সেই ঠিকাদার ছিনতাই মামলায় গ্রেপ্তার

ছিনতাই মামলায় গ্রেপ্তার

বরগুনায় এলজিইডির প্রকৌশলীকে মারধর করা ঠিকাদার ফরহাদ জমাদ্দারকে ছিনতাই মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

মামলায় বলা হয়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঠিকাদারি কাজের শ্রমিকদের বিলের টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন সাগর। পথে ফরহাদ জোমাদ্দারসহ ১০-১২ জন সাগর ও তার চার সঙ্গীর গতিরোধ করে চারলাখ টাকা ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। এ সময় বাধা দিলে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে চারটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বরগুনা সদর উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানকে মারধর করা ঠিকাদার ফরহাদ জমাদ্দারকে ছিনতাই মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সদর থানার ছিনতাই মামলায় শুক্রবার সকালে পৌরশহরের আমতলা এলাকার নিজের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, বরগুনা সদরের বাঁশবুনিয়া এলাকার সাইফুল ইসলাম সাগর নামের এক ঠিকাদারের করা ছিনতাই মামলায় ফরহাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহষ্পতিবার রাতে ফরহাদ জমাদ্দার, তার ছেলে, ভায়রার ছেলেসহ ১১ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। ফরহাদ বরগুনা এলজিইডির তালিকাভুক্ত ঠিকাদার।

মামলায় বলা হয়, সাগর মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঠিকাদারি কাজের শ্রমিকদের বিলের টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে ফরহাদ জোমাদ্দারসহ ১০-১২ জন সাগর ও তার চার সঙ্গীর গতিরোধ করে চারলাখ টাকা ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। এ সময় বাধা দিলে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে চারটি মোটসাইকেল ভাংচুর করেন।

এর আগে ৭ মে ঠিকাদার ফরহাদ উপজেলা পরিষদের সামনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বরগুনা সদর উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানকে মারধর করেছিলেন।

মারধরের সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর উভয়ে সমঝোতা করেছিলেন।

বরগুনা সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম তারিকুল ইসলাম জানান, ছিনতাই মামলায় ফরহাদ জোমাদ্দারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
মন্ত্রীর ফোন ছিনতাই হলে সাধারণের কী অবস্থা: মোজাম্মেল
পরিকল্পনামন্ত্রীর মোবাইল ছিনতাই
অটোরিকশা ছিনতাই চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার
ছিনতাইকারীকে গণপিটুনি, পুলিশে হস্তান্তর
গলায় ছোরা ঠেকিয়ে ছিনতাই, হাতেনাতে আটক ৩

শেয়ার করুন

মন্তব্য

গৃহকর্মীর হাত ধরে মাদককারবারে দুই বন্ধু

গৃহকর্মীর হাত ধরে মাদককারবারে দুই বন্ধু

আল আমিন ও তার বন্ধু মোশাররফ আগ্রাবাদের একটি বাসায় এক সঙ্গে থাকেন। তাদের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন মাফিয়া বেগম। এ কাজের পাশপাশি মাফিয়া ইয়াবা বিক্রি করতেন। এক পর্যায়ে তারা দুইজন ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

চট্টগ্রামে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার তিন কারবারিকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের মাধ্যমে বুধবার বিকেলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

যাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে তারা হলেন, মাফিয়া বেগম, আল আমিন ও মো. মোশারফ হোসেন।

আগ্রাবাদ এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন নিউজবাংলাকে জানান, রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের ফুলকলি রোডের সামনে থেকে আল আমিনকে আটক করা হয়। তল্লাশি করে তার কাছ থেকে পাওয়া যায় ২ পিস ইয়াবা।

পেশায় সিএনজি অটোরিকশা চালক আল আমিন জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তিনি ও তার বন্ধু মোশাররফ আগ্রাবাদের একটি বাসায় এক সঙ্গে থাকেন। তাদের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করেন মাফিয়া বেগম। গৃহকর্মীর কাজের পাশপাশি মাফিয়া বেগম ইয়াবা বিক্রি করতেন। এক পর্যায়ে তারা দুই জন ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

পরে মোশাররফ ও মাফিয়া বেগমের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মাফিয়া বেগমের বাসা থেকে জব্দ হয় ৫৩ পিস ইয়াবা।

