পাসপোর্ট দালাল চক্রের ৭ সদস্য আটক

কুমিল্লার নোয়াপাড়া ও নগরীর বাদশা মিয়াবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাসপোর্ট দালাল চক্রের ৭ সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব। ছবি: নিউজবাংলা

পাসপোর্ট দালাল চক্রের ৭ সদস্য আটক

র‌্যাবের অভিযানে ১০৩টি পাসপোর্ট, ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮০০ টাকা, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, পাসপোর্টের ব্যক্তিগত ডেলিভারি স্লিপ ও নকল সিল উদ্ধার করা হয়। 

কুমিল্লা সদর উপজেলা থেকে পাসপোর্ট দালাল চক্রের সাত সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব।

সদর উপজেলার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন নোয়াপাড়া ও নগরীর বাদশা মিয়াবাজার এলাকায় মঙ্গলবার দুপুরে চালনো দুটি অভিযানে তাদের আটক করা হয়। এ সময় জব্দ করা হয় শতাধিক পাসপোর্ট।

আটক সাতজন হলেন জসিম উদ্দিন, নিয়াজ মোর্শেদ পল্লভ, রতন চন্দ্র, গোলাম সারোয়ার, শাহাবুদ্দিন, মনিরুল ইসলাম ও কাজী আবু আল ফেরদৌস।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১১-এর কুমিল্লার কোম্পানি কমান্ডার মেজর তালুকদার নাজমুস সাকিব।

তিনি জানান, অভিযানে ১০৩টি পাসপোর্ট, ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮০০ টাকা, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, পাসপোর্টের ব্যক্তিগত ডেলিভারি স্লিপ ও নকল সিল উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক সাতজন পাসপোর্ট দালাল চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে পাসপোর্ট তৈরির জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে আসছিলেন। তাদেরকে কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বখতিয়ার উদ্দিন জানান, বুধবার সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

আরও পড়ুন:
পাসপোর্টে পরিবর্তনে সিপিবিসহ বাম জোটের ক্ষোভ
ইসরায়েল ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে
দেশে দ্বৈত পাসপোর্টধারী ১৪ হাজার
ছয় জেলায় ই পাসপোর্ট সেবা চালু
এক বাসায় ২৭০ পাসপোর্ট, আটক ২

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নিখোঁজ ত্ব-হাকে ফলো করা দুই যুবক কে?

নিখোঁজ ত্ব-হাকে ফলো করা দুই যুবক কে?

পরিবারের দাবি, যদি অপরিচিত দুই ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করে থাকে, সেটা যদি তিনি বুঝতে পারেন, তাহলে কেন তিনি সেটা পুলিশকে জানালেন না? এই দুই ব্যক্তি কে? তারা কি তার অনুসারী নাকি তার বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নতা পোষণ করেন? দুই স্ত্রীর পরিবারের মধ্যে কি কোনো অমিল ছিল?

গত বৃহস্পতিবার ( ১০ জুন) সকালে আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান তার মাকে জানিয়েছিলেন, বেশ কদিন ধরে দুই অপরিচিত ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করছে। এ নিয়ে জীবন শঙ্কায় আছেন তিনি। তারা তার ক্ষতি করতে পারে। ঢাকায় গেলে তিনি নিরাপদে থাকবেন।

মঙ্গলবার নিউজবাংলার সঙ্গে কথা বলেন ত্ব-হার মা আজেদা বেগম। তিনি বলেন, ওইদিন বিকেল ৪টার দিকে ত্ব-হা তার তিন অনুসারীসহ ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। শুক্রবার সাভারের একটি মসজিদে বক্তৃতা শেষ করে কিছুদিন ঢাকায় থাকার কথা ছিল তার।

আজেদা বেগম বলেন, ‘ঢাকায় যাবার সময় হঠাৎ আমাকে বুকে জড়িয়ে খুব কান্না করছিল ত্ব-হা। নামাজে সেজদায় পড়ে তার নিরাপত্তা ও নিরাপদে ফিরে আসার জন্য দোয়াও করতে বলেছিল। এরপর ওই রাত থেকেই নিখোঁজ ত্ব-হা।

‘আমার ছেলের একটি মোবাইল ফোন ছিল। সেটি দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ। হঠাৎ শুক্রবার বিকালে সেই ফোন নম্বর থেকে কল আসে। আমার সঙ্গে মেহেদী হাসান পরিচয়ে এক ব্যক্তি কথা বলে। এরপর তারা একটি ইমো আইডি খুলতে বললে আমার মেয়ে সেই আইডি খোলে।’

আজেদা বেগম বলেন, শনিবার আবার সেই ফোন নম্বর থেকে তার কাছে কল আসে। যিনি ফোন করেছেন, তিনি বলেন, তার ছেলে ও তার তিন সঙ্গী ভালো আছে। আজেদা বেগম জানতে চান, ত্ব-হা কোথায় আছে। তিনি ছেলের সঙ্গে কথা বলতে চান।

‘তখন তারা টাকা দাবি করে,’ বলেন আজেদা বেগম। ‘যখন টাকা দাবি করছিল তখন আমরা ইমো আইডিটি বন্ধ করে দেই।’

‘আমার প্রশ্ন, আমার ছেলের বন্ধ নম্বর তারা পেল কী করে? আসলে তারা কারা?’

