স্লুইজগেট

বরগুনায় ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও জলাবদ্ধতা নিরসনে স্লুইজ গেটগুলোর অধিকাংশই কোনো কাজে আসছেনা। ছবি: নিউজবাংলা

স্লুইসগেটের সুবিধাভোগীরা এখন ভুক্তভোগী

বালিয়াতলী ইউনিয়নের বাসিন্দা দেলোয়ার গাজী বলেন, ‘এবার ইয়াসের সময় এই স্লুইসগেট থেকে খালে জোয়ারের পানি ঢুকে উভয় পারের লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। এলাকার কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। লবণ-পানি ঢুকেছে পুকুরে, ফসলি জমিতে। এই স্লুইসগেট এখন আমাদের জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

‘এই সুলিজ এহন মোগো কোনো কামে তো আয়ই না উল্ডা পানি ঢুইক্কা মোগো বাড়িঘর সব তলাইয়া হালায়, এইডার আর কোনো দরকার নাই, অয় ভাইঙ্গা হালান নাইলে এইডারে সরাইয়া দেন, মোরা এডা লইয়া খুব বিপদের মইদ্দে আছি।’

এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময় এমন আকুতি জানান আশি বছর বয়সী নুরুল হক।

ষাটের দশকে পাকিস্তান সরকারের বানানো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ দেখেছেন তিনি। বাঁধের ভেতরের বাসিন্দাদের পানির প্রয়োজন মেটাতে স্লুইসগেট নির্মাণের কথা মনে আছে তার।

নুরুল হক জানান, বিষখালী নদীর পেটে গেছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, একই সঙ্গে একটি পাঁচমুখো স্লুইসগেটও।

পাথরঘাটার কালমেঘা বাজার গড়ে উঠেছিল বাঁধের ওপর। বিশাল চওড়া সেই খালের স্লুইসগেট থেকে সশব্দে জোয়ারভাটা চলত। পাঁচটি মুখে লোহার ভারী পাঁচটি গেট ছিল। সেসবের কিছুই নেই এখন।

বাংলাদেশ সরকারের পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) আশি ও নব্বইয়ের দশকে নতুন করে বাঁধ ও হাইড্রোলিক স্লুইচগেট নির্মাণ করে। রক্ষণাবেক্ষণের লোকের অভাবে ভেঙেছে স্লুইসের ঢাকনা, এখন ইচ্ছামতো জোয়ার ঢোকে, ভাটায় পানি শুকায়। ফলে প্রয়োজনের সময় পানি মেলে না আর নিষ্কাশনের সময় কাজে আসে না স্লুইসগেট।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, জেলার বিষখালী, বলেশ্বর ও পায়রা নদীর বেড়িবাঁধের ওপরে ষাটের দশকে ৩৮০টি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়েছিল। এর বেশির ভাগই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের সঙ্গে নির্মাণ করা হয়েছিল।

১৯৭০ সালের বন্যার পর আরও কিছু স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়। আশির দশকে নদীভাঙনের কবলে ভেঙে যাওয়া স্লুইসগুলো পুনর্নর্মাণ করা হয়। নব্বই ও ২০০০ সালের পর কয়েক দফায় ভাঙনে বিলীন হওয়া স্থানে আবারও স্লুইসগেট বানানো হয়।

বরগুনা পাউবোর ২২টি পোল্ডারের মধ্যে ২০টিতে মোট ৩৮০টি স্লুইসগেট রয়েছে। এগুলোর বেশির ভাগই নদী লাগোয়া বেড়িবাঁধের ওপর। নদী সংযুক্ত খালে পানি প্রবাহের জন্য এই গেটগুলো বানানো হয়েছিল।

স্থানীয়রা জানান, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও জলাবদ্ধতা নিরসনে স্লুইসগেটগুলোর অধিকাংশই কোনো কাজে আসছে না। উপকারভোগীরা পরিণত হয়েছেন ভুক্তভোগীতে।

তারা জানান, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এসব স্লুইসগেট অকার্যকর হয়ে উপকারের চেয়ে বেশি ক্ষতি করছে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের সময় জলোচ্ছ্বাসের অন্যতম কারণ ছিল এসব স্লুইসগেট।

বরগুনার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের চালিতাতলী এলাকার পায়রা নদীর স্লুইসটির পানি নিয়ন্ত্রণের লোহার গেট ভেঙে গেছে অনেক আগেই।

