উপকূলজুড়ে ইয়াসের ক্ষত

উপকূলজুড়ে ইয়াসের ক্ষত

জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। ভেসে গেছে চিংড়ির ঘের। নষ্ট হয়েছে ফসলি জমি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন প্রশাসনের লোকজন। বিভিন্ন স্থানে দেয়া হয়েছে সহায়তা। তবে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

দেশের উপকূলে আঘাত হানেনি ইয়াস। আছড়ে পড়েছে পাশের দেশের ওড়িশায়। তবে এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সারা দেশে চার শিশুসহ সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

জোয়ারে পানিতে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। ভেসে গেছে চিংড়ির ঘের। নষ্ট হয়েছে ফসলের জমি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন প্রশাসনের লোকজন। বিভিন্ন স্থানে দেয়া হয়েছে সহায়তা। তবে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

কোন উপজেলায় কতজন পানিবন্দি

জোয়ারের পানিতে বাগেরহাটের চার উপজেলার প্রায় ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভেসে গেছে ২ হাজার ৯১টি চিংড়ি ঘের। তলিয়ে গেছে কাঁচা-পাকা রাস্তা।

মোরেলগঞ্জ উপজেলার পৌর সদর, বারইখালী, খাউলিয়া, বহরবুনিয়া, পুটিখালী ও বলইবুনিয়া ইউনিয়নে পানিবন্দি প্রায় ১ হাজার পরিবার।

প্রায় ১১শ পরিবার পানিবন্দি শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা, সাউথখালি ও রায়েন্দা ইউনিয়নের বগি, চালতাখালী, আশারকোল, গাবতলা, কদমতলা ও খুড়িয়াখালী গ্রামে।

উপ‌জেলার সাউথখা‌লি ইউ‌নিয়নের ব‌গি গ্রা‌মের বা‌সিন্দা আব্দুর রাজ্জাক আকন ব‌লেন, ‘দুপু‌রের পর থে‌কে জোয়া‌রের পা‌নি নাম‌তে শুরু ক‌রে‌ছে। পানি নাম‌তে শুরু কর‌লেও এখনও আমরা জলমগ্ন অবস্থায় আছি। বাড়ির আশপা‌শে ডোবা নালা ও খা‌লে পা‌নি আট‌কে জলাবদ্ধতা সৃ‌ষ্টি হ‌য়ে‌ছে।’

মোংলা উপজেলা চিলা, চাঁদপাই ও বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রায় ৮শ পরিববার পানিবন্দি। শতাধিক পরিবার পানিবন্দি রামপাল উপজেলার হুকরা, বাঁসতলি ও পেড়িখালী ইউনিয়নের তালবুনিয়া, লাজনগর ও শ্রফলতলা গ্রামে।

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ বৈদ্য বলেন, জোয়ারের পানি নেমে যাচ্ছে। জেলার নিম্নাঞ্চলের কিছু গ্রামের মানুষ এখনও পানিবন্দি রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিম্নাঞ্চলগুলোর পানিও দ্রুত নেমে যাবে।

শরণখোলা উপ‌জেলা চেয়ারম্যান রায়হান উ‌দ্দিন শান্ত ব‌লেন, ‘পা‌নি নাম‌তে শুরু ক‌রে‌ছে। ব‌লেশ্বর নদী তীরের এলাকাগু‌লোতে এখনও পা‌নি র‌য়ে‌ছে। ত‌বে সমস্যা হ‌চ্ছে পা‌নি‌তে ডোবা, নালা, খাল ও পুকুর পা‌নি আট‌কে থে‌কে জলাবদ্ধতা সৃ‌ষ্টি হ‌য়ে‌ছে।’

বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস. এম রাসেল বলেন, জোয়ারের পানির প্রভাবে জেলার দুই হাজার ৯১টি চিংড়ি ঘের ভেসে গেছে। এর মধ্যে রামপালে নয়শ ১৭টি, মোংলায় ছয়শ ৮৫টি, মোরেলগঞ্জে তিনশ ৪৫টি ও শরণখোলায় একশ ৪৪টি ঘের ভেসে গেছে।

উপকূলজুড়ে ইয়াসের ক্ষত
জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে চিংড়ি ঘের

