× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

সারা দেশ
ছাগলকে ইউএনওর জরিমানা
hear-news
player
print-icon

ছাগলকে ইউএনওর জরিমানা

ছাগলকে-ইউএনওর-জরিমানা
সাহারা বেগমের ছাগলের খোঁজ মিলছিল না ১৭ মে থেকে। পরে তিনি জানতে পারেন, ইউএনও সেই প্রাণীটিকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করে আটকে রেখেছেন। তাকে সেই টাকা পরিশোধ করে ফিরিয়ে আনতে হবে। তিনি টাকা দেননি। আর ৯ দিন পর তার ছাগল ইউএনওর আদেশে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে।

উপজেলা পরিষদের ফুলগাছ খেয়েছে ছাগল। রাগে লাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। প্রয়োগ করলেন তার বিচারিক ক্ষমতা। জরিমানা করলেন ছাগলকে। দিতে হবে দুই হাজার টাকা।

ছাগলের মালিক তখন ঘটনাস্থলে ছিলেন না। পশুর পক্ষে তো জরিমানা দেয়া সম্ভব নয়। তাই মালিককে চাপ দিতে আটক করা হয় সেই ছাগল।

৯ দিন আটকে রাখার পর মালিক সাহারা বেগমকে না জানিয়ে ছাগলটি পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটিয়েছেন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সীমা শারমিন।

তবে আইনত তিনি এই আদেশ দিতে পারেন কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একজন আইনজীবী জানিয়েছেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে আদেশ দিতে হলে অভিযুক্তের অপরাধ স্বীকার করার বাধ্যবাধকতা আছে।

যা বললেন ছাগলমালিক

ছাগলমালিক সাহারা বেগম আদমদীঘি উপজেলা পরিষদ চত্বরের ডাকবাংলোসংলগ্ন এলাকায় বসবাস করেন। তার স্বামীর নাম জিল্লুর রহমান।

গত ১৭ মে তার ছাগলটি হারিয়ে যায়। অনেক জায়গায় তিনি ছাগলটির সন্ধান করেন। পরে এলাকার লোকজন তাকে জানান, ছাগলটি ইউএনওর এক নিরাপত্তাকর্মীর কাছে রয়েছে।

তিনি ইউএনওর বাসার পাশে গিয়ে এক নিরাপত্তাকর্মীকে ছাগলকে ঘাস খাওয়াতে দেখেন। এ সময় ছাগল ফেরত চাইলে দেয়া যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন ওই নিরাপত্তাকর্মী।
পরে তিনি ইউএনওর কাছে গেলে তিনি তাকে বলেন, ‘ফুলগাছের পাতা খাওয়ার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা দিয়ে ছাগল নিয়ে যান।’

কিন্তু ছাগল ফুলগাছ খাবে- এ জন্য দুই হাজার টাকা দিতে হবে, এটা মানতেই পারেননি সাহারা বেগম। টাকা দিচ্ছিলেন না তিনি।

এর মধ্যে ইউএনওর গৃহকর্মী হঠাৎ তাকে ডাকেন টাকা নিয়ে আসতে। তখন আক্কেলগুড়ুম দশা সাহারা বেগমের। কেন তাকে টাকা দেবেন?

সেই গৃহকর্মীর কাছেও তিনি রাখেন প্রশ্ন।

পরে তাকে জানানো হয়, ২২ মে তার ছাগলটি পাঁচ হাজার টাকায় বেচে দেয়া হয়েছে। এ থেকে জরিমানা বাবদ দুই হাজার টাকা কেটে রাখা হয়েছে। বাকি টাকা যেন নিয়ে আসেন।

তবে সাহারা বেগম সেই টাকা আর আনেননি। আর ইউএনও দাবি করেছেন, ছাগল বিক্রি করা হয়নি। একজনের জিম্মায় রাখা হয়েছে।

ইউএনও যা বলছেন

সীমা শারমিনের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে নিউজবাংলার।

তিনি জানান, উপজেলা চত্বরে একটি পার্ক করা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে ফুলের গাছ নিয়ে এসে লাগানো হয়েছে। কিন্তু এখানে ওই ছাগল এসে গাছের ফুলগুলো খেয়ে নিয়েছে কয়েকবার।


