বরগুনায় ইউপি নির্বাচন: ‘ঝিমিয়ে’ পড়েছেন প্রার্থীরাও

বরগুনায় ইউপি নির্বাচন স্থগিতের আগে জমজমাট ছিল ভোটের প্রচার। ছবি: নিউজবাংলা

বরগুনায় ইউপি নির্বাচন: ‘ঝিমিয়ে’ পড়েছেন প্রার্থীরাও

ভোটাররা বলছেন, স্থগিত হওয়ার পর তাদের ভোট নিয়ে তেমন উৎসাহ নেই। পরিবেশ পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে আসবেন। আর প্রার্থীদের অবস্থা কোনোমতে ভোট হলেই বেঁচে যান। কারণ ভোট স্থগিত হওয়ার আগে প্রচারে অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে। নতুন করে আর খরচ করার সামর্থ্য নেই।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে স্থগিত করা হয়েছিল প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন। ২১ জুন ভোটের নতুন তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে বরগুনার ২৯টি ইউনিয়নে মেলেনি নির্বাচনি আমেজ।

নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের যেমন আগ্রহ নেই, প্রার্থীরাও যেন ঝিমিয়ে পড়েছেন।

ভোটাররা বলছেন, স্থগিত হওয়ার পর তাদের ভোট নিয়ে তেমন উৎসাহ নেই। পরিবেশ পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে আসবেন।

আর প্রার্থীদের অবস্থা কোনোমতে ভোট হলেই বেঁচে যান। কারণ ভোট স্থগিত হওয়ার আগে প্রচারে অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে। নতুন করে আর খরচ করার সামর্থ্য নেই।

করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় নির্বাচন কমিশন ১ এপ্রিল ৩৭১ ইউপি, ১১ পৌরসভাসহ লক্ষ্মীপুর-২ আসনে নির্বাচন স্থগিত করে। ২ জুন নতুন করে আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ ঘোষণা করে।

বরগুনায় ইউপি নির্বাচন: ‘ঝিমিয়ে’ পড়েছেন প্রার্থীরাও
দিনভর প্রচারের পাশাপাশি রাতেও চলে সভা

প্রথম পর্যায়ের ইউপি নির্বাচনে বরগুনা জেলায় ২৯ ইউনিয়নে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। মনোনয়নপত্র জমা দেন ১ হাজার ৬১২ জন।

এর মধ্যে বরগুনা সদর উপজেলার নয় ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৪২, আমতলীর ছয় ইউনিয়নে ৫১, বেতাগীর সাত ইউনিয়নে ২৮, পাথরঘাটার তিন ইউনিয়নে ২৭, বামনার চার ইউনিয়নে ২১ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৩৪৬ এবং সাধারণ সদস্যপদে ১০৭৯ জন প্রার্থী হন।

তফসিল অনুযায়ী, বরগুনায় ভোটের তারিখ ছিল ১১ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দের পরপরই প্রার্থীরা নেমে পড়েন আটঘাট বেঁধে। ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণে চলে বাহারি প্রচার, মাইকিং, উঠান বৈঠক ও পথসভা।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও সমর্থকের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। সহিংসতায় আহত হন শতাধিক ব্যক্তি। মামলা হয় অর্ধশতাধিক।

এমন পরিস্থিতিতে করোনার কারণে ১ এপ্রিল ভোট স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। এরপরই রণে ভঙ্গ হয় প্রচারে, ঝিমিয়ে পড়েন প্রার্থী সমর্থক ও ভোটাররা। প্রার্থীরা বলছেন, ভোট স্থগিতে নির্বাচনি আমেজে ছেদ পড়েছে।

বরগুনা সদর উপজেলার ১ নম্বর বদরখালী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইলিয়াস শরীফ স্বপন জানান, নির্বাচনে একটা গতি ছিল। ভোটারদেরও সাড়া ছিল। কিন্তু ফের তারিখ ঘোষণার পর আর সেই আমেজ নেই।

তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমাদের পোস্টার, ব্যানার, লিফলেটগুলো নষ্ট হয়ে গিয়েছে। নতুন করে সেগুলো করতে আবার খরচ বাড়বে। এখন কেবল ভোট গ্রহণের দিনের অপেক্ষায় আছি।’

একই বক্তব্য সদরের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জাফরের। তিনি বলেন, ‘অনেক কষ্টে মাঠ গুছিয়েছিলাম, কিন্তু সব এলোমেলো হয়েছে। নতুন করে শুরু করতে হবে। কিন্তু আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন ভোটাররা।

পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী গোলাম নাসির বলেন, ‘নির্বাচন বন্ধ ঘোষণার পরও আমি মাঠ ছাড়িনি। ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছি। তাদের খোঁজখবর করেছি। নতুন করে তারিখ ঘোষণায় আবারও পুরোদমে প্রচার শুরু করব।’

বেতগী সদর ইউনিয়নের ভোটার আবদুল হক বলেন, ‘ইলিকশনডা মোগে দারে একটা উস্টুমের নাহান (উৎসবের মতো)। ভোট অইবোনা হুইন্না মনডা এক্কেরে কেমন জানি হইয়া গ্যাছে। এহন আবার ইলিকশনের তারিখ দেছে সরকার। কিন্তু আগেন নাহান আর মজা পাইতেছি না।’

জেলার নির্বাচন কর্মকর্তা দীলিপ কুমার বলেন, ‘তারিখ ঘোষণা হলেও নতুন দিকনির্দেশনা আসেনি। প্রচারের ধরন কী হবে, প্রার্থীদের করণীয় কী, এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা পাওয়ার পর আমরা সে অনুসারে কাজ শুরু করব।’

ইয়াসেও চুপ ছিলেন প্রার্থীরা

সম্প্রতি ভারতে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে বরগুনায় ভালোই ক্ষয়ক্ষতি হয়। জোয়ারের পানিতে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা ভোটারদের পাশে থাকার কথা বললেও দুর্যোগের সময় বরগুনাবাসী তাদের পাশে পাননি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক ভোটার।

দেড় হাজারের বেশি প্রার্থীর মধ্যে গুটি কয়েকজনকে দুর্যোগকবলিত মানুষদের পাশে দেখা গেছে। তাদের একটি বড় অংশই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় বড় বড় কথা বললেও নতুন প্রার্থীদের অনেকেই খরচের ভয়ে ইয়াসের সময় চুপ ছিলেন। তারা মানুষের পাশে ছিলেন না। খোঁজও নেননি।

আরও পড়ুন:
ঢাকা, কুমিল্লা, সিলেটে উপনির্বাচন ১৪ জুলাই
সিলেট-৩ আসন: আওয়ামী লীগের ‘হকল খাড়া’
ইউপি নির্বাচন নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, নিহত ২
চার আসনে উপনির্বাচন জুলাইয়ে
শেখ হাসিনার শুভেচ্ছাবার্তায় আপ্লুত মমতার চিঠি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বাসচাপায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর

বাসচাপায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর

সাভারে বাসচাপায় এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

সাভারে বাসচাপায় মৃত্যু হয়েছে এক বাইকচালকের। আশুলিয়ায় রাস্তা পার হওয়ার সময় প্রাণ গেছে গৃহপরিচারিকার।

সাভারে বাসচাপায় এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নবীনগর বাসস্ট্যান্ডের সেনা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে ফুটওভার ব্রিজের নিচে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতের নাম জাহিদুল ইসলাম, তার বাড়ি রাজধানীর হাজারীবাগে।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ করিম।

তিনি বলেন, দুপুর ১২টার দিকে নবীনগর বাসস্ট্যান্ডের ওই ওভারব্রিজের নিচে একটি অজ্ঞাত বাস মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বাইকচালকের মৃত্যু হয়।

মরদেহ ও দুর্ঘটনাকবলিত বাইকটি সাভার হাইওয়ে থানায় নেয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, জাহিদ কোনো বাইক রাইডার গ্রুপের সদস্য।

ওসি সাজ্জাদ আরও জানান, বাসটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে, সাভারেই পিকআপ ভ্যানের চাপায় এক গৃহপরিচারিকার মৃত্যু হয়েছে।

টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের মরাগাং এলাকায় বুধবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সুজাতা রানী বর্মন নওগাঁ জেলার নেয়ামতপুর থানার সদায় বর্মনের স্ত্রী। তিনি তুরাগ এলাকায় থেকে বাসাবাড়িতে কাজ করতেন।

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুদীপ কুমার গোপ নিউজবাংলাকে জানান, সকালে মরাগাং এলাকায় সড়ক পার হচ্ছিলেন সুজাতা। এ সময় একটি দ্রুতগতির পিকআপ ভ্যান তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। পরে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়।

