ছাগলকে ইউএনওর জরিমানা

ছাগলকে ইউএনওর জরিমানা

সাহারা বেগমের ছাগলের খোঁজ মিলছিল না ১৭ মে থেকে। পরে তিনি জানতে পারেন, ইউএনও সেই প্রাণীটিকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করে আটকে রেখেছেন। তাকে সেই টাকা পরিশোধ করে ফিরিয়ে আনতে হবে। তিনি টাকা দেননি। আর ৯ দিন পর তার ছাগল ইউএনওর আদেশে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে।

উপজেলা পরিষদের ফুলগাছ খেয়েছে ছাগল। রাগে লাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। প্রয়োগ করলেন তার বিচারিক ক্ষমতা। জরিমানা করলেন ছাগলকে। দিতে হবে দুই হাজার টাকা।

ছাগলের মালিক তখন ঘটনাস্থলে ছিলেন না। পশুর পক্ষে তো জরিমানা দেয়া সম্ভব নয়। তাই মালিককে চাপ দিতে আটক করা হয় সেই ছাগল।

৯ দিন আটকে রাখার পর মালিক সাহারা বেগমকে না জানিয়ে ছাগলটি পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটিয়েছেন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সীমা শারমিন।

তবে আইনত তিনি এই আদেশ দিতে পারেন কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একজন আইনজীবী জানিয়েছেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে আদেশ দিতে হলে অভিযুক্তের অপরাধ স্বীকার করার বাধ্যবাধকতা আছে।

যা বললেন ছাগলমালিক

ছাগলমালিক সাহারা বেগম আদমদীঘি উপজেলা পরিষদ চত্বরের ডাকবাংলোসংলগ্ন এলাকায় বসবাস করেন। তার স্বামীর নাম জিল্লুর রহমান।

গত ১৭ মে তার ছাগলটি হারিয়ে যায়। অনেক জায়গায় তিনি ছাগলটির সন্ধান করেন। পরে এলাকার লোকজন তাকে জানান, ছাগলটি ইউএনওর এক নিরাপত্তাকর্মীর কাছে রয়েছে।

তিনি ইউএনওর বাসার পাশে গিয়ে এক নিরাপত্তাকর্মীকে ছাগলকে ঘাস খাওয়াতে দেখেন। এ সময় ছাগল ফেরত চাইলে দেয়া যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন ওই নিরাপত্তাকর্মী।
পরে তিনি ইউএনওর কাছে গেলে তিনি তাকে বলেন, ‘ফুলগাছের পাতা খাওয়ার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা দিয়ে ছাগল নিয়ে যান।’

কিন্তু ছাগল ফুলগাছ খাবে- এ জন্য দুই হাজার টাকা দিতে হবে, এটা মানতেই পারেননি সাহারা বেগম। টাকা দিচ্ছিলেন না তিনি।

এর মধ্যে ইউএনওর গৃহকর্মী হঠাৎ তাকে ডাকেন টাকা নিয়ে আসতে। তখন আক্কেলগুড়ুম দশা সাহারা বেগমের। কেন তাকে টাকা দেবেন?

সেই গৃহকর্মীর কাছেও তিনি রাখেন প্রশ্ন।

পরে তাকে জানানো হয়, ২২ মে তার ছাগলটি পাঁচ হাজার টাকায় বেচে দেয়া হয়েছে। এ থেকে জরিমানা বাবদ দুই হাজার টাকা কেটে রাখা হয়েছে। বাকি টাকা যেন নিয়ে আসেন।

তবে সাহারা বেগম সেই টাকা আর আনেননি। আর ইউএনও দাবি করেছেন, ছাগল বিক্রি করা হয়নি। একজনের জিম্মায় রাখা হয়েছে।

ইউএনও যা বলছেন

সীমা শারমিনের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে নিউজবাংলার।

তিনি জানান, উপজেলা চত্বরে একটি পার্ক করা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে ফুলের গাছ নিয়ে এসে লাগানো হয়েছে। কিন্তু এখানে ওই ছাগল এসে গাছের ফুলগুলো খেয়ে নিয়েছে কয়েকবার।


ছাগলকে ইউএনওর জরিমানা
ইউএনও সীমা শারমিন


‘এ বিষয়ে ছাগলের মালিককে সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু উনি কথা শোনেননি। এ কারণে গণ-উপদ্রব আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’
ছাগল বেচে দেয়া হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে ইউএনও বলