দাপুটে ছাত্রলীগ নেতা ফারুক এখন রিকশাচালক

যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে ছুটছেন সাবেক ছাত্র লীগনেতা আজকের রিকশাচালক ফারুক। ছবি: নিউজবাংলা

দাপুটে ছাত্রলীগ নেতা ফারুক এখন রিকশাচালক

'আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও ফারুকের মতো কর্মীরা অবহেলিত, এটি দুঃখজনক। জীবিকার জন্য ফারুক রিকশা চালাচ্ছেন। এতে লজ্জার কিছু নেই। তবে অনেকেই এটা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করছেন। আমরা যুবলীগ বিষয়টি নিয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলব। দেখি তার জন্য কিছু করতে পারি কিনা।'

একসময় তার ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়েছেন ছাত্রলীগের শত শত নেতা-কর্মী। বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে লড়াই করেছেন। সহ্য করতে হয়েছে জেল-জুলম-নির্যাতন। লেখাপড়াটাও শেষ করতে পরেননি।

নোয়াখালীর কবিরহাট সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রলীগের দুঃসময়ের সঙ্গী সেই নেতা আনোয়ার হোসেন ফারুক এখন অর্থাভাবে রিকশা চালান।

আনোয়ার হোসেন ফারুক কবিরহাট উপজেলার পদুয়া গ্রামের মোহাম্মদ উল্যার ছেলে। মোহাম্মদ উল্যার চার ছেলে, দুই মেয়ের মধ্যে ফারুক দ্বিতীয়। মা, স্ত্রী, চার কন্যাসন্তান নিয়ে বড় একটি সংসারের দায়িত্ব এখন ফারুকের কাঁধে। ফারুকের ছোট ভাই পারভেজ মোশারফ জেলা ছাত্রলীগের সদস্য।

২০০১ সালে বিএনপি জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম যখন নিভু নিভু অবস্থায়, তখন দাপটের সঙ্গে কবিরহাট সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়ে সংগঠন গুছিয়ে তোলেন তিনি। সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় থাকায় জেল-জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ফারুক।

সরেজমিনে কবিরহাট বাজারে ফারুকের রিকশার যাত্রী হয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। ফারুক বলেন, ১৯৯৫ সালে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ওই বছরই কবিরহাট পদুয়া শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে কবিরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি, ২০০৩ সালে বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে কবিরহাট সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

এইচএসসি পাস ফারুক বলেন, তখনকার সময়ে ছাত্রলীগকে সংগঠিত করতে গিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের রোষানলে পড়তে হয়। যার কারণে ডিগ্রি পরীক্ষাটা পর্যন্ত দিতে পারিনি। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর একটি ছোটখাটো চাকরির জন্য নেতাদের দরজায় দরজায় ঘুরেছি, পাইনি।

৪০ বছর বয়সী এই সাবেক ছাত্রনেতা বলেন, ‘তারপরও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি থেকে সরে যাইনি। ২০১০ সালে নরোত্তমপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সম্মেলনে ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পাই।’ এর পরপরই সাংগঠনিক সক্রিয়তার কারণে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হন ফারুক।

তবে তাকে দেয়া হয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ।

ফারুক বলেন, টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। ওয়ার্ড থেকে শুরু করে দলের উচ্চপর্যায়ে অনেকেই নানা উপায়ে অর্থ-বিত্তের মালিক হয়েছেন। কিন্তু আমরা যারা শ্রম-ঘাম দিয়ে আজকের আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনেছি, তাদের মূল্যায়ন হয়নি।

‘অনুপ্রবেশকারীদের ভিড়ে আমরা হারিয়ে গেছি। আমরা অপরাজনীতির শিকার হয়েছি। রাজনীতি করতে গিয়ে কোনো কাজও শিখিনি, যার কারণে আজ অর্থাভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে অসহায় অবস্থায় জীবনযাপন করতে হচ্ছে।’

আনোয়ার হোসেন ফারুক বলেন, এক বছর ধরে রিকশা চালাচ্ছি। স্থানীয়ভাবে পরিচিত হওয়ায় অনেকেই আমার রিকশায় উঠতে চান না।

