× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

সারা দেশ
খাবারের খোঁজে লোকালয়ে মুখপোড়া হনুমান
hear-news
player
print-icon

খাবারের খোঁজে লোকালয়ে মুখপোড়া হনুমান

খাবারের-খোঁজে-লোকালয়ে-মুখপোড়া-হনুমান
খাবারের খোঁজে লোকালয়ে এসেছে মুখপোড়া হনুমান। ছবি: নিউজবাংলা
উপজেলা বন কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে এসে প্রাণীটির গতিবিধি লক্ষ করছি। ইতিমধ্যে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এবং বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা বিভাগকে জানানো হয়েছে। এটি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ মুখপোড়া হনুমান।’

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে হঠাৎ করে লোকালয়ে এসেছে একটি মুখপোড়া (কালোমুখো) হনুমান। বন কর্মকর্তারা বলছেন, খাবারের খোঁজে পাশের জেলা নওগাঁ থেকে এসেছে হনুমানটি।

বুধবার উপজেলার রুকিন্দিপুর ইউনিয়নের কানুপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, হনুমানটি এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িসহ বিভিন্ন গাছে গাছে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেটিকে এক নজর দেখার জন্য ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয়রা।

তারা বলছেন, কয়েক দিন আগে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার খাদাইল থেকে এসেছে হনুমানটি। এখন পর্যন্ত সে কারও ক্ষতি করেনি। কেউ হাত বাড়িয়ে খাবার দিলে সেটি নিয়ে আবার গাছের ডালে উঠে পড়ছে সে।

কানুপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, ‘সকালে হনুমানটিকে দেখতে পেয়ে প্রথমে ‘৯৯৯’ ফোন করে প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। কেউ যেন হনুমানটির কোনো ক্ষতি করতে না পারে, সে জন্য গ্রামের সবাইকে আমরা সজাগ করেছি।’

উপজেলা বন কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে এসে প্রাণীটির গতিবিধি লক্ষ করছি। ইতিমধ্যে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এবং বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা বিভাগকে জানানো হয়েছে। এটি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ মুখপোড়া হনুমান।’

আক্কেলপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম এম হাবিবুল হাসান বলেন, ‘এ বিষয়ে উপজেলা বন বিভাগকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। হনুমানের গতিবিধি লক্ষ করার জন্য দুজন গ্রাম পুলিশ রাখা হয়েছে। মূলত খাবারের সন্ধানে হনুমানটি লোকালয়ে ঢুকেছে।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

সারা দেশ
Fish stocks threatened by the spread of Chinese seine nets

চায়না দুয়ারি জালের বিস্তারে হুমকিতে মাছের ভাণ্ডার

চায়না দুয়ারি জালের বিস্তারে হুমকিতে মাছের ভাণ্ডার তেরখাদা উপজেলার ভুতিয়ার বিল থেকে মাছ ধরার জন্য চায়না দুয়ারি জাল ফেলছেন এক জেলে। ছবি: নিউজবাংলা
শুধু মাছ নয়, জলজ প্রাণী শামুক, ঝিনুক, সাপ, ব্যাঙসহ প্রায় সবই আটকা পড়ে চায়না দুয়ারি নামে এক নতুন ধরনের জালে। যখন ডাঙায় শুকাতে দেয়া হয়, তখন জালের লেগে থাকা মাছ খেতে এসে আটকা পড়ে পাখিরাও। সহজে বহনযোগ্য ও বেশি পরিমাণে মাছ আহরণ করা যায় বলে এই জাল দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

মাছ আহরণ করতে দক্ষিণাঞ্চলীয় খুলনা জেলার জেলেরা নতুন এক ধরনের জাল ব্যবহার করছেন, যা চায়না দুয়ারি বা ট্রেন জাল নামে পরিচিত। এই জালের প্রতি গিটের ফাঁসের দূরত্ব এক সেন্টিমিটারেরও কম। এতে একবার প্রবেশ করলে মাছের ডিম থেকে পোনা কিছুই বের হতে পারে না।

শুধু মাছ নয়, জলজ প্রাণী শামুক, ঝিনুক, সাপ, ব্যাঙসহ প্রায় সবই আটকা পড়ে এ জালে। যখন ডাঙায় শুকাতে দেওয়া হয়, তখন জালের লেগে থাকা মাছ খেতে এসে আটকা পড়ে পাখিরাও।

সহজে বহনযোগ্য, জাল ফেলতে কষ্ট কম ও বেশি পরিমাণে মাছ একই সঙ্গে আহরণ করা যায় বলে এ জাল দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

বতর্মানে খুলনার তেরখাদা উপজেলার ভুতিয়ার বিল, বাসুয়াখালি বিল, ডুমুরিয়া উপজেলার ডাকাতিয়া বিল ও শিবসা, পশুর, ভদ্রা, ভৈরব, শিবসা, কাজীবাছা, কপোতাক্ষ নদসহ প্রায় সব নদী ও খালে এই জাল ব্যবহার করা হচ্ছে।