ছাগলকে ইউএনওর জরিমানা
ইউএনও সীমা শারমিন


‘এ বিষয়ে ছাগলের মালিককে সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু উনি কথা শোনেননি। এ কারণে গণ-উপদ্রব আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’
ছাগল বেচে দেয়া হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে ইউএনও বলেন, ‌‘ছাগল বিক্রি করা হয়নি। একজনের জিম্মায় রাখা হয়েছে। মালিক চাইলে টাকার বিনিময়ে ছাগল ফেরত পাবেন।’

অবৈধ জরিমানা, বললেন আইনজীবী নেতা

ছাগলের মালিকের অনুপস্থিতিতে এভাবে জরিমানা করা যায় কি না, জানতে চাইলে বগুড়া জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোজ্জাম্মেল হক বলেন, ‌‘‌ভ্রাম্যমাণ আদালতের আইনমতে, অভিযুক্ত ব্যক্তির দোষ স্বীকার করতে হবে। তখন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যাবে। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠান বা সম্পদের (ছাগল) মালিকের বিরুদ্ধে এভাবে জরিমানা করা ঠিক হয়নি। এই ঘটনায় প্রচলিত বৈধ রীতি খোঁয়াড়ে ছাগল রাখতে পারতেন। অথবা বেশি ক্ষতি হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থানায় কিংবা আদালতে মামলা করতে পারেন।’

আরও পড়ুন:
ছাগল ছানার আট পা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

সারা দেশ
Girder accident 4 people buried

গার্ডার দুর্ঘটনা: দাফন হলো ৪ জনের

গার্ডার দুর্ঘটনা: দাফন হলো ৪ জনের নিহত পাঁচজনের মধ্যে চারজনের দাফন হয়েছে জামালপুরে। ছবি: নিউজবাংলা
সরেজমিনে দেখা যায়, লাল নীল বাতির সঙ্গে সাইরেন বাজিয়ে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি এগিয়ে এলে ভিড় জমায় শত শত উৎসুক জনতা। আর অ্যাম্বুলেন্সের দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় স্বজনদের চিৎকার। তাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠে পরিবেশ। হঠাৎ এমন মৃত্যুতে হতবাক নিহতদের স্বজনসহ এলাকাবাসীও।

রাজধানীর উত্তরায় বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার পড়ে পাঁচজন নিহতের ঘটনায় চারজনের দাফন হয়েছে নিজ বাড়ি জামালপুরে।

মেলান্দহ উপজেলার আগ পয়লা গ্রামে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঝরনা বেগম এবং তার দুই শিশুসন্তান জাকারিয়া ও জান্নাতের দাফন সম্পন্ন হয়।

ইসলামপুর উপজেলার লাউদত্ত গ্রামে রাত সাড়ে ১১টার দিকে জানাজা শেষে কনের মা ফাহিমা বেগমকে নিজ বাড়ির আঙিনায় দাফন করা হয়।

গার্ডার দুর্ঘটনা: দাফন হলো ৪ জনের

সরেজমিনে দেখা যায়, লাল নীল বাতির সঙ্গে সাইরেন বাজিয়ে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি এগিয়ে এলে ভিড় জমায় শত শত উৎসুক জনতা। আর অ্যাম্বুলেন্সের দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় স্বজনদের চিৎকার। তাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠে পরিবেশ। হঠাৎ এমন মৃত্যুতে হতবাক নিহতদের স্বজনসহ এলাকাবাসীও।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় নির্মাণাধীন বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি প্রকল্পের ফ্লাইওভারের ভায়াডাক্ট ছিটকে প্রাইভেট কারে পড়ে দুই শিশুসহ পাঁচ আরোহী নিহত হন। দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তারা ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তারা হলেন ২৬ বছর বয়সী হৃদয় ও ২১ বছর বয়সী রিয়ামনি, যাদের বিয়ে হয়েছে গত শনিবার। সোমবার ছিল বউভাত।

হৃদয়ের বাড়ি রাজধানীর কাওলায়। বউভাত শেষে কনের বাড়ি আশুলিয়ায় যাচ্ছিলেন তারা। ছেলের বাবা রুবেল গাড়িটি চালাচ্ছিলেন।

রুবেল ছাড়াও যারা মারা গেছেন তারা হলেন কনের মা ফাহিমা বেগম, তার বোন ঝরনা বেগম, ৬ বছর বয়সী জান্নাত ও দুই বছর বয়সী জাকারিয়া।