ছাত্রলীগ নেতা ছোট ভাই পারভেজ মোশারফের একটি চাকরির আবেদন জানান সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা।

স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন ফারুক। রাজনীতি করে তিনি কিছুই করতে পারেননি। দল ক্ষমতায় থাকার পরও এখন তিন বেলার ভাত জোটানোই তার জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফারুকের রিকশায় চড়তে কেমন লাগে—এ প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রহমান, এমদাদ হোসেন, ইমাম উদ্দিনসহ অনেকেই বলেন, ফারুক একসময় রাজপথ কাঁপিয়েছেন। তার পেছনে হেঁটে, তার দেয়া স্লোগানে কণ্ঠ মিলিয়েছেন শত শত নেতা-কর্মী। এখন তার রিকশায় যাত্রী হতে লজ্জা লাগে।

কবিরহাট উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আবু জাফর আবির বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও ফারুকের মতো কর্মীরা অবহেলিত, এটি দুঃখজনক। জীবিকার জন্য ফারুক রিকশা চালাচ্ছেন। এতে লজ্জার কিছু নেই। তবে অনেকেই এটা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করছেন। আমরা যুবলীগ বিষয়টি নিয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলব। দেখি তার জন্য কিছু করতে পারি কিনা।

কবিরহাট পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রতন বলেন, ফারুকরা দুঃসময়ে দলের জন্য কাজ করেছেন, মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন। দলের এই নেতা-কর্মীরা নীতিনৈতিকতার কারণে আদর্শের বাইরে গিয়ে দলবাজি করে অর্থ উপার্জন করতে পারেননি। অথচ দলের ভিতর অনুপ্রবেশকারীরা আজকে দলবাজি করে অনেক অর্থ-বিত্তের মালিক হয়েছেন।

দলীয় হাইকমান্ড থেকে এই ত্যাগী নেতা-কর্মীদের খুঁজে বের করে তাদের মূল্যায়ন করা উচিত বলে মনে করেন এই নেতা।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আষাঢ়ে ইলেশের খোঁজে

আষাঢ়ে ইলেশের খোঁজে

শনিবার বড় স্টেশন মাছঘাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ইলিশশূন্য বাজার। অধিকাংশ আড়তেই নেই মাছ। বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা কিছু ইলিশ নিয়ে বসে আছেন বিক্রির উদ্দেশ্যে। কিন্তু দাম অত্যধিক বেশি হওয়ায় ক্রেতাদেরও আনাগোনা নেই খুব একটা। যারাই দু-একজন কিনছেন, প্রত্যেকেই চড়া দামে ইলিশ কিনে বাড়ি ফিরছেন।

আষাঢ়ে টানা বৃষ্টিতে তাপমাত্রা কমায় স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে। কিন্তু ইলিশবাজারের চিত্রটা উল্টো। বাজারে সরবরাহ কম থাকায় মাছের চড়া দাম।

দেশের অন্যতম বড় ইলিশবাজার বড় স্টেশন মাছঘাটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইলিশের যে চাহিদা, সে তুলনায় সরবরাহ নেই বললেই চলে। তাই শুধু ভিআইপিরাই ইলিশ কিনতে পারছেন, সাধারণ মানুষ নাগাল পাচ্ছে না ইলিশের।

সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, সাধ থাকলেও সাধ্যে কুলাচ্ছে না। তাই দাম শুনেই কেনার আশা মিটে যাচ্ছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আর কিছুদিন পরেই জেলেদের জালে ধরা পড়বে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। তখন নামবে দামের পারদ।

শনিবার বড় স্টেশন মাছঘাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ইলিশশূন্য বাজার। অধিকাংশ আড়তেই নেই মাছ। বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা কিছু ইলিশ নিয়ে বসে আছেন বিক্রির উদ্দেশ্যে। কিন্তু দাম অত্যধিক বেশি হওয়ায় ক্রেতাদেরও আনাগোনা নেই খুব একটা। যারাই দু-একজন কিনছেন, প্রত্যেকেই চড়া দামে ইলিশ কিনে বাড়ি ফিরছেন।