আরও পড়ুন:
মন্ত্রীর ফোন ছিনতাই হলে সাধারণের কী অবস্থা: মোজাম্মেল
পরিকল্পনামন্ত্রীর মোবাইল ছিনতাই
অটোরিকশা ছিনতাই চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার
ছিনতাইকারীকে গণপিটুনি, পুলিশে হস্তান্তর
গলায় ছোরা ঠেকিয়ে ছিনতাই, হাতেনাতে আটক ৩

শেয়ার করুন

চিকিৎসক সংকটে বরিশাল মেডিক্যাল

চিকিৎসক সংকটে বরিশাল মেডিক্যাল

মতবিনিময় সভায় বরিশালের চিকিৎসক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ছবি: নিউজবাংলা

হাসপাতালের ৩ শ’ শয্যার করোনা ইউনিটে প্রতিদিন গড়ে ৩৫০ জন রোগী ভর্তি থাকে। আর এই ইউনিটের জন্য চিকিৎসক মাত্র ২ জন।

করোনা পরিস্থিতিতে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম অবস্থা। জনবল সংকটে পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে জটিল। সেখানে কমপক্ষে আরও ৫শ’ চিকিৎসক প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বরিশালের প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ।

বরিশাল সার্কিট হাউসে বুধবার দুপুরে হয় বরিশাল জেলার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ মতবিনিময় সভা। সেখানে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম উদ্বেগ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের নানা তথ্য জানান।

হাসপাতাল পরিচালক জানান, ১ হাজার শয্যার হাসপাতালটিতে করোনা সংক্রমণের কারণে বাড়ানো হয়েছে ৩শ’ শয্যা। হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার রোগী ভর্তি থাকে। এই বিপুল সংখ্যক রোগীর চিকিৎসায় জনবল নেই।

তিনি জানান, ৫শ’ শয্যার জন্যই প্রয়োজন ২২৪ জন চিকিৎসক, সেখানে এই হাসপাতালে রয়েছে মোট ১৯৭ জন। বর্তমানে করোনা ইউনিটের জন্য ৩শ’ বেড চালু হওয়ায় চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‘করোনা ইউনিট চালু করায় জনবল সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। আমাদের কমপক্ষে আরও ৫শ’ চিকিৎসক দরকার।’

বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার বলেন, ‘শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বরিশালের ৬ জেলার পাশাপাশি মাদারীপুর, গোপালগঞ্জসহ আশপাশের জেলা থেকে রোগী আসে। এমনিতেই এই হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট। এর মধ্যে বিভাগের সব করোনা রোগী যদি এখানেই আসে তাহলে তো বিপাকে পড়তে হবে।’

চিকিৎসক ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চাপ কমাতে এরইমধ্যে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালকে ১শ’ শয্যা বিশিষ্ট করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ৯টি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০ শয্যা করে করোনা ইউনিট চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি গর্ভবতী নারীদের জন্য বরিশাল নগরীর শিশু ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ২০ শয্যার করোনা ইউনিট করা হয়েছে।

এ ছাড়া বরিশালের আম্বিয়া মেমোরিয়াল হসপিটাল এবং সাউথ অ্যাপোলো মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা করার জন্য আলোচনা চলছে।

সভায় বরিশাল জেলার সিভিল সার্জন জানান, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৬৮টি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা অনুদান দিয়েছে সমাজের বিত্তবানরা। যা এখানে জরুরি নয়। এখানে দরকার সিপ্যাপ, এপ্যাপ মেশিন। যেসব মেশিনের দাম ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা করে। তা ছাড়া অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রয়োজন। সংকট কাটাতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

হাসপাতালের পরিচালক এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘করোনা ইউনিটে ৬১৬টি অক্সিজেন সিলিন্ডার রয়েছে। এর মধ্যে ৫৯৩টি ছোট সিলিন্ডার, ৫০টি বড় সিলিন্ডার। আরও ৭শ’ সিলিন্ডার চাওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ে।’

আরও পড়ুন:
মন্ত্রীর ফোন ছিনতাই হলে সাধারণের কী অবস্থা: মোজাম্মেল
পরিকল্পনামন্ত্রীর মোবাইল ছিনতাই
অটোরিকশা ছিনতাই চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার
ছিনতাইকারীকে গণপিটুনি, পুলিশে হস্তান্তর
গলায় ছোরা ঠেকিয়ে ছিনতাই, হাতেনাতে আটক ৩

