এমপিকে ক্ষুব্ধ জনতার কাদা

এমপিকে ক্ষুব্ধ জনতার কাদা

খুলনার কয়রার মহারাজপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। যদিও সংসদ সদস্য বলছেন, টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে মানুষ বিক্ষোভ করেছে। তার দিকে কাদা ছুড়ে মারা হয়নি।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত করছিলেন স্থানীয়রা। এ সময় সেখানে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য। তাকে দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বাঁধ মেরামতকারীরা। একপর্যায়ে জনপ্রতিনিধির দিকে কাদা ছুড়তে থাকেন তারা। তখন সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য হন ওই সংসদ সদস্য। যদিও পরে আবার ফিরে আসেন পুলিশি পাহারায়।

খুলনার কয়রার মহারাজপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। যদিও সংসদ সদস্য বলছেন, টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে মানুষ বিক্ষোভ করেছে। তার দিকে কাদা ছুড়ে মারা হয়নি।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, ইউনিয়নের দশহালিয়া এলাকায় মঙ্গলবার সকাল থেকেই কপোতাক্ষ নদের ভেঙে যাওয়া বাঁধ স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামত করছিলেন কয়েক শ মানুষ।

একটি ট্রলার নিয়ে সেখানে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপস্থিত হন খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনের সংসদ সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান।



বাঁধে কাজ করা উত্তেজিত জনতা তাকে দেখেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। কাদা ছুড়ে মারতে থাকেন ট্রলারের দিকে। বাধ্য হয়ে সেখান থেকে ট্রলার নিয়ে চলে যান তিনি।

তবে সংসদ সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান দাবি করেছেন, টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে মানুষ বিক্ষোভ করেছে, কিন্তু তার ট্রলারে কাদা ছুড়ে মারা হয়নি।

এমপিকে ক্ষুব্ধ জনতার কাদা


স্থানীয়দের দাবিকে যৌক্তিক বলে সংসদ সদস্য বলেন, বারবার বাঁধ ভাঙে আর স্বেচ্ছাশ্রমে তাদের কাজ করতে হয়। এ কারণে জনপ্রতিনিধির ওপর তাদের ক্ষোভ।

স্থানীয় কয়েকজন জনান, ইয়াসের পর ওই এলাকার বাঁধ ভেঙে মহারাজপুর ও পাশের বাগালী ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় আইলার দীর্ঘ এক যুগ পর তারা আবার এমন দুর্ভোগে পড়েছে।

চার দিন ধরে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ মেরামত করছেন এলাকার মানুষ। সংসদ সদস্য একটি ট্রলারে করে ওই ভাঙা বাঁধের স্থানে যান। যখনই তার ট্রলারটি ঘাটে ভিড়তে যায়, তখনই কাদা ছুড়তে শুরু করেন স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করা মানুষগুলো।

বারবার মাইকে ঘোষণা করেও তাদের থামানো যায়নি। প্রায় আধা ঘণ্টা পর কাজ করতে থাকা মানুষকে শান্ত করা হলে আবার সংসদ সদস্য ভাঙা বাঁধের কাছে যান।

এমপিকে ক্ষুব্ধ জনতার কাদা


সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘এখানকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই কষ্টের মধ্যে রয়েছে। আমি নেমে তাদের কথার উত্তর দিই। এরপর তাদের শুকনা খাবার দিই। কেউ কাদা ছোড়েনি।’

এমপির ওপর কাদা ছোড়ার ২ মিনিটের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা গেছে, মানুষ বৃষ্টির মতো ঢিল কাদা ছুড়ছে। একজন মাইকে জনগণকে শান্ত করার চেষ্টা করছে। তবে সাধারণ মানুষ তা থেকে নিবৃত্ত হচ্ছে না।

আরও পড়ুন:
সাত থানার পুলিশকে হুঁশিয়ারি ডিসি আহাদের
সাবেক এমপি আউয়াল দম্পতির সম্পত্তি জব্দই থাকছে
এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে বরাদ্দের দাবি
‘এমপি আওয়ালের জন্য খুন’, গ্রেপ্তার আরও ১
স্কটিশ পার্লামেন্টে হবিগঞ্জের ফয়সল চৌধুরী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ই-কমার্স গ্রাহকের লোভ কমাতে প্রচারণা চালান: হাইকোর্ট