মরদেহ দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ঢাকা, কুমিল্লা, সিলেটে উপনির্বাচন ১৪ জুলাই
সিলেট-৩ আসন: আওয়ামী লীগের ‘হকল খাড়া’
ইউপি নির্বাচন নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, নিহত ২
চার আসনে উপনির্বাচন জুলাইয়ে
শেখ হাসিনার শুভেচ্ছাবার্তায় আপ্লুত মমতার চিঠি

শেয়ার করুন

মামাকে হত্যার অভিযোগে আটক ভাগ্নে

মামাকে হত্যার অভিযোগে আটক ভাগ্নে

জয়পুরহাটে ভাগ্নের ছুরিকাঘাতে মামা নিহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি জানান, রাজু তার মামা মোস্তাককে কিছু টাকা ধার দেন। ওই টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রাজু ঘর থেকে ধারালো ছুরি এনে মোস্তাককে এলোপাতারি কোপায়।

জয়পুরহাট পৌর শহরে পাওনা টাকার জন্য মামাকে খুন করেছেন ভাগ্নে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন একজন।

শহরের হারাইল এলাকায় বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মোস্তাক হোসেন ওই এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। আহত ব্যক্তির নাম জিম হোসেন। তিনি মোস্তাকের আরেক ভাগ্নে।

ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়েছে মোস্তাকের ভাগ্নে রাজু আহম্মেদকে। তার বিরুদ্ধেই মোস্তাককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। একই এলাকায় থাকতেন তারা।

পরিবারের বরাত দিয়ে জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আলমগীর জাহান জানান, রাজু তার মামা মোস্তাককে কিছু টাকা ধার দেন। ওই টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রাজু ঘর থেকে ধারালো ছুরি এনে মোস্তাককে এলোপাতারি কোপায়।

এ সময় জিম তাকে বাঁচাতে গেলে রাজু তাকেও কোপায়।

ওসি আরও জানান, তাদের চিৎকারে এলাকাবাসী গিয়ে রাজুকে আটক করে পুলিশে দেয়। আহতদের উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসক মোস্তাককে মৃত ঘোষণা বরেন।

গুরুতর আহত জিমকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন:
ঢাকা, কুমিল্লা, সিলেটে উপনির্বাচন ১৪ জুলাই
সিলেট-৩ আসন: আওয়ামী লীগের ‘হকল খাড়া’
ইউপি নির্বাচন নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, নিহত ২
চার আসনে উপনির্বাচন জুলাইয়ে
শেখ হাসিনার শুভেচ্ছাবার্তায় আপ্লুত মমতার চিঠি

শেয়ার করুন

ফুলবাড়ী সীমান্তে করোনায় একজনের মৃত্যু

ফুলবাড়ী সীমান্তে করোনায় একজনের মৃত্যু

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আবেদের বাড়ি বাংলাদেশে হলেও তার শ্বশুরবাড়ি সীমান্তের ওপারে ভারতের সাহেবগঞ্জ থানার সেউটি-২ গ্রামে। শ্বশুরবাড়ির লােকজন সব সময় আবেদের বাড়িতে যাতায়াত করে।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর সীমান্তে করোনায় আক্রান্ত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

রংপুর মেডিক্যালের করােনা ইউনিটে বুধবার সকালে সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ওই রোগীর নাম আবেদ আলী। ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের নাখারজান এলাকার আন্তর্জাতিক মেইন পিলার-৯৪১-এর পাশে তার বাড়ি।

আবেদের ছেলে মমিন জানান, তার বাবা অসুস্থ হলে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করােনা ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে ১৩ দিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আবেদের বাড়ি বাংলাদেশে হলেও তার শ্বশুরবাড়ি সীমান্তের ওপারে ভারতের সাহেবগঞ্জ থানার সেউটি-২ গ্রামে। শ্বশুরবাড়ির লােকজন সব সময় আবেদের বাড়িতে যাতায়াত করে।

আবেদের করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা এলাকায় ভারতীয় লোকজনের আসা-যাওয়া ঠেকাতে সীমান্তে প্রশাসনের নজরদারী বাড়ানোর দাবি জানান।

ফুলবাড়ী হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, গত দুই সপ্তাহে সেখানে এক শিশুসহ করােনা শনাক্ত হয়েছে ১১ জনের।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন দাস জানান, ভারতীয় ব্যক্তিদের সংস্পর্শে থাকার কারণে আবেদের করোনা হতে পারে। আর সীমান্ত এলাকায় করোনা নিয়ে সচেতনতাও কম।