আরও পড়ুন:
গার্ডার দুর্ঘটনা: দাফন হলো ৪ জনের
বাসে বাড়তি ভাড়া, জরিমানা করেই দায় সারল বিআরটিএ
গার্ডার চাপায় নিহত ৫: মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২২ সেপ্টেম্বর
কোনো স্ত্রীর কাছেই নয়, গ্রামের বাড়িতে রুবেলের মরদেহ
মৃত্যুর পর জানা গেল রুবেলের ৭ স্ত্রী

মন্তব্য

সারা দেশ
As a result the students of Khubi returned with the assurance of meeting the demands

দাবি মানার আশ্বাসে হলে ফিরেছেন খুবির শিক্ষার্থীরা

দাবি মানার আশ্বাসে হলে ফিরেছেন খুবির শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে খুবি শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা
শিক্ষার্থীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে অপরাজিতা হলের টয়লেটে গিয়ে এক ছাত্রী আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে গলায় বঁটি চালান। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় অপরাজিতা হলে দা, বঁটি, চাকু এমনকি রাইস কুকারও নিষিদ্ধ করে হল কর্তৃপক্ষ। ছাত্রীদের রুমে রুমে গিয়ে সরঞ্জামগুলো জব্দ করা হয়। সবাইকে ডাইনিংয়ের খাবার খেতে নির্দেশ দেয়া হয়।

প্রশাসনের দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাসে মধ্যরাতে হলে ফিরে গেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

হল থেকে রাইস কুকার ও রান্নার অন্যান্য সরঞ্জাম সরানোর নির্দেশনা বাতিলসহ ১১ দফা দাবিতে মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বিক্ষোভ শুরু করেন অপরাজিতা হলের ছাত্রীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে অবস্থান নেন তারা। সেখানে তাদের সঙ্গে যোগ দেন অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীরাও।

রাত দেড়টার দিকে শিক্ষর্থীদের সব দাবি মেনে নিয়ে লিখিত দেন অপরাজিতা হলের প্রভোস্ট রহিমা নুসরাত রিম্মি। পরে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ হলে ফিরে যান।

শিক্ষার্থীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে অপরাজিতা হলের টয়লেটে গিয়ে এক ছাত্রী আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে গলায় বঁটি চালান। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় অপরাজিতা হলে দা, বঁটি, চাকু এমনকি রাইস কুকারও নিষিদ্ধ করে হল কর্তৃপক্ষ। ছাত্রীদের রুমে রুমে গিয়ে সরঞ্জামগুলো জব্দ করা হয়। সবাইকে ডাইনিংয়ের খাবার খেতে নির্দেশ দেয়া হয়।

অপরাজিতা হলের ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, ‘আমাদের ডাইনিংয়ের খাবারের মান খুবই খারাপ। তার মধ্যে রাইস কুকার নিষিদ্ধ করা হলো। রান্নার সব সরঞ্জামও হলে রাখতে নিষেধ করা হয়েছে।’

লীমা নামের আরেক ছাত্রী বলেন, ‘আন্দোলনে আসতে আমাদের বাধা দেয়া হয়েছিল। আমরা হলের দুটি তালা ভেঙে নেমেছিলাম।’

আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক মো. শরীফ হাসান লিমন এসেছিলেন। তবে তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিবৃত্ত করতে ব্যর্থ হয়ে একপর্যায়ে ফিরে যান।

পরে রাত দেড়টায় প্রভোস্ট শিক্ষার্থীদের ১১ দফা দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাসে লিখিত দেন।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো-

১. রাইস কুকার ও হলের রান্নার সরঞ্জামাদি ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।

২. সেক্সুয়াল হ্যারাজমেন্টের প্রতিবাদে সোশ্যাল মিডিয়ায় কথা বলার কারণে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও পারিবারিক শিক্ষা তুলে কথা বলায় ক্ষমা চাইতে হবে।

৩. হলে প্রয়োজনে অভিভাবক ও মহিলা আত্মীয়দের থাকার অনুমতি প্রদান করতে হবে।

৪. পানির পোকা ও খাবারের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে।

৫. প্রভোস্ট তার নিজ ডিসিপ্লিনের স্টুডেন্টদের ডেকে নিয়ে ব্যক্তিগত এবং অ্যাকাডেমিক বিষয়ে হয়রানি বন্ধ করতে হবে ও ক্ষমা চাইতে হবে।

