মসজিদে অচেতন করে টাকা চুরি, মাল লুট

মসজিদে অচেতন করে টাকা চুরি, মাল লুট

ভোলার বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাবলিগ জামাতের কয়েকজন। ছবি: নিউজবাংলা

‘আমরা আমল শেষ করে এশার নামাজ আদায় করে খানা শেষ করে ঘুমাই। ফজরের ওয়াক্ত হলে স্থানীয় দেখতে পান, আমাদের সাথী ভাইয়েরা সকলে অচেতন। পরে তারা আমাদেরকে বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে নিয়ে যান।’

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার একটি মসজিদে অবস্থান করা তাবলিগ জামাতের সদস্যদের অচেতন করে টাকা চুরি ও মালপত্র লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলার কুতুবা ইউনিয়নের চৌকিদারবাড়ি জামে মসজিদে শনিবার রাতের কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটে। তাবলিগ জামাতের দলটির তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দলটির আমির মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন জানান, তারা শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইল মসজিদ থেকে ভোলার বোরহানউদ্দিনের উদ্দেশে রওনা হন। বোরহানউদ্দিন মাখরাজ মসজিদে পৌঁছান শনিবার। সেখান থেকে নিয়ম অনুযায়ী তারা কুতুবা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারবাড়ি জামে মসজিদে অবস্থান নেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা আমল শেষ করে এশার নামাজ আদায় করে খানা শেষ করে ঘুমাই। ফজরের ওয়াক্ত হলে স্থানীয় লোকজন দেখতে পান, আমাদের সাথি ভাইয়েরা সবাই অচেতন। পরে তারা আমাদের বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে নিয়ে যান।’

তাবলিগের এ সদস্য জানান, ১৪ জনের দলটির মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের বোরহানউদ্দিন হাসপাতাল থেকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বোরহানউদ্দিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ওই ১৪ জনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়।

বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহারুল আমিন জানান, তাবলিগ জামাতের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
চুরি যাওয়া শিশু ফেসবুকের বদৌলতে উদ্ধার
বদলি করায় বোরকা পরে ১০ লাখ টাকা চুরি
২৭ লাখ টাকা চুরি, গ্রেপ্তার ৩
গরু চুরির ঘটনায় পাঁচজনকে আটক
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গাছ চুরির মামলা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

প্রাইভেট কার-ভ্যানের সংঘর্ষে নিহত ২

প্রাইভেট কার-ভ্যানের সংঘর্ষে নিহত ২

এসআই বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উপজেলার বৈলর কালির বাজার এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেট কারের সঙ্গে ভ্যানের সংঘর্ষ হয়। এতে ভ্যানের যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। আর হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান ভ্যানচালক সৈয়দ আলী।

ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রাইভেট কারের সঙ্গে সংঘর্ষে ভ্যানের চালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উপজেলার বৈলর কালির বাজার এলাকায় মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ভ্যানচালক ৪৮ বছর বয়সী সৈয়দ আলীর বাড়ি উপজেলার কাঠাল ইউনিয়নের সাংরাইল গ্রামে। আরেকজনের পরিচয় এখনও জানাতে পারেনি পুলিশ।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন ত্রিশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিল্লাল হোসেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, সৈয়দ আলী ভ্যান নিয়ে মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে বাড়ি ফিরছিলেন। তখন তার ভ্যানে এক যাত্রী ছিলেন। পথে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উপজেলার বৈলর কালির বাজার এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেট কারের সঙ্গে ভ্যানের সংঘর্ষ হয়। এতে ভ্যানের যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এ সময় স্থানীয়রা গুরুতর আহত ভ্যানচালক সৈয়দ আলীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে তিনিও মারা যান।