আরও পড়ুন:
ঢাকা, কুমিল্লা, সিলেটে উপনির্বাচন ১৪ জুলাই
সিলেট-৩ আসন: আওয়ামী লীগের ‘হকল খাড়া’
ইউপি নির্বাচন নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, নিহত ২
চার আসনে উপনির্বাচন জুলাইয়ে
শেখ হাসিনার শুভেচ্ছাবার্তায় আপ্লুত মমতার চিঠি

শেয়ার করুন

নাটোরে দুই পৌর এলাকায় চলছে কঠোর লকডাউন

নাটোরে দুই পৌর এলাকায় চলছে কঠোর লকডাউন

জেলার সিভিল সার্জন কাজী মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে জানান, করোনা সংক্রমণ বাড়ার কারণে নাটোর সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ১৯টি শয্যা বাড়িয়ে ৫০টি করা হলেও রোগীর চাপ সামলানো যাচ্ছে না। বুধবার সকাল পর্যন্ত ৫২ জন রোগী ভর্তি আছেন করোনা ইউনিটে। স্বাস্থ্যবিধি না মানায় করোনা সংক্রমণ কমছে না।

নাটোরে দুটি পৌর এলাকায় চলছে দ্বিতীয় দফায় লকডাউন।

আগামী সাত দিনের এই লকডাউনের প্রথম দিন বুধবার সকাল ৬টা থেকেই প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। অপ্রয়োজনে সাধারণ মানুষকে ঘরের বাইরে বের না হতে এবং মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে চালানো হচ্ছে প্রচার।

এর আগে, সপ্তাহব্যাপী নাটোরের সিংড়া ও নাটোর পৌরসভা এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধ দিলেও করোনা সংক্রমণ ও আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা কমেনি। তাই দ্বিতীয় দফায় আরও সাত দিনের কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন।

জেলার সিভিল সার্জন কাজী মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে জানান, করোনা সংক্রমণ বাড়ার কারণে নাটোর সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ১৯টি শয্যা বাড়িয়ে ৫০টি করা হলেও রোগীর চাপ সামলানো যাচ্ছে না। বুধবার সকাল পর্যন্ত ৫২ জন রোগী ভর্তি আছেন করোনা ইউনিটে। স্বাস্থ্যবিধি না মানায় করোনা সংক্রমণ কমছে না।

তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের অভিযানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে। আর তা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। প্রতিদিনই হাসপাতালের করোনা ইউনিটে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আজকে করোনা শনাক্ত ও আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোনো ফলাফল জেলা সিভিল সার্জন অফিসে এসে পৌঁছায়নি। মঙ্গলবার নাটোর পৌর এলাকায় আক্রান্তের হার ছিল ৬৫ শতাংশ। সিংড়ায় এই হার ছিল ৪৬ শতাংশ।’

সিভিল সার্জন জানান, মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২৮৮টি নমুনা পরীক্ষায় ১২০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এই হিসাবে শনাক্তের হার ৪১ শতাংশ। জেলায় এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৩৯ জন মারা গেছেন। ১৫ জুন পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৫ জন।

পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, কঠোর লকডাউন মানার জন্য শহরের সবগুলো প্রবেশপথে পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ শহরে প্রবেশ করতে এবং শহর থেকে কেউ বাইরে বের হতে পারবেন না।

নাটোর জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ জানান, করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে দ্বিতীয় দফার লকডাউনে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মনিটরিং করছেন। কেউ স্বাস্থ্যবিধি না মানলে তাকে আইনের আওতায় নেয়া হচ্ছে। প্রথম দফার লকডাউন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, এবারের লকডাউনও সফল হবে।

আরও পড়ুন:
ঢাকা, কুমিল্লা, সিলেটে উপনির্বাচন ১৪ জুলাই
সিলেট-৩ আসন: আওয়ামী লীগের ‘হকল খাড়া’
ইউপি নির্বাচন নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, নিহত ২
চার আসনে উপনির্বাচন জুলাইয়ে
শেখ হাসিনার শুভেচ্ছাবার্তায় আপ্লুত মমতার চিঠি

শেয়ার করুন

জীবননগর সীমান্তে অনুপ্রবেশ, আটক ৮

জীবননগর সীমান্তে অনুপ্রবেশ, আটক ৮

ভারত থেকে অবৈধভাবে কয়েক ব্যক্তি বাংলাদেশে প্রবেশ করছে, এমন সংবাদের ভিত্তিতে সকালে হাসাদহ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালায় বিজিবির একটি টহল দল। এ সময় সেখান থেকে দুই দালালসহ আটজনকে আটক করা হয়। তাদের বাড়ি দেশের বিভিন্ন জেলায়।

