে শ্যামলী পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস একটি লরিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। লরিটি উল্টে পড়ে গেলে আগুন ধরে যায়। এতে লরিতে থাকা দুইজন পুড়ে মারা যান।    

টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর বাসের ধাক্কায় উল্টে যাওয়া লরিতে আগুন লাগায় দুইজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন সাতজন।

দুর্ঘটনার পর থেকে সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই পারে যানজট লেগে যায়।

দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন মো. মজনু ও নজরুল ইসলাম। তাদের বাড়ি নীলফামারীর ডিমলায়।

তথ্যগুলো নিশ্চিত করেছেন বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, ঘটনাটি শনিবার রাত ৩টার দিকের। বঙ্গবন্ধু সেতুর ১৯ নম্বর পিলারের কাছে উত্তরবঙ্গগামী লেনে শ্যামলী পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস একটি লরিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। লরিটি উল্টে পড়ে গেলে আগুন ধরে যায়। এতে লরিতে থাকা দুইজন পুড়ে মারা যান।

এ ঘটনায় আহত হন বাসের সাত আরোহী। তাদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুড়ে যাওয়া মরদেহ দুটি সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক আরিফুল রহমান জানান, দুর্ঘটনায় কবলিত পরিবহন দুটি সরানোর পর সেতুর ওপর দিয়ে ভোর থেকে যান চলাচল শুরু হয়।

তবে সকাল ৮টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম টোল প্লাজা থেকে কড্ডার মোড় পর্যন্ত মহাসড়কে এক লেনে গাড়ির চাপ রয়েছে বলে জানান এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ইয়াসির আরাফাত।

আরও পড়ুন:
উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৮৯
সীমান্তে গ্রেপ্তার নারী করোনা পজিটিভ
বগুড়ায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর দোকানপাট বন্ধ
বাংলাদেশের পথে যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি কোভিড উপকরণ
করোনা শনাক্ত কমলেও মৃত্যু বেড়ে ৪৩

শেয়ার করুন

রাজশাহীতে আরও ২৮২ জনের করোনা শনাক্ত

রাজশাহীতে আরও ২৮২ জনের করোনা শনাক্ত

করোনা পরীক্ষার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে। ছবি: নিউজবাংলা

শনিবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় ২৩০ জনের করোনা পজিটিভ হয়। আর অ্যান্টিজেন টেস্টে করোনা ধরা পড়ে ৫২ জনের।

রাজশাহীতে এক দিনে আরও ২৮২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

শনিবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় ২৩০ জনের করোনা পজিটিভ হয়। আর অ্যান্টিজেন টেস্টে করোনা ধরা পড়ে ৫২ জনের।

এর মধ্যে রাজশাহীর দুই পিসিআর ল্যাবে ৬৫৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনিবার রাতে এ ফল প্রকাশ করা হয়।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ল্যাব ইনচার্জ ডা. সাবেরা গুলনাহার জানান, শনিবার ল্যাবে মোট ৪৬৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২২ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। এখানে রাজশাহীর ১৫৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে করোনা শনাক্ত হয় ৭৫ জনের। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৫৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ ২৬, নওগাঁর চারজনের নমুনা পরীক্ষায় দুইজনের পজিটিভ, নাটোরের ১৫০ জনের নমুনা করে ১৯ জনের করোনা ধরা পড়েছে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, শুক্রবার হাসপাতাল ল্যাবে ১৮২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১০৮ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে।

শনিবার নগরীতে ৫৫৯ জনের অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, বক্ষব্যাধি হাসপাতালের জিন এক্সপার্ট ও নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে অ্যান্টিজেন টেস্টে ৩০৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়।

করোনার উচ্চ সংক্রমণ ঠেকাতে শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে শুরু হওয়া সর্বাত্মক লকডাউনে অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে রাজশাহী শহর।

আরও পড়ুন:
উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৮৯
সীমান্তে গ্রেপ্তার নারী করোনা পজিটিভ
বগুড়ায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর দোকানপাট বন্ধ
বাংলাদেশের পথে যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি কোভিড উপকরণ
করোনা শনাক্ত কমলেও মৃত্যু বেড়ে ৪৩

