বাসে তরুণী ধর্ষণ: আরেকজনের স্বীকারোক্তি

পুলিশের গাড়িতে ধর্ষণ মামলার আসামিরা

বাসে তরুণী ধর্ষণ: আরেকজনের স্বীকারোক্তি

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জিয়াউল ইসলাম বলেন,বুধবার বিকেলে তিন দিনের রিমান্ড শেষে পাঁচ আসামির আবার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরে বাসের হেলপার আদালতে ধর্ষণের ঘটনা স্বীকার করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বাকি চার আসামির প্রত্যেকের আবারও তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত।

ঢাকার সাভারে চলন্ত বাসে তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনায় বাসচালকের পর এবার হেলপার আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আর রিমান্ড শেষে বাকি চার আসামির আবার তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার বিকেলে ঢাকার মুখ্য বিচারিক আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুজ্জামান শিকদার এই রিমান্ড শুনানি করেন।

জবানবন্দি দেয়া আসামিরা হলেন, বগুড়ার ধুনট থানার খাটিয়ামারি এলাকার মো. সুমন ও নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার ধামঘর এলাকার মো. মনোয়ার। মো. সুমন ওই বাসের চালক ও মো. মনোয়ার বাসের হেলপার।

আবারও তিন দিনের রিমান্ডে নেয়া আসামিরা হলেন, ঢাকার তুরাগ থানার গুলবাগ ইন্দ্রপুর ভাসমান গ্রামের আরিয়ান, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার তারাগুনা এলাকার সাজু, বগুড়ার ধুনট থানার খাটিয়ামারি এলাকার সোহাগ ও দুপচাঁচিয়া থানার জিয়ানগর গ্রামের সাইফুল ইসলাম।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জিয়াউল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, গত ২৮ মে গভীর রাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিশমাইল থেকে তরুণী গণধর্ষণের অভিযোগে ছয়জনকে আটক করা হয়। জব্দ করা হয় গ্রামবাংলা পরিবহনের একটি বাস। পরদিন সকালে ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। ওই দিন বিকেলে পুলিশ ছয় আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠালে বাসের চালক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আর পাঁচ আসামির তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত।

তিনি আরও বলেন, বুধবার বিকেলে তিন দিনের রিমান্ড শেষে পাঁচ আসামির আবার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরে বাসের হেলপার আদালতে ধর্ষণের ঘটনা স্বীকার করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বাকি চার আসামির প্রত্যেকের আবারও তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত।

আরও পড়ুন:
লঞ্চের কেবিনে তরুণীকে ‘ধর্ষণ’
শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মুদি দোকানি গ্রেপ্তার
শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার
এমসি কলেজে ধর্ষণ: বরখাস্ত হচ্ছেন অধ্যক্ষ, হোস্টেল সুপার
কিশোরীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শাটডাউনের শঙ্কায় যাত্রীর চাপ শিমুলিয়ায়

শাটডাউনের শঙ্কায় যাত্রীর চাপ শিমুলিয়ায়

মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে যাত্রী পারাপারে চাপ বেড়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

বিআইডাব্লিউটিসি সুপার ভাইজার শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘শিমুলিয়া ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে শতাধিক বড় গাড়ি। যাত্রীদের চাপ বেশি থাকায় সকাল থেকে বেলা ১০টা পর্যন্ত দুইশতাধিক গাড়ি পার করা হয়েছে।’ 

লকডাউনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে যাত্রী পারাপারে চাপ বেড়েছে। এবার শাটডাউন ঘোষণার আশঙ্কায় যাত্রী পারাপার বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার সকাল থেকে এ নৌরুটের ফেরিগুলোতে ঢাকা ও দক্ষিণবঙ্গগামী উভয়মুখী প্রচুর যাত্রীদের পারাপার করতে দেখা গেছে। একইসঙ্গে পারাপার হচ্ছে পণ্যবাহী ও জরুরি যানবাহন।