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশের সময় নারী ও শিশুসহ ছয়জনকে আটক করেছে বর্ড ার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একটি দল। এ সময় আটক করা হয় পারাপারে সহায়তাকারী দুই দালালকেও।

জীবননগর উপজেলার সীমান্তবর্তী হাসাদহ বাসস্ট্যান্ড থেকে বুধবার সকালে তাদের আটক করা হয় বলে দুপুর ১২টার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানায় বিজিবি। আটক ব্যক্তিরা নিজেদের বাংলাদেশি বলে দাবি করেছেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারত থেকে অবৈধভাবে কয়েক ব্যক্তি বাংলাদেশে প্রবেশ করছে, এমন সংবাদের ভিত্তিতে সকালে হাসাদহ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালায় বিজিবির একটি টহল দল। এ সময় সেখান থেকে দুই দালালসহ আটজনকে আটক করা হয়। তাদের বাড়ি দেশের বিভিন্ন জেলায়।

ঝিনাইদহের মহেশপুর-৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম খান জানান, এ ঘটনায় জীবননগর থানায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিজিবি। পরে তাদের থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আরও পড়ুন:
ঢাকা, কুমিল্লা, সিলেটে উপনির্বাচন ১৪ জুলাই
সিলেট-৩ আসন: আওয়ামী লীগের ‘হকল খাড়া’
ইউপি নির্বাচন নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, নিহত ২
চার আসনে উপনির্বাচন জুলাইয়ে
শেখ হাসিনার শুভেচ্ছাবার্তায় আপ্লুত মমতার চিঠি

শেয়ার করুন

চাঁদপুরের অজগর, বানর, শকুন যাচ্ছে গাজীপুরে

চাঁদপুরের অজগর, বানর, শকুন যাচ্ছে গাজীপুরে

চাঁদপুর সদরের ফাইভ স্টার পার্কে ছিল একটি অজগর ও তিনটি বানর এবং কৃতিকুঞ্জ তিয়া পার্ক থেকে একটি অজগর, একটি শকুন ও দুইটি বানর উদ্ধার করা হয়। অজগর দুটির ওজন প্রায় ২০০ কেজি। লাইসেন্স ছাড়া পার্ক মালিকরা এই প্রাণীগুলো প্রদর্শনীর জন্য রেখেছিলেন।

চাঁদপুর সদরের দুটি পার্কে অবৈধভাবে রাখা আটটি বন্য প্রাণী জব্দ করেছে বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট (ডব্লিউসিসিইউ)। সেগুলো গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে পাঠানো হবে বলে জানান কর্মকর্তারা।

ডব্লিউসিসিইউর পরিদর্শক অসীম মল্লিক এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সদর উপজেলার আশিকাটি ইউনিয়নের ফাইভ স্টার শিশু পার্ক ও শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের কৃতিকুঞ্জ তিয়া পার্ক থেকে মঙ্গলবার বিকেলে বন্য প্রাণীগুলো জব্দ করা হয়। ওই পার্কের মালিকরা এই প্রাণীগুলো প্রদর্শনীর জন্য অবৈধভাবে রেখেছিলেন।

এর মধ্যে ফাইভ স্টার পার্কে ছিল একটি অজগর ও তিনটি বানর এবং কৃতিকুঞ্জ তিয়া পার্ক থেকে একটি অজগর, একটি শকুন ও দুইটি বানর উদ্ধার করা হয়। অজগর দুটির ওজন প্রায় ২০০ কেজি।

অসীম বলেন, ‘গত ৩ এপ্রিল ফাইভ স্টার পার্কে অভিযান চালাই। সে সময় একটি অজগর ও তিনটি বানর জব্দ করা হয়। সে সময় লকডাউন থাকায় আমরা প্রাণীগুলো পরিবহন করতে পারিনি। তাই তাদের জিম্মায় রেখে দিই। বন্য প্রাণী সংরক্ষণের কোনো ধরনের লাইসেন্স ওই পার্ক মালিকের ছিল না। তাই পার্ক মালিক মো. লিটনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।’

চাঁদপুরের অজগর, বানর, শকুন যাচ্ছে গাজীপুরে

অসীম জানান, অভিযানের খবর পেয়ে কৃতিকুঞ্জ তিয়া পার্কের মালিক মো. মিজান নিজেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি বলেন, লাইসেন্সের বিষয়টি না জেনে তিনিও পার্কে বন্য প্রাণী রেখেছেন। তিনি স্বেচ্ছায় বিষয়টি জানিয়েছেন বলে তাকে জরিমানা করা হয়নি।

