পুলিশি হেফাজত থেকে পালানো আসামি হাতকড়াসহ গ্রেপ্তার

পুলিশি হেফাজত থেকে পালানো আসামি হাতকড়াসহ গ্রেপ্তার

ওসি জানান, সোমবার দুপুরে নেত্রকোণায় আদালতে তুলতে আসামিকে নিয়ে থানা থেকে বের হয় তিন পুলিশ। সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাওয়ার সময় মদন বাজারে পৌঁছালে বৃষ্টি শুরু হয়। সে সময় সুযোগ বুঝে হাতকড়া লাগানো অবস্থাতেই দৌড়ে পালিয়ে যান পলাশ।

নেত্রকোণার মদনে পুলিশ হেফাজত থেকে হাতকড়া লাগানো অবস্থায় পালিয়ে যাওয়া আসামিকে কেন্দুয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পালিয়ে যাওয়ার ১০ ঘণ্টা পর কেন্দুয়ার সাউদপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আসামির নাম মো. পলাশ। তার বাড়ি কেন্দুয়ার কাউরাট গ্রামে।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম জানান, গত রোববার বিকেলে মদনের কাইটাইল ইউনিয়নের খাগুরিয়া থেকে চুরি হওয়া একটি গরুসহ পলাশকে আটক করেন স্থানীয় লোকজন। পরে তাকে মদন থানায় সোপর্দ করা হয়।

এ ঘটনায় থানায় মামলা হলে সোমবার দুপুরে নেত্রকোণায় আদালতে তুলতে তাকে নিয়ে থানা থেকে বের হয় তিন পুলিশ। সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাওয়ার সময় মদন বাজারে পৌঁছালে বৃষ্টি শুরু হয়। সে সময় সুযোগ বুঝে হাতকড়া লাগানো অবস্থাতেই দৌড়ে পালিয়ে যান পলাশ।

ওসি বলেন, গোপন তথ্যে সোমবার রাতে কেন্দুয়ার সাউদপাড়া এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনের পাশ থেকে হাতকড়াসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে তোলা হবে।

পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি কীভাবে পালিয়ে গেলেন, তা জানতে চাওয়া হয় জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আকবর আলী মুন্সীর কাছে।

এসপি বলেন, আদালতে নেয়ার সময় মদন বাজারে বৃষ্টির মধ্যে অটোরিকশায় আসামিকে রেখে এক পুলিশ সদস্য ফটোকপি করতে একটি দোকানে যান। অন্য দুইজন আসামির কাছেই ছিলেন। এ সময় পালিয়ে যান পলাশ।

এসপি আকবর বলেন, এ ঘটনায় পুলিশের অসতর্কতা দায়ী কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

আরও পড়ুন:
৩২ বছর পর ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার
হাতকড়া নিয়ে পালাল গরু চুরি মামলার আসামি
হত্যার দেড় বছর পর দুই আসামি গ্রেপ্তার
বাড়ির সামনে কুপিয়ে হত্যা, আসামি গ্রেপ্তার
বন কর্মকর্তাদের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নিখোঁজ ত্ব-হাকে ফলো করা দুই যুবক কে?

নিখোঁজ ত্ব-হাকে ফলো করা দুই যুবক কে?

পরিবারের দাবি, যদি অপরিচিত দুই ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করে থাকে, সেটা যদি তিনি বুঝতে পারেন, তাহলে কেন তিনি সেটা পুলিশকে জানালেন না? এই দুই ব্যক্তি কে? তারা কি তার অনুসারী নাকি তার বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নতা পোষণ করেন? দুই স্ত্রীর পরিবারের মধ্যে কি কোনো অমিল ছিল?

