ত্রাণ বিতরণে বাধ্য করা সেই ইউএনওকে সতর্ক করে প্রতিবেদন

৩৩৩ নম্বরে খাদ্য সহায়তা চাওয়া ফরিদ আহমেদের টাকায় গত ২২ মে ত্রাণ বিতরণ করেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ইউএনও আরিফা জহুরা। ছবি: নিউজবাংলা

ত্রাণ বিতরণে বাধ্য করা সেই ইউএনওকে সতর্ক করে প্রতিবেদন

জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ‘ইউএনওকে দোষী নয়, সতর্ক করা হয়েছে। কারণ, ঘটনার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধির যথাযথভাবে তথ্য দিতে না পারাকেই দায়ী করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সেবাগ্রহীতার আর্থিক সংগতির বিষয়ে যথাযথ তথ্য দিতে পারেননি। তাই ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাকে আরও সতর্ক হওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।’

নারায়ণগঞ্জে করোনার কারণে বিপাকে পড়া ব্যবসায়ী সহায়তা চাওয়ার পর ত্রাণ বিতরণে বাধ্য করার ঘটনা নিয়ে ১০ দিন পর প্রতিবেদন দিয়েছে তদন্ত কমিটি। এতে ওই ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফা জহুরকে দোষী না করে সতর্ক করা হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় মেম্বারের ভুল তথ্যে এ ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোস্তাইন বিল্লাহ ।

ডিসি বলেন, ‘স্থানীয় মেম্বার ভুল তথ্য দিয়েছেন। তিনি ফরিদ আহমেদের সঠিক তথ্য দিতে পারেননি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন ছিল। স্থানীয় মেম্বারের ভুল তথ্যে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।’

পাঁচ পৃষ্ঠার ওই তদন্ত প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, ইউএনওকে ভবিষ্যতে ‘৩৩৩’ ফোনের ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতা সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে শুধু স্থানীয় জনপ্রতিনিধির ওপর নির্ভর না করে এলাকার মুক্তিযোদ্ধা, মসজিদের ইমাম এবং প্রয়োজনে গণমাধ্যমকর্মীদের সহায়তা নিতে বলা হয়েছে।

মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ‘ইউএনওকে দোষী নয়, সতর্ক করা হয়েছে। কারণ, ঘটনার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধির যথাযথভাবে তথ্য দিতে না পারাকেই দায়ী করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সেবাগ্রহীতার আর্থিক সংগতির বিষয়ে যথাযথ তথ্য দিতে পারেননি। তাই ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাকে আরও সতর্ক হওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।’

ডিসি বলেন, ‘রোববার প্রতিবেদনটি জমা দেয়ার কথা থাকলেও বৃহস্পতিবার রাতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শামীম ব্যাপারী আমার বাসায় সরকারি ডাকবাংলোয় এসে প্রতিবেদন জমা দিয়ে গেছেন।’

ডিসি আরও বলেন, ‘আমরা প্রতিবেদনটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। যেহেতু প্রতিবেদনে মন্ত্রণালয়ের অধীন কাশীপুর ইউনিয়নের ওয়ার্ড মেম্বারকে ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়েছে। সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত দেয়া হবে, পরবর্তী সময়ে সেভাবেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ত্রাণ বিতরণে বাধ্য করা সেই ইউএনওকে সতর্ক করে প্রতিবেদন
গত ২০ মে ৩৩৩ নম্বরে ফোন করে খাদ্য চাওয়ার দুই দিন পর নিজেই ত্রাণ বিতরণে বাধ্য হন বিপাকে পড়া ব্যবসায়ী ফরিদ আহমেদ

তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে কাশীপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার আইয়ুব আলীর মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি এখনও ফোন বন্ধ করে রেখেছেন।

এর আগে কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। সেটি দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর তারা আরও সাত দিন সময় চেয়ে নেন।

যা ঘটেছিল

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশীপুর ইউনিয়নের দেওভোগ নাগবাড়ি এলাকার ফরিদ আহমেদ গত ২০ মে খাদ্যসহায়তা চেয়ে ৩৩৩ নম্বরে কল দেন।

খাবার নিয়ে আসেন উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, অফিস সহকারী কামরুল ইসলাম। পরে তারা ভবন দেখে ফোন দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফা জহুরা আসেন ঘটনাস্থলে। দেন শাস্তির ঘোষণা।

জানান, সরকার প্রতি প্যাকেটে যে পরিমাণ খাবার দেয় দুস্থদের, সেই পরিমাণ খাবারসহ ১০০ প্যাকেট করে বিতরণ করতে হবে।

নির্দেশমতো ২২ মে বিকেলে ফরিদ আহমেদ সেই খাবার বিতরণও করেন। আর সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও স্বয়ং।

ঘটনাস্থলে গিয়ে ফরিদের জীবনের কাহিনি জেনেছে নিউজবাংলা। কিন্তু জানেননি ইউএনও।

ত্রাণ বিতরণে বাধ্য করা সেই ইউএনওকে সতর্ক করে প্রতিবেদন
ফরিদের কাহিনি প্রকাশ হলে পরদিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা তার বাসায় গিয়ে সব জেনে আসেন। বিকেলেই তাকে টাকা ফিরিয়ে দেয়া হয়