মো‌রেলগঞ্জর নিশারবাড়ীয়া গ্রা‌মের চা‌ষি রু‌বেল শ‌রিফ ব‌লেন, ‘মোর ছোট বড় মিল্লাহ ৬ বিঘার দুইডা ঘের আ‌ছে। ধার দেনা কইরা দুই লাখ টাহার মাছ ছারছালাম, সব ভাসাইয়া লইয়া গে‌ছে। মোর এহন আর কিছু নাই।’

রামপালের হুকরা গ্রা‌মের বা‌সিন্দা চা‌ষি ম‌নোরঞ্জর ঢা‌লি ব‌লেন, ‘সব মি‌লে আমার ১২ বিঘার তিন‌টি ঘের র‌য়ে‌ছে। যার ম‌ধ্যে দু‌টি পু‌রোপু‌রি ভে‌সে গে‌ছে। তিন লাখ টাকার ক্ষ‌তি হ‌য়ে‌ছে আমার। আমার মতো গ্রা‌মের অন্য চা‌ষি‌দেরও একই অবস্থা। আমা‌দের পু‌রো উপ‌জেলার মাছ চা‌ষি‌দের সবাই কম বে‌শি ক্ষ‌তিগ্রস্ত।’

ভোলার উপকূলীয় এলাকার ৩০টি চর প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ। তলিয়ে গেছে কমপক্ষে ১০ হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান ও সবজি।

দিনভর মেঘনার পানি বিপৎসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

প্রবল জোয়ারের চাপে জেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৪০ মিটার অংশ ভেঙে গেছে। এ ছাড়া আরও ১৫টি পয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে বুধবার দুপুরের পর মেঘনায় জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় বিস্তীর্ণ জনপদ। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ার পাশাপাশি ভেসে গেছে পুকুর ও মাছের ঘের। তলিয়ে গেছে কমপক্ষে ১০ হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান ও সবজি।

উপকূলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছে সাইক্লোন সেন্টারে।

অতি জোয়ারে ঢালচর, কুকরি-মুকরি, চরপাতিলা, চরজ্ঞান, সোনার চর, কুলাগাজীর তালুক, চর যতিন, চর শাহজালাল ও কলাতলীর চরে ৩ থেকে ৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হয়েছে।

সাগর মোহনায় ডালচরের ইউনিয়নের মরজিনা বেগম বলেন, ‘আমাগো খোঁজখবর কেউ রাহেনা। গত তিনডা দিন ধইরা পানির লগে যুদ্ধ কইরা টিক্কা আছি। পানি উঠলে আমাগো দুরভোগের শেষ নাই। রান্না করতো পারি না, খাইতো পারি না। পোলাই ছাউন লইয়া অনেক কষ্টের মইদ্ধে আছি। ভানের পানিতো আমাগো ঘর পইরা গেছে।

‘এহন ঘর কেমনে ঠিক করমু পোলাইন ছাউন লইয়া কোন জায়গা থাকমু সেই চিন্তায় ও বাচি না। শুধু আমি না। আমাগো মতো অনেক মাইনষের ঘর দুয়ার পানিতে ভাসাইয়া লয়া গেছে মাথা গোছানের মতো জায়গা নায়। এহন সরকার যদি আমাগো দিকে চায় তাহইলে আমাগো কিছুডা রক্ষা হইব।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বাবুল আক্তার জানান, বাঁধের বাইরে যেসব নিচু এলাকা রয়েছে, সবগুলো তলিয়ে গেছে।



উপকূলজুড়ে ইয়াসের ক্ষত

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলায় ৩২৫ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে ৭৫ কিলোমিটার বাঁধ সিসি ও জিও ব্যাগে মোড়ানো থাকলেও ২৫০ কিলোমিটার বাঁধ মাটির তৈরি। যার মধ্যে প্রায় ২ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চরফ্যাশনে বাঁধের ৫টি পয়েন্ট, মনপুরায় ৩টি পয়েন্ট, বোরহানউদ্দিনে ২টি, লালমোহনে ২টি, তজুমদ্দিন, দৌলতখান ও সদরে ১টি করে পয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতের কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বাবুল আক্তার।

ইয়াসের প্রভাবে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় কক্সবাজার জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উপকূলীয় এলাকাগুলোতে উপড়ে পড়েছে গাছপালা। বিধ্বস্ত হয়েছে পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি। জোয়ারের পানির তোড়ে ভেঙে গেছে সেন্টমার্টিনের প্রধান জেটিঘাট। টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপে বেড়িবাঁধের ব্লকে ধস নেমেছে।

