কার গাফিলতিতে ভাঙল তিন সেতু

কার গাফিলতিতে ভাঙল তিন সেতু

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অপরিকল্পিত খননের অভিযোগ এনে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দায়ী করছেন। যদিও পানি উন্নয়ন বোর্ড দোষারোপ করছে ঠিকাদারকে।

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের চর আলগী ইউনিয়নে খালের ওপর নির্মিত তিনটি সেতু একে একে ভেঙে পড়ায় চলাচলে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে কয়েক লাখ মানুষ। তাদের অভিযোগ, অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ এবং পাইলিং ছাড়া সেতুগুলো নির্মাণ করে টাকা হরিলুট করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অপরিকল্পিত খননের অভিযোগ এনে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দায়ী করছেন। যদিও পানি উন্নয়ন বোর্ড দোষারোপ করছে ঠিকাদারকে।

স্থানীয়রা জানান, সাত বছর আগে নির্মিত সেতুতে গত ২৮ মে দুপুরের দিকে ফাটল দেখা দেয়। ওই দিন সন্ধ্যায় হঠাৎ বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে সেতুটি। এর আগে ২৫ মে রাতে ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুটি ভেঙে পড়ে। এর এক দিন পর পাঁচ বছর আগে নির্মিত সেতুটিও ভেঙে যায়।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব টেকির চরের খালের ওপর ৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুটি ৫৪ লাখ ৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৬-১৭ অর্থবছরে, চর আলগী বুরাখালী খালের ওপর ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুটি ৩০ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৭-১৮ অর্থবছরর ও চর মছলন্দ গ্রামের খালে ৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুটি ৪৭ লাখ ৪২ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৩-১৪ অর্থবছরে তৈরি করা হয়।

কার গাফিলতিতে ভাঙল তিন সেতু


নয়াপাড়া গ্রামের কৃষক ফজলুল হক জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অপরিকল্পিত খননের কারণেই সেতুগুলো ভেঙে পড়েছে। গফরগাঁও ও হোসেনপুর উপজেলার মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। তিনটি সেতু ধসে পড়ায় বোরাখালী, নয়াপাড়া, কুরতলীপাড়া, জিরাতিপাড়া, টেকিরচর, নিধিয়ারচরসহ কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার বগা মারার চর, হাজিপুর, চরকাটাইল, মহেশকুড়াসহ আশপাশের ১০-১২টি গ্রামের লোকজন সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন। সেতু নির্মাণের নামে টাকা হরিলুট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বোরাখালী গ্রামের আলতাফ মিয়া দিনমজুরের কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘যাদের ট্যাহা আছে তাদের আরও ট্যাহা লাগে। সরকারের ট্যাহা পহেডে (পকেটে) ভইরা কম খরচে এই সেতুগুলো বানাইছে। যারা এমন কাজ কইরা আমরারে দুর্ভোগে ফালছে তাদের বিচার হওয়ার দরকার।’

চর আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুজ্জামান মাসুদ বলেন, ‘আমাদের ধারণা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপরিকল্পিত খননের কারণেই সেতুগুলো ভেঙে পড়েছে। তিনটি সেতুই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে করা হয়েছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ভেঙে পড়া সেতুগুলো পরিদর্শন করেছেন। এমন ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন হয় কি না কিংবা এ সেতুগুলো পুনরায় দরপত্রের মাধ্যমে নির্মাণ হবে কি না, তা সংশ্লিষ্টরাই ভালো বলতে পারবেন।’