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান বৃহস্পতিবার রাত ২টা ৩৭ মিনিটে রাজধানীর গাবতলী থেকে সর্বশেষ যোগাযোগ করেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন নাহার সারার সঙ্গে।

গুগল ম্যাপে দেখা গেছে, ত্ব-হার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসা থেকে তার গাড়ির দূরত্ব ছিল ৬ দশমিক ৪ কিলোমিটার দূরে। সেখানে পৌঁছাতে সময় লাগতো ১৮ মিনিট। এর কিছুক্ষণ পর থেকেই তার ফোন বন্ধ, তিনি নিঁখোজ।

আদনানের দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন নাহার সারা মিরপুর আল ইদফান ইসলামী গার্লস মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক। তিন মাস আগে তাদের বিয়ে হয়েছিল।

সাবিকুন নাহার সারা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুরে আমার স্বামী আমাকেও জানিয়েছে যে, দুই মোটরসাইকেল আরোহী তাকে ফলো করছে। খুব চিন্তিত ছিলেন তিনি।’

প্রথম স্ত্রী আবিদা নুরকে নিয়ে তিনি রংপুরের শালবনের চেয়ারম্যানের গলিতে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

আরও পড়ুন:তিন সঙ্গীসহ ধর্মীয় বক্তা নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ

পুলিশ জানিয়েছে, আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনানের সঙ্গে নিখোঁজ অপর তিন ব্যক্তির নাম আব্দুল মুহিত, মোহাম্মদ ফিরোজ ও গাড়িচালক আমির। তারা সবাই তার অনুসারী। ওই রাত থেকে তাদের সবার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।

ত্ব-হার মা আজেদা বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাতে ছেলের নম্বর যখন বন্ধ পাই, তখন থেকেই দুশ্চিন্তা বাড়তে শুরু করে। তাকে দুইজন ফলো করছিল, সেই কথা মনে পড়ে। আমি ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়ি। এরপর যখন কোথাও তার খোঁজ মিলছে না, তখন আমি শুক্রবার রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ জিডি করি।’

তিনি বলেন, ‘আমার সংসারে একমাত্র আয়ের উৎস ত্ব-হা। তার বাবা নেই। সে-ই সংসার চালায়। একমাত্র বোনের পড়াশুনার খরচও সে-ই চালাত।

সে নগরীর সুরভী উদ্যানের বিপরীতে প্রজন্ম নামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। সেটির প্রধান সে। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কুরআন শিক্ষা দেয়া হতো ওই স্কুলে। করোনার কারণে স্কুলটি দেড় বছর ধরে বন্ধ। আমি একজন মা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ছেলের সন্ধান চাই।’

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ত্ব-হার খোঁজ পেতে এরই মধ্যে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) রাজিবুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের চার সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়েছে। তারা মাঠে কাজ করছেন। সীমান্তের থানা ও ব্যক্তিগত সোর্সে তার ছবি দেয়া হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে নজরদারিও।

যে সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ

পরিবারের দাবি, যদি অপরিচিত দুই ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করে থাকে, সেটা যদি তিনি বুঝতে পারেন, তাহলে কেন তিনি সেটা পুলিশকে জানালেন না? এই দুই ব্যক্তি কে? তারা কি তার অনুসারী নাকি তার বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নতা পোষণ করেন? দুই স্ত্রীর পরিবারের মধ্যে কি কোনো অমিল ছিল?

এমনকি তার দেয়া বক্তব্য (ফেসবুক ও ইউটিউব) বিশ্লেষণ করছে পুলিশ।

যেভাবে আলোচিত বক্তা হন ত্ব-হা

আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান রংপুর লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি, রংপুর সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। দর্শন বিষয়ে অনার্স মাস্টার্স পড়েন রংপুর কারমাইকেল কলেজে। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি আহলে হাদিস সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ইসলামী বই প্রচুর পড়তেন। নিজের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউবে ধর্মীয় আলোচনা করতেন। বিভিন্ন মসজিদে নামাজও পড়াতেন তিনি।