ই-কমার্স গ্রাহকের লোভ কমাতে প্রচারণা চালান: হাইকোর্ট

প্রতীকী ছবি

আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘আমাদের দেশে ই-কর্মাস ব্যবসার নামে অনেক বেশি ফ্রি অফার থাকে, যা বিদেশি প্রতিষ্ঠান আলি বাবা, অ্যামাজনে থাকে না। আমাদের দেশের গ্রাহকেরা অতি লোভে পড়ে প্রতারণার শিকার হয়।’ জবাবে আদালত বলে, ‘…গ্রাহকদের লোভ কমাতে জনস্বার্থে প্রচারণা চালান।’

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর নানা অফারে লোভে পড়ে গ্রাহকদের প্রতারিত হওয়া ঠেকাতে জনস্বার্থে প্রচারণা চালাতে পরামর্শ দিয়েছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মুস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে রোববার ফোনালাপে আড়িপাতা নিয়ে রিট শুনানির একপর্যায়ে ই-কমার্স প্রসঙ্গও উঠে আসে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শিশির মনির। একপর্যায়ে আদালত তার কাছে ই-কমার্স ব্যবসার বিষয়ে জানতে চায়।

তখন শিশির মনির বলেন, ‘আমাদের দেশে ই-কর্মাস ব্যবসার নামে অনেক বেশি ফ্রি অফার থাকে, যা বিদেশি প্রতিষ্ঠান আলি বাবা, অ্যামাজনে থাকে না। আমাদের দেশের গ্রাহকেরা অতি লোভে পড়ে প্রতারণার শিকার হয়।’

তখন আদালত বলে, ‘হ্যাঁ, আমরাতো দেখি, একটা কিনলে আরেকটা ফ্রি। বিমানের টিকেট কিনলে হোটেল ফ্রি। এজন্যই গ্রাহকদের লোভ কমাতে জনস্বার্থে প্রচারণা চালান।’

ই-কমার্সে টাকা কীভাবে লেনদেন হয়, আদালতের এমন প্রশ্নে শিশির মনির বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমেই টাকাটা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মালিকদের কাছে যায়।’

দেশে ই-কমার্স নিয়ে একটা অস্থির সময় যাচ্ছে। গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ ও ধামাকার মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

এর মধ্যে অর্থ আত্মসাতের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ডে আছেন ইভ্যালির সিইও মো. রাসেল ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন।

প্রেপ্তার করা হয়েছে ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া মেহজাবিন, তার স্বামী মাসুকুর রহমান ও প্রতিষ্ঠানের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) আমানউল্লাহ চৌধুরী ও সাবেক সিওও নাজমুল আলম রাসেলকে।

মামলা হয়েছে ধামাকার মালিকদের বিরুদ্ধেও।

ফোনালাপে আড়ি পাতা নিয়ে আদেশ ২৯ সেপ্টেম্বর

ফোনালাপে আড়ি পাতা বন্ধের নিশ্চয়তা ও ফাঁস হওয়া ঘটনাগুলোর তদন্ত চেয়ে দায়ের করা রিটের শুনানি নিয়ে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর আদেশের জন্য রেখেছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মুস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন ঠিক করে দেয়।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

ফোনালাপে আড়ি পাতা বন্ধ চেয়ে গত ১০ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবী রিটটি করেন।

রিটে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সচিব, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।

এর আগে গত ২২ জুন এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ দেয়া হয়েছিল। কোনো জবাব না পাওয়ায় রিট করা হয়।

আড়ি পাতার ঘটনা বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে বহুল প্রচারিত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। অথচ সর্বজনীন মানবাধিকার সনদপত্র, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী পৃথিবীর সব আধুনিক ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার স্বীকৃত ও সংরক্ষিত।

এমনকি বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদে চিঠিপত্র ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনীয়তা সংরক্ষণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এ অধিকার সংবিধানের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সাত থানার পুলিশকে হুঁশিয়ারি ডিসি আহাদের
সাবেক এমপি আউয়াল দম্পতির সম্পত্তি জব্দই থাকছে
এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে বরাদ্দের দাবি
‘এমপি আওয়ালের জন্য খুন’, গ্রেপ্তার আরও ১
স্কটিশ পার্লামেন্টে হবিগঞ্জের ফয়সল চৌধুরী

