গৃহকর্মী নির্যাতন, স্বামী-স্ত্রী রিমান্ডে

গৃহকর্মী নির্যাতন, স্বামী-স্ত্রী রিমান্ডে

বৃহস্পতিবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর কল পেয়ে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় দুর্গম এলাকা থেকে নিলুফারকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চট্টগ্রামের হামজারবাগে গৃহকর্মী নিলুফার বেগমকে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেপ্তার গৃহকর্তা মোহাম্মদ সেলিম ও তার স্ত্রী জেসমিন আক্তারকে তিন দিন করে রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে সোমবার দুপুরে দুই আসামিকে তুলে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করে পুলিশ। বিচারক হোসাইন মোহাম্মদ রেজা আসামিদের তিন দিন করে রিমান্ডে পাঠান।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির ‍নিউজবাংলাকে বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মা কোহিনূর আকতার রোববার রাতে নগরের পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেছেন। সেই মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলা হয়।

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর কল পেয়ে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় দুর্গম এলাকা থেকে নিলুফারকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নিলুফার বয়স মাত্র ১৫ বছর। তিন মাস ধরে তিনি গৃহপরিচারিকার কাজ করছিল চট্টগ্রাম নগরের হামজারবাগের মোমিনবাগ আবাসিক এলাকায়।

রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আনোয়ার হোসেন শামীম সোমবার সন্ধ্যায় নিউজবাংলাকে বলেন, রাঙ্গুনিয়া থানার সহায়তায় ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে পাঠানো হয় চট্টগ্রামের হাসপাতালে।

একটু সুস্থ হয়ে উঠলে মেয়েটি পুলিশকে জানায় তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের কাহিনি। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় গৃহকর্তা মোহাম্মদ সেলিম ও তার স্ত্রী জেসমিন আক্তারকে।

নিলুফার বরাতে এএসপি আনোয়ার বলেন, ‘নিলুফার গত তিন মাস ধরে ওই বাসায় কাজ করছিল। কাজ শুরুর পরদিন থেকে তাকে নির্যাতন শুরু করে গৃহকর্তা সেলিম ও তার স্ত্রী জেসমিন। তাকে খাবার খেতে দিত না। কিছু হলেই চামচ গরম করে গায়ে ছ্যাঁকা দিত।

‘কথায় কথায় গায়ে ঢেলে দিত গরম পানি। তারা খাওয়া-দাওয়া করার সময় নিলুফাকে টয়লেটে বন্দি করে রাখত। এই তিন মাসে তাকে এক টাকাও বেতন দেয়নি।’

নিলুফাকে উদ্ধার বিবরণ দিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন ওই এএসপি। নিচে স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরে হলো-

৯৯৯ এর একটি কল এবং ‘মৃত’ গৃহকর্মী নিলুফা বেগমের বেঁচে ফেরার ইতিহাস

যাত্রী ছাউনির বেঞ্চির ওপর নিসাড় অবস্থায় পড়েছিল অল্প বয়সী মেয়েটি। পায়ের পাতা থেকে মাথার তালু পর্যন্ত এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে আঘাতের চিহ্ন পড়েনি। আক্ষরিক অর্থেই পুরো শরীর ক্ষতবিক্ষত। এমন অজ্ঞাতপরিচয় মুমূর্ষু এক কিশোরীকে পুলিশের গাড়িতে তুলে হাসপাতালে নেয়াটাও বিশাল ঝুঁকির কাজ। বাইচান্স যদি গাড়িতে মরে যায়, তখন লোকে বলবে পুলিশই হয়তো তাকে নির্যাতন করে...। কিন্তু পরিস্থিতির দাবি অনেক সময় পরিণতির ডর-ভয়কেও ভুলিয়ে দেয়। এমনিতেই তো পুলিশের এক পা রেলে, আর এক পা জেলে। যা হবার হবে।

পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি সীমান্তবর্তী চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান এলাকা থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করে দ্রুত রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি আমরা।

২৭ মে (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১টায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর একটি কলে মেয়েটির ব্যাপারে জানতে পেরে দ্রুত তাকে উদ্ধারে গিয়েছিলাম আমরা। অজ্ঞাত কলার মেয়েটিকে ‘অজ্ঞান’ এবং ‘ক্ষতবিক্ষত’ হিসেবে আমাদের কাছে উল্লেখ করেছিলেন বটে, কিন্তু তার অবস্থা যে এতটাই সঙ্গিন, তা ছিল আমাদের কল্পনারও বাইরে।

মেয়েটি কথাও বলতে পারে না। টেনেটুনে অস্পষ্টভাবে যা বলে, তা থেকে শুধু বোঝা গেল, তার নাম নিলুফা, বয়স ১৫, বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ। ভিকটিমের অবস্থা খারাপ দেখে প্রাথমিক পরিচর্যা ও চিকিৎসা শেষে সেখানকার দায়িত্বরত ডাক্তার তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

যা হোক, পরামর্শ তো পাওয়া গেল। কিন্তু কে নেবে চট্টগ্রাম মেডিক্যালে। দূরবর্তী এই এলাকা থেকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্স ভাড়াও অনেক টাকা। সেই ভাড়াই বা বহন করবে কে! আমরা প্রচণ্ড ঝুঁকি নিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত নিয়ে এসেছি। এখন বুঝি নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করে তার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যালগামী অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করব! এদিকে অবনতিশীল পরিস্থিতিতে থাকা হতভাগা কিশোরীটি তখন ‘প্রায়’ অচেতন থেকে ‘পুরোপুরি’ অচেতন। হয়তো ‘স্থায়ী’ অচেতন হবার পথেই এগুচ্ছে ধীরে ধীরে। ব্যক্তিগতভাবে কয়েকটি সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা চেয়ে যোগাযোগ করে হতাশই হতে হলো। যা করার করতে হবে দ্রুত। উপায়ান্তর না দেখে আমরা অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেই ফেললাম। রোগীর সাথে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল অভিমুখী যাত্রায় আমি, ওসি রাঙ্গুনিয়া, পরিদর্শক (তদন্ত)সহ আমাদের সহকর্মী আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য।