তার ধর্মীয় আলোচনার পক্ষে-বিপক্ষে আলাচনা এবং সমালোচনা দুটোই হতো।

নগরীতে মানববন্ধন

‘সচেতন রংপুর’, ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে রংপুর’সহ বিভিন্ন ব্যানারে মঙ্গলবার বিকেলে রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন হয়। অংশগ্রহণকারীরা আগামী ২৪ ঘণ্টায় মধ্যে আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের সন্ধান দাবি করেন। না হলে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেন তারা।

সেখানে বক্তব্য রাখেন ত্ব-হার বন্ধু রাজিব আহমেদ পিয়াল, ফয়সাল আহমেদ (নিখোঁজ চালকের ভাই), আরিফুল আবির, রাকিবুলসহ অনেকে।

যা বলছে পুলিশ

রংপুর মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আলতাব হোসেন জানান, ত্ব-হার নিখোঁজের বিষয়ে থানায় জিডি করা হয়েছে। তার মা থানায় জিডিটি করেন। জিডির বিষয়ে তদন্ত চলছে।

আরও পড়ুন:
পাসপোর্টে পরিবর্তনে সিপিবিসহ বাম জোটের ক্ষোভ
ইসরায়েল ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে
দেশে দ্বৈত পাসপোর্টধারী ১৪ হাজার
ছয় জেলায় ই পাসপোর্ট সেবা চালু
এক বাসায় ২৭০ পাসপোর্ট, আটক ২

শেয়ার করুন

জামাই-শ্বশুর মিলে ব্যবসায়ীর আট লাখ টাকা চুরি, গ্রেপ্তার ১

জামাই-শ্বশুর মিলে ব্যবসায়ীর আট লাখ টাকা চুরি, গ্রেপ্তার ১

টাকা চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার আয়াদ আলী শেখ। ছবি: নিউজবাংলা

দোকানের সামনে পরিষ্কার করার সময় এরশাদকে ময়লা দেখিয়ে দেন জামাই-শ্বশুর। সেই ময়লা সরানোর সময় তারা টাকার ব্যাগটি নিয়ে সটকে পড়েন।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বিকাশ ব্যবসায়ীর দোকান থেকে চুরি হওয়া আট লাখ টাকার ব্যাগ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

জামাই-শ্বশুর মিলে টাকার ব্যাগ নিয়ে পালানোর ৫ ঘণ্টা পর তাদের একজনকে গ্রেপ্তার ও টাকার ব্যাগটি উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মেহেদী হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ওসি নিউজবাংলাকে জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বাড়ি থেকে টাকার ব্যাগটি নিয়ে বাগদা বাজারের মেঘলা টেলিকমে যান দোকানের মালিক বিকাশ ব্যবসায়ী এরশাদ মণ্ডল। ব্যাগটি ড্রয়ারে রেখে দোকানের চারপাশ ঝাড়ু দেয়ার সময় সেখানে যান তরনীপাড়ার আয়াদ আলী শেখ ও তার জামাই ভিটা শাখইল গ্রামের জালাল উদ্দীন।

ওই সময় তারা এরশাদকে দোকানের পাশে ময়লা দেখিয়ে দেন। সেই ময়লা সরানোর সময় জামাই-শ্বশুর মিলে টাকার ব্যাগটি নিয়ে সটকে পড়েন।

তিনি আরও জানান, এরশাদ দোকানে ঢুকে ড্রয়ার খুলে টাকার ব্যাগটি না পেয়ে সিসিটিভি ফুটেজে চোর খুঁজতে থাকেন। চোর শনাক্তে ব্যর্থ হয়ে পরে তিনি থানায় খবর দেন।

অভিযোগ পেয়ে দুপুর ২টার দিকে শীবপুরের তরণীপাড়া এলাকা থেকে আয়াদ আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেয়া তথ্যে ওই বাড়ি থেকে ৮ লাখ ৬ হাজার টাকাসহ ব্যাগটি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় আয়াদ ও জালালের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে জানিয়ে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, বুধবার আয়াদকে আদালতে পাঠানো হবে। পলাতক জালালকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
পাসপোর্টে পরিবর্তনে সিপিবিসহ বাম জোটের ক্ষোভ
ইসরায়েল ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে
দেশে দ্বৈত পাসপোর্টধারী ১৪ হাজার
ছয় জেলায় ই পাসপোর্ট সেবা চালু
এক বাসায় ২৭০ পাসপোর্ট, আটক ২

শেয়ার করুন

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা

মিঠাপুকুরের বিভিন্ন হাটবাজারে, বদরগঞ্জ এলাকায় প্রতিদিনই আমের হাট বসে। কিন্তু এই আমরাজ্যে যোগাযোগব্যবস্থা নাজুক। বড় অংশই মাটির কাঁচা রাস্তা।

