কাপ্তাইয়ের পানি কমায় দুর্ভোগে ছয় উপজেলাবাসী

কাপ্তাইয়ের পানি কমায় দুর্ভোগে ছয় উপজেলাবাসী

প্রায় দুই মাস ধরে লঞ্চ চলাচল বন্ধ কাপ্তাই হ্রদে। ছবি: নিউজবাংলা

রাঙামাটি শহরের সঙ্গে বাঘাইছড়ি, লংগদু, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি, বরকল, বিলাইছড়ি উপজেলার যোগাযোগ হয় নৌপথে। কাপ্তাই হ্রদের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় এই নৌপথগুলোতে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বড় কোনো নৌযান চলতে পারছে না। ছোট নৌযানগুলো চরে আটকে যাচ্ছে। দুই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে লঞ্চ চলাচল।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একমাত্র বৃহত্তম কৃত্রিম জলাধার রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ। কাপ্তাই বাঁধ হওয়ার ৬১ বছর পরেও হ্রদের নাব্যতা রক্ষায় কোনো উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এর ফলে হ্রদের তলায় মাটি ভরাট ও হ্রদের গভীরতা কমে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে নৌ চলাচল।

যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন রাঙামাটির ছয় উপজেলার দুই লাখের বেশি মানুষ।

রাঙামাটি শহরের সঙ্গে বাঘাইছড়ি, লংগদু, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি, বরকল, নানিয়ারচর উপজেলার যোগাযোগ হয় নৌপথে। কাপ্তাই হ্রদের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় এই নৌপথগুলোতে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বড় কোনো নৌযান চলতে পারছে না। ছোট নৌযানগুলো চরে আটকে যাচ্ছে। দুই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে লঞ্চ চলাচল। বেড়েছে স্পিডবোটের চাহিদা। তবে এ জন্য যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। এতে বেড়েছে জনদুর্ভোগ, উপজেলাগুলোতে বেড়েছে পণ্যের দাম।

কাপ্তাইয়ের পানি কমায় দুর্ভোগে ছয় উপজেলাবাসী

তবে কাপ্তাই হ্রদ খননে সরকার উদ্যোগ নিলে পরিবহনব্যবস্থা জনবান্ধব হওয়ার পাশাপাশি পর্যটন খাত ও মৎস্যসম্পদের ক্ষেত্রেও উন্নয়ন হবে বলে জানিয়েছে জেলার বিভিন্ন পেশাজীবী।

রাঙ্গামাটি শহরের দিনমজুর মালেক মিয়া জানান, রাঙামাটি লঞ্চঘাটে তিনি কাজ করেন। লঞ্চ চলাকালীন প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় করতেন তিনি। এখন ২০০ টাকার বেশি আয় করতে পারেন না মালেক মিয়া।

এদিকে রাঙামাটি সদর থেকে লংগদু উপজেলার মারিচ্যাগামী স্পিডবোটচালক হোসাইনুল করিম বলেন, ‘যাত্রী নিয়ে লংগদু উপজেলার মারিচ্যা, মাইনীসহ বিভিন্ন জায়গায় ভাড়ায় স্পিডবোট চালাই। কাপ্তাইয়ের পানি কমায় এখন যাওয়ার পথে ডুবোচর ওঠায় স্পিডবোট আটকে যায়। ফলে এখন অতিরিক্ত সময় লাগে এবং যাত্রীদেরও ভোগান্তি পোহাতে হয়।’

রাঙ্গামাটি লঞ্চ নৌযান সমিতির সভাপতি মো. নুরুল হক বলেন, ‘প্রায় দুই মাস ধরে লঞ্চ চলাচল বন্ধ। কাপ্তাই হ্রদে লঞ্চ চলে ৫০০, কান্ট্রিবোট চলে পাঁচ হাজার। হ্রদে পলি জমার কারণে প্রতি গ্রীষ্ম মৌসুমে দুই-চার মাস লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকে। এতে উপজেলাগুলোতে যাতায়াত যেমন কষ্টকর হয়ে পড়ছে, তেমনি সেখানে বেড়ে যাচ্ছে পণ্যের দামও।’
কাপ্তাইয়ের পানি কমায় দুর্ভোগে ছয় উপজেলাবাসী