তেরখাদা উপজেলার নাচুনিয়া গ্রামর জেলে মোজাফ্ফার বলেন, ‘আমি প্রায় পাঁচ বছর ধরে ভুতিয়ার বিল থেকে মাছ আহরণ করি। আগে মাছ ধরার জন্য খেওলা জাল ব্যবহার করতাম। সারা রাত বিলে জাল খেওয়াতে বেশ কষ্ট হত। তবে গত বছর থেকে চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার করছি।’

চায়না দুয়ারি জালের বিস্তারে হুমকিতে মাছের ভাণ্ডার

তিনি বলেন, ‘এই জাল বিকেলে বিলে ফেলে সকালে ওঠানো হয়। রাতে আর কষ্ট করা লাগে না। আগে খেওলা জাল নিয়ে সারা রাত কষ্ট করে ৫০০ টাকার মাছও পেতাম না। এখন চায়না দুয়ারি জালে ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকার মাছ পাই।’

২০ ফুট লম্বা পাঁচটি চায়না দুয়ারি জাল রয়েছে মোজাফ্ফারের। তিন দাবি করেন, অন্তত ৫ শতাধিক জেলে ২ হাজারেরও বেশি চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে ভুতিয়ার বিল থেকে মাছ আহরণ করেন।

একই উপজেলার জেলে আফতাব মোল্লা বলেন, ‘ভুতিয়ার বিলের পাশাপাশি আমরা আঠারো বেকি নদীতেও চায়না দুয়ারি জাল পেতে রাখি। একবার জাল পেতে রাখলে টানা পনের দিন আর ওঠানো লাগে না। শুধু প্রতিদিন একবার মাছ সেকে নিয়ে আসতে হয়। পনের দিন পর একবার রৌদে শুকাতে হয়। না হলে শেওলায় জালের ফাঁস বন্ধ করে দেয়।’

চায়না দুয়ারি জাল দিনের পর দিন পানিতে রেখে দেয়া যায়। এই জালের সুতা প্লাষ্টিকের তৈরি হওয়ায় সহজে নষ্ট হয় না। জেলেদের ধারণা, এই জাল চায়না থেকে আমদানি করা হয় এবং মাছ প্রবেশ করার জন্য একাধিক দুয়ার থাকায় নাম হয়েছে চায়না দুয়ারি। আবার অনেকটা লম্বা হওয়ায় অনেকে একে ট্রেন জালও বলে থাকেন।

বাংলাদেশে প্রচালিত কোনো মৎস্য আইন ও বিধিমালায় সারাসরি চায়না দুয়ারি জাল নিষিদ্ধ করা হয়নি। তবে মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালায় সাড়ে চার সেন্টিমাটার বা তার থেকে কম দৈর্ঘ্যের ফাঁসবিশিষ্ট জাল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল আহসান বলেন, ‘জালের গিটের দৈর্ঘের আইন মোতাবেক এই জালটি আমাদের দেশে পুরোপুরি নিষিদ্ধ।’

তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি যে কোনো জাল মাছের জন্য হুমকি। ছোট ছোট মাছগুলি টিকিয়ে রাখা জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এ ছাড়া বড় মাছের পোনা যদি ধরে ফেলা হয়, তাহলে মা মাছের সংকট তৈরি হবে। তখন মাছের উৎপাদনও হ্রাস পেতে শুরু করবে।’

একই বিভাগের অধ্যাপক ড. খন্দকার আনিসুল হক বলেন, ‘এই জাল শুধু মৎস্য ভাণ্ডার ধ্বংস করছে না, এটা পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর। প্লাস্টিকের তৈরি হওয়ায় এটা দীর্ঘদিন নষ্ট হয় না। অনেক সময় এই জাল জেলেরা নদী বা বিলে ফেলে দেন, তখন জালের মধ্যে মাছসহ অন্যান্য প্রাণী আটকা পড়ে মারা যায়। তা ছাড়া অনেক মাছ জালের সাথে ঘর্ষণের ফলে ফাংগাস বা ব্যাক্টেরিয়াল রোগে আক্রান্ত হয়ে যায়। পরিত্যক্ত এসব জাল যুগের পর যুগ পরিবেশের ক্ষতি করতে থাকে।’

চায়না দুয়ারি জালের বিস্তারে হুমকিতে মাছের ভাণ্ডার

খুলনা জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুসারে, জেলার মোট ৩৪টি নদী খাল ও ১৩টি বিল থেকে জেলারা মাছ আহরণ করেন।

খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব পাল বলেন, ‘নতুন করে এই জালের ব্যবহার শুরু হয়েছে। মাছ রক্ষায় আমরা প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছি।’

তিন বলেন, ‘নদী-খালের তুলনায় বিলগুলিতে এই জাল বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। সেসব এলাকা আমরা চিহ্নিত করে বেশি অভিযান চলাচ্ছি। জাল পেলে পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।’

