ঘর পেয়েছেন সচ্ছল ও অবিবাহিতরাও

ঘর পেয়েছেন সচ্ছল ও অবিবাহিতরাও

ইউনিয়ন পরিষদের এক চেয়ারম্যান বলেন, ঘর বরাদ্দ দেওয়ার সময় তাদের মতামত নেয়া হয়নি। তালিকায় তার ইউনিয়নে এমন কয়েকজন রয়েছেন, যাদের তিনি নিজেও চেনেন না এবং যারা ঘর পাওয়ার যোগ্য নন।

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঘর পেয়েছেন সচ্ছল, অন্য জেলার বাসিন্দা, এমনকি অবিবাহিত নারীও।
গজারিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তর থেকে জানা গেছে, উপজেলায় দুই ধাপে ১৭০ পরিবারের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ঘর বরাদ্দ দেওয়া হবে। তার মধ্যে প্রথম ধাপে ঘর পাচ্ছে ১৫০টি পরিবার।

বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, উপহারের ঘর বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। ঘর বরাদ্দ দিতে বাণিজ্য করা হয়েছে লাখ লাখ টাকা।

তালিকা ধরে দেখা যায়, ১৫০ জনের তালিকায় ১১৩ নম্বরে রয়েছে সাজেদা আক্তার নামে এক নারীর নাম। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায়। স্বামীসহ স্থানীয় একটি শিল্পকারখানায় কাজ করেন তিনি। স্থানীয় এক ভূমি অফিসের কর্মকর্তার বাড়িতে ভাড়া থাকেন। টাকার বিনিময় তিনি বরাদ্দ নিয়েছেন সরকারি ঘর।
ঘর পেয়েছেন সচ্ছল ও অবিবাহিতরাও

তালিকায় ১২১ নম্বরে রয়েছে সোনিয়া আক্তারের নাম। তিনি ভবেরচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৭, ৮, ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোনিয়া আক্তার সচ্ছল। তার নিজের এবং স্বামীর বাড়িতে সম্পত্তি এবং ঘরবাড়ি রয়েছে।

তালিকায় ১২৩ নম্বরে নাম রয়েছে লিটন মিয়ার। তার পরিবারের একাধিক সদস্য ইতিপূর্বে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পেয়েছেন।

তালিকায় ১০২ নম্বরে নাম রয়েছে নিপা দাসের। নিপা এখনও অবিবাহিত এবং তার পরিবারের অবস্থা সচ্ছল। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
ঘর পেয়েছেন সচ্ছল ও অবিবাহিতরাও

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করা হয় ভবেরচর ইউপির চেয়ারম্যান সাহিদ মো. লিটনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঘর বরাদ্দ দেওয়ার সময় তাদের মতামত নেয়া হয়নি। তালিকায় তার ইউনিয়নে এমন কয়েকজন রয়েছেন, যাদের তিনি নিজেও চেনেন না এবং যারা ঘর পাওয়ার যোগ্য নন।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে হোসেন্দী ইউপির চেয়ারম্যান মনিরুল হক মিঠুর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

১৫০ জনের তালিকা ধরে অনুসন্ধান করে এ রকম বেশ কিছু অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে ঘর বরাদ্দে অনিয়ম হয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করা হয় গজারিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাজুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, তালিকায় কিছু অনিয়ম হয়েছে। তার চোখেও পড়েছে বিষয়গুলো। তবে সেগুলো সংশোধনের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, ঘর বরাদ্দ দেয়ার ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানরা যুক্ত ছিলেন। এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। তিনি বলেন, ‘আমার দায়িত্ব শুধু ঘর বানিয়ে দেওয়া, ঘর বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে কিছু বলার এখতিয়ার আর আমার নেই।’

এ ব্যাপারে জানতে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কয়েকটি অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। সেগুলো তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
বরিশালে দেড় হাজার মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার  
প্রতিবন্ধী স্কুলে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা
প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন শিল্পী, শ্রমিক ও দিনমজুর
দৃষ্টিহীন মাফিয়ার পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

৬৭ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি: গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা

৬৭ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি: গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা

রাজধানীর মিরপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়। ফাইল ছবি

২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তদন্ত করে এই ফাঁকি উদঘাটন করা হয়। এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি সেবা থেকে প্রাপ্ত আয়ের বিপরীতে ৩৪ হাজার ৯১০ টাকা ভ্যাট পরিশোধ করেছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির দেয়ার কথা ছিল ৩০ কোটি ৩৬ লাখ ৮৩ হাজার ৬০০ টাকা। উৎসে ভ্যাট বাবদ ৮ কোটি ৫৪ লাখ ২০ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা ভ্যাট পরিশোধ করেছে। কিন্তু দেয়ার কথা ছিল প্রায় ২৪ কোটি টাকা।

গ্রামীণ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ৬৭ কোটি টাকর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ফাঁকি উদঘাটন করার পর তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন ভ্যাট গোয়েন্দা ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান।

তিনি জানান, ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার কায়সারের নেতৃত্বে একটি দল ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তদন্ত করে এই ফাঁকি উদঘাটন করে।

তবে এ বিষয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোর্শেদ কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

গ্রামীণ ব্যাংক একটি নন-ব্যাকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করে না। নিজস্ব আইন দ্বারা পরিচালিত হয়। নোবেল বিজয়ী ড. মুহম্মদ ইউনূস এই ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটির কোনো ভ্যাট নিবন্ধন নেই, যা ভ্যাট আইনের পরিপন্থি।

রাজধানী ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর হতেই ব্যাংকিং ও নন-ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে আসছে। কিন্তু ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণ করেনি।

এনবিআর বলেছে, গ্রামীণ ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা হিসেবে সেবার বিপরীতে কমিশন, ফি বা চার্জ গ্রহণ করে থাকে। যে কারণে ভ্যাট নিবন্ধন গ্রহণ বাধ্যতামূলক।

গ্রামীণ ব্যাংক মূলত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণ দিয়ে থাকে। এসব ঋণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন খরচের বিপরীতে চার্জ, ফি ও কমিশনের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রযোজ্য।

ভ্যাট গোয়েন্দারা বলেছেন, তদন্তকালে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক অডিট প্রতিবেদন এবং অন্যান্য দলিল যাচাই করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য আমলে নেয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি তদন্ত চলাকালে সেবা থেকে প্রাপ্ত আয়ের বিপরীতে ৩৪ হাজার ৯১০ টাকা ভ্যাট পরিশোধ করেছে।

কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির দেয়ার কথা ছিল ৩০ কোটি ৩৬ লাখ ৮৩ হাজার ৬০০ টাকা। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির ফাঁকির পরিমাণ দাঁড়ায় ৩০ কোটি ৩৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬৯০ টাকা।

যথাসময়ে সরকারি কোষাগারে জমা না দেয়ায় জরিমানা দাঁড়ায় প্রায় ১৪ কোটি টাকা।

প্রতিষ্ঠানটি তদন্ত মেয়াদে বিভিন্ন খরচের বিপরীতে উৎসে ভ্যাট বাবদ ৮ কোটি ৫৪ লাখ ২০ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা ভ্যাট পরিশোধ করেছে। কিন্তু দেয়ার কথা ছিল প্রায় ২৪ কোটি টাকা।

এ ক্ষেত্রে অপরিশোধিত ভ্যাট ১৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। যথাসময়ে পরিশোধ না করায় জরিমানা হিসেবে আসে ৭ কোটি ২৩ লাখ ২৬ হাজার ৯৭৭ টাকা।

অর্থাৎ সব মিলিয়ে অপরিশোধিত ভ্যাটের পরিমাণ ৪৫ কোটি ৭৫ লাখ ৩৭ হাজার ৯৪৬ টাকা এবং জরিমানা বাবদ ২১ কোটি ২৩ লাখ ২২ হাজার ৬৮৩ টাকা।

এ টাকা সরকারি কোষাগারে রাজস্ব হিসেবে আদায়যোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন:
বরিশালে দেড় হাজার মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার  
প্রতিবন্ধী স্কুলে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা
প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন শিল্পী, শ্রমিক ও দিনমজুর
দৃষ্টিহীন মাফিয়ার পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার

শেয়ার করুন

১১ বছর পর পিরোজপুর যুবলীগের সম্মেলন ডিসেম্বরে

১১ বছর পর পিরোজপুর যুবলীগের সম্মেলন ডিসেম্বরে

পিরোজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মঞ্চে বৃহস্পতিবার জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভায় নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

যুবলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম বলেন, টেন্ডারবাজিতে জড়িত এবং যারা বিগত দিনে নৌকার বিরোধীতা করেছেন, তাদেরকে আগামীতে যুবলীগের নেতৃত্বে রাখা হবেনা। ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের দিয়েই যুবলীগের নেতৃত্ব গড়া হবে।

১১ বছর পর ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পিরোজপুর জেলা যুবলীগের সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

দলকে নতুনভাবে সংগঠিত করতে একযুগ পর বৃহস্পতিবার পিরোজপুর জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভায় নেতারা এই ঘোষণা দেন।

জেলা শিল্পকলা একাডেমি মঞ্চে সভা শুরু হয় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে।

এতে বক্তব্য দেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য তাজউদ্দীন আহমেদ ও জসিম উদ্দিন মাতুব্বর, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মো. মাজহারুল ইসলামসহ জেলা-উপজেলা নেতারা।

জেলা যুবলীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান ফুলুর সভাপতিত্বে বর্ধিত সভা সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল আহসান গাজী।

প্রধান বক্তা বদিউল আলম বলেন, টেন্ডারবাজিতে জড়িত এবং যারা বিগত দিনে নৌকার বিরোধীতা করেছেন, তাদেরকে আগামীতে যুবলীগের নেতৃত্বে রাখা হবেনা। ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের দিয়েই যুবলীগের নেতৃত্ব গড়া হবে।

ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পিরোজপুর জেলা যুবলীগের সম্মেলন হবে বলে বর্ধিত সভায় ঘোষণা দেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

জেলা যুবলীগ নেতাকর্মীরা জানান, সভা শুরুর আগে মিছিল নিয়ে আসার সময় যুবলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে চার নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, ২০১০ সালে পিরোজপুর জেলা যুবলীগের কমিটি হয়েছিল। জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। এতে স্থবির হয়ে পড়ে জেলা যুবলীগের কার্যক্রম।

বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে যুবলীগ নেতা-কর্মীদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে নতুন উদ্দীপনা। পদ প্রত্যাশীদের ব্যানার আর ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পিরোজপুর শহর।

আরও পড়ুন:
বরিশালে দেড় হাজার মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার  
প্রতিবন্ধী স্কুলে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা
প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন শিল্পী, শ্রমিক ও দিনমজুর
দৃষ্টিহীন মাফিয়ার পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার

শেয়ার করুন

ব্যাংক থেকে ফেরার পথে ছিনতাইয়ের অভিযোগ

ব্যাংক থেকে ফেরার পথে ছিনতাইয়ের অভিযোগ

ময়মনসিংহে ছিনতাইয়ের শিকার আকরাম হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

নান্দাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘ব্যাংক থেকে কিছুদূর পরেই পৌর বাজারের দুধ মহাল এলাকায় যাওয়ার পথে দুই অজ্ঞাতপরিচয় যুবক আকরামকে জানায় তার পাঞ্জাবিতে ময়লা লেগেছে। আকরাম একটি টিউবওয়েলে পাঞ্জাবির ময়লা পরিষ্কার করতে থাকেন। সে সময় ওই দুই যুবকও তার সঙ্গে ছিল। হঠাৎ তারা আকরামের টাকার ব্যাগ নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়।’

ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌর এলাকায় ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ফেরার পথে এক বৃদ্ধের কাছ থেকে এক লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে।

নান্দাইল পৌর বাজারের দুধ মহাল এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই ব্যক্তি।

ছিনতাইয়ের শিকার ওই ব্যক্তির নাম আকরাম হোসেন। তিনি নান্দাইল উপজেলার ভাটি সাভার গ্রামের বাসিন্দা।

নান্দাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘বিকেল ৩টার দিকে আকরাম হোসেন সোনালী ব্যাংকের নান্দাইল শাখা থেকে থেকে ১ লাখ টাকা তুলে বাড়ির পথে রওনা দেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাংক থেকে কিছুদূর পরেই পৌর বাজারের দুধ মহাল এলাকায় যাওয়ার পথে দুই অজ্ঞাতপরিচয় যুবক আকরামকে জানায় তার পাঞ্জাবিতে ময়লা লেগেছে। আকরাম একটি টিউবওয়েলে পাঞ্জাবির ময়লা পরিষ্কার করতে থাকেন। সে সময় ওই দুই যুবকও তার সঙ্গে ছিল। হঠাৎ তারা আকরামের টাকার ব্যাগ নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়।’

এ বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান আকন্দ বলেন, ‘এসব ছিনতাইকারী বেশীরভাগ সময় বয়স্ক লোকদের টার্গেট করে। এজন্য টাকা বহনের সময় সজাগ দৃষ্টি রাখতে হয়।’

ওই ছিনতাইকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
বরিশালে দেড় হাজার মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার  
প্রতিবন্ধী স্কুলে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা
প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন শিল্পী, শ্রমিক ও দিনমজুর
দৃষ্টিহীন মাফিয়ার পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার

শেয়ার করুন

তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায় না জাপা

তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায় না জাপা

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। ফাইল ছবি

জি এম কাদের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন গঠনে স্থায়ী সমাধানের জন্য সংবিধানের আলোকে নির্বাচন কমিশন গঠন আইন করতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী দেশের সব বিভাগ নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকবে। আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ মানুষদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন হলে দেশের মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত হবে।’

অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি কোনো পূর্ণাঙ্গ সমাধান নয় বলে মনে করে জাতীয় পার্টি। দলটির নির্বাচন কমিশন গঠনে স্থায়ী সমাধানের জন্য সংবিধানের আলোকে নির্বাচন কমিশন গঠন আইন করার পক্ষে।

বৃহস্পতিবার বনানীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে জাতীয় প্রাক্তন সৈনিক পার্টির পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

তিনি বলেন, ‘অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি কোনো পূর্ণাঙ্গ সমাধান নয়। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার দীর্ঘ মেয়াদী কোনো সমাধান নয়।

‘নির্বাচন কমিশন গঠনে স্থায়ী সমাধানের জন্য সংবিধানের আলোকে নির্বাচন কমিশন গঠন আইন করতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী দেশের সব বিভাগ নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকবে। আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ মানুষদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন হলে দেশের মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত হবে।’

১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারে অধীনে হয়েছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর উচ্চ আদালতের রায়ে এই সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়। পরে দুটি নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে হয়।

এর দুটির মধ্যে ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। তবে ২০১৮ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল তারা।

আগামী জাতীয় নির্বাচন নির্দলীয় সরকারে অধীনে করতে হবে এমন দাবি তুলেছে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো।

আলোচনা সভায় জি এম কাদের বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন করলে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনেই হবে। আইন করে নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী করতে পারলে সকল নির্বাচন ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধান হবে।’

তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিতে বিরাজনীতিকরণ চলছে। এভাবে চলতে থাকলে রাজনৈতিক দলগুলো হবে নাম ও সাইনবোর্ড সর্বস্ব রাজনৈতিক শক্তি। নির্বাচনে বিরোধী শিবিরের প্রার্থীরা টিকতে না পারলে রাজনৈতিক দলগুলো অস্তিত্বশূন্য হয়ে পড়বে।’

জি এম কাদের বলেন, ‘সংবিধান ও গণতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচনের মাধ্যমেই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবে। নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকার পরিবর্তন হবে। তবে সরকার ও প্রশাসনের চাপে নির্বাচনে টিকতে না পেরে দলগুলো সমর্থকহীন হয়ে পড়ছে।

‘দেশের মানুষও ভোটের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এতে বহুদলীয় গণতন্ত্র বিকশিত হতে পারে না। বিরাজনীতিকরণ দেশ ও মানুষের জন্য কখনোই কল্যাণকর হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের প্যারালালভাবে সরকার ক্ষমতা প্রয়োগ করলে নির্বাচন কমিশন কখনও সঠিকভাবে কাজ করতে পারবে না। নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন করার বিকল্প নেই।’