সেতু ভেঙে পড়ার বিষয়ে ঠিকাদার মাহমুদ হাসান সজিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কেন সেতু ভেঙে পড়েছে, সেটা তদন্ত করলেই বের হয়ে আসবে। টেন্ডারে চাহিদা মোতাবেক সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে আমার কোনো গাফিলতি নেই।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, সেতুগুলো নির্মাণের আগে বোরাখালী খালটি মরা ছিল, তেমন পানি ছিল না। দরপত্র অনুযায়ী পাঁচ ফুট গভীরে বেসমেন্ট করে সেতু নির্মাণ করেন ঠিকাদার। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড সেতুর কাছে ৮-১০ ফুট গভীর করে খনন করায় মাটি সরে বেসমেন্টে ফাটল ধরে সেতু ভেঙে পড়ে।

কার গাফিলতিতে ভাঙল তিন সেতু


গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ‘গ্রামীণ রাস্তায় কমবেশি ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় সেতুগুলো নির্মিত হয়েছিল। সেতু ভেঙে পড়ার অস্বাভাবিক বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

অপরিকল্পিত খননের কারণে সেতু ভেঙে পড়ার বিষয়টি অস্বীকার করে ময়মনসিংহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মুসা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সেতু ভাঙার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দায়ী। কারণ পাইলিং না করে সেতু তৈরি করায় ভেঙে পড়েছে। আমরা নিয়ম মেনে পরিকল্পনামাফিক খনন করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, আমাদের গাফিলতিতে সেতু ভেঙেছে এ কথা কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। নির্মাণ ত্রুটির কারণেই ভেঙে গেছে সেতুগুলো।’

আরও পড়ুন:
পায়রা-বিষখালী সেতু নেই বাজেটে, হতাশ বরগুনা
ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পে বরাদ্দ বেড়েছে
ফেরি বন্ধ, বিকল্প রুট বঙ্গবন্ধু সেতু
পদ্মা সেতু প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ল আরও দুই বছর
পদ্মা সেতুতে প্রথম দিনেই চলবে ট্রেন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

টয়লেটে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ

টয়লেটে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ

রাহিমার স্বজনদের বরাতে ওসি বলেন, ১২ বছর বয়সে রাহিমাকে রওশন আলীর বাসায় কাজে পাঠানো হয়। বছরে দুই বার করে রাহিমা বাড়ি ফিরতেন। তবে গত ছয় মাসে তাকে বাড়িতে আসতে দেননি রওশন আলীর স্ত্রী। প্রায়ই রাহিমাকে তিনি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মারধর করতেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে একটি বাড়ির টয়লেট থেকে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পৌর এলাকার পশ্চিম পাইকপাড়ায় রওশন আলীর বাড়ি থেকে সোমবার রাত পৌনে ১২টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

মৃত গৃহকর্মীর নাম রাহিমা। তার বাড়ি সিলেটে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল ইসলাম এই তথ্যগুলো নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে রাহিমা গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে রাহিমার পরিবার বলছে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

রাহিমার স্বজনদের বরাতে ওসি বলেন, ১২ বছর বয়সে রাহিমাকে রওশন আলীর বাসায় কাজে পাঠানো হয়। বছরে দুই বার করে রাহিমা বাড়ি ফিরতেন। তবে গত ছয় মাসে তাকে বাড়িতে আসতে দেননি রওশন আলীর স্ত্রী। প্রায়ই রাহিমাকে তিনি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মারধর করতেন।

স্বজনদের অভিযোগ, কয়েকদিন আগে রাহিমাকে মারধর করায় তিনি রাগ করে নানুর বাড়িতে চলে আসেন। তার নানুর বাড়ির উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামে। পরে আবার রওশন আলী গিয়ে রাহিমাকে ফিরিয়ে নিয়ে যান। এরপর সোমবার রাতে তারা খবর পান যে রাহিমা আত্মহত্যা করেছে।

ওসি জানান, হত্যা না আত্মহত্যা, তা জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসাপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

টয়লেটে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ

আরও পড়ুন:
পায়রা-বিষখালী সেতু নেই বাজেটে, হতাশ বরগুনা
ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পে বরাদ্দ বেড়েছে
ফেরি বন্ধ, বিকল্প রুট বঙ্গবন্ধু সেতু
পদ্মা সেতু প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ল আরও দুই বছর
পদ্মা সেতুতে প্রথম দিনেই চলবে ট্রেন

