করোনা: গোপালগঞ্জের দুই ইউনিয়নে বিশেষ লকডাউন

করোনা ঠেকাতে গোপালগঞ্জের দুই ইউনিয়নে বিশেষ লকডাউন দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। ছবি: নিউজবাংলা

করোনা: গোপালগঞ্জের দুই ইউনিয়নে বিশেষ লকডাউন

তেলিভিটা গ্রামের মানুষ যাতে অন্যত্র যাতায়াত করতে না পারে, সে জন্য গান্ধিয়াশুর-তেলিভিটা ঘাটের খেয়া (নৌকা) চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। সাতপাড়, বৌলতলী, পাটকেলবাড়ী ও গান্ধিয়াশুর এলাকার হাটবাজার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আগামী সাত দিন বন্ধ রাখতে উপজেলা প্রশাসন থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গোপালগঞ্জে এখন আতঙ্কিত এক গ্রামের নাম তেলিভিটা। মধুমতি বিলরুট চ্যানেলের পাশের এই গ্রামকে সবাই বিলাঞ্চল হিসেবেই চেনে। সেই গ্রামেই গত তিন দিনে ৪৪ জনের দেহে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ায় আশপাশের এলাকায়ও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

সেখানে সব সময় মনিটরিং করছেন প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। এলাকায় ঘুরে ঘুরে আরও লোকজনের নমুনা নেয়া হচ্ছে। সেগুলোও দ্রুত পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। হয়তো আরও অনেকের দেহেই করোনা সংক্রমণ ধরা পড়বে।

দূর থেকে পুরো গ্রামকে যেন মনে হয় নিভৃত একটি পল্লি। সাড়াশব্দহীন। সেখানকার যেসব লোকজন আক্রান্ত হননি তারাও ভয়ে আছেন।

এমন পরিস্থিতিতে করোনার বিস্তার রোধে সদর উপজেলার সাতপাড় ইউনিয়নের তেলিভিটা গ্রামসহ আশপাশের এলাকাকে বিশেষ লকডাউনের আওতায় আনা হয়।

শুক্রবার প্রশাসন লকডাউনের আওতা বাড়িয়েছে। সদর উপজেলার সাতপাড় ও সাহাপুর ইউনিয়নকে লকডাউনের আওতায় আনা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করা হচ্ছে সেখানকার বাসিন্দাদের।

গোপালগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের মেডিক্যাল অফিসার ডা. সাকিবুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

করোনা: গোপালগঞ্জের দুই ইউনিয়নে বিশেষ লকডাউন
লকডাউনে বন্ধ রয়েছে দুই ইউনিয়নের দোকানপাট

নিউজবাংলাকে তিনি জানান, তেলিভিটা গ্রামের বিভাষ কির্ত্তনীয়া সাতপাড় বাজারে মোটর গ্যারেজ ব্যবসায়ী করোনা উপসর্গ ঠান্ডা, কাশি ও জ্বর নিয়ে গত রোববার (২৩ মে) মারা যান। এরই জের ধরে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিলে তারা স্বাস্থ্য বিভাগকে জানান। পরে ওই গ্রামের ৯১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে গোপালগঞ্জ শেখ সায়েরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা আরটিপিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়।

বুধবার এদের মধ্যে ২৩ জনের করোনা পজিটিভ আসে। পরে তাদের হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। বুধবারই সকাল থেকে তেলিভিটা গ্রামসহ আশপাশের জনবহুল এলাকা বিশেষ লকডাউনের আওতায় আনা হয়।

এ ছাড়া গ্রামের আরও ৮৭ জনের করোনা নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এদের মধ্যে ২১ জনের করোনা ধরা পড়ে। এ নিয়ে একই গ্রামে এ পর্যন্ত ৪৪ জনের দেহে করোনা ধরা পড়েছে। আরও কতজন আক্রান্ত হয়েছেন সে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ভারতীয় ধরন রয়েছে কি না, তা পরীক্ষার জন্য শুক্রবার ঢাকায় নমুনা পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমদ।

তিনি জানান, একটি মেডিক্যাল টিম ওই গ্রামে সার্বক্ষণিক কাজ করছে। তারা আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষ খুঁজে বের করে নমুনা সংগ্রহ ও করণীয় সম্পর্কিত পরামর্শ দিচ্ছে।