প্রথমেই জরুরি বিভাগে টিকিট কাটাসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সেরে সার্জারি ইউনিটের ২৭ নম্বর ওয়ার্ড। ডাক্তারেরা মুমূর্ষু রোগীর চিকিৎসা শুরুর আগে জানতে চাইলেন, রোগীর অভিভাবক কে? এই প্রশ্নের উত্তর তো আসলে আমাদের কারও কাছেই নেই।

রাস্তার পাশ থেকে মৃতপ্রায় এক কিশোরীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে এনেছি মাত্র। অভিভাবকের নাম ঠিকানা তো কিছুই জানি না। মেয়েটির ওপর এমন অবর্ণনীয় নির্যাতন কে বা কারা করেছে, তাও অজানা। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী কাউকে না কাউকে দায়িত্ব তো নিতে হবে। এদিকে দেরি করার মতো পরিস্থিতিও নেই। অগত্যা আমি বলে দিলাম ‘আমিই এই রোগীর অভিভাবক’। এখন চিন্তা করি, পরবর্তীতে যদি রোগীটা মারা যেত বা খারাপ কিছু ঘটে যেত, তাহলে এই অজানা-অচেনা কিশোরীর লাশ নিয়ে আমি করতামটা কী। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কী বলতাম, আর মিডিয়াকেই বা দিতাম কোন জবাব। যা হোক, উপরওয়ালা সহায় ছিলেন, এ যাত্রায় খারাপ কিছু ঘটেনি।

চিকিৎসার শুরুতেই দায়িত্বরত ডাক্তার জানালেন, রোগী বিপজ্জনকভাবে রক্তশূন্য। অতি জরুরি ভিত্তিতে দুই ব্যাগ রক্ত লাগবে। এখন ডোনার ডেকে রক্ত নিতে গেলে তো কয়েক ঘণ্টা সময় লাগবে। হাতে সেই সময়ও নেই। বাধ্য হয়ে হাসপাতাল থেকেই দুই ব্যাগ রক্ত কিনে রোগীকে দেয়ার ব্যবস্থা করলাম। কিনে আনা হলো প্রয়োজনীয় অন্যান্য আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রও। মেয়েটিকে নিয়ে আমাদের কার কত টাকা খরচ হচ্ছে- না হচ্ছে, তখন এসব বিষয় আমাদের চিন্তাতেও নেই। সবার একটাই ভাবনা, অচেনা কিশোরীটিকে বাঁচিয়ে তুলতে হবে। ফেরত দিতে হবে তার বাবা-মায়ের কাছে। জানতে হবে, কোন মানুষ নামের পশু পুতুল খেলার বয়সী এই নিষ্পাপ মেয়েটির ওপর এমন জঘন্য অত্যাচারের স্টিমরোলার চালিয়েছে।

চিকিৎসা ও পরিচর্যার একপর্যায়ে নিলুফা ক্ষীণস্বরে আমাদের কথার জবাব দিতে শুরু করে। খুব যে স্বতঃস্ফূর্ত জবাব, তাও নয়। এই ধরুন দশবার জিজ্ঞেস করলে হয়তো একবার উত্তর মেলে, এ রকম একটা অবস্থা। এভাবে বহু কসরত করে যৎসামান্য যা জানা গেল- মাস দুয়েক ধরে সে গৃহকর্মী হিসেবে চট্টগ্রাম নগরের মুরাদপুর এলাকার প্রবাসী সেলিম ও সুমী দম্পতির বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছে। এ ছাড়াও সে জানায় মূলত গৃহকর্ত্রী সুমীই দিনের পর দিন নির্যাতন করে করে তার এই হাল করেছে। তুচ্ছ কারণে তাকে চামচ গরম করে ছ্যাঁকা দেয়া হতো, কারেন্টের তার ও কাঠের চিকন গুঁড়ি দিয়ে পেটানো হতো। থাপ্পড়, লাথি-ঘুষি, দেয়ালের সাথে মাথা ঠুকে দেয়াও ছিল নিত্যকার রুটিন। মেয়েটি আরও জানায় যে, সেদিন সকালে বেদম মারপিটে সে অজ্ঞান হয়ে গেলে মৃত ভেবে গৃহকর্ত্রী সুমী বাসার দারোয়ানের সহায়তায় তাকে ওই যাত্রী ছাউনিতে ফেলে রেখে চলে যায়।

আমাদের অনুরোধে চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহেব থানা এলাকার প্রতিটি ইউনিয়নের বিট পুলিশ কর্মকর্তাদের সাহায্যে অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিলুফার পরিবারের সদস্যদেরকে খুঁজে বের করে ফেলেন। পরিবারের সদস্য বলতে তার মা এবং মামা।

বাবা হাবিবুর রহমান ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে মারা গেছেন আজ থেকে ১৫ বছর আগেই। নিলুফার অবস্থান তখনও মায়ের পেটেই। বিস্তারিত জেনে শোকার্ত মা-মামা, সাথে মায়ের দ্বিতীয় স্বামী হাসপাতালে নিলুফার কাছে ছুটে এসেছেন, এ পর্যন্তই। তাদের আর্থিক অবস্থা বেশ খারাপ। তিন বেলা খাবারই ঠিকমতো জোটে না, সেখানে নিলুফার চিকিৎসা চালিয়ে নেয়া তো তাদের কল্পনারও অতীত। মেয়ের উপযুক্ত চিকিৎসা করাতে পারবেন না ধরে নিয়ে কান্নাকাটি শুরু করে দিলেন মা কোহিনূর বেগম।

