ছেলে ‘হত্যার’ পরদিন মায়ের মরদেহ উদ্ধার

ছেলে ‘হত্যার’ পরদিন মায়ের মরদেহ উদ্ধার

নিহত নাবিল (বাঁয়ে) ও তার মৃত মা নাসরিন। ছবি: নিউজবাংলা

রোববার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের বাসা থেকে নাবিলকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকে তার মা নাসরিনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। সোমবার রাতে নরসিংদীর একটি হোটেলকক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয় নাসরিনের ঝুলন্ত মরদেহ।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শিলের আঘাতে এক তরুণ নিহত হওয়ার পরদিন তার মায়ের ঝুলন্ত মরদেহ নরসিংদীর একটি হোটেল থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। নাজমুল সাকিব নাবিল নামের ওই তরুণকে তার মা-ই হত্যা করেছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল। সে ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন মা নাসরিন বেগম। পরিবারের সদস্যরা বলেন, নাসরিন মানসিক ভারসাম্যহীন।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মেহেদী ইমরান সিদ্দিক নিউজবাংলাকে জানান, নাবিলকে হত্যা করা হয় রোববার রাতে। এরপর থেকে তার মা নাসরিন পলাতক ছিলেন। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে পালিয়ে নরসিংদী সদরের নীরালা নামের আবাসিক হোটেলে ওঠেন।

সোমবার রাত পর্যন্ত কক্ষ থেকে তিনি বের না হওয়ায় হোটেলকর্মীদের সন্দেহ হয়। তারা কক্ষের দরজা ভেঙে নাসরিনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেন।

এএসপি মেহেদী জানান, খবর পেয়ে থানা থেকে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি নাসরিনের বলে নিশ্চিত হয়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান নিউজবাংলাকে জানান, নাসরিনের স্বামী ছগির আহমেদ ইসলামী ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখায় কর্মরত। তিনি রোববার রাতে কাজ থেকে বাড়ি ফিরে এসে ঘর তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান।

তার কাছে থাকা চাবি দিয়ে তালা খুলে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় ছেলে নাবিল আর্তনাদ করছেন। তার বুকে, পেটে ও মাথায় শিলের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বাড়িতে ছিলেন না নাসরিন।

তিনিই নাবিলকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে নেয়া হলে রাত সাড়ে ৩টার দিকে নাবিলের মৃত্যু হয়।

ওসি আরও বলেন, নিহত নাবিলের মা মানসিক ভারসাম্যহীন বলে তার বাবা জানিয়েছেন। মাঝে মাঝে ওই নারীর স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। রক্তাক্ত ছেলের পাশে রক্তমাখা শিলও পড়ে ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, নাসরিন ছেলেকে শিল দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে গেছেন।

ছেলের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্ত্রীকে আসামি করে মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন ছগির।

আরও পড়ুন:
কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
ডা. সাবিরা বাসায় একা, খুনি জানল কীভাবে
হত্যার পর পোড়ানোর চেষ্টা হয়েছিল চিকিৎসক সাবিরার মরদেহ
চিকিৎসক সাবিরা হত্যার শিকার: সিআইডি
তানিয়া হত্যা: প্রেমিক ফয়সালের জামিন স্থগিত

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘ফেসবুক পোস্ট’ নিয়ে বিরোধ, স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা

‘ফেসবুক পোস্ট’ নিয়ে বিরোধ, স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা

সানির সঙ্গে রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইল উত্তর পাড়ার মাহাফুজ নামের এক যুবকের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে বিরোধ ছিল। রাতে বেড়িবাঁধ এলাকায় ঘুরতে গেলে সানিকে কুপিয়ে হত্যা করে মাহাফুজ ও তার পক্ষের লোকজন।

ফেসবুক পোস্ট নিয়ে বিরোধের জেরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মোহাম্মদ সানি নামে এক স্কুল শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত হয়েছে হীরা নামে আরেক তরুণ।

উপজেলার গোলান্দাইল বেড়িবাঁধ এলাকায় সোমবার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সানি গোলাকান্দাইল বিজয়নগড় এলাকার মিল্লাত হোসেনের ছেলে। স্থানীয় একটি স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল সে।

হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে রূপগঞ্জ পুলিশ।

রূপগঞ্জ থানার ভূলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, সানির সঙ্গে গোলাকান্দাইল উত্তর পাড়ার মাহাফুজ নামের এক যুবকের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে বিরোধ ছিল। রাত ৮টার দিকে সানিসহ কয়েকজন গোলাকান্দাইল বেড়িবাঁধ এলাকায় ঘুরতে যায়।

ওই সময় মাহাফুজ তার লোকজন নিয়ে সানি ও হীরাকে কুপিয়ে আহত করে। গুরুতর অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত হীরাকে পরে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ময়নাতদন্তের জন্য সানির মরদেহ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দুজনকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আরও পড়ুন:
কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
ডা. সাবিরা বাসায় একা, খুনি জানল কীভাবে
হত্যার পর পোড়ানোর চেষ্টা হয়েছিল চিকিৎসক সাবিরার মরদেহ
চিকিৎসক সাবিরা হত্যার শিকার: সিআইডি
তানিয়া হত্যা: প্রেমিক ফয়সালের জামিন স্থগিত

শেয়ার করুন

ওসমানীতে করোনা চিকিৎসায় আরও ৭০ শয্যা, ১০ আইসিইউ

ওসমানীতে করোনা চিকিৎসায় আরও ৭০ শয্যা, ১০ আইসিইউ

‘ওসমানী হাসপাতালে আগে ২৬০ শয্যায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ থাকা রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। এখন থেকে আরও ৭০টি শয্যা বাড়ানো হয়েছে। একই আগে এ হাসপাতালে করোনা রোগীর জন্য ৮টি আইসিইউ ব্যবস্থা ছিল। এখন আরও ১০টি বাড়িয়ে ১৮-তে উন্নিত করা হয়েছে।’

সিলেটে দ্রুত বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। বাড়ছে শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। ফলে হাসপাতালগুলোতে দেখা দিয়েছে শয্যা সঙ্কট। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) পাশপাশি সাধারণ শয্যাও খালি মিলছে না। ফলে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ থাকা রোগীরা পড়ছেন চরম বিপাকে। রোগী নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরতে হচ্ছে স্বজনদের।

এ অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আরও ৭০ শয্যা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে করোনা চিকিৎসায় হাসপাতালটিতে যুক্ত হয়েছে আরও ১০টি আইসিইউ।

সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হিমাংশু লাল রায় এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সোমবার সকাল থেকে এসব শয্যায় রোগী ভর্তি শুরু হয়েছে।

ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, ‘ওসমানী হাসপাতালে আগে ২৬০ শয্যায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ থাকা রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। এখন থেকে আরও ৭০টি শয্যা বাড়ানো হয়েছে। একই আগে এ হাসপাতালে করোনা রোগীর জন্য ৮টি আইসিইউ ব্যবস্থা ছিল। এখন আরও ১০টি বাড়িয়ে ১৮-তে উন্নিত করা হয়েছে।’

এসব শয্যা ও আইসিইউ বাড়ানোর ফলে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় ওসমানীর সক্ষমতা বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

নতুন করে ১০টি যুক্ত হওয়ার আগে করোনা রোগীদের জন্য সিলেটের সরকারি দুটি হাসপাতালে ২৩টি আইসিইউ শয্যার ব্যবস্থা ছিল। এর বাইরে বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ মিলিয়ে করোনা চিকিৎসায় জেলায় আইসিইউ শয্যা রয়েছে আরও ৮০-৯০টি।

নগরের সরকারি দুই প্রতিষ্ঠান শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৮৪টি ও সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২৬০টি সাধারণ শয্যা ছিলো। এর বাইরে বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলোর আইসোলেশন ওয়ার্ডগুলোতে আরও প্রায় ২০০টি সাধারণ শয্যা রয়েছে। তবে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ও আইসিইউ শয্যা পেতে বিভিন্ন হাসপাতালে ধর্না দিতে হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের। সবগুলো হাসপাতালের করোনা ইউনিটের সাধারণ শয্যা ও আইসিইউ ইউনিট রোগীতে পূর্ণ রয়েছে। এ অবস্থায় ওসমানীতে শয্যা ও আইসিইউ দুটিই বাড়ানো হয়েছে।

বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতি, সিলেটের সভাপতি এবং নুরজাহান হাসপাতালের চেয়ারম্যান নাসিম আহমদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি আমরা করোনা রোগীদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু রোগীর চাপ প্রতিদিন এত বেশি বাড়ছে যে আমরা উদ্বিগ্ন। এই অবস্থায় সরকারি চিকিৎসাসেবা আরও অনেক বাড়ানো প্রয়োজন।’

আরও পড়ুন:
কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
ডা. সাবিরা বাসায় একা, খুনি জানল কীভাবে
হত্যার পর পোড়ানোর চেষ্টা হয়েছিল চিকিৎসক সাবিরার মরদেহ
চিকিৎসক সাবিরা হত্যার শিকার: সিআইডি
তানিয়া হত্যা: প্রেমিক ফয়সালের জামিন স্থগিত

শেয়ার করুন

যুবলীগ নেতার ‘হামলায়’ আহত এসআই বদলি

যুবলীগ নেতার ‘হামলায়’ আহত এসআই বদলি

গত ১২ জুলাই শাল্লা থানার পাশে পুলিশ এসআই শাহ আলীর ওপর হামলার ঘটনায় ঘটে। রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় উপজেলা যুবলীগ নেতা অরিন্দম চৌধুরী অপুকে। তবে পরিবারের অভিযোগ, হেফাজতে ইসলামের গ্রেপ্তার নেতা মামুনুল হকের সমালোচনা করায় ফাঁসানো হয় অপুকে।

সুনামগঞ্জের শাল্লায় যুবলীগ নেতার হামলায় আহত পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) শাহ আলীকে বদলি করা হয়েছে। তবে এটি কোনো শাস্তি নয় বলে জানিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সোমবার রাতে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান। তবে কোথায় বদলি করা হয়েছে সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক কিছু জানা যায়নি।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ‘এটি আমাদের পুলিশে নির্ধারিত নিয়মেই হয়েছে, এটা কোন শাস্তিমূলক বদলি না, যেহেতু সে ওই এলাকায় আক্রমণের শিকার এবং স্থানীয় এক অংশের ক্ষোভ রয়েছে সেজন্য তাকে বদলি করা হয়।’

গত ১২ জুলাই শাল্লা থানার পাশে পুলিশ এসআই শাহ আলীর ওপর হামলার ঘটনায় ঘটে। রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় উপজেলা যুবলীগ নেতা অরিন্দম চৌধুরী অপুকে।

তবে পরিবারের অভিযোগ, হেফাজতে ইসলামের গ্রেপ্তার নেতা মামুনুল হকের সমালোচনা করায় ফাঁসানো হয় অপুকে।

অপুর পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনাটি সাজানো। হেফাজত নেতা মামুনুল হককে নিয়ে প্রচারিত একটি সংবাদের লিংক ফেসবুকে শেয়ার করার জেরে তাকে ফাঁসানো হয়। তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে নির্যাতনও করা হয়।

আরও পড়ুন:
কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
ডা. সাবিরা বাসায় একা, খুনি জানল কীভাবে
হত্যার পর পোড়ানোর চেষ্টা হয়েছিল চিকিৎসক সাবিরার মরদেহ
চিকিৎসক সাবিরা হত্যার শিকার: সিআইডি
তানিয়া হত্যা: প্রেমিক ফয়সালের জামিন স্থগিত

শেয়ার করুন

কুকুরের দুধপানে বড় হচ্ছে বিড়াল ছানা

কুকুরের দুধপানে বড় হচ্ছে বিড়াল ছানা

টাঙ্গাইলের সখীপুরে কুকুড়ের দুধ পান করে বড় হচ্ছে বিড়াল ছানা।

আশিষ চন্দ বর্মনের বাড়িতে বসবাস ওই কুকুর আর বিড়ালের। সম্প্রতি সেখানেই একটি মা বিড়াল দুইটি ছানা প্রসব করার পর মারা যায়। ওই মা বিড়ালের মৃত্যু আর দুধপানের অভাবে দুটি ছানার একটি মারা যায়। তবে এরই মধ্যে বেঁচে থাকা ওই বিড়াল ছানাটিকে দুধ খাওয়ানো শুরু করে একটি মা কুকুর। এভাবেই মা কুকুরটির স্নেহ আর দুধ পানে ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে ওই বিড়াল ছানাটি।