গত বৃহস্পতিবার ( ১০ জুন) সকালে আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান তার মাকে জানিয়েছিলেন, বেশ কদিন ধরে দুই অপরিচিত ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করছে। এ নিয়ে জীবন শঙ্কায় আছেন তিনি। তারা তার ক্ষতি করতে পারে। ঢাকায় গেলে তিনি নিরাপদে থাকবেন।

মঙ্গলবার নিউজবাংলার সঙ্গে কথা বলেন ত্ব-হার মা আজেদা বেগম। তিনি বলেন, ওইদিন বিকেল ৪টার দিকে ত্ব-হা তার তিন অনুসারীসহ ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। শুক্রবার সাভারের একটি মসজিদে বক্তৃতা শেষ করে কিছুদিন ঢাকায় থাকার কথা ছিল তার।

আজেদা বেগম বলেন, ‘ঢাকায় যাবার সময় হঠাৎ আমাকে বুকে জড়িয়ে খুব কান্না করছিল ত্ব-হা। নামাজে সেজদায় পড়ে তার নিরাপত্তা ও নিরাপদে ফিরে আসার জন্য দোয়াও করতে বলেছিল। এরপর ওই রাত থেকেই নিখোঁজ ত্ব-হা।

‘আমার ছেলের একটি মোবাইল ফোন ছিল। সেটি দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ। হঠাৎ শুক্রবার বিকালে সেই ফোন নম্বর থেকে কল আসে। আমার সঙ্গে মেহেদী হাসান পরিচয়ে এক ব্যক্তি কথা বলে। এরপর তারা একটি ইমো আইডি খুলতে বললে আমার মেয়ে সেই আইডি খোলে।’

আজেদা বেগম বলেন, শনিবার আবার সেই ফোন নম্বর থেকে তার কাছে কল আসে। যিনি ফোন করেছেন, তিনি বলেন, তার ছেলে ও তার তিন সঙ্গী ভালো আছে। আজেদা বেগম জানতে চান, ত্ব-হা কোথায় আছে। তিনি ছেলের সঙ্গে কথা বলতে চান।

‘তখন তারা টাকা দাবি করে,’ বলেন আজেদা বেগম। ‘যখন টাকা দাবি করছিল তখন আমরা ইমো আইডিটি বন্ধ করে দেই।’

‘আমার প্রশ্ন, আমার ছেলের বন্ধ নম্বর তারা পেল কী করে? আসলে তারা কারা?’

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান বৃহস্পতিবার রাত ২টা ৩৭ মিনিটে রাজধানীর গাবতলী থেকে সর্বশেষ যোগাযোগ করেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন নাহার সারার সঙ্গে।

গুগল ম্যাপে দেখা গেছে, ত্ব-হার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসা থেকে তার গাড়ির দূরত্ব ছিল ৬ দশমিক ৪ কিলোমিটার দূরে। সেখানে পৌঁছাতে সময় লাগতো ১৮ মিনিট। এর কিছুক্ষণ পর থেকেই তার ফোন বন্ধ, তিনি নিঁখোজ।

আদনানের দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন নাহার সারা মিরপুর আল ইদফান ইসলামী গার্লস মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক। তিন মাস আগে তাদের বিয়ে হয়েছিল।

সাবিকুন নাহার সারা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুরে আমার স্বামী আমাকেও জানিয়েছে যে, দুই মোটরসাইকেল আরোহী তাকে ফলো করছে। খুব চিন্তিত ছিলেন তিনি।’

প্রথম স্ত্রী আবিদা নুরকে নিয়ে তিনি রংপুরের শালবনের চেয়ারম্যানের গলিতে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

আরও পড়ুন:তিন সঙ্গীসহ ধর্মীয় বক্তা নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ

পুলিশ জানিয়েছে, আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনানের সঙ্গে নিখোঁজ অপর তিন ব্যক্তির নাম আব্দুল মুহিত, মোহাম্মদ ফিরোজ ও গাড়িচালক আমির। তারা সবাই তার অনুসারী। ওই রাত থেকে তাদের সবার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।

ত্ব-হার মা আজেদা বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাতে ছেলের নম্বর যখন বন্ধ পাই, তখন থেকেই দুশ্চিন্তা বাড়তে শুরু করে। তাকে দুইজন ফলো করছিল, সেই কথা মনে পড়ে। আমি ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়ি। এরপর যখন কোথাও তার খোঁজ মিলছে না, তখন আমি শুক্রবার রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ জিডি করি।’

তিনি বলেন, ‘আমার সংসারে একমাত্র আয়ের উৎস ত্ব-হা। তার বাবা নেই। সে-ই সংসার চালায়। একমাত্র বোনের পড়াশুনার খরচও সে-ই চালাত।