এই লেখার কয়েক স্থানে নিলুফাকে আমি ‘হতভাগা কিশোরী’ বলে উল্লেখ করলেও এ পর্যায়ে তাকে আমি ভাগ্যবতীই বলব। এবার তার পাশে দাঁড়িয়ে গেলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক, পিপিএম স্যার। তিনি নিলুফার মাকে চিন্তা করতে বারণ করে জানালেন, নিলুফার চিকিৎসাসহ খাওয়া-দাওয়া এবং অন্যান্য সব খরচ তিনিই বহন করবেন। শুধু জানিয়েই ক্ষান্তি দেয়া নয়, তাৎক্ষণিক বাহক মারফত নগদ ৫ হাজার টাকা পৌঁছে দিলেন নিলুফার মায়ের হাতে।

কী, ভাবছেন ঘুষের টাকা। ইচ্ছেমতো ছেটাতেই পারে? আপনার পরিচিত কোনো পুলিশ অফিসার থাকলে তার কাছ থেকে জেনে নিবেন, এসএম রশিদুল হক সেসব পুলিশ কর্মকর্তাদেরই দলভুক্ত, যারা পুরো চাকরি জীবন এক পয়সাও ঘুষ বা অবৈধ উপার্জন ছাড়াই পার করে দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে অন্যদিন আলোচনা করা যাবে। বলতে দ্বিধা নেই, এই উদ্ধারপ্রক্রিয়ার শুরু থেকে চিকিৎসা এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ পর্যন্ত প্রতি পর্যায়ে, প্রতিমুহূর্তে স্যার আমাদেরকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, করণীয় স্থির করে দিয়েছেন। এক কথায় নিলুফা নামের এক ছোট প্রাণকে পুনর্জীবন উপহার দেয়ার পেছনে মূল অনুঘটকের ভূমিকাও স্যারেরই।

প্রায় অচেতন এক কিশোরীকে বিশাল হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, ডক্টরস রুম, সার্জারি ইউনিটের ২৭ নম্বর ওয়ার্ড, ২৮ নম্বর ওয়ার্ডগুলোতে টানাহেঁচড়াসহ রক্ত সংগ্রহ, ওষুধপত্রাদি ক্রয়সহ আনুষঙ্গিক কাজে আমার সাথে দিনভর ছোটাছুটি করেছেন এসআই রবিউল, নারী কনস্টেবল পূজা এবং নাইমুনসহ সিএমপির নাম না জানা অনেক পুলিশ সদস্য। ভূমিকা রেখেছেন রাঙ্গুনিয়ার ওসি মাহবুব মিল্কি, পরিদর্শক (তদন্ত) নুরুল। এসেছিলেন পাঁচলাইশ থানার ওসি জাহিদুল কবিরও। তাদের প্রত্যেকের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

৫ দিন পূর্বে যে মেয়েটিকে আশঙ্কাজনক ও প্রায় অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলাম, সবার দোয়ায় আজ সে উঠে বসার মতো, ধরাধরি করে দাঁড়ানোর মতো, কথা বলার মতো সুস্থ। শুধু তাই নয়, এই ৫ দিনে চিকিৎসা প্রক্রিয়া দেখভাল করতে গিয়ে নিলুর (তার এই ‘নিলু’ নামটা আমিই তাকে মনে মনে দিয়েছি; প্রকৃত নাম যে নিলুফা, তা তো জানেনই) সাথে আমাদের একটা সুসম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়। আর সেই সূত্রেই আমরা তার কাছ থেকে নির্যাতনকারীদের বিস্তারিত নাম, ঠিকানা, অবস্থান, ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সবকিছু বের করে নিতে পারি। আপনারা জেনে খুশি হবেন- এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বিকেলে রাঙ্গুনিয়া থানা এবং পাঁচলাইশ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিলুর শনাক্তমতে নির্যাতনকারী দম্পতি চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগের মোমিনবাগ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ সেলিম, তার স্ত্রী জেসমিন ওরফে সুমী এবং বাড়ির দারোয়ান আকবর আলীকে হেফাজতে গ্রহণ করে। নিলু পুলিশের সঙ্গে সশরীরে উপস্থিত হয়ে নির্যাতনকারীদেরকে দেখিয়ে দেয় এবং নির্যাতনের রোমহষর্ক বর্ণনা দেয়। পরবর্তীতে রাতে নিলুর মা কোহিনূর বেগম বাদী হয়ে উল্লিখিত ব্যক্তিদেরকে আসামি করে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা করেন।

ছোট্ট নিলুর ওপর আঁতকে ওঠার মতো ভয়ংকর পদ্ধতিতে দিনের পর দিন যেসব নির্যাতন চলেছে, তার উপযুক্ত বিচার ইনশাআল্লাহ এবার সে পাবে। এ কথা এখন তো বলাই যায়, কী বলেন সবাই! অতি অল্প বেতনে ঘরের সকল কাজের দায়িত্বভার কাঁধে তুলে নেয়া আমাদের এই অতি আপনজনদের ওপর সকল ধরনের নিষ্ঠুরতা- নির্মমতা চিরতরে বন্ধ হোক।

আরও পড়ুন:
ভাতিজার মাথায় ফুটন্ত ভাত: চাচা গ্রেপ্তার
মেয়েকে ‘যৌন নির্যাতন করায়’ স্বামীর যৌনাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী
দুই শিশুকে যৌন নির্যাতন, তিন লাখ টাকায় মীমাংসার অভিযোগ
উদ্ধার সেই শিশু গৃহকর্মী
মেয়েটির সারা শরীরে নির্যাতনের ক্ষত

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ফকিরগঞ্জ বাজারে জল-কাদায় ভোগান্তি