শেয়ার করুন

রামেকে ১৩ মৃত্যু, রাজশাহীরই ১২

রামেকে ১৩ মৃত্যু, রাজশাহীরই ১২

ফাইল ছবি

রামেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানিয়েছেন, মৃত ১৩ জনের মধ্যে পাঁচজনের করোনা পজেটিভ ছিল। বাকি আটজন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (রামেক) করোনা ইউনিটে একদিনে আরও ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৩ জন নারী ও ১০ জন পুরুষ।

সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানিয়েছেন, মৃত ১৩ জনের মধ্যে পাঁচজনের করোনা পজেটিভ ছিল। বাকি আটজন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

তিনি আরও জানান, মৃতদের মধ্যে ১২ জনের বাড়িই রাজশাহীতে আর ১ জন নাটোরের। অধিকাংশরই বয়স ৬১ বছরের উপরে।

সোমবারও হাসপাতালটিতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে চলতি মাসে এখন পর্যন্ত এই হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ২২৯ জন। এর মধ্যে শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছেন ১১৭ জন। বাকিরা মারা যান উপসর্গ নিয়ে।

বয়স বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মৃত ১৩ জনের মধ্যে ৯ জনের বয়সই ৬১ বছরের উপরে। এর মধ্যে ৭ জন পুরুষ এবং ২ জন নারী। এ ছাড়া ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে মারা গেছেন ১ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে একজন মারা গেছেন।

এদিকে হাসপাতালের প্রতিবেদনে দেখা যায়, রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে রোগী ভর্তি সামান্য কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৫৬ জন। আগের ২৪ ঘণ্টায় এ সংখ্যা ছিল ৬২ জন। সোমবার সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৬১ জন।

সোমবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও রামেক হাসপাতাল ল্যাবে ৪৪৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৫২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
পায়রা-বিষখালী সেতু নেই বাজেটে, হতাশ বরগুনা
ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পে বরাদ্দ বেড়েছে
ফেরি বন্ধ, বিকল্প রুট বঙ্গবন্ধু সেতু
পদ্মা সেতু প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ল আরও দুই বছর
পদ্মা সেতুতে প্রথম দিনেই চলবে ট্রেন

শেয়ার করুন

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু

নলুয়াপাড়া এলাকার কাউসার মিয়ার নির্মাণাধীন ভবনে রড ওঠানোর সময় রাস্তার পাশে থাকা হাই ভোল্টেজের তারে জড়িয়ে পড়েন রাজু ও ফরহাদ। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা গিয়ে তাদের হাসপাতালে নেয়।

নারায়ণগঞ্জ নগরীর নলুয়াপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের বিদ্যুতের তার জড়িয়ে দুই নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নলুয়াপাড়া এলাকায় সোমবার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত শ্রমিকরা হলেন মো. রাজু ও ফরহাদ হোসেন। তাদের বাড়ি সুনামগঞ্জে।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক শিবলী কায়েত।

তিনি নিউজবাংলাকে জানান, নলুয়াপাড়া এলাকার কাউসার মিয়ার নির্মাণাধীন ভবনে রড ওঠানোর সময় রাস্তার পাশে থাকা হাই ভোল্টেজের তারে জড়িয়ে পড়েন রাজু ও ফরহাদ।

স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে ফোন করলে কর্মীরা গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেয়। সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. আসাদুজ্জামান নিউজবাংলাকে জানান, ওই দুই যুবক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন। হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তারা মারা গেছেন। তাদের মধ্যে একজনের শরীর পুড়ে গেছে।