সে নগরীর সুরভী উদ্যানের বিপরীতে প্রজন্ম নামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। সেটির প্রধান সে। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কুরআন শিক্ষা দেয়া হতো ওই স্কুলে। করোনার কারণে স্কুলটি দেড় বছর ধরে বন্ধ। আমি একজন মা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ছেলের সন্ধান চাই।’

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ত্ব-হার খোঁজ পেতে এরই মধ্যে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) রাজিবুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের চার সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়েছে। তারা মাঠে কাজ করছেন। সীমান্তের থানা ও ব্যক্তিগত সোর্সে তার ছবি দেয়া হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে নজরদারিও।

যে সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ

পরিবারের দাবি, যদি অপরিচিত দুই ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করে থাকে, সেটা যদি তিনি বুঝতে পারেন, তাহলে কেন তিনি সেটা পুলিশকে জানালেন না? এই দুই ব্যক্তি কে? তারা কি তার অনুসারী নাকি তার বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নতা পোষণ করেন? দুই স্ত্রীর পরিবারের মধ্যে কি কোনো অমিল ছিল?

এমনকি তার দেয়া বক্তব্য (ফেসবুক ও ইউটিউব) বিশ্লেষণ করছে পুলিশ।

যেভাবে আলোচিত বক্তা হন ত্ব-হা

আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান রংপুর লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি, রংপুর সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। দর্শন বিষয়ে অনার্স মাস্টার্স পড়েন রংপুর কারমাইকেল কলেজে। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি আহলে হাদিস সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ইসলামী বই প্রচুর পড়তেন। নিজের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউবে ধর্মীয় আলোচনা করতেন। বিভিন্ন মসজিদে নামাজও পড়াতেন তিনি।

তার ধর্মীয় আলোচনার পক্ষে-বিপক্ষে আলাচনা এবং সমালোচনা দুটোই হতো।

নগরীতে মানববন্ধন

‘সচেতন রংপুর’, ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে রংপুর’সহ বিভিন্ন ব্যানারে মঙ্গলবার বিকেলে রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন হয়। অংশগ্রহণকারীরা আগামী ২৪ ঘণ্টায় মধ্যে আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের সন্ধান দাবি করেন। না হলে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেন তারা।

সেখানে বক্তব্য রাখেন ত্ব-হার বন্ধু রাজিব আহমেদ পিয়াল, ফয়সাল আহমেদ (নিখোঁজ চালকের ভাই), আরিফুল আবির, রাকিবুলসহ অনেকে।

যা বলছে পুলিশ

রংপুর মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আলতাব হোসেন জানান, ত্ব-হার নিখোঁজের বিষয়ে থানায় জিডি করা হয়েছে। তার মা থানায় জিডিটি করেন। জিডির বিষয়ে তদন্ত চলছে।

আরও পড়ুন:
৩২ বছর পর ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার
হাতকড়া নিয়ে পালাল গরু চুরি মামলার আসামি
হত্যার দেড় বছর পর দুই আসামি গ্রেপ্তার
বাড়ির সামনে কুপিয়ে হত্যা, আসামি গ্রেপ্তার
বন কর্মকর্তাদের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই

শেয়ার করুন

মেহেরপুরের তিন গ্রামে এ কেমন লকডাউন

মেহেরপুরের তিন গ্রামে এ কেমন লকডাউন

মেহেরপুরে লকডাউন করা গ্রামে করোনা রোগীও আড্ডা দিচ্ছে চায়ের দোকানে। ছবি: ‍নিউজবাংলা

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় মেহেরপুরের দুটি উপজেলার তিনটি গ্রামে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে এটি কার্যকর করার কথা থাকলেও কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। সুস্থ মানুষের সঙ্গে করোনা রোগীরাও ঘুরে বেড়াচ্ছেন যত্রতত্র।

করোনা আক্রান্ত, অথচ বাজারে যাচ্ছেন ওষুধ আনতে। আরেকজন চায়ের দোকানে দিচ্ছেন আড্ডা। ঘরে আবদ্ধ থাকার কথা থাকলেও বাড়ির পাশের মাচা বা গাছের নিচে বসে থাকছেন কেউ কেউ।