বিআইডাব্লিউটিসি শিমুলিয়া ঘাট সহকারী ব্যবস্থাপক (বানিজ্য) ফয়সাল আহমেদ জানান, নৌরুটে বর্তমানে ১৪টি ফেরি সচল রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী লকডাউনের আওতামুক্ত গাড়ি পারাপারের কথা থাকলেও যাত্রীরা ঘাটে আসছেন।

বিআইডাব্লিউটিসি সুপার ভাইজার শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘শিমুলিয়া ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে শতাধিক বড় গাড়ি। যাত্রীদের চাপ বেশি থাকায় সকাল থেকে বেলা ১০টা পর্যন্ত দুইশতাধিক গাড়ি পার করা হয়েছে।’

মাওয়া ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ জাকির হোসেন জানান, শিমুলিয়া ঘাটের প্রবেশ মুখে চেকপোস্ট আজও রয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে যথাসম্ভব যাত্রীদের ঘাটে আসা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু যাত্রীরা বিভিন্নভাবে ঘাটে এসে উপস্থিত হচ্ছেন। মূলত শাটডাউন ঘোষণার শঙ্কায় যাত্রীদের আগমন বেড়েছ।

মুন্সীগঞ্জ সদরের ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ বজলুর রহমান জানান, জেলায় আরও কয়েকটি চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন শহরের মধ্যে চলাচলে বাধা দেয়া হচ্ছে। কিছু অটোরিকশা জব্দও করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের লঞ্চ চলাচল প্রথম দিন থেকে বন্ধ রয়েছে।

আরও পড়ুন:
লঞ্চের কেবিনে তরুণীকে ‘ধর্ষণ’
শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মুদি দোকানি গ্রেপ্তার
শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার
এমসি কলেজে ধর্ষণ: বরখাস্ত হচ্ছেন অধ্যক্ষ, হোস্টেল সুপার
কিশোরীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

শেয়ার করুন

সাতক্ষীরায় এক দিনে মৃত্যু ৮, শনাক্ত ৪৮

সাতক্ষীরায় এক দিনে মৃত্যু ৮, শনাক্ত ৪৮

জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪৮ জনের দেহে করোনার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ১০ শতাংশ। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ছিল ৪৩ শতাংশ।

সাতক্ষীরায় ২১ দিন লকডাউনেও মেলেনি সুফল। গত ২৪ ঘণ্টায় সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ও সাত জন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।

সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ৭ জন সাতক্ষীরা মেডিক্যালে ও ১ জন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

চলতি মাসে এ পর্যন্ত উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৩০৪ জন। আর করোনা পজিটিভ হয়ে মারা গেছেন ৬৩ জন। এ নিয়ে জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ১৬৫ জনের দেহে। সুস্থ হয়েছে ২ হাজার ২২৯ জন।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪৮ জনের দেহে করোনার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ১০ শতাংশ। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ছিল ৪৩ শতাংশ।

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২৬ জন ও বেসরকারি হাসপাতালে ১৪ জন করোনা সংক্রমিত রোগী ভর্তি ছিলেন। উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ছিলেন ৩৬৭ জন। গত এক সপ্তাহে সাতক্ষীরায় করোনায় মৃত্যু ৯; উপসর্গে ৪৫ জন।

সাতক্ষীরায় বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সকলেই উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। বুধবার (২৩ জুন) করোনায় মৃত্যু ১; উপসর্গে ৭ জনের। মঙ্গলবারেও (২২ জুন) করোনায় মৃত্যু ১; উপসর্গ নিয়ে ৮।

২১ জুন মোট মৃত্যু ৪; করোনায় ১ ও উপসর্গে ৩। ২০ জুনে করোনায় ৩ ও উপসর্গ নিয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়। শনিবার (১৯ জুন) ৮ জনের মৃত্যু হয়; করোনায় ১ ও উপসর্গে ৭ মৃত্যু হয়। আর ১৮ জুন করোনায় ১ জনের মৃত্যু হয়।