ওই এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার গাজী বলেন, ‘এবার ইয়াসের সময় এই স্লুইসগেট থেকে খালে জোয়ারের পানি ঢুকে উভয় পারের লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। এলাকার কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। লবণ-পানি ঢুকেছে পুকুরে, ফসলি জমিতে। এই স্লুইসগেট এখন আমাদের জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

তিনি জানান, একই অবস্থা তালতলী উপজেলার বগী বাজার, পঁচাকোড়ালিয়া এলাকার দুটি স্লুইসগেচের। এ ছাড়াও বিষখালী ও বলেশ্বর নদের খালের সঙ্গে যুক্ত স্লুইসগুলোরও ঠিক একই অবস্থা।

জেলার সবচেয়ে দুর্যোগপ্রবণ পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের পদ্মা এলাকা। স্লুইসগেটকে কেন্দ্র করেই সেখানে বাজার গড়ে উঠেছিল। বাজারটির নাম পদ্মাস্লুইস। সেখানে স্লুইচটির লোহার গেট নেই, ব্যবস্থা নেই জোয়ার-ভাটা নিয়ন্ত্রণের। ইয়াসের সময় জোয়ারের পানি ঢুকে আশপাশের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়।

পদ্মা এলাকার জহির রায়হান বলেন, ‘আমরা এই স্লুইসটির কারণে বারবার জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। সেই সিডর থেকে এখন পর্যন্ত সব ঘূর্ণিঝড়ে খালে অবাধে জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে। স্লুইসটি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে দুর্ভোগের শেষ থাকবে না।’

পায়রা নদীর ভাঙনে পড়েছে আমতলীর ছোটবগী ইউনিয়নের বঙ্গোপসাগর ও পায়রা নদীর মোহনার কোলঘেঁষা চরপাড়া গ্রামের বেড়িবাঁধ। স্লুইসগেটের নিচ থেকে মাটি সরে গেছে। যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে মানুষকে।

পাউবোর বরগুনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী কাইছার আলম বলেন, ‘বাঁধের পাশাপাশি স্লুইচগেটগুলোর সংস্কার জরুরি। স্লুইসগেটের নিয়ন্ত্রণ না থাকলে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢোকে। আমরা এরই মধ্যে বেশ কিছু স্লুইসের সংস্কার কাজ হাতে নিয়েছি। বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে সংস্কারের আওতায় আনা হবে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ময়মনসিংহে ট্রাকের নিচে গেল চার প্রাণ

ময়মনসিংহে ট্রাকের নিচে গেল চার প্রাণ

মুক্তাগাছায় ট্রাকচাপায় প্রাণ হারান তিন মোটরসাইকেল আরোহী। আর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাকে দেখে ফেরার সময় ফুলবাড়িয়ায় প্রাণ হারিয়েছে এক স্কুলছাত্র।

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা ও ফুলবাড়িয়া উপজেলায় মঙ্গলবার ট্রাকচাপায় প্রাণ হারিয়েছে চারজন।

তাদের মধ্যে মুক্তাগাছায় ট্রাকচাপায় প্রাণ হারান তিন মোটরসাইকেল আরোহী। আর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাকে দেখে ফেরার সময় ফুলবাড়িয়ায় প্রাণ হারিয়েছে এক স্কুলছাত্র।

মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে মুক্তাগাছার ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কের হরিণাতলা এলাকায় মোটরসাইকেলটিতে ধাক্কা দেয় একটি ট্রাক। এতে উপজেলার ঘোগা ইউনিয়নের চারিপাড়া গ্রামের সেলিম মিয়া, সবুজ মিয়া ও অন্তর মিয়া নামে তিন যুবক নিহত হন।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন মুক্তাগাছা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহাঙ্গীর আলম।

তিনি জানান, তিন যুবক এক মোটরসাইকেলে উপজেলার রসুলপুর থেকে চারিপাড়া নিজেদের গ্রামে আসছিলেন। পথে হরিণাতলা এলাকায় পেছন থেকে একটি ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলটিতে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় অন্য দুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আরেকজন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যান।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ট্রাকটি জব্দ এবং চালক ইনসানকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ড্রামট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে আরিফ হোসেন প্রান্ত নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়। আহত হয় আরও দুজন।

মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে ময়মনসিংহ-ফুলবাড়িয়া সড়কের লক্ষ্মীপুরের ইটভাটা সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত প্রান্তর বাড়ি ফুলবাড়িয়া উপজেলার কুশমাইল ইউনিয়নের দেউনাইপাড় গ্রামে। সে সরকারি ফুলবাড়িয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে পড়ত।

ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুর রহমান জানান, প্রান্তর মা ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালে মাকে দেখে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিল সে। পথে একটি ড্রামট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে অটোরিকশায় থাকা প্রান্তসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়। তাদের ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রান্তকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

ওসি বলেন, মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ড্রামট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। পলাতক ট্রাকচালককে চিহ্নিত করে আটকের চেষ্টা চলছে।

শেয়ার করুন

পিকআপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চায়ের দোকানে, নিহত ১, আহত ৯

পিকআপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চায়ের দোকানে, নিহত ১, আহত ৯

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, চিতলীয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য সায়াদ মিয়া একটি পিকআপ নিয়ে গ্রাম্য রাস্তায় গাড়ি চালানো শিখছিলেন। চিৎলিয়া আমতলা বাজার এলাকায় গেলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের তাজর মিয়ার চায়ের দোকানে ঢুকে পড়ে। এ সময় চায়ের দোকানের বারান্দায় বসা ৭৫ বছর বয়সী জায়ফর মিয়া পিকআপের চাকায় চাপা পড়েন।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের আলীনগরে পিকআপ চালানো শেখার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চা দোকানে ঢুকে গেলে ঘটনাস্থলেই ১ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন ৯ জন ।

মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে কমলগঞ্জের আলীনগর ইউনিয়নের চিৎলিয়া আমতলা এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ মহেন্দ্র পিকআপটি উদ্ধার করে থানায় জব্দ করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, চিতলীয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য সায়াদ মিয়া একটি পিকআপ নিয়ে গ্রাম্য রাস্তায় গাড়ি চালানো শিখছিলেন। চিৎলিয়া আমতলা বাজার এলাকায় গেলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের তাজর মিয়ার চায়ের দোকানে ঢুকে পড়ে। এ সময় চায়ের দোকানের বারান্দায় বসা ৭৫ বছর বয়সী জায়ফর মিয়া পিকআপের চাকায় চাপা পড়েন। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু অবস্থা শোচনীয় দেখে তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে যাওয়ার পথে সন্ধ্যায় জায়ফর মিয়ার মৃত্যু হয়।

আলীনগর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম শামীম নিউজবাংলাকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে পিকআপটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে জব্দ করেছে। ঘটনার পর থেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য সায়াদ মিয়া পলাতক রয়েছেন।

এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়ারদৌস হাসান বলেন, পিকআপটি জব্দ করে এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত সায়াদ মিয়াকে আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার করুন

জীবননগর উপজেলায় ৭ দিনের লকডাউন

জীবননগর উপজেলায় ৭ দিনের  লকডাউন

মঙ্গলবার দুপুরে লকডাউন সংক্রান্ত একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন জেলা প্রশাসক।  উপজেলা করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কমিটির সভায় লকডাউন কার্যকর করতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা ৭দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছে প্রশাসন।

বুধবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া লকডাউন চলবে আগামী ৩০ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত।

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় করোনার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক। প্রায় আড়াই ঘণ্টা চলে ভিডিও কনফারেন্স। এ সময় চুয়াডাঙ্গা জেলার করোনার সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার। পরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে জীবননগর উপজেলাকে কঠোর লকডাউনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে লকডাউন সংক্রান্ত একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন জেলা প্রশাসক। উপজেলা করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কমিটির সভায় লকডাউন কার্যকর করতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মুনিম লিংকন জানান, জীবননগর উপজেলায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার ও মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। তাই অবশেষে জীবননগর উপজেলাকে লকডাউন ঘোষনা করা হয়েছে। লকডাউন বাস্তবায়ন করতে মাঠে কঠোর অবস্থানে থাকবে প্রশাসন।