অনেকে আবার করোনা রোগীকে দেখতে আসছেন ফলমূল নিয়ে। এই হলো মেহেরপুরের তিন গ্রামে ‘কঠোর লকডাউন’-এর চিত্র।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ায় মুজিবনগর উপজেলার আনন্দবাস এবং গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া ও হিন্দা গ্রামে মঙ্গলবার থেকে লকডাউন ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। তবে তিন গ্রাম ঘুরে কোথাও ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জানানো হয়, উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামে ১৮ জন ও হিন্দা গ্রামে ২৩ জন করোনায় আক্রান্ত। গত ১২ জুন ওই এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্প করে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষায় ২৯ জনের মধ্যে ১৬ জনের দেহেই করোনা শনাক্ত হয়। তবে পরদিন থেকে কেউ আর নমুনা দেয়নি।

করোনা সংক্রমণের এমন অবস্থায় সোমবার দুপুরে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি ওই দুই গ্রামসহ মুজিবনগরের আনন্দবাসে লকডাউন ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপনের জারি করে।

বিকেলেই দুই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার পুলিশ নিয়ে লকডাউনের আওতায় থাকা এলাকাগুলোতে লাল পতাকা টাঙিয়ে দেয়। বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয় সড়ক যোগাযোগ।

তবে মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লকডাউন এলাকা ঘুরে দেখা যায়নি স্বাস্থ্যবিধি মানার লক্ষণ। অধিকাংশ মানুষের মুখেই ছিল না মাস্ক। শারীরিক দূরত্ব রক্ষাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাইও ছিল না। এমনকি করোনা পরীক্ষার নমুনা দেয়া লোকজনও ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন যত্রতত্র।

মেহেরপুরের তিন গ্রামে এ কেমন লকডাউন
যাতায়াতে মানা হচ্ছে না শারীরিক দূরত্ব

তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামে ইউপি সদস‍্য কটা আহমেদ নিউজবাংলাকে জানান, তার ওয়ার্ডে করোনা রোগীরাও ঘরে থাকছেন না। বাড়ির পাশে মাচায় বা চায়ের দোকানে বসে থাকছেন। কেউ কেউ গোখাদ্য সংগ্রহের জন্য ক্ষেত-খামারেও যাচ্ছেন। আবার তাদের আত্মীয়রাও অন্য রোগী দেখতে আসার মতো ফলমূল নিয়ে বাড়িতে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এ মুহূর্তে পরীক্ষা করলে গ্রামে শতকরা ৮০ জনের করোনা পজিটিভ হবে।’

তিনি জানান, তার গ্রামে ভারত ও বাংলাদেশের মানুষ একই সঙ্গে এক মাঠে মরিচ তোলার কাজ করছে। তার পাশের গ্রামেও অনেক মানুষ জ্বর, ঠাণ্ডা ও কাশিতে ভুগছে। তবে বাড়ি লকডাউনের ভয়ে কেউ করোনা পরীক্ষা করছে না।

হিন্দা গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, করোনা আক্রান্ত রিপন আলী বাড়িতে নেই। তিনি ওষুধ কিনতে গাংনী বাজারে গেছেন।

রিপনের বাবা ইউনুস আলীর অভিযোগ, স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন তাদের খোঁজখবর নেন না। বাধ্য হয়ে অন্য চিকিৎসক ও ফার্মেসিতে যেতে হচ্ছে।

ঠিকমতো স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় লোকজনও। ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারে মাস্ক ছাড়া অন্য সেবা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের। করোনা রোগীর চিকিৎসায় গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসোলেশন সেন্টার নেই বলেও দাবি করেছেন তারা।

তারা জানান, গত বছর দেশে করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরোনো ভবনে ১০ শয্যার একটি কক্ষ আইসোলেশন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে ভবনটি সংস্কার করার কারণে তিন মাস আগে কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এম কে রেজার দাবি, এলাকার লোকজন যে অভিযোগ করেছে, তা সঠিক নয়। হিন্দা ও তেঁতুলবাড়িয়া এলাকায় করোনা আক্রান্তদের স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য মোবাইল ফোন নম্বরও দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া হাসপাতালের অন্য ভবনে আইসোলেশন ওয়ার্ড চালুর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী খানম জানান, দুটি গ্রামে করোনা আক্রান্তদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। নিয়মিত পরিদর্শন করে খাদ্যসামগ্রী দেয়া হচ্ছে। আক্রান্তদের বাড়ি লকডাউন করে লাল পতাকাও টাঙানো হয়েছে। যারা বুঝতে না পেরে ঘরের বাইরে গেছেন, তাদের বিষয়টি বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