৬. হলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

৭. যেকোনো পরিস্থিতিতে সিট বাতিলের হুমকি দেয়া বন্ধ করতে হবে।

৮. যেকোনো পরিস্থিতিতে হলের ছাত্রীদের মতামতকে প্রাধান্য দিতে হবে।

৯. হলের মিল খাওয়া বাধ্যতামূলক করা যাবে না।

১০. আন্দোলনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো শিক্ষার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে হুমকি দেয়া যাবে না।

১১. এ দাবিগুলো না মানলে প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগ করতে হবে।

আরও পড়ুন:
হলে নিষিদ্ধ রাইসকুকার, মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ

মন্তব্য

সারা দেশ
Today is the 17th anniversary of the nationwide series of bombings

দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ১৭ বছর আজ

দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ১৭ বছর আজ সাতক্ষীরার পাঁচ স্থানে সিরিজ বোমা হামলা মামলার ১৬ বছর পর ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১৯ আসামির মধ্যে ১৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত। ফাইল ছবি
পুলিশ জানায়, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় সারা দেশে ১৫৯টি মামলার মধ্যে ৯৪টির বিচার সম্পন্ন হয়েছে। এসব মামলায় ৩৩৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। এখন ৫৫টি মামলা বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। এতে আসামির সংখ্যা হচ্ছে ৩৮৬ জন।

দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ১৭তম বছর আজ। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট জামা'আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) নামের একটি জঙ্গি সংগঠন পরিকল্পিতভাবে দেশের ৬৩ জেলায় একই সময়ে বোমা হামলা চালায়।

মুন্সীগঞ্জ ছাড়া সব জেলায় প্রায় পাঁচ শ পয়েন্টে বোমা হামলায় দুজন নিহত ও অন্তত ১০৪ জন আহত হন।

পুলিশ সদর দপ্তর ও র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পরপরই সারা দেশে ১৫৯টি মামলা করা হয়।

এর মধ্যে ডিএমপিতে ১৮টি, সিএমপিতে ৮টি, আরএমপিতে ৪টি, কেএমপিতে ৩টি, বিএমপিতে ১২টি, এসএমপিতে ১০টি, ঢাকা রেঞ্জে ২৩টি, চট্টগ্রাম রেঞ্জে ১১টি, রাজশাহী রেঞ্জে ৭টি, খুলনা রেঞ্জে ২৩টি, বরিশাল রেঞ্জে ৭টি, সিলেট রেঞ্জে ১৬টি, রংপুর রেঞ্জে ৮টি, ময়মনসিংহ রেঞ্জে ৬টি ও রেলওয়ে রেঞ্জে ৩টি।

সংবাদ সংস্থা বাসসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।

এসব মামলার মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয় ১৪২টি মামলায়। বাকি ১৭টি মামলায় ঘটনার সত্যতা থাকলেও আসামি শনাক্ত করতে না পারায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়নি।

এসব মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন ১৩০ জন। গ্রেপ্তার করা হয় ৯৬১ জনকে। ১ হাজার ৭২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

পুলিশ জানায়, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় সারা দেশে ১৫৯টি মামলার মধ্যে ৯৪টির বিচার সম্পন্ন হয়েছে। এসব মামলায় ৩৩৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। এখন ৫৫টি মামলা বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। এতে আসামির সংখ্যা হচ্ছে ৩৮৬ জন।

এই সিরিজ বোমা হামলার রায় দেয়া মামলাগুলোর ৩৪৯ জনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ২৭ জনের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় দেয়া হয়। এর মধ্যে ৮ জনের ফাঁসি ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে।

এসব মামলায় খালাস পেয়েছে ৩৫৮ জন, আর জামিনে রয়েছে ১৩৩ জন আসামি। এ ছাড়া ঢাকায় বিচারাধীন ৫টি মামলা সাক্ষ্যগ্রহণের শেষপর্যায়ে রয়েছে।