২. খুলনার তেরখাদা উপজেলার নাচুনিয়া গ্রামের এক বাড়িতে চায়না দুয়ারি জাল রোদে শুকানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
জাল টাকাসহ প্রতারক গ্রেপ্তার
জালিয়াতির খ্প্পরে নওগাঁর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস
বাসি মাংসে রং মিশিয়ে বিক্রি, লাখ টাকা জরিমানা
বড়শি দিয়ে ৯২ কেজির বাগাড় শিকার
‘পটকা মাছ খেয়ে’ প্রাণ গেল মা-ছেলের

মন্তব্য

সারা দেশ
Reverse danger after digging the canal

খাল খননের পর উল্টো বিপদ

খাল খননের পর উল্টো বিপদ
বরগুনা জেলা সদরের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া ভাড়ানি খাল খননের পর স্রোতে উভয় পাড়ে তীব্র ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বরগুনা-পৌর শহরের একাংশসহ বরগুনা-বাঁশবুনিয়া-গুলবুনিয়া সড়কটিও হুমকির মুখে।

বরগুনা পৌর শহর থেকে বুড়ির চর ইউনিয়নের গুলবুনিয়া পর্যন্ত খনন করা ৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ‘ভাড়ানি খাল’ এখন শহর ও উভয় পাড়ের বাসিন্দাদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

বরগুনা জেলা সদরের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া খালটি খননের পর স্রোতে উভয় পাড়ে তীব্র ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বরগুনা-পৌর শহরের একাংশসহ বরগুনা-বাঁশবুনিয়া-গুলবুনিয়া সড়কটিও হুমকির মুখে। এ ছাড়া ৯ কিলোমিটারে খালে নির্মাণ করা মোট ১১টি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে শহরের দুটি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় বন্ধ রাখা হয়েছে যান চলাচল।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর বরগুনা প্রেসক্লাবে বরগুনা পৌরশহরের খাকদোন ও ভাড়ানি খালের দুই পাড় সংরক্ষণ, উপকূল সুরক্ষায় বেরিবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত বিষয়ক এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে খাকদোন নদী ও ভাড়ানি খালের দুপাড় উঁচু করে বাঁধ ও গাইডওয়াল নির্মাণ, বনায়ন, শহরের জলাবদ্ধতা প্রতিরোধে কালভার্ট ও স্লুইসগেটগুলো সংস্কার, নদী খনন এবং শহরের পর্যটন স্থানগুলোকে দৃষ্টিনন্দন করার বিষয় আলোচনা করা হয়। এতে পাউবোর বরিশাল বিভাগীয় তত্ত্বাববধায়ক প্রকৌশলী মো. কাইছার আলম উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বরগুনা পৌরসভার মেয়র কামরুল আহসান মহারাজসহ সচেনত নাগরিকরা ভাড়ানি খালের ভাঙন নিয়ে আলোচনা ও প্রতিকারে গাইড ওয়ালসহ সুরক্ষা ব্লক স্থাপনের দাবি জানান।

খাল খননের পর উল্টো বিপদ

এ সময় আলোচনায় বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মানির হোসেন কামাল বলেন, ‘জোয়ার-ভাটার অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে গিয়ে তড়িঘড়ি করে অপরিকল্পিতভাবে খালটি খনন করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সুবিধার জন্য খনন করা হলেও এখন সেই খননই উভয় পাড়ের বাসিন্দাদের বসতিসহ স্থাপনা, উভয় পাড়ের সড়ক ও ১১টি সেতুর জন্য বিপদ ডেকে এনেছে। দ্রুত উভয় পাড়ে সুরক্ষা ব্লক স্থাপন না করলে সড়ক, সেতু ও পাড়ের বসতিসহ অনেক স্থাপনা খালের পেটে চলে যাবে।’

দীর্ঘদিন ধরে দখল ও দূষণে মৃতপ্রায় ভাড়ানি খালটি পুনরুদ্ধারে পরিবেশবাদী বেশ কয়েকটি সংগঠন আন্দোলন করে আসছে। পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা উচ্চ আদালতে রিট করার পর খাল দখলমুক্ত করতে ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।

২০২০-২১ অর্থবছরে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে খালটি খননের কাজ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স গরীবে নেওয়াজ ও পটুয়াখালীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আল মামুন এন্টারপ্রাইজ যৌথভাবে চার কিলোমিটার খননের কাজ পায়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে খালটি খননের কাজ শেষ হয়।

খালটিতে এখন অবাধে জোয়ার-ভাটার প্রবাহ শুরু হওয়ায় মাত্র তিন মাসের মধ্যে উভয় পাড়ে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। আষাঢ়-শ্রাবনের বৃষ্টি ও জোয়ারের তোড়ে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যায়। এতে বরগুনা শহরের দুটি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। বন্ধ করে দেয়া হয় যানবাহন চলাচল।