শেয়ার করুন

টিকা নেয়ায় কম ঝুঁকিতে চিকিৎসকরা

টিকা নেয়ায় কম ঝুঁকিতে চিকিৎসকরা

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় রোগীর চাপ বাড়ছে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ছবি: নিউজবাংলা

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘করোনা মহামারির শুরুতে বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক আক্রান্ত হন। হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম পড়ে ঝুঁকির মুখে। তবে এবার চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা আক্রান্ত কম হচ্ছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, তারা ভালো থাকার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণ।’

সীমান্তবর্তী রাজশাহী এখন করোনাভাইরাস সংক্রমণের হটস্পট। প্রতিদিনই হু হু করে বাড়ছে রোগী। দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর তালিকা। তবে ভ্যাকসিন নেয়ায় চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘করোনা মহামারির শুরুতে রাজশাহীর বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক আক্রান্ত হন। হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম পড়ে ঝুঁকির মুখে। তবে এবার চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা আক্রান্ত কম হচ্ছেন। এখন পর্যন্ত আমরা রোগীদের ভালোভাবেই সেবা দিতে পারছি। আগের বছরের মত পরিস্থিতি খারাপ হলে এত রোগী সামলানো কঠিন হয়ে যেত। চিকিৎসকরা বলছেন, তারা ভালো থাকার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণ।’

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, করোনার প্রথম ঢেউ আসার পরই গত বছর একের পর এক চিকিৎসক আক্রান্ত হতে থাকেন। নার্স, আয়াসহ দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীরাও আক্রান্ত হন। তখন সেবা কার্যক্রম পড়ে ঝুঁকির মুখে। প্রথম ঢেউয়ে রাজশাহীতে চিকিৎসায় জড়িত ৬১২ জন করোনায় আক্রান্ত হন। এর মধ্যে চিকিৎসক ছিলেন ২৩২ জন, নার্স ২৬২ জন। হাসপাতালের কর্মচারী আক্রান্ত হন ১১৮ জন।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় ঢেউয়ে সাধারণ মানুষের সংক্রমণ ও মৃত্যু অনেক বেড়ে গেলেও চিকিৎসাসংশ্লিষ্টরা অনেকটা ঝুঁকি মুক্ত আছেন। এবার এখন পর্যন্ত এক চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন। আর নার্স আক্রান্ত হয়েছেন ২০ জন। তবে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আব্দুল হান্নান করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৭ মার্চ মারা যান। তারপর আর কেউ আক্রান্ত হননি।

ডা. সাইফুল বলেন, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত আছেন ২৫৮ জন চিকিৎসক ও নার্স ৪৫২ জন। আর হাসপাতালে দৈনিক মজুরীভিত্তিক কর্মচারী ২১৬ জন। তারা নিয়মিত সেবা দিচ্ছেন।

ব্রিগেডিয়ার শামীম ইয়াজদানী বলেন, হাসপাতালের ১০টি ওয়ার্ড নিয়ে করোনা ইউনিট গঠন করা হয়েছে। এখানে বেড রয়েছে ২৭১টি। কয়েকদিন ধরেই রোগীর সংখ্যা বেশি। সবশেষ শনিবার সকালে এখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন ২৮৯ জন।

তিনি জানান, যারা করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসা দিচ্ছেন তারা ১৪ দিন পর পর কোয়ারেন্টিনে থাকছেন। কোয়ারেন্টিইন থেকে আবার চিকিৎসার কাজে যোগ দিচ্ছেন। চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী সবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী বলেন, দ্বিতীয় ঢেউয়ে চিকিৎসা সম্পৃক্তরা করোনায় কম আক্রান্ত হওয়ার কারণ ভ্যাকসিন গ্রহণ। এখানকার ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারীরা দুই ডোজ করে ভ্যাকসিন নিয়েছেন। এ কারণে তাদের আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কম। তাছাড়া, যে কয়জন নার্স আক্রান্ত হয়েছেন তাদের উপসর্গ উল্লেখযোগ্য নয়।

রাজশাহীতে ঈদের পর থেকেই বাড়তে শুরু করে করোনা রোগী। বিভিন্ন উপজেলার পাশাপাশি আশপাশের জেলাগুলোতেও রোগী বাড়ছে। করোনা শনাক্ত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাপ বেড়েছে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ওয়ার্ড একের পর এক করোনা ওয়ার্ডে রূপান্তর করা হয়।