সদর, মহেশখালী, পেকুয়া, চকরিয়া ও টেকনাফের ১৬ ইউনিয়নে দুই হাজার ৯৬ টন লবণের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

শহরের সমিতিপাড়া, নুনিয়ারছড়া পানিরকুপপাড়া, গোদারপাড়াসহ অন্তত ৮টি এলাকায় ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে হাজারও মানুষ।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হাবিব খান বলেন, দ্বীপে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না হলে যে কোনো সময় সেন্টমার্টিন তলিয়ে যাবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

মাতারবাড়ির ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাস্টার মাহমদুল্লাহ্ জানিয়েছেন, জোয়ারের পানিতে মাতারবাড়ির ইউনিয়নের ৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। এরইমধ্যে ৫০ থেকে ৮০টি ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। স্থানীয় প্রশাসনের তরফ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

কুতুবদিয়ার বাসিন্দা মো. সিকদার জানান, কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরুং, আলী আকবরডেইল ও কৈয়ারবিল ইউনিয়নে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে বেড়িবাঁধ ভেঙে ২০টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

এতে করে প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।

একইভাবে মহেশখালীর ধলঘাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে প্রায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সংবাদকর্মী রকিয়ত উল্লাহ।

চট্টগ্রামের চারটি উপজেলায় বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সজীব কুমার চক্রবর্তী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উপকূলীয় চার উপজেলায় জোয়ারের পানিতে বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা, ছনুয়া ও খানখানাবাদে বেড়িবাঁধ ভাঙনের মধ্যে পড়েছে।

‘সেখানে পানি বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। সন্দ্বীপ উপজেলার সারিকাইত ইউনিয়নে বেড়িবাঁধের একটি অংশে প্রায় পাঁচ মিটার ভেঙে পানি ঢুকে পড়েছে।’

উপকূলজুড়ে ইয়াসের ক্ষত


তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় আনোয়ারা উপজেলায় সাঙ্গু নদীর তীরে রায়পুর ইউনিয়নে একটি বেড়িবাঁধ ভাঙনের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। জোয়ারের পানি নদী তীরের কয়েকটি বসতঘরেও ঢুকেছে। এ ছাড়া সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের আখিলপুর এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকেছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম জাকারিয়া জানান, উপকূলীয় চার উপজেলায় বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। যেসব বেড়িবাঁধ ভেঙেছে সেগুলো মেরামতের জন্য তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

খুলনার পাইকগাছা, দাকোপ ও কয়রা উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে ক্ষতিগ্রস্ত ১১টি ইউনিয়নের ১৪টি স্থান পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন।

এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে শিশু খাদ্য, গো-খাদ্যসহ পাঁচশত সাধারণ মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় করে পরিস্থিতি মোকাবেলার পরামর্শও দেন তিনি।

পরিদর্শনকালে খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহাবুব হাসান, সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ইকবাল হোসেন, পাইকগাছা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগণ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস : বছর না ঘুরতেই ফের পানিতে কয়রা
দুর্বল ইয়াসে দেশে ৭ প্রাণহানি
ভোলায় ইয়াসের প্রভাবে ডুবল ৩০ চর
ঝড় বৃষ্টি থাকবে উপকূলে, সতর্ক সংকেত বহাল
বরগুনায় ২ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত, মৃত্যু ২

শেয়ার করুন

মন্তব্য

৫ বছর পর হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার

৫ বছর পর হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার মো.মামুন। ছবি: নিউজবাংলা

গ্রেপ্তার মামুনকে শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা দায়রা জজ আদালতে তোলা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার পোমরায় পাঁচ বছর আগের হত্যা মামলার পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সিএনজি অটোরিকশা চালক মো.ইকবাল হোসেনকে হত্যার দায়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় পোমরা ছাইনি পাড়া এলাকা থেকে মো.মামুনকে গ্রেপ্তার করে রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তার মামুনকে শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা দায়রা জজ আদালতে তোলা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব মিল্কি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামুন রাঙ্গুনিয়ার পোমরা ইউনিয়নের ছাইনি পাড়া গ্রামের বাসিন্দা। আর খুন হওয়া ইকবাল পোমরা ইউনিয়নের রোসাইপাড়া এলাকার।