ফকিরগঞ্জ বাজারে জল-কাদায় ভোগান্তি

পঞ্চগড়ের ফকিরগঞ্জ বাজারে কাদাপানির কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহান ব্যবসায়ীসহ বাসিন্দারা। ছবি: নিউজবাংলা

‘ছোট থেকে বড় হলাম কোনো দিন চোখে পড়ল না, এখানকার কোনো উন্নয়ন। জীবনে কোনো দিন হবে কি না সন্দেহ আছে।’

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে প্রসিদ্ধ ফকিরগঞ্জ বাজারে। চাকরি, ব্যবসাসহ নানা প্রয়োজনে প্রতি দিনই এ বাজারে আসেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শত শত মানুষ।

বর্ষায় উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এ বাজারে এসে ভোগান্তি পড়েন তারা। কারণ বর্ষা এলেই বাজারের চারপাশে জমে থাকে বর্ষার পানি। প্রতি বছর প্রায় তিন মাস ধরে থাকে এ অবস্থা।

থকথকে কাদাপানিতে যেমন হাঁটার উপায় থাকে না আবার ছোট যান চলাচলেও ঘটে বিঘ্ন। প্রায় এক যুগ ধরে এভাবেই ভোগান্তি পোহাচ্ছে উপজেলাবাসী।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিরা প্রতি বছরই পানি নিষ্কাশন ও বাজার পরিষ্কার করার আশ্বাস দিলেও কোনো কাজই করা হয়নি।

বাজারের ব্যবসায়ী আশরাফুল আলম বলেন, ‘ছোট থেকে বড় হলাম কোনো দিন চোখে পড়ল না, এখানকার কোনো উন্নয়ন। জীবনে কোনো দিন হবে কি না সন্দেহ আছে।’

ফকিরগঞ্জ বাজারে জল-কাদায় ভোগান্তি

আটোয়ারী বাসস্ট্যান্ডে মনোহারির দোকানদার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ভোটের আগে রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রতিশ্রুতি ছিল ফকিরগঞ্জ বাজারের উন্নয়ন করা হবে। কিন্তু নির্বাচিত হয়ে নেতারা তাদের নিয়েই ব্যস্ত। কে রাখে কার খবর।’

উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম অবশ্য দাবি করেছেন, বাজারের পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্ষার শেষে এর কার্যক্রম শুরু হবে।

জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ উপলব্ধি করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জলবদ্ধতা নিরসনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে দাবি করে ইউএনও আবু তাহের মোহাম্মদ সামসুজ্জামান জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থা হলে জনগণ উপকৃত হবে। তাদের আর চলাচলে ভোগান্তিতে পড়তে হবে না।

আরও পড়ুন:
ভাতিজার মাথায় ফুটন্ত ভাত: চাচা গ্রেপ্তার
মেয়েকে ‘যৌন নির্যাতন করায়’ স্বামীর যৌনাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী
দুই শিশুকে যৌন নির্যাতন, তিন লাখ টাকায় মীমাংসার অভিযোগ
উদ্ধার সেই শিশু গৃহকর্মী
মেয়েটির সারা শরীরে নির্যাতনের ক্ষত

শেয়ার করুন

কোরবানির পর্যাপ্ত পশু নেই খুলনায়

কোরবানির পর্যাপ্ত পশু নেই খুলনায়

খুলনা সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শামসুজ্জামান মিয়া স্বপন বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ উৎপাদিত পশু দিয়ে কোরবানির চাহিদা মেটানো দায় হয়ে পড়ছে। এ কারণেই এই লকডাউন ও করোনা পরিস্থিতির মধ্যে অন্য জেলা থেকে পশু আনতে হবে। এতে করে পশুর দামও বেড়ে যেতে পারে।’

করোনাভাইরাসের তীব্র সংক্রমণের মধ্যেও টানা দ্বিতীয়বারের মতো দেশে পালিত হবে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। এই ঈদে খুলনায় ৫ হাজার ২১২টি খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ৪৭ হাজার ৭৮৯টি পশু। কিন্তু জেলায় এবার পশুর চাহিদা রয়েছে অন্তত পক্ষে ৭৫ হাজার। এই সংখ্যক পশু দিয়ে চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা জেলাবাসীর।

ঈদে পশুর চাহিদা মেটাতে খুলনা জেলার সদর, ফুলতলা, দিঘলিয়া, তেরখাদা, রুপসা, দাকোপ, কয়রা, পাইকগাছাসহ বেশকিছু উপজেলার খামারিরা পশুর খেয়াল রাখতে ও মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

ডুমুরিয়া উপজেলার বামনদিয়া গ্রামের খামারি আফসার শেখ বলেন, ‘হাটে নেয়ার আগে শেষ প্রস্তুতি হিসেবে ষাঁড়গুলোর যত্ন নিচ্ছি। ওষুধ না দিয়ে খাবারের মাধ্যমেই মোটাতাজা করা হয়েছে। আশা করছি ভালো দামেই বিক্রি করতে পারবো ষাঁড়।’

খুলনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী খুলনা জেলায় এবার ৫ হাজার ২১২ জন খামারি ৪৭ হাজার ৭৮৯টি পশু প্রস্তুত করেছেন। এই পশুগুলোর মধ্যে ২৮ হাজার ৫৬৮টি ষাঁড়, ২ হাজার ৩১৯টি বলদ, ২ হাজার ৪০৪টি গাভি, ৯টি মহিষ, ১২ হাজার ২৩৯টি ছাগল এবং ২ হাজার ২৫০টি ভেড়া রয়েছে। এই পশুগুলোকে কোরবানির জন্য বিক্রির উদ্দেশ্যে হাটবাজারে নেয়া হবে।