তেলিভিটা গ্রামের মানুষ যাতে অন্যত্র যাতায়াত করতে না পারে, সে জন্য গান্ধিয়াশুর-তেলিভিটা ঘাটের খেয়া (নৌকা) চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্রামের মানুষকে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বের না হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সাতপাড়, বৌলতলী, পাটকেলবাড়ী ও গান্ধিয়াশুর এলাকার হাটবাজার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আগামী সাত দিন বন্ধ রাখতে উপজেলা প্রশাসন থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

হিন্দু-অধ্যুষিত এই এলাকার মানুষ প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে বৈধ বা অবৈধভাবে ভারত গিয়ে থাকে। নতুন আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ ভারতীয় ধরন বহন করছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা উচিত বলে সাধারণ মানুষ মনে করছে। কেননা, এর আগে তিনজন করোনা রোগী ভারত থেকে সাতপাড়ে নিজ গ্রামে এসে ঘোরাফেরা করেছেন। প্রশাসন জানতে পেরে তাদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বাধ্য করে।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রাশেদুর রহমান জানিয়েছেন, সাতপাড়, বৌলতলী ও সাহাপুর ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বাজার কমিটির নেতাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে। বৈঠকে ওই এলাকার চারটি সাপ্তাহিক হাট, বাজার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তেলিভিটা গ্রামের মানুষ যাতে অন্যত্র চলাচল করতে না পারে, সে জন্য খেয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্রামপুলিশ ও বৌলতলী পুলিশ ফাঁড়িকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, যাতে ওই গ্রামের মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর হতে বের হতে না পারে। বৃহস্পতিবার থেকে লকডাউনে থাকা তেলিভিটা গ্রামের ৭০টি পরিবারকে সরকারিভাবে খাদ্য সহায়তা দেয়া শুরু হয়েছে।

জেলায় এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭৯১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৯ জন মারা গেছেন; সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৬১০ জন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩ জন এবং হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ১২৮ জন।

আরও পড়ুন:
সেরে ওঠার তিন মাস পরও থাকছে করোনার প্রভাব: গবেষণা
করোনা সনদ ছাড়াই দেশে প্রবেশ করছেন ভারতীয় ট্রাকচালকরা
ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট রোধে বাংলাবান্ধা বন্দর বন্ধ
করোনায় আরও ৩১ মৃত্যু, শনাক্ত ১৩৫৮
সনদে ‘সময়’ নেই, বিড়ম্বনায় বিদেশগামী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগে ৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৬৮

২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগে ৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৬৮

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

২৪ ঘণ্টায় করোনায় দিনাজপুরে চার ও ঠাকুরগাঁওয়ে এক জনের মৃত্যু হয়েছে। দিনাজপুুরে ৭০, ঠাকুরগাঁওয়ে ৪২, রংপুরে ১৬, লালমনিরহাটে ১৬, কুড়িগ্রামে ১৪, গাইবান্ধায় পাঁচ, পঞ্চগড়ে তিন এবং নীলফামারী জেলায় দুই জন শনাক্ত হয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগে করোনায় পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুরে চার এবং ঠাকুরগাঁওয়ে এক জনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে বিভাগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪৩৮ জনে। নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১৬৮ জন।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সোমবার বিকালে নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, রোববার রংপুর বিভাগের আট জেলার ৫৭৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬৮ জনকে করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে।

২৪ ঘণ্টায় দিনাজপুুরে ৭০, ঠাকুরগাঁওয়ে ৪২, রংপুরে ১৬, লালমনিরহাটে ১৬, কুড়িগ্রামে ১৪, গাইবান্ধায় পাঁচ, পঞ্চগড়ে তিন এবং নীলফামারী জেলায় দুই জন করোনা শনাক্ত হয়েছেন।