আরও পড়ুন:
পায়রা-বিষখালী সেতু নেই বাজেটে, হতাশ বরগুনা
ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পে বরাদ্দ বেড়েছে
ফেরি বন্ধ, বিকল্প রুট বঙ্গবন্ধু সেতু
পদ্মা সেতু প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ল আরও দুই বছর
পদ্মা সেতুতে প্রথম দিনেই চলবে ট্রেন

শেয়ার করুন

একে একে প্রাণ হারাল বৃষ্টির ৫ নবজাতক

একে একে প্রাণ হারাল বৃষ্টির ৫ নবজাতক

হাসপাতালের চিকিৎসক আব্দুস সালাম তারেক জানান, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বৃষ্টি পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে আসেন। আল্ট্রাসনোগ্রাম করে তার গর্ভে পাঁচ শিশুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে পাঁচ শিশুর জন্ম হয়। এর মধ্যে তিনটি ছেলে ও দুটি মেয়ে।

গাজীপুরের শ্রীপুরে একসঙ্গে জন্ম নেয়ার কিছুক্ষণ পরই মৃত্যু হয়েছে এক মায়ের পাঁচ নবজাতকের।

শ্রীপুর পৌর এলাকার মাওনা চৌরাস্তার মাদার্স কেয়ার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে সোমবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

ওই নবজাতকদের মায়ের নাম বৃষ্টি আক্তার। তার বয়স ২১, বাড়ি কাপাসিয়ার নয়ানগর গ্রামে।

হাসপাতালের চিকিৎসক আব্দুস সালাম তারেক জানান, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বৃষ্টি পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে আসেন। আল্ট্রাসনোগ্রাম করে তার গর্ভে পাঁচ শিশুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে পাঁচ শিশুর জন্ম হয়। এর মধ্যে তিনটি ছেলে ও দুটি মেয়ে।

তিনি আরও বলেন, জন্মের কিছু সময় পরই নবজাতকরা একে একে মারা যায়। মূলত অপরিণত বয়সে জন্ম হওয়ায় তারা বাঁচেনি। বৃষ্টি এখন ওই হাসপাতারে ভর্তি আছেন।

বৃষ্টি নিউজবাংলাকে জানান, রোববার রাত থেকেই তার প্রসবব্যথা শুরু হয়। সোমবার সকালে রক্তক্ষরণও হয়। এরপর তিনি হাসপাতালে যান।

তিনি বলেন, গর্ভধারণের পর প্রাথমিক আল্ট্রাসনোগ্রামে তিনটি শিশুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। সোমবারই তিনি জানতে পারেন, তিনটি নয়, পাঁচটি সন্তান তার গর্ভে।

আরও পড়ুন:
পায়রা-বিষখালী সেতু নেই বাজেটে, হতাশ বরগুনা
ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পে বরাদ্দ বেড়েছে
ফেরি বন্ধ, বিকল্প রুট বঙ্গবন্ধু সেতু
পদ্মা সেতু প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ল আরও দুই বছর
পদ্মা সেতুতে প্রথম দিনেই চলবে ট্রেন

শেয়ার করুন

ব‌রিশা‌লের ৫০ ইউপির ৮০ শতাংশ আ.লীগের

ব‌রিশা‌লের ৫০ ইউপির ৮০ শতাংশ আ.লীগের

বরিশালে প্রথম ধাপে ইউপি নির্বাচনে সকাল থেকেই ভিড় ছিল ভোটকেন্দ্রগুলোতে। ছবি: নিউজবাংলা

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সাত ইউনিয়নের ছয়টিতেই আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন। অন্য উপজেলারও বেশ কিছু ইউপিতে বিনা ভোটে জয় পেয়েছেন নৌকার প্রার্থী।

প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ব‌রিশা‌লের ৫০টির মধ্যে ৪১টি‌তে চেয়ারম্যান হয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। অন্য ৯টি ইউপিতে জয় পেয়েছেন জাতীয় পা‌র্টির তিনজন, ইসলামী আ‌ন্দোলন বাংলা‌দে‌শের একজন এবং পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