খাল খননের পর উল্টো বিপদ

খাল খননের ফলে সেতুর পিলারের ভিত নড়বড়ে হয়ে যায়। স্রোতের তোড়ে মাটি ভেসে গিয়ে একইভাবে শহরের মাছবাজার থেকে শুরু করে গুলবুনিয়া পর্যন্ত মোট ১১টি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ ছাড়া খালের পশ্চিম পাড়ের বরগুনা-চালিতালী সড়কের পৌর শহরের মাদ্রাসা সড়ক থেকে শুরু করে খাদ্যগুদাম হয়ে জেলা স্কুল ও বাঁশবুনিয়া এলাকার বেশ কয়েকটি স্থানে সড়কের একাংশ ভেঙে খালে পড়েছে। একইভাবে পূর্বপাশের শহীদস্মৃতি সড়ক হয়ে মাইঠা, লবণগোলা থেকে গুলবুনিয়া পর্যন্ত ভাঙনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে খালের পাড়ের বেশ কিছু স্থাপনা।

বরগুনা পৌরশহর সংলগ্ন বাঁশবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা জুনাইদ জুয়েল বলেন, ‘অনেক আন্দোলনের পর খালটি দখলমুক্ত করার পর অপরিকল্পিতভাবে খনন করা হয়। ফলে এখন ভাঙনের শিকার হচ্ছে সড়ক, স্থাপনা, সেতু। খালটি খননের সময় মাছবাজার থেকে বাঁশবুনিয়া পর্যন্ত সুরক্ষা ব্লক স্থাপন করা হলে শহরের সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি উভয় পাড় সুরক্ষিত থাকত। তবে পাউবো চাইলে এ প্রকল্প এখনও হাতে নিতে পারে।

খাল খননের পর উল্টো বিপদ

বরগুনা পাবলিক পলিসি ফোরামের আহবায়ক মো. হাসানুর রহমান ঝন্টু বলেন, ‘আমরা আন্দোলন করেছি, খাল দখলমুক্ত হয়েছে এবং খননের কাজও শেষ। কিন্ত এখন খাল কেটে কুমির আনার অবস্থা হয়েছে। উপকার হয়েছে, কিন্ত যে ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, তা থেকে সুরক্ষা দিতে পাউবোকে ভূমিকা রাখতে হবে। দ্রুত খালের উভয় পাড়ে সুরক্ষা প্রাচীর নির্মাণ করে ব্লক স্থাপন না করলে হুমকির মুখে পড়বে সড়ক, সেতু ও এলাকার বাসিন্দাদের বসতি। খালটির উভয় পাড়ে এখন সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করলে এটি মানুষের ঘোরাফেরা ও বিনোদনের আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হবে।’

বরগুনার পৌর মেয়র কামরুল আহসান মহারাজ বলেন, ‘ইতোমধ্যে পৌর শহরের দুটি ব্রিজ ঝুঁকিতে থাকায় বন্ধ করা হয়েছে। আমি বিষয়টি পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী ও বিভাগীয় প্রকৌশলীর সাথে আলাপ করেছি। ওনারা এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা পাউবোকে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তত।’

পাউবো বরিশাল বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. কাইছার আলম বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা ছাড়া প্রকল্প গ্রহণ করা যায় না। বরগুনায় পাঁচটি প্রকল্পে অনুমোদন চাওয়া হলেও দুটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। খাকদন নদী ও ভাড়ানি খালের পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা করে প্রস্তাব করা যেতে পারে।’

আরও পড়ুন:
খাল খননের মাটিতে চাপা পড়ছে বসতি

মন্তব্য

সারা দেশ
The cry of the newborn came from the shoe box in the mosque

মসজিদে জুতার বাক্স থেকে ভেসে এলো নবজাতকের কান্না

মসজিদে জুতার বাক্স থেকে ভেসে এলো নবজাতকের কান্না
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান শাহরিয়ার বলেন, ‘শিশুটিকে অনেকেই দত্তক নিতে চাইছেন। তবে প্রশাসনের সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে শিশুটি কোথায় থাকবে।’

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে মসজিদের জুতার বাক্স থেকে জীবিত নবজাতককে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শহরের ওসমানী রোডের বায়তুন নূর জামে মসজিদ থেকে সোমবার রাত ৮টার দিকে ছেলে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ডালিম আহমেদ এসব নিশ্চিত করেছেন।

বায়তুন নূর জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন সোহেল আহমেদ জানান, সোমবার তিনি এশার আযান দিতে মসজিদ যান। বারান্দায় ঢুকতেই শিশুর কান্নার আওয়াজ পান। খুঁজে দেখেন জুতা রাখার বাক্সে নবজাতক কান্না করছে। তিনি তখনই ইমাম ও মসজিদ কমিটির লোকজনকে জানালে তারা নবীগঞ্জ থানায় কল করেন।

থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিজয় দেবনাথ গিয়ে শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন।