মেহেরপুরের সিভিল সার্জন নাসির উদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, জেলায় এখন করোনা রোগীর সংখ্যা ১৯৭ জন। তাদের মধ‍্যে সদর উপজেলায় ৫০, গাংনী উপজেলায় ৮৯ ও মুজিবনগর উপজেলায় ৫৮ জন রয়েছেন।

আরও পড়ুন:
৩২ বছর পর ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার
হাতকড়া নিয়ে পালাল গরু চুরি মামলার আসামি
হত্যার দেড় বছর পর দুই আসামি গ্রেপ্তার
বাড়ির সামনে কুপিয়ে হত্যা, আসামি গ্রেপ্তার
বন কর্মকর্তাদের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই

শেয়ার করুন

বিশেষ বিধিনিষেধে কুড়িগ্রাম শহর

বিশেষ বিধিনিষেধে কুড়িগ্রাম শহর

কুড়িগ্রাম শহরে যানচলাচল নিয়ন্ত্রণে সড়কে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, গত এক সপ্তাহে কুড়িগ্রাম পৌর এলাকায় ৪৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। করোনা নিয়ন্ত্রণে শহরের তিন ওয়ার্ডে বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে সামাজিক অনুষ্ঠানসহ সব ধরণের গণজমায়েত।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় কুড়িগ্রাম পৌর শহরের তিন ওয়ার্ডে এক সপ্তাহের জন্য বিধিনিষেধ আরোপ করেছে প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের এই বিধিনিষেধ আপাতত তিন ওয়ার্ডের ৩১টি পাড়ায় সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২১ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম সোমবার বিকেলে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পৌরসভার ২, ৩ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বিশেষ বিধিনিষেধ জারি করেন।

জেলা প্রশাসক জানান, গত এক সপ্তাহে কুড়িগ্রাম পৌর এলাকায় ৪৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। করোনা নিয়ন্ত্রণে শহরের তিন ওয়ার্ডে বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে সামাজিক অনুষ্ঠানসহ সব ধরণের গণজমায়েত।

তবে হাটবাজারে খাদ্য দ্রব্য পরিবহণে ব্যবহৃত যানবাহন রাত ১০টার পর থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত সুবিধাজনক সময়ে আনলোড করা যাবে।

ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, বিদ্যুৎ ও সরকারি কাজে নিযুক্ত গাড়ি, ওষুধের দোকান এ আদেশের আওতামুক্ত থাকবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী কুড়িগ্রাম পৌরসভায় সব ধরনের যানবাহন আসন সংখ্যার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করতে পারবে।

বিশেষবিধি নিষেধে এলাকাগুলোতে এরই মধ্যে যানচলাচল নিয়ন্ত্রণে মূল সড়কে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে।

পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা জানান, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি লক ডাউনের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেবে।

বিধিনিষেধে শহরের দাদামোড়, পৌরবাজার, হাসপাতালপাড়া ও জিয়াবাজারের মূল প্রবেশ পথ দিয়ে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে।

আরও পড়ুন:
৩২ বছর পর ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার
হাতকড়া নিয়ে পালাল গরু চুরি মামলার আসামি
হত্যার দেড় বছর পর দুই আসামি গ্রেপ্তার
বাড়ির সামনে কুপিয়ে হত্যা, আসামি গ্রেপ্তার
বন কর্মকর্তাদের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই

শেয়ার করুন

পাবিপ্রবির নোটিশে বারবার ‘টাইপিং মিসটেক’

পাবিপ্রবির নোটিশে বারবার ‘টাইপিং মিসটেক’