শেয়ার করুন

ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর হামলা, আহত ৪

ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর হামলা, আহত ৪

ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর হামলার পর জোরদার করা হয় নিরাপত্তা। ছবি: নিউজবাংলা

অভিযোগ রয়েছে, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী মো. লিটন মিয়ার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বিজিবির এক সদস্য লিটনকে মারধর করেন।

শেরপুরের শ্রীবরদীতে কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় প্রশাসনের ওপর হামলা হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন বিজিবি ও পুলিশের দুজন করে সদস্য।

উপজেলার ঝগড়ারচর বাজারে বুধবার বেলা ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন ময়মনসিংহের বিজিবি ৩৯ ব্যাটালিয়নের সদস্য মো. রুবেল খন্দকার ও মো. সবুজ। পুলিশের সদস্যরা হলেন শ্রীবরদী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. আজহারুল হক ও কনস্টেবল মো. জান্নাত।

আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার বেলা ১টার দিকে লকডাউন বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আল আমীন ও সানাউল মোর্শেদের নেতৃত্বে উপজেলার ঝগড়ারচর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

এ সময় বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী মো. লিটন মিয়ার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বিজিবির এক সদস্য লিটনকে মারধর করেন।

লিটনের অভিযোগ, ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালে তার দোকান বন্ধ ছিল। তিনি দোকানের সামনে বসে মাস্ক বিক্রি করছিলেন। বিনা কারণে বিজিবির সদস্যরা তাকে মারধর করেন।

ঝগড়ারচর বাজার বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আলমাছ আলী বলেন, কাপড় ব্যবসায়ী লিটনকে মারধর করার খবরে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন।

শ্রীবরদীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা আক্তার অবশ্য লিটনকে মারধরের কথা অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় কাউকে মারধর করা হয়নি। বরং প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত সহনশীল আচরণ করেন। যারা ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার বিশ্বাস বলেন, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। থানায় একটি নিয়মিত মামলা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

আরও পড়ুন:
মন্ত্রীর ফোন ছিনতাই হলে সাধারণের কী অবস্থা: মোজাম্মেল
পরিকল্পনামন্ত্রীর মোবাইল ছিনতাই
অটোরিকশা ছিনতাই চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার
ছিনতাইকারীকে গণপিটুনি, পুলিশে হস্তান্তর
গলায় ছোরা ঠেকিয়ে ছিনতাই, হাতেনাতে আটক ৩

শেয়ার করুন

‘আইসোলেশনে রাখায়’ আত্মহত্যা

‘আইসোলেশনে রাখায়’ আত্মহত্যা

আরবপুর ইউপির চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলাম জানান, হাবিবুর করোনা আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তার ঘর ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র আলাদা করে দেয়ায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে জেনেছেন।

যশোরে করোনা আক্রান্ত এক রোগী আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে এ কথা জানান। তিনি বলেন, আইসোলেশনে রাখায় হাবিবুর রহমান অভিমান করে বুধবার ভোরে আত্মহত্যা করেছেন বলে তাদের ধারণা।

মৃত হাবিবুরের বাড়ি উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের খোলাডাঙ্গা গ্রামে। আরবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলাম জানান, হাবিবুর করোনা আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তার ঘর ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র আলাদা করে দেয়ায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে জেনেছেন।

হাবিবুরের ভাই জিয়াউর রহমান জানান, তার বড় ভাই ৩১ জুলাই থেকে করোনা পজিটিভ হয়ে বাড়িতে ছিলেন।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আবদুর রশিদ জানান, হাসপাতালে আনার আগেই হাবিবুরের মৃত্যু হয়। মৃতের গলায় দাগ রয়েছে।

যশোরে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজন মারা গেছেন। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় পজিটিভ হয়েছেন আরও ১৫০ জন।

যশোর সিভিল সার্জনের অফিসের তথ্য কর্মকর্তা বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আরও পড়ুন:
মন্ত্রীর ফোন ছিনতাই হলে সাধারণের কী অবস্থা: মোজাম্মেল
পরিকল্পনামন্ত্রীর মোবাইল ছিনতাই
অটোরিকশা ছিনতাই চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার
ছিনতাইকারীকে গণপিটুনি, পুলিশে হস্তান্তর
গলায় ছোরা ঠেকিয়ে ছিনতাই, হাতেনাতে আটক ৩