ইলিশ ব্যবসায়ী বিপ্লব খান বলেন, মার্চ-এপ্রিল দুই মাস নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও ইলিশ ধরা শুরু হয়েছে নদীতে। কিন্তু জালে উঠছে না ইলিশ। মাছের যে চাহিদা, সেই তুলনায় মাছ নেই। তাই ইলিশের দাম এখন বেশি।

তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন আগে ২ কেজি ৬০০ গ্রামের একটি ইলিশ বিক্রি হয়েছে ১২ হাজার টাকায়; যে টাকা দিয়ে একটি আস্ত খাসি কেনা যেত। মাছ না থাকায় আমাদের কিনতে হচ্ছে বেশি টাকায়, তাই বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি মূল্যে।’

বাজারে এখন ৫০০ গ্রাম থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মণপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ হাজার থেকে ৩৮ হাজার টাকায়। তা ছাড়া ৮০০ গ্রাম থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মণপ্রতি ৪০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকায়। এক কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৬০ হাজার থেকে ৬৫ হাজার টাকায় এবং ১২০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা মণ দরে।

বাজারের খুচরা ইলিশ বিক্রেতা আলাউদ্দিন ও মো. মোস্তফা বলেন, ‘আমরা যারা খুচরা ইলিশ বেচি, আমাগো কাছেও অন্যান্য বছর এই সময় ১০ থেকে ১২ মণ ইলিশ মজুত থাকত। অনেক সাধারণ মানুষ মাছ কিনতে আইত। বাজারে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় থাকত। কিন্তু অহন মাছ না থাহনে এক মণ ইলিশও মজুত করতে পারি না। ইলিশের দাম হুইন্নাই সাধারণ মানুষ জায়গ্যা। ঠেহায় না পড়লে কেউ মাছ কেনে না। বড় বড় সরকারি অফিসার, ঠিকাদার, ব্যবসায়ীসহ ভিআইপি কাস্টমাররাই অহন ইলিশ কেনে।’

সবুজ হোসেন নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘বাজারে আসছিলাম ইলিশ কিনতে। কিন্তু যেই দাম চায়, তা শুনে আর সাহসে কুলায় নাই। এই দাম দিয়া আমাগো মতো মানুষের ইলিশ কেনা সম্ভব না। তাই খালি হাতেই ফিরে যাচ্ছি, অন্য বাজার থেকে তেলাপিয়া মাছ নিয়া যামু বাড়িতে।’

চাঁদপুর জেলা মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবে বরাত বলেন, ঘাটে ইলিশের সরবরাহ নেই। অন্যান্য বছর এই সময়ে কয়েক শ মণ ইলিশ সরবরাহ হলেও বর্তমানে হচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ১০ মণ। যে চাহিদা রয়েছে, তার কিছুই সরবরাহ হয় না। তাই ইলিশ কিনতে ঢাকাসহ দূরদূরান্ত থেকে মানুষ চাঁদপুরে এসে অনেক সময় খালি হাতেই ফিরে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, মূলত এ বছর বৈশাখ মাসে ঝড়-বৃষ্টি কম হওয়ায় নদীতে মাছ নেই খুব একটা। তা ছাড়া মা-ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণ অভিযানের সময় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইলিশ নিধন করারও প্রভাব পড়েছে এখন। তবে আগামী দুই-এক মাস পর থেকে নদীতে আবারও ইলিশ পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদী।

চাঁদপুর মৎস্য ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান বলেন, ‘মূলত এপ্রিল, মে, জুন, জুলাই ইলিশের জন্য ডাল সিজন। এই সময়টাতে সাধারণত নদীতে ইলিশ কম আসে, তাই ধরাও পড়ে কম। তা ছাড়া এ বছর বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় নদীতে কম হয়েছে, তাই সমুদ্র থেকে ইলিশ উঠে আসেনি নদীতে।’

তবে তিনি জেলে ও ব্যবসায়ীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আশা করছি, ঠিকমতো বৃষ্টিপাত হলে আগামী জুলাই মাসের শেষ থেকেই নদীতে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ পাওয়া যাবে। তখন দামও ক্রেতা সাধারণের নাগালের মধ্যে চলে আসবে।’