ফরিদ থাকেন চারতলা বাড়িতে, গেঞ্জির কারখানাও আছে। এটুকু সত্য। কিন্তু এর পেছনে আরও অনেক কাহিনি আছে।

সেই কারখানা বন্ধ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে। পরে সংসার চালাতে সেই ব্যক্তি কাজ নিয়েছেন আরেক কারখানায়, কিন্তু চোখের সমস্যায় সেই কাজও করতে পারেন না। সংসারের আয় নেই। আর তিনি যে বাসায় থাকেন, সেটি তাদের ছয় ভাই-বোনের। নিজের অংশ কমই।

এসব কথা না জেনেই ৩৩৩ নম্বরে ফোন করে খাদ্য চাওয়ায় কেবল বাড়ি দেখে আর কারখানা থাকার খবর শুনে তাকে ১০০ জনকে খাবার বিতরণে বাধ্য করেন ইউএনও আরিফা জহুরা।

সেদিন নিউজবাংলা প্রকাশ করে ‘ত্রাণ সত্যিই দরকার ছিল ফরিদের, ভুল ইউএনওর’ শিরোনামে সংবাদ।

তোলপাড় হলে পরদিন ফরিদ আহমেদের বাড়িতে একে একে বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন গিয়ে তার জীবনের কাহিনি শুনে আসেন। সেদিন বিকেলের দিকে চুপি চুপি ফরিদকে টাকা ফেরত দেয়া হয়।

ত্রাণ বিতরণে বাধ্য করা সেই ইউএনওকে সতর্ক করে প্রতিবেদন
ফরিদ আহমেদকে টাকা তুলে দেয়ার ঘটনাতেও লুকোচুরি করেছে প্রশাসন। নিজেরা না গিয়ে টাকা দেয়া হয় স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটির এই নেতাকে দিয়ে

এই টাকা ফরিদের হাতে তুলে দিয়েছেন দেওভোগ নাগবাড়ি পঞ্চায়েত কমিটির উপদেষ্টা সাহিনুর আলম।

গণমাধ্যমের কাছে তিনি দাবি করেছেন, এই টাকা তিনি নিজে দিয়েছেন। তবে ডিসি মোস্তাইন বিল্লাহ নিশ্চিত করেছেন, টাকা দেয়া হয়েছে প্রশাসনের তহবিল থেকে।

তদন্ত কমিটি গঠন

গত ২২ মে ফরিদ আহমেদ ত্রাণ বিতরণে বাধ্য হওয়ার পর সেই রাতেই বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়।

পরদিন সকালেই ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের কথা জানান ডিসি মোস্তাইন বিল্লাহ।

কমিটির প্রধান করা হয় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শামীম বেপারীকে। অন্য দুই সদস্য হলেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা রেজাউল করিম ও সহকারী কমিশনার কামরুল হাসান মারুফ।

কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু তারা তা না দিয়ে ২৬ মে আরও সাত দিন সময় চেয়ে আবেদন করেন। ২৭ মে সে আবেদন গ্রহণ করেন ডিসি।

তবে সময় বাড়ানোর পর ওই ঘটনাটির তদন্ত কেন তিন দিনে শেষ করা যায়নি, সেই প্রশ্নের জবাব দেয়নি প্রশাসন।

আরও পড়ুন:
সেই ইউএনওকে কি বাঁচাতে চাইছে প্রশাসন?
দুস্থকে দিয়ে ইউএনওর ত্রাণ বিতরণ: তদন্তে আরও সাত দিন
ইউএনওর ফরিদ-কাণ্ড: এবার তদন্তে গড়িমসি
‘অনেক ধন্যবাদ নিউজবাংলাকে’
ত্রাণ নিয়ে আরেক ইউএনও দেখলেন তিনতলা বাড়ি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নিখোঁজ ত্ব-হাকে ফলো করা দুই যুবক কে?

নিখোঁজ ত্ব-হাকে ফলো করা দুই যুবক কে?

পরিবারের দাবি, যদি অপরিচিত দুই ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করে থাকে, সেটা যদি তিনি বুঝতে পারেন, তাহলে কেন তিনি সেটা পুলিশকে জানালেন না? এই দুই ব্যক্তি কে? তারা কি তার অনুসারী নাকি তার বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নতা পোষণ করেন? দুই স্ত্রীর পরিবারের মধ্যে কি কোনো অমিল ছিল?

গত বৃহস্পতিবার ( ১০ জুন) সকালে আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান তার মাকে জানিয়েছিলেন, বেশ কদিন ধরে দুই অপরিচিত ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করছে। এ নিয়ে জীবন শঙ্কায় আছেন তিনি। তারা তার ক্ষতি করতে পারে। ঢাকায় গেলে তিনি নিরাপদে থাকবেন।

মঙ্গলবার নিউজবাংলার সঙ্গে কথা বলেন ত্ব-হার মা আজেদা বেগম। তিনি বলেন, ওইদিন বিকেল ৪টার দিকে ত্ব-হা তার তিন অনুসারীসহ ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। শুক্রবার সাভারের একটি মসজিদে বক্তৃতা শেষ করে কিছুদিন ঢাকায় থাকার কথা ছিল তার।