২০১৬ সালের ১৭ জুলাই মামুন ও তার সহযোগী মো. সৈয়দ,নবীর হোসেন বুলেট, জাহেদুল ইসলাম ও আলমগীর ফরাজী একই এলাকার সিএনজি অটোরিকশা চালক ইকবাল হোসেনকে ঘর থেকে ডেকে উত্তর পোমরা গ্রামের মইত্যাতলী দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে তারা ইকবালকে জবাই করে হত্যা করেন। এরপর হাত পা ও মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখা হয়।

২ আগস্ট স্থানীয় কাঠুরিয়ারা জঙ্গলে হাত পা ও মাথাবিহীন মরদেহ দেখতে পেয়ে খবর দিলে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। পরে এটি ইকবালের বলে শনাক্ত করে পরিবার।

সে সময় ইকবালের পরিবার পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করে। ওই মামলায় মামুন ছাড়া বাকী চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস : বছর না ঘুরতেই ফের পানিতে কয়রা
দুর্বল ইয়াসে দেশে ৭ প্রাণহানি
ভোলায় ইয়াসের প্রভাবে ডুবল ৩০ চর
ঝড় বৃষ্টি থাকবে উপকূলে, সতর্ক সংকেত বহাল
বরগুনায় ২ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত, মৃত্যু ২

শেয়ার করুন

ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেলচালক নিহত

ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেলচালক নিহত

সার্জেন্ট মাহবুব ইসলাম জানান, বরিশাল থেকে মোটরসাইকেলে গৌরনদীর দিকে যাচ্ছিলেন দেলোয়ার। পথে আশোকাঠি ফিলিং স্টেশন এলাকায় পৌঁছলে মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে একটি ট্রাক চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

বরিশালের গৌরনদীতে ট্রাকের চাপায় এক মোটরসাইকেলচালক নিহত হয়েছেন। এ সময় ট্রাকচালককে আটক করেছে পুলিশ।

গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠি ফিলিং স্টেশন এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে শনিবার দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দেলোয়ার বরিশাল সদর উপজেলার দক্ষিণ পলাশপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি বেবি কেয়ার কোম্পানির প্রোডাক্ট প্রমোশন অফিসার ছিলেন।

আটক ট্রাকচালক সোহাগের বাড়ি মাদারীপুরে।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট মাহবুব ইসলাম জানান, বরিশাল থেকে মোটরসাইকেলে গৌরনদীর দিকে যাচ্ছিলেন দেলোয়ার। পথে আশোকাঠি ফিলিং স্টেশন এলাকায় পৌঁছলে মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে একটি ট্রাক চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দেলোয়ার নিহত হন।

ট্রাকচালক সোহাগকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস : বছর না ঘুরতেই ফের পানিতে কয়রা
দুর্বল ইয়াসে দেশে ৭ প্রাণহানি
ভোলায় ইয়াসের প্রভাবে ডুবল ৩০ চর
ঝড় বৃষ্টি থাকবে উপকূলে, সতর্ক সংকেত বহাল
বরগুনায় ২ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত, মৃত্যু ২

শেয়ার করুন

মন্ত্রিপুত্রের বাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন গ্যাসের অবৈধ ২২ সংযোগ

মন্ত্রিপুত্রের বাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন গ্যাসের অবৈধ ২২ সংযোগ

শুক্রবার বিকেলে ও শনিবার সকালে দুই দফায় এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় বলে জানিয়েছেন কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নূরুল আবসার সিকদার।

সাবেক প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলামের ছেলে মুজিবুর রহমানের বাড়িতে থাকা গ্যাসের অবৈধ ২২টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

চান্দগাঁও সানোয়ারা আবাসিক এলাকা থেকে এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল)।

শুক্রবার বিকেলে ও শনিবার সকালে দুই দফায় এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় বলে জানিয়েছেন কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (কোম্পানি সচিব) মোহাম্মদ নূরুল আবসার সিকদার।

জালিয়াতি করে মুজিবুর রহমানকে অবৈধ গ্যাস-সংযোগ দেয়া এবং স্থানান্তরের অভিযোগে বৃহস্পতিবার কেজিডিসিএলের বর্তমান ও সাবেক দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে দুদক।

তারা হলেন মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং ও সার্ভিসেস) সরোয়ার হোসেন ও সাবেক ব্যবস্থাপক মুজিবুর রহমান।

শুক্রবার তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এই মামলায় অন্য তিন আসামি হলেন কেজিডিসিএলের সাবেক মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, টেকনিশিয়ান দিদারুল আলম এবং অবৈধ গ্যাস-সংযোগ নেয়া মুজিবুর রহমান।