সে খবর জেনে মঙ্গলবার দুই পার্ক থেকে বন্য প্রাণীগুলো জব্দ করা হয়। অসীম বলেন, সেগুলো এখন রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন বিভাগ কার্যালয়ে রাখা আছে। শিগগিরই গাজীপুরের সাফারি পার্কে সেগুলো অবমুক্ত করা হবে।

আরও পড়ুন:
ঢাকা, কুমিল্লা, সিলেটে উপনির্বাচন ১৪ জুলাই
সিলেট-৩ আসন: আওয়ামী লীগের ‘হকল খাড়া’
ইউপি নির্বাচন নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, নিহত ২
চার আসনে উপনির্বাচন জুলাইয়ে
শেখ হাসিনার শুভেচ্ছাবার্তায় আপ্লুত মমতার চিঠি

শেয়ার করুন

পাচারের সময় চা-বোঝাই ট্রাক আটক

পাচারের সময় চা-বোঝাই ট্রাক আটক

পঞ্চগড় কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট সার্কেলের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা জাহিদ হাসান জানান, মঙ্গলবার রাতে উত্তরা গ্রীণ টি ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড নামের ওই প্রতিষ্ঠানের কারখানায় চট্টগ্রাম ওয়্যার হাউসের চা নিলাম বাজারে পাঠানোর জন্য কারাখানাটির উৎপাদিত ২০০ বস্তা চা সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ট্রাকে লোড করার পর সিলগালা করা হয়। ট্রাকটি চট্টগ্রামে না গিয়ে একই উপজেলার খালপাড়া এলাকায় আল আমিন টি হাউসের সামনে চা আনলোড করছে, এমন সংবাদের ভিত্তিতে ট্রাকটি জব্দ করা হয়।

পঞ্চগড়ে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে পাচারের সময় প্রায় ২২ লাখ টাকার মূল্যের ২০০ বস্তা (১১ হাজার কেজি) চাসহ একটি ট্রাক আটক করেছে জেলা কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট সার্কেল।

জেলার সদর ইউনিয়নের খালপাড়া এলাকায় মঙ্গলবার গভীর রাতে আল আমিন টি হাউসের সামনে ট্রাক থেকে চা আনলোড করার সময় ওই ট্রাকটি আটক করা হয়।

পঞ্চগড় কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট সার্কেলের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা জাহিদ হাসান জানান, মঙ্গলবার রাতে উত্তরা গ্রীণ টি ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড নামের ওই প্রতিষ্ঠানের কারখানায় চট্টগ্রাম ওয়্যার হাউসের চা নিলাম বাজারে পাঠানোর জন্য কারাখানাটির উৎপাদিত ২০০ বস্তা চা সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ট্রাকে লোড করার পর সিলগালা করা হয়।

তিনি আরও জানান, ওই ট্রাকটি চট্টগ্রামে না গিয়ে একই উপজেলার খালপাড়া এলাকায় আল আমিন টি হাউসের সামনে চা আনলোড করছে, এমন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট সার্কেলের একটি দল সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে পাচারের দায়ে চাসহ ট্রাকটি জব্দ করে। এ সময় সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাদেরসহ স্থানীয়রা ট্রাকটি জব্দ করতে বাধা দিলে পরে পঞ্চগড় সদর থানার পুলিশ চা-বোঝাই ট্রাকটি আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এদিকে ট্রাকচালক তাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পুলিশের কাছে মুচলেকা দিয়েছেন বলেও জানান পঞ্চগড় কাস্টমসের এই কর্মকর্তা।

জাহিদ হাসান জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু আক্কাস আহম্মদ জানান, ট্রাকটি পুলিশের হেফাজতে দিয়েছে পঞ্চগড় কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট সার্কেল। ট্রাকচালককে মুচলেকা দেয়ার পর ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ঢাকা, কুমিল্লা, সিলেটে উপনির্বাচন ১৪ জুলাই
সিলেট-৩ আসন: আওয়ামী লীগের ‘হকল খাড়া’
ইউপি নির্বাচন নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, নিহত ২
চার আসনে উপনির্বাচন জুলাইয়ে
শেখ হাসিনার শুভেচ্ছাবার্তায় আপ্লুত মমতার চিঠি

শেয়ার করুন