শেয়ার করুন

বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে সুইজারল্যান্ডে রোড শো কাল

বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে সুইজারল্যান্ডে রোড শো কাল

যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোর সান্তা ক্লারার হায়াত রিজেন্সিতে হয় ১০ দিনব্যাপী রোড শোর সমাপনী। বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে এমন রোড শো হচ্ছে সুইজার‌ল্যান্ডেও। ছবি: নিউজবাংলা

অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত দিক বিবেচনায় ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী দেশটিতে বাংলাদেশকে তুলে ধরে বিদেশি এবং অনিবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ আকর্ষণ এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে প্রবাসীরা যাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে, সে বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে সুইজারল্যান্ডে তিন দিনব্যাপী রোড শো শুরু হচ্ছে সোমবার।

এ রোড শোতে বাংলাদেশের অর্থনীতির সক্ষমতা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, বাংলাদেশি পণ্য ও সেবা, পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেটকে তুলে ধরা হবে।

অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত দিক বিবেচনায় ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী দেশটিতে বাংলাদেশকে তুলে ধরে বিদেশি এবং অনিবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ আকর্ষণ এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে প্রবাসীরা যাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে, সে বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

পুরো কর্মসূচির নাম দেয়া হয়েছে ‘রেইজ অব বেঙ্গল টাইগার’। স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় জুরিখের ডোলডার গ্র্যান্ড হোটেলে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন। আর ২২ সেপ্টেম্বর জেনেভার হোটেল প্রেসিডেন্ট উইলসনে সমাপনী অনুষ্ঠানে থাকবেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক ড. টেডরোস আধানম গেবরিয়েসুস।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এ রোড শোর আয়োজন করেছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের প্রতিষ্ঠানের চুক্তি হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ফাইন্যান্স ডিভিশনের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদার, বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এনএম জিয়াউল আলম পিএ, বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য মো. আলমগীর হোসেন এবং বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দীন আহমেদ এতে উপস্থিত থাকবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, ‘গত ১০ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির ঈর্ষণীয় অগ্রগতি হয়েছে। অর্থনীতির সবগুলো সূচকে আমরা এগিয়েছি। সামগ্রিকভাবে মূল্যায়ন করলে আগামীতে বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্ভাবনা বিশাল। কিন্তু আমাদের অর্থনীতির যে অর্জন ও সম্ভাবনা রয়েছে, উন্নত দেশগুলোর বিনিয়োগকারীদের কাছে তা তুলে ধরা হয়নি, যে কারণে আমাদের ওইভাবে বিদেশি বিনিয়োগ আসেনি।

‘এ কারণে বিদেশি বিনিয়োগ আর্কষণের জন্য আমরা এ ধরনের রোড শোর উদ্যোগ নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘এর আগে আমরা দুবাই এবং যুক্তরাষ্ট্রের চার শহরে রোড শো করেছি। সেখানে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। আগামী ৩১ অক্টোবর ইংল্যান্ডে রোড শো শুরু হবে। পর্যায়েক্রমেই সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের লক্ষ্য রেখে বিভিন্ন দেশে এই ধরনের আরও আয়োজন থাকবে।’

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালে বিশ্বের ২৩তম অর্থনীতির দেশ হবে বাংলাদেশ। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হলো বাংলাদেশ।

একই পূর্বাভাস দিয়েছে আরেক আর্ন্তজাতিক প্রতিষ্ঠান হংকং সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি)।

গত ১০ বছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ। আর মোট জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ৩১ শতাংশ। প্রবৃদ্ধিকে সাপোর্ট দিতে ২০২০ সালে বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে ৪০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে।

২০১১ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ৮৬০ ডলার। বর্তমানে তা ২ হাজার ২২৭ ডলারে উন্নীত হয়েছে। এ ছাড়াও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

করোনার মধ্যেও ২০২০ সালে প্রবাসী আয়ে (রেমিট্যান্স) ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ছিল। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুসারে, করোনার মধ্যে ২৩ দেশ অর্থনৈতিকভাবে ইতিবাচক অবস্থানে থাকবে। সংস্থাটি বলছে, এর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