দুদকের এজাহারে বলা হয়, হালিশহরে এম এ সালাম নামে একজনের নামে বরাদ্দ করা ১৮টি দ্বৈত চুলার সংযোগ থেকে ১২টি সংযোগ চান্দগাঁও সানোয়ারা আবাসিক এলাকায় স্থানান্তর করা হয়। মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ‘ভুয়া চুক্তিনামা’ দেখিয়ে এটি করা হয়। অথচ এক গ্রাহকের নামে বরাদ্দ সংযোগ অন্য গ্রাহককে দেয়ার বিধান নেই।

২০১৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাস-সংযোগ দেয়া বন্ধ থাকলেও সানোয়ারা আবাসিক এলাকায় মুজিবুর রহমানের নামে আরও ১০টি সংযোগ দেয়া হয়।

২০১৬ সালের ২ মার্চ থেকে পরের বছরের ২ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব সংযোগ দেয়া হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় গত ৯ জুন দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিন পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস : বছর না ঘুরতেই ফের পানিতে কয়রা
দুর্বল ইয়াসে দেশে ৭ প্রাণহানি
ভোলায় ইয়াসের প্রভাবে ডুবল ৩০ চর
ঝড় বৃষ্টি থাকবে উপকূলে, সতর্ক সংকেত বহাল
বরগুনায় ২ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত, মৃত্যু ২

শেয়ার করুন

এবারও হচ্ছে না শাহজালাল মাজারের ওরস

এবারও হচ্ছে না শাহজালাল মাজারের ওরস

হযরত শাহজালাল (র.) মাজার প্রাঙ্গণ। ফাইল ছবি।

সংবাদ সম্মেলনে ফতেহ উল্লাহ বলেন, আগামী ১ ও ২ জুলাই শাহজালাল (র.) এর ৭০২ তম ওরস মোবারক যথাযথ আনুষ্ঠানিকতায় পালিত হওয়ার কথা। তবে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় অন্যান্য বছরের মতো আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হবে না। ভক্ত ও আশেকানদের স্ব স্ব স্থানে থেকে ইবাদত বন্দেগি করার অনুরোধ জানান তিনি।

সিলেটের সাতশ' বছরের ঐতিহ্য হযরত শাহজালাল (র.) মাজারের ওরস এবারও হচ্ছে না। করোনা সংক্রমণ উর্ধমুখী থাকায় গত বছরের মতো এবারও উরস আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাজার কমিটি।

সংবাদ সম্মেলনে শনিবার দুপুরে এ তথ্য জানান শাহজালাল (র.) মাজারের মতোয়াল্লি ফতেহ উল্লাহ আল আমান।

সাতশ' বছরের ধারাবাহিকতায় ছেদ ঘটিয়ে গত বছরই প্রথমবারের মতো ওরসের আয়োজন করা হয়নি। এবারও ওরস মোবারকের কোনো আনুষ্ঠানিকতা থাকছে না।

সংবাদ সম্মেলনে ফতেহ উল্লাহ বলেন, আগামী ১ ও ২ জুলাই শাহজালাল (র.) এর ৭০২ তম ওরস মোবারক যথাযথ আনুষ্ঠানিকতায় পালিত হওয়ার কথা। তবে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় অন্যান্য বছরের মতো আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হবে না। ভক্ত ও আশেকানদের স্ব স্ব স্থানে থেকে ইবাদত বন্দেগি করার অনুরোধ জানান তিনি।

এর আগে, করোনা পরিস্থিতিতে গত বছরও ৭০১ তম ওসর মোবারক আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়নি।

দরগাহ কর্তৃপক্ষ জানায়, করোনার কারণে কর্তৃপক্ষ কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের নিয়ে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা পালিত হবে। এ সময় মাজারের মূল ফটক বন্ধ থাকবে। ফলে সাধারণ মানুষজন প্রবেশ করতে পারবেন না।

প্রতিবছর ওরসের সপ্তাহখানেক আগে 'লাকড়ি ভাঙা' নামে এক ধরণের অনুষ্ঠান করা হয়। এবার লাকড়ি ভাঙা অনুষ্ঠানও হয়েছে সীমিত পরিসরে।