ঝালকাঠি জেলার দুই বিচারককে হত্যার জন্য ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ ছয় জঙ্গি নেতা শায়খ আবদুর রহমান, তার সেকেন্ড-ইন-কমান্ড সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই, সামরিক কমান্ডার আতাউর রহমান সানি, চিন্তাবিদ আব্দুল আউয়াল, খালেদ সাইফুল্লাহ ও সালাউদ্দিনকে ফাঁসি দেয়া হয়।

বিএনপি জামায়াতের শাসন আমলে (২০০১ থেকে ২০০৬) সরকারি এমপি-মন্ত্রীদের সরাসরি মদদে সারা দেশে শক্ত অবস্থান তৈরি করে জঙ্গিরা।

২০০৫ সালের পরবর্তী সময়ে কয়েকটি ধারাবাহিক বোমা হামলায় বিচারক ও আইনজীবীসহ ৩০ জন নিহত হন। আহত হন ৪ শতাধিক।

ওই বছরের ৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরের আদালতে জঙ্গিরা বোমা হামলা চালায়। এতে তিনজন নিহত এবং বিচারকসহ কমপক্ষে ৫০ জন আহত হন।

এর কয়েক দিন পর সিলেটে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক বিপ্লব গোস্বামীর ওপর বোমা হামলার ঘটনায় তিনি এবং তার গাড়িচালক আহত হন।

১৪ নভেম্বর ঝালকাঠিতে বিচারক বহনকারী গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালায় আত্মঘাতী জঙ্গিরা। এতে নিহত হন ঝালকাঠি জেলা জজ আদালতের বিচারক জগন্নাথ পাড়ে এবং সোহেল আহম্মদ। এই হামলায় আহত হন অনেক মানুষ।

সবচেয়ে বড় জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে ২৯ নভেম্বর গাজীপুর বার সমিতির লাইব্রেরি এবং চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে। গাজীপুর বার লাইব্রেরিতে আইনজীবীর পোশাকে প্রবেশ করে আত্মঘাতী এক জঙ্গি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এই হামলায় আইনজীবীসহ ১০ জন নিহত হন। আত্মঘাতী হামলাকারী জঙ্গিও নিহত হয় ।

একই দিন চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে জেএমবির আত্মঘাতী জঙ্গিরা বিস্ফোরণ ঘটায়। সেখানে রাজিব বড়ুয়া নামের এক পুলিশ কনস্টেবল এবং একজন পথচারী নিহত হন। পুলিশসহ প্রায় অর্ধশত আহত হন ।

১ ডিসেম্বর গাজীপুর ডিসি অফিসের গেটে আবারও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেখানে নিহত হন গাজীপুরের কৃষি কর্মকর্তা আবুল কাশেম। এই ঘটনায় কমপক্ষে ৪০ জন আহত হন।

৮ ডিসেম্বর নেত্রকোনায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। নেত্রকোনা শহরের বড় পুকুরপার উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর অফিসের সামনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় আত্মঘাতী জঙ্গিরা। সেখানে স্থানীয় উদীচীর দুই নেতাসহ ৮ জন নিহত হন। শতাধিক আহত হন ।

আরও পড়ুন:
নব্য জেএমবির তিন সদস্য কারাগারে
‘মোর পোলারে যারা জঙ্গি বানাইছে হ্যাগোও বিচার চাই’
নব্য জেএমবি ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার
নব্য জেএমবির ‘প্রধান বোমা কারিগর’ গ্রেপ্তার
সিরাজগঞ্জের সেই চার জেএমবি সদস্য কারাগারে

মন্তব্য

সারা দেশ
Vandalism in the car of Youth Dal leaders and activists injured 5

যুবদল নেতাকর্মীদের গাড়িতে ভাঙচুর, আহত ৫

যুবদল নেতাকর্মীদের গাড়িতে ভাঙচুর, আহত ৫
জেলা যুবদলের সদস্য সচিব আমিনুর ইসলাম বলেন, ‘গুচ্ছগ্রাম বাজার এলাকায় আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীরা গাড়িতে হামলা চালায়, ভাঙচুর করে। এতে আমিসহ ৫ জন আহত হয়েছি।’

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে জেলা যুবদল নেতাকর্মীদের বহনকারী গাড়িতে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে তাদের ৫ জন আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের লোকজন এ হামলা চালিয়েছে।

উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রাম বাজার এলাকায় মঙ্গলবার দুুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

জেলা যুবদলের সদস্য সচিব আমিনুর ইসলাম বলেন, ‘পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সম্মেলনে যোগ দিতে আমি ও কয়েকজন কর্মী মাইক্রোবাসে রওনা দেই। গুচ্ছগ্রাম বাজার এলাকায় আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীরা গাড়িতে হামলা চালায়, ভাঙচুর করে। এতে আমিসহ ৫ জন আহত হয়েছি।’

তিনি আরও জানান, স্থানীয়রা তাদের পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

অভিযোগ নাকচ করে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাশেদ জামান বিলাশ বলেন, ‘পাটগ্রামে আমাদের কোনো লোক এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। তাদের দাবি ভিত্তিহীন।’

পাটগ্রাম থানার ওসি ওমর ফারুক নিউজবাংলাকে জানান, ঘটনা জানার পর সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। পরিস্থিতি এখন শান্ত। কেউ এখনও কোনো অভিযোগ দেয়নি।

আরও পড়ুন:
ছাত্রলীগ কর্মীদের লাঠিপেটা: আরও ৫ পুলিশ প্রত্যাহার
বরগুনায় কর্মীদের সংঘর্ষ তদন্তে ছাত্রলীগের কমিটি
এমপি শম্ভুর সঙ্গে তর্কাতর্কি: অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহররম প্রত্যাহার
ছাত্রলীগ কর্মীদের বেধড়ক পিটুনির তদন্তে পুলিশের কমিটি
ছাত্রলীগের সংঘর্ষ: এমপির ধমক, শাসালেন এএসপি

মন্তব্য

সারা দেশ
Caning of Chhatra League workers 5 more policemen withdrawn

ছাত্রলীগ কর্মীদের লাঠিপেটা: আরও ৫ পুলিশ প্রত্যাহার

ছাত্রলীগ কর্মীদের লাঠিপেটা: আরও ৫ পুলিশ প্রত্যাহার
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বরগুনা সদর থানা, পুলিশ লাইন্স ও ডিবি পুলিশের ৫ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

শোক দিবসে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে কর্মীদের পুলিশের লাঠিপেটার ঘটনায় জেলা পুলিশের আরও ৫ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নিউজবাংলাকে।

তিনি জানান, বরগুনা সদর থানার এএসআই মো. সাগর, পুলিশ লাইন্সের কনস্টেবল মো. রবিউল ও ডিবি পুলিশের কনস্টেবল কেএম সানিকে প্রত্যাহার করে ভোলা জেলা পুলিশে সংযুক্ত করা হয়েছে। আর ডিবি পুলিশের এএসআই মো. ইসমাইল এবং ডিবি পুলিশের কনস্টেবল রুহুল আমিনকে প্রত্যাহার করে পিরোজপুর জেলা পুলিশে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বরগুনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদি হাচান। একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া দেননি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম তারেক রহমানের (প্রশাসন ও অর্থ)।

এর আগে দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলীকে প্রত্যাহার করে প্রথমে বরিশাল রেঞ্চে এবং পরে চট্টগ্রাম রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়।

বরগুনা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনের সামনে সোমবার দুপুরে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পর সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের বেধড়ক পেটায় পুলিশ।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল কবির রেজা জানান, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শিল্পকলায় প্রবেশের সময় হামলাকারীরা ছাদ থেকে তাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এ কারণে পুলিশের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে।

এ সময় সেখানে বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু উপস্থিত ছিলেন।

বলেন, ‘পুলিশ বলেছিল, গাড়ি ভাঙচুরকারীকে তারা চিনতে পেরেছে। আমি বলেছি, যে ভাঙচুর করেছে, তাকে দেখিয়ে দিন। আমি তাকে আপনাদের হাতে সোপর্দ করব। আসলে তাদের (পুলিশের) উদ্দেশ্যই ছিল ছাত্রলীগের ছেলেদের মারবে। আমি তাদের মার ফেরানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু সেখানে এত পুলিশ আসছে যে কমান্ড শোনার মতো কেউ ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সোমবার দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর নির্বিচারে লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। পুলিশ কর্মকর্তা মহররম ছিলেন সেখানে। তিনি অনেক ভুল করেছেন।