থানার ওসি ডালিম আহমেদ বলেন, ‘নবজাতকটি সুস্থ আছে। আপাতত তাকে পৌর এলাকার আনমনু গ্রামের এক নারীর কাছে রাখা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে দুধ, তোয়ালে ও তেলসহ নবজাতকের জন্য প্রয়োজনীয় সব জিনিস কিনে দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ইউএনওর নির্দেশে পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান শাহরিয়ার বলেন, ‘শিশুটিকে অনেকেই দত্তক নিতে চাইছেন। তবে প্রশাসনের সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে শিশুটি কোথায় থাকবে। এছাড়াও নবজাতকের আসল পরিচয় জানতে তদন্ত করছে পুলিশ।’

আরও পড়ুন:
যমজ নবজাতকের মৃত্যু: ধাত্রীই চালাতেন সেই ক্লিনিক
‘অপরিণত হওয়ায়’ সেই যমজ নবজাতকের মৃত্যু
‘বিলের জন্য অক্সিজেন খুলে নেয়ায়’ যমজ নবজাতকের মৃত্যু
গর্ভের সন্তান নষ্ট হওয়ায় নার্স বেশে নবজাতক চুরি
মাঝনদীতে সন্তান প্রসব, লঞ্চে আজীবন ভাড়া ফ্রি

মন্তব্য

সারা দেশ
Jsobala saved her husband by despising death

মরণ তুচ্ছ করে স্বামীকে বাঁচালেন যশবালা

মরণ তুচ্ছ করে স্বামীকে বাঁচালেন যশবালা
যশবালা জানান, নৌকার সবাই নদীতে পড়ে যায়। তিনি তখন সাঁতরে গিয়ে ছোট বাঁশের খুঁটি আঁকড়ে ধরেন ও স্বামীকে খুঁজতে থাকেন। কিছু দূরে দেখেন তার স্বামী শুকাতু স্রোতে ভেসে যাচ্ছেন আর খাবি খাচ্ছেন। 

নৌকা ডুবে যাওয়ার পর অন্য অনেকের সঙ্গে নিজের জীবনও সংকটে। সাঁতার জানা থাকায় কিছুটা দূরে গিয়ে অবলম্বন হিসেবে পেয়ে যান বাঁশের একটি খুঁটি। ওদিকে অসুস্থ স্বামী সাঁতার জানেন না। তীব্র স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তাকে।

এই পর্যায়ে নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে ছেড়ে দেন বাঁশের খুঁটি। এগিয়ে যান স্বামীকে বাঁচাতে। এক পর্যায়ে তাকে ধরে ফেলেন তিনি। আর প্রাণে বেঁচে যান দুজনই।

ঘটনাটি ঘটেছে রোববার, পঞ্চগড়ে। মহালয়ার পূজায় অংশ নিতে নৌকায় করে অন্য অনেকের সঙ্গে বদেশ্বরী মন্দিরে যাচ্ছিলেন বোদা উপজেলার ষাটোর্ধ্ব শুকাতু চন্দ্র বর্মণ ও তার স্ত্রী যশবালা রানী।

মাঝনদীতে নৌকা ডুবে গেলে শতাধিক যাত্রীর সঙ্গে তারা দুজনও পড়ে যান করতোয়ায়। যশবালা সাঁতরে তীরমুখী হলেও সাঁতার না জানায় তার স্বামী ডুবে যেতে থাকেন। তা দেখে নিজের জীবন তুচ্ছ করে এগিয়ে যান স্বামীর দিকে। এক পর্যায়ে স্বামীর নাগাল পেয়ে তাকে নিয়ে কোনোক্রমে ভেসে থাকেন। পরে লোকজন এসে তাদেরকে উদ্ধার করে।

তারা দুজন এখন চিকিৎসাধীন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে গিয়ে কথা হয় যশবালার সঙ্গে।

সে সময়ের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে আতঙ্কে কেঁপে উঠছিলেন তিনি।

নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নৌকা পাড়ে ভিড়তেই আমরা আগে উঠেছিলাম। পরে হুড়মুড় করে আরও লোকজন উঠা শুরু করল। আমি আমার অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে তখন নেমে যেতে চেয়েছিলাম, সে সুযোগ পাই নাই। মাইক দিয়ে এত লোক উঠতে নিষেধ করছিল। তবুও কেউ কথা শুনলো না। মাঝখানে ডুবে গেল নৌকা।’

তিনি জানান, নৌকার সবাই নদীতে পড়ে যায়। তিনি তখন সাঁতরে গিয়ে ছোট বাঁশের খুঁটি আকড়ে ধরেন ও স্বামীকে খুঁজতে থাকেন। কিছু দূরে দেখেন তার স্বামী শুকাতু স্রোতে ভেসে যাচ্ছেন আর খাবি খাচ্ছিলেন।

যশবালা এ পর্যায়ে কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, ‘এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে জীবনেও পড়িনি। আমি সাঁতার জানি, আমার স্বামী সাঁতার জানত না। সাঁতরে তাকে গিয়ে ধরেছি। এরপর স্থানীয় উদ্ধারকারীরা নৌকা নিয়ে এসে আমাদের দুজনকে তুলে নেয়।