ইয়েমেন থাকা আসা পীর হযরত শাহজালাল (র.)-এর মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রতিব্ছর এই ওরসের আয়োজন করা হয়। দেশ-বিদেশ থেকে শাহজালালের লক্ষাধিক ভক্ত ওরস চালাকালে মাজার প্রাঙ্গণে সমেবত হন। দুইদিনব্যাপী ওরসে জিকির আসকার ও ধর্মীয় নানা আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন তারা।

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস : বছর না ঘুরতেই ফের পানিতে কয়রা
দুর্বল ইয়াসে দেশে ৭ প্রাণহানি
ভোলায় ইয়াসের প্রভাবে ডুবল ৩০ চর
ঝড় বৃষ্টি থাকবে উপকূলে, সতর্ক সংকেত বহাল
বরগুনায় ২ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত, মৃত্যু ২

শেয়ার করুন

‘সিরিয়াফেরত জঙ্গি’ ৩ দিনের রিমান্ডে

‘সিরিয়াফেরত জঙ্গি’ ৩ দিনের রিমান্ডে

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) রাছিব খান জানান, সাখাওয়াতের পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত তিনদিন দিয়েছে। তাকে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার ‘সিরিয়াফেরত জঙ্গির’ তিনদিনের রিমান্ড আবেদন গ্রহণ করেছে আদালত।

চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম হোসেন মো. রেজার আদালত শনিবার বিকেল ৪টার দিকে সাখাওয়াত আলীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) রাছিব খান নিউজবাংলাকে জানান, সাখাওয়াতের পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। তাকে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন শাখার উপপরিদর্শক (এসআই) আবছার উদ্দিন রুবেল জানান, ২০১২ সালে ভায়রাভাই আরিফ মামুনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামে যোগ দেন সাখাওয়াত। ওই সংগঠনের নেতা চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াসহ অন্যদের মাধ্যমে জিহাদি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

এরই অংশ হিসেবে ২০১৭ সালে সাখাওয়াত তুরস্কে যান। সেখান থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত দিয়ে সিরিয়ায় গিয়ে জঙ্গিনেতা হায়াত তাহরির আশরাকের কাছ থেকে ভারী অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নেন। সিরিয়ার ইদলিব এলাকায় প্রায় ছয় মাস প্রশিক্ষণ নেন তিনি।

পরে সিরিয়া থেকে ইন্দোনেশিয়ায় আসেন। সেখান থেকে শ্রীলঙ্কা হয়ে আবার ইন্দোনেশিয়ায় যান। চলতি বছর মার্চে তিনি দেশে ফিরে আসেন।

নগরীর দক্ষিণ খুলশী এলাকা থেকে শুক্রবার রাতে তাকে আটক করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। এ সময় তার কাছ থেকে নিষিদ্ধঘোষিত বই ও নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়।

আটকের পর শুক্রবার রাতেই এসআই রাছিব তার বিরুদ্ধে খুলশী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন।

আবছার উদ্দিন রুবেল বলেন, ‘আমরা আদালতে বলেছি, যদি তাকে রিমান্ডে নেয়া যায় তাহলে তার কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়া যাবে এবং এই নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের আরও সক্রিয় কর্মী যারা আছেন তাদেরকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হবে পুলিশ।’

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস : বছর না ঘুরতেই ফের পানিতে কয়রা
দুর্বল ইয়াসে দেশে ৭ প্রাণহানি
ভোলায় ইয়াসের প্রভাবে ডুবল ৩০ চর
ঝড় বৃষ্টি থাকবে উপকূলে, সতর্ক সংকেত বহাল
বরগুনায় ২ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত, মৃত্যু ২

শেয়ার করুন

আ.লীগের দুই পক্ষের হাতাহাতি, পুলিশের লাঠিচার্জ

আ.লীগের দুই পক্ষের হাতাহাতি, পুলিশের লাঠিচার্জ

মাদারীপুরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের হাতাহাতির ঘটনায় পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ছবি: নিউজবাংলা

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এহসানুল রহমান ভূঁইয়া বলেন, প্রতিবাদ থেকে একটা সময় উত্তেজিত নেতা-কর্মীরা পাশের বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের ঘটকচর শাখা এবং বেশ কয়েকটি দোকান-ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেন।

সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী ও মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান খানের বাবা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মৌলভি আছমত আলী খানকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে মানববন্ধনে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন তিন পুলিশসহ অন্তত ১৫ জন।