কাপ্তাই হ্রদ রক্ষা কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম মুন্না বলেন, ‘কাপ্তাই হ্রদ তৈরির ৬১ বছর পরেও এখন পর্যন্ত খননের উদ্যোগ নেয়নি সরকার। হ্রদের ওপর নির্ভর করে শহরের সঙ্গে কয়েকটি উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থা। সরকার যদি কাপ্তাই হ্রদ খননে উদ্যোগ নিত, তাহলে উপজেলাগুলোর মানুষ ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেত।’

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘কাপ্তাই হ্রদ খননের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্ত্রিপরিষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ থেকে জানানো হয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে হ্রদ খননের বিষয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য।’

আরও পড়ুন:
নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কাপ্তাই লেকের মাছের প্রজননস্থল
কাপ্তাই হ্রদে বন কর্মকর্তার ছেলের মৃত্যু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শাহজালাল সার কারখানায় ৩৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

শাহজালাল সার কারখানায় ৩৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে শাহজালাল সার কারখানা। ছবি: সংগৃহীত

মামলাগুলোর এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া বিল ও ভাউচার তৈরিসহ প্রকল্পের ৩৮ কোটি ৭১ লাখ ২৪ হাজার ৯০২ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের শাহজালাল সার কারখানা প্রকল্পের ৩৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ১০ জনের বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার দুদকের সমন্বিত সিলেট জেলা কার্যালয়ে এসব মামলা করেন কমিশনের উপপরিচালক নূর ই আলম।

বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক।

তিনি জানান, মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্পের হিসাব বিভাগীয় প্রধান (বরখাস্ত) খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবাল এবং প্রকল্পের সাবেক রসায়নবিদ (বরখাস্ত) নেছার উদ্দিন আহমদ।

অন্য আসামিরা হলেন খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবালের স্ত্রী মেসার্স টিআই ইন্টারন্যাশনালের মালিক হালিমা আক্তার, মেসার্স রাফী এন্টারপ্রাইজের মালিক নূরুল হোসেন, ফালগুনী ট্রেডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএসএম ইসমাইল খান, মেসার্স আয়মান এন্টারপ্রাইজের মালিক সাইফুল হক, মেসার্স এন আহমদ অ্যান্ড সন্সের মালিক নাজির আহমদ, মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজের মালিক হেলাল উদ্দিন, মেসার্স ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনালের মালিক জামশেদুর রহমান খন্দকার এবং মেসার্স সাকিব ট্রেডার্সের মালিক আহসান উল্লাহ চৌধুরী।

মামলাগুলোর এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া বিল ও ভাউচার তৈরিসহ প্রকল্পের ৩৮ কোটি ৭১ লাখ ২৪ হাজার ৯০২ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে এসব মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদক কর্মকর্তা আরিফ।

আরও পড়ুন:
নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কাপ্তাই লেকের মাছের প্রজননস্থল
কাপ্তাই হ্রদে বন কর্মকর্তার ছেলের মৃত্যু

শেয়ার করুন

গৃহকর্মীর হাত ধরে মাদককারবারে দুই বন্ধু

গৃহকর্মীর হাত ধরে মাদককারবারে দুই বন্ধু

আল আমিন ও তার বন্ধু মোশাররফ আগ্রাবাদের একটি বাসায় এক সঙ্গে থাকেন। তাদের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন মাফিয়া বেগম। এ কাজের পাশপাশি মাফিয়া ইয়াবা বিক্রি করতেন। এক পর্যায়ে তারা দুইজন ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

চট্টগ্রামে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার তিন কারবারিকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের মাধ্যমে বুধবার বিকেলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

যাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে তারা হলেন, মাফিয়া বেগম, আল আমিন ও মো. মোশারফ হোসেন।

আগ্রাবাদ এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন নিউজবাংলাকে জানান, রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের ফুলকলি রোডের সামনে থেকে আল আমিনকে আটক করা হয়। তল্লাশি করে তার কাছ থেকে পাওয়া যায় ২ পিস ইয়াবা।

পেশায় সিএনজি অটোরিকশা চালক আল আমিন জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তিনি ও তার বন্ধু মোশাররফ আগ্রাবাদের একটি বাসায় এক সঙ্গে থাকেন। তাদের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করেন মাফিয়া বেগম। গৃহকর্মীর কাজের পাশপাশি মাফিয়া বেগম ইয়াবা বিক্রি করতেন। এক পর্যায়ে তারা দুই জন ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

পরে মোশাররফ ও মাফিয়া বেগমের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মাফিয়া বেগমের বাসা থেকে জব্দ হয় ৫৩ পিস ইয়াবা।