‘যেখানে আমি উপস্থিত, সেখানে তিনি এমন কাজ করতে পারেন না। আমি তাকে মারপিট করতে নিষেধ করেছিলাম। তারা (পুলিশরা) আমার কথা শোনেননি।’

মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি কে এম এহসান উল্লাহ জানান, সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে উপস্থিত পুলিশের ভূমিকার বিষয়টি তদন্তে জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ তিন কর্মকর্তাকে নিয়ে সোমবার রাতে কমিটি গঠন করা হয়।

মন্তব্য

সারা দেশ
The first wifes son was killed in a land dispute

জমির বিরোধে প্রথম স্ত্রীর ছেলেকে খুন

জমির বিরোধে প্রথম স্ত্রীর ছেলেকে খুন অভিযুক্ত আব্দুল কুদ্দুসের প্রথম স্ত্রীর ছেলে ছিলেন জাহাঙ্গীর।
সম্প্রতি দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে কিছু জমি লিখে দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুদ্দুসের পরিবারে কলহ বাঁধে। এরই সূত্র ধরে মঙ্গলবার সকালে পাট ক্ষেতে বাবা আব্দুল কুদ্দুস ও ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের মধ্যে ঝগড়া বাঁধে।

রাজশাহীর চারঘাটে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বাবার হাঁসুয়ার কোপে মারা গেছেন ছেলে। নিহত জাহাঙ্গীর আলম চারঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের ঝিকড়াপাড়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঝিকড়াপাড়া গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। পরে বাবা কুদ্দুসকে আটক করেছে পুলিশ।

চারঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল লতিফ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, অভিযুক্ত আব্দুল কুদ্দুসের দুই স্ত্রী। নিহত জাহাঙ্গীর আলম তার প্রথম স্ত্রীর ছেলে। আর দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে এক কন্যা সন্তান আছে কুদ্দুসের।

সম্প্রতি দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে কিছু জমি লিখে দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুদ্দুসের পরিবারে কলহ বাঁধে। এরই সূত্র ধরে মঙ্গলবার সকালে পাট ক্ষেতে বাবা আব্দুল কুদ্দুস ও তার প্রথম স্ত্রীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে পাট কাটার হাঁসুয়া দিয়ে ছেলের ঘাড়ে আঘাত করে পালিয়ে যান কুদ্দুস।

এ সময় জাহাঙ্গীরকে অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা চারঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। তবে রাজশাহী নেয়ার পথেই মারা যান জাহাঙ্গীর।

খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করে থানা পুলিশ। আর পালিয়ে যাওয়ার সময় আব্দুল কুদ্দুসকেও আটক করা হয়। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

আরও পড়ুন:
স্ত্রীদের ঝগড়ায় ২ ভাইয়ের মারামারিতে বাবা নিহত
‘বাবা নিয়ে কিছু বলতে পারি না, আবেগাপ্লুত হয়ে যাই’
বাবা দিবসে জেমসের স্মৃতিচারণা
বাবারা নিঃসঙ্গ হয়ে যান যে কারণে
ছেলেকে নিয়ে চালক বাবার স্বপ্ন-সাধ

মন্তব্য

সারা দেশ
Ganoforum AB party is not in alliance

জোট হচ্ছে না গণফোরাম-এবি পার্টির

জোট হচ্ছে না গণফোরাম-এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের বৈঠকে গণফোরাম-এবি পার্টি। ছবি: নিউজবাংলা
মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াত ইসলামী থেকে বেরিয়ে এবি পার্টির হয়েছে। তা ছাড়া দুই ধরনের দুটি রাজনেতিক দলের বৈঠক নিয়ে আবু সাইয়িদ বলেন, ‘আমরা এবি পার্টির গঠনতন্ত্র দেখলাম। দলটির নেতাদের সঙ্গে পরিচিত হলাম। জামায়াতের বিষয়ে তাদের বক্তব্য হলো- আমরা জামায়াত থেকে বেরিয়ে এসে এবি পার্টি করেছি। জামায়াত জাতির কাছে ক্ষমা চায় নি বলেই আমরা নতুন দল করেছি। আমাদের মনে হয়েছে, এদেশকে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদেরও আছে।’

চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অন্ত:বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার বিষয়ে ঐক্যমতে পৌছেছেন ড. কামাল হোসেনের দল গণফোরাম ও নতুন রাজনৈতিক দল এবি পার্টি।