এসআই বিল্লাল হোসেন আরও বলেন, ‘খবর পেয়ে নিহত সৈয়দ আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে, এর আগেই ঘটনাস্থল থেকে নিহত আরেকজনের মরদেহ নিয়ে গেছে পরিবার। তার বাড়ি আশপাশের ইউনিয়নে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’

ত্রিশাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন চন্দ্র দে বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে প্রাইভেট কারটি জব্দ করা গেলেও চালক পালিয়েছেন। নিহতের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।’

আরও পড়ুন:
চুরি যাওয়া শিশু ফেসবুকের বদৌলতে উদ্ধার
বদলি করায় বোরকা পরে ১০ লাখ টাকা চুরি
২৭ লাখ টাকা চুরি, গ্রেপ্তার ৩
গরু চুরির ঘটনায় পাঁচজনকে আটক
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গাছ চুরির মামলা

শেয়ার করুন

ঘর থেকে মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার

ঘর থেকে মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি সাব্বিরুল ইসলাম জানান, পারিবারিক কলহের জেরে প্রথমে ছেলেকে হত্যার পর আকলিমা আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কুষ্টিয়ার থানাপাড়া পুরাতন বাঁধ এলাকার নিজ বাড়ি থেকে মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার সকালে ঘরের মধ্যে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলন্ত মা ও বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃতরা হলেন, ৩৫ বছর বয়সী আকলিমা খাতুন ও তার ২ বছর বয়সী ছেলে জিম। আকলিমা ওই এলাকার মো. রতনের স্ত্রী। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বিরুল ইসলাম জানান, বুধবার সকালে রতনের দেয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আকলিমা ও জিমের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে প্রথমে ছেলেকে হত্যার পর আকলিমা আত্মহত্যা করেছেন বলে জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
চুরি যাওয়া শিশু ফেসবুকের বদৌলতে উদ্ধার
বদলি করায় বোরকা পরে ১০ লাখ টাকা চুরি
২৭ লাখ টাকা চুরি, গ্রেপ্তার ৩
গরু চুরির ঘটনায় পাঁচজনকে আটক
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গাছ চুরির মামলা

শেয়ার করুন

সৌদি আরবে বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত

সৌদি আরবে বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত

সৌদি আরবের জিদান বিমানবন্দরে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে পড়ে বাংলাদেশি এক যুবক নিহত হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

নিহতের বাবা দুলাল উদ্দিন বলেন, ‘২০১৭ সালে ফসলি জমি বিক্রি করে তামজিরুলকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলাম। ছেলের ইচ্ছে ছিল পরিবারে সচ্ছলতা আসলেই বাড়ি ফিরে আসবে। ছেলের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল।’   

সৌদি আরবের জিদান বিমানবন্দরে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে পড়ে বাংলাদেশি এক যুবক নিহত হয়েছেন।

যশরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম রিয়েল বুধবার সকালে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সোমবার বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে পড়ে তামজিরুল ইসলামের মৃত্যু হয়।

নিহত তামজিরুলের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার যশরা ইউনিয়নের কোর্শাপুর গ্রামে। তিনি জিদান বিমানবন্দরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতেন।

পরিবারের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘সোমবার বিমানবন্দরে কাজ করার সময় তাকে পতাকা স্ট্যান্ডে পতাকা বাঁধতে এবং লাইট সেট করতে বলা হয়। সে সময় তামজিরুল কোমরে সেফটি বেল্ট বেঁধে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ওঠেন। এ সময় হঠাৎ সেফটি বেল্টটি ছিঁড়ে গেলে তিনি নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এমন দুঃসংবাদে শোকে স্তব্ধ গোটা পরিবার ও এলাকাবাসী।

নিহতের বাবা দুলাল উদ্দিন বলেন, ‘২০১৭ সালে ফসলি জমি বিক্রি করে তামজিরুলকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলাম। ছেলের ইচ্ছে ছিল পরিবারে সচ্ছলতা আসলেই বাড়ি ফিরে আসবে। ছেলের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল।’

গফরগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘সৌদি আরবে ওই যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। তবে কী কারণে মৃত্যু হয়েছে তা জানা যায়নি।’

আরও পড়ুন:
চুরি যাওয়া শিশু ফেসবুকের বদৌলতে উদ্ধার
বদলি করায় বোরকা পরে ১০ লাখ টাকা চুরি
২৭ লাখ টাকা চুরি, গ্রেপ্তার ৩
গরু চুরির ঘটনায় পাঁচজনকে আটক
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গাছ চুরির মামলা

শেয়ার করুন

চাহিদার সময়ই বাড়ল ইউরিয়া সারের দাম

চাহিদার সময়ই বাড়ল ইউরিয়া সারের দাম

নওগাঁয় ইউরিয়া সারের দাম বাড়ায় বিপাকে কৃষক। ছবি: নিউজবাংলা।

কৃষকরা জানিয়েছেন, আমন মৌসুমের শুরুতে ৮১০ থেকে ৮২০ টাকায় ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার বিক্রি হয়েছে। তবে গত ১০-১৫ দিন ধরে প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৮৮০ থেকে ৯২০ টাকায়।

আমন চাষের মধ্যবর্তী সময়ে হঠাৎ নওগাঁয় বেড়েছে ইউরিয়া সারের দাম। ধান চাষে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সারটির প্রতি বস্তায় ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন জেলার প্রায় ৬৬ হাজার প্রান্তিক কৃষক।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এই মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের সবজি ও কৃষিশস্য রয়েছে আরও ২৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে।

ভরা মৌসুমে জেলায় ইউরিয়া সারের আনুমানিক চাহিদা ৩৩ হাজার টন। এসব সার সরবরাহে জেলায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) নিবন্ধিত সার ডিলার রয়েছেন ১২৭ জন।

প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে নওগাঁর ১১টি উপজেলায় ৬৬ হাজার পরিবার কৃষির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমন মৌসুমের শুরুতে ৮১০ থেকে ৮২০ টাকায় ৫০ কেজির প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার বিক্রি হয়েছে।

তবে গত ১০-১৫ দিন আগে নানা অজুহাতে সার ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেন। বর্তমানে প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৮৮০ থেকে ৯২০ টাকায়।

এ বিষয়ে সঠিক তদারকি ও বাজার পর্যবেক্ষণ না থাকায় ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার সুযোগ নিচ্ছেন বলে জানান কৃষকরা।

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কাশিয়ারা গ্রামের কৃষক আব্দুল মমিন জানান, ‘হামি পাঁচ বিঘা জমিত আমনের আবাদ করিছি। ধান লাগানার শুরুত ইউরিয়া সারের দাম আছিল বস্তাপ্রতি ৮১০-৮২০ টেকা করা। বর্তমানে প্রতি বস্তা দাম ৮৮০ থ্যাকা ৯২০ টেকা পর্যন্ত বাড়া গেছে।

‘প্রতি বস্তায় যদি কয়েক দিনের মধ্যে ৮০ থ্যাকা ১০০ টেকা পর্যন্ত বাড়া যায় তালে হামরা কীভাবে আবাদ করা পোষামু। বেশি মুনাফার আশায় ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াছে ইচ্ছা করা।’

রাণীনগর উপজেলার তিলাবদুর গ্রামের কৃষক সুবল দাস বলেন, ‘হামি ১০ বিঘা জমিত আমন ধানের আবাদ করিছি। প্রতি বিঘাত জমি হালচাষ, নিড়ানি, সার, সেচ, শ্রমিক খরচ দিয়া মোট সাড়ে ৭ হাজার থ্যাকা ৮ হাজারের মতো খরচ হয়। আর ফলন ভালো হলে সর্বোচ্চ ৮ থ্যাকা ১০ মণের মতো ধান পাওয়া যায় প্রতি বিঘাত।