তবে জেলায় এবার পশুর চাহিদার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫ হাজার। গত বছর জেলায় কোরবানি হয়েছিল ৭৪ হাজার পশু। এ অবস্থায় এবার ঈদে জেলার অভ্যন্তরে খামারিরা যে পশু উৎপাদন করেছেন তা দিয়ে কোরবানির চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে না। অন্য জেলা থেকে আনতে হবে পশু।

ডুমুরিয়া উপজেলার বামনদিয়া গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান সরদার বলেন, ‘যৌথ পরিবার হওয়ায় আমার দুই-তিনটি পশু কোরবানি দিতে হয়। বাইরে থেকে আসা গরু দেখা যায় বেশি টাকা দিয়ে কিনতে হয়। আবার অন্য উপজেলা থেকে পশু আনতে গেলেও যাতায়াতের খরচ বেড়ে যায়। এমনকি হাটে টোলও বেশি দিতে হয়।’

খুলনা সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শামসুজ্জামান মিয়া স্বপন বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ উৎপাদিত পশু দিয়ে কোরবানির চাহিদা মেটানো দায় হয়ে পড়ছে। এ কারণেই এই লকডাউন ও করোনা পরিস্থিতির মধ্যে অন্য জেলা থেকে পশু আনতে হবে। এতে করে পশুর দামও বেড়ে যেতে পারে।’

তবে এ ব্যাপারে খুলনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রণজীতা চক্রবর্তী বলেন, ‘জেলার অভ্যন্তরে খামারিরা যে পশু উৎপাদন করেছেন তা দিয়ে কোরবানির চাহিদা মেটানো না গেলে আশপাশের জেলা থেকে পশু আনতে হবে। মহানগরীর জোড়াগেট হাটসহ জেলায় অন্তত ২৫-২৬টি হাট বসবে। সেখানে পাশ্ববর্তী জেলা থেকে পশু আসবে। তখন কোরবানির জন্য পশুর সংকট থাকবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোরবানির পশু যাতে রোগাক্রান্ত না হয় এ জন্য মেডিক্যাল টিম কাজ করবে। এ ছাড়া বাজারে অথবা বিক্রয় কেন্দ্রে যে পশুটিই আসুক, সেটাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে সেটির রোগ আছে কি না।

‘তবে বর্তমানে প্রাণিসম্পদ অফিস তৎপর এবং খামারিরাও সচেতন। ফলে এখন আর কোনো পশুর শরীরে ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার হয় না।’

আরও পড়ুন:
ভাতিজার মাথায় ফুটন্ত ভাত: চাচা গ্রেপ্তার
মেয়েকে ‘যৌন নির্যাতন করায়’ স্বামীর যৌনাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী
দুই শিশুকে যৌন নির্যাতন, তিন লাখ টাকায় মীমাংসার অভিযোগ
উদ্ধার সেই শিশু গৃহকর্মী
মেয়েটির সারা শরীরে নির্যাতনের ক্ষত

শেয়ার করুন

আমগাছে দড়িতে ঝুলছিল চা-শ্রমিকের মরদেহ

আমগাছে দড়িতে ঝুলছিল চা-শ্রমিকের মরদেহ

কমলগঞ্জের ওসি ইয়ারদৌস জানান, পাত্রখোলা চা-বাগানের ব্যবস্থাপক শামসুল ইসলাম জানালে ওই চা-বাগানের কবরস্থান এলাকা থেকে অর্জুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মরদেহ একটি আমগাছের ডালের সঙ্গে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে মাটিতে বসানো ছিল।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে আমগাছের ডালের সঙ্গে ফাঁস দেয়া অবস্থায় অর্জুন মহালী নামের এক চা-শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে ওই যুবকের মরদেহ গাছের নিচে বসানো অবস্থায় ছিল। পুলিশের ধারণা, হত্যা করে মরদেহটি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

কমলগঞ্জের সীমান্তবর্তী মাধবপুর ইউনিয়নের পাত্রখোলা চা-বাগানের কবরস্থান এলাকা থেকে শুক্রবার বেলা ২টার দিকে ওই চা-শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়ারদৌস হাসান।

২৭ বছর বয়সী অর্জুন মহালের বাড়ি পাত্রখোলা চা-বাগানের মসজিদ লাইনে।

ওসি ইয়ারদৌস জানান, পাত্রখোলা চা-বাগানের ব্যবস্থাপক শামসুল ইসলাম জানালে ওই চা-বাগানের কবরস্থান এলাকা থেকে অর্জুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মরদেহ একটি আমগাছের ডালের সঙ্গে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে মাটিতে বসানো ছিল। মরদেহের পাশ থেকে একটি ম্যাচের বাক্স ও একটি রুটি পাওয়া যায়।

তিনি জানান, ওই এলাকায় গরু চড়াতে এসে কয়েকজন রাখাল তার মরদেহ দেখতে পায়।

অর্জুনের চাচাতো ভাই জাফর জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে অর্জুনকে পাওয়া যাচ্ছিল না। শুক্রবার দুপুরে এলাকাবাসীর কাছ থেকে তার মরদেহ পাওয়ার খবর পান।

ওসি ইয়ারদৌস জানান, অর্জুনের হাতে রক্তের দাগও ছিল। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।

আরও পড়ুন:
ভাতিজার মাথায় ফুটন্ত ভাত: চাচা গ্রেপ্তার
মেয়েকে ‘যৌন নির্যাতন করায়’ স্বামীর যৌনাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী
দুই শিশুকে যৌন নির্যাতন, তিন লাখ টাকায় মীমাংসার অভিযোগ
উদ্ধার সেই শিশু গৃহকর্মী
মেয়েটির সারা শরীরে নির্যাতনের ক্ষত