‘আমি দেখি আমার স্বামী নৌকার উপর একদম নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। তখনই আমাদের দুজনকে হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। এখন আমরা সুস্থ আছি।’

স্বামীর দিকে চেয়ে তিনি যেন আনমনেই বলে উঠেলেন, ‘মরে গেলেও স্বামীকে ছাড়া ডাঙ্গায় আসতাম না।’

বোদা উপজেলার মারেয়া আউলিয়া-বদ্বেশ্বরী ঘাটে করতোয়া নদীতে রোববার দুপুরে শতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় নৌকাটি। তাতে থাকা যাত্রীদের বেশির ভাগই মহালয়ার পুণ্যার্থী ছিলেন। তারা নদীর ওপারে বদ্বেশ্বরী মন্দিরে প্রার্থনার জন্য যাচ্ছিলেন।

এ দুর্ঘটনায় রোববার ও সোমবার দুই দিনে ৫০ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে।

সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৭ জন নিখোঁজের তথ্য দিয়েছে ঘটনাস্থলে বসানো জেলা প্রশাসনের তথ্য কেন্দ্র। আর থানা পুলিশ জানিয়েছে, রোববার উদ্ধার হওয়া ১৫ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছিল। এছাড়া দুর্ঘটনার পর অনেকে সাঁতরে তীরে উঠতে পেরেছিলেন।

আরও পড়ুন:
পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: মৃত বেড়ে ৩২
বাধা না মেনে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠায় নৌকাডুবি: ডিসি
করতোয়ায় নৌকাডুবিতে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক
পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ২৪ মৃত্যু
নৌকাডুবি: নিখোঁজ চাচা-ভাতিজাসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার

মন্তব্য

সারা দেশ
Feminine Youth Murdered 6 Transgender Arrested

‘নারীবেশী যুবক’ খুন, ৬ ট্রান্সজেন্ডার গ্রেপ্তার

‘নারীবেশী যুবক’ খুন, ৬ ট্রান্সজেন্ডার গ্রেপ্তার তুষার হত্যার ঘটনায় প্রথমে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা
মরদেহ উদ্ধারের পর মৃতের পরিবারের সদস্যদের বরাতে পুলিশ জানায়, তুষার নিজেকে ট্রান্সজেন্ডার পরিচয় দিতেন এবং সেরকমই থাকতে পছন্দ করতেন। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।

সিলেটে তুষার আহমদ নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে ৬ ট্রান্সজেন্ডারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে গত রোববার তুষারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত তুষার নারীর ছদ্মবেশে ট্রান্সজেন্ডার লোকদের সঙ্গে চলাফেরা করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার রাতে কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ আলী মাহমুদ জানান, হত্যার ঘটনায় সোমবার ভোরের দিকে থানায় মামলা দায়ের করেন তুষারের ভাই হিমেল আহমদ রাফি। পরে সোমবার দিনভর অভিযান চালিয়ে ট্রান্সজেন্ডার ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ৬ জন হলেন- সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার ছোটদেশ গ্রামের হৃদয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থানার তানহা, সুনামগঞ্জের দিরাই থানার সুমি উজ্জল, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার চাঁদনী সজল, পাপ্পু পাপিয়া ও হৃদয় রুপা। এর মধ্যে পাপ্পু পাপিয়া ও হৃদয় রুপা ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী বলে জানিয়েছেন ওসি।

ওসি মোহাম্মদ আলী মাহমুদ বলেন, ‘আমরা বিশেষ অভিযানে প্রথমে চারজনকে গ্রেপ্তার করি। তাদের দেয়া তথ্যে পরে দুই পরিকল্পনাকারীকে গ্রেপ্তার করি।’

ওসি আরও বলেন, ‘প্রথমে গ্রেপ্তার ৪ জন ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে আমাদের কাছে স্বীকারোক্তি দেয় এবং জানায়, তারা একসঙ্গে খারাপ কাজ করতো। এই কাজ নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকেই তুষারকে খুন করা হয়। ওই চারজনকে সোমবার বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আর বাকি দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মঙ্গলবার তাদেরও আদালতে পাঠানো হবে।’

এর আগে রোববার সকালে নগরের সোবহানীঘাট থেকে তুষারের মরদেহ উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

খবর পেয়ে তুষারের মা নাছিমা বেগম ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলের মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে ময়নাতদন্ত শেষে রোববার বিকালে নগরীর মানিকপীর টিলায় মরদেহটি দাফন করা হয়।

মরদেহ উদ্ধারের পর মৃতের পরিবারের সদস্যদের বরাতে পুলিশ জানায়, তুষার নিজেকে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ পরিচয় দিতেন এবং সেরকমই থাকতে পছন্দ করতেন। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।

তুষারের ভাই হিমেল আহমদ রাফি বলেন, ‘আমার ভাই ট্রান্সজেন্ডার নয়। ছোটবেলায় একসঙ্গে আমাদের খতনা দেয়া হয়েছে। কিন্তু খাসদবির প্রাইমারি স্কুলে পড়ার সময় সে অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে এবং একসময় ট্রান্সজেন্ডারদের সঙ্গে চলাফেরা শুরু করে।’

