২৬০ ফুট রাস্তা কেটে ৩ ফুট স্লুইসগেট, মহাসড়কে মহাদুর্ভোগ

২৬০ ফুট রাস্তা কেটে ৩ ফুট স্লুইসগেট, মহাসড়কে মহাদুর্ভোগ

মাত্র তিন ফুট চওড়া এসব স্লুইসগেটের প্রতিটির জন্য সড়ক ও জনপথের (সওজ) ২৬০ ফুট সড়ক কাটা হয়েছে। কাটা সড়কের ওই অংশগুলো কেবল মাটি দিয়ে ভরাট করে প্রকল্পের কাজ শেষ করে চলেও গেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে মাটি ভরাট করা অংশগুলো সামান্য বৃষ্টিতেই কাদাজলে একাকার হয়ে যাচ্ছে। এতে মহাদুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে যানবাহনচালক, যাত্রী ও পথচারীদের।

বরইতলা-বরগুনা-পুরাকাটা-আমতলী আঞ্চলিক মহাসড়কের তিনটি স্থান কেটে স্লুইসগেট নির্মাণ করেছে সিকো নামের একটি চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

মাত্র তিন ফুট প্রশস্ত এসব স্লুইসগেটের প্রতিটির জন্য সড়ক ও জনপথের (সওজ) ২৬০ ফুট সড়ক কাটা হয়েছে। কাটা সড়কের ওই অংশগুলো কেবল মাটি দিয়ে ভরাট করে প্রকল্পের কাজ শেষ করে চলেও গেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে মাটি ভরাট করা অংশগুলো সামান্য বৃষ্টিতেই কাদাজলে একাকার হয়ে যাচ্ছে। এতে মহাদুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে যানবাহনচালক, যাত্রী ও পথচারীদের।

স্লুইসগেটগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আওতায় করা হলেও ওই সড়ক সংস্কার হয়নি তিন মাসেও। সওজ কর্তৃপক্ষ বলছে, পাউবো কর্তৃপক্ষ সড়কের মাটির কাজ করে দিলেই কেবল তারা সংস্কারকাজ করতে পারবে।

২০১৮ সালের মাঝামাঝিতে ‘গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ প্রকল্পের আওতায় সওজ বরগুনা কার্যালয় তিনটি প্যাকেজে পটুয়াখালী-আমতলী-বরগুনা-কাকচিড়া মহাসড়ক অংশের ২০ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার রাস্তা প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেয়।
২৬০ ফুট রাস্তা কেটে ৩ ফুট স্লুইসগেট, মহাসড়কে মহাদুর্ভোগ

প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৭৪ কোটি ৪২ লাখ ৯৫ হাজার ৯৩৭ টাকা। ঝালকাঠির মাফুজ খান লিমিটেড, বরিশালের ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন, মেসার্স কহিনুর এন্টারপ্রাইজ ও ওরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্স নামের চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই সড়ক সংস্কারকাজ করে। এদের মধ্যে মাফুজ খান লিমিটেড বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড থেকে ইটবাড়িয়া পর্যন্ত ৬ দশমিক ৮ কিলোমিটার এবং কহিনুর এন্টারপ্রাইজ ৪ দশমিক ০০ কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ করে। একই সময়ে এই ১০ দশমিক ৮ কিলোমিটারে হয়েছে ওই তিন স্লুইসগেট।

কার্যাদেশ অনুসারে ২০১৮ সালের ৯ আগস্ট সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হয়। ২০২০ সালের ৩ নভেম্বর সংস্কারকাজ শেষ করে সওজকে কাজ বুঝিয়ে দেয় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো।

একই সময়ে বরগুনা সদর ও পাথরঘাটা উপজেলায় ৩১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের (সিইআইপি) প্রথম পর্যায়ের ২ নম্বর প্যাকেজের আওতায় চংগিং ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন (সিকো) সড়ক ও জনপথ বিভাগের বরগুনা-পুরাকাটা সড়কের ইটবাড়িয়া এলাকা ও পুরাকাটা-ফেরিঘাট বাঁধের ওপর দুটিসহ মোট তিনটি স্লুইসগেট নির্মাণ করে।