একজন শিক্ষার্থী লিখেছেন, ‘আর কবে এসব বিষয়ে সচেতন হবে? মানুষ ভুল থেকে শিক্ষা নেয়। আগেরদিনই এএম, পিএম নিয়ে কত বড় নিউজ হয়ে গেল অথচ আবার ভুল। এখন মনে হয় এরা বার বার ভুল করেই মিডিয়ায় আসতে চায়। এগুলো দেখলে এখন সত্যিই খুব খারাপ লাগে।’

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গভীর রাতে পরীক্ষা নেয়ার নোটিশের পর এক বছর আগের তারিখে ফরম পূরণের নোটিশ দেয়ায় আবারও শুরু হয়েছে সমালোচনা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও স্কলারশিপ শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার সুজা উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে রোববার জানানো হয়েছে, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের স্পেশাল পরীক্ষা ২০১৮-এর ফরম পূরণের তারিখ ১৪-০৬-২০২১ থেকে ২৮-০৬-২০২০।

সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য নিজ বিভাগ থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করে যথাযথভাবে পূরণ করে হল ক্লিয়ারেন্স নিয়ে জমা দেবেন।

পর পর এ ধরনের ভুল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রুপে শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের মন্তব্য করেছেন।

একজন শিক্ষার্থী লিখেছেন, ‘আর কবে এসব বিষয়ে সচেতন হবে? মানুষ ভুল থেকে শিক্ষা নেয়। আগেরদিনই এএম, পিএম নিয়ে কত বড় নিউজ হয়ে গেল অথচ আবার ভুল। এখন মনে হয় এরা বার বার ভুল করেই মিডিয়ায় আসতে চায়। এগুলো দেখলে এখন সত্যিই খুব খারাপ লাগে।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘প্রচুর ট্রলের শিকার হচ্ছি ভাই। বিভিন্ন ভার্সিটির বন্ধুরা মেনশন দিয়ে ট্রল করছে।’

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘২০২০ সাল তো করোনায় চলে গেছে। কীভাবে আমরা ফিরে পাব ওই তারিখ।’

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সহকারী রেজিস্ট্রার সুজা উদ্দিনকে কয়েকবার কল দেয়া হলেও তিনি ধরেননি।

তবে রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, এটি টাইপিংয়ের ভুল। তবে প্রায়ই এ ধরনের ভুল হচ্ছে যা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কেউ কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় এমন ঘটনা বার বার ঘটছে।

গত ৯ জুন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর রাত ৩টা ২০ মিনিটে ক্লাস নেয়া নিয়ে শুরু হয় সমালোচনা। এর মাঝেই গত শনিবার পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নোটিশে বলা হয় ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রতিটি পরীক্ষা হবে 10:30pm -1:30pm এ।

পরীক্ষার নোটিশে এ ধরনের বড় ভুল নিয়ে শুরু হয় সমালোচনা। ঠিক তার পরদিনই আবারও ভুল।

আরও পড়ুন:
৩২ বছর পর ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার
হাতকড়া নিয়ে পালাল গরু চুরি মামলার আসামি
হত্যার দেড় বছর পর দুই আসামি গ্রেপ্তার
বাড়ির সামনে কুপিয়ে হত্যা, আসামি গ্রেপ্তার
বন কর্মকর্তাদের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই

শেয়ার করুন

ইউটিউব দেখে ফয়েজের ড্রাগন ফল চাষ

ইউটিউব দেখে ফয়েজের ড্রাগন ফল চাষ

‘দুই বিঘা জমিতে দুই হাজার গাছ লাগিয়েছেন। খরচ হয়েছে সাড়ে ছয় লাখ। এই গাছগুলো ৩০ বছর পর্যন্ত ফল দেবে। সব কিছু ঠিক থাকলে দুই বছরের মধ্যে উঠে আসবে পুঁজি।’

চাকরি ভালো লাগে না। চেয়েছেন উদ্যোক্তা হতে। ইউটিউব দেখে শুরু করেন চাষাবাদ। নিজের জমিতে ড্রাগন ফলের গাছ লাগান। বছর ঘুরতেই ফল এসেছে বাগানে। সপ্তাহ খানেক পরে পরিপক্ক ফল যাবে বাজারে।

এই গল্প কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলার ছেপাড়া গ্রামের তরুণ আবুল ফয়েজ মুন্সীর।