এবারের কালবৈশাখীতে অনেক জায়গায় হাঁড়িভাঙা আমের গুটি ঝরে পড়েছিল। গাছে অবশিষ্ট যা ছিল, তা নিয়েও দুশ্চিন্তার কমতি ছিল না চাষিদের। শেষ পর্যন্ত নতুন করে বড় ধরনের কোনো ঝড় না আসায় সেই দুশ্চিন্তা কেটেছে। গাছে যে আম আছে, তা নিয়ে খুশি চাষিরা।

তবে শেষ পর্যন্ত এই আম কীভাবে দেশ-বিদেশে বিপণন করবেন, তা নিয়ে এখন নতুন দুশ্চিন্তা তাদের। অতি সুস্বাদু হাঁড়িভাঙা আম বেশি পেকে গেলে দ্রুতই নষ্ট হয়ে যায়। সংরক্ষণ করার ব্যবস্থাও নেই চাষি এবং ব্যবসায়ীদের কাছে।

রংপুর কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, রংপুরে এবার ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙার ফলন হয়েছে। এর বেশির ভাগই (১ হাজার ২৫০ হেক্টর) মিঠাপুকুর উপজেলায়। বদরগঞ্জে ৪০০ হেক্টরে চাষ হয়েছে। এ ছাড়া রংপুর মহানগর এলাকায় ২৫ হেক্টর, সদর উপজেলায় ৬০, কাউনিয়ায় ১০, গঙ্গাচড়ায় ৩৫, পীরগঞ্জে ৫০, পীরগাছায় ৫ ও তারাগঞ্জ উপজেলায় ১৫ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে।

শুক্রবার (১১ জুন) বিকেলে মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার দুই ধারে, কৃষিজমি, ধানি জমিতে সারি সারি আমগাছে আম ঝুলছে। গাছের ডালে, ডগায় ঝুম ঝুম আম। আম প্রায় পেকে গেছে, তা পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষিরা।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মাসুদুর রহমান সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, দেশের অন্যান্য জায়গার আম প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ার পর হাঁড়িভাঙা আম বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসে। জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে এই আম বাজারে আসবে। অর্থাৎ ২০ জুনের পর বাজারে হাঁড়িভাঙা পাওয়া যাবে।

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা


সেটার স্বাদ এবং গন্ধ আলাদা। মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, এর আগে বাজারে হাঁড়িভাঙা আম পাওয়া গেলেও তা অপরিপক্ব।

তিনি বলেন, ‘শুরুতে আমের ওপর দিয়ে কিছুটা দুর্যোগ গেলেও আমরা যে টার্গেট করেছি, তা পূরণ হবে বলে আশা করছি।’

যোগাযোগব্যবস্থা নাজুক

আমের রাজধানী-খ্যাত রংপুরের পদাগঞ্জ হাটে বসে সবচেয়ে বড় হাট। এর পরের অবস্থান রংপুরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা। এ ছাড়া মিঠাপুকুরের বিভিন্ন হাটবাজারে, বদরগঞ্জ এলাকায় প্রতিদিনই আমের হাট বসে। কিন্তু এই আমরাজ্যে যোগাযোগব্যবস্থা একেবারেই নাজুক। বড় অংশই মাটির কাঁচা রাস্তা। ফলে অল্প বৃষ্টিতে কাদাজলে নাকাল হয় আম ক্রেতা ও বিক্রেতা।

পদাগঞ্জ হাটের ইজারাদার ফেরদৌস আহমেদ ফেদু বলেন, ‘প্রতিবছর এই হাটের সরকারি মূল্য বাড়ে। কিন্তু সুযোগ-সুবিধা বাড়ে না। বৃষ্টিতে হাঁটুপানি হয়। পরিবহন ঠিকমতো আসতে পারে না। আমরা চাই যোগাযোগব্যবস্থাটা উন্নত হলে আম নিয়ে আরো ভালো ব্যবসা হবে।’

আম বাজারজাত নিয়ে দুশ্চিন্তা

যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছেন চাষিরা। করোনার কারণে সঠিক সময়ে আম বাজারজাত ও পরিবহন সুবিধা বাড়ানো না গেলে মুনাফা নিয়ে শঙ্কা আছে তাদের।

আমচাষি আলী আজগার আজা বলেন, ‘আমার তিন একর জমিতে আম আছে। যে বাজার আছে তাতে জায়গা হয় না। সড়কে সড়কে আমরা আম বিক্রি করি। একটু বৃষ্টি হলেই কাদা হয় হাঁটু পর্যন্ত। ভ্যান, অটোরিকশা, ছোট ট্রাক, বড় ট্রাক আসতে পারে না। আম নিয়ে খুব চিন্তা হয়। এমনিতে বৈশাখী ঝড়ে আম পড়ে গেছে। এরপরেও যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে আম বেচতে পারব না। কারণ আম বিক্রির জন্য কোনো শেড তৈরি করা হয় না বা হয়নি।’