বাংলাদেশে মোট শ্রমশক্তি ৭ কোটি। এর মধ্যে সাড়ে ৫ কোটিই বয়সে তরুণ।

রোড শোতে উল্লিখিত বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। এর বিভিন্ন সেশনে বিদেশি ও প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের নিয়ে বিনিয়োগকারী সম্মেলন, হোল্ডার্স মিটিং বা অংশীজন বৈঠক এবং প্রযুক্তি ও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

সম্মেলনে বাংলাদেশের সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তা, বেসরকারি উদ্যোক্তা, অনিবাসী বাংলাদেশি এবং বিদেশি উদ্যোক্তারা অংশ নেবেন।

আয়োজকরা ধারণা করছেন, রোড শোর মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি নতুন করে পরিচিতি পাবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত থাকবেন হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকর্ন কুমার ঘোষ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মফিজ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ কবির হোসেন, বিএসইসির সাবেক কমিশনার আরিফ খান, সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ নকিব উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক সাদ ওমর ফাহিম, বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান, মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছায়েদুর রহমানসহ অনেকে।

অনুষ্ঠানে স্পন্সর হিসেবে রয়েছে সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশ চেম্বার ও ওয়ালটন।

ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ সুইজারল্যান্ড। পৃথিবীর অধিকাংশের কাছে এটি স্বপ্নের দেশ। প্রাকৃতিকভাবে সুন্দর এই দেশকে অত্যাধুনিক শিল্পের দক্ষতায় সাজানো হয়েছে।

বিশ্বে উদ্ভাবন সূচকে শীর্ষে রয়েছে এই দেশ। সাড়ে ১৫ হাজার বর্গমাইলের এই দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি। আর মাথাপিছু আয় ৭০ হাজার ডলারের বেশি, যা বাংলাদেশের ৩৫ গুণ।

ঘড়ি, চকলেট ও ট্রেনের জন্য বিখ্যাত এই দেশ। অর্থপাচারকারীদের নিরাপদ স্থান হিসেবে দেশটির ব্যাংকগুলো ব্যাপক পরিচিত।

আরও পড়ুন:
সাত থানার পুলিশকে হুঁশিয়ারি ডিসি আহাদের
সাবেক এমপি আউয়াল দম্পতির সম্পত্তি জব্দই থাকছে
এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে বরাদ্দের দাবি
‘এমপি আওয়ালের জন্য খুন’, গ্রেপ্তার আরও ১
স্কটিশ পার্লামেন্টে হবিগঞ্জের ফয়সল চৌধুরী

শেয়ার করুন

সবাই নৌকায় উঠতে চায়: হাছান মাহমুদ

সবাই নৌকায় উঠতে চায়: হাছান মাহমুদ

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসীসহ অপকর্মে জড়িত যারা, তাদের কোনো স্থান নেই আওয়ামী লীগে। দলের ত্যাগী, পরিশ্রমী ও দুর্দিনের নেতা-কর্মীদের মূল‌্যায়ন করা হবে। তবে যারা আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম চালাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাসহ সজাগ থাকতে হবে দলের নেতা-কর্মীদেরই।

সবাই এখন আওয়াামী লীগের নৌকায় উঠতে চায় মন্তব্য করে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. হাছান মাহমুদ বলেছেন, গত ১৩ বছরে অনেকেই আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন কিন্তু দলের দুঃসময়ে তাদের দেখা যায়নি। এই অতিথি পাখিদের যে কোনো মূল্যে প্রতিহত করতে হবে।

গাইবান্ধায় জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় যোগ দেয়ার আগে রোববার দুপুর ১২টার দিকে সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

হাছান মাহমুদ বলেন, মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসীসহ অপকর্মে জড়িত যারা, তাদের কোনো স্থান নেই আওয়ামী লীগে। দলের ত‌্যাগী, পরিশ্রমী ও দুর্দিনের নেতা-কর্মীদের মূল‌্যায়ন করা হবে। তবে যারা আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম চালাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব‌্যবস্থাসহ সজাগ থাকতে হবে দলের নেতা-কর্মীদেরই।

সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন খালি পায়ে কেউ হাঁটেন না; না খেয়েও কেউ থাকে না। দেশের সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা অনেক উন্নত হয়েছে। এ ছাড়া দেশের উন্নয়ন ও অবকাঠামোর ব‌্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। এর সবই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গুনে।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক, জাতীয় সংসদের হুইপ ও গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব আরা বেগম গিনি, গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদুল হাসান রিপন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ ছামছুল আলম হিরু ও সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক।

এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দুপুরে মধ‌্যহ্নভোজের পর হাছান মাহমুদ গাইবান্ধার রাধাকৃষ্ণপুরে এসকেএস ইন রিসোর্টে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির হিসেবে বক্তব‌্য রাখবেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সড়ক পথে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে গাইবান্ধা সার্কিট হাউজে এসে পৌঁছান তিনি।

আরও পড়ুন:
সাত থানার পুলিশকে হুঁশিয়ারি ডিসি আহাদের
সাবেক এমপি আউয়াল দম্পতির সম্পত্তি জব্দই থাকছে
এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে বরাদ্দের দাবি
‘এমপি আওয়ালের জন্য খুন’, গ্রেপ্তার আরও ১
স্কটিশ পার্লামেন্টে হবিগঞ্জের ফয়সল চৌধুরী

শেয়ার করুন

খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ ৬ মাস বাড়ল

খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ ৬ মাস বাড়ল

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে দণ্ড স্থগিতের পর ২০২০ সালের ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে গুলশানের বাসভবনে ফেরেন বেগম খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তার ছোট ভাই শর্ত সাপেক্ষে মুক্তির সময় বৃদ্ধির একটি আবেদন করেছিলেন। পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আমরা সেটি অনুমোদন দিয়েছি। শর্তগুলো সব আগের মতোই থাকবে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

রোববার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের একথা জানান তিনি। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বৃদ্ধি করল সরকার।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তার ছোট ভাই শর্ত সাপেক্ষে মুক্তির সময় বৃদ্ধির একটি আবেদন করেছিলেন। পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আমরা সেটি অনুমোদন দিয়েছি। শর্তগুলো সব আগের মতোই থাকবে।’

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিন দফায় ছয় মাস করে ১৮ মাস মুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আগে খালেদাকে স্থায়ীভাবে মুক্ত করে দিতে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছিল। তবে আইন মন্ত্রণালয় বলেছে, স্থায়ীভাবে মুক্ত করার এখতিয়ার আদালতের।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গত ৭ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আবেদনের বিষয়ে মতামত দেন। তাতে খালেদার সাজা স্থগিতের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর সুপারিশ করেন মন্ত্রী।

আগের তিন দফার মতো এবারও বিদেশে না যাওয়া এবং বাড়িতে চিকিৎসার শর্তে মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয় খালেদা জিয়ার। পরে উচ্চ আদালতে আপিল করলে সাজা বেড়ে হয় দ্বিগুণ।

উচ্চ আদালতের আদেশের পর দিন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার রায় হয় বিচারিক আদালতে। এ মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড পান বিএনপি নেত্রী। ফলে মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ড হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর।

দুই মামলায় খালেদার জামিন নিশ্চিত করতে বিএনপির আইনজীবীদের চেষ্টা ব্যর্থ হলে তার স্বজনরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন নিয়ে যান।

সরকার প্রধানের নির্বাহী আদেশে দণ্ড স্থগিত হলে সাবেক সরকার প্রধানকে দুই শর্তে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ মুক্তি দেয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে বিএনপি নেত্রী ফেরেন তার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায়।

খালেদার সাময়িক মুক্তি পাওয়ার শর্ত দুটি হলো: বিএনপি নেত্রী দেশেই চিকিৎসা নেবেন এবং তিনি বিদেশে যাবেন না।

গত এপ্রিলে খালেদা জিয়া করোনায় আক্রান্ত হলে বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়ার অনুরোধ করা হয়। তবে সরকার সে দাবি নাকচ করে। জানানো হয়, রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আর তিনি তা গ্রহণ করলেই কেবল বিদেশে যাওয়ার সুযোগ আছে।

দ্বিতীয় আরেকটি পথ হলো আদালত থেকে নির্দোষ প্রমাণ হয়ে আসা। কিন্তু জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আপিল বিভাগে আর চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্ট বিভাগে শুনানিতে বিএনপি নেত্রীর আইনজীবীরা কোনো আগ্রহই দেখাচ্ছেন না।