চাহিদার সময়ই বাড়ল ইউরিয়া সারের দাম

‘এখন আমনের ভরা মৌসুম, তাই এখন ইউরিয়া সার জমিত দেওয়া লাগে। তবে বাজারোত প্রতি বস্তাত প্রায় ৮০-১০০ টেকার মতো বেশি দাম বাড়া গেছে। দোকানদাররা কচ্ছে, সারের নাকি সাল্পাই কম, তাই দাম বেশি। এত দাম যদি সারোত বাড়া যায়, জমির অন্য খরচ তো আছেই, সব মিলা তো কুলা উঠা পারমু না হামরা।’

সদর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের কৃষক সুজন হোসেন বলেন, ‘হামাকেরে এটি ইউরিয়া সার বস্তাপ্রতি কেনা লাগিচ্ছে ৮৮০ থ্যাকা ৯২০ টাকা দরে। কয়েক দিন আগেই ৮১০ থ্যাকা ৮২০ টেকা বস্তা দাম আছল। হঠাৎ দাম বাড়া গেল। কৃষকরা ধান উৎপাদন করে সবার চাহিদা মিটায়, কিন্তু কৃষকদের সুযোগ-সুবিধা সেভাবে কেউ দেখে না।’

নওগাঁ সদর উপজেলার পাহাড়পুর বাজারের খুচরা সার বিক্রেতা জাহিদুর রহমান জানান, ডিলারদের কাছ থেকে তাদের বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। আমন মৌসুমের শুরুতে ৮০০ টাকায় এক বস্তা ইউরিয়া সার কিনে খুচরায় বিক্রি করেছেন ৮২০ থেকে ৮৩০ টাকা দরে।

এখন ডিলারদের কাছ থেকেই তাদের ৮৬০ থেকে ৮৭০ টাকায় প্রতি বস্তা ইউরিয়া কিনতে হচ্ছে। পরিবহন খরচ যোগ করে খুচরা পর্যায়ে সেই সার তারা কৃষকের কাছে ৮৯০ কেউ ৯২০ টাকা বস্তা হিসেবে বিক্রি করছেন।

নিয়ামতপুর উপজেলার স্থানীয় ছাতড়া বাজারের সার ডিলার আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ইউরিয়া সারের চাহিদা অনুযায়ী আমরা পাচ্ছি না। এ ছাড়া গাড়ি ভাড়াও বৃদ্ধি হয়েছে। এসব কারণে খুচরা পর্যায়ে সার কিছুটা বেশি দামে বিক্রি হতে পারে। তবে আমরা ডিলাররা সরকার নির্ধারিত দামেই সার বিক্রি করছি। অতিরিক্ত দামে বিক্রি তো করছি না।’

জেলায় ইউরিয়া সারের কোনো সংকট নেই এবং নির্ধারিত দামে ডিলাররা সার বিক্রি করছেন বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি রেজাউল করিম।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চলতি ভরা মৌসুমে ইউরিয়া ও অন্যান্য সারের কোনো সংকট হয়নি। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ইউরিয়া সারের বরাদ্দ রয়েছে ৩ হাজার ৮০০ টন। ইতিমধ্যে বিসিআইসি ডিলাররা বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে বাফার গুদাম থেকে বরাদ্দ অনুযায়ী তাদের সার উত্তোলন করেছেন।

‘এখন পর্যন্ত ডিলাররা বেশি দামে সার বিক্রি করছেন এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। কোনোভাবেই যাতে সরকার নির্ধারিত দামের চাইতে বেশি না নেয়া হয় সেটা ডিলারদের নির্দেশনা দেয়া আছে। তবে অভিযোগ পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ।’

নওগাঁর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ শামসুল ওয়াদুদ জানান, ইউরিয়া সারের দাম বেশি নেয়া হচ্ছে কৃষকদের কাছ থেকে এমন অভিযোগ এখন পর্যন্ত পাননি। তবে কৃষকরা যদি সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করেন তাহলে ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘আপনি যেহেতু ইউরিয়া সারের দাম বেশি নেয়ার কথা বললেন, সে ক্ষেত্রে আমরা কৃষি বিভাগ থেকে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।’