সিইআইপি প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি স্লুইসগেটের ব্যয় ধরা হয় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। তিন ফুট প্রশস্ত এসব স্লুইসগেট নির্মাণ করতে গিয়ে ২৬০ ফুট করে সড়ক কেটে ফেলা হয়। গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে দিকে স্লুইসগেট নির্মাণ শেষ হলে ওই স্থানে মাটি দিয়ে ভরাট করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিকো।

সড়কটি ব্যবহার করে বরগুনা থেকে আমতলী হয়ে পটুয়াখালী ও বরিশাল এবং সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটা, পায়রা বন্দরে যানবাহন চলাচল করে। সামান্য বৃষ্টি হলে এই সড়কে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এমনকি পথচারীরাও চলাচলে অসুবিধায় পড়েন।

বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসাইন বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের সময় আমি পায়রা নদ-তীরবর্তী এলাকার লোকজনের অবস্থা দেখতে ওই সড়ক দিয়ে বাইক নিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু পথে দুর্ভোগের শিকার হই। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়ক ও স্লুইসগেটের কাজ শেষ হলেও সামান্য একটু রাস্তা ফেলে রেখে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। কে কী কাজ করবে- এটা পাবলিকের দেখার বিষয় না। যাদের দায়িত্ব তারাই দ্রুত সংস্কার করে দিক।’

বরগুনা জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহাবুদ্দিন সাবু বলেন, ‘তিনটি স্লুইসগেটের স্থানেই মাটি ভরাট করে কাজ শেষ করা হয়েছে। মাসের পর মাস আমরা ওই সড়কে গাড়ি চলাচলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছি।
২৬০ ফুট রাস্তা কেটে ৩ ফুট স্লুইসগেট, মহাসড়কে মহাদুর্ভোগ

‘বরগুনা-ঢাকা বাস পরিবহনের অন্যতম একটি রুট এই মহাসড়ক। স্লুইসগেট অংশের সড়ক সংস্কার না হওয়ায় বৃষ্টি হলেই বাস চলাচল বন্ধ রাখতে হয়।’

এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পাউবো বরগুনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী কাইছার আলম বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়েছে। এতে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো ভূমিকা বা তদারকি ছিল না।

‘আমাদের বাঁধের ওপর সওজের রাস্তা। বাঁধের কাজ আমাদেরই করে দিতে হবে। আমি বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় কথা বলেছি। বরাদ্দ পেলে রাস্তার মাটির কাজ আমরা করে দেব।’

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল আহসান (অতিরিক্ত দায়িত্বে) বলেন, ‘আমরা যখন সড়কের কাজ করছি, ঠিক একই সময়ে প্রকল্পের আওতায় স্লুইসগেট নির্মাণের কাজ চলে।

‘এ কারণে আমরা সেখানে কাজ করার সুযোগ পাইনি। পরে ওই অংশের কাজ বর্ধিত করে বিআরটিসি থেকে টাউন হল পর্যন্ত আমরা করিয়েছি। যে কারণে সড়ক সংস্কারে আমাদের আপাতত কোনো বরাদ্দ নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ড মাটির কাজ করে দিলে আমরা সড়কের কাজও করিয়ে দিতে বরাদ্দ চাইতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘আমি পটুয়াখালী থাকি। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেছি বরগুনায়। বিষয়টি নিয়ে উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেব।’

তবে কবে নাগাদ সড়কটি যান চলাচলের উপযোগী করে দিতে পারবেন, তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।

আরও পড়ুন:
বিআরটিসির দখলে মহাসড়ক
মহাসড়ক নয় এ যেন ‘চাতাল’
‘এটা রোড না জাহান্নামের রাস্তা?’
‘বড় সড়কে’ চলতে দিতে হবে টাকা
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সাতক্ষীরায় এক দিনে মৃত্যু ৮, শনাক্ত ৪৮

সাতক্ষীরায় এক দিনে মৃত্যু ৮, শনাক্ত ৪৮

জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪৮ জনের দেহে করোনার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ১০ শতাংশ। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ছিল ৪৩ শতাংশ।

সাতক্ষীরায় ২১ দিন লকডাউনেও মেলেনি সুফল। গত ২৪ ঘণ্টায় সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ও সাত জন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।

সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ৭ জন সাতক্ষীরা মেডিক্যালে ও ১ জন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এ নিয়ে উপসর্গ নিয়ে মারা গেলেন ৩০৪ জন। আর করোনা পজিটিভ হয়ে মারা গেছেন ৬৩ জন।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪৮ জনের দেহে করোনার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ১০ শতাংশ। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ছিল ৪৩ শতাংশ।

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২৬ জন ও বেসরকারি হাসপাতালে ১৪ জন করোনা সংক্রমিত রোগী ভর্তি ছিলেন। উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ছিলেন ৩৬৭ জন।

এ নিয়ে জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ১৬৫ জনের দেহে। সুস্থ হয়েছে ২ হাজার ২২৯ জন।

বিস্তারিত আসছে...