আরও পড়ুন:
বরিশালে দেড় হাজার মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার  
প্রতিবন্ধী স্কুলে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা
প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন শিল্পী, শ্রমিক ও দিনমজুর
দৃষ্টিহীন মাফিয়ার পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার

শেয়ার করুন

এক মাসের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের আশা মন্ত্রীর

এক মাসের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের আশা মন্ত্রীর

ডেঙ্গু ছড়ানোর জন্য দায়ী এডিস মশা।

মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘নগরবাসীর সচেতনতা, জলবায়ুর পরিবর্তন, সিটি করপোরেশন ও মন্ত্রণালয়ের সর্বাত্মক কার্যক্রমের ফলে আগামী এক মাসের মধ্যেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলররা জনগণকে সাথে নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন।'

এক মাসের মধ্যে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

রাজধানীর হোটেল সোনাগাঁওয়ে বৃহস্পতিবার এক কর্মশালায় তিনি এ কথা জানান।

‘ইইউ সাপোর্ট টু হেলথ অ্যন্ড নিউট্রিশন টু দি পুওর ইন আরবান বাংলাদেশ’ প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালায় অংশ নেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

সেখানে তিনি বলেন, ‘নগরবাসীর সচেতনতা, জলবায়ু পরিবর্তন, সিটি করপোরেশন ও মন্ত্রণালয়ের সর্বাত্মক কার্যক্রমের ফলে আগামী এক মাসের মধ্যেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলররা জনগণকে সাথে নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন।

'বিভিন্ন এলাকায় সকাল-বিকেল নিয়মিত স্প্রে করা হচ্ছে। কীভাবে এডিস মশার প্রজনন ধ্বংস করা যাবে, সেসব বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা হয়েছে। আমি আশা করি, মাসখানেকের মধ্যেই পরিস্থিতি একটা সহনশীল জায়গায় চলে আসবে।’

এক মাসের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের আশা মন্ত্রীর
'ইইউ সাপোর্ট টু হেলথ অ্যন্ড নিউট্রিশন টু দি পুওর ইন আরবান বাংলাদেশ’ প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালায় অংশ নেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

মন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গু একটি গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ। শুধু বাংলাদেশই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে না, এশিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশ এই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করছে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় যে সকল দেশ সফলতা পেয়েছে তাদের অভিজ্ঞতা ও আমাদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই চ্যালেঞ্জ জয় করা সম্ভব হবে বলে আশা করি।

‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী সারা বিশ্বে প্রতিবছর ১০ কোটি থেকে ৪০ কোটি পর্যন্ত মানুষ ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়, সাত লাখের বেশি মানুষ মারা যায়। ২০১৯ সালে আমাদের দেশে মারাত্মক আকার ধারণ করলেও ২০২০ সালে এটিকে আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছিলাম।’

ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির কারণ হিসেবে দীর্ঘ লকডাউন ও ঈদের ছুটিকে দায়ী করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জলবায়ুর প্রভাব থাকলেও সবচেয়ে বড় বিষয়টি হচ্ছে লকডাউন ও ঈদের ছুটি। এ সময় অনেকেই বাসাবাড়ি ছেড়ে নিজ এলাকায় যাওয়ায় এবং নির্মাণশ্রমিকরা ছুটিতে থাকায় এডিস মশার প্রভাব কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

‘মে-জুন থেকে আরম্ভ করে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত এডিস মশার প্রকোপ বেশি থাকে। কারণ এ সময় থেমে থেমে বৃষ্টি হয়।’

পৌরসভাগুলোর সংকট নিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘পৌরসভাগুলোকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে সরকার। ইতিমধ্যে কিছু পৌরসভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর কিছু জনবল সংকট রয়েছে। আগামী ২ বছরের মধ্যে পৌরসভাগুলো তাদের সংকট কাটিয়ে সক্ষমতা অর্জন করবে।’

তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ এলাকার তুলনায় নগর এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা কিছুটা ভালো, তবে এটি সন্তোষজনক অবস্থায় নেই। পৌরসভাগুলোতে স্বাস্থ্যসেবায় পর্যাপ্ত জনবল নেই। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে যাতে করে তারা নিজেরাই নাগরিক সেবা দিতে পারে।

