পানির দাবি: বিএসআরএম কারখানা বন্ধের হুমকি এমপির

পানির দাবি: বিএসআরএম কারখানা বন্ধের হুমকি এমপির

‘বিএসআরএমের সঙ্গে কথা ছিল তারা ফেনী নদী থেকে পানি এনে প্রতিষ্ঠানটি চালাবে। কিন্তু তারা সরকারকে ফাঁকি দিয়েছে। তারা মিরসরাইবাসীকে ফাঁকি দিয়েছে। তারা ফেনী নদী থেকে পানি না এনে এখানে ১০ থেকে ১২ টা গভীর নলকূপ স্থাপন করেছে।’

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিএসআরএম এর মীরসরাইয়ের কারখানা দুই মাস বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন।

কারখানাটি গভীর নলকূপ স্থাপন করে পানি তোলায় স্থানীয় জনসাধারণ অগভীর নলকূপ থেকে পানি পাচ্ছে না বলে অভিযোগ তার।

তিনি জানান, বিএসআরএম কথা দিয়েছিল গভীর নলকূপে পানি না তুলে ফেনী নদী থেকে পানি এনে কারখানায় ব্যবহার করবে। কিন্তু তারা সে কথা রাখেনি। আগামী দুই মাসের মধ্যে সেই ব্যবস্থা করলেই কেবল তারা কারখানা চালু করতে পারবে বলেও জানান তিনি।

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদের দুই মাস সময় দিলাম, এই দুই মাস কারখানায় কোনো কাজ চলবে না। কোনো কাঁচামাল কারখানায় ঢুকতে দেয়া হবে না।’

রোববার চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার সোনাপাহাড় এলাকায় স্থানীয়দের উদ্যোগে মানববন্ধনে অংশ নিয়ে এই ঘোষণা দেন তিনি।

তবে এ বিষয়ে বিএসআরএম কর্তৃপক্ষ কোনো বক্তব্য দেয়নি।

স্থানীয় সংসদ সদস্য বলেন, ‘শিল্প কারখানার প্রয়োজন আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ১০১ টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়েছেন। আমাদের মিরসরাইয়েও ১২ হাজার একর একটি শিল্প জোন আছে। এক বছরের মধ্যে সেই শিল্প অঞ্চলে যেন বিএসআরএমের কারখানা স্থানান্তরিত করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘বিএসআরএমের সঙ্গে কথা ছিল তারা ফেনী নদী থেকে পানি এনে প্রতিষ্ঠানটি চালাবে। কিন্তু তারা সরকারকে ফাঁকি দিয়েছে। তারা মিরসরাইবাসীকে ফাঁকি দিয়েছে। তারা ফেনী নদী থেকে পানি না এনে এখানে ১০ থেকে ১২ টা গভীর নলকূপ স্থাপন করেছে।’

গভীর নলকূপ থেকে পানি তোলায় কী ক্ষতি হচ্ছে সেটিও তুলে ধরেন মোশাররফ। বলেন, ‘বিএসআরএমের গভীর নলকূপের কারণে মিরসরাইবাসী এখন অগভীর নলকূপ থেকে পানি পাচ্ছেন না। খাওয়ার পানি নেই, পুকুর শুকিয়ে গেছে, ডোবা শুকিয়ে গেছে।’

বিএসআরএম বনের জমি দখল করেছে বলেও অভিযোগ করেন সাবেক এই মন্ত্রী। বলেন, পেছনে যে ছড়া ছিল, এলাকাবাসী সেখান থেকে পানি আনত, সেটাও বন্ধ করে দিয়েছে।

সাতদিনের মধ্যে গভীর নলকূপ দিয়ে পানি তোলা বন্ধ করার সময় বেঁধে দিয়ে তিনি বলেন, ‘ইউএনও এবং পুলিশ অফিসাররা সেটা ভিজিট (পরিদর্শন) করে আসবেন। আর বন্ধ না করলে আমরা গিয়ে জব্দ করে নিয়ে আসব।’

মানবন্ধনে বারৈয়ারহাট পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বারৈয়ারহাট পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম খোকন ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এনায়েত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আন্দোলনে অগ্রসৈনিক ছিলেন নাসিম: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