মাহমুদুল হক মানু নামে আরেক চাষি বলেন, ‘পদাগঞ্জে এত বড় একটা হাট, কিন্তু রাস্তা নিয়ে কারো কোনো চিন্তা নাই। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা বিক্রি হয়, অথচ ব্যাংক নাই। রংপুর যায়া ব্যাংকোত টাকা দিয়া আসতে হয়।’

মনসুর আলী নামে এক ব্যবসায়ী ও চাষিরা বলেন, ‘এবারে আমের একটু সংকট হবে। আমের যদি দাম না পাই, তাহলে লোকসান হবে না। কিন্তু অন্যান্য বার যে মুনাফা পাইছি, এবার সেটা পাব না।’

তিনি বলেন, ‘আমার সঠিক দামটা আমরা যেন পাই। এ জন্য গাড়ির ব্যবস্থা চাই, ট্রাক বা ট্রেন হলে ভালো হয়। কারণ, ভ্যানে করে, সাইকেলে করে শহরে আম নেয়া খুবই কঠিন।’

আম বিক্রি করে ভাগ্যবদল অনেকের

স্বাদ এবং গন্ধে অতুলনীয় হাঁড়িভাঙা আমের মৌসুমি ব্যবসা করে ভাগ্য বদল করেছেন অনেকেই। মাত্র এক মাসের ব্যবসায় সংসারের অভাব এবং বেকারত্ব দূর হয়েছে অসংখ্য পরিবারের।

রংপুরের মিঠাপুকুর তেয়ানী এলাকার যুবক রমজান আলী বলেন, ‘আমি ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। প্রতিবছর আমি আমের সময় বাড়িতে আসি। নিজের পরিচয় গোপন রেখে ফেসবুকে পেজ খুলেছি। গত বছর ১০ লাখ টাকার আম বিক্রি করেছি। এবারও করব। এতে করে আমার এক বছরের ঢাকায় থাকার খরচ উঠে যায়।’

বদরগঞ্জের শ্যামপুর এলাকার শিক্ষিত যুবক সাজু বলেন, ‘আমি কারমাইকেল কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স-মাস্টার্স করেছি। চাকরির অনেক খোঁজ করেছি বাট হয়নি। কিন্তু পরে জমি লিজ নিয়ে আম চাষ শুরু করেছি। এখন চাকরি করা নয়, চাকরি দিচ্ছি। আমার চারটি বাগান আছে। সেখানে ১৬ জন লোক কাজ করে।’

এ রকম শত শত যুবক আছেন, যারা অনলাইনে কিংবা জমি ইজারা নিয়ে আম চাষ করে ভাগ্য বদল করেছেন।

হাঁড়িভাঙার ফলনে খুশি, বিপণনে চিন্তা


আম সংরক্ষণ ও গবেষণা দাবি

আমবাগানের মালিক আখিরাহাটের বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমি ১৯৯২ সাল থেকে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ করে আসছি। এখন পর্যন্ত আমার ২৫টির বেশি বাগান রয়েছে।

‘আমার দেখাদেখি এখন রংপুরে হাঁড়িভাঙা আমের কয়েক লাখ গাছ রোপণ করেছেন আমচাষিরা। আমার মতো অনেকের বড় বড় আমবাগান রয়েছে।’

তিনি বলেন, আম-অর্থনীতির জন্য শুরু থেকেই হাঁড়িভাঙা আমের সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন, আধুনিক আম চাষ পদ্ধতি বাস্তবায়ন, গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনসহ হাঁড়িভাঙাকে জিআই (পণ্যের ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে ঘোষণার দাবি করে আসছিলাম আমরা। কিন্তু এই দাবি এখনও বাস্তবায়ন বা বাস্তবায়নের জন্য যে উদ্যোগ থাকার কথা, সেটি চোখে পড়ে না।’

তিনি বলেন, ‘এই আম নিয়ে গবেষণা এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকলেও আমের উৎপাদন ও বাগান সম্প্রসারণ থেমে নেই। এ নিয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

যা বলেন জেলা প্রশাসক

রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, আগামী ২০ জুন সরাসরি কৃষকের আম বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই দিন সদয় অ্যাপস নামে একটি হাঁড়িভাঙা আম বিক্রির অ্যাপস চালু করা হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, হাঁড়িভাঙা আমের বাজারজাত করতে যাতে কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়, সেটি মনিটরিং করা হবে। আম বাজারজাত করবে যেসব পরিবহন, সেখানে স্টিকার লাগানো থাকবে, যাতে পথে-ঘাটে কোনো বিড়ম্বনার শিকার হতে না হয়। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি সরকারি পরিবহন সুবিধার বিষয়টিও দেখা হবে।