শেয়ার করুন

‘কারো খাবারও খাবেন না পুলিশ সদস্যরা’

‘কারো খাবারও খাবেন না পুলিশ সদস্যরা’

বরিশাল পুলিশ লাইনসে শনিবার নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের ব্রিফিং দেন রেঞ্জের ডিআইজি এসএম আক্তারুজ্জামান। ছবি: নিউজবাংলা

বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি এসএম আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘আপনারা কারো লোক হবেন না, কারো খাবারও খাবেন না। মনে রাখবেন আপনারা রাষ্ট্রের জন্য, জনগণের জন্য। নির্বাচনে সর্বোচ্চ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটার ও জনগণের নিরাপত্তায় পুলিশ সদস্যদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বরিশাল রেঞ্জের উপপুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এসএম আক্তারুজ্জামান।

শনিবার বরিশাল পুলিশ লাইনসে নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

ডিআইজি বলেন, ‘আপনারা কারো লোক হবেন না, কারো খাবারও খাবেন না। মনে রাখবেন আপনারা রাষ্ট্রের জন্য, জনগণের জন্য। নির্বাচনে সর্বোচ্চ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

২১ জুন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন যে কোনমূল্যে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।।

বরিশালের পুলিশ সুপার মারুফ হোসেনের সভাপতিত্বে ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) শাহজাহান হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ইকবাল হোসেনসহ অনেকে।

শেয়ার করুন

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে মাস্টার্স পরীক্ষা শুরু

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে মাস্টার্স পরীক্ষা শুরু

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস জানান, মাস্টার্সের চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষা ছাড়াও স্নাতক চতুর্থ বর্ষের স্পেশাল টার্মের পরীক্ষা গ্রহণেরও অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে মাস্টার্স চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। গত মার্চে স্থগিত পরীক্ষাও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান স্কুলের ডিন ও রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস জানান, মাস্টার্সের চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষা ছাড়াও স্নাতক চতুর্থ বর্ষের স্পেশাল টার্মের পরীক্ষা গ্রহণেরও অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলেই স্নাতক চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা নেয়ার বিষয়টি সর্বোচ্চ বিবেচনায় নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সশরীরে পরীক্ষা গ্রহণ সম্ভব না হলে অনলাইনে পরীক্ষা গ্রহণের প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছে।

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আরও জানান, কর্তৃপক্ষের গঠন করা একটি সাধারণ ও একটি টেকনিক্যাল কমিটি এ লক্ষ্যে কাজ করছে। পরীক্ষা গ্রহণের পদ্ধতিসহ খুঁটিনাটি বিষয়ে কমিটির সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে এসব পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন ২৫ মে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গত ৩০ মে অ্যাকাডেমিক প্রধানদের সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির নির্দেশনার আলোকে সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের উদ্যোগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্টার্সের চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. নাসিফ আহসান জানান, সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলের সব ডিসিপ্লিনের মাস্টার্স চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে ১ জুলাই শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

চারুকলা স্কুলের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মনিরুল ইসলাম জানান, চারুকলার তিনটি ডিসিপ্লিনের স্থগিত মাস্টার্স পরীক্ষা শুরুর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। যেকোনো দিন তারিখ জানানো হবে।

শেয়ার করুন

মা-হারা শিশুটি বাঁচল না নিজেও

মা-হারা শিশুটি বাঁচল না নিজেও

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে প্রথমে সোনিয়া জান্নাত মারা যান। এর আধা ঘণ্টা পর তার দুই বছরের কন্যা হুমাসা জান্নাতের মৃত্যু হয়।

গাজীপুরের শ্রীপুরে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ গৃহবধূ ও তার শিশুসন্তানের মৃত্যু হয়েছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে প্রথমে সোনিয়া জান্নাত মারা যান। এর আধা ঘণ্টা পর তার দুই বছরের কন্যা হুমাসা জান্নাতের মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক আব্দুল খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মাওনা উত্তরপাড়া এলাকার দেলোয়ার হোসেনের বহুতল ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