খালেদা জিয়া বন্দিত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে বাসায় ফেরার পর তার সাময়িক মুক্তির মেয়াদ পরে ছয় মাস করে দুই দফায় বাড়ানো হয়।

তৃতীয় দফায় দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর। এবার চতুর্থ দফায় মুক্তির মেয়াদ বাড়নোয় তার আরও ছয় মাস কারাগারে যেতে হবে না।

বিএনপি নেত্রীর বিরুদ্ধে এই দুটি মামলা ছাড়াও আরও অন্তত ৩০টি মামলা আছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি মামলা অভিযোগ গঠনের অপেক্ষায় আছে।

আরও পড়ুন:
সাত থানার পুলিশকে হুঁশিয়ারি ডিসি আহাদের
সাবেক এমপি আউয়াল দম্পতির সম্পত্তি জব্দই থাকছে
এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে বরাদ্দের দাবি
‘এমপি আওয়ালের জন্য খুন’, গ্রেপ্তার আরও ১
স্কটিশ পার্লামেন্টে হবিগঞ্জের ফয়সল চৌধুরী

শেয়ার করুন

জমি নিয়ে বিরোধ: নারীকে কুপিয়েছে প্রতিপক্ষ

জমি নিয়ে বিরোধ: নারীকে কুপিয়েছে প্রতিপক্ষ

ময়মনসিংহের সদরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটে। ছবি: নিউজবাংলা

কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক ফারুক হোসেন জানান, আহত সুমাইয়া খাতুনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমে কর্মরত।

ময়মনসিংহের সদরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক নারীকে দা দিয়ে কোপানো হয়েছে।

পুলিশ বলছে, সদর উপজেলার সিরতা ইউনিয়নের চর ভবানীপুর গ্রামে শনিবার সন্ধ্যায় ওই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত সুমাইয়া খাতুনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমে কর্মরত। মাতৃত্বকালীন ছুটিতে বাবার বাড়ি চর ভবানীপুর গ্রামে এসেছিলেন সুমাইয়া।

কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন এসব তথ্য নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ২৩ বছর ধরে জমিজমা নিয়ে একই গ্রামের আলী আকবর এবং আজিজুল হকের মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিল। এ ঘটনায় একাধিক মামলাও রয়েছে।

বিষয়টি মীমাংসা জন্য শনিবার বিকেলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে ওই দুই পরিবারের বসার কথা থাকলেও আজিজুল হক ও তার লোকজন রাস্তায় গাছ ফেলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করে।

একপর্যায়ে আজিজুল ও তার লোকজন সন্ধ্যার আগে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আলী আকবরের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায়। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন রামদা দিয়ে আলী আকবরের বোন সুমাইয়া মাথায় আঘাত করে। পরে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ বলেন, ‘আহত পুলিশ সদস্য সুমাইয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় মামলা হবে।’

আরও পড়ুন:
সাত থানার পুলিশকে হুঁশিয়ারি ডিসি আহাদের
সাবেক এমপি আউয়াল দম্পতির সম্পত্তি জব্দই থাকছে
এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে বরাদ্দের দাবি
‘এমপি আওয়ালের জন্য খুন’, গ্রেপ্তার আরও ১
স্কটিশ পার্লামেন্টে হবিগঞ্জের ফয়সল চৌধুরী

শেয়ার করুন

বরিশালে ইমারত নির্মাণশ্রমিকদের মানববন্ধন

বরিশালে ইমারত নির্মাণশ্রমিকদের মানববন্ধন

বরিশালে ইমারত নির্মাণ শ্রমিকদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি: নিউজবাংলা

শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম এ জলিল বলেন, ‘বর্তমানে ইমারত নির্মাণশ্রমিকরা কেউ অনাহারে কেউবা অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই ধার-দেনা করে সর্বস্বান্ত হয়ে পথে বসেছেন। তাই সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সবার কাছে আবেদন, ইমারত নির্মাণশ্রমিকদের বাঁচতে দিন, বাঁচিয়ে রাখুন।’

সামাজিক নিরাপত্তা, সারা বছর কাজের দাবিসহ ৮ দফা দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ইমারত নির্মাণশ্রমিক ইউনিয়ন।