আরও পড়ুন:
পাসপোর্টে পরিবর্তনে সিপিবিসহ বাম জোটের ক্ষোভ
ইসরায়েল ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে
দেশে দ্বৈত পাসপোর্টধারী ১৪ হাজার
ছয় জেলায় ই পাসপোর্ট সেবা চালু
এক বাসায় ২৭০ পাসপোর্ট, আটক ২

শেয়ার করুন

মেহেরপুরের তিন গ্রামে এ কেমন লকডাউন

মেহেরপুরের তিন গ্রামে এ কেমন লকডাউন

মেহেরপুরে লকডাউন করা গ্রামে করোনা রোগীও আড্ডা দিচ্ছে চায়ের দোকানে। ছবি: ‍নিউজবাংলা

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় মেহেরপুরের দুটি উপজেলার তিনটি গ্রামে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে এটি কার্যকর করার কথা থাকলেও কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। সুস্থ মানুষের সঙ্গে করোনা রোগীরাও ঘুরে বেড়াচ্ছেন যত্রতত্র।

করোনা আক্রান্ত, অথচ বাজারে যাচ্ছেন ওষুধ আনতে। আরেকজন চায়ের দোকানে দিচ্ছেন আড্ডা। ঘরে আবদ্ধ থাকার কথা থাকলেও বাড়ির পাশের মাচা বা গাছের নিচে বসে থাকছেন কেউ কেউ।

অনেকে আবার করোনা রোগীকে দেখতে আসছেন ফলমূল নিয়ে। এই হলো মেহেরপুরের তিন গ্রামে ‘কঠোর লকডাউন’-এর চিত্র।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ায় মুজিবনগর উপজেলার আনন্দবাস এবং গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া ও হিন্দা গ্রামে মঙ্গলবার থেকে লকডাউন ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। তবে তিন গ্রাম ঘুরে কোথাও ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জানানো হয়, উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামে ১৮ জন ও হিন্দা গ্রামে ২৩ জন করোনায় আক্রান্ত। গত ১২ জুন ওই এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্প করে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষায় ২৯ জনের মধ্যে ১৬ জনের দেহেই করোনা শনাক্ত হয়। তবে পরদিন থেকে কেউ আর নমুনা দেয়নি।

করোনা সংক্রমণের এমন অবস্থায় সোমবার দুপুরে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি ওই দুই গ্রামসহ মুজিবনগরের আনন্দবাসে লকডাউন ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপনের জারি করে।

বিকেলেই দুই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার পুলিশ নিয়ে লকডাউনের আওতায় থাকা এলাকাগুলোতে লাল পতাকা টাঙিয়ে দেয়। বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয় সড়ক যোগাযোগ।

তবে মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লকডাউন এলাকা ঘুরে দেখা যায়নি স্বাস্থ্যবিধি মানার লক্ষণ। অধিকাংশ মানুষের মুখেই ছিল না মাস্ক। শারীরিক দূরত্ব রক্ষাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাইও ছিল না। এমনকি করোনা পরীক্ষার নমুনা দেয়া লোকজনও ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন যত্রতত্র।

মেহেরপুরের তিন গ্রামে এ কেমন লকডাউন
যাতায়াতে মানা হচ্ছে না শারীরিক দূরত্ব

তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামে ইউপি সদস‍্য কটা আহমেদ নিউজবাংলাকে জানান, তার ওয়ার্ডে করোনা রোগীরাও ঘরে থাকছেন না। বাড়ির পাশে মাচায় বা চায়ের দোকানে বসে থাকছেন। কেউ কেউ গোখাদ্য সংগ্রহের জন্য ক্ষেত-খামারেও যাচ্ছেন। আবার তাদের আত্মীয়রাও অন্য রোগী দেখতে আসার মতো ফলমূল নিয়ে বাড়িতে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এ মুহূর্তে পরীক্ষা করলে গ্রামে শতকরা ৮০ জনের করোনা পজিটিভ হবে।’

তিনি জানান, তার গ্রামে ভারত ও বাংলাদেশের মানুষ একই সঙ্গে এক মাঠে মরিচ তোলার কাজ করছে। তার পাশের গ্রামেও অনেক মানুষ জ্বর, ঠাণ্ডা ও কাশিতে ভুগছে। তবে বাড়ি লকডাউনের ভয়ে কেউ করোনা পরীক্ষা করছে না।

হিন্দা গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, করোনা আক্রান্ত রিপন আলী বাড়িতে নেই। তিনি ওষুধ কিনতে গাংনী বাজারে গেছেন।

রিপনের বাবা ইউনুস আলীর অভিযোগ, স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন তাদের খোঁজখবর নেন না। বাধ্য হয়ে অন্য চিকিৎসক ও ফার্মেসিতে যেতে হচ্ছে।