রোববার পর্যন্ত রংপুর জেলায় ৫ হাজার ২৪৩ জন শনাক্ত এবং ১০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, দিনাজপুুরে ৬ হাজার ৩৪১ জন আক্রান্ত ও ১৫৮ জনের মৃত্যু, ঠাকুরগাঁওয়ে ২ হাজার ৬ জন শনাক্ত ও ৫৪ জনের মৃত্যু, গাইবান্ধায় এক হাজার ৮১৬ জন শনাক্ত ও ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়াও নীলফামারীতে ১ হাজার ৬১৭ জন আক্রান্ত ও ৩৮ জনের মৃত্যু, কুড়িগ্রামে ১ হাজার ৩৩১ জন আক্রান্ত ও ২৪ জনের মৃত্যু, লালমনিরহাটে ১ হাজার ১৯৫ জন আক্রান্ত ও ১৮ জনের মৃত্যু এবং পঞ্চগড় জেলায় ৮৫৯ জন আক্রান্ত ও ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. আহাদ আলী নিউজবাংলাকে বলেন, বিভাগে বর্তমানে ২০ হাজার ৪০৮ জন করোনা শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৮ হাজার ৪১৫ জন। বিভাগের প্রতিটি জেলায় শনাক্ত ও মৃত্যুর হার বেড়েছে।

আরও পড়ুন:
সেরে ওঠার তিন মাস পরও থাকছে করোনার প্রভাব: গবেষণা
করোনা সনদ ছাড়াই দেশে প্রবেশ করছেন ভারতীয় ট্রাকচালকরা
ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট রোধে বাংলাবান্ধা বন্দর বন্ধ
করোনায় আরও ৩১ মৃত্যু, শনাক্ত ১৩৫৮
সনদে ‘সময়’ নেই, বিড়ম্বনায় বিদেশগামী

শেয়ার করুন

‘ধর্ষণ’ করতে এসে গৃহবধূর হাত ভাঙল যুবক

‘ধর্ষণ’ করতে এসে গৃহবধূর হাত ভাঙল যুবক

বগুড়ার শাজাহানপুরে গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ জানায়, গৃহবধূর স্বামী দিনমজুরের কাজ করেন। তিন-চারদিন ধরে পাশের নন্দীগ্রাম উপজেলায় ছিলেন তিনি। স্বামীর অনুপস্থিতিতে রোববার গভীর রাতে ঘরে ঢুকে ওই গৃবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন স্থানীয় যুবক। এ সময় ভেঙে ফেলা হয় তার বাম হাতের হাড়।

বগুড়ার শাজাহানপুরে এক গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধর্ষণ চেষ্টার একপর্যায়ে তার বাম হাত ভেঙে গেছে বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।

শাজাহানপুর থানায় সোমবার সকালে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করেন ওই গৃহবধূর স্বামী।

পরে সোমবার দুপুরে ওই যুবককে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শাজাহানপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রাজ্জাক জানান, ওই গৃহবধূর স্বামী দিনমজুরের কাজ করেন। তিন-চারদিন ধরে পাশের নন্দীগ্রাম উপজেলায় ছিলেন তিনি। স্বামীর অনুপস্থিতিতে রোববার গভীর রাতে ঘরে ঢুকে ওই গৃবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন স্থানীয় যুবক। এ সময় ভেঙে ফেলা হয় তার বাম হাতের হাড়।

তিনি আরও বলেন, মামলার পর ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আহত ওই নারী বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আরও পড়ুন:
সেরে ওঠার তিন মাস পরও থাকছে করোনার প্রভাব: গবেষণা
করোনা সনদ ছাড়াই দেশে প্রবেশ করছেন ভারতীয় ট্রাকচালকরা
ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট রোধে বাংলাবান্ধা বন্দর বন্ধ
করোনায় আরও ৩১ মৃত্যু, শনাক্ত ১৩৫৮
সনদে ‘সময়’ নেই, বিড়ম্বনায় বিদেশগামী

শেয়ার করুন

নাফ নদী থেকে ২ নারীর মরদেহ উদ্ধার

নাফ নদী থেকে ২ নারীর মরদেহ উদ্ধার

টেকনাফে নাফ নদীর তীর থেকে তিন দিনে ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.হাফিজুর রহমান জানান, মরদেহ দুটি উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ দুটি রোহিঙ্গা নারীর কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীর তীর থেকে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের আলী খালী এলাকা সংলগ্ন নাফ নদী থেকে সোমরার বিকেলে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