শেয়ার করুন

২২ মণের বাদশা, দাম ১৫ লাখ

২২ মণের বাদশা, দাম ১৫ লাখ

২২ মণ ওজনের ষাঁড়ের দাম হাঁকানো হচ্ছে ১৫ লাখ। ছবি: নিউজবাংলা

নওগাঁর মান্দার নলঘোর গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম। পেশায় মিষ্টির দোকানি। মিষ্টি তৈরি করে স্থানীয় পীরপালি বাজারে বিক্রি করেন। মিষ্টি বিক্রির লাভের টাকা দিয়ে ২০১৯ সালে ছাঁতড়া গরুর হাট থেকে তিনি কিনেছিলেন ষাঁড়টি।

দুই বছর আগে স্থানীয় বাজার থেকে ৬২ হাজার টাকায় পাকিস্তানি সিংড়ি জাতের একটি ষাঁড় কেনেন নওগাঁর রফিকুল ইসলাম। তার মেয়ে রিমা গরুটির নাম রাখে ‘বাদশা’। সেই থেকে পরম যত্নে ষাঁড়টিকে লালন-পালন করে কিশোরী। এটি হয়ে যায় তার পরিবারের অংশ।

কিন্তু দুই বছরের সে বন্ধনে ইতি ঘটতে পারে এবারের ঈদুল আজহার আগেই। প্রিয় ষাঁড়টিকে ছেড়ে দিতে হতে পারে রিমার।

তার বাবা রফিকুল ষাঁড়টির দাম হাঁকিয়েছেন ১৫ লাখ। এ দামে কেউ কিনলেই রিমার ষাঁড় চলে যাবে অন্য কারও উঠানে।

নওগাঁর মান্দার নলঘোর গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম। পেশায় মিষ্টির দোকানি। মিষ্টি তৈরি করে স্থানীয় পীরপালি বাজারে বিক্রি করেন। মিষ্টি বিক্রির লাভের টাকা দিয়ে ২০১৯ সালে ছাঁতড়া গরুর হাট থেকে তিনি কিনেছিলেন ষাঁড়টি।

রফিকুল জানান, বেশ কয়েকজন ক্রেতা গরুটির দাম ১১ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম বলেছেন। তবে ১৫ লাখ না হলে তিনি এটি বিক্রি করবেন না।

প্রায় ২২ মণ ওজনের ষাঁড়টি উচ্চতায় ৭ ফুট ৮ ইঞ্চি; চওড়ায় ৯ ফুট ১০ ইঞ্চি। রং টকটকে লাল। বিশাল আকৃতির বাদশাকে দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ; আসছেন গরু কেনার জন্য দূর-দূরান্তের ক্রেতারাও।

মন খারাপ রিমার

বাদশার বিক্রির কথা শুনে মন খারাপ হয় রিমার। সে বলে, ‘আব্বু যখন ষাঁড় কিনে এনেছিল তখন আমি নাম দিয়েছিলাম বাদশা। করোনায় আমার স্কুল প্রায় ১৫ মাস থেকে বন্ধ। তাই বাদশাকে আমিই বেশি দেখাশোনা করি।

২২ মণের বাদশা, দাম ১৫ লাখ

‘বাদশাকে গোসল করানো, খাবার দেয়া, গোয়ালঘরে রাতে কয়েল দেয়া, অসুস্থ হলে ওষুধ খাওয়ানো, সব আমি করছি। বাদশার গায়ে হাত বুলিয়ে দিলে সেও মাথা নাড়িয়ে তার মাথা আমার কোলে দেয়। বাদশার ক্ষুধা লাগলে বা অসুস্থ হলে আমি ঠিকই বুঝতে পারি।’

স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী রিমা বলে, ‘মনটা চাইছে না বাদশাকে বিক্রি করে দিতে। কিন্তু তাও বিক্রি করতে হবে। তবে একটু ভালো দাম পেলে আব্বুকে বলেছি লাভের টাকা দিয়ে আরেকটি ষাঁড় গরু যেন কিনে দেয়। আবার ষাঁড় গরু কিনলে তার নামও দিব বাদশা।’

‘মেলা ধরনের খাবার খিলান লাগিছে’

ষাঁড়টির মালিক রফিকুলের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘অনেক কষ্ট করা হামার (আমার) মিষ্টির দোকানের ১ বছরের লাভের টেকা দিয়া ষাঁড়ডা কিনিছি। কিনা আনার পর হামার মেয়েডা নাম দিছিল বাদশা। হামি আর হামার বউ কাজে ব্যস্ত থাকায় মেয়েডাই বেশি যত্ন লিছে (নিয়েছে)।

‘মেলা ধরনের খাবার খিলান (খাওয়ানো) লাগিছে। ভাত, মাষকলাই, মসুরের ছোলা, গুঁড়া, খৈল, মোটা ভুসি, আলু, ভুট্টা, কাঁচা ঘাস নিয়মিত খিলাছি। মাঝে মাঝে কলাও খিলাছি। দিন-রাত মিলা পাঁচ-ছয়বার খাবার দেয়া লাগে।’

বাদশার পেছনে দৈনিক খরচ নিয়ে রফিকুল বলেন, ‘প্রতিদিন হামার বাদশার জন্নি নানা রকম খাবার দেওয়া লাগিছে। ৩৫০-৪০০ টেকার খরচ করা লাগিছে বাদশার প্রতিদিন খাবার খরচ বাবদ। আর মাঝে মাঝে তো নানা ধরনের অসুখ হলে মেলা টেকা চলা যায় পশু ডাক্তারোক বাড়ি আনা চিকিৎসা করান লাগে।

‘ওষুধ খরচ মেলা পড়া যায় যখন অসুখ হয় বাদশার। গরু হলে কী হবে, তারও তো জীবন আছে। সব মিলা এ পর্যন্ত হামার প্রায় সাড়ে ৫ লাখ থাকা ৬ লাখের মতো খরচ হছে বাদশার জন্নি।’