ঠিকমতো স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় লোকজনও। ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারে মাস্ক ছাড়া অন্য সেবা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের। করোনা রোগীর চিকিৎসায় গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসোলেশন সেন্টার নেই বলেও দাবি করেছেন তারা।

তারা জানান, গত বছর দেশে করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরোনো ভবনে ১০ শয্যার একটি কক্ষ আইসোলেশন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে ভবনটি সংস্কার করার কারণে তিন মাস আগে কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এম কে রেজার দাবি, এলাকার লোকজন যে অভিযোগ করেছে, তা সঠিক নয়। হিন্দা ও তেঁতুলবাড়িয়া এলাকায় করোনা আক্রান্তদের স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য মোবাইল ফোন নম্বরও দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া হাসপাতালের অন্য ভবনে আইসোলেশন ওয়ার্ড চালুর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী খানম জানান, দুটি গ্রামে করোনা আক্রান্তদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। নিয়মিত পরিদর্শন করে খাদ্যসামগ্রী দেয়া হচ্ছে। আক্রান্তদের বাড়ি লকডাউন করে লাল পতাকাও টাঙানো হয়েছে। যারা বুঝতে না পেরে ঘরের বাইরে গেছেন, তাদের বিষয়টি বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

মেহেরপুরের সিভিল সার্জন নাসির উদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, জেলায় এখন করোনা রোগীর সংখ্যা ১৯৭ জন। তাদের মধ‍্যে সদর উপজেলায় ৫০, গাংনী উপজেলায় ৮৯ ও মুজিবনগর উপজেলায় ৫৮ জন রয়েছেন।

আরও পড়ুন:
পাসপোর্টে পরিবর্তনে সিপিবিসহ বাম জোটের ক্ষোভ
ইসরায়েল ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে
দেশে দ্বৈত পাসপোর্টধারী ১৪ হাজার
ছয় জেলায় ই পাসপোর্ট সেবা চালু
এক বাসায় ২৭০ পাসপোর্ট, আটক ২

শেয়ার করুন

গৃহবধূকে আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলা, গ্রেপ্তার ১

গৃহবধূকে আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলা, গ্রেপ্তার ১

গত ২৫ মে সন্ধ্যায় ওই গৃহবধূ হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। পথে সাদা রংয়ের একটি মাইক্রোবাসে তিনজন এসে তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে একটি বাড়ির দোতলার কক্ষে পাঁচ দিন আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করা হয়।

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় হাসপাতালে যাওয়ার পথে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক সাহা মঙ্গলবার রাতে এ তথ্য জানান।

ওসি জানান, গত ২৫ মে সন্ধ্যায় ওই গৃহবধূ হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। পথে সাদা রংয়ের একটি মাইক্রোবাসে তিনজন এসে তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে একটি বাড়ির দোতলার কক্ষে পাঁচ দিন আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করা হয়।

বাড়ির গৃহকর্মীর সহায়তায় ছাড়া পেয়ে ৩০ মে বাড়ি ফিরে তিনি স্বামীকে ঘটনাটি জানান। বাড়ি ফেরার পর আসামিদের ভয়ে প্রথমে থানায় না গেলেও পরে সোমবার রাতে ধর্ষণের মামলাটি করেন ওই নারী।

তিনি নিউজবাংলাকে আরও জানান, মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন প্রধান আসামি বন্দরের কুড়িপাড়া এলাকার শরিফুল ইসলাম গুড্ডু, নয়ামাটি এলাকার সোহরাব ওরফে শুভ ও একই এলাকার ফিরোজ মিয়া।

মামলার পর মঙ্গলবার ভোরে শরিফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে এক দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

অন্য দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
পাসপোর্টে পরিবর্তনে সিপিবিসহ বাম জোটের ক্ষোভ
ইসরায়েল ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে
দেশে দ্বৈত পাসপোর্টধারী ১৪ হাজার
ছয় জেলায় ই পাসপোর্ট সেবা চালু
এক বাসায় ২৭০ পাসপোর্ট, আটক ২

শেয়ার করুন

জঙ্গি সন্দেহে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক আটক

জঙ্গি সন্দেহে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক আটক

কাউন্টার টেরোরিজমের উপপরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ হোসেন জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর দক্ষিণ খুলশী এলাকা থেকে সিরিয়াফেরত ‘জঙ্গি’ এবং আনসার আল ইসলামের সদস্য সাখাওয়াত আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শামীমুর রহমানকে আটক করা হয়েছে।

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য সন্দেহে কওমি মাদ্রাসার এক শিক্ষককে আটক করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরেরিজম ইউনিট।

নগরীর ফিরোজ শাহ কলোনির নিজ বাসা থেকে মঙ্গলবার বিকেলে তাকে আটক করা হয়।

আটক মোহাম্মদ শামীমুর রহমান প্রকাশ ফিরোজ শাহ কলোনি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক।