শেয়ার করুন

খাঁচাবন্দি বাঁশ ভল্লুক বানর শকুন উদ্ধার

খাঁচাবন্দি বাঁশ ভল্লুক বানর শকুন উদ্ধার

শ্রীমঙ্গল বার্ডক্লাব ও ব্রিডিং সেন্টার থেকে উদ্ধার করা বন্যপ্রাণী। ছবি: নিউজবাংলা

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘প্রাণীগুলো অবৈধভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। আমরা এগুলো উদ্ধার করে লাউয়াছড়া রেসকিউ সেন্টারে রেখেছি। পরে অবমুক্ত করা হবে।’

মৌলভীবাজার থেকে র‍্যাবের সহযোগিতায় দুটি বাঁশ ভল্লুক, একটি শকুন ও একটি বানর উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।

শ্রীমঙ্গল শহরের জালিয়া রোডের শ্রীমঙ্গল বার্ডক্লাব ও ব্রিডিং সেন্টার থেকে বুধবার বেলা ১১টার দিকে এগুলো উদ্ধার করা হয়।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় লোকজন জানান, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ড ফর আওয়ার এনডেনজারড ওয়াইল্ডলাইফের (Stand For Our Endangered Wildlife) মাধ্যমে বন্য প্রাণী আটকে রাখার খবর পায় বন বিভাগ। এরপর তারা র‍্যাবকে নিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘প্রাণীগুলো অবৈধভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। আমরা এগুলো উদ্ধার করে লাউয়াছড়া রেসকিউ সেন্টারে রেখেছি। পরে অবমুক্ত করা হবে।

‘প্রাণীগুলো কীভাবে কোথা থেকে আনা হয়েছে এবং এগুলো দিয়ে কী করা হবে তা জানার চেষ্টা চলছে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. মনিরুল এইচ খান জানান, বাঁশ ভল্লুক নিশাচর প্রাণী। এরা দিনে গাছের ওপর ঘুমায়। সিলেট, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য এলাকার গভীর জঙ্গলে এদের পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন:
মন্ত্রীর ফোন ছিনতাই হলে সাধারণের কী অবস্থা: মোজাম্মেল
পরিকল্পনামন্ত্রীর মোবাইল ছিনতাই
অটোরিকশা ছিনতাই চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার
ছিনতাইকারীকে গণপিটুনি, পুলিশে হস্তান্তর
গলায় ছোরা ঠেকিয়ে ছিনতাই, হাতেনাতে আটক ৩

শেয়ার করুন

একসঙ্গে জন্ম নেয়া চার যমজ এনআইসিইউতে

একসঙ্গে জন্ম নেয়া চার যমজ এনআইসিইউতে

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আড়াই কেজি হলে নবজাতকের ওজন ঠিক আছে বলে ধরে নেয়া হয়। কিন্তু ওই চার শিশুর ওজন ১ কেজি থেকে ১২০০ গ্রামের মধ্যে। এ জন্য তাদের অন্য একটি ক্লিনিকের এনআইসিইউতে রাখা হয়েছে।

বাবা-মা জানতেন তাদের ঘর আলো করে একসঙ্গে আসবে তিন সন্তান। সবশেষ পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে তা-ই জানিয়েছিলেন চিকিৎসক। কিন্তু তাদের অবাক করে ঘরে এসেছে আরও এক অতিথি। সব মিলিয়ে তারা চার ভাইবোন।

একসঙ্গে চার সন্তান প্রসব করে আলোচনায় কুমিল্লার লালবাগ গ্রামের গৃহবধূ সাহিদা আক্তার। কুমিল্লা শহরের একটি ক্লিনিকে মঙ্গলবার বিকেলে নরমাল ডেলিভারি হয় তার। ফুটফুটে নবজাতকদের মধ্যে দুটি মেয়ে।

গর্ভাবস্থার মোট সময়কাল ৪০ সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু সাহিদা চার সন্তান জন্ম দিয়েছেন ৩২ সপ্তাহের মাথায়। এতে ওজন কম হয়েছে শিশুগুলোর।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আড়াই কেজি হলে নবজাতকের ওজন ঠিক আছে বলে ধরে নেয়া হয়। কিন্তু ওই চার শিশুর ওজন ১ কেজি থেকে ১২০০ গ্রামের মধ্যে। এ জন্য তাদের অন্য একটি ক্লিনিকের এনআইসিইউতে রাখা হয়েছে।