কোন জোট হচ্ছে না বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুটি দল। তবে যুগপৎ আন্দোলন করবে দুটি দল। মঙ্গলবার বিকালে গণফোরাম কেন্দ্রীয় কার্যালয় এক বৈঠক করে দুটি দল।

গণফোরাম দলটিতে এখনো নেতৃত্বে রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের সময় রণাঙ্গনে যুদ্ধ করা মুক্তিযোদ্ধারা। আর জামায়াত থেকে বের হয়ে মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার করার কথা বলেছেন এবি পার্টির নেতারা।

তবে এবি পার্টির সঙ্গে কোন জোট হচ্ছে না বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ। তিনি বলেন, ‘আমরা উনাদের বলেছি, আমরা কারও সঙ্গেই জোট করতে চাচ্ছি না। আপনাদের সঙ্গে জোট করবো না। তবে আমরা যুগপৎ আন্দোলন করতে পারি। উনারা আমাদের বলেছেন, আমরা মিটিং করে আপনাদের জানাবো। যার একটি লিয়াজো কমিটি থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা তো বিএনপিকেও বলেছি, আমরা এই মূহুর্তে কোন জোটে যাব না।’

মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াত ইসলামী থেকে বেরিয়ে এবি পার্টির হয়েছে। তা ছাড়া দুই ধরনের দুটি রাজনেতিক দলের বৈঠক নিয়ে আবু সাইয়িদ বলেন, ‘আমরা এবি পার্টির গঠনতন্ত্র দেখলাম। দলটির নেতাদের সঙ্গে পরিচিত হলাম। জামায়াতের বিষয়ে তাদের বক্তব্য হলো- আমরা জামায়াত থেকে বেরিয়ে এসে এবি পার্টি করেছি। জামায়াত জাতির কাছে ক্ষমা চায় নি বলেই আমরা নতুন দল করেছি। আমাদের মনে হয়েছে, এদেশকে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদেরও আছে।’

বৈঠকে গণফোরামের ওই অংশের সভাপতি মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন- ‘দুর্নীতিবাজ লুটেরা সরকার জনতার নিরাপত্তায় একেবারেই উদাসীন। দীর্ঘদিন ধরে পুরান ঢাকার মানুষের জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে কেমিক্যাল, প্লাস্টিক ও দাহ্য পদার্থের গোডাউন সরানোর কোন উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নেয়নি। যখন কোন দুর্ঘটনা ঘটে জনগণের চোখে ধুলো দিয়ে তৎপরতা দেখায় কিন্তু আসলে এটা ধোঁকা। আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছি মানুষের নুন্যতম নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে কিভাবে উন্নয়নের নামে রাজধানীতে মরনফাঁদ করে রেখেছে। এই মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের তত্ত্বাবধায়নে। নুন্যতম দায়িত্ববোধ থাকলে পদত্যাগ করতেন। জনগণের প্রতি তাদের যে দায়িত্ববোধের কথা বলেন তা আসলে কুমীরের মায়ের কান্না।’

এবি পার্টির আহবায়ক এএফএম সোলায়মান চৌধুরী বলেন- ‘আমরা চাই মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন যাতে হয় সেই লক্ষ্যে আমরা ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছি এবং গণফোরামের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করলে সেটা গতিশীল ও কার্যকর হবে। অধিকার বঞ্চিত মানুষের জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।’

বৈঠকে গণফোরামের নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ, মহসিন রশিদ, মহিউদ্দিন আবদুল কাদেরসহ, সভাপতি পরিষদ সদস্য- আব্দুল হাসিব চৌধুরী, খান সিদ্দিকুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান ফারুক, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ রওশন ইয়াজদানী তথ্য ও গণমাধ্যম সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ মধু।

এবি পার্টির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দলের সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু, যুগ্ম-সদস্য সচিব ব্যারিষ্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ব্যারিষ্টার জুবায়ের আহমদ ভূঁইয়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহবায়ক বিএম নাজমুল হক প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
কেউ জামায়াতের, কেউ সরকারের ‘বি টিম’ বলছে
বিকশিত হতে পারছে না এবি পার্টি
এবি পার্টিতে ব্যারিস্টার রাজ্জাকও

মন্তব্য

p
উপরে