আরও পড়ুন:
বিআরটিসির দখলে মহাসড়ক
মহাসড়ক নয় এ যেন ‘চাতাল’
‘এটা রোড না জাহান্নামের রাস্তা?’
‘বড় সড়কে’ চলতে দিতে হবে টাকা
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট

শেয়ার করুন

কবরস্থান নিয়ে গোলাগুলি: গ্রেপ্তার ৩

কবরস্থান নিয়ে গোলাগুলি: গ্রেপ্তার ৩

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় কবরস্থানে সাইনবোর্ড দেয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে চারজন গুলিবিদ্ধ হন। ছবি: নিউজবাংলা

পূর্ব বাকলিয়ায় আবদুল লতিফ হাটখোলা এলাকায় বড় মৌলভী বাড়িসংলগ্ন একটি কবরস্থান রয়েছে। গত ১১ জুন সকালে ওই বাড়ির লোকজন সেখানে সাইনবোর্ড লাগাতে গেলে পাশের ইয়াকুব আলী বাড়ির লোকজন গিয়ে বাধা দেন। এ নিয়ে সংঘর্ষ হয়।

চট্টগ্রামে কবরস্থান নিয়ে গোলাগুলির ঘটনার মূল আসামি ইয়াকুবসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) শাহ মোহাম্মদ আবদুর রউফ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. ইয়াকুব, ওসমান গনি ও মো. মাসুদ।

আবদুর রউফ বলেন, ‘ঘটনার মূল অভিযুক্ত ইয়াকুবসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ ঘটনার সময় ব্যবহৃত বিদেশি পিস্তল ও দেশিয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) শুক্রবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত বলবেন।’

গত ১৬ জুন জাহিদুর আলম নামে আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুইটি গুলি উদ্ধার করা হয়।

পূর্ব বাকলিয়ায় আবদুল লতিফ হাটখোলা এলাকায় বড় মৌলভী বাড়িসংলগ্ন একটি কবরস্থান রয়েছে। এটি লোকজনের কাছে বড় মৌলভী কবরস্থান নামে পরিচিত। বড় মৌলভী বাড়ির লোকজনের দাবি, এটা তাদের পূর্বপুরুষের দেয়া নিজস্ব কবরস্থান।

গত ১১ জুন সকালে ওই বাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশীরা মিলে সেখানে সাইনবোর্ড লাগাতে যান। তখন পাশের ইয়াকুব আলীর বাড়ি ও তাদের লোকজন গিয়ে বাধা দেন।

সে পক্ষের দাবি, এটা ১০০ বছর ধরে স্থানীয়দের সম্মিলিত সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়।

বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় দুই পক্ষের তিন থেকে চারজনের হাতে পিস্তল দেখা গেছে। গোলাগুলির ঘটনায় ১৩ জন আহত হয়।

সংঘর্ষের পর মৌলভী বাড়ির লোকজনের পক্ষে সাইফুল্লাহ মাহমুদ নামে একজন মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
বিআরটিসির দখলে মহাসড়ক
মহাসড়ক নয় এ যেন ‘চাতাল’
‘এটা রোড না জাহান্নামের রাস্তা?’
‘বড় সড়কে’ চলতে দিতে হবে টাকা
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট

শেয়ার করুন

অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় তরুণ নিহত

অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় তরুণ নিহত

এএসআই শীলব্রত বড়ুয়া বলেন, ‘শুক্রবার সকালে মিরসরাইয়ে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন দিশান। রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসক দিশানকে মৃত ঘোষণা করেন।’

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় দিশান উদ্দিন নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই সদরে শুক্রবার পৌনে সাতটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ১৯ বছর বয়সী দিশান উদ্দিন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সোনাকোড় এলাকার বাসিন্দা। দিশান ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শীলব্রত বড়ুয়া নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘শুক্রবার সকালে মিরসরাইয়ে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন দিশান। রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসক দিশানকে মৃত ঘোষণা করেন।’

নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বিআরটিসির দখলে মহাসড়ক
মহাসড়ক নয় এ যেন ‘চাতাল’
‘এটা রোড না জাহান্নামের রাস্তা?’
‘বড় সড়কে’ চলতে দিতে হবে টাকা
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট

শেয়ার করুন

চেয়ারে বসা নিয়ে দ্বন্দ্বে ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র খুন

চেয়ারে বসা নিয়ে দ্বন্দ্বে ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র খুন

নেত্রকোণার দুর্গাপুরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে আনোয়ার নিহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি শাহনুর এ আলম জানান, বড়ইউন্দ বাজারে এক ওষুধের দোকানে চেয়ারে বসা নিয়ে আনোয়ারের সঙ্গে একই গ্রামের সোহেল মিয়ার কথা-কাটাকাটি হয়। এরই জেরে সোহেল তার বাবা মরম আলীসহ কয়েকজন সহযোগী নিয়ে আনোয়ারের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়।

নেত্রকোণার দুর্গাপুরে ওষুধের দোকানের এক চেয়ারে বসা নিয়ে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র খুন হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও দুইজন।

উপজেলার চণ্ডীগড় ইউনিয়নের বড়ইউন্দ বাজারে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ২৫ বছর বয়সী আনোয়ার হোসেনের বাড়ি উপজেলার রনাজিরপুর ইউনিয়নের আনন্দপুর গ্রামে। তিনি ময়মনসিংহের আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ছিলেন।

আহত দুইজন হলেন নিহত ব্যক্তির বাবা মকবুল হোসেন ও চাচাতো ভাই মনির হোসেন।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহনুর এ আলম জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বড়ইউন্দ বাজারে এক ওষুধের দোকানে চেয়ারে বসা নিয়ে আনোয়ারের সঙ্গে একই গ্রামের সোহেল মিয়ার কথা-কাটাকাটি হয়।

এরই জেরে সোহেল, তার বাবা মরম আলীসহ কয়েকজন সহযোগী নিয়ে আনোয়ারের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। খবর পেয়ে আনোয়ারের বাবা মকবুল ও চাচাতো ভাই মনির ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরও মারধর করা হয়।

এ সময় ছুরিকাঘাতে তিনজনই গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আনোয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি দুইজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ওসি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্যে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে অভিযান চলছে।

একটি মামলাও হয়েছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
বিআরটিসির দখলে মহাসড়ক
মহাসড়ক নয় এ যেন ‘চাতাল’
‘এটা রোড না জাহান্নামের রাস্তা?’
‘বড় সড়কে’ চলতে দিতে হবে টাকা
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট

শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আ. লীগের সভাপতি মঈনুদ্দীনের মৃত্যু

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আ. লীগের সভাপতি মঈনুদ্দীনের মৃত্যু

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মঈনুদ্দীন মন্ডল। ছবি: নিউজবাংলা

মঈনুদ্দীন মন্ডল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রবীণ রাজনীতিবিদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মঈনুদ্দীন মন্ডল মারা গেছেন।

রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আরিফুর রেজা ইমন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। দীর্ঘদিন থেকে তিনি বাধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সপ্তাহখানেক আগে ঢাকায় নেয়া হয়।

তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মঈনুদ্দীন মন্ডল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন।

তিনি নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের ছাত্রসংসদের ভিপি ও জিএস হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত থেকে তৎকালীন চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহকুমা ছাত্রলীগের সভাপতি, বৃহত্তর রাজশাহী ছাত্রলীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের অন্যতম সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এ ছাড়া মঈনুদ্দীন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, পরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

আরও পড়ুন:
বিআরটিসির দখলে মহাসড়ক
মহাসড়ক নয় এ যেন ‘চাতাল’
‘এটা রোড না জাহান্নামের রাস্তা?’
‘বড় সড়কে’ চলতে দিতে হবে টাকা
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট

শেয়ার করুন

খুলনার ৩ হাসপাতালে এক দিনে ৯ মৃত্যু

খুলনার ৩ হাসপাতালে এক দিনে ৯ মৃত্যু

খুলনার তিনটি হাসপাতালে করোনায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