‘সমাপ্ত এই প্রকল্পের মাধ্যমে এমন কিছু কাজ শুরু হয়েছে, যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। ইতিমধ্যে নগর এলাকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের জ্ঞান পরবর্তীতে কাজে লাগাতে হবে।’

আরও পড়ুন:
বরিশালে দেড় হাজার মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার  
প্রতিবন্ধী স্কুলে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা
প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন শিল্পী, শ্রমিক ও দিনমজুর
দৃষ্টিহীন মাফিয়ার পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার

শেয়ার করুন

এক বেডে ৪ শিশু, গাছতলাও খালি নেই

এক বেডে ৪ শিশু, গাছতলাও খালি নেই

মর্জিনা খাতুন বলেন, ‘রোববার থেকে মেয়ের হঠাৎ শ্বাসকষ্ট। চিকিৎসক মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করতে বলায় এখানে আসি। এসে দেখি কোথাও জায়গা নেই। উপায় না দেখে প্রথম রাত হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারের সামনে থাকি। এরপর থেকে রাতে এই বেডে বাচ্চাকে রাখি, দিনে গাছতলায় বসে থাকি।’

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের বাইরে গাছের নিচে বিছানা পেতে সেখানেই চিকিৎসা নিচ্ছে কিছু শিশু। হাসপাতালের ভেতরে গেলে বারান্দা, মেঝেতেও দেখা যায় শিশুদের।

শিশু ওয়ার্ডের প্রতিটি বেডেই আছে একাধিক শিশু। কোনো কোনো বেডে দেখা যায় চারজন শিশুকেও।

শিশুদের শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া বাড়ায় জায়গা দিতে পারছে না হাসপাতালটি। কয়দিন ধরেই চলছে এই অবস্থা।

৪৫ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে বৃহস্পতিবার ভর্তি আছে ১৮৭ শিশু। এর আগের দিন ভর্তি ছিল ২০৩ জন শিশু।

তিন বছরের আয়েশাকে কোলে নিয়ে শিশু ওয়ার্ডের বারান্দায় দাঁড়িয়েছিলেন মা মরিয়ম বেগম। এসেছেন সদর উপজেলার জামালপুর থেকে।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুদিন ধরে মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি। মেয়ের ডায়রিয়া। যে বেড দিয়েছে সেখানে আরও দুইটা বাচ্চাকে রাখা হয়েছে। খুব অসুবিধা হচ্ছে।’

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মর্জিনা খাতুন জানান, তারা এক বেড চারজন ভাগাভাগি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। দিনের বেলা নানাভাবে সময় কেটে যায়। রাতে পড়তে হয় সমস্যায়। পালা করে অসুস্থ শিশুদের নিয়ে ঘুমাতে হয়।

তিনি বলেন, ‘রোববার থেকে মেয়ের হঠাৎ শ্বাসকষ্ট। চিকিৎসক মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করতে বলায় এখানে আসি। এসে দেখি কোথাও জায়গা নেই। উপায় না দেখে প্রথম রাত হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারের সামনে থাকি। এরপর থেকে রাতে এই বেডে বাচ্চাকে রাখি, দিনে গাছতলায় বসে থাকি।’

এক বেডে ৪ শিশু, গাছতলাও খালি নেই

সালন্দরের সবেদা বেগম বলেন, ‘গাছতলাতেই ভালো আছি। ভেতরে এত মানুষ! গরমে টেকা যায় না।’

হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু বিভাগের চিকিৎসক শাহজাহান নেওয়াজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। স্বাভাবিক সময়ে ৬০ থেকে ৭০ জন শিশু ভর্তি থাকে। এখন ১৭০ থেকে ১৮০ জন থাকছে। নবজাতকও আছে। বেশিরভাগই শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, সর্দি, জ্বর ও পেটের ব্যথায় আক্রান্ত। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এমনটা হচ্ছে।’

এ সময় শিশুদের সুস্থ রাখতে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক। শিশুরা ঘেমে গেলে দ্রুত তাদের ঘাম মুছে জামাকাপড় পরিবর্তন করে দিতে হবে। সেই সঙ্গে প্রচুর তরল ও ভিটামিন-সি জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে।