আরও পড়ুন:
চুরি যাওয়া শিশু ফেসবুকের বদৌলতে উদ্ধার
বদলি করায় বোরকা পরে ১০ লাখ টাকা চুরি
২৭ লাখ টাকা চুরি, গ্রেপ্তার ৩
গরু চুরির ঘটনায় পাঁচজনকে আটক
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গাছ চুরির মামলা

শেয়ার করুন

বাউলশিল্পীর মাথা ন্যাড়া করার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩

বাউলশিল্পীর মাথা ন্যাড়া করার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩

বগুড়ার শিবগঞ্জে বাউল শিল্পীকে মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার অভিযোগ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। সংবাদ পেয়েই বাউলশিল্পীকে হেফাজতে নেয়া হয়। তার মুখে বিস্তারিত শুনে মামলা হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে রাতেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক আরও দুজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

বগুড়ার শিবগঞ্জে এক কিশোর বাউলশিল্পীকে জোর করে মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ওই কিশোর বাউলশিল্পী শিবগঞ্জ থানায় মামলা করে। পরে রাত ১১টার দিকে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কিশোর বাউলশিল্পী মেহেদী হাসান শিবগঞ্জ উপজেলার জুড়ি মাঝপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

গ্রেপ্তার তিন আসামি হলেন, একই এলাকার শফিউল ইসলাম, মেজবাউল ইসলাম ও তারেক রহমান।

অভিযুক্ত পলাতক বাকি দুই আসামি হলেন, ফজলু মিয়া ও আবু তাহের।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আর্থিক অনটনের কারণে মেহেদী ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে স্থানীয় এক বাউলশিল্পীর সঙ্গে গান শিখতে থাকেন। একপর্যায়ে গুরুকে অনুসরণ করে সে বাউলশিল্পীদের মতো বাবরি চুল, সাদা ফতুয়া, লুঙ্গি ও গামছা পরতে শুরু করে। পাশাপাশি তার গুরুর সঙ্গে বিভিন্ন বাউল অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে চারপাশে পরিচিতি পেতে শুরু করে।

বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে অভিযুক্তরা মেহেদী ও তার গান নিয়ে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এলাকায় ছড়াতে থাকেন। এর প্রতিবাদ করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে মেহেদীর ওপর হামলার হুমকি দেন।

একপর্যায়ে গত শনিবার রাতে অভিযুক্তরা মেহেদীর ঘরে ঢুকে তাকে জোর করে ন্যাড়া করে দেন। এ সময় অভিযুক্তরা তাকে মারধরও করেন। তখন মেহেদীর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।

পরে মঙ্গলবার রাতে মোবাইল ফোনে বাউলশিল্পীর মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার বিষয়টি জানতে পারেন শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম। এরপরই তিনি মেহেদীকে পুলিশ হেফাজতে নেন।

ওসি সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। সংবাদ পেয়েই বাউলশিল্পীকে হেফাজতে নেয়া হয়। তার মুখে বিস্তারিত শুনে মামলা হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে রাতেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক আরও দুজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

অসহায় ওই বাউলশিল্পীর পরবর্তী নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
চুরি যাওয়া শিশু ফেসবুকের বদৌলতে উদ্ধার
বদলি করায় বোরকা পরে ১০ লাখ টাকা চুরি
২৭ লাখ টাকা চুরি, গ্রেপ্তার ৩
গরু চুরির ঘটনায় পাঁচজনকে আটক
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গাছ চুরির মামলা

শেয়ার করুন

পরিত্যক্ত মিলনায়তনে অনুষ্ঠান

পরিত্যক্ত মিলনায়তনে অনুষ্ঠান

রাঙ্গামাটির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিত্যক্ত মিলনায়তনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে অনুষ্ঠান। ছবি: নিউজবাংলা