লকডাউনের মধ্যেও করোনা সংক্রমণ না কমার কারণ হিসেবে সিভিল সার্জন হুসেইন শাফায়াত বলেন, ‘জনগণ আইন-কানুনের তোয়াক্কা করছেন না বলেই মনে হয় এমন হচ্ছে। শুধুমাত্র মাস্ক পরার মাধ্যমে করোনা সংক্রমণ অর্ধেকে নামিয়ে আনা যায়।

‘পাশাপাশি এটাও বলা যায়, কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ঘটেছে। যে কারণে সংক্রমণ কমছে না। একটা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। পিকটাইমটা চলে গেছে। লকডাউনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে অচিরেই আমরা এর ফল পাব।’

এদিকে রোগী ভর্তির শয্যা সংকট করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল। সিট না পেয়ে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন। অনেকেই আবার বড় অংকের টাকা দিয়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কনসালট্যান্ট মানস মন্ডল জানান, এ হাসপাতালে রোগী ভর্তি আছেন ২৯১ জন। সিট ক্যাপাসিটি ২০০। ফলে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন অথবা ফ্লোরে থাকছেন। শয্যা বাড়াতে হলে চিকিৎসক বাড়াতে হবে। সেবিকা, ওয়ার্ড বয়,ক্লিনারসহ আনুসঙ্গিক সরঞ্জামাদিও বাড়াতে হবে।

অপরদিকে বরাবরের মত ঢিলে-ঢালাভাবে চলছে লকডাউনের ২১ তম দিন। শহর ও গ্রামে একাধিক যান চলাচল করতে দেখা গেছে। মোবাইল কোর্টের তৎপরতাও ছিল সীমিত।

আরও পড়ুন:
লঞ্চের কেবিনে তরুণীকে ‘ধর্ষণ’
শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মুদি দোকানি গ্রেপ্তার
শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার
এমসি কলেজে ধর্ষণ: বরখাস্ত হচ্ছেন অধ্যক্ষ, হোস্টেল সুপার
কিশোরীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

শেয়ার করুন

শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত নারীর প্রাণ বাঁচাল স্বেচ্ছাসেবীদের অক্সিজেন

শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত নারীর প্রাণ বাঁচাল স্বেচ্ছাসেবীদের অক্সিজেন

সাভারের ব্যাংকটাউন এলাকার এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অক্সিজেন দিয়ে বাঁচিয়েছে বেশ কয়েকজনের প্রাণ। ছবি: নিউজবাংলা

স্বেচ্ছাসেবী জুনায়েদ আহমেদ বলে, ‘দুপুরে আমাদের সংগঠনের সেক্রেটারি বিদ্যুৎ ভাইয়ের হটলাইন নম্বরে কল আসে। তিনি আমাদের জানালে দ্রুত দুটি সিলিন্ডার নিয়ে বৃষ্টির মধ্যেই ছুটে যাই ওই বাসায়। ছয় তলার ফ্ল্যাটে সিঁড়ি বেয়ে উঠতেই দেখি রোগীটি শ্বাসকষ্টে ফ্লোরে গড়াগড়ি খাচ্ছেন।’

বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি। দুপুরে হঠাৎ প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয় বিলকিস আক্তার সাথীর। তাকে বাঁচাতে পাগলপ্রায় স্বামী। তিনি পরিচিতজনদের জানাতেই পেয়ে যান অক্সিজেন সেবার একটি হটলাইন নম্বর।

ফোন করতেই ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই বাসার ছয় তলায় দুটি অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে হাজির দুই কিশোর। পরে হাসপাতালে পৌঁছে দিতেও সাহায্য করে তারা।

সাভারের ব্যাংকটাউন এলাকার ‘কোভিড এক্সপ্রেস হেল্প ইউনিট’ নামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের দুই কিশোর জুনায়েদ ইসলাম ও ইয়াসিন আরাফাত সিয়াম।