২০১৬ সালে ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পাস করেন। চাকরি না করে মনোযোগী হন কৃষিকাজে।

ফয়েজ মুন্সি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্নাতকোত্তর শেষে নিজে কিছু করার চেষ্টা করেছি। চাকরি ভালো লাগে না। তাই বাবার জমিতে শুরু করি ফল চাষ। আমার বাগানে ড্রাগন, কলা, কুল ও ত্বিন ফল গাছ রয়েছে।’

তিনি জানান, ইউটিউব দেখে তিনি ড্রাগন চাষে উদ্বুদ্ধ হন। দুই বিঘা জমিতে দুই হাজার গাছ লাগিয়েছেন। খরচ হয়েছে সাড়ে ছয় লাখ। এই গাছগুলো ৩০ বছর পর্যন্ত ফল দেবে। সব কিছু ঠিক থাকলে দুই বছরের মধ্যে উঠে আসবে পুঁজি ।

ফয়েজ মুন্সী এখন বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তার বাগান দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছে মানুষ। তিনি প্রাথমিকভাবে কিছু ফল বিক্রিও করেছেন।

ইউটিউব দেখে ফয়েজের ড্রাগন ফল চাষ


কৃষি অফিসসূত্রে জানা যায়, জেলায় ড্রাগন চাষে অনেকেই উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। অনেকটা ক্যাকটাসের মতো এই গাছ। চাষিরা সিমেন্টের পিলার ও রড-টায়ার দিয়ে মাঁচা করেন। কারণ একবার গাছ বড় হলে টানা ৩০ বছর ফল দেয়। ড্রাগন গাছটিকে সোজা রাখতেই এত শক্ত করে মাঁচা করতে হয়।

দেবিদ্বার উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান বলেন, ‘ওয়াহেদপুর, মোহাম্মদপুর, ইউসুফপুর মধ্যপাড়া, সাইতলা, ছেপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামে ড্রাগনের চাষ হচ্ছে। আমরা চাষিদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘ড্রাগন অনেক পুষ্টিকর ফল। কুমিল্লার মাটি এই ফল চাষের উপযোগী। বিশেষ করে যেখানে পানি জমে না সেখানে ড্রাগন চাষ করা যায়। দেবিদ্বার ছাড়া বড় পরিসরে চান্দিনা, বরুড়া, লালমাই ও সদর দক্ষিণে ড্রাগন চাষ হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
৩২ বছর পর ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার
হাতকড়া নিয়ে পালাল গরু চুরি মামলার আসামি
হত্যার দেড় বছর পর দুই আসামি গ্রেপ্তার
বাড়ির সামনে কুপিয়ে হত্যা, আসামি গ্রেপ্তার
বন কর্মকর্তাদের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই

শেয়ার করুন

মুক্তিপণ পেয়ে ব্যবসায়ীকে ফেলে গেল অপহরণকারীরা

মুক্তিপণ পেয়ে ব্যবসায়ীকে ফেলে গেল অপহরণকারীরা

শাহাদাতের স্ত্রী ফাতেমা ইয়াসমিন বলেন, ‘গাড়িতে তুলে শাহাদাতের চোখমুখ বেঁধে ফেলে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হয়। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে একদল লোক একজন ব্যবসায়ীকে বাসা থেকে তুলে নেন। পরে মুক্তিপণের বিনিময়ে আহত অবস্থায় তাকে ছেড়ে দেন।

বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের সিংগা গ্রামে সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটেছে।

গৌরনদী থানায় মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ করেছেন অপহৃত ব্যবসায়ীর স্ত্রী ফাতেমা ইয়াসমিন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সিংগা গ্রামের চন্দ্রহার বাজারের মুদি ব্যবসায়ী শাহাদাত হোসেন সোমবার রাতে বাসায় ঘুমাচ্ছিলেন। রাত দেড়টার দিকে দরজায় কড়া নাড়ে কিছু লোক। এক পর্যায়ে শুরু করে ধাক্কাধাক্কি। তারা নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয় দিয়ে দরজা খুলতে বলেন।