এদিকে, করোনার উচ্চ সংক্রমণ ঠেকাতে শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে রাজশাহী শহরে সর্বাত্মক লকডাউন চলছে। স্থানীয় প্রশাসন আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করে। জেলা প্রশাসনের চার জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত শহরে কাজ করছে।

আরও পড়ুন:
উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৮৯
সীমান্তে গ্রেপ্তার নারী করোনা পজিটিভ
বগুড়ায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর দোকানপাট বন্ধ
বাংলাদেশের পথে যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি কোভিড উপকরণ
করোনা শনাক্ত কমলেও মৃত্যু বেড়ে ৪৩

শেয়ার করুন

মা গোয়ালঘরে, প্রতিবন্ধী ছেলে অন্যের আশ্রয়ে

মা গোয়ালঘরে, প্রতিবন্ধী ছেলে অন্যের আশ্রয়ে

ছামছুন্নাহার বেগমের ভাঙাচোরা গোয়ালঘর। ছবি: নিউজবাংলা

গ্রামবাসী জানান, বৃদ্ধ ছামছুন্নাহার বেগমের কোনো জায়গা নেই। অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে চলে তার সংসার। স্বামী আবদুল রশিদ মিয়ার মৃত্যুর পর শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলে জাহিদুলকে নিয়ে তার সংসার।

জন্ম থেকেই জাহিদুল ইসলামের দুই পা ও এক হাত অসাড়। তিনি না পারেন দাঁড়াতে, না পারেন কোনো কাজ করতে। চলাফেরাও করতে হয় এক হাতের ওপর ভর করে। ৫০ বছর বয়সী জাহিদুলের নিজের ঘর না থাকায় আশ্রয় হয়েছে ভাইয়ের বাড়ির এক কোণে।

জাহিদুলের মতোই অবস্থা তার বৃদ্ধ মা ছামছুন্নাহার বেগমের। বছর পাঁচেক আগে হারিয়েছেন স্বামীকে। বাসযোগ্য ঘর না থাকায় তার রাত কাটে গোয়ালঘরে; গবাদিপশুর সঙ্গে।

সেই ঘরটিও ভাঙা; টিনে ধরেছে মরিচা। ঘরটির কোথাও জোড়াতালির টিন; আবার কোথাও পাটকাঠির বেড়া। কোথাও সুপারিগাছের ছোবলা।

গত তিন মাস আগে ঝোড়ো বাতাসে এই গোয়ালঘরটিও ভেঙে পড়ে। এরপর তার আশ্রয় হয় প্রতিবেশীর গোয়ালঘরে। মায়ের নিদারুণ কষ্ট দেখে মেয়ে জমিলা বেগম চড়া সুদে দাদনের টাকা নিয়ে ঘরটি মেরামত করে দিয়েছিলেন।

মেরামতের পরও যে ঘরের বিশেষ উন্নতি হয়েছে তা নয়। চারপাশের খুঁটি-বেড়া এখনও নড়বড়ে। জানালাগুলো খোলা। ভেঙে পড়ে আছে দরজার কাঠের পাল্লা। মরিচা ধরা টিনের ফুটো দিয়ে চাঁদের ও সূর্যের আলোর পাশাপাশি বৃষ্টির পানিও ঢুকে অনায়াসে। বেড়ার ফাঁক দিয়ে ইচ্ছা হলেই ঢুকে পড়ে শিয়াল, কুকুর আর বিড়াল।

অথচ দাদনের টাকার চিন্তায় এখন নির্ঘুম রাত কাটে মা-মেয়ের।

বলছিলাম গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার উত্তর দামোদরপুর গ্রামের বৃদ্ধ ছামছুন্নাহার বেগম ও তার ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী জাহিদুল ইসলামের কথা।