আজেদা বেগম বলেন, ‘ঢাকায় যাবার সময় হঠাৎ আমাকে বুকে জড়িয়ে খুব কান্না করছিল ত্ব-হা। নামাজে সেজদায় পড়ে তার নিরাপত্তা ও নিরাপদে ফিরে আসার জন্য দোয়াও করতে বলেছিল। এরপর ওই রাত থেকেই নিখোঁজ ত্ব-হা।

‘আমার ছেলের একটি মোবাইল ফোন ছিল। সেটি দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ। হঠাৎ শুক্রবার বিকালে সেই ফোন নম্বর থেকে কল আসে। আমার সঙ্গে মেহেদী হাসান পরিচয়ে এক ব্যক্তি কথা বলে। এরপর তারা একটি ইমো আইডি খুলতে বললে আমার মেয়ে সেই আইডি খোলে।’

আজেদা বেগম বলেন, শনিবার আবার সেই ফোন নম্বর থেকে তার কাছে কল আসে। যিনি ফোন করেছেন, তিনি বলেন, তার ছেলে ও তার তিন সঙ্গী ভালো আছে। আজেদা বেগম জানতে চান, ত্ব-হা কোথায় আছে। তিনি ছেলের সঙ্গে কথা বলতে চান।

‘তখন তারা টাকা দাবি করে,’ বলেন আজেদা বেগম। ‘যখন টাকা দাবি করছিল তখন আমরা ইমো আইডিটি বন্ধ করে দেই।’

‘আমার প্রশ্ন, আমার ছেলের বন্ধ নম্বর তারা পেল কী করে? আসলে তারা কারা?’

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান বৃহস্পতিবার রাত ২টা ৩৭ মিনিটে রাজধানীর গাবতলী থেকে সর্বশেষ যোগাযোগ করেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন নাহার সারার সঙ্গে।

গুগল ম্যাপে দেখা গেছে, ত্ব-হার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসা থেকে তার গাড়ির দূরত্ব ছিল ৬ দশমিক ৪ কিলোমিটার দূরে। সেখানে পৌঁছাতে সময় লাগতো ১৮ মিনিট। এর কিছুক্ষণ পর থেকেই তার ফোন বন্ধ, তিনি নিঁখোজ।

আদনানের দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন নাহার সারা মিরপুর আল ইদফান ইসলামী গার্লস মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক। তিন মাস আগে তাদের বিয়ে হয়েছিল।

সাবিকুন নাহার সারা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুরে আমার স্বামী আমাকেও জানিয়েছে যে, দুই মোটরসাইকেল আরোহী তাকে ফলো করছে। খুব চিন্তিত ছিলেন তিনি।’

প্রথম স্ত্রী আবিদা নুরকে নিয়ে তিনি রংপুরের শালবনের চেয়ারম্যানের গলিতে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

আরও পড়ুন:তিন সঙ্গীসহ ধর্মীয় বক্তা নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ

পুলিশ জানিয়েছে, আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনানের সঙ্গে নিখোঁজ অপর তিন ব্যক্তির নাম আব্দুল মুহিত, মোহাম্মদ ফিরোজ ও গাড়িচালক আমির। তারা সবাই তার অনুসারী। ওই রাত থেকে তাদের সবার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।

ত্ব-হার মা আজেদা বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাতে ছেলের নম্বর যখন বন্ধ পাই, তখন থেকেই দুশ্চিন্তা বাড়তে শুরু করে। তাকে দুইজন ফলো করছিল, সেই কথা মনে পড়ে। আমি ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়ি। এরপর যখন কোথাও তার খোঁজ মিলছে না, তখন আমি শুক্রবার রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ জিডি করি।’

তিনি বলেন, ‘আমার সংসারে একমাত্র আয়ের উৎস ত্ব-হা। তার বাবা নেই। সে-ই সংসার চালায়। একমাত্র বোনের পড়াশুনার খরচও সে-ই চালাত।

সে নগরীর সুরভী উদ্যানের বিপরীতে প্রজন্ম নামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। সেটির প্রধান সে। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কুরআন শিক্ষা দেয়া হতো ওই স্কুলে। করোনার কারণে স্কুলটি দেড় বছর ধরে বন্ধ। আমি একজন মা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ছেলের সন্ধান চাই।’

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ত্ব-হার খোঁজ পেতে এরই মধ্যে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) রাজিবুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের চার সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়েছে। তারা মাঠে কাজ করছেন। সীমান্তের থানা ও ব্যক্তিগত সোর্সে তার ছবি দেয়া হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে নজরদারিও।

যে সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ

পরিবারের দাবি, যদি অপরিচিত দুই ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করে থাকে, সেটা যদি তিনি বুঝতে পারেন, তাহলে কেন তিনি সেটা পুলিশকে জানালেন না? এই দুই ব্যক্তি কে? তারা কি তার অনুসারী নাকি তার বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নতা পোষণ করেন? দুই স্ত্রীর পরিবারের মধ্যে কি কোনো অমিল ছিল?