আন্দোলনে অগ্রসৈনিক ছিলেন নাসিম: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

কাজিপুর উপজেলা মাঠে রোববার দুপুরে মোহাম্মাদ নাসিমের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সভায় বক্তব্য দেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। ছবি: নিউজবাংলা

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মাদ নাসিম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা হিসেবে রাজপথের আন্দোলনে অগ্রসৈনিক ছিলেন। তার ঋণ আমরা কোনো দিন শোধ করতে পারবো না। তিনি সারা বাংলার জননেতা, আমার রাজনৈতিক শিক্ষাগুরু।’

রাজপথের আন্দোলনে মোহাম্মাদ নাসিম অগ্রসৈনিক ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান।

রোববার দুপুরে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলা মাঠে আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মাদ নাসিমের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পিতৃতুল্য মোহাম্মাদ নাসিমকে স্মরণ করতে কাজিপুর এসেছি। আমরা তাকে শ্রদ্ধাভরে ধারণ করি, লালন করি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা হিসেবে তিনি রাজপথের আন্দোলনে অগ্রসৈনিক ছিলেন। তার কাছে আমাদের ঋণ কোনো দিন শোধ হবার নয়। তিনি সারা বাংলার জননেতা, আমার রাজনৈতিক শিক্ষাগুরু।’

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে নিবেদিত প্রাণ দেশপ্রেমিক ছিলেন মোহাম্মাদ নাসিম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মাদ নাসিমের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

মোহাম্মাদ নাসিম ফাউন্ডেশন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু ইউসুফ সূর্য এতে সভাপতিত্ব করেন।

বক্তব্য দেন সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয়, সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সাংসদ হাবিবে মিল্লাত মুন্না, জেলা আওয়ামী লীগ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কে এম হোসেন আলী হাসান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ, কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জান্নাত আরা তালুকদার হেনরী ও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ বিন আহমেদ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহমেদ, পুলিশ সুপার হাসিবুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ পৌর মেয়র সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা, কাজিপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সিরাজীসহ অনেকে।

গত বছর ১৩ জুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মোহাম্মাদ নাসিম মারা যান।

শেয়ার করুন

আড়াই মাস পর চালু হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন

আড়াই মাস পর চালু হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন

গত ২৬ মার্চ বিকেল ৪টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনের টিকিট কাউন্টারসহ সাতটি কক্ষে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন হেফাজতকর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

রেলওয়ের চিঠিতে আরও বলা হয়, মঙ্গলবার থেকে সুরমা মেইল, ময়মনসিংহ এক্সপ্রেসসহ চারটি মেইল, তিতাস কমিউটার ও কর্ণফুলী কমিউটারসহ দুটি কমিউটার ট্রেন চালু হবে। বুধবার থেকে ঢাকা-সিলেট রুটের আন্ত:নগর পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশন যাত্রাবিরতি করবে।

হেফাজতের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন প্রায় আড়াই মাস পর খুলে দেয়া হচ্ছে মঙ্গলবার। আন্ত:নগর পারাবত এক্সপ্রেস বুধবার থেকে স্টেশনে যাত্রা বিরতি করবে।

রেলওয়ের ট্রাফিক ট্রান্সপোর্টেশান শাখার উপপরিচালক (অপারেশন) রেজাউল হক স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, আপাতত 'ডি ক্লাস' মর্যাদার দিয়ে স্টেশনের কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন 'বি ক্লাস' মার্যাদায় কার্যক্রম চলতো। তবে সংস্কার কাজ ও সিগনালিং ব্যবস্থা পুনরায় স্থাপন না হওয়া পর্যন্ত 'ডি ক্লাস' থাকবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন।

রেলওয়ের চিঠিতে আরও বলা হয়, মঙ্গলবার থেকে সুরমা মেইল, ময়মনসিংহ এক্সপ্রেসসহ চারটি মেইল, তিতাস কমিউটার ও কর্ণফুলী কমিউটারসহ দুটি কমিউটার ট্রেন চালু হবে। বুধবার থেকে ঢাকা-সিলেট রুটের আন্ত:নগর পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশন যাত্রাবিরতি করবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনের মাস্টার শোয়েব আহমেদ বলেন, ‘স্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতি শুরু হবে বলে শুনেছি। তবে দাপ্তরিকভাবে চিঠি এখনও পাইনি।’