জেলার ৯টি উপজেলার ৫০টি ইউনিয়নে সোমবার সকাল ৮টায় শুরু হয়ে ভোট চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। গণনা শেষে রাতে ঘোষণা করা হয় বেসরকারি ফল।

বেসরকারি ফলে ইউপি চেয়ারম্যান হলেন যারা-

বরিশাল সদর উপজেলা

কাশিপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের কামাল হোসেন মোল্লা লিটন ৩ হাজার ৯৫৬, জাগুয়া ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হেদায়েত উল্লাহ খান ২ হাজার ৩৯৬, চরবাড়িয়া ইউনিয়নে নৌকার মাহতাব হোসেন সুরুজ ৬ হাজার ৮৯৯ এবং টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী না‌দিরা রহমান চশমা প্রতীকে ৫ হাজার ৫৪ ভোট পে‌য়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

ব‌রিশা‌লের ৫০ ইউপির ৮০ শতাংশ আ.লীগের
বরিশাল জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়

বাবুগঞ্জ উপজেলা

বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল আহসান খান আনারস প্রতীকে ৬ হাজার ৭৩৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান হয়েছেন।

এ ছাড়া কেদারপুর ইউনিয়নে নৌকার নূ‌রে আলম ৬ হাজার ৬৮৮, দেহেরগতিতে আওয়ামী লীগের ম‌শিউর রহমান ৮ হাজার ৩৮৮ এবং মাধবপাশা ইউনিয়নে জাতীয় পা‌র্টির ছি‌দ্দিকুর রহমান লাঙল প্রতীকে ৭ হাজার ২৮২ ভোট পে‌য়ে নির্বাচিত হন।

গৌরনদী উপজেলা

উপজেলার সাত ইউনিয়নের ছয়টিতেই আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন। তারা হলেন খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের নূর আলম সেরনিয়াবাত, বাটাজোরের আব্দুর রব হাওলাদার, বার্থীর আব্দুর রাজ্জাক, মহিলারার সৈকত গুহ পিকলু, চাঁদশীর নজরুল ইসলাম এবং নলচিড়ার গোলাম হাফিজ মৃধা।

আর সরিকল ইউনিয়নে ১৩ হাজার ২৬৭ ভোট পে‌য়ে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফারুক হো‌সেন মোল্লা।

বানারীপাড়া উপজেলা

এই উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ও দুটিতে ভোটে জিতে চেয়ারম্যান হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় লাভ করা প্রার্থীরা হলেন উদয়কাঠি ইউনিয়নের রাহাদ আহম্মেদ ননী, বিশারকান্দির সাইফুল ইসলাম শান্ত, ইলুহারের শহিদুল ইসলাম, বানারীপাড়া সদরের আবদুল জলীল ঘরামী ও সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের সিদ্দিকুর রহমান।

এ ছাড়া চাখার ইউনিয়নে ৮ হাজার ৬৭৫ ভোট পে‌য়ে নৌকার ম‌জিবুল হক টুকু ও বাইশারী ইউনিয়নে ৬ হাজার ২১৪ ভোট পে‌য়ে নৌকার শ‌্যামল চক্রবর্তী নির্বাচিত হয়েছেন।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা

চরাদি ইউনিয়নে ৬ হাজার ২৭৮ ভোট পে‌য়ে নৌকার শ‌ফিকুল ইসলাম, দাড়িয়ালে ৫ হাজার ৪৩২ ভোট পেয়ে নৌকার শহিদুল ইসলাম হাওলাদার, ফরিদপুরে ৪ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়ে নৌকার শ‌ফিকুর রহমান এবং কবাই ইউনিয়নে ৫ হাজার ৩৯ ভোট পেয়ে নৌকার জ‌হিরুল হক তালুকদার চেয়ারম্যান হয়েছেন।