খুলনা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ৬, গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২ ও জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

খুলনার তিনটি হাসপাতালে করোনাভাইরাস ও উপসর্গ নিয়ে এক দিনে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

খুলনা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ৬, গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২ ও জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

খুলনা করোনা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সুহাস রঞ্জন হালদার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫ জনের করোনায় ও ১ জনের মৃত্যু হয় উপসর্গ নিয়ে।

১৩০ শয্যার এ হাসপাতালে সকাল ৮টা পর্যন্ত ১৫৪ জন রোগী ভর্তি ছিল। এর মধ্যে রেড জোনে ৯৬, ইয়েলো জোনে ২৩, এইচডিইউতে ২০ ও আইসিইউতে ১৬ জন চিকিৎসাধীন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৩৯ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২২ জন।

খুলনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র কাজী আবু রাশেদ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ইউনিটে খুলনার রূপসা উপজেলার সরদার মনিরুল নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৬৯ জন। এর মধ্যে ৩০ পুরুষ ও ৩৯ জন নারী।

গাজী মেডিক্যালের স্বত্বাধিকারী গাজী মিজানুর রহমান জানান, এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

তারা হলেন নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার শাহানা জামান ও পিরোজপুর সদরের রহিমা।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালে ৯৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে আইসিইউতে ৯ ও এইচডিইউতে ৭ জন চিকিৎসাধীন।

এক দিনে হাসপাতালে ২৯ জন ভর্তি হয়েছেন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৯ জন।

এ ছাড়া হাসপাতালের আরটি পিসিআর মেশিনে ৩৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২২ জনের করোনা পজেটিভ এসেছে।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ মেহেদী নেওয়াজ জানান, খুলনা মেডিক্যালের পিসিআর ল্যাবে বৃহস্পতিবার রাতে ৩৮৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৯৯ জনের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।

খুলনার ৩২১ জনের নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ১৭৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়।

এ ছাড়া বাগেরহাটের ১৪, যশোরের ৬, সাতক্ষীরার ২ ও গোপালগঞ্জের ১ জন রয়েছেন।

উপাধ্যক্ষ আরও জানান, মোট নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ৫১ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
বিআরটিসির দখলে মহাসড়ক
মহাসড়ক নয় এ যেন ‘চাতাল’
‘এটা রোড না জাহান্নামের রাস্তা?’
‘বড় সড়কে’ চলতে দিতে হবে টাকা
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট

শেয়ার করুন

ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী জানান, প্রতিবেশী এক নারী বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা বলে ১২ বছরের মেয়েশিশুটিকে তার বাড়িতে নিয়ে যান। পরে শিশুটিকে পানিতে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে পান করান। এতে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে একই এলাকার অভিযুক্ত যুবক শিশুটিকে ধর্ষণ করে। 

কক্সবাজারের চকরিয়ায় শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থেকে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১৫-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী।

তিনি জানান, ২ জুন বুধবার বিকেলে চকরিয়া খুটাখালীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গর্জনতলী এলাকায় প্রতিবেশী এক নারী বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা বলে ১২ বছরের মেয়েশিশুটিকে তার বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে তিনি শিশুটিকে খাবার খাওয়ানোর পর পানিতে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে পান করান। এতে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে একই এলাকার অভিযুক্ত যুবক ওই নারীর সহায়তায় শিশুটিকে ধর্ষণ করে।

একপর্যায়ে শিশুটি আবার অজ্ঞান হয়ে গেলে তারা শিশুটিকে তার নিজের বাড়িতে দিয়ে আসে।

শিশুর পরিবার অজ্ঞান হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা সঠিক কিছু জানাতে পারেনি।

পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানান শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে। পরে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ৭ জুন শিশুটির মা চকরিয়া থানায় দুইজনকে আসামি করে ধর্ষণ মামলা করেন। প্রথমে অভিযান‌ চালিয়ে ১৩ জুন চকরিয়ার খুটাখালী থেকে সহযোগী ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে।

তার ২২ দিন পর ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই যুবককে চকরিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বিআরটিসির দখলে মহাসড়ক
মহাসড়ক নয় এ যেন ‘চাতাল’
‘এটা রোড না জাহান্নামের রাস্তা?’
‘বড় সড়কে’ চলতে দিতে হবে টাকা
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট

শেয়ার করুন