আরও পড়ুন:
নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কাপ্তাই লেকের মাছের প্রজননস্থল
কাপ্তাই হ্রদে বন কর্মকর্তার ছেলের মৃত্যু

শেয়ার করুন

চিকিৎসক সংকটে বরিশাল মেডিক্যাল

চিকিৎসক সংকটে বরিশাল মেডিক্যাল

মতবিনিময় সভায় বরিশালের চিকিৎসক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ছবি: নিউজবাংলা

হাসপাতালের ৩ শ’ শয্যার করোনা ইউনিটে প্রতিদিন গড়ে ৩৫০ জন রোগী ভর্তি থাকে। আর এই ইউনিটের জন্য চিকিৎসক মাত্র ২ জন।

করোনা পরিস্থিতিতে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম অবস্থা। জনবল সংকটে পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে জটিল। সেখানে কমপক্ষে আরও ৫শ’ চিকিৎসক প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বরিশালের প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ।

বরিশাল সার্কিট হাউসে বুধবার দুপুরে হয় বরিশাল জেলার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ মতবিনিময় সভা। সেখানে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম উদ্বেগ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের নানা তথ্য জানান।

হাসপাতাল পরিচালক জানান, ১ হাজার শয্যার হাসপাতালটিতে করোনা সংক্রমণের কারণে বাড়ানো হয়েছে ৩শ’ শয্যা। হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার রোগী ভর্তি থাকে। এই বিপুল সংখ্যক রোগীর চিকিৎসায় জনবল নেই।

তিনি জানান, ৫শ’ শয্যার জন্যই প্রয়োজন ২২৪ জন চিকিৎসক, সেখানে এই হাসপাতালে রয়েছে মোট ১৯৭ জন। বর্তমানে করোনা ইউনিটের জন্য ৩শ’ বেড চালু হওয়ায় চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‘করোনা ইউনিট চালু করায় জনবল সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। আমাদের কমপক্ষে আরও ৫শ’ চিকিৎসক দরকার।’

বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার বলেন, ‘শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বরিশালের ৬ জেলার পাশাপাশি মাদারীপুর, গোপালগঞ্জসহ আশপাশের জেলা থেকে রোগী আসে। এমনিতেই এই হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট। এর মধ্যে বিভাগের সব করোনা রোগী যদি এখানেই আসে তাহলে তো বিপাকে পড়তে হবে।’

চিকিৎসক ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চাপ কমাতে এরইমধ্যে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালকে ১শ’ শয্যা বিশিষ্ট করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ৯টি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০ শয্যা করে করোনা ইউনিট চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি গর্ভবতী নারীদের জন্য বরিশাল নগরীর শিশু ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ২০ শয্যার করোনা ইউনিট করা হয়েছে।

এ ছাড়া বরিশালের আম্বিয়া মেমোরিয়াল হসপিটাল এবং সাউথ অ্যাপোলো মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা করার জন্য আলোচনা চলছে।

সভায় বরিশাল জেলার সিভিল সার্জন জানান, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৬৮টি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা অনুদান দিয়েছে সমাজের বিত্তবানরা। যা এখানে জরুরি নয়। এখানে দরকার সিপ্যাপ, এপ্যাপ মেশিন। যেসব মেশিনের দাম ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা করে। তা ছাড়া অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রয়োজন। সংকট কাটাতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

হাসপাতালের পরিচালক এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘করোনা ইউনিটে ৬১৬টি অক্সিজেন সিলিন্ডার রয়েছে। এর মধ্যে ৫৯৩টি ছোট সিলিন্ডার, ৫০টি বড় সিলিন্ডার। আরও ৭শ’ সিলিন্ডার চাওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ে।’

আরও পড়ুন:
নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কাপ্তাই লেকের মাছের প্রজননস্থল
কাপ্তাই হ্রদে বন কর্মকর্তার ছেলের মৃত্যু

শেয়ার করুন

ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর হামলা, আহত ৪

ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর হামলা, আহত ৪

ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর হামলার পর জোরদার করা হয় নিরাপত্তা। ছবি: নিউজবাংলা

অভিযোগ রয়েছে, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী মো. লিটন মিয়ার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বিজিবির এক সদস্য লিটনকে মারধর করেন।

শেরপুরের শ্রীবরদীতে কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় প্রশাসনের ওপর হামলা হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন বিজিবি ও পুলিশের দুজন করে সদস্য।

