ক্ষীরশাপাতিতে জমে উঠছে আমের বাজার

ক্ষীরশাপাতিতে জমে উঠছে আমের বাজার

জমে উঠছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের বাজার। ছবি: নিউজবাংলা

আম উদ্যোক্তা ইসমাইল খান শামীম বলেন, ‘ক্ষীরশাপাতি আসায় বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। ভোক্তা পর্যায়ে আম যত বেশি খাবে, বাজার তত বেশি চাঙা হবে।’

আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার মৌসুমের শুরুতেই করোনা মহামারির ধাক্কায় কিছুটা বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও বাগানমালিকরা। করোনার সংক্রমণের হার এখনও স্বাভাবিক পর্যায়ে না আসায় লকডাউন বাড়ানো হয়েছে ৭ জুন পর্যন্ত।

শুরু থেকেই আমকেন্দ্রিক সব কার্যক্রম লকডাউনের আওতামুক্ত রাখা হয়েছিল। একই সঙ্গে এবারের বর্ধিত লকডাউনেও জেলার বাইরে থেকে আম কিনতে আসতে পারবেন ব্যবসায়ীরা।

জেলা প্রশাসনের এমন ঘোষণার পর থেকেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে আসতে শুরু করেছেন ব্যাপারীরা। ধীরে ধীরে জমে উঠতে শুরু করেছে আমের বাজার।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন আমবাগানে এখন ক্ষীরশাপাতি আম সংগ্রহের কাজ চলছে। আমপ্রেমীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় এই আম।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মানভেদে প্রতিমণ ক্ষীরশাপাতি আম বিক্রি হচ্ছে ১৬০০ থেকে দুই হাজার টাকায়।

গাছ থেকে ক্ষীরশাপাতি আম সংগ্রহ করছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার সিসিডিবি মোড় এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদ।

তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে গত সপ্তাহে বাজার একদমই খারাপ ছিল। তবে এ সপ্তাহে বাজার কিছুটা হলেও আগের চেয়ে ভালো।’

আম আসতে শুরু করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে সবচেয়ে বড় আমের বাজার কানসাটে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছেন ব্যবসায়ীরাও।

কানসাটের আড়তদার আব্দুস সালাম বলেন, ‘লকডাউনে আমের কেনাবেচায় কোনো বাধা না থাকলেও ব্যাপারীরা আসছিলেন না। তবে এবার লকডাউন বাড়লেও প্রশাসন বলেছে ব্যাপারীরা আসতে পারবেন। তারপর থেকেই বাজারে ব্যাপারীরা আসতে শুরু করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘এখানে প্রায় ৫০০ আড়তের সবগুলোতেই ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যাপারীরা এসেছেন।’

এদিকে করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করতে অনেক বাগানেই আম সংগ্রহে স্বাস্থ্যবিধি মানার চেষ্টা চলছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অন্যতম আম উদ্যোক্তা মনামিনা কৃষি খামারের নাহিদ ইসলাম জানান, আম পাড়া থেকে প্যাকেট করা পর্যন্ত সবক্ষেত্রেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার চেষ্টা করছেন তারা।

তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে এ বছর অনলাইনে আম বেচাকেনা হচ্ছে। মুদি দোকানি থেকে শুরু করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সাংবাদিক সবাই আম বিক্রেতা। এর বাইরে অনেক শিক্ষার্থী এবার আম ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। অনলাইনে আম বিক্রি করছেন তারা।’

বিক্রেতা বেড়ে যাওয়ায় অর্ডার কমেছে কি না- জানতে চাইলে নাহিদ বলেন, ‘খুব বেশি হেরফের হয়নি। তবে করোনার ধাক্কায় শুরুতেই কিছুটা হলেও বিক্রি কম হয়েছে। গেলবারের চেয়ে বিক্রি নেমেছে অন্তত অর্ধেকে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের আম উদ্যোক্তা ইসমাইল খান শামীম বলেন, ‘ক্ষীরশাপাতি আসায় বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। ভোক্তা পর্যায়ে আম যত বেশি খাবে, বাজার তত বেশি চাঙা হবে।’

তার মতে, করোনার ভীতি থাকলেও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম-বাণিজ্য। খুব শিগগির বিদেশে আম রপ্তানি শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, ‘চলমান লকডাউনে আম কেনাবেচায় কোনো বাধা নেই, একই সঙ্গে বাইরের জেলা থেকে আম কিনতে আসতে পারবেন ব্যাপারীরা।’

তিনি বলেন, ‘সংক্রমণ ঠেকাতে একসঙ্গে একই জায়গায় আমের বাজার বসানো থেকে বিরত থাকা হয়েছে। বাজারকে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। অনলাইনে আম কেনাবেচার জন্য জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।’

অনলাইনে আম ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগের নম্বর দেয়াসহ বিভিন্ন প্রচার চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য