কাউন্টার টেররিজমের উপপরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ হোসেন জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর দক্ষিণ খুলশী এলাকা থেকে সিরিয়াফেরত ‘জঙ্গি’ এবং আনসার আল ইসলামের সদস্য সাখাওয়াত আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শামীমুর রহমানকে আটক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সাখাওয়াতকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা শামীমকে আটক করেছি। আনসার আল ইসলামের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন শামীম। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’

কাউন্টার টেররিজমের উপকমিশনার হাসান শওকত আলী বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার একটি পদে ছিলেন শামীম। আমরা এমন তথ্য পেয়েছি। তবে আমরা এখনও নিশ্চিত নেই, তিনি হেফাজতের সঙ্গে ছিলেন কি না। তার বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে।’

শুক্রবার রাতে সাখাওয়াতকে গ্রেপ্তারের পর তিনি আনসার আল ইসলামের তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক শাখার কর্মী বলে জানিয়েছিল পুলিশ।

তার বিরুদ্ধে খুলশী থানায় করা মামলায় বলা হয়, ২০১২ সালে ভায়রা ভাই আরিফ মামুনের মাধ্যমে জঙ্গি তৎপরতায় সম্পৃক্ত হন সাখাওয়াত। সংগঠনের নেতা চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াসহ অন্যদের মাধ্যমে জিহাদি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

এরই অংশ হিসেবে ২০১৭ সালে তুরস্কে যান। সেখান থেকে সিরিয়ায় গিয়ে জঙ্গি নেতা হায়াত তাহরির আশরাকের কাছ থেকে ভারী অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নেন। গত মার্চে দেশে ফেরেন তিনি।

আরও পড়ুন:
পাসপোর্টে পরিবর্তনে সিপিবিসহ বাম জোটের ক্ষোভ
ইসরায়েল ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে
দেশে দ্বৈত পাসপোর্টধারী ১৪ হাজার
ছয় জেলায় ই পাসপোর্ট সেবা চালু
এক বাসায় ২৭০ পাসপোর্ট, আটক ২

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন শান্ত থেকে কাজ করতে : মির্জা

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন শান্ত থেকে কাজ করতে : মির্জা

আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘একটা ষড়যন্ত্রকারী চক্র বলাবলি করছে আমাকে নাকি দল থেকে বহিষ্কার করেছে। আমাকে বহিষ্কারের বিষয়টা হাস্যকর। আমাকে কেন বহিষ্কার করবে? আমার বিরুদ্ধে এত ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত হওয়ার পরেও আমি শান্ত থেকে সব পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছি।'

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, ‘আজকে সন্ধ্যার একটু আগে বাংলার প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আমাকে মেসেজ দিয়েছেন। বলেছেন, তুমি শান্ত থেকে কাজ করতে থাকো। নিজের শরীরের প্রতি যত্ন নিও। কোম্পানীগঞ্জের সকল সমস্যা অচিরেই সমাধান করা হবে।’

মঙ্গলবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

কাদের মির্জা বলেন, ‘একটা ষড়যন্ত্রকারী চক্র বলাবলি করছে আমাকে নাকি দল থেকে বহিষ্কার করেছে। আমাকে বহিষ্কারের বিষয়টা হাস্যকর। আমাকে কেন বহিষ্কার করবে? আমার বিরুদ্ধে এত ষড়যন্ত্র চক্রান্ত হওয়ার পরেও আমি শান্ত থেকে সব পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছি।'

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কোম্পানীগঞ্জে যে সমস্যা বিরাজ করছে, তা যদি আরও আগে থেকে বিভিন্ন পর্যায় থেকে হস্তক্ষেপ করা হতো, তাহলে এর সমাধান হতো। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এ বিষয়ে যাদের দায়িত্ব ছিল তারা হস্তক্ষেপ করেননি।’

কাদের মির্জা বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে খারাপ মানুষদের বের করে দিলে প্রতিষ্ঠানের কোনো ক্ষতি হয় না। ঠিক তেমনি আওয়ামী লীগের মধ্যে যে সকল অপরাজনীতির হোতারা রয়েছেন, তাদেরকে বের করে দিলে আওয়ামী লীগ দুর্বল হবে না বরং শক্তিশালী হবে।'

আরও পড়ুন:
পাসপোর্টে পরিবর্তনে সিপিবিসহ বাম জোটের ক্ষোভ
ইসরায়েল ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে
দেশে দ্বৈত পাসপোর্টধারী ১৪ হাজার
ছয় জেলায় ই পাসপোর্ট সেবা চালু
এক বাসায় ২৭০ পাসপোর্ট, আটক ২

শেয়ার করুন