উপজেলার ঝগড়ারচর বাজারে বুধবার বেলা ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন ময়মনসিংহের বিজিবি ৩৯ ব্যাটালিয়নের সদস্য মো. রুবেল খন্দকার ও মো. সবুজ। পুলিশের সদস্যরা হলেন শ্রীবরদী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. আজহারুল হক ও কনস্টেবল মো. জান্নাত।

আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার বেলা ১টার দিকে লকডাউন বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আল আমীন ও সানাউল মোর্শেদের নেতৃত্বে উপজেলার ঝগড়ারচর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

এ সময় বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী মো. লিটন মিয়ার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বিজিবির এক সদস্য লিটনকে মারধর করেন।

লিটনের অভিযোগ, ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালে তার দোকান বন্ধ ছিল। তিনি দোকানের সামনে বসে মাস্ক বিক্রি করছিলেন। বিনা কারণে বিজিবির সদস্যরা তাকে মারধর করেন।

ঝগড়ারচর বাজার বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আলমাছ আলী বলেন, কাপড় ব্যবসায়ী লিটনকে মারধর করার খবরে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন।

শ্রীবরদীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা আক্তার অবশ্য লিটনকে মারধরের কথা অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় কাউকে মারধর করা হয়নি। বরং প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত সহনশীল আচরণ করেন। যারা ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার বিশ্বাস বলেন, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। থানায় একটি নিয়মিত মামলা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

আরও পড়ুন:
নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কাপ্তাই লেকের মাছের প্রজননস্থল
কাপ্তাই হ্রদে বন কর্মকর্তার ছেলের মৃত্যু

শেয়ার করুন

‘আইসোলেশনে রাখায়’ আত্মহত্যা

‘আইসোলেশনে রাখায়’ আত্মহত্যা

আরবপুর ইউপির চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলাম জানান, হাবিবুর করোনা আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তার ঘর ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র আলাদা করে দেয়ায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে জেনেছেন।

যশোরে করোনা আক্রান্ত এক রোগী আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে এ কথা জানান। তিনি বলেন, আইসোলেশনে রাখায় হাবিবুর রহমান অভিমান করে বুধবার ভোরে আত্মহত্যা করেছেন বলে তাদের ধারণা।

মৃত হাবিবুরের বাড়ি উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের খোলাডাঙ্গা গ্রামে। আরবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলাম জানান, হাবিবুর করোনা আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তার ঘর ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র আলাদা করে দেয়ায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে জেনেছেন।

হাবিবুরের ভাই জিয়াউর রহমান জানান, তার বড় ভাই ৩১ জুলাই থেকে করোনা পজিটিভ হয়ে বাড়িতে ছিলেন।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আবদুর রশিদ জানান, হাসপাতালে আনার আগেই হাবিবুরের মৃত্যু হয়। মৃতের গলায় দাগ রয়েছে।

যশোরে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজন মারা গেছেন। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় পজিটিভ হয়েছেন আরও ১৫০ জন।

যশোর সিভিল সার্জনের অফিসের তথ্য কর্মকর্তা বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আরও পড়ুন:
নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কাপ্তাই লেকের মাছের প্রজননস্থল
কাপ্তাই হ্রদে বন কর্মকর্তার ছেলের মৃত্যু

শেয়ার করুন

খাঁচাবন্দি বাঁশ ভল্লুক বানর শকুন উদ্ধার

খাঁচাবন্দি বাঁশ ভল্লুক বানর শকুন উদ্ধার

শ্রীমঙ্গল বার্ডক্লাব ও ব্রিডিং সেন্টার থেকে উদ্ধার করা বন্যপ্রাণী। ছবি: নিউজবাংলা

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘প্রাণীগুলো অবৈধভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। আমরা এগুলো উদ্ধার করে লাউয়াছড়া রেসকিউ সেন্টারে রেখেছি। পরে অবমুক্ত করা হবে।’

মৌলভীবাজার থেকে র‍্যাবের সহযোগিতায় দুটি বাঁশ ভল্লুক, একটি শকুন ও একটি বানর উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।