বৃহস্পতিবার দুপুরে হটলাইনের কল পেয়ে বৃষ্টির মধ্যেই তারা ছুটে যায় অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে। ব্যাংকটাউনের ১ নম্বর সড়কে রিয়ান মাহমুদের ছয় তলার ফ্ল্যাটে দুটি সিলিন্ডার অনেক কষ্টে টেনে তোলে তারা।

করোনাভাইরাস মহামারিতে মানুষকে সেবা দিতে নিজেরাই নিজেদের প্রস্তুত করেছে কিশোররা। করোনায় নিজেদের স্বজন হারানো কিংবা শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীদের দেখেই এই মহান কাজ শুরু করেছে তারা। মাত্র কয়েক মাসের যাত্রায় বেশ কয়েকজনের প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করেছে।

কোভিড এক্সপ্রেস হেল্প ইউনিটের স্বেচ্ছাসেবী দশম শ্রেণির ছাত্র জুনায়েদ আহমেদ নিউজবাংলাকে বলে, ‘দুপুরে আমাদের সংগঠনের সেক্রেটারি বিদ্যুৎ ভাইয়ের হটলাইন নম্বরে কল আসে। তিনি আমাদের জানালে দ্রুত দুটি সিলিন্ডার নিয়ে বৃষ্টির মধ্যেই ছুটে যাই ওই বাসায়। ছয় তলার ফ্ল্যাটে সিঁড়ি বেয়ে উঠতেই দেখি রোগীটি শ্বাসকষ্টে ফ্লোরে গড়াগড়ি খাচ্ছেন।

‘এ সময় রোগীর হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছিল। তখন দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেয়ার জন্য ছয় তলা থেকে ধরে নিয়ে নিচে আনি। পরে উনাদের ব্যক্তিগত গাড়িতে করে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। তখন ডাক্তার আমাদের জানায়, দেরি হলে হয়তো দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।’

কীভাবে এসব আয়ত্ত করেছে, এমন প্রশ্নের জবাবে জুনায়েদ বলে, ‘আমাদের সংগঠনের সেক্রেটারি বিদ্যুৎ ভাই এসব শিখিয়েছেন। ১৫ দিন কোন সিচুয়েশনে কী করতে হয় এসব ট্রেনিং করিয়েছেন।

‘আমার কাজ করতে খুব ভালো লাগে। খুব প্রাউড ফিল হয় যখন আমার কারণে কোনো প্রাণ বাঁচে। কারও মুখে হাসি ফোটে।’

শ্বাসকষ্টে ভোগা বিলকিস আক্তার সাথীর স্বামী রিয়ান মাহমুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার স্ত্রী এখন ভালো আছেন। তাদের ধন্যবাদ দেয়ার ভাষা আমার নাই।

‘আর ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করতেও চাই না। উনাদের অক্সিজেনের কারণে আজ আমার স্ত্রী প্রাণে বেঁচে ফিরেছে।’

কোভিড এক্সপ্রেস হেল্প ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বিদ্যুৎ বলেন, ‘করোনায় এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের স্বজন ও এলাকার লোকদের জন্য কিছু করা প্রয়োজন ভেবে রুবেল ভাই উদ্যোগটা নিলেন। তখন উনার অর্থায়নে আমরা দুই-তিনটা সিলিন্ডার কিনি।

‘পরে উনার ব্যবসায়িক পার্টনারও অর্থায়ন করলে আরও ১০টা সিলিন্ডার কিনি। আমাদের ব্যাংকটাউন এলাকা ও আশপাশ থেকে প্রায় ১৬ জন ভলান্টিয়ার যুক্ত করি। তাদের প্রশিক্ষণও দিই।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত কয়েক মাসে ব্যাংকটাউনের বেশ কয়েকজন মুমূর্ষু রোগীকে আমরা অক্সিজেন সেবা দিয়েছি। তবে এসবের পেছনে আমাদের সার্বিক সহযোগিতা করেছেন সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীব ভাই।’