ডিবি পরিচয় পাওয়ার পর দরজা খুলে দিলে পাঁচজন ঘরের মধ্যে ঢুকে শাহাদাত হোসেনকে মারধর করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা শাহাদাতকে হাতকড়া পরিয়ে একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারে তুলে নিয়ে যায়। রাত সোয়া ২টার দিকে শাহাদাতের স্ত্রী চন্দ্রহার বাজারে গিয়ে বাজারের দোকানদারদের ঘুম ভাঙিয়ে ঘটনা জানান।

পরে রাত আনুমানিক পৌনে তিনটার দিকে একটি নম্বর থেকে শাহাদাত হোসেনের বাসায় ফেলে রাখা মোবাইল নম্বরে একটি কল আসে। দাবি করা হয় পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ। বলা হয় রাতের মধ্যে টাকা নিয়ে চন্দ্রহার বাজারের সেতুর কাছে থাকতে। টাকা না দিলে শাহাদাতকে হত্যা করা হবে।

অপহরণকারীদের তখন শাহাদাতের স্ত্রী বলেন, এত টাকা বাসায় নেই। বাসায় যত টাকা আছে তা নিয়েই সেতুর কাছে অপেক্ষা করবেন। তখন ফোনটি কেটে দেয় অপহরণকারীরা।

এই অবস্থায় শাহাদাতের স্ত্রী ও তার ভাই ঘরে থাকা ২৫ হাজার টাকাসহ একটি সোনার চেইন নিয়ে সেতুর কাছে অপেক্ষা করেন। ভোর ছয়টার দিকে গাড়িটি ওই স্থানে আসে। টাকা ও সোনার চেইন নিয়ে গাড়ি থেকে রাস্তায় ফেলে দেয়া হয় শাহাদাতকে। এ সময় বাজারের অনেক লোক উপস্থিত ছিলেন।

শাহাদাতের স্ত্রী ফাতেমা ইয়াসমিন বলেন, ‘গাড়িতে তুলে শাহাদাতের চোখমুখ বেঁধে ফেলে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হয়। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।’

এ ঘটনায় থানার গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন জানান, অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আমরা নিশ্চিত হয়েছি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীর পরিচয়ে ওই যুবককে তুলে নিয়েছে যারা তারা কেউ ওই বাহিনীর না।

আরও পড়ুন:
৩২ বছর পর ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার
হাতকড়া নিয়ে পালাল গরু চুরি মামলার আসামি
হত্যার দেড় বছর পর দুই আসামি গ্রেপ্তার
বাড়ির সামনে কুপিয়ে হত্যা, আসামি গ্রেপ্তার
বন কর্মকর্তাদের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই

শেয়ার করুন

দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরলেন আরও ১৩ জন

দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরলেন আরও ১৩ জন

এসআই আব্দুল আলিম জানান, ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে এনওসি নিয়ে ১৩জন দর্শনা চেকপোস্টে প্রবেশ করেন। সেখানে তাদের অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করার পর ১২জনকে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ও একজনকে ঝিনাইদহে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়।

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরেছেন ভারতে আটকে পড়া আরও ১৩ জন বাংলাদেশি নারী-পুরুষ। সেখানে তাদের র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করে স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে তাদের মধ্যে কেউ করোনা শনাক্ত হননি।

এ নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গত ২৯ দিনে ওই চেকপোস্ট দিয়ে মোট ৮৫১ জন দেশে ফিরলেন।

দর্শনা জয়নগর চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আলিম জানান, ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে এনওসি নিয়ে ১৩জন দর্শনা চেকপোস্টে প্রবেশ করেন।

সেখানে তাদের অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করার পর ১২জনকে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ও একজনকে ঝিনাইদহে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়।

করোনা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত উপকমিটির আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনিরা পারভীন জানান, ভারতফেরত ব্যক্তিদের জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত কোয়ারেন্টিন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।

সেখানে তারা ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকবেন।

আরও পড়ুন:
৩২ বছর পর ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার
হাতকড়া নিয়ে পালাল গরু চুরি মামলার আসামি
হত্যার দেড় বছর পর দুই আসামি গ্রেপ্তার
বাড়ির সামনে কুপিয়ে হত্যা, আসামি গ্রেপ্তার
বন কর্মকর্তাদের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই

শেয়ার করুন