রাফি জানান, প্রায় প্রতি রাতেই ট্রান্সজেন্ডার বন্ধুদের সঙ্গে ঘর থেকে বের হয়ে যেতেন তুষার। ফিরতেন পরদিন সকালে। এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার মানা করা হলেও তিনি শুনেননি।

রাফি বলেন, ‘শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকেও তৃতীয় লিঙ্গের এক বন্ধু তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তবে তাকে এর আগে আমি কখনও তার সঙ্গে দেখিনি। রাতে সেই যে বেরুলো, আর ঘরে ফেরেনি তুষার। সকালেই জানতে পারি তার লাশ সোবহানীঘাট থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।’

আরও পড়ুন:
প্রতিবন্ধী-ট্রান্সজেন্ডারদের চাকরি দিলে কর ছাড়
হোচিমিনের পরিবার একঘরে!
ট্রান্স পুরুষের পরিপক্ব ডিম্বাণুতে জন্ম নেবে সন্তান
ট্রান্সজেন্ডারদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৭
কিশোরের যৌনাঙ্গ কর্তন: ট্রান্সজেন্ডার জুঁই কারাগারে

মন্তব্য

সারা দেশ
The Center is angry with the Chabi Chhatra League

চবি ছাত্রলীগে ক্ষেপেছে কেন্দ্র

চবি ছাত্রলীগে ক্ষেপেছে কেন্দ্র
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ১০টি উপগ্রুপ সক্রিয়। চুন থেকে পান খসলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে অবরোধের ডাক দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা-পরিপন্থি যেকোনো কার্যকলাপের জন্য শাখা ছাত্রলীগকে কঠোর সতর্কবার্তা দিতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টিকারী নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানা গেছে।

সোমবার রাতে বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় উপদপ্তর সম্পাদক নাজির আহমেদ।

কেন্দ্রীয় এই ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খলা চলছে কয়েক দিন ধরেই। এটা আমরা পর্যবেক্ষণে রেখেছি। আগামীকাল বা পরশু এ বিষয়ে কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত দেবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা বা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাংগঠনিক সমস্যা থাকতে পারে, কিন্তু তার জন্য সাধারণ শিক্ষার পরিবেশ কেউ নষ্ট করতে পারে না। ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেবে না কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।’

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক খোঁজখবর নিয়ে মঙ্গলবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা দেবেন বলেও জানান নাজির আহমেদ। এ ক্ষেত্রে চবি ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে শোকজ, বহিষ্কার কিংবা সাংগঠনিক শাস্তির ব্যবস্থা নিলে তা সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

চবি ছাত্রলীগে ক্ষেপেছে কেন্দ্র
পান থেকে চুন খসলেই ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার অভিযোগ রয়েছে চবি ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ১০টি উপগ্রুপ সক্রিয়। চুন থেকে পান খসলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে অবরোধের ডাক দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এসব ক্ষেত্রে পূর্বঘোষণা ছাড়াই ক্যাম্পাসের শাটল ট্রেন বন্ধ করে দেয়ার অসংখ্য নজির রয়েছে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রায়ই বিপাকে পড়েন।

শাখা ছাত্রলীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার পরও সম্প্রতি পরপর দুবার ক্যাম্পাসে অবরোধের ডাক দেয়া হয়েছে। এতে কার্যত অচল হয়ে পড়ে পুরো ক্যাম্পাস।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক, পরিবহন পুল বন্ধ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও।

আরও পড়ুন:
মধ্যরাতে সংঘর্ষে চবি ছাত্রলীগের দুই পক্ষ
চবির মূল ফটকে ছাত্রলীগের তালা
চবিতে যৌন নিপীড়ন: প্রক্টরিয়াল বডিকে আদালতে তলব
বিএইচবিএফসি, রাকাব ও প্রবাসী ব্যাংকে নতুন এমডি
চবি ছাত্রলীগ নেতাকে ‘মারধর’

মন্তব্য

সারা দেশ
Seeing the boat sinking in Karatoya they jumped to the rescue

করতোয়ায় নৌকা ডুবতে দেখে উদ্ধারে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তারা

করতোয়ায় নৌকা ডুবতে দেখে উদ্ধারে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তারা
খাঁজা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল (রোববার) থেকে ১৭ জনকে আমি উদ্ধার করেছি। তার মধ্যে চারজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছি। নদীর পাড়ে প্রথম দফায় যে লাশের সারিগুলো পড়ে ছিল, সেগুলো আমরা স্থানীয়রাই উদ্ধার করেছি। ততক্ষণ পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কেউ ঘাটে এসে পৌঁছেনি।’

পঞ্চগড়ের বোদায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনার সময় মারেয়া আউলিয়া ঘাটে ছিলেন খাঁজা রহমান। বদ্বেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া দেখবেন বলে এসেছিলেন।