সন্তানদের বাবা জিল্লুর রহমান একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। তিনি বলেন, সোমবার তার স্ত্রীর হঠাৎ প্রসবব্যথা ওঠে। পরে তাকে ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক শাহিদা আক্তারের তত্ত্বাবধানে নরমাল ডেলিভারি হয়েছে।

জিল্লুর বলেন, ‘আমার বড় মেয়ের নাম আতিয়া জাহান। তার বয়স ৪ বছর। এবার একসঙ্গে ৪ সন্তান হয়েছে। আমি শুকরিয়া আদায় করছি। তারা যেন সুস্থ ও ভালো থাকে এই দোয়া চাই।’

চিকিৎসক শাহিদা আক্তার বলেন, ‘এটা আমার চিকিৎসক জীবনের অন্যতম সুন্দর মুহূর্ত। মঙ্গলবার বেলা ২টা ১০ মিনিটে আমি অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশ করি। তবে সিজার করাতে হয়নি। প্রথম বাচ্চাটি স্বাভাবিক প্রসব হয়। পরে তিনটি বাচ্চার প্রথমে পা আসে। তাই কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
মন্ত্রীর ফোন ছিনতাই হলে সাধারণের কী অবস্থা: মোজাম্মেল
পরিকল্পনামন্ত্রীর মোবাইল ছিনতাই
অটোরিকশা ছিনতাই চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার
ছিনতাইকারীকে গণপিটুনি, পুলিশে হস্তান্তর
গলায় ছোরা ঠেকিয়ে ছিনতাই, হাতেনাতে আটক ৩

শেয়ার করুন

আইসিইউ শয্যা দখলে রাখতে ‘মাস্তানি’

আইসিইউ শয্যা দখলে রাখতে ‘মাস্তানি’

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটে চিকিৎসাধীন রোগী। ছবি: নিউজবাংলা

আইসিইউতে রাখার পর যাদের অক্সিজেন স্যাচুরেশন ভালো হয়ে যায়, অর্থাৎ ৯০-এর ওপরে চলে যায়, তাদের পরে সিলিন্ডার দিয়ে অক্সিজেন দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু পুরো বিষয়টি তাদের বোঝানো হলেও তারা বুঝতে চান না। জোর করে আটকে রাখেন শয্যা, আর এ নিয়ে কথা বলতে গেলেই মারতে পর্যন্ত আসেন রোগীরা। জেলা প্রশাসক বলছেন, করোনা ইউনিটে আইসিইউ বেড দখল নিয়ে কোনো মাস্তানি চলবে না।

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের আইসিইউ ওয়ার্ডে রোগীদের শয্যা দখল নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আইসিইউতে ভর্তি হওয়ার জন্য যখন রোগীর লাইন, তখন সুস্থ হওয়া রোগীরা আইসিইউ ছাড়তে চান না। তাদের সাধারণ ওয়ার্ডে নিতে চাইলে চিকিৎসক, নার্সদের মারধরের হুমকি দেয়া হয়, ভাঙচুরও করা হয়।

সুস্থ রোগীকে আইসিইউ থেকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করতে না পেরে পুলিশ এবং পরে বরিশাল প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপও নিতে হয়েছে।

হাসপাতালের পরিচালক বলছেন, যার অক্সিজেন স্যাচুরেশন ভালো রয়েছে, সেই রোগীও আইসিইউ শয্যা দখল করে বসে রয়েছেন। কোনোভাবেই তাদের বুঝিয়ে নামানো যাচ্ছে না।

অপরদিকে জেলা প্রশাসক বলছেন, আইসিইউ শয্যা দখল নিয়ে ‘মাস্তানি’ চলে। নেতার লোকজন পরিচয় দিয়ে দখল করে রাখা হয় বেড।

হাসপাতালটির করোনা ইউনিটে ২৬টি আইসিইউ শয্যা এখন চালু রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৬ জন রোগীর অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯০-এর ওপরে থাকলেও তারা আইসিইউ ছাড়তে চাইছেন না। এ নিয়ে প্রতিনিয়ত করোনা ইউনিটের দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে ঝামেলা হচ্ছে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে।