এমনকি তার দেয়া বক্তব্য (ফেসবুক ও ইউটিউব) বিশ্লেষণ করছে পুলিশ।

যেভাবে আলোচিত বক্তা হন ত্ব-হা

আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান রংপুর লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি, রংপুর সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। দর্শন বিষয়ে অনার্স মাস্টার্স পড়েন রংপুর কারমাইকেল কলেজে। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি আহলে হাদিস সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ইসলামী বই প্রচুর পড়তেন। নিজের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউবে ধর্মীয় আলোচনা করতেন। বিভিন্ন মসজিদে নামাজও পড়াতেন তিনি।

তার ধর্মীয় আলোচনার পক্ষে-বিপক্ষে আলাচনা এবং সমালোচনা দুটোই হতো।

নগরীতে মানববন্ধন

‘সচেতন রংপুর’, ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে রংপুর’সহ বিভিন্ন ব্যানারে মঙ্গলবার বিকেলে রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন হয়। অংশগ্রহণকারীরা আগামী ২৪ ঘণ্টায় মধ্যে আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের সন্ধান দাবি করেন। না হলে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেন তারা।

সেখানে বক্তব্য রাখেন ত্ব-হার বন্ধু রাজিব আহমেদ পিয়াল, ফয়সাল আহমেদ (নিখোঁজ চালকের ভাই), আরিফুল আবির, রাকিবুলসহ অনেকে।

যা বলছে পুলিশ

রংপুর মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আলতাব হোসেন জানান, ত্ব-হার নিখোঁজের বিষয়ে থানায় জিডি করা হয়েছে। তার মা থানায় জিডিটি করেন। জিডির বিষয়ে তদন্ত চলছে।

আরও পড়ুন:
সেই ইউএনওকে কি বাঁচাতে চাইছে প্রশাসন?
দুস্থকে দিয়ে ইউএনওর ত্রাণ বিতরণ: তদন্তে আরও সাত দিন
ইউএনওর ফরিদ-কাণ্ড: এবার তদন্তে গড়িমসি
‘অনেক ধন্যবাদ নিউজবাংলাকে’
ত্রাণ নিয়ে আরেক ইউএনও দেখলেন তিনতলা বাড়ি

শেয়ার করুন

জামাই-শ্বশুর মিলে ব্যবসায়ীর আট লাখ টাকা চুরি, গ্রেপ্তার ১

জামাই-শ্বশুর মিলে ব্যবসায়ীর আট লাখ টাকা চুরি, গ্রেপ্তার ১

টাকা চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার আয়াদ আলী শেখ। ছবি: নিউজবাংলা

দোকানের সামনে পরিষ্কার করার সময় এরশাদকে ময়লা দেখিয়ে দেন জামাই-শ্বশুর। সেই ময়লা সরানোর সময় তারা টাকার ব্যাগটি নিয়ে সটকে পড়েন।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বিকাশ ব্যবসায়ীর দোকান থেকে চুরি হওয়া আট লাখ টাকার ব্যাগ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

জামাই-শ্বশুর মিলে টাকার ব্যাগ নিয়ে পালানোর ৫ ঘণ্টা পর তাদের একজনকে গ্রেপ্তার ও টাকার ব্যাগটি উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মেহেদী হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ওসি নিউজবাংলাকে জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বাড়ি থেকে টাকার ব্যাগটি নিয়ে বাগদা বাজারের মেঘলা টেলিকমে যান দোকানের মালিক বিকাশ ব্যবসায়ী এরশাদ মণ্ডল। ব্যাগটি ড্রয়ারে রেখে দোকানের চারপাশ ঝাড়ু দেয়ার সময় সেখানে যান তরনীপাড়ার আয়াদ আলী শেখ ও তার জামাই ভিটা শাখইল গ্রামের জালাল উদ্দীন।

ওই সময় তারা এরশাদকে দোকানের পাশে ময়লা দেখিয়ে দেন। সেই ময়লা সরানোর সময় জামাই-শ্বশুর মিলে টাকার ব্যাগটি নিয়ে সটকে পড়েন।

তিনি আরও জানান, এরশাদ দোকানে ঢুকে ড্রয়ার খুলে টাকার ব্যাগটি না পেয়ে সিসিটিভি ফুটেজে চোর খুঁজতে থাকেন। চোর শনাক্তে ব্যর্থ হয়ে পরে তিনি থানায় খবর দেন।

অভিযোগ পেয়ে দুপুর ২টার দিকে শীবপুরের তরণীপাড়া এলাকা থেকে আয়াদ আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেয়া তথ্যে ওই বাড়ি থেকে ৮ লাখ ৬ হাজার টাকাসহ ব্যাগটি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় আয়াদ ও জালালের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে জানিয়ে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, বুধবার আয়াদকে আদালতে পাঠানো হবে। পলাতক জালালকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
সেই ইউএনওকে কি বাঁচাতে চাইছে প্রশাসন?
দুস্থকে দিয়ে ইউএনওর ত্রাণ বিতরণ: তদন্তে আরও সাত দিন
ইউএনওর ফরিদ-কাণ্ড: এবার তদন্তে গড়িমসি
‘অনেক ধন্যবাদ নিউজবাংলাকে’
ত্রাণ নিয়ে আরেক ইউএনও দেখলেন তিনতলা বাড়ি

শেয়ার করুন

সড়কে ঝরল দুইজনের প্রাণ

সড়কে ঝরল দুইজনের প্রাণ

শরীয়তপুর থেকে একটি কাভার্ড ভ্যান দ্রুতগতিতে মাদারীপুরের দিকে আসছিল। তার পেছনে দ্রুতগতিতে আসছিল মোটরসাইকেলটি। তাতে তিনজন ছিলেন। কাভার্ড ভ্যানটি হঠাৎ ব্রেক করলে পেছনে থাকা মোটরসাইকেলটি সজোরে এসে কাভার্ড ভ্যানের পেছনে ধাক্কা খায়। এতে মোটরসাইকেলের তিন আরোহীই ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই দুইজন মারা যান।