উল্লেখ্য, এর আগে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় গত ১৫ জুন থেকে ১৪ দিনের জন্য লকডাউন করা হয় জেলার সীমান্তবর্তী দামুড়হুদা উপজেলা। ২০ জুন লকডাউন করা হয় চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকা ও সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়ন। ১৮ জুন থেকে ৭ দিনের বিশেষ বিধি নিষেধ জারি করা হয় জীবননগর উপজেলায়। পরে ২৩ জুন থেকে ওই উপজেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়।

শেয়ার করুন

দর্শনা দিয়ে ফিরলেন আরও ৩৪ বাংলাদেশি

দর্শনা দিয়ে ফিরলেন আরও ৩৪ বাংলাদেশি

দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরেছেন ভারতে আটকে পড়া আরও ৩৪ বাংলাদেশি। ছবি: নিউজবাংলা

দর্শনা জয়নগর চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এস আই) আব্দুল আলিম জানান, ভারতের কোলকাতায় বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে নতুন অনাপত্তি পত্র (এনওসি) নিয়ে মঙ্গলবার ৩৪ জন বাংলাদেশি দর্শনা চেকপোস্টে প্রবেশ করেন। সেখানে আসার পর স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়। তবে এসময় তাদের মধ্যে কেউ করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়নি।

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরেছেন ভারতে আটকে পড়া আরও ৩৪ বাংলাদেশি। এ নিয়ে গত ৩৬ দিনে ওই চেকপোস্ট দিয়ে মোট ৯৮৭ জন দেশে ফিরলেন।

মঙ্গলবার ভারতের গেদে চেকপোস্ট হয়ে দর্শনা চেকপোস্টে প্রবেশ করেন ওই বাংলাদেশিরা।

দেশে প্রবেশের পর ওই চেকপোস্টেই অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্পে তাদের র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি টিম। তবে এদিন তাদের কারও শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়নি।

দর্শনা জয়নগর চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এস আই) আব্দুল আলিম জানান, ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে নতুন অনাপত্তি পত্র (এনওসি) নিয়ে মঙ্গলবার ৩৪ জন বাংলাদেশি দর্শনা চেকপোস্টে প্রবেশ করেন। সেখানে আসার পর স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়।

তবে কেউ করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়নি। সেখান থেকে নির্ধারিত পরিবহনযোগে ২৭ জনকে জেলা যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ও ৭ জনকে স্থানীয় হোটেল ভিআইপিতে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।

করোনা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত উপকমিটির আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনিরা পারভীন জানান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশের অভিবাসনবিষয়ক শাখা (ইমিগ্রেশন) ও শুল্ক বিভাগের (কাস্টমস) আনুষ্ঠানিকতা শেষে সেখান থেকে ভারতফেরতদের নির্ধারিত পরিবহনযোগে (মাইক্রোবাস) জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত কোয়ারেন্টিন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তারা ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকবেন।

শেয়ার করুন

আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: বরিশালে বর্ণাঢ্য আয়োজন

আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: বরিশালে বর্ণাঢ্য আয়োজন

রাত পৌনে ১টায় নগরীর ঈশ্বরবসু রোডে ১৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ কেক কেটে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

বরিশালে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হচ্ছে আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

রাত ১২টা ১মিনিটে নগরীর ৭২টি স্থান থেকে একযোগে আতশবাজির প্রদর্শন করা হয়।

মধ্যরাতে কিছু সময়ের জন্য বরিশাল নগরীর আকাশ ছিল রঙে রঙিন আলোকোজ্জ্বল। আতশবাজির শব্দে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে নগরী। উৎসুক মানুষ আতশবাজির প্রদর্শন উপভোগ করতে বাইরে বের হয়ে আসে।

রাত পৌনে ১টায় নগরীর ঈশ্বরবসু রোডে ১৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ কেক কেটে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আফজালুল করিমসহ মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে বুধবার বিকাল তিনটায় আলোচনা সভা রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে দলের স্থায়ী কার্যালয় স্থাপনেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগ।

বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় মাসব্যাপী ৭২ হাজার বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে নগরীর বধ্যভূমি এলাকায়।

এদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নগরজুড়ে আলোকসজ্জা করেছে মহানগর আওয়ামী লীগ।