মেয়ের ইচ্ছা অনুযায়ী বাদশাকে বিক্রির টাকা দিয়ে আরেকটি ষাঁড় কেনার কথা জানান রফিকুল।

তিনি বলেন, ‘হামার মেয়েডার বাদশার জন্নি খুব মায়া জন্মা গেছে। বেচার কথা শুনার পর মনডা খুবই খারাপ করা আছে। এখন কী আর করমু, বেচা তো লাগবেই। তয় বাদশাক বেচার পর আবার লাভের টেকা দিয়া একটা ষাঁড় গরু কিনা দিমু।’

বাদশার দরদাম

রফিকুল বলেন, ‘প্রতিদিনই মেলা জাগাত থ্যাকা লোকজন আসিচ্ছে বাদশাক কিনার জন্নি। একন পর্যন্ত ১০ থাকা ১১ লাখ পর্যন্ত দাম কছে। হামি ১৫ লাখ দাম চাচ্ছি। তয় সবাই হামার বাদশাক তো কিনবে না। যারা বড়লোক মানুষ এ্যানা (একটু) বড় দেকা (দেখে) মোটাতাজা গরু কিনবার চায়, তারাই কিনবে। এখন দেকা যাক কী হয়।

‘করোনার কারণে তো ম্যালা জাগাত থাকা মানুষ আসবার পারিচ্ছে না। মেলা জাগাত লকডাইন চলিচ্ছে। যদি লকডাউন না থাকলোনি হয়তো আরও মেলা মানুষ হামার বাদশাডাক অ্যাসা দেকে (এসে দেখে) পছন্দ করা কিনবার পারলোনি (কিনতে পারত)। আবার শুনিচ্ছি গরুর হাট নাকি বন্ধ থাকপে; লওগাঁর ডিসি স্যার নাকি ঘোষণা দিছে। তালে বাদশাক তো হাটোতও লিয়্যা (হাটে নিয়ে) যাবার পারমু না।’

রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘হামরা গরিব মানুষ এ্যানা দুডা টেকা বেশি লাভের জন্নি মেলা কষ্ট করা লালন-পালন করা বড় করা তুলিছি। একন যদি কোরবানির কারণে দাম ভালো পাই তয় এ্যানা লাভ করা পারমু।

‘আর লাভের টেকা দিয়া সংসারের খরচ চালামু আর আরেকটা গরু কিনমু বলা ইচ্ছা আছে।’

২২ মণের বাদশা, দাম ১৫ লাখ

স্থানীয় বাসিন্দা সাহাজুল ইসলাম বলেন, ‘এত বড় ষাঁড় গরু হামি কোনো দিন সামনাসামনি দেকিনি। রফিকুল ভাই ২ বছর আগে গরুডা কিনা বড় করা তুলিছে। সামনে ঈদ। তাই বেচার চেষ্টা করিচ্ছে। ভালো দাম পালে বেচবে।’

পার্শ্ববর্তী পীরপালি গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, ‘হামরা একই এলাকার লোক। রফিকুল ভাইয়ের মিষ্টির দোকান আছে পীরপালি বাজারোত। তার মেয়ে গরুডার নাম দিছে বাদশা। এত বড় গরু হামি এর আগে কুন্টি (কোথাও) দেকিনি।’

আসাদ হোসেন নামের একজন এসেছেন বাদশাকে কিনতে। এ সময় নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমরা সাতজন মিলে কোরবানির গরু কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ঈদের আর অল্প কিছুদিন সময় আছে। তবে একটু আগেই গরু কিনে বাসায় রেখে পরিচর্যা করে কোরবানি দিতে চাই।

‘গরুটি দেখতে অনেক সুন্দর ও মোটাতাজা। যারা শখ করে একটু বড় মাপের গরু কোরবানি দিতে চায়, তারাই মূলত এ ধরনের ষাঁড় কিনবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ষাঁড়টির মালিক ১৫ লাখ টাকা দাম চেয়েছেন। আমরা ১১ লাখ টাকা পর্যন্ত বলেছি।

‘তাকে ভাবার সময় দিয়েছি। যদি একটু কম-বেশি করে দাম বলে, তবে আমরা গরুটি কিনব।’

আরও পড়ুন:
ভাতিজার মাথায় ফুটন্ত ভাত: চাচা গ্রেপ্তার
মেয়েকে ‘যৌন নির্যাতন করায়’ স্বামীর যৌনাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী
দুই শিশুকে যৌন নির্যাতন, তিন লাখ টাকায় মীমাংসার অভিযোগ
উদ্ধার সেই শিশু গৃহকর্মী
মেয়েটির সারা শরীরে নির্যাতনের ক্ষত

শেয়ার করুন

বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল পথচারির

বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল পথচারির

বরগুনা পৌরসভার সাবেক মেয়র শাহাদাতের বাসায় ঢোকার সময় পেছন থেকে বেপরোয়া গতির একটি মোটরসাইকেল শৈলেনকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহন হন তিনি।

বরগুনায় বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় শৈলেন চন্দ্র শীল নামের এক পথচারি নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বরগুনা পৌরশহরের পুলিশ লাইন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শৈলেনের বাড়ি পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নে। তিনি বরগুনা পৌরসভার সাবেক মেয়র শাহাদাত হোসেনের ইটভাটার ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাবেক মেয়র শাহাদাতের বাসায় ঢোকার সময় পেছন থেকে বেপরোয়া গতির একটি মোটরসাইকেল শৈলেনকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহন হন তিনি।

দ্রুত উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শৈলেনকে বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পথে সুবিদখালী এলাকায় তার মৃত্যু হয়।

তারা আরও জানান, শৈলেনকে ধাক্কা দেয়া মোটরসাইকেলচালক পৌর শহরের বাঁশবুনিয়া এলাকার ১৮ বছরের তরুণ অন্তর। ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক।