নদী পার হতে নৌকার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সে সময়ই মাঝনদীতে নৌকা ডুবতে দেখে যাত্রীদের বাঁচাতে কিছু না ভেবেই তিনি ঝাঁপ দেন করতোয়ায়। একে একে তুলে আনেন ১৭ জনকে। তবে এর মধ্যে নিথর পেয়েছিলেন চারজনকে।

খাঁজার মতো দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় কয়েক যুবক নদীতে নেমে পড়েন উদ্ধারকাজে। তাদের হিসাবে, ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগে তারাই তুলে আনেন ২৭ জনকে। এর মধ্যে মরদেহ ছিল ১২টি।

বোদা উপজেলায় করতোয়ার মারেয়া আউলিয়া ঘাটে গিয়ে কথা হয় স্থানীয় এই উদ্ধারকারীদের সঙ্গে।

খাঁজা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল (রোববার) থেকে ১৭ জনকে আমি উদ্ধার করেছি। তার মধ্যে চারজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছি। নদীর পাড়ে প্রথম দফায় যে লাশের সারিগুলো পড়ে ছিল, সেগুলো আমরা স্থানীয়রাই উদ্ধার করেছি। ততক্ষণ পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কেউ ঘাটে এসে পৌঁছেনি।’

খাঁজা জানান, ঘটনার পর থেকে সোমবার পর্যন্ত তিনিসহ স্থানীয় উদ্ধারকারীদের অনেক যুবকই বাড়ি ফেরেনি। নদীতে ডিঙি নৌকাতেই থাকছেন আর প্রয়োজনমতো নদীতে নেমে চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকাজ।

আরেক উদ্ধারকারী মারুফ বিল্লাহ্ বলেন, ‘চোখের সামনে নৌকাটি কাত হয়ে ডুবে গেল। আমি তখন এপারে (মারেয়া) ছিলাম। নৌকা ডোবার সঙ্গে সঙ্গে আমি ও খাঁজাসহ অন্যরা নদীতে সাঁতরে যাই এবং উদ্ধারের চেষ্টা করি। আমি নিজে দুদিনে ১২টা লাশ তুলেছি।’

লাশ উদ্ধারের অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাইলে স্থানীয় আশিক রহমান বলেন, ‘লাশগুলো অথৈ পানির ভেতরে। মাঝে মাঝে নিজেরই দম বন্ধ হয়ে যায়। কিছু লাশ বালুর ভেতরে পুঁতে গেছে। বালু সরিয়ে দুজন-তিনজন মিলে লাশ তুলতে হয়েছে।’

স্থানীয় এই যুবকরাই এখন নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে তীরে ভিড় জমানো মানুষদের কাছে নির্ভরতার জায়গা। তাদের কাছে প্রিয় মানুষটিকে খুঁজে দেয়ার আকুল আবেদন নিয়ে মানুষগুলো ফিরে ফিরে আসেন।

ঘাটে কথা হয় নিখোঁজ ফুপাতো ভাইয়ের জন্য অপেক্ষায় থাকা মিঠুন চন্দ্রের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস কাজ করে। কিন্তু খাঁজা-মারুফরা দিন-রাত কাজ করছে। তারা আমাদের ভরসা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা কাজ করছে। তাদের অবদান আমরা ভুলব না।’

মানুষের জীবন বাঁচাতে তাৎক্ষণিক ঝাঁপিয়ে পড়া এই যুবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মারেয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শামিম।

তিনি জানান, শুরুতেই এই যুবকরা উদ্ধারকাজে এগিয়ে না গেলে হয়তো লাশের সংখ্যা আরও বাড়ত।

তিনি বলেন, ‘আমি এই ছেলেদের স্যালুট জানাই। তাদের অবদান অনেক। নিজেদের জীবন বাজি রেখে তারা দুঃসাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাদের উৎসাহিত করতে আমি প্রতিনিয়ত চেষ্টা করেছি।’

রোববারের এই নৌকাডুবির ঘটনায় সোমবার রাত পর্যন্ত ৫০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত, নিখোঁজ ও হাসপাতালে ভর্তি ব্যক্তিদের মিলিয়ে হিসাব করলে নৌকার মাঝিসহ ৯২ আরোহীর তথ্য পাওয়া গেছে।

বোদা থানার ওসি সুজয় কুমার রায় জানিয়েছেন, এর বাইরেও অনেক যাত্রী সাঁতরে সে সময় তীরে উঠেছিলেন। এ কারণে ধারণা করা হচ্ছে নৌকাটিতে শতাধিক যাত্রী ছিল।

আরও পড়ুন:
বাধা না মেনে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠায় নৌকাডুবি: ডিসি
করতোয়ায় নৌকাডুবিতে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক
পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ২৪ মৃত্যু
নৌকাডুবি: নিখোঁজ চাচা-ভাতিজাসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার
নৌকাবাইচ দেখতে গিয়ে ব্রহ্মপুত্রে নিখোঁজ দুই শিশু

মন্তব্য

p
উপরে