এ ছাড়া নলুয়ায় নৌকার ফি‌রোজ আলম খান ৩ হাজার ৯২৬, কলসকাঠিতে নৌকার ফয়সাল ওয়া‌হিদ মুন্না ৬ হাজার ৩৫৪, গারুড়িয়ায় লাঙল প্রতী‌কের এসএম কাইয়ুম খান ৬ হাজার ৮৬৭, ভরপাশায় নৌকার আশ্রাফুজ্জামান খোকন ৮ হাজার ৯৬৬, রঙ্গশ্রীতে নৌকার ব‌শিরউ‌দ্দিন ৭ হাজার ৯৪৪ এবং পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নে নৌকার জা‌হিদুল হাসান ৯ হাজার ৬৪৯ ভোট পে‌য়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

উপজেলায় দুধল ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম মোর্শেদ।

ব‌রিশা‌লের ৫০ ইউপির ৮০ শতাংশ আ.লীগের

হিজলা উপজেলা

বড়জালিয়া ইউনিয়নে ১২ হাজার ৮৫৪ ভোট পে‌য়ে নৌকার এনা‌য়েত হো‌সেন তালুকদার চেয়ারম্যান হয়েছেন।

এ ছাড়া গুয়াবাড়িয়ায় নৌকার শাহজাহান তালুকদার ৬ হাজার ৩৪৩ ভোট, হরিনাথপুরে ঘোড়া প্রতী‌কে স্বতন্ত্র প্রার্থী তৌ‌ফিকুর রহমান ৫ হাজার ৪৯২ ভোট এবং মেমানিয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী না‌সির উ‌দ্দিন ৪ হাজার ৫৩৫ ভোট পে‌য়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা

মেহেন্দিগঞ্জ সদর ইউনিয়নে আনারস প্রতী‌কে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজাম উ‌দ্দিন। পেয়েছেন ৩ হাজার ১৫৯ ভোট। আর ভাষানচর ইউনিয়নে ৫ হাজার ৮০৭ ভোট পে‌য়ে নির্বাচিত হয়েছেন নৌকার নজরুল ইসলাম চুন্নু।

মুলাদী উপজেলা

এই উপজেলার সদর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুল আহসান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী লাভ করেছেন।

এ ছাড়া নাজিরপুর ইউনিয়নে নৌকার মোস্তা‌ফিজুর রহমান ৮ হাজার ৫৩৩ ভোট, সফিপুরে নৌকার আবু মুসা ১৩ হাজার ৩৪৬, গাছুয়ায় নৌকার জসীম উ‌দ্দিন ৫ হাজার ৭৮৫ ভোট, চরকালেখায় লাঙল প্রতী‌কে মিরাজুল ইসলাম ৪ হাজার ৬২৭ ভোট এবং কাজিরচর ইউনিয়নে ৯ হাজার ৪৬৭ ভোট পে‌য়ে নির্বাচিত হয়েছেন নৌকা প্রতী‌কের মন্টু বিশ্বাস।

উজিরপুর উপজেলা

শোলক ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল হালিম সরদার বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় লাভ করেছেন।

এ ছাড়া সাতলা ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী শাহীন হাওলাদার ১১ হাজার ৮৮৪ ভোট, জল্লায় নৌকা প্রতী‌কের বেবী রানী দাস ১০ হাজার ২২২, ওটরায় নৌকার এম এ খা‌লেক ১২ হাজার ২১৯ এবং বড়াকোঠা ইউনিয়নে নৌকার স‌হিদুল ইসলাম ১৪ হাজার ৮৪ ভোট পে‌য়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

ভোটের এ ফল নিশ্চিত করেছেন বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুল মান্নান, বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, গৌরনদীর মিজানুর রহমান তালুকদার, বানারীপাড়ার মো. মনিরুজ্জামান, বাকেরগঞ্জের সাইদুল ইসলাম, হিজলার দেলোয়ার হোসেন, মেহেন্দিগঞ্জের জহিরুল ইসলাম, মুলাদীর শওকত আলী এবং উজিরপুরের উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আলীমদ্দিন।