রাঙ্গামাটির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তন দেখা যায়, মিলনায়তনটির চারপাশ ঝোপঝাড়ে পূর্ণ। বিভিন্ন জাতি-সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বশীল ভাস্কর্যগুলোতে রং না করায় ময়লা জমেছে। মিলনায়তনের ছাদের সিলিং ভেঙে ঝুলে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ সেই সিলিংয়ে চলছে ফ্যান। বিভিন্ন স্থানে ছাদও খসে পড়ছে।

রাঙ্গামাটির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনটি দূর থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি পরিত্যক্ত না ভালো। তবে জরাজীর্ণ সেই ভবনেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে নানা অনুষ্ঠান।

অভিযোগ রয়েছে, পরিত্যক্ত ভবনটি এখনও অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া দেয়া হচ্ছে। তবে সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুনেল চাকমার দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভবনটি ভাড়া দেয়া বন্ধ রয়েছে।

পরিত্যক্ত মিলনায়তনে অনুষ্ঠান

সরেজমিনে ভবনটিতে দেখা যায়, মিলনায়তনটির চারপাশ ঝোপঝাড়ে পূর্ণ। বিভিন্ন জাতি-সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বশীল ভাস্কর্যগুলোতে রং না করায় ময়লা জমেছে। মিলনায়তনের ছাদের সিলিং ভেঙে ঝুলে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ সেই সিলিংয়ে চলছে ফ্যান। বিভিন্ন স্থানে ছাদও খসে পড়ছে। নাজুক অবস্থা শৌচাগারের।

সেই মিলনায়তনের ভেতরেই চলছিল স্বেচ্ছাসেবী একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান। আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত একজন জানান, সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে গত ১০ সেপ্টেম্বর ৪ হাজার ৬০০ টাকায় মিলনায়তনটি ভাড়া দেয় কর্তৃপক্ষ।

যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করে ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুনেল চাকমা বলেন, ‘অডিটোরিয়াম ভাড়া দেয়া বন্ধ করে দিয়েছি। আমরা ভাড়া দিইনি। জোর করে অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয়ে থাকে।’

পরিত্যক্ত মিলনায়তনে অনুষ্ঠান

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বিভিন্ন জাতির বিষয়ে ভিডিও নির্মাণে বড় ভূমিকা রয়েছে রাঙ্গামাটির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের। তবে তা খুব একটা দৃশ্যমান নয় বলে মন্তব্য করেন রাঙ্গামাটি জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক লতিত সি চাকমা।

তিনি বলেন, ‘ভারতের মিজোরামে চাকমা অটোনোমাস কাউন্সিল (সিএডিসি) যে পরিমাণে ভিডিও নির্মাণে স্পন্সর করে, সে অনুযায়ী রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের কর্মকাণ্ড অত্যন্ত নাজুক।’

লতিত চাকমা আরও বলেন, ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট হচ্ছে জনসম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠান। তাদের কাজই হচ্ছে জাতি ও জনস্বার্থ রক্ষা করা। তবে দুর্বল নেতৃত্ব ও দায়িত্বশীলতা না থাকলে সেসব রক্ষা কখনও সম্ভব নয়।’

মিলনায়তনের বিষয়ে তিনি জানান, এখানে সবাই অনুষ্ঠান করবে। সেই অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের প্রস্তুতি থাকতে হবে। সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবন পরিত্যক্ত হওয়া দুঃখজনক।

পরিত্যক্ত মিলনায়তনে অনুষ্ঠান

রাঙ্গামাটির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘অনেক দিন হলো সিলিং ঝুলে পড়েছে। যে কেউ এখানে মারা গেলে তারপর কর্তৃপক্ষ এটির ব্যবস্থা নেবে।’

ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুনেল চাকমা বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধানুযায়ী এ মাসের শেষের দিকে সচিবের আসার কথা। অডিটোরিয়াম পরিত্যক্ত হওয়ায় হয় সংস্কার করতে হবে, নয়তো একেবারে ভেঙে নতুন করে তুলতে হবে।’

ভাস্কর্যগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বর্ষাকাল চলছে। বর্ষাকাল শেষ হলেই ইনস্টিটিউটের সব ভাস্কর্য রং করা হবে।’

রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের সদস্য ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের আহ্বায়ক রেমলিয়ানা পাংখোয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অডিটোরিয়ামটি ভেঙে নতুন করে সেখানে অফিস কাম মাল্টিফাংশনাল ভবন নির্মাণ করা হবে। এ কারণে অডিটোরিয়াম ভবনটি সংস্কার না করে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে সচিব আসার কথা। করোনার কারণে আসতে পারছেন না।’

আরও পড়ুন:
চুরি যাওয়া শিশু ফেসবুকের বদৌলতে উদ্ধার
বদলি করায় বোরকা পরে ১০ লাখ টাকা চুরি
২৭ লাখ টাকা চুরি, গ্রেপ্তার ৩
গরু চুরির ঘটনায় পাঁচজনকে আটক
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গাছ চুরির মামলা

শেয়ার করুন

সৈকতে ছবির ফাঁদে পর্যটক

সৈকতে ছবির ফাঁদে পর্যটক

কক্সবাজার সৈকতে ফটোগ্রাফার দিয়ে ছবি তুলে হয়রানির শিকার হচ্ছেন পর্যটক। ছবি: নিউজবাংলা

পর্যটক জান্নাতুল বলেন, ‘৫২টি ছবির মধ্যে একই ছবি একাধিক ছিল। ২০টি ছবি নিতে চাইলে ওই ফটোগ্রাফার ক্যামেরায় থাকা সব ছবির দাম চেয়ে ধমক দেন।’ 

শেষ বিকেলে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে ছবি তুলছিলেন ঢাকা থেকে ঘুরতে যাওয়া ফোরকান-জান্নাতুল দম্পতি।

সুন্দর মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করার পর ফটোগ্রাফারের সঙ্গে ছবি তোলার সংখ্যা প্রসঙ্গে জানতে চান ফোরকান। তখন কথা-কাটাকাটি হয় তাদের মধ্যে।

ওই ফটোগ্রাফারের সঙ্গেই ছবিগুলো প্রিন্ট করতে যান সৈকতসংলগ্ন একটি দোকানে। ছবি প্রিন্ট করতে গিয়ে ফের কথা-কাটাকাটি হয় তাদের মধ্যে।

সুমন, রাফি, সুরাজসহ সাতজনের একদল যুবক নরসিংদী থেকে ঘুরতে যান সৈকতে। ছবি তোলা শেষে তাদেরও কথা-কাটাকাটি হতে দেখা যায় ফটোগ্রাফারের সঙ্গে।

সৈকতে ছবির ফাঁদে পর্যটক

তাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘সকালে আমার সৈকতে গোসল শেষে চার বন্ধু ছবি তুলি। ফটোগ্রাফারের সঙ্গে কথা হয়, ছবিপ্রতি তিন টাকা। তিনি প্রায় এক শ’র কাছাকাছি ছবি তোলেন। এর মধ্যে একই ছবি একাধিকবার ছিল।

‘পরে আমরা সেখান থেকে বাছাই করে ভালো ছবিগুলো নিতে চাইলে তিনি বলেন, বাছাই করে নিলে দাম পড়বে সাত টাকা করে।’

এমন ধরনের ঘটনা হরহামেশা ঘটছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে। তবে ঝামেলা এড়াতে এ ধরনের হয়রানির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে না পর্যটকরা।