তিনি জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে মাদরাসাছাত্ররা রেলস্টেশনে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। গত ২৬ মার্চ বিকেল ৪টার দিকে স্টেশনের টিকিট কাউন্টারসহ সাতটি কক্ষে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন তারা। তারা রেললাইনের পাশে স্তূপ করে রাখা কাঠের স্লিপার লাইনের ওপর এনে আগুন ধরিয়ে দেন।

স্টেশন মাস্টার শোয়েব জানান, ২৭ মার্চ থেকে স্টেশনে সব ধরনের ট্রেনের যাত্রাবিরতি স্থগিত রয়েছে। স্টেশনের সিগনালিং ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ স্টেশনটির সার্বিক কার্যক্রম বন্ধ রাখে।

শেয়ার করুন

তিনজনকে গুলি করে হত্যার পেছনে কী

তিনজনকে গুলি করে হত্যার পেছনে কী

নিজের স্ত্রী ও আগের ঘরের সন্তানকে কেন পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, তা নিয়ে চলছে আলোচনা। হত্যার ঘটনার তদন্তে খুলনায় গঠিত হয়েছে আলাদা তদন্ত কমিটি।

খুনোখুনি কোনো নতুন ঘটনা নয়। তবে কুষ্টিয়া যা দেখেছে, তা বিরলই বলা চলে।

নিজের স্ত্রী, যার আগের সংসারের বাচ্চাকে মেনে নিয়েই বিয়ে করেছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা, সেই তিনিই কী আক্রোশে স্ত্রী ও সন্তানকে ধরে এনে পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে গুলি করে হত্যা করেছেন, তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।

খুনের অভিযোগ খুলনার ফুলতলা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সৌমেনের বিরুদ্ধে। এই দুজনকে ছাড়াও হত্যা করা হয়েছে আরও একজনকে, যার সঙ্গে তার স্ত্রীর সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করছিলেন সৌমেন।

সৌমেন রায় পাঁচ বছর আগে বিয়ে করেন আসমা খাতুনকে। এটি সৌমেনের দ্বিতীয় বিয়ে হলেও আসমার তৃতীয়।

আসমা এর আগে বিয়ে করেন সুজন ও রুবেল নামে দুজনকে। রুবেলের ঘরের সন্তান হলো রবিন।

আসমা খাতুন কুমারখালী উপজেলার যদবয়রা ইউনিয়নের ভবানীপুরের আমির উদ্দিনের মেয়ে। কিন্তু তিনি বড় হন তার নানিবাড়ি বাগুলাট ইউনিয়নের নাতুড়িয়ায়। সন্তান, মা ও ভাইকে নিয়ে কুষ্টিয়া শহরের আমলাপাড়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি।

কুষ্টিয়া শহরের কাস্টমস মোড়ে বেলা ১১টার দিকে তিন খুনের ওই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আসমা তার শিশুসন্তানকে নিয়ে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের কাস্টম মোড়ে তিনতলা একটি ভবনের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন বিকাশকর্মী শাকিলও। হঠাৎ সেখানে পৌঁছে সৌমেন পিস্তল বের করে আসমার মাথায় গুলি করেন। পাশে থাকা শাকিলের মাথায়ও গুলি করেন তিনি। আসমার ছেলে রবিন পালাতে গেলে তাকে ধরে মাথায় গুলি করা হয়।

এ সময় আশপাশের লোকজন সৌমেনকে ধরতে গেলে তিনি দৌড়ে তিনতলা ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়েন। পরে লোকজন ভবনটি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করেন।

একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সৌমেনকে গ্রেপ্তার করে। গুলিবিদ্ধদের উদ্ধার করে পাঠানো হয় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) খায়রুল আলম সাংবাদিকদের জানান, শাকিলের সঙ্গে আসমার বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তলটি জব্দ করা হয়েছে।