শ্রীমঙ্গল শহরের জালিয়া রোডের শ্রীমঙ্গল বার্ডক্লাব ও ব্রিডিং সেন্টার থেকে বুধবার বেলা ১১টার দিকে এগুলো উদ্ধার করা হয়।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় লোকজন জানান, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ড ফর আওয়ার এনডেনজারড ওয়াইল্ডলাইফের (Stand For Our Endangered Wildlife) মাধ্যমে বন্য প্রাণী আটকে রাখার খবর পায় বন বিভাগ। এরপর তারা র‍্যাবকে নিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘প্রাণীগুলো অবৈধভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। আমরা এগুলো উদ্ধার করে লাউয়াছড়া রেসকিউ সেন্টারে রেখেছি। পরে অবমুক্ত করা হবে।

‘প্রাণীগুলো কীভাবে কোথা থেকে আনা হয়েছে এবং এগুলো দিয়ে কী করা হবে তা জানার চেষ্টা চলছে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. মনিরুল এইচ খান জানান, বাঁশ ভল্লুক নিশাচর প্রাণী। এরা দিনে গাছের ওপর ঘুমায়। সিলেট, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য এলাকার গভীর জঙ্গলে এদের পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন:
নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কাপ্তাই লেকের মাছের প্রজননস্থল
কাপ্তাই হ্রদে বন কর্মকর্তার ছেলের মৃত্যু

শেয়ার করুন

একসঙ্গে জন্ম নেয়া চার যমজ এনআইসিইউতে

একসঙ্গে জন্ম নেয়া চার যমজ এনআইসিইউতে

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আড়াই কেজি হলে নবজাতকের ওজন ঠিক আছে বলে ধরে নেয়া হয়। কিন্তু ওই চার শিশুর ওজন ১ কেজি থেকে ১২০০ গ্রামের মধ্যে। এ জন্য তাদের অন্য একটি ক্লিনিকের এনআইসিইউতে রাখা হয়েছে।

বাবা-মা জানতেন তাদের ঘর আলো করে একসঙ্গে আসবে তিন সন্তান। সবশেষ পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে তা-ই জানিয়েছিলেন চিকিৎসক। কিন্তু তাদের অবাক করে ঘরে এসেছে আরও এক অতিথি। সব মিলিয়ে তারা চার ভাইবোন।

একসঙ্গে চার সন্তান প্রসব করে আলোচনায় কুমিল্লার লালবাগ গ্রামের গৃহবধূ সাহিদা আক্তার। কুমিল্লা শহরের একটি ক্লিনিকে মঙ্গলবার বিকেলে নরমাল ডেলিভারি হয় তার। ফুটফুটে নবজাতকদের মধ্যে দুটি মেয়ে।

গর্ভাবস্থার মোট সময়কাল ৪০ সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু সাহিদা চার সন্তান জন্ম দিয়েছেন ৩২ সপ্তাহের মাথায়। এতে ওজন কম হয়েছে শিশুগুলোর।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আড়াই কেজি হলে নবজাতকের ওজন ঠিক আছে বলে ধরে নেয়া হয়। কিন্তু ওই চার শিশুর ওজন ১ কেজি থেকে ১২০০ গ্রামের মধ্যে। এ জন্য তাদের অন্য একটি ক্লিনিকের এনআইসিইউতে রাখা হয়েছে।

সন্তানদের বাবা জিল্লুর রহমান একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। তিনি বলেন, সোমবার তার স্ত্রীর হঠাৎ প্রসবব্যথা ওঠে। পরে তাকে ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক শাহিদা আক্তারের তত্ত্বাবধানে নরমাল ডেলিভারি হয়েছে।

জিল্লুর বলেন, ‘আমার বড় মেয়ের নাম আতিয়া জাহান। তার বয়স ৪ বছর। এবার একসঙ্গে ৪ সন্তান হয়েছে। আমি শুকরিয়া আদায় করছি। তারা যেন সুস্থ ও ভালো থাকে এই দোয়া চাই।’

চিকিৎসক শাহিদা আক্তার বলেন, ‘এটা আমার চিকিৎসক জীবনের অন্যতম সুন্দর মুহূর্ত। মঙ্গলবার বেলা ২টা ১০ মিনিটে আমি অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশ করি। তবে সিজার করাতে হয়নি। প্রথম বাচ্চাটি স্বাভাবিক প্রসব হয়। পরে তিনটি বাচ্চার প্রথমে পা আসে। তাই কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কাপ্তাই লেকের মাছের প্রজননস্থল
কাপ্তাই হ্রদে বন কর্মকর্তার ছেলের মৃত্যু

শেয়ার করুন