আরও পড়ুন:
পায়রা-বিষখালী সেতু নেই বাজেটে, হতাশ বরগুনা
ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পে বরাদ্দ বেড়েছে
ফেরি বন্ধ, বিকল্প রুট বঙ্গবন্ধু সেতু
পদ্মা সেতু প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ল আরও দুই বছর
পদ্মা সেতুতে প্রথম দিনেই চলবে ট্রেন

শেয়ার করুন

ইয়াবা সেবন করে ফাঁসছেন ইউপি চেয়ারম্যান

ইয়াবা সেবন করে ফাঁসছেন ইউপি চেয়ারম্যান

গত ১৬ ডিসেম্বর আব্দুস ছালাম ইউনিয়ন পরিষদের কক্ষে সহযোগীদের নিয়ে জুয়া ও মাদক সেবনের সংবাদ প্রকাশ হয়। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের দৃষ্টিতে এলে ইউএনওকে তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

ভাইরাল হওয়া ইয়াবা সেবনের ভিডিও-র ফরেনসিক রিপোর্টে প্রমাণ পাওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস ছালামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) যোবায়ের হোসেন।

গত ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশ সিআইডি ঢাকার ফরেনসিক ল্যাবরেটারিতে পাঠানো ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা পেয়েছে মর্মে উল্লেখ করে ইউএনওকে একটি প্রতিবেদন দেয় আইটি ফরেনসিক শাখা সিআইডি।

সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা ইউএনও যোবায়ের হোসেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক বরাবরে ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করে গত ১৫ জুন চিঠি দেন।

এতে বলা হয়, গত ১৬ ডিসেম্বর আব্দুস ছালাম ইউনিয়ন পরিষদের কক্ষে সহযোগীদের নিয়ে জুয়া ও মাদক সেবনের সংবাদ প্রকাশ হয়। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের দৃষ্টিতে এলে ইউএনওকে তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

ইউএনও কয়েক দফায় প্রতিবেদনও দাখিল করেন। কিন্তু তাতে সু-স্পষ্ট মন্তব্য না থাকায় আবার প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয় জেলা প্রশাসন।

এসময় ভাইরাল হওয়া ইয়াবা সেবনের ভিডিওটি কাটছাঁটের অভিযোগ করেন চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম। পরে সেটি যাচাই বাছাই করতে গত ৩ জানুয়ারি সিআইডির ঢাকার ফরেনসিক ল্যাবরেটারিতে পাঠান ইউএনও জোবায়ের।

সেখানে ভিডিওটির সত্যতার প্রমাণ মেলে। ভিডিওটিতে কোনো রকম কাটছাঁট করা হয়নি উল্লেখ করে গত ১ জুন সিআইডি প্রতিবেদন পাঠায়।

এরপর ইউএনও ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করে স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালকের কাছে প্রতিবেদন দেন।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার এর উপ-পরিচালক রামকৃষ্ণ বর্মণ বলেন, ইউএনওর প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে দ্রুতই পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন:
পায়রা-বিষখালী সেতু নেই বাজেটে, হতাশ বরগুনা
ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পে বরাদ্দ বেড়েছে
ফেরি বন্ধ, বিকল্প রুট বঙ্গবন্ধু সেতু
পদ্মা সেতু প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ল আরও দুই বছর
পদ্মা সেতুতে প্রথম দিনেই চলবে ট্রেন

শেয়ার করুন

ঝালকাঠির একটি ছাড়া সব ইউপি আ.লীগের

ঝালকাঠির একটি ছাড়া সব ইউপি আ.লীগের

ঝালকাঠিতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ফল ঘোষণা করছেন নির্বাচন কর্মকর্তা শারমীন আফরোজ। ছবি: নিউজবাংলা

ঝালকাঠিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের তিন চেয়ারম্যান। তারা হলেন ঝালকাঠি সদরের কেওড়া ইউনিয়নের আবু সাইদ খান, নলছিটি উপজেলার নাচনমহলের সিরাজুল ইসলাম সেলিম ও রাজাপুর উপজেলার গালুয়ায় গোলাম কিবরিয়া পারভেজ।

ঝালকাঠি জেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ৩০টিতে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। শুধু একটি ইউপিতে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী।

দেশে প্রথম ধাপে ইউপি নির্বাচনে সোমবার সকাল ৮টা থেকে ভোট শুরু হয়। শেষ হয় বিকেল ৪টায়। ঝালকাঠিতে ভোট গণনা শেষে রাতে ফল ঘোষণা করেন বিভিন্ন উপজেলা নির্বাচনি কর্মকর্তা।

বেসরকারি এ ফলে ৩১টি ইউপির মধ্যে ৩০টিতেই জয় তুলে নেন নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নে শুধু জয় পান স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুর রহীম মিয়া।

নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা হলেন-

ঝালকাঠি সদরের বিনয়কাঠি ইউনিয়নে এ জে এম মঈন উদ্দিন, শেখেরহাটে নুরুল আমিন খান সুরুজ, গাবখান ধানসিঁড়িতে আবুল কালাম মাসুম, গাভারামচন্দ্রপুরে গোলাম মাওলা মাসুম শেরওয়ানী, নবগ্রামে মুজিবুরল হক আকন্দ, নথুল্লাবাদে নজরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, বাসন্ডায় মোবারক হোসেন মল্লিক। আর কীর্ত্তিপাশায় নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুর রহীম মিয়া।

নলছিটি উপজেলার রানাপাশা ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন শাহজাহান হাওলাদার, ভৈরবপাশায় এ কে এম আবদুল হক, দপদপিয়ায় সোহরাব হোসেন বাবুল মৃধা, সুবিদপুরে আবদুল গফফার খান, কুশঙ্গলে আলমগীর হোসেন, সিদ্ধকাঠিতে জেসমিন আক্তার, মগরে এনামুল হক শাহীন, মোল্লারহাটে এ কে এম মাহাবুবুর রহমান, কুলকাঠিতে এইচ এম আখতারুজ্জামান বাচ্চু।

রাজাপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নে নজরুল ইসলাম, সাতুরিয়ায় সৈয়দ মইনুল হায়দার নিপু, বড়ইয়ায় সাহাব উদ্দিন হাওলাদার, মঠবাড়িতে শাহজালাল হাওলাদার, শুক্তাগড়ে বিউটি সিকদার জয় পেয়েছেন।

কাঁঠালিয়া উপজেলায় জয়ী আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যানরা হলেন সদর ইউনিয়নে মাহামুদুল হক নাহিদ, পাটিখালঘাটায় শিশির দাস, চেঁচরীরামপুরে হারুন অর রশিদ, আমুয়ায় আমিরুল ইসলাম সিকদার, শৌলজালিয়ায় মাহমুদ হোসেন রিপন ও আওড়াবুনিয়ায় মিঠু সিকদার।

এ ছাড়া জেলায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের তিন চেয়ারম্যান। তারা হলেন ঝালকাঠি সদরের কেওড়া ইউনিয়নের আবু সাইদ খান, নলছিটি উপজেলার নাচনমহলের সিরাজুল ইসলাম সেলিম ও রাজাপুর উপজেলার গালুয়ায় গোলাম কিবরিয়া পারভেজ।

আরও পড়ুন:
পায়রা-বিষখালী সেতু নেই বাজেটে, হতাশ বরগুনা
ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পে বরাদ্দ বেড়েছে
ফেরি বন্ধ, বিকল্প রুট বঙ্গবন্ধু সেতু
পদ্মা সেতু প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ল আরও দুই বছর
পদ্মা সেতুতে প্রথম দিনেই চলবে ট্রেন

শেয়ার করুন