কুকুরের দুধ পান করে বড় হচ্ছে একটি বিড়াল ছানা। বিরল এ ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে।

অবাক করা এ দৃশ্যটি দেখতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে ভিড় করছেন ওই বাড়িতে। তবে প্রাণিসম্পদ বিভাগ এই তথ্য খুব একটি বিস্মিত হয়নি। তারা বলছে, প্রাণীকূলের মধ্যে এই ধরনের ভালোবাসা বিরল নয়।

উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক আশিষ চন্দ বর্মনের বাড়িতে বসবাস ওই কুকুর আর বিড়ালের। সম্প্রতি সেখানেই একটি মা বিড়াল দুইটি ছানা প্রসব করার পর মারা যায়।

ওই মা বিড়ালের মৃত্যু আর দুধপানের অভাবে দুটি ছানার একটি মারা যায়। তবে এরই মধ্যে বেঁচে থাকা ওই বিড়াল ছানাটিকে দুধ খাওয়ানো শুরু করে একটি মা কুকুর। এভাবেই মা কুকুরটির স্নেহ আর দুধ পানে ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে ওই বিড়াল ছানাটি।

ওষুধ বিক্রেতা আশিষ চন্দ বর্মন বলেন, ‘আমরা কুকুর বা বিড়াল পুষি না। তবে দীর্ঘদিন ধরে আমার বাড়িতে একটি কুকুর ও বিড়াল বসবাস করে আসছে। হঠাৎ একদিন ওই বিড়ালটি দুটি বাচ্চা জন্মদিয়ে মারা যায়।

‘এরপর থেকে দেখছি মা হারা ওই বিড়াল ছানাটি কুকুরের দুধপান করছে। তবে প্রায়ই দেখছি কুকুরটি দুধে মুখ দিয়ে রাখছে বিড়াল ছানাটি। রীতিমত খেলা করে ওই কুকুর আর বিড়ালের ছানাটি।’

কাকরাজান ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ড এবং ওই গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি প্রথমে আমার বিশ্বাস হয়নি। এ কারণে আমি নিজে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখি সত্যিই বিড়াল ছানাটি কুকুরের দুধ খাচ্ছে। এটি সত্যিই আশ্চর্য হওয়ার মতো একটি বিষয়।’

সখীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল জলিল জানান, ‘এটি খুবই স্বাভাবিক বিষয়। একটি প্রাণির সাথে অপর একটি প্রাণির ভালোবাসায় এটি হতেই পারে। যেহেতু তারা একই বাড়িতে থাকে এবং একই মালিকের খাবার খায়।’

আরও পড়ুন:
কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
ডা. সাবিরা বাসায় একা, খুনি জানল কীভাবে
হত্যার পর পোড়ানোর চেষ্টা হয়েছিল চিকিৎসক সাবিরার মরদেহ
চিকিৎসক সাবিরা হত্যার শিকার: সিআইডি
তানিয়া হত্যা: প্রেমিক ফয়সালের জামিন স্থগিত

শেয়ার করুন

বঙ্গবন্ধুর নামে মাচা, যুবলীগ নেতা বহিষ্কার

বঙ্গবন্ধুর নামে মাচা, যুবলীগ নেতা বহিষ্কার

ফিতা কেটে বঙ্গবন্ধু মাচা উদ্বোধন করেন বগুড়ার গোকুলের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আ. লীগের সা. সম্পাদক রফিকুল ইসলাম (বাম থেকে দ্বিতীয়) ও নুনগোলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনিছার রহমান খলিল (বাম থেকে তৃতীয়)। ছবি: নিউজবাংলা

যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাকে দলের সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এসব লোকের জন্য দলের ইমেজ নষ্ট হয়। দল হাস্যরসে পরিণত হয়।’

