কৃষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

কৃষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রতীকী ছবি।

পরিবারের অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হুরমুজ আলীকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।  বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার কলিয়া পূর্বপাড়া তার নিজ ঘরের ধর্নার সঙ্গে ঝুলন্ত মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

টাঙ্গাইলের বাসাইলে হুরমুজ আলী নামের এক কৃষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হুরমুজ আলীকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার কলিয়া পূর্বপাড়া তার নিজ ঘরের ধর্নার সঙ্গে ঝুলন্ত মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

৬০ বছর বয়সী হুরমুজ আলী ওই গ্রামের মৃত চাঁন মাহমুদের ছেলে।

পরিবারের অভিযোগ, তার আপন দুই ভাই আমজাদ, জবেদ আলী ও ভাতিজা আমিনুর রহমান আমীন ও ফায়েজ তাকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের কলিয়া পূর্বপাড়া এলাকার চাঁন মাহমুদ প্রায় ৪০ বছর আগে তার ছেলে আমজাদ, জবেদ আলী ও হুরমুজ আলীকে জমি ভাগ করে দেন।

এরপর থেকে তারা ভাগ অনুযায়ী যার যার জমি ভোগ করে আসছিলেন। দীর্ঘদিন পর হুরমুজ আলী রাস্তার পাশে ১০ শতাংশ দাবি করে আমজাদ আলীর ভোগকৃত জমিতে মাটি ফেলে। প্রায় দেড় বছর আগে বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা হলে হুরমুজের সঙ্গে তার ভাই আমজাম আলী ও জবেদ আলীর বিরোধ আরও বেড়ে যায়।

এরপর দফায় দফায় বিরোধকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।

গত রোববার বিষয়টি নিয়ে গ্রাম্য সালিশ বসে। সালিশে হুরমুজ আলীর মাটি ভরাটের খরচকৃত সাড়ে ৪ লাখ টাকা ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সোমবার আমজাদ আলী হুরমুজকে টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল। এর আগেই বৃহস্পতিবার নিজ ঘরের ধর্নার সঙ্গে গলায় গামছা পেছানো অবস্থায় হুরমুজের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। সকালে খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহতের স্ত্রী সুরিয়া বেগম বলেন, ‘জমির ভাগ নিয়ে বিভিন্ন সময় আমার স্বামী হুরমুজ আলীকে হত্যার হুমকি দিচ্ছিলেন আমজাদসহ তার ছেলেরা। গতকালও তারা আমার স্বামীকে হত্যার হুমকি দেন। নতুন বাড়িতে তিনি একাই থাকতেন। আমরা পুরাতন বাড়িতে ছিলাম। এ সুযোগে তারা আমার স্বামীকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে। আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আমজাদ আলী বলেন, ‘প্রায় দেড় বছর আগে আমার ভোগকৃত জমি দাবি করে হুরমুজ মাটি ফেলে। বিষয়টি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরপর গত রবিবার বিষয়টি নিয়ে সালিশ বসে। সালিশে হুরমুজের মাটি ভরাটের খরচকৃত সাড়ে চার লাখ টাকা ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আমরা সেটা মেনে নিয়েছিলাম। আগামী সোমবার হুরমুজকে টাকা পরিশোধ করে দিতাম। এরপর আগেই হুরমুজ অভিমানে আত্মহত্যা করেছে। আমরা তাকে হত্যা করিনি।’

বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুনুর রশিদ বলেন, ‘নিহতের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য