মেয়েকে গুলি করে হত্যার খবর শুনে কুষ্টিয়া হাসপাতালে আসেন মা হাসিনা খাতুন। তিনি বলেন, কয়েক মাস ধরে এএসআই সৌমেন আসমাকে নির্যাতন করে আসছেন। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার খাইরুল আলম আসমাকে সৌমেনের সাবেক স্ত্রী বললেও মা হাসিনা খাতুন বলেন, ‘তাদের এখনও ছাড়াছাড়ি হয়নি।

‘রোববার সকালে এসে সৌমেন তার স্ত্রী ও সন্তানকে খুলনা নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। পরে জানতে পারি তিনি তাদের গুলি করে মেরেছেন।’

মরদেহের পাশে কাঁদছিলেন আসমার ভাই হাসান। শাকিলের সঙ্গে আসমার সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, আসমার সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে কথা বলতে গিয়ে সম্পর্ক হয়। তারা বন্ধু ছিলেন। শাকিলের বাড়ি কুমারখালীর শাওতা গ্রামে।

কাঁদতে কাঁদতে শাকিলের বোন লিপি খাতুন বলেন, ‘আমার ভাইয়ের কী দোষ? আরেকজনের ওপর রাগ করে তকে মেরে ফেলল।’

এএসআই সৌমেনের বাড়ি মাগুরার শালিখা উপজেলার কসবা গ্রামে। খুলনায় তিনি প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে থাকেন।

হত্যার তদন্ত

তিনজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ও জেলা পুলিশ আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) তানভীর আহমেদ ও রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অ্যাডমিন) এ কে এম নাহিদুল ইসলাম।

খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির সভাপতি পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ। অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন ও কুষ্টিয়া ডিআইও-১ ফয়সাল হোসেন।

খুলনা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় গঠিত কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) তানভীর আহমেদ। অন্য সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) মো. খায়রুল আলম ও জেলা বিশেষ শাখার ডিআইও-১ শেখ মাসুদুর রহমান।

খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) তানভীর আহমেদ বলেন, প্রশাসনিক বিষয়গুলো তদন্ত করা হবে। বিশেষ করে এএসআই সৌমেন রায় কর্মস্থলে কেন অনুপস্থিত ছিলেন, তার নামে অস্ত্র ইস্যু হয়েছে কি না এবং পারিবারিক ও মানসিক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে।

অতিরিক্ত ডিআইজি (অ্যাডমিন) এ কে এম নাহিদুল ইসলাম বলেন, রেঞ্জ কার্যালয় দুই কার্যদিবস ও জেলা পুলিশ সাত কার্যদিবসে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।

শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে র‍্যাবের অভিযান, আটক ২১ দালাল

চট্টগ্রাম বিআরটিএতে র‍্যাবের অভিযান, আটক ২১ দালাল

‘বিআরটিএতে টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না সেবা নিতে আসাদের মাথায় ঢুকিয়ে দেয় দালালরা। পরে কৌশলে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে কাজ করে দেন।’

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে দালাল চক্রের ২১ সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব)।

নগরের বায়েজিদ থানাধীন নতুনপাড়া এলাকায় বিআরটিএ চট্টগ্রামের কার্যালয়ে রোববার দুপুরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৭ এর একটি দল।

এ সময় আটক দালালদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির ড্রাইভিং লাইসেন্স, বিভিন্ন ধরনের মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বেশ কিছু কাগজপত্র ও নগদ পৌনে দুই লাখ টাকা জব্দ করা হয়।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-৭ এর মিডিয়া অফিসার মো. নুরুল আবছার।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা বিআরটিএ চট্টগ্রাম কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে দালাল ও প্রতারক চক্রের ২১ সদস্যকে আটক করি। এ সময় তাদের কাছ থেকে লাইসেন্স তৈরি, লাইসেন্স নবায়ন, যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত ফরম ও কাগজপত্র জব্দ করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘বিআরটিএতে টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না সেবা নিতে আসাদের মাথায় ঢুকিয়ে দেয় দালালরা। পরে কৌশলে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে কাজ করে দেন।’

আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

দ্বিতীয় বিয়ে ঠিক হওয়ায় সাবেক স্ত্রীকে হত্যা: র‍্যাব

দ্বিতীয় বিয়ে ঠিক হওয়ায় সাবেক স্ত্রীকে হত্যা: র‍্যাব

লাখী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার জুয়েল, রফিক ও বাচ্চু। ছবি: নিউজবাংলা

প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রোববার দুপুরে র‍্যাব জানায়, তালাকের পর স্ত্রীর দ্বিতীয় বিয়ের কথা জেনেই তাকের হত্যার পরিকল্পনা করেন জুয়েল।

ঢাকার সাভারে বাঁশঝাড় থেকে তরুণীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সাবেক স্বামীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

গাজীপুরের কাশিমপুর থানার মাটি মসজিদ এলাকা থেকে শনিবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন নিহত তরুণী লাখী আক্তারের স্বামী আশুলিয়ার সুবন্দি এলাকার মো. জুয়েল, তার বাবা মো. রফিক ও একই এলাকার বাচ্চু মিয়া।

প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রোববার দুপুরে র‍্যাব জানায়, তালাকের পর স্ত্রীর দ্বিতীয় বিয়ের কথা জেনেই তাকের হত্যার পরিকল্পনা করেন জুয়েল।

র‍্যাব জানায়, গত ৯ জুন সাভারের আশুলিয়ার সুবন্দির একটি বাঁশঝাড় থেকে লাখীর মরদেহ উদ্ধার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। মামলার তদন্ত শুরু করে র‍্যাব।

তাদের তদন্তে জুয়েলের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাকে ও তার বাবাকে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যায় সহযোগিতার জন্য বাচ্চু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা লাখী হত্যায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।

দ্বিতীয় বিয়ে ঠিক হওয়ায় সাবেক স্ত্রীকে হত্যা: র‍্যাব
নিহত লাখী আক্তার

তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, জুয়েল মাদকসেবী। তিনি চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত। বিয়ের পর থেকেই লাখীকে শারীরিক নির্যাতন করতেন। চার বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়েবিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে লাখী আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের কোনাপাড়া এলাকায় বাবার বাড়িতে থাকা শুরু করে।

কিন্তু বিচ্ছেদের পর তিনি আবারও লাখীকে স্ত্রী হিসেবে নিতে চান কিন্তু পরিবারের কেউ রাজি না হওয়ায় লাখীকে হত্যার হুমকি দেন। এরপর গত ২ মে এক সিঙ্গাপুর প্রবাসীর সঙ্গে লাখীর বিয়ে ঠিক হওয়ার খবর পেয়ে আবারও হুমকি দেন।

৮ জুন তিনি কৌশলে লাখীকে বাড়ির পাশের জঙ্গলে ডেকে নেন। এরপর তিনি, তার বাবা ও বাচ্চু মিলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যান।

র‍্যাব-১-এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোর্শেদুল হাসান জানান, রোববার সকালে গ্রেপ্তার আসামিদের আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে দুপুরে তাদের ঢাকার মুখ্য বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

হরতালে অচল কোম্পানীগঞ্জ, প্রভাব নেই বসুরহাটে

হরতালে অচল কোম্পানীগঞ্জ, প্রভাব নেই বসুরহাটে

শনিবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া ৪৮ ঘণ্টার হরতালের দ্বিতীয় দিন রোববার। এ দিন সকাল থেকেই উপজেলার আট ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক অবরোধসহ বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। হরতাল আতঙ্কে বন্ধ ছিল উপজেলার বিভিন্ন বাজারের বেশিরভাগ দোকানপাট।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের ওপর হামলার প্রতিবাদে উপজেলা আওয়ামী লীগের (একাংশ) ডাকা হরতালের দ্বিতীয় দিনে সড়কে গাছের গুড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেছেন তার অনুসারীরা।

কার্যত অচল হয়ে পড়েছে উপজেলার আট ইউনিয়ন। তবে বাদলের প্রতিপক্ষ বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারীদের অবস্থানের কারণে পৌর এলাকায় এর প্রভাব পড়েনি।

শনিবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া ৪৮ ঘণ্টার হরতালের দ্বিতীয় দিন রোববার। এ দিন সকাল থেকেই উপজেলার আট ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক অবরোধসহ বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। হরতাল আতঙ্কে বন্ধ ছিল উপজেলার বিভিন্ন বাজারের বেশিরভাগ দোকানপাট।

উপজেলার বসুরহাট-চাপরাশিরহাট, বাংলাবাজার-চাপরাশিরহাট, চরএলাহী, বসুরহাট-চরপার্বতী সড়কসহ বিভিন্ন সড়কে গাছের গুড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করতে দেখা গেছে হরতাল সমর্থনকারীদের। এতে আটটি ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ সড়ক থেকে উপজেলার প্রধান শহর বসুরহাটের সঙ্গে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

হরতালে অচল কোম্পানীগঞ্জ, প্রভাব নেই বসুরহাটে

হরতালের এই প্রভাব অবশ্য পড়েনি বসুরহাট পৌরসভা এলাকায়। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সতর্ক অবস্থানে ছিলেন কাদের মির্জার অনুসারীরা। ভারী যান চলাচল বন্ধ থাকলেও অন্যান্য সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও র‌্যাবের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। ফায়ার সার্ভিসসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সড়কগুলোতে নিয়মিত টহল দেন। এ ছাড়া দফায় দফায় সড়কে ফেলে রাখা গাছের গুড়িসহ প্রতিবন্ধকতা তুলে দিচ্ছিলেন তারা।

উপজেলা আওয়ামী লীগের (একাংশ) মুখপাত্র মাহবুব রশিদ মঞ্জু বলেন, ‘৪৮ ঘণ্টার অবরোধের মধ্যে কাদের মির্জা ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।’

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুদ্দিন আনোয়ার জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউল হক মীর জানান, হরতালকে ঘিরে এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা রাস্তায় ব্যারিকেডগুলো সরিয়ে দিচ্ছে।

কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে বসুরহাট-দাগনভূঞা সড়কে শনিবার সকাল পৌনে ১০ টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাদলের ওপর হামলা হয় বলে জানান তার অনুসারীরা।

তাদের অভিযোগ, বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার উপস্থিতিতে তার অনুসারিরা এ হামলা চালিয়েছে। তবে পরে ঘটনার দায় অস্বীকার করেন কাদের মির্জা।

শেয়ার করুন

সেপটিক ট্যাংকে শ্রমিকের মৃত্যু

সেপটিক ট্যাংকে শ্রমিকের মৃত্যু

পুলিশ জানায়, মানিক মুন্সীর বাড়িতে সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করার জন্য ভেতরে নামেন ফরহাদ ও মাসুদ। এ সময় ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে দুজনই অসুস্থ হয়ে চিৎকার শুরু করেন। চিৎকার শুনে বাড়ির মালিকসহ প্রতিবেশীরা দ্রুত তাদের ট্যাংকের ভেতর থেকে ওপরে তোলেন। কিন্তু সেখানেই ফরহাদের মৃত্যু হয়। 

মাদারীপুরের শিবচরে সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় এক শ্রমিক আহত হন।

উপজেলার শিরুয়াইল ইউনিয়নের সিপাহি কান্দি গ্রামের মানিক মুন্সীর বাড়িতে বেলা দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মৃত ৩৫ বছর বয়সী ফরহাদ শেখ উপজেলার দক্ষিণ চর তাজপুর সিপাহি কান্দি গ্রামের বাসিন্দা।

শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিরাজ হোসেন নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, দুপুরে মানিক মুন্সীর বাড়িতে সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করার জন্য ট্যাংকের ভেতরে নামেন ফরহাদ ও একই উপজেলার সরদার মাহমুদের চর এলাকার মাসুদ ফকির। এ সময় ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে দুজনই অসুস্থ হয়ে চিৎকার শুরু করেন। চিৎকার শুনে বাড়ির মালিকসহ প্রতিবেশীরা দ্রুত তাদের ট্যাংকের ভেতর থেকে ওপরে তোলেন। কিন্তু সেখানেই ফরহাদের মৃত্যু হয়।

আহত মাসুদকে প্রথমে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শেয়ার করুন