নগরীর কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন ২৫ জুন করোনার উপসর্গ নিয়ে আইসিইউ ওয়ার্ডের ৫নং শয্যায় এবং মো. অপু ৪নং শয্যায় ভর্তি হয়েছেন। তবে তারা সুস্থ। একইভাবে ৩নং ও ৭নং শয্যার রোগী সুস্থ হয়েও ছাড়ছেন না।

একজন নার্স জানান, আইসিইউতে রাখার পর যাদের অক্সিজেন স্যাচুরেশন ভালো হয়ে যায়, অর্থাৎ ৯০-এর ওপরে চলে যায়, তাদের পরে সিলিন্ডার দিয়ে অক্সিজেন দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু পুরো বিষয়টি তাদের বোঝানো হলেও তারা বুঝতে চান না। জোর করে আটকে রাখেন শয্যা, আর এ নিয়ে কথা বলতে গেলেই মারতে পর্যন্ত আসেন রোগীরা।

তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে হাসপাতালের পরিচালক বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ আসার খবরে অনেকে সরে পড়েছেন।

‘আমাদের শুধু বিরক্ত করে চিকিৎসাসেবায় ব্যাঘাত ঘটায় কিছু লোক। যাদের চিকিৎসা দরকার, তাদের আমরা সবটুকু দিয়ে চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করছি। যে রোগীর আইসিইউ শয্যা দরকার তাকে তো আর আমরা সাধারণ ওয়ার্ডে পাঠাই না। এটাই কেউ বুঝতে চায় না।’

হাসপাতালের পরিচালক এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কীভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম চালাব, সেটাই চিন্তার বিষয়। এর মধ্যে করোনা ইউনিটে আইসিইউ বেড দখল নিয়ে ঝামেলা লেগেই রয়েছে। আমার কাছে ফোন আসতেই থাকে। মানুষের তো বোঝা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘যেখানে একটি আইসিইউ শয্যার জন্য ৩০ থেকে ৩৫ জন রোগী অপেক্ষায় থাকেন, সেখানে এমনভাবে দখল করে রাখলে অন্য রোগীরা সমস্যার মধ্যে পড়েন।

‘মাস্তানি করা হয় সেখানে। ডাক্তার-নার্সদের হুমকি-ধমকিও দেয়া হয়। এর মধ্যে আমাদের একটি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলাও ভাঙচুর করা হয়েছে এই দ্বন্দ্বে। শিগগির আমরা কঠোর কোনো অবস্থানে যাব।’

জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার বলেন, ‘করোনা ইউনিটে যারা চিকিৎসার জন্য যান, তারা প্রায় সবাই মুমূর্ষু অবস্থায় থাকেন। এই হাসপাতালে শুধু বরিশালের ৬ জেলা নয়, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ থেকেও প্রচুর রোগী এসে ভর্তি হন। কতটা হিমশিম খেতে হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে, সেটা বুঝতে পারছি। এর মধ্যে করোনা ইউনিটে আইসিইউ বেড দখল নিয়ে বিড়ম্বনার কথা শুনেছি।

‘গভীর রাতেও এমন খবর পেয়েছি। ডাক্তারদের হুমকি দেয়া হচ্ছে, বাইরে বের হলে মারা হবে। এমন কেন হবে? ডাক্তাররা তো চেষ্টা করছেন তাদের সাধ্যমতো এই সংকটের মধ্যেও।’

তিনি বলেন, ‘করোনা ইউনিটে আইসিইউ বেড দখল নিয়ে কোনো মাস্তানি চলবে না। যার লোকই হোক না কেন, এমন মহামারিতে এমন যারা করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, যা করা দরকার তাই করা হবে।’

আরও পড়ুন:
মন্ত্রীর ফোন ছিনতাই হলে সাধারণের কী অবস্থা: মোজাম্মেল
পরিকল্পনামন্ত্রীর মোবাইল ছিনতাই
অটোরিকশা ছিনতাই চক্রের দুই সদস্য গ্রেপ্তার
ছিনতাইকারীকে গণপিটুনি, পুলিশে হস্তান্তর
গলায় ছোরা ঠেকিয়ে ছিনতাই, হাতেনাতে আটক ৩

শেয়ার করুন