ভবনের মালিক দেলোয়ার হোসেন জানান, পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকতেন পোশাক কারখানার কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা। প্রতিদিনের মতো স্ত্রী-সন্তানকে বাসায় রেখে শনিবার সকালে কর্মস্থলে চলে যান তিনি।

বেলা ১১টার দিকে মোস্তফার বাসায় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে ও আগুন ধরে যায়। এতে আসবাবসহ মালামাল ছিটকে যায় এবং মোস্তফার স্ত্রী ও মেয়ে দগ্ধ হয়।

প্রাথমিকভাবে এলাকাবাসী ও পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভান। দগ্ধ মা ও মেয়েকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় আল হেরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক আব্দুল খান জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে সোনিয়া জান্নাত মারা যান। মায়ের মৃত্যুর কিছু সময় পর তার শিশুসন্তানটিও মারা যায়।

ফায়ার সার্ভিসের শ্রীপুর স্টেশনের কর্মকর্তা মো. রায়হান জানান, তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে পুরো ঘরে গ্যাস জমে যায়। চুলা জ্বালানোর সময় ওই গ্যাস আগুনের সংস্পর্শে এলে দুর্ঘটনা ঘটে।

শেয়ার করুন

ট্রেন থেকে পড়ে শিশু নিহত

ট্রেন থেকে পড়ে শিশু নিহত

স্টেশন মাস্টার হারুন অর রশিদ বলেন, ‘ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী বলাকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি শ্রীপুরের ২৩২/৩-৪ নং কিলোমিটার এলাকা অর্থাৎ শ্রীপুর-বরমী সড়কের গেট পার হচ্ছিল। গেটটি পার হওয়ার পরই একজনের কাটা দেহ পড়ে থাকতে দেখে ওই গেটে দায়িত্বরত গেটম্যান।’

গাজীপুরের শ্রীপুরে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে ১২ বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে।

শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার হারুন অর রশিদ জানান, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ময়মনসসিংহ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী বলাকা এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে শিশুটি মারা যায়। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

তিনি বলেন, ‘ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী বলাকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি শ্রীপুরের ২৩২/৩-৪ নং কিলোমিটার এলাকা অর্থাৎ শ্রীপুর-বরমী সড়কের গেট পার হচ্ছিল। গেটটি পার হওয়ার পরই একজনের কাটা দেহ পড়ে থাকতে দেখে ওই গেটে দায়িত্বরত গেটম্যান। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ট্রেনের কোনো বগি ও জোড়া থেকে সে পড়ে গিয়ে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে শিশুটি।’

নিহত শিশুটির পরিচয় জানাতে পারেন নি স্টেশন মাস্টার।

কমলাপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল হক বলেন, ‘ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হওয়ার খবরে ঘটনাস্থলে জয়দেবপুর রেলওয়ে ফাঁড়ি পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে।’

শেয়ার করুন

মানিকগঞ্জে হেরোইনসহ মাদককারবারি আটক

মানিকগঞ্জে হেরোইনসহ মাদককারবারি আটক

মানিকগঞ্জ পৌরসভার বেউথা এলাকা থেকে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সজিবকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে সাড়ে ৭ গ্রাম হেরোইন জব্দ হয়।

মানিকগঞ্জ পৌর এলাকায় সজিব হোসেন নামের এক মাদককারবারিকে আটক করেছে র‌্যাব।

মানিকগঞ্জ পৌরসভার বেউথা এলাকা থেকে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় সজিবের কাছ থেকে সাড়ে ৭ গ্রাম হেরোইন জব্দ হয়।

আটক সজিব পৌরসভার চর বেউথা এলাকার বাসিন্দা।

র‌্যাব-৪ এর মানিকগঞ্জের কোম্পানী কমান্ডার এএসপি উনু মং এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৌরসভার বেউথা এলাকা থেকে সজিবকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে সাড়ে ৭ গ্রাম হেরোইন জব্দ হয়েছে। সজিবের বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মাদক আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