নগরীর অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে রোববার সকালে জেলা ইমারত নির্মাণশ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম এ জলিলের সভাপতিত্বে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

সমাবেশে এম এ জলিল বলেন, ‘করোনার কারণে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন থমকে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে শ্রমিকরা চরম কষ্টে আছেন। এই সময়ে সরকারি খাদ্যসহায়তা ও প্রণোদনা যা দেয়া হয়েছে তা অপ্রতুল।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে ইমারত নির্মাণশ্রমিকরা কেউ অনাহারে কেউবা অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকেই ধার-দেনা করে সর্বস্বান্ত হয়ে পথে বসেছেন। তাই সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সবার কাছে আবেদন, ইমারত নির্মাণশ্রমিকদের বাঁচতে দিন, বাঁচিয়ে রাখুন।’

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে একাত্মতা প্রকাশ করে অংশগ্রহণ করেন বরিশাল জেলা শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ ও ইমারত নির্মাণ কারিগরি শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা।

আরও পড়ুন:
সাত থানার পুলিশকে হুঁশিয়ারি ডিসি আহাদের
সাবেক এমপি আউয়াল দম্পতির সম্পত্তি জব্দই থাকছে
এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে বরাদ্দের দাবি
‘এমপি আওয়ালের জন্য খুন’, গ্রেপ্তার আরও ১
স্কটিশ পার্লামেন্টে হবিগঞ্জের ফয়সল চৌধুরী

শেয়ার করুন

অভিভাবকরা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না: শিক্ষামন্ত্রী

অভিভাবকরা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না: শিক্ষামন্ত্রী

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আজিমপুর শাখার সামনে অভিভাবকদের গাদাগাদি। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘স্কুলের বাইরে অভিভাবকরা জটলা করছেন, যা স্বাস্থ্যবিধির লঙ্ঘন।  শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মানলেও অভিভাবকরা অধিকাংশ জায়গায় তা মানছেন না।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্বাস্থবিধি মানলেও অধিকাংশ অভিভাবক তা মানছেন না বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানার আহ্বান জানান তিনি।

রাজধানীতে যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে রোববার তিনি এ মন্তব্য করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘স্কুলের বাইরে অভিভাবকরা জটলা করছেন, যা স্বাস্থ্যবিধির লঙ্ঘন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মানলেও অভিভাবকরা অধিকাংশ জায়গায় তা মানছেন না।’

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়ার পর ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। দফায় দফায় ছুটি বাড়ানো শেষে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়। পরের দিন থেকে খুলে দেয়া দেয়া মেডিক্যাল, ডেন্টাল ও নার্সিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দেখা যায়, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসছে। তাদের সবার মুখে মাস্ক। ব্যবস্থা রাখা হয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজারেরও। তবে স্কুল-কলেজের বাইরের চিত্র ভিন্ন। অভিভাবকরা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। বিষয়টিতে তারা গুরুত্বও দিচ্ছেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও খোলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন দীপু মনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি স্বাস্থবিধি মেনে পুরোদমে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়েও আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। টিকা দেয়া শেষে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলা যাবে। ইতিমধ্যে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে উপাচার্যদের।’

মন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষণ চলছে। সংক্রমণের হার কমে আসলে সব ক্লাসই নেয়া যাবে। তবে হার যদি বেড়ে যায় তখন কারিগরি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

‘আমরা কঠোর নজরদারিতে রেখেছি স্বাস্থবিধির বিষয়টি। প্রতিষ্ঠানের কোথাও দৃশ্যমান আবর্জনা বা লক্ষণীয় হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ সময় ডেঙ্গুর বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে’, যোগ করেন দীপু মনি।

এর আগে যাত্রাবাড়ী তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও অন্য শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
সাত থানার পুলিশকে হুঁশিয়ারি ডিসি আহাদের
সাবেক এমপি আউয়াল দম্পতির সম্পত্তি জব্দই থাকছে
এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে বরাদ্দের দাবি
‘এমপি আওয়ালের জন্য খুন’, গ্রেপ্তার আরও ১
স্কটিশ পার্লামেন্টে হবিগঞ্জের ফয়সল চৌধুরী

শেয়ার করুন