আরও পড়ুন:
লঞ্চের কেবিনে তরুণীকে ‘ধর্ষণ’
শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মুদি দোকানি গ্রেপ্তার
শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার
এমসি কলেজে ধর্ষণ: বরখাস্ত হচ্ছেন অধ্যক্ষ, হোস্টেল সুপার
কিশোরীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

শেয়ার করুন

কবরস্থান নিয়ে গোলাগুলি: গ্রেপ্তার ৩

কবরস্থান নিয়ে গোলাগুলি: গ্রেপ্তার ৩

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় কবরস্থানে সাইনবোর্ড দেয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে চারজন গুলিবিদ্ধ হন। ছবি: নিউজবাংলা

পূর্ব বাকলিয়ায় আবদুল লতিফ হাটখোলা এলাকায় বড় মৌলভী বাড়িসংলগ্ন একটি কবরস্থান রয়েছে। গত ১১ জুন সকালে ওই বাড়ির লোকজন সেখানে সাইনবোর্ড লাগাতে গেলে পাশের ইয়াকুব আলী বাড়ির লোকজন গিয়ে বাধা দেন। এ নিয়ে সংঘর্ষ হয়।

চট্টগ্রামে কবরস্থান নিয়ে গোলাগুলির ঘটনার মূল আসামি ইয়াকুবসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) শাহ মোহাম্মদ আবদুর রউফ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. ইয়াকুব, ওসমান গনি ও মো. মাসুদ।

আবদুর রউফ বলেন, ‘ঘটনার মূল অভিযুক্ত ইয়াকুবসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ ঘটনার সময় ব্যবহৃত বিদেশি পিস্তল ও দেশিয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) শুক্রবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত বলবেন।’

গত ১৬ জুন জাহিদুর আলম নামে আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুইটি গুলি উদ্ধার করা হয়।

পূর্ব বাকলিয়ায় আবদুল লতিফ হাটখোলা এলাকায় বড় মৌলভী বাড়িসংলগ্ন একটি কবরস্থান রয়েছে। এটি লোকজনের কাছে বড় মৌলভী কবরস্থান নামে পরিচিত। বড় মৌলভী বাড়ির লোকজনের দাবি, এটা তাদের পূর্বপুরুষের দেয়া নিজস্ব কবরস্থান।

গত ১১ জুন সকালে ওই বাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশীরা মিলে সেখানে সাইনবোর্ড লাগাতে যান। তখন পাশের ইয়াকুব আলীর বাড়ি ও তাদের লোকজন গিয়ে বাধা দেন।

সে পক্ষের দাবি, এটা ১০০ বছর ধরে স্থানীয়দের সম্মিলিত সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়।

বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় দুই পক্ষের তিন থেকে চারজনের হাতে পিস্তল দেখা গেছে। গোলাগুলির ঘটনায় ১৩ জন আহত হয়।

সংঘর্ষের পর মৌলভী বাড়ির লোকজনের পক্ষে সাইফুল্লাহ মাহমুদ নামে একজন মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
লঞ্চের কেবিনে তরুণীকে ‘ধর্ষণ’
শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মুদি দোকানি গ্রেপ্তার
শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার
এমসি কলেজে ধর্ষণ: বরখাস্ত হচ্ছেন অধ্যক্ষ, হোস্টেল সুপার
কিশোরীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

শেয়ার করুন

অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় তরুণ নিহত

অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় তরুণ নিহত

এএসআই শীলব্রত বড়ুয়া বলেন, শুক্রবার সকালে মীরসরাইয়ে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন দিশান। রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসক দিশানকে মৃত ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় দিশান উদ্দিন নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মীরসরাই সদরে শুক্রবার সকাল পৌনে সাতটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ১৯ বছর বয়সী দিশান উদ্দিন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সোনাকোড় এলাকার বাসিন্দা। দিশান ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শীলব্রত বড়ুয়া নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, শুক্রবার সকালে মীরসরাইয়ে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন দিশান। রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসক দিশানকে মৃত ঘোষণা করেন।