মাদারীপুরে কাভার্ড ভ্যানের পেছনে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। আরেকজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে মাদারীপুরের আড়িয়াল খাঁ সেতু সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর এলাকার মো. শহীদুল ইসলামের ছেলে আব্দুর রহমান ও শরীয়তপুর ভেদরগঞ্জ উপজেলার উত্তর চরকুমারিয়া এলাকার দিদারুল হাওলাদারের ছেলে ইসমাইল হোসেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শরীয়তপুর থেকে নিউ পালং ট্রান্সপোর্ট (ঢাকা মেট্রো ট- ১৪২৯৩৫) নম্বরের একটি কাভার্ড ভ্যান দ্রুতগতিতে মাদারীপুরের দিকে আসছিল। তার পেছনে দ্রুতগতিতে আসছিল মোটরসাইকেলটি। তাতে তিনজন ছিলেন। কাভার্ড ভ্যানটি হঠাৎ ব্রেক করলে পেছনে থাকা মোটরসাইকেলটি সজোরে এসে কাভার্ড ভ্যানের পেছনে ধাক্কা খায়। এতে মোটরসাইকেলের তিন আরোহীই ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান। ঘটনাস্থলেই দুইজন মারা যান। আরেকজন গুরুতর আহত হন। তাকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করলেও এর চালক পালিয়ে যান।

মাদারীপুর সদর থানার ওসি কামরুল হাসান মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুই জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সেই ইউএনওকে কি বাঁচাতে চাইছে প্রশাসন?
দুস্থকে দিয়ে ইউএনওর ত্রাণ বিতরণ: তদন্তে আরও সাত দিন
ইউএনওর ফরিদ-কাণ্ড: এবার তদন্তে গড়িমসি
‘অনেক ধন্যবাদ নিউজবাংলাকে’
ত্রাণ নিয়ে আরেক ইউএনও দেখলেন তিনতলা বাড়ি

শেয়ার করুন

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা

মিঠাপুকুরের বিভিন্ন হাটবাজারে, বদরগঞ্জ এলাকায় প্রতিদিনই আমের হাট বসে। কিন্তু এই আমরাজ্যে যোগাযোগব্যবস্থা নাজুক। বড় অংশই মাটির কাঁচা রাস্তা।

এবারের কালবৈশাখীতে অনেক জায়গায় হাঁড়িভাঙা আমের গুটি ঝরে পড়েছিল। গাছে অবশিষ্ট যা ছিল, তা নিয়েও দুশ্চিন্তার কমতি ছিল না চাষিদের। শেষ পর্যন্ত নতুন করে বড় ধরনের কোনো ঝড় না আসায় সেই দুশ্চিন্তা কেটেছে। গাছে যে আম আছে, তা নিয়ে খুশি চাষিরা।

তবে শেষ পর্যন্ত এই আম কীভাবে দেশ-বিদেশে বিপণন করবেন, তা নিয়ে এখন নতুন দুশ্চিন্তা তাদের। অতি সুস্বাদু হাঁড়িভাঙা আম বেশি পেকে গেলে দ্রুতই নষ্ট হয়ে যায়। সংরক্ষণ করার ব্যবস্থাও নেই চাষি এবং ব্যবসায়ীদের কাছে।

রংপুর কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, রংপুরে এবার ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙার ফলন হয়েছে। এর বেশির ভাগই (১ হাজার ২৫০ হেক্টর) মিঠাপুকুর উপজেলায়। বদরগঞ্জে ৪০০ হেক্টরে চাষ হয়েছে। এ ছাড়া রংপুর মহানগর এলাকায় ২৫ হেক্টর, সদর উপজেলায় ৬০, কাউনিয়ায় ১০, গঙ্গাচড়ায় ৩৫, পীরগঞ্জে ৫০, পীরগাছায় ৫ ও তারাগঞ্জ উপজেলায় ১৫ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে।

শুক্রবার (১১ জুন) বিকেলে মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার দুই ধারে, কৃষিজমি, ধানি জমিতে সারি সারি আমগাছে আম ঝুলছে। গাছের ডালে, ডগায় ঝুম ঝুম আম। আম প্রায় পেকে গেছে, তা পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষিরা।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মাসুদুর রহমান সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, দেশের অন্যান্য জায়গার আম প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ার পর হাঁড়িভাঙা আম বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসে। জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে এই আম বাজারে আসবে। অর্থাৎ ২০ জুনের পর বাজারে হাঁড়িভাঙা পাওয়া যাবে।

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা


সেটার স্বাদ এবং গন্ধ আলাদা। মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, এর আগে বাজারে হাঁড়িভাঙা আম পাওয়া গেলেও তা অপরিপক্ব।

তিনি বলেন, ‘শুরুতে আমের ওপর দিয়ে কিছুটা দুর্যোগ গেলেও আমরা যে টার্গেট করেছি, তা পূরণ হবে বলে আশা করছি।’

যোগাযোগব্যবস্থা নাজুক

আমের রাজধানী-খ্যাত রংপুরের পদাগঞ্জ হাটে বসে সবচেয়ে বড় হাট। এর পরের অবস্থান রংপুরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা। এ ছাড়া মিঠাপুকুরের বিভিন্ন হাটবাজারে, বদরগঞ্জ এলাকায় প্রতিদিনই আমের হাট বসে। কিন্তু এই আমরাজ্যে যোগাযোগব্যবস্থা একেবারেই নাজুক। বড় অংশই মাটির কাঁচা রাস্তা। ফলে অল্প বৃষ্টিতে কাদাজলে নাকাল হয় আম ক্রেতা ও বিক্রেতা।

পদাগঞ্জ হাটের ইজারাদার ফেরদৌস আহমেদ ফেদু বলেন, ‘প্রতিবছর এই হাটের সরকারি মূল্য বাড়ে। কিন্তু সুযোগ-সুবিধা বাড়ে না। বৃষ্টিতে হাঁটুপানি হয়। পরিবহন ঠিকমতো আসতে পারে না। আমরা চাই যোগাযোগব্যবস্থাটা উন্নত হলে আম নিয়ে আরো ভালো ব্যবসা হবে।’

আম বাজারজাত নিয়ে দুশ্চিন্তা

যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছেন চাষিরা। করোনার কারণে সঠিক সময়ে আম বাজারজাত ও পরিবহন সুবিধা বাড়ানো না গেলে মুনাফা নিয়ে শঙ্কা আছে তাদের।

আমচাষি আলী আজগার আজা বলেন, ‘আমার তিন একর জমিতে আম আছে। যে বাজার আছে তাতে জায়গা হয় না। সড়কে সড়কে আমরা আম বিক্রি করি। একটু বৃষ্টি হলেই কাদা হয় হাঁটু পর্যন্ত। ভ্যান, অটোরিকশা, ছোট ট্রাক, বড় ট্রাক আসতে পারে না। আম নিয়ে খুব চিন্তা হয়। এমনিতে বৈশাখী ঝড়ে আম পড়ে গেছে। এরপরেও যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে আম বেচতে পারব না। কারণ আম বিক্রির জন্য কোনো শেড তৈরি করা হয় না বা হয়নি।’

মাহমুদুল হক মানু নামে আরেক চাষি বলেন, ‘পদাগঞ্জে এত বড় একটা হাট, কিন্তু রাস্তা নিয়ে কারো কোনো চিন্তা নাই। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা বিক্রি হয়, অথচ ব্যাংক নাই। রংপুর যায়া ব্যাংকোত টাকা দিয়া আসতে হয়।’

মনসুর আলী নামে এক ব্যবসায়ী ও চাষিরা বলেন, ‘এবারে আমের একটু সংকট হবে। আমের যদি দাম না পাই, তাহলে লোকসান হবে না। কিন্তু অন্যান্য বার যে মুনাফা পাইছি, এবার সেটা পাব না।’

তিনি বলেন, ‘আমার সঠিক দামটা আমরা যেন পাই। এ জন্য গাড়ির ব্যবস্থা চাই, ট্রাক বা ট্রেন হলে ভালো হয়। কারণ, ভ্যানে করে, সাইকেলে করে শহরে আম নেয়া খুবই কঠিন।’

আম বিক্রি করে ভাগ্যবদল অনেকের

স্বাদ এবং গন্ধে অতুলনীয় হাঁড়িভাঙা আমের মৌসুমি ব্যবসা করে ভাগ্য বদল করেছেন অনেকেই। মাত্র এক মাসের ব্যবসায় সংসারের অভাব এবং বেকারত্ব দূর হয়েছে অসংখ্য পরিবারের।

রংপুরের মিঠাপুকুর তেয়ানী এলাকার যুবক রমজান আলী বলেন, ‘আমি ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। প্রতিবছর আমি আমের সময় বাড়িতে আসি। নিজের পরিচয় গোপন রেখে ফেসবুকে পেজ খুলেছি। গত বছর ১০ লাখ টাকার আম বিক্রি করেছি। এবারও করব। এতে করে আমার এক বছরের ঢাকায় থাকার খরচ উঠে যায়।’

বদরগঞ্জের শ্যামপুর এলাকার শিক্ষিত যুবক সাজু বলেন, ‘আমি কারমাইকেল কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স-মাস্টার্স করেছি। চাকরির অনেক খোঁজ করেছি বাট হয়নি। কিন্তু পরে জমি লিজ নিয়ে আম চাষ শুরু করেছি। এখন চাকরি করা নয়, চাকরি দিচ্ছি। আমার চারটি বাগান আছে। সেখানে ১৬ জন লোক কাজ করে।’

এ রকম শত শত যুবক আছেন, যারা অনলাইনে কিংবা জমি ইজারা নিয়ে আম চাষ করে ভাগ্য বদল করেছেন।

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা


আম সংরক্ষণ ও গবেষণা দাবি

আমবাগানের মালিক আখিরাহাটের বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমি ১৯৯২ সাল থেকে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ করে আসছি। এখন পর্যন্ত আমার ২৫টির বেশি বাগান রয়েছে।

‘আমার দেখাদেখি এখন রংপুরে হাঁড়িভাঙা আমের কয়েক লাখ গাছ রোপণ করেছেন আমচাষিরা। আমার মতো অনেকের বড় বড় আমবাগান রয়েছে।’