ঠাকুরগাঁও জেলা সিভিল সার্জন মাহফুজার রহমান সরকার বলেন, ‘এই হাসপাতালে শিশু সেবার মান উন্নত হওয়ায় আশপাশের জেলার মানুষও এখানে আসেন। এখন রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সবাইকে জায়গা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আশা করছি দ্রুত পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:
বরিশালে দেড় হাজার মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার  
প্রতিবন্ধী স্কুলে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা
প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন শিল্পী, শ্রমিক ও দিনমজুর
দৃষ্টিহীন মাফিয়ার পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার

শেয়ার করুন

হাতিরঝিলে গাড়ির ধাক্কা, মরদেহ হাসপাতালে রেখে পলাতক চালক

হাতিরঝিলে গাড়ির ধাক্কা, মরদেহ হাসপাতালে রেখে পলাতক চালক

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে জব্দ মাইক্রোবাস।

এসআই আল ইমরান বলেন, ‘মাইক্রোবাসচালক সাইকেল আরোহী মনির হোসেনকে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে লোকজনের অনুরোধে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢামেকে নিয়ে আসেন তিনি। সেখানে চিকিৎসক মনিরকে মৃত ঘোষণা করেন। এই সুযোগে সটকে পড়েন চালক।’

হাতিরঝিল এলাকা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয় মনির হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে। তার সঙ্গে আসা তিশান নামে এক ব্যক্তি জানান, লেকের মাই টিভি ভবন এলাকায় রাস্তার পাশে পড়ে ছিলেন মনির।

পরে পুলিশ জানায়, যে মাইক্রোবাসে করে মনিরকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল তারই ধাক্কায় আহত হয়েছিলেন তিনি।

ততক্ষণে মাইক্রোবাসটি অ্যাম্বুলেন্স পার্কি লটে ফেলে সটকে পড়েছেন মনিরকে হাসপাতালে আনা চালক ও অন্যরা।

পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পৌনে ২টার দিকে হাসপাতালে আনা হয় তাকে। পরে বেলা সোয়া ২টার দিকে মনিরকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

মনিরকে হাসপাতালে নিয়ে আসাদের একজন পথচারী তিশান বলেন, ‘আমরা দুপুরে বাসায় যাচ্ছিলাম। পরে দেখি রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় লোকটা পড়ে আছে। তখন আমরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। তার মাথা থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তার (মনির) কাছে দুটি মোবাইল ও একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া গেছে। সেখানে লেখা, তার বাড়ি চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি থানার লকমোতা গ্রামে। পিতার নাম হাজিল উদ্দিন। নিহতের মোবাইল থেকে তার পরিবারকে জানানো হয়েছে। তার ফুফাতো বোনের জামাই রিপন পাটোয়ারী দুঃসংবাদ পেয়ে ঢামেকে এসে লাশ শনাক্ত করেন।

‘তিনি জানিয়েছেন,নিহত ব্যক্তি গাড়ির চালক ছিলেন।’

তবে তিশানের এই বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে মনিরকে হাসপাতালে নিয়ে আসা মাইক্রোবাসটির চালক পালিয়ে যাওয়ার পর।

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় ঢামেক থেকে মাইক্রোবাসটি জব্দ করেন হাতিরঝিল থানার পুলিশ উপপরিদর্শক (এসআই) আল ইমরান।

তিনি বলেন, ‘মাইক্রোবাসচালক সাইকেল আরোহী মনির হোসেনকে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে লোকজনের অনুরোধে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢামেকে নিয়ে আসেন তিনি। সেখানে চিকিৎসক মনিরকে মৃত ঘোষণা করেন। এই সুযোগে সটকে পড়েন চালক।’

এসআই আল ইমরান বলেন, ‘এ বিষয়ে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
বরিশালে দেড় হাজার মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার  
প্রতিবন্ধী স্কুলে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা
প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন শিল্পী, শ্রমিক ও দিনমজুর
দৃষ্টিহীন মাফিয়ার পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার

শেয়ার করুন