এ নিয়ে গত ৩ দিনে তিন শিশুসহ ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মরদেহ দুটি উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ দুটি রোহিঙ্গা নারীর কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর আগে শনিবার এক নারী ও দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয় নাফ নদীর তীর থেকে। পরদিন রোববার হ্নীলা ইউনিয়নের নাফ নদীসংলগ্ন ফুলের ডেইল চর থেকে উদ্ধার হয় আরও এক শিশুর মরদেহ।

মরদেহের সঙ্গে থাকা পরিচয়পত্র দেখে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ। তারা হলেন কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী ১১ নম্বর শরণার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দা জানে আলমের স্ত্রী সমসেদা ও তাদের তিন সন্তান।

পুলিশের ধারণা, স্বামী-স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ একটি পরিবার ক্যাম্প থেকে গোপনে নৌকায় করে মিয়ানমারে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু পথের মাঝে নৌকাটি ডুবে যায়। হয়তো নিখোঁজ রয়েছে পরিবারের পুরুষটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোহিঙ্গা জানান, শুক্রবার রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে তিনটি নৌকা নাফ নদী দিয়ে মিয়ানমারের উদ্দেশে রওনা দেয়। একটি নৌকা পার হতে পারলেও অন্য দুটি নৌকা ডুবে যায়।

আরও পড়ুন:
সেরে ওঠার তিন মাস পরও থাকছে করোনার প্রভাব: গবেষণা
করোনা সনদ ছাড়াই দেশে প্রবেশ করছেন ভারতীয় ট্রাকচালকরা
ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট রোধে বাংলাবান্ধা বন্দর বন্ধ
করোনায় আরও ৩১ মৃত্যু, শনাক্ত ১৩৫৮
সনদে ‘সময়’ নেই, বিড়ম্বনায় বিদেশগামী

শেয়ার করুন

‘সড়কের কাজে এদিক-ওদিক হয়’

‘সড়কের কাজে এদিক-ওদিক হয়’

পাবনার ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় লোকজন। ছবি: নিউজবাংলা

অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী তরিকুল বলেন, ‘সড়কের কাজে এদিক-ওদিক হয়। কিছু ইটে সমস্যা ছিল, তা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আমি নিজে সংস্কারকাজ তদারক করছি। এখন নিম্নমানের কাজ হচ্ছে না।’

পাবনার ঈশ্বরদীতে সড়কের কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় লোকজন।

ঈশ্বরদী পৌর এলাকার পোস্ট অফিস মোড় থেকে বাঘইল রেলওয়ে সাঁকো পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তাদের অভিযোগ, নিম্নমানের বালু, ইট ও সুরকি ব্যবহার করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) জানায়, গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংস্কার প্রকল্পের আওতায় এক কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির নির্মাণকাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সততা ট্রেডার্স। এর স্বত্বাধিকারী তরিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি।

সোমবার স্থানীয় লোকজন জানান, বাঘইল রেলওয়ে সাঁকো এলাকায় সড়ক সংস্কারের জন্য নিম্নমানের ইট এনে খোয়া বানানো হচ্ছে। নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তড়িঘড়ি করে সংস্কারকাজ চলছে। সড়কের কাজের জন্য উপজেলা সদরের আবুল মনসুর খান স্টেডিয়ামের সামনে মজুত করা হয়েছে নিম্নমানের বালু ও সুরকি।

পাকশী রূপপুর বাজারের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হোছাইন বলেন, ‘চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে যেনতেনভাবে সড়কটির সংস্কারকাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।’

অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী তরিকুল বলেন, ‘সড়কের কাজে এদিক-ওদিক হয়। কিছু ইটে সমস্যা ছিল, তা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আমি নিজে সংস্কারকাজ তদারক করছি। এখন নিম্নমানের কাজ হচ্ছে না।’

এলজিইডির ঈশ্বরদী উপজেলা প্রকৌশলী এনামুল কবির বলেন, ‘আমি পরিদর্শনে গিয়ে সংস্কারকাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের সত্যতা পেয়েছি। এ ব্যাপারে ঠিকাদারকে সতর্ক করা হয়েছে। সংস্কারকাজে আমাদের নিয়মিত নজরদারি রয়েছে। এরপরও কোনো অনিয়ম করা হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
সেরে ওঠার তিন মাস পরও থাকছে করোনার প্রভাব: গবেষণা
করোনা সনদ ছাড়াই দেশে প্রবেশ করছেন ভারতীয় ট্রাকচালকরা
ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট রোধে বাংলাবান্ধা বন্দর বন্ধ
করোনায় আরও ৩১ মৃত্যু, শনাক্ত ১৩৫৮
সনদে ‘সময়’ নেই, বিড়ম্বনায় বিদেশগামী