দিশানের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
লঞ্চের কেবিনে তরুণীকে ‘ধর্ষণ’
শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মুদি দোকানি গ্রেপ্তার
শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার
এমসি কলেজে ধর্ষণ: বরখাস্ত হচ্ছেন অধ্যক্ষ, হোস্টেল সুপার
কিশোরীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

শেয়ার করুন

চেয়ারে বসা নিয়ে দ্বন্দ্বে ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র খুন

চেয়ারে বসা নিয়ে দ্বন্দ্বে ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র খুন

নেত্রকোণার দুর্গাপুরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে আনোয়ার নিহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি শাহনুর এ আলম জানান, বড়ইউন্দ বাজারে এক ওষুধের দোকানে চেয়ারে বসা নিয়ে আনোয়ারের সঙ্গে একই গ্রামের সোহেল মিয়ার কথা-কাটাকাটি হয়। এরই জেরে সোহেল তার বাবা মরম আলীসহ কয়েকজন সহযোগী নিয়ে আনোয়ারের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়।

নেত্রকোণার দুর্গাপুরে ওষুধের দোকানের এক চেয়ারে বসা নিয়ে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র খুন হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও দুইজন।

উপজেলার চণ্ডীগড় ইউনিয়নের বড়ইউন্দ বাজারে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ২৫ বছর বয়সী আনোয়ার হোসেনের বাড়ি উপজেলার রনাজিরপুর ইউনিয়নের আনন্দপুর গ্রামে। তিনি ময়মনসিংহের আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ছিলেন।

আহত দুইজন হলেন নিহত ব্যক্তির বাবা মকবুল হোসেন ও চাচাতো ভাই মনির হোসেন।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহনুর এ আলম জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বড়ইউন্দ বাজারে এক ওষুধের দোকানে চেয়ারে বসা নিয়ে আনোয়ারের সঙ্গে একই গ্রামের সোহেল মিয়ার কথা-কাটাকাটি হয়।

এরই জেরে সোহেল, তার বাবা মরম আলীসহ কয়েকজন সহযোগী নিয়ে আনোয়ারের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। খবর পেয়ে আনোয়ারের বাবা মকবুল ও চাচাতো ভাই মনির ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরও মারধর করা হয়।

এ সময় ছুরিকাঘাতে তিনজনই গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আনোয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি দুইজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ওসি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্যে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে অভিযান চলছে।

একটি মামলাও হয়েছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
লঞ্চের কেবিনে তরুণীকে ‘ধর্ষণ’
শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মুদি দোকানি গ্রেপ্তার
শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার
এমসি কলেজে ধর্ষণ: বরখাস্ত হচ্ছেন অধ্যক্ষ, হোস্টেল সুপার
কিশোরীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আ. লীগের সভাপতি মঈনুদ্দীনের মৃত্যু

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আ. লীগের সভাপতি মঈনুদ্দীনের মৃত্যু

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মঈনুদ্দীন মন্ডল। ছবি: নিউজবাংলা

মঈনুদ্দীন মন্ডল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রবীণ রাজনীতিবিদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মঈনুদ্দীন মন্ডল মারা গেছেন।

রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আরিফুর রেজা ইমন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। দীর্ঘদিন থেকে তিনি বাধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সপ্তাহখানেক আগে ঢাকায় নেয়া হয়।

তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মঈনুদ্দীন মন্ডল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন।

তিনি নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের ছাত্রসংসদের ভিপি ও জিএস হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত থেকে তৎকালীন চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহকুমা ছাত্রলীগের সভাপতি, বৃহত্তর রাজশাহী ছাত্রলীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের অন্যতম সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এ ছাড়া মঈনুদ্দীন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, পরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

আরও পড়ুন:
লঞ্চের কেবিনে তরুণীকে ‘ধর্ষণ’
শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মুদি দোকানি গ্রেপ্তার
শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার
এমসি কলেজে ধর্ষণ: বরখাস্ত হচ্ছেন অধ্যক্ষ, হোস্টেল সুপার
কিশোরীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

শেয়ার করুন