বগুড়ায় বঙ্গবন্ধু মাচাং উদ্বোধন করায় এক সাবেক যুবলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ওই নেতার নাম আনিছার রহমান খলিল। তিনি বগুড়া সদরের নুনগোলা ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সোমবার রাতে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গোকুল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে রোববার বিকেলে তিনি ফিতা কেটে বঙ্গবন্ধু মাচা উদ্বোধন করে। উদ্বোধনের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় সমালোচনা।

আমিনুল বলেন, ‘শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাকে দলের সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এসব লোকের জন্য দলের ইমেজ নষ্ট হয়। দল হাস্যরসে পরিণত হয়।’

তবে এই একই ঘটনায় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু।

আরও পড়ুন:
কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
ডা. সাবিরা বাসায় একা, খুনি জানল কীভাবে
হত্যার পর পোড়ানোর চেষ্টা হয়েছিল চিকিৎসক সাবিরার মরদেহ
চিকিৎসক সাবিরা হত্যার শিকার: সিআইডি
তানিয়া হত্যা: প্রেমিক ফয়সালের জামিন স্থগিত

শেয়ার করুন

ছাত্রদল থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

ছাত্রদল থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন কমিটিতে পদ পাওয়া প্রতীক হাসানাত খান। ছবি: নিউজবাংলা

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারেফ হোসেন খান বলেন, ‘প্রতীক হাসানাত কীভাবে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন তা আমার জানা নেই। তবে তাকে আওয়ামী লীগবিরোধী লোক হিসেবে চিনি।’

পিরোজপুরের নাজিরপুরে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন কমিটিতে ছাত্রদল নেতাকে সাংগঠনিক সম্পাদক করার অভিযোগ উঠেছে।

পদ পাওয়া প্রতীক হাসানাত খান ছাত্রদলের সদ্য বিলুপ্ত উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির ১৯ নম্বর সদস্য ছিলেন বলে জানিয়েছেন ছাত্র সংগঠনটির নেতারা। তবে প্রতীক ছাত্রদল করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

তার দাবি, ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে একটি মহল তার বিরুদ্ধে এমন প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি কখনও ছাত্রদল করেননি।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতারা জানান, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক আজিজ স্বাক্ষরিত চিঠিতে শনিবার রাতে এ কমিটি দেয়া হয়।

কমিটিতে তুহিন হালদার তিমিরকে সভাপতি ও মো. আল-আমিন খানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয় জাকারিয়া হাওলাদার, রিজভী খান ও প্রতীক হাসানাত খানকে।

তিন নম্বর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে ছাত্রদল নেতা প্রতীক হাসানাতের নাম আসার পর আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলের নেতারাই করেছেন সমালোচনা।

ছাত্রদল থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

উপজেলা ছাত্রদলের একাধিক নেতা জানান, ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট উপজেলা ছাত্রদলের ১০১ সদস্যের যে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়, তার ১৯ নম্বর সদস্য ছিলেন প্রতীক হাসানাত।

উপজেলা ছাত্রদলের ওই কমিটির সদস্যসচিব হাফিজুর রহমান লায়েক জানান, প্রতীক হাসানাত ছাত্রদলের প্রাথমিক সদস্য ফরম পূরণ করে পদ পেয়েছিলেন। তবে তার ওই পদের জন্য জেলাকে সুপারিশ করতে সংগঠনের স্থানীয় একটি মহলের চাপ ছিল।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান খান বলেন, ‘একটি সুবিধাবাদী মহল সব সময়ই সুবিধা নিতে দল বদলায়। সরকারি দল করা সহজ, কিন্তু সরকারের বাইরে থেকে দল করতে সাহস লাগে।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারেফ হোসেন খান বলেন, ‘প্রতীক হাসানাত কীভাবে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন তা আমার জানা নেই। তবে তাকে আওয়ামী লীগবিরোধী লোক হিসেবে চিনি।’

নতুন ঘোষিত কমিটির সভাপতি তুহিন হালদার তিমির বলেন, ‘প্রতীক হাসানাতের নাম কীভাবে উপজেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে এসেছে তা আমার জানা নেই।’