সাবেক পৌর মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘শহরের কিছু তরুণ ও কিশোর অনেক দিন ধরেই বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে ভীতির সৃষ্টি করছে। একাধিকবার তাদের অভিভাবকদের জানানো হলেও কিছুতেই এদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিলে আজকের এ ঘটনা ঘটত না।

বরগুনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা কর হচ্ছে। মোটরসাইকেলচালককে আটকের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন:
ভাতিজার মাথায় ফুটন্ত ভাত: চাচা গ্রেপ্তার
মেয়েকে ‘যৌন নির্যাতন করায়’ স্বামীর যৌনাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী
দুই শিশুকে যৌন নির্যাতন, তিন লাখ টাকায় মীমাংসার অভিযোগ
উদ্ধার সেই শিশু গৃহকর্মী
মেয়েটির সারা শরীরে নির্যাতনের ক্ষত

শেয়ার করুন

বোনের বাড়ি বেড়াতে এসে অপহৃত; এক দিন পর উদ্ধার

বোনের বাড়ি বেড়াতে এসে অপহৃত; এক দিন পর উদ্ধার

উদ্ধার যুবক খোকন

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে র‍্যাব জানায়, অপহরণকারীরা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে আশুলিয়া, সাভার, ধামরাইসহ আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন কৌশলে ডাকাতি, ছিনতাই ও অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছিল।

রাজধানীর ধামরাইয়ে ইসলামপুর এলাকা থেকে অপহরণের এক দিন পর যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে অপহরণে জড়িত চারজনকে।

আটকরা হলো পাপ্পু মোল্লা, মো. নাহিদ, মো. রিমন ও মো. রাকিব। তারা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টার পরে তাদের আটক করে র‍্যাব-৪।

নিউজবাংলাকে র‍্যাব-৪-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ২০ জুন ২১ বছর বয়সী মো. খোকন তার বোনের বাড়ি আশুলিয়ায় বেড়াতে আসেন। গাজীরচট এলাকা থেকে ২৩ জুন রাত পৌনে ৯টার দিকে খোকন অপহৃত হন।

অপহরণকারীরা তার চোখ বেঁধে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যায়। একপর্যায়ে একটি বাসায় নিয়ে খোকনকে বেধড়ক মারধর করতে থাকে তারা। কান্নার শব্দ মোবাইলের মাধ্যমে তার বড় বোনকে শোনানো হয়।

বোনের বাড়ি বেড়াতে এসে অপহৃত; এক দিন পর উদ্ধার


অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, খোকনের বোনের কাছে তার মুক্তির জন্য এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। মুক্তিপণ না দিলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার হুমকিও দেয়া হয়।

স্বজনদের অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করে র‍্যাব। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৪-এর একটি দল ইসলামপুর এলাকায় অভিযান চালায়।

উদ্ধার করা হয় মুক্তিপণ আদায়ে ব্যবহৃত চারটি মোবাইলসহ অপহৃত খোকনকে। এ সময় চার অপহরণকারীকেও আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে র‍্যাব জানায়, অপহরণকারীরা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে আশুলিয়া, সাভার, ধামরাইসহ আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন কৌশলে ডাকাতি, ছিনতাই ও অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছিল।

আরও পড়ুন:
ভাতিজার মাথায় ফুটন্ত ভাত: চাচা গ্রেপ্তার
মেয়েকে ‘যৌন নির্যাতন করায়’ স্বামীর যৌনাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী
দুই শিশুকে যৌন নির্যাতন, তিন লাখ টাকায় মীমাংসার অভিযোগ
উদ্ধার সেই শিশু গৃহকর্মী
মেয়েটির সারা শরীরে নির্যাতনের ক্ষত

শেয়ার করুন

সাঁতার কাটার সময় যুবকের মৃত্যু

সাঁতার কাটার সময় যুবকের মৃত্যু

মৃত যুবক মিনহাজুল আবেদন স্নিগ্ধ

‘স্নিগ্ধ ও রুদ্র একবার সাঁতার কেটে পুকুরের ওই পাড়ে যায়। পরে ফিরে আসার সময় হঠাৎ করে স্নিগ্ধ পুকুরের পানিতে তলিয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক স্নিগ্ধকে মৃত ঘোষণা করেন।’

কুমিল্লার দেবিদ্বারে পুকুরে ডুবে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিব হাসানের শ্যালক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবন চত্বরে শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

মৃত যুবকের নাম মিনহাজুল আবেদন স্নিগ্ধ। তিনি এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন দেবিদ্বার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ছমি উদ্দিন।

ইউএনও রাকিব বলেন, ‘শুক্রবার বেলা দেড়টায় আমার স্ত্রীর আপন ভাই রুদ্র ও তার চাচাতো ভাই স্নিগ্ধ গোসল করতে পুকুরে নামে। এ সময় তারা সাঁতার নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু করে।

‘স্নিগ্ধ ও রুদ্র একবার সাঁতার কেটে পুকুরের ওই পাড়ে যায়। পরে ফিরে আসার সময় হঠাৎ করে স্নিগ্ধ পুকুরের পানিতে তলিয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক স্নিগ্ধকে মৃত ঘোষণা করেন।’

চিকিৎসকরা ধারণা করছেন স্নিগ্ধ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। তার মরদেহ রংপুরে বাড়িতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
ভাতিজার মাথায় ফুটন্ত ভাত: চাচা গ্রেপ্তার
মেয়েকে ‘যৌন নির্যাতন করায়’ স্বামীর যৌনাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী
দুই শিশুকে যৌন নির্যাতন, তিন লাখ টাকায় মীমাংসার অভিযোগ
উদ্ধার সেই শিশু গৃহকর্মী
মেয়েটির সারা শরীরে নির্যাতনের ক্ষত

শেয়ার করুন