মা গোয়ালঘরে, প্রতিবন্ধী ছেলে অন্যের আশ্রয়ে
বৃদ্ধ ছামছুন্নাহার বেগম

গ্রামবাসী জানান, বৃদ্ধ ছামছুন্নাহার বেগমের কোনো জায়গা নেই। অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে চলে তার সংসার। স্বামী আবদুল রশিদ মিয়ার মৃত্যুর পর শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলে জাহিদুলকে নিয়ে তার সংসার। কিন্তু ছামছুন্নাহার বয়সের ভারে ন্যুব্জ। বয়স ৭০ ছুঁইছুঁই। নিজেই চলতে পারেন না। কানেও খুব কম শোনেন। তাই ছেলেকে পাঠিয়েছেন বড় ছেলে কৃষক সফিকুল ইসলামের বাড়িতে। সেখানে একটি ঘরে কোনোমতে মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে তার।

অথচ একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড ও একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড ছাড়া কিছুই জোটেনি তাদের। না পেয়েছেন সরকারি একটি ঘর, না কোনো সহায়তা। এখন তাদের দিন কাটে অর্ধাহারে-অনাহারে।

ছামছুন্নাহার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হ, ভাঙিচুরি গেছিল ঘর। মানষের গোলত (গোয়ালঘর) আছনো। বেটি সুদের টেকা নিয়ে ঘর তুলি দিছি। তাও ঘরত বিলেই (বিড়াল) সানদায় (ঢোকে), শিয়েল (শিয়াল) সানদায়; গাড়োয়া (বেজি) সানদায়। হাঁস-চড়াই থুবের পাই নে।

‘মানষের বাত (বাড়ি) করি-ধরি খাই। ভাত পাই নে; কাপড় পাই নে। ভালোয় কষ্টত আছি। অসুখ! মাঝেমধ্যি পড়ি থাকি। অসুদ (ওষধ) পাই নে। বেটাঘরে (ছেলে) চলে না; তামরা কী দিয়ে আনি দেয়। নিজে কষ্ট করি খাই; চলি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বেটাটাকও ভাত দিবের পাই নে। হামি অচল; অসুখ। নিজে চলবের পাই নে। কী করি পালি। পতিবন্দি (প্রতিবন্ধী) বেটাটা আরাক ভাতত থাকে; ভাইয়ের ওটি। তারও চলে না। যন্তনা; ওংকরি চলা নাগে। কষ্ট; খুবই কষ্ট বাবা!’

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মায়ের তো ঘর-দুয়ের নাই। থাকার বুদ্ধি নাই। কুত্তে-শিয়েল সানদায় ঘরত। ভাঙা ঘর তুলি থাকে তাই (ছামছুন্নাহার)। হামি আচ্চি ভাইয়ের বাড়িত।

‘মাও হামার বিদুয়ে (বিধবা) মানুষ। চলবের পায় না। অচল; কাজকাম করবের পায় না। কানে শোনে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘মায়ের এনা ঘর-দুয়েরের আবদার করবের নাকছি। থাকার ব্যবস্থাটা করি দেন। তালি মাও-বেটা একঠাই থাককের পামো।’

ছামছুন্নাহারের পুত্রবধূ হাসিনা বেগম বলেন, ‘শ্বশুর তো মারা গেছি অনেক আগে। শউড়ি (শাশুড়ি) এনা মানষের বাত কাম-কাজ করি খায়। বেটাঘরে (ছেলেদের) নাই; তামরা কী দেয়। একটা বেটার অসুখ; তাইও কাজকাম করবের পায় না। আরেকজন প্রতিবন্ধী। কীভাবে চলে।

‘তার একনা ঘর আছিল, সেকনাও তুবেনে (তুফান) পড়ি গেছি। কতদিন থাকি গোলত থাকে। ননদে (ননদ) নাগানি (দাদন) টেকা নিয়ে পুরেনা টিন দিয়ে কোনো রকম চাল কোনা করি দিছে। তার বেড়া-টাটি নাই; ভাঙা-চুরে। কুত্তে সানদায়; শিয়েল সানদায়।’

মা গোয়ালঘরে, প্রতিবন্ধী ছেলে অন্যের আশ্রয়ে

প্রতিবেশী সায়দার রহমান বলেন, ‘তিনটে বেটা। দুটে তো গরিব; একটা প্রতিবন্ধী। তার তো চলি খাওয়ার মতো বুদ্ধি নাই। চাচিও তো ঠসা মানুষ। কষ্টের মধ্যে করি-মিলি খাচ্ছে।’