প্রতীক হাসানাত ছাত্রদল করার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে এমন প্রচারণা চালাচ্ছে। আমি কখনও ছাত্রদল করিনি। ছাত্রদলের পদে ছিলাম তাও জানতাম না।’

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রতীক হাসানাত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসানাত খান পেয়ারার ছেলে এবং উপজেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি নজরুল ইসলাম খানের ভাইপো। তিনি ‘রিক’ নামে বেসরকারি একটি এনজিওর ঢাকার প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
ডা. সাবিরা বাসায় একা, খুনি জানল কীভাবে
হত্যার পর পোড়ানোর চেষ্টা হয়েছিল চিকিৎসক সাবিরার মরদেহ
চিকিৎসক সাবিরা হত্যার শিকার: সিআইডি
তানিয়া হত্যা: প্রেমিক ফয়সালের জামিন স্থগিত

শেয়ার করুন

ডেঙ্গুর প্রকোপ, খুলনা মেডিক্যালে হবে আলাদা ওয়ার্ড

ডেঙ্গুর প্রকোপ, খুলনা মেডিক্যালে হবে আলাদা ওয়ার্ড

খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে সোমবার বিকেলে জেলা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভা হয়। ছবি: সংগৃহীত

‘ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় প্লাটিলেট প্রদান কার্যক্রম নিশ্চিতে হাসপাতালে সেলফ সেপারেটর মেশিন প্রয়োজন। এর মাধ্যমে সুস্থ মানুষের রক্ত থেকে প্লাটিলেট আলাদা করে প্রয়োজনে ডেঙ্গু আক্রান্তদের শরীরে দেয়া যাবে।’

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ।

জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে সোমবার বিকেলে জেলা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভায় এ তথ্য জানান উপাধ্যক্ষ মেহেদী নেওয়াজ।

তিনি বলনে, ‘ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় প্লাটিলেট প্রদান কার্যক্রম নিশ্চিতে হাসপাতালে সেলফ সেপারেটর মেশিন প্রয়োজন। এর মাধ্যমে সুস্থ মানুষের রক্ত থেকে প্লাটিলেট আলাদা করে প্রয়োজনে ডেঙ্গু আক্রান্তদের শরীরে দেয়া যাবে।’

সভায় অনলাইনে যুক্ত হন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) মো.কামাল হোসেন।

তিনি বলেন, ‘চলমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি নিয়ন্ত্রণে এবং আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতে প্রস্তুতি গ্রহণ করা দরকার।’
সচিব আরও বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া প্রত্যন্ত এলাকায় ব্যাপক গণটিকাদান কর্মসূচিতে অন্যদের সাথে ৪৫ বছরের বেশি বয়সীদের করোনা টিকা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।’

সভায় জেলার সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদ জানান, খুলনা জেলায় ঈদুল আজহার আগের ১০ দিনের তুলনায় পরের ১০ দিনে করোনা শনাক্তের হার এবং করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা- দুটোই কমেছে।

জেলা প্রশাসক মনিরুজ্জামান তালুকদারের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. ইকবাল হোসেন।

তিনি বলেন, ‘করোনা রোগীদের জন্য খুলনার সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অক্সিজেন সেবাসহ ২০টি করে বেড প্রস্তুত আছে। করোনায় কর্মহীনদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণসামগ্রী বিতরণ চলমান রয়েছে। ৩৩৩ নম্বরে ফোন কলের মাধ্যমে খাদ্যসহায়তা প্রাপ্তির বিষয়েও প্রচারণা চালানো হচ্ছে।’

সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) তানভীর আহমদ, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পদক এমডিএ বাবুল রানা, খুলনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এস এম জাহিদ হোসেনসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
ডা. সাবিরা বাসায় একা, খুনি জানল কীভাবে
হত্যার পর পোড়ানোর চেষ্টা হয়েছিল চিকিৎসক সাবিরার মরদেহ
চিকিৎসক সাবিরা হত্যার শিকার: সিআইডি
তানিয়া হত্যা: প্রেমিক ফয়সালের জামিন স্থগিত

শেয়ার করুন