শেয়ার করুন

পেকুয়া থেকে কিশোরীকে অপহরণ, বরিশালে উদ্ধার

পেকুয়া থেকে কিশোরীকে অপহরণ, বরিশালে উদ্ধার

মো. রিমন

অভিযোগ পাওয়ার পর পেকুয়া থানা পুলিশ উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযুক্ত ও ভিকটিমের অবস্থান বরিশালে বলে  শনাক্ত করে এবং বরিশাল বন্দর থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করে।

কক্সবাজারের পেকুয়া থেকে এক কিশোরীকে অপহরণের আটদিন পর বরিশাল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

একইসঙ্গে এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. রিমন নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে।

অপহৃত কিশোরীর বাড়ি পেকুয়া উপজেলায়।

ভিকটিমের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ জুন সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে কিশোরীকে জালিয়াখালী এলাকার নাজিম উদ্দিনের ছেলে মো. রিমনসহ আরো কয়েকজন অপহরণ করেন। এ ব্যাপারে পেকুয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে পরিবার।

অভিযোগ পাওয়ার পর পেকুয়া থানা পুলিশ উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযুক্ত ও ভিকটিমের অবস্থান বরিশালে বলে শনাক্ত করে এবং বরিশাল বন্দর থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করে।

পরে বরিশাল থেকে সোমবার ভিকটিমকে উদ্ধার ও অভিযুক্ত রিমনকে আটকের বিষয়টি পেকুয়া থানাকে অবহিত করেন বরিশাল বন্দর থানার এসআই নজরুল ইসলাম।

তিনি জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভিকটিমকে উদ্ধারের পাশাপাশি রিমন নামে এক যুবককে আটক করা হয়।

তিনি আরও জানান, পেকুয়া থানা‌র মাধ্যমে সংবাদ পান যে বরিশালের লাকুটিয়া ওছাপুল এলাকায় পুলিশ অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করেছে। পরে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার তারা ওই এলাকায় অভিযান চালান। পেকুয়া থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সেখান থেকে পুলিশ আসলে তাদের জিম্মায় দেয়া হবে।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান মজুমদার নিউজবাংলা এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পেকুয়া থানা পুলিশের টিম বরিশাল উদ্দেশ্য রওনা দিয়েছে। তাদের এখানে নিয়ে আসার পর বিস্তারিত জানতে পারব। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
সেরে ওঠার তিন মাস পরও থাকছে করোনার প্রভাব: গবেষণা
করোনা সনদ ছাড়াই দেশে প্রবেশ করছেন ভারতীয় ট্রাকচালকরা
ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট রোধে বাংলাবান্ধা বন্দর বন্ধ
করোনায় আরও ৩১ মৃত্যু, শনাক্ত ১৩৫৮
সনদে ‘সময়’ নেই, বিড়ম্বনায় বিদেশগামী

শেয়ার করুন

এবার মিলল লাশের পা, গ্রেপ্তার ১

এবার মিলল লাশের পা, গ্রেপ্তার ১

র‍্যাব-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট রওশুনুল ফিরোজ জানান, আজিজুর তার তিনটি মেডিক্যাল প্রোডাক্ট বিক্রি করে দিলে ২১ হাজার টাকা পাবে বলে জানায় আশরাফ। আজিজুর কিছু প্রোডাক্ট বিক্রির পর ৩ হাজার টাকা চাইতে গেলে হোমিওপ্যাথিক চেম্বারেই তাকে ছুরিকাঘাত করেন আশরাফ।

মাগুরা মহম্মদপুরের বিনোদপুর এলাকায় পুকুর থেকে উদ্ধার খণ্ডিত মরদেহের একটি পা উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৬। তবে এখনও নিখোঁজ মরদেহের মাথা।

মাগুরার জগদল ইউনিয়নের বিএনপির মোড় এলাকার পাটক্ষেত থেকে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পা উদ্ধার করা হয়।