সাদুল্লাপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও দামোদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম স্বাধীন বলেন, ‘গোয়ালঘরে বৃদ্ধার বসবাসের সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে খ-শ্রেণিভুক্ত ঘরের আওতায় আনা হবে।

সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নবীনেওয়াজ বলেন, ছামছুন্নাহার ও তার ছেলের ভাতার কার্ড দেয়া হয়েছে। দ্রুত তার বাড়ি পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৮৯
সীমান্তে গ্রেপ্তার নারী করোনা পজিটিভ
বগুড়ায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর দোকানপাট বন্ধ
বাংলাদেশের পথে যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি কোভিড উপকরণ
করোনা শনাক্ত কমলেও মৃত্যু বেড়ে ৪৩

শেয়ার করুন

স্ত্রী-শ্যালিকাকে ভারতে ‘পাচার’, গ্রেপ্তার ২

স্ত্রী-শ্যালিকাকে ভারতে ‘পাচার’, গ্রেপ্তার ২

স্ত্রী ও শ্যালিকাকে পাচারের অভিযোগে মামলায় ইউসুফ মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে সহযোগী রব্বিল শেখসহ গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। ছবি:নিউজবাংলা

র‍্যাব-১৪ এর অধিনায়ক আবু নাঈম মো. তালাত বলেন, সম্প্রতি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর গ্রামের এক তরুণীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেন ইউসুফ। কিছুদিন পর মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে শ্যালিকাসহ স্ত্রীকে ভারতে পাচার করেন তিনি। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন রব্বিল।

স্ত্রী ও শ্যালিকাকে ভারতে পাচারের অভিযোগে করা মামলায় ইউসুফ মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বালিহাটা কান্দাবাড়ি গ্রাম থেকে ইউসুফকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার সহযোগী রব্বিল শেখ গ্রেপ্তার হন গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে।

ইউসুফ ঈশ্বরগঞ্জের বালিহাটা কান্দাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। রব্বিলের বাড়ি নড়াইলের কালিয়ার পেড়লী গ্রামে।

শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহ র‍্যাব-১৪ এসব তথ্য জানায়।

র‍্যাব-১৪ এর অধিনায়ক আবু নাঈম মো. তালাত বলেন,‘সম্প্রতি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর গ্রামের এক তরুণীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেন ইউসুফ। কিছুদিন পর মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে শ্যালিকাসহ স্ত্রীকে ভারতে পাচার করেন তিনি। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন রব্বিল।’

তিনি আরও জানান, শ্রীপুর থানায় মেয়ে দুইটির বাবা পাচারের অভিযোগ দেন। ৫ জুন তা মামলা হিসেবে নথিবদ্ধ করা হয়। মামলার ছায়া তদন্তের মাধ্যমে পাচার চক্রে জড়িত ইউসুফকে বাড়ি থেকে এবং সহযোগী রব্বিলকে শ্রীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে দুই লাখ ২৪ হাজার টাকাসহ স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে।

র‍্যাব কর্মকর্তা নাঈম জানান, মানবপাচার চক্রটি ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভারতে দীর্ঘদিন ধরে নারী পাচার করে আসছে। চক্রের অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আবু নাঈম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পাচারকারী চক্রের হাত থেকে কৌশলে পালিয়ে হাওড়া স্টেশন এলাকায় পুলিশের হাতে আটক হন ছোট বোন। পুলিশ তাকে কলকাতার শিয়ালদহ এলাকায় ভারত সরকার পরিচালিত সেফ হোম রাখে। এছাড়া বড় বোন ভারতের বোঝাপড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় বিএসএফের হাতে আটক হন। বিএসএফ তাকে ভারতীয় পুলিশের হাতে তুলে দেয়। দুই বোনই বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে সেফ হোমে আছেন। তাদেরকে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চলছে।’

আরও পড়ুন:
উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৮৯
সীমান্তে গ্রেপ্তার নারী করোনা পজিটিভ
বগুড়ায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর দোকানপাট বন্ধ
বাংলাদেশের পথে যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি কোভিড উপকরণ
করোনা শনাক্ত কমলেও মৃত্যু বেড়ে ৪৩

শেয়ার করুন