তিনি বলেন, আম-অর্থনীতির জন্য শুরু থেকেই হাঁড়িভাঙা আমের সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন, আধুনিক আম চাষ পদ্ধতি বাস্তবায়ন, গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনসহ হাঁড়িভাঙাকে জিআই (পণ্যের ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে ঘোষণার দাবি করে আসছিলাম আমরা। কিন্তু এই দাবি এখনও বাস্তবায়ন বা বাস্তবায়নের জন্য যে উদ্যোগ থাকার কথা, সেটি চোখে পড়ে না।’

তিনি বলেন, ‘এই আম নিয়ে গবেষণা এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকলেও আমের উৎপাদন ও বাগান সম্প্রসারণ থেমে নেই। এ নিয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

যা বলেন জেলা প্রশাসক

রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, আগামী ২০ জুন সরাসরি কৃষকের আম বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই দিন সদয় অ্যাপস নামে একটি হাঁড়িভাঙা আম বিক্রির অ্যাপস চালু করা হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, হাঁড়িভাঙা আমের বাজারজাত করতে যাতে কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়, সেটি মনিটরিং করা হবে। আম বাজারজাত করবে যেসব পরিবহন, সেখানে স্টিকার লাগানো থাকবে, যাতে পথে-ঘাটে কোনো বিড়ম্বনার শিকার হতে না হয়। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি সরকারি পরিবহন সুবিধার বিষয়টিও দেখা হবে।

আরও পড়ুন:
সেই ইউএনওকে কি বাঁচাতে চাইছে প্রশাসন?
দুস্থকে দিয়ে ইউএনওর ত্রাণ বিতরণ: তদন্তে আরও সাত দিন
ইউএনওর ফরিদ-কাণ্ড: এবার তদন্তে গড়িমসি
‘অনেক ধন্যবাদ নিউজবাংলাকে’
ত্রাণ নিয়ে আরেক ইউএনও দেখলেন তিনতলা বাড়ি

শেয়ার করুন

সমর হত্যাকাণ্ডে ইউপিডিএফ কর্মী গ্রেপ্তার: অর্ধদিবস হরতাল

সমর হত্যাকাণ্ডে ইউপিডিএফ কর্মী গ্রেপ্তার: অর্ধদিবস হরতাল

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাঘাইছড়িতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে ঢুকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য সমর বিজয় চাকমাকে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

রূপায়ন চাকমাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বুধবার সকাল ৬ থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অর্ধদিবস হরতালের ডাক দিয়েছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-প্রসিত গ্রুপ)।

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে ঢুকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য সমর বিজয় চাকমাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় রূপায়ন চাকমা নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করেছে বাঘাইছড়ি থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার মাচালং বাজার থেকে রূপায়ন চাকমাকে নিরাপত্তা বাহিনী আটকের পর সন্ধ্যায় বাঘাইছড়ি থানায় হস্তান্তর করেছে বলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে জানিয়েছেন বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন।

আনোয়ার হোসেন আরও জানান, রূপায়ন চাকমা ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-প্রসিত গ্রুপ) সমর্থিত সাজেক ইউনিয়নের পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ’র(পিসিপি) সভাপতি। তিনি সমর বিজয় চাকমার হত্যা মামলার একজন আসামি।

এদিকে রূপায়ন চাকমাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বুধবার সকাল ৬ থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অর্ধদিবস হরতালের ডাক দিয়েছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-প্রসিত গ্রুপ)।

মঙ্গলবার বিকেলে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-প্রসিত গ্রুপ) সাজেক থানা ইউনিটের পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সদস্য কালোবরন চাকমা ও এল্টু চাকমা এই হরতালের ডাক দেন।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে ঢুকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য সমর বিজয় চাকমাকে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পরদিন ইউপি সদস্য বিনয় চাকমা বাঘাইছড়ি থানায় ১০ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৮ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

প্রধান আসামি করা হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) নেতা মনিময় চাকমাকে। ২১ দিনের মাথায় বাঘাইছড়ি চৌমুহনী বাজার থেকে সুমন চাকমা নামে একজনকে আটক করে পুলিশ। মঙ্গলবার আটক করা হলো রূপায়ন চাকমাকে।

আরও পড়ুন:
সেই ইউএনওকে কি বাঁচাতে চাইছে প্রশাসন?
দুস্থকে দিয়ে ইউএনওর ত্রাণ বিতরণ: তদন্তে আরও সাত দিন
ইউএনওর ফরিদ-কাণ্ড: এবার তদন্তে গড়িমসি
‘অনেক ধন্যবাদ নিউজবাংলাকে’
ত্রাণ নিয়ে আরেক ইউএনও দেখলেন তিনতলা বাড়ি

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন শান্ত থেকে কাজ করতে : মির্জা

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন শান্ত থেকে কাজ করতে : মির্জা

আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘একটা ষড়যন্ত্রকারী চক্র বলাবলি করছে আমাকে নাকি দল থেকে বহিষ্কার করেছে। আমাকে বহিষ্কারের বিষয়টা হাস্যকর। আমাকে কেন বহিষ্কার করবে? আমার বিরুদ্ধে এত ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত হওয়ার পরেও আমি শান্ত থেকে সব পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছি।'