এই পা আজিজুর রহমানের বলে নিশ্চিত করেছেন যশোর র‍্যাব-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট রওশুনুল ফিরোজ।

এ ঘটনায় যশোরের শার্সা থেকে আশরাফ আলী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আশরাফ আলীর বাড়ি মাগুরা সদরের মালিকগ্রামে। হিজমা থেরাপি নামে মাগুরায় তার একটি হোমিওপ্যাথিক চেম্বার আছে।

র‍্যাব-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট রওশুনুল ফিরোজ জানান, টাকাপয়সা লেনদেন নিয়ে আজিজুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। আজিজুর ঢাকার একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। তিনি তিনটি মেডিক্যাল প্রোডাক্ট বিক্রি করে দিলে ২১ হাজার টাকা পাবে বলে জানায় আশরাফ।

আশরাফের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, আজিজুর কিছু প্রোডাক্ট বিক্রির পর ৫ জুন দুপুরে ৩ হাজার টাকা চাইতে গেলে হোমিওপ্যাথিক চেম্বারেই তাকে ছুরিকাঘাত করেন আশরাফ। হত্যার পর তিনি মরদেহ ছয় টুকরা করেন।

মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারক বিশ্বাস নিউজবাংলাকে জানান, ৬ জুন সকালে এক নারী মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুরের কালুকান্দি গ্রামের এক পুকুরপাড় ঝাড়ু দিতে গিয়ে রক্তমাখা বস্তা দেখে আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে বস্তার ভেতরে পলিথিনে মোড়ানো দুই হাত, দেহ ও একটি পা বের করে। মাথা ও আরেকটি পা সেখানে ছিল না।

মরদেহের গায়ের পোশাক দেখে তা নিজের ভাইয়ের বলে শনাক্ত করেন হাবিবুর রহমান নামের এক ব্যক্তি।

ওই দিনই তিনি হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগ এনে অজ্ঞাতপরিচয়দের আসামি করে মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
সেরে ওঠার তিন মাস পরও থাকছে করোনার প্রভাব: গবেষণা
করোনা সনদ ছাড়াই দেশে প্রবেশ করছেন ভারতীয় ট্রাকচালকরা
ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট রোধে বাংলাবান্ধা বন্দর বন্ধ
করোনায় আরও ৩১ মৃত্যু, শনাক্ত ১৩৫৮
সনদে ‘সময়’ নেই, বিড়ম্বনায় বিদেশগামী

শেয়ার করুন

বাসের সঙ্গে মাহিন্দ্র ও অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ২

বাসের সঙ্গে মাহিন্দ্র ও অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ২

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বাসের সঙ্গে মাহিন্দ্র ও অটোরিকশার সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী জানান, উপজেলার বড়ইতলায় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে কিশোরগঞ্জগামী একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা মাহিন্দ্র ও অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়৷ এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশাচালক সুরুজ ও যাত্রী আব্দুর রশিদ মারা যান।

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বাসের সঙ্গে মাহিন্দ্র ও অটোরিকশার সংঘর্ষে অটোরিকশার চালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।

ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের বড়ইতলায় সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার অটোরিকশার চালক সুরুজ আলী, গৌরীপুর উপজেলার বড়ইতলা গ্রামের আব্দুর রশিদ। আহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পরেনি পুলিশ।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, উপজেলার বড়ইতলায় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কিশোরগঞ্জগামী একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাহিন্দ্র ও অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়৷ এতে ঘটনাস্থলেই অটোরিকশাচালক সুরুজ ও যাত্রী রশিদ মারা যান।

এসময় আরও পাঁচ যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদেরকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত বাসটিকে জব্দ করলেও চালক পালিয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

আরও পড়ুন:
সেরে ওঠার তিন মাস পরও থাকছে করোনার প্রভাব: গবেষণা
করোনা সনদ ছাড়াই দেশে প্রবেশ করছেন ভারতীয় ট্রাকচালকরা
ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট রোধে বাংলাবান্ধা বন্দর বন্ধ
করোনায় আরও ৩১ মৃত্যু, শনাক্ত ১৩৫৮
সনদে ‘সময়’ নেই, বিড়ম্বনায় বিদেশগামী

শেয়ার করুন