বিষয়টি নিয়ে আরেক পর্যটক জান্নাতুল বলেন, ‘সৈকতে হাঁটছিলাম। এমন সময় একজন ফটোগ্রাফার প্রতি পিস ৫ টাকা করে কয়েকটি ভালো ছবি তুলে দেয়ার প্রস্তাব দেন। তার সঙ্গে একমত হয়ে দর-কষাকষি শেষে ৪ টাকা দরে ছবি তুলি।

‘ছবি তোলা শেষে ওই ফটোগ্রাফার আমাকে জানায় ৫২টি ছবি হয়েছে সব ছবি নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘৫২টি ছবির মধ্যে একই ছবি একাধিক ছিল। ২০টি ছবি নিতে চাইলে ওই ফটোগ্রাফার ক্যামেরায় থাকা ছবিগুলোর দাম দেয়ার জন্য ধমক দেন।’

পরে দর-কষাকষি করে ৩০টি ছবি নিতে বাধ্য হন জান্নাতুল।

সৈকতে ছবির ফাঁদে পর্যটক

টুরিস্ট পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঝামেলা এড়াতে পুলিশকে অভিযোগ করা হয়নি।’

তবে এ বিষয়ে তদারকি বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সৈকতে বিভিন্ন পয়েন্টে ফটোগ্রাফার রয়েছে প্রায় ৮০০ জন।

শুক্রবার ও শনিবার ছুটির দিনে ফটোগ্রাফারের সংখ্যা আরও বাড়ে। তারা দিনে গড়ে ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা আয় করেন।

কক্সবাজার সবচেয়ে বড় পর্যটন শহর হওয়ায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে।

একটু সুযোগ পেলেই প্রাণভরে নিশ্বাস নিতে ভ্রমণপিপাসুরা দূর-দূরান্ত থেকে কক্সবাজার সৈকতে ছুটে যান। দেশের বাইরে থেকেও সেখানে যান অনেক পর্যটক।

সৈকতের ফটোগ্রাফারদের এমন আচরণ প্রায়ই পর্যটকদের আনন্দ নষ্ট করে। যদিও এ ধরনের হয়রানির ক্ষেত্রে ঝামেলা এড়াতে পুলিশকে জানান না অধিকাংশ পর্যটক।

সৈকতে ছবির ফাঁদে পর্যটক

হয়রানির ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে অবশ্য সৈকতের অধিকাংশ ফটোগ্রাফার তা এড়িয়ে যান।

যারা কথা বলেছেন তারাও দাবি করেন, হয়রানি হয় না।

মো. রুবেল নামের এক ফটোগ্রাফার জানান, তিনি তিন বছর ধরে হিমছড়ি পয়েন্ট সৈকতে ছবি তোলেন। তবে তারা কাউকে হয়রানি করেন না।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি ও কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ।

সৈকতে নিয়মিত টহল টিমের এক সদস্য জানান, ‘সৈকতে আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থি যেসব ঘটনা ঘটে, আমরা হয়তো তার ২০ শতাংশ অভিযোগ পাই।’

হয়রানির শিকার হয়েও অধিকাংশ মানুষ অভিযোগ করেন না এটি স্বীকার করেছেন তিনি।

ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও হয়রানি থেকে রক্ষায় প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। হয়রানি কমাতে সব সময় আমাদের আটটি দল সৈকতে নিয়মিত টহল দেয়।

‘শুধু ছবি তোলা নয়, পর্যটককে যেকোনো ধরনের হয়রানি হয়েছে এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনানুগ পদক্ষেপ নেয়া হয়।’

আরও পড়ুন:
চুরি যাওয়া শিশু ফেসবুকের বদৌলতে উদ্ধার
বদলি করায় বোরকা পরে ১০ লাখ টাকা চুরি
২৭ লাখ টাকা চুরি, গ্রেপ্তার ৩
গরু চুরির ঘটনায় পাঁচজনকে আটক
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গাছ চুরির মামলা

শেয়ার করুন