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, ‘আজকে সন্ধ্যার একটু আগে বাংলার প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আমাকে মেসেজ দিয়েছেন। বলেছেন, তুমি শান্ত থেকে কাজ করতে থাকো। নিজের শরীরের প্রতি যত্ন নিও। কোম্পানীগঞ্জের সকল সমস্যা অচিরেই সমাধান করা হবে।’

মঙ্গলবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

কাদের মির্জা বলেন, ‘একটা ষড়যন্ত্রকারী চক্র বলাবলি করছে আমাকে নাকি দল থেকে বহিষ্কার করেছে। আমাকে বহিষ্কারের বিষয়টা হাস্যকর। আমাকে কেন বহিষ্কার করবে? আমার বিরুদ্ধে এত ষড়যন্ত্র চক্রান্ত হওয়ার পরেও আমি শান্ত থেকে সব পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছি।'

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কোম্পানীগঞ্জে যে সমস্যা বিরাজ করছে, তা যদি আরও আগে থেকে বিভিন্ন পর্যায় থেকে হস্তক্ষেপ করা হতো, তাহলে এর সমাধান হতো। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এ বিষয়ে যাদের দায়িত্ব ছিল তারা হস্তক্ষেপ করেননি।’

কাদের মির্জা বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে খারাপ মানুষদের বের করে দিলে প্রতিষ্ঠানের কোনো ক্ষতি হয় না। ঠিক তেমনি আওয়ামী লীগের মধ্যে যে সকল অপরাজনীতির হোতারা রয়েছেন, তাদেরকে বের করে দিলে আওয়ামী লীগ দুর্বল হবে না বরং শক্তিশালী হবে।'

আরও পড়ুন:
সেই ইউএনওকে কি বাঁচাতে চাইছে প্রশাসন?
দুস্থকে দিয়ে ইউএনওর ত্রাণ বিতরণ: তদন্তে আরও সাত দিন
ইউএনওর ফরিদ-কাণ্ড: এবার তদন্তে গড়িমসি
‘অনেক ধন্যবাদ নিউজবাংলাকে’
ত্রাণ নিয়ে আরেক ইউএনও দেখলেন তিনতলা বাড়ি

শেয়ার করুন

প্রচারে নারী প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ

প্রচারে নারী প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে আকলিমা বেগম।

সংরক্ষিত আসনে মহিলা মেম্বার পদপ্রার্থী আকলিমা বেগম বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে আমার জনপ্রিয়তা ও সমর্থন দেখে সালেহা বেগম আমার বিরুদ্ধে নানানভাবে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে আমি বিপুল ভোটে নির্বাচনে বিজয়ী হব।’

ভোলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সংরক্ষিত আসনে মহিলা মেম্বার পদপ্রার্থী আকলিমা বেগম প্রচারে নামায় তাকে ও তার সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হামলায় আকলিমা ও তার সমর্থকসহ প্রায় ১৩ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে ভোলা শহরের একটি পত্রিকা অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের মহিলা মেম্বার প্রার্থী আকলিমা বেগম।

আকলিমা বেগম অভিযোগ করেন, আগামী ২১ জুন আসন্ন ওই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি তার প্রতীক (বক) নিয়ে প্রচারে নামতে চাইলে তার প্রতিপক্ষ প্রার্থী মোসা. ছালেহা বেগম তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। তাদের ভয়ে প্রচারণা শুরু করতে সাহস পাননি তিনি।

আকলিমা বলেন, ‘মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় ভোটারদের সমর্থনে নির্বাচনি প্রচারে নামি। দুপুরের দিকে সাচড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুর্চি বাড়ির সামনে এলে ছালেহা বেগমের ছেলে মো. রুবেল প্রায় ৩০টি মোটরসাইকেল নিয়ে আমাকে প্রচার না চালিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। এ সময় আমি প্রতিবাদ করলে রুবেলের নেতৃত্বে তার ক্যাডার বাহিনী আমাকেসহ আমার সমর্থকদের রড, লাঠি ও হকিস্টিক দিয়ে মারধর করেন। পরে স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেন।’

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে আমার জনপ্রিয়তা ও সমর্থন দেখে সালেহা বেগম আমার বিরুদ্ধে নানানভাবে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে আমি বিপুল ভোটে বিজয়ী হব।’

এ সময় তিনি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও প্রশাসনের সহযোগিতা দাবি করেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মোসা. ছালেহা বেগমের ছেলে মো. রুবেল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসে চাকরি করি। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অফিসের কাজে ব্যস্ত ছিলাম। আমার মায়ের নির্বাচনের কোন প্রচারে আমি যাই না।’

ভোলা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন আল মামুন বলেন, ‘ওই প্রার্থী উপজেলা বা জেলা নির্বাচন অফিসে লিখিত অভিযোগ করলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন:
সেই ইউএনওকে কি বাঁচাতে চাইছে প্রশাসন?
দুস্থকে দিয়ে ইউএনওর ত্রাণ বিতরণ: তদন্তে আরও সাত দিন
ইউএনওর ফরিদ-কাণ্ড: এবার তদন্তে গড়িমসি
‘অনেক ধন্যবাদ নিউজবাংলাকে’
ত্রাণ নিয়ে আরেক ইউএনও দেখলেন তিনতলা বাড়ি

শেয়ার করুন