শেয়ার করুন

টানা বর্ষণে ছন্দপতন

টানা বর্ষণে ছন্দপতন

‘সকালে বাড়ি থেকে রিকশা নিয়ে বের হইছি। বৃষ্টি যখন কম হচ্চে তখন দুই-একজন প্যাসেঞ্জার পাচ্চি। রাস্তায় লোক নেই। ভাড়া-ভুতি কম হচ্চে।’

আষাঢ়ের টানা বর্ষণে ঝিনাইদহে স্বাভাবিক জীবনে ছন্দপতন ঘটেছে। শুক্র ও শনিবার ভোর থেকে টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।

দুই দিন ধরেই কখনও ভারী, কখনও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন শহরবাসী। অনেকটাই ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন তারা।

আবার জরুরি প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হয়ে বৃষ্টির কারণে অনেকে আটকা পড়েন শহরে। বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন দোকানে তাদের দীর্ঘক্ষণ আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।

তবে সব থেকে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। কাজের সন্ধানে বের হয়ে কাজ না পেয়ে অনেককেই বসে থাকতে দেখা গেছে।

শৈলকুপা উপজেলার ভাটই গ্রাম থেকে আসা ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মুদি দোকানের মালামাল কিনতি শহরে আসলাম। এত বৃষ্টি হচ্চে যে মুকামে যেতেই পারছিনে। আবার দোকানও খুলছে না। দুই দিন ধরে বৃষ্টি হচ্চে।’

টানা বর্ষণে ছন্দপতন

সদর উপজেলার হাটগোপালপুর এলাকার মসিউর রহমান বলেন, ‘সকালে শহরে আসিছি একজনের সাথে দেখা করার জন্যি। মাহেন্দ্র থেকে নেমে আর কোথাও যাতি পারছিনে। সকাল থেকেই খুব বৃষ্টি হচ্চে। এখন ভিজতি ভিজতিই কাজ সারে বাড়ি যাতি হবি।’

শহরের রিকশাচালক সাদিমুল ইসলাম বলেন, ‘সকালে বাড়ি থেকে রিকশা নিয়ে বের হইছি। বৃষ্টি যখন কম হচ্চে তখন দুই একজন প্যাসেঞ্জার পাচ্চি। রাস্তায় লোক নেই। ভাড়া-ভুতি কম হচ্চে।’

শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে বসে থাকা দিনমজুর আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে এখানে কাজের জন্যি আসি। আজ সকালে এসে বসে আছি। কোনো লোক কামের জন্য নিতি আসছে না। আর একটু সময় বসে থাকব। কাম না পালি বাড়ি ফিরে যাতি হবে। কী আর করব।’

এদিকে অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে আউশ ধানের বীজতলা। নষ্ট হচ্ছে মরিচ, সবজিসহ বিভিন্ন ফসল।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, পানি জমে থাকলে গাছ নষ্ট হওয়াসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। এ জন্য ফসলের জমিতে যেন পানি না জমে, এ ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। জমিতে পানি জমলে দ্রুত তা অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে।

মাদারীপুর: টানা বর্ষণে একই ধরনের পরিস্থিতিতে পড়েছেন মাদারীপুর জেলাবাসী।

তিন দিনের প্রবল বর্ষণে মাদারীপুর সদর, রাজৈর ও টেকেরহাটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানিতে একাকার হয়ে গেছে খাল, বিল, নালা ও পুকুর।

এদিকে সামান্য বৃষ্টি হলেই রাজৈর পৌরসভার পূর্ব স্বরমঙ্গল এলাকা এবং টেকেরহাট বন্দর বাজারে হাঁটুপানি জমে। এতে জনসাধারণ চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহায়।

এলাকাবাসী জানান, ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না করায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। আবার বেশ কিছু স্থানে ড্রেন না থাকায় পানি জমে মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন।

ঘরে আটকা পড়ায় শ্রমজীবী মানুষ কাজ না করতে পেরে অর্ধাহারে-আনাহারে জীবনযাপন করছে। ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

শেয়ার করুন