শেয়ার করুন

গৌরনদীতে নির্বাচন: দুজন নিহতের ঘটনায় মামলা

গৌরনদীতে নির্বাচন: দুজন নিহতের ঘটনায় মামলা

গৌরনদীর একটি ইউপি নির্বাচনে সহিংসতায় দুজন নিহত হন। ছবি: নিউজবাংলা

সোমবার দুপুরে উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের কমলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের বাইরে ককটেল হামলায় মৌজে আলী মৃধা নামে একজন নিহত হন। একই ইউনিয়নে সন্ধ্যায় পাঙ্গাসিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ফল ঘোষণার পর সদস্য প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন মৃধার বিজয় মিছিলে ককটেল হামলায় আবু বক্কর নামে আরেকজন নিহত হন।

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় ইউপি নির্বাচনে সহিংসতায় দুজন নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে।

একটি মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। তবে বাদীর অভিযোগ মূল আসামিরা এখনও অধরা।

স্থানীয় লোকজন জানান, সোমবার দুপুরে উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের কমলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের বাইরে ককটেল হামলায় মৌজে আলী মৃধা নামে একজন নিহত হন।

একই ইউনিয়নে সন্ধ্যায় পাঙ্গাসিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ফল ঘোষণার পর সদস্য প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন মৃধার বিজয় মিছিলে ককটেল হামলায় আবু বক্কর নামে আরেকজন নিহত হন। দুই ঘটনায় আহত হন সাতজন।

মৌজে আলী হত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার তার ছেলে নজরুল মৃধা ২১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ৭০-৮০ জনকে আসামি করে গৌরনদী থানায় মামলা করে। এ মামলার তিন আসামি ফিরোজ মৃধা, মাহফুজুর রহমান ইমন ও নয়ন মৃধাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তবে বাদীর অভিযোগ, তার দেয়া আসামিদের নাম পরিবর্তন করে মামলা নিয়েছে থানা পুলিশ।

গৌরনদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. তৌহিদুজ্জামান অবশ্য দাবি করেছেন, বাদীর সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেই মামলায় আসামি করা হয়েছে। বাদী যদি অন্যকিছু বলে থাকেন, তাহলে তিনি আদালতে লিখিত আবেদন করতে পারেন।

অপরদিকে আবু বক্কর হত্যার ঘটনায় তার বাবা আনজু ফকির অর্ধশতাধিক ব্যক্তির নামে মঙ্গলবার দুপুরে গৌরনদী থানায় মামলা করেন। এই মামলার কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে পাঠানো হবে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

শেয়ার করুন

১২ হাজার ছাড়াল গাজীপুরে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা

১২ হাজার ছাড়াল গাজীপুরে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা

সিভিল সার্জন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার ৩১৩ জনের দেহে নমুনা পরীক্ষায় ৫৬ জনের করোনা শনাক্ত  হয়। এর মধ্যে গাজীপুর সদর ও সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩০ জন, কালিয়াকৈর উপজেলায় ৬ জন, কাপাসিয়া উপজেলায় ৬ জন ও শ্রীপুর উপজেলায় ১৪ জন। তবে কালীগঞ্জ উপজেলায় নতুন করে আক্রান্তের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

গাজীপুরে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১২ হাজার ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে নতুন করে ৫৬ জন আক্রান্ত হয়েছে।

এ নিয়ে জেলায় করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১২ হাজার ৩৬জনে দাঁড়াল। জেলায় করোনায় মোট মারা গেছে ২২৭ জন। মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুর সিভিল সার্জন ডা. মো. খাইরুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সিভিল সার্জন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার ৩১৩ জনের দেহে নমুনা পরীক্ষায় ৫৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এর মধ্যে গাজীপুর সদর ও সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩০ জন, কালিয়াকৈর উপজেলায় ৬ জন, কাপাসিয়া উপজেলায় ৬ জন ও শ্রীপুর উপজেলায় ১৪ জন। তবে কালীগঞ্জ উপজেলায় নতুন করে আক্রান্তের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত গাজীপুর জেলায় ৮৭ হাজার ৯৮৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১২ হাজার ৩৬ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুর সদর ও সিটি করপোরেশন এলাকায় ৭ হাজার ৮৮৩ জন, কালীগঞ্জে ৮৬৩ জন, কালিয়াকৈরে ১ হাজার ২২২, কাপাসিয়ায় ৭৬০ ও শ্রীপুরে ১ হাজার ৩০৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১০ হাজার ৫৯৬ জন।

শেয়ার করুন