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সদর উপজেলার কলাবাড়ি এলাকায় শনিবার সকাল ১০টায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় মহাসড়কে ঘণ্টাখানেক যান চলাচল বন্ধ ছিল।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সম্প্রতি রাজৈরে এক অনুষ্ঠানে আছমত আলী খানকে নিয়ে কটূক্তি করে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লা। এ জন্য তার পদত্যাগের দাবিতে সকালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের কলাবাড়ি এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভের ডাক দেন শাজাহান খান সমর্থিত কর্মীরা।

একই সময় একই স্থানে সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লার সমর্থকরা প্রতিবাদ সভার আয়োজন করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

পুলিশ জানায়, উত্তেজনার একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকেরা হাতাহাতি শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এহসানুল রহমান ভূঁইয়া বলেন, প্রতিবাদ থেকে একটা সময় উত্তেজিত নেতা-কর্মীরা পাশের বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের ঘটকচর শাখা এবং বেশ কয়েকটি দোকান-ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেন।

তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এ সময় নেতা-কর্মীদের হামলায় তিন পুলিশও আহত হয়।

এখন ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস : বছর না ঘুরতেই ফের পানিতে কয়রা
দুর্বল ইয়াসে দেশে ৭ প্রাণহানি
ভোলায় ইয়াসের প্রভাবে ডুবল ৩০ চর
ঝড় বৃষ্টি থাকবে উপকূলে, সতর্ক সংকেত বহাল
বরগুনায় ২ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত, মৃত্যু ২

শেয়ার করুন

নৌকার প্রার্থীর প্রচারে হামলা

নৌকার প্রার্থীর প্রচারে হামলা

বরগুনার আয়লা-পাতাকাটা ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর প্রচারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর হয় মোটরসাইকেল। ছবি: নিউজবাংলা

আওয়ামী লীগ মনোনীত ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মজিবুল হক কিসলু বলেন, ‘কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রচারে নেমেছিলাম। পথে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোশাররফ হোসেনের সন্ত্রাসী বাহিনী আমার সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। তাদের হামলায় অন্তত ১০ সমর্থক আহত হয়েছে। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে মোটরসাইকেল।'

বরগুনার আয়লা-পাতাকাটা ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর প্রচারে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

ইউনিয়নের নয়বাজার এলাকায় শনিবার দুপুর দুইটার দিকে এই হামলা হয়।

নৌকার প্রার্থীর অভিযোগ, স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা হামলা চালিয়ে ১০ জনকে আহত করে। এ সময় অন্তত ১২টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।

আয়লা-পাতাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার আশশাকুর ফিরোজ জানান, নৌকার প্রার্থী মজিবুল হক কিসলু দুপুর দুইটার পর মোটরসাইকেলে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচারে বের হন। নয়াবাজার এলাকায় পৌঁছালে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে তার সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালিয়ে দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়, ভাঙচুর করে ১২টি মোটরসাইকেল।

স্থানীয় বাসিন্দা জুলহাস মিয়া জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বেশ কিছু মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে চলে যায়।

নৌকার প্রার্থীর প্রচারে হামলা

আওয়ামী লীগ মনোনীত ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মজিবুল হক কিসলু বলেন, ‘কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রচারে নেমেছিলাম। পথে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোশাররফ হোসেনের সন্ত্রাসী বাহিনী আমার সমর্থকদের উপর হামলা চালায়। তাদের হামলায় অন্তত ১০ সমর্থক আহত হয়েছে। মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, ভাঙচুর করা হয়েছে ১২ টি মোটরসাইকেল।’

তিনি বলেন, ‘মোশাররফ হোসেন পরাজয় নিশ্চিত জেনে শুরু থেকেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। আজকের হামলাও তারই ধারাবাহিকতা।’

নৌকার প্রার্থীর প্রচারে হামলা

এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মোশাররফ হোসেনের মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম তারিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নৌকার প্রার্থীর প্রচারে হামলা

মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও পুড়িয়ে দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ওসি তারিক বলেন, ‘আলামত হিসেবে মোটরসাইকেলগুলো থানায় নিয়ে আসব। এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ করলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।’

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস : বছর না ঘুরতেই ফের পানিতে কয়রা
দুর্বল ইয়াসে দেশে ৭ প্রাণহানি
ভোলায় ইয়াসের প্রভাবে ডুবল ৩০ চর
ঝড় বৃষ্টি থাকবে উপকূলে, সতর্ক সংকেত বহাল
বরগুনায় ২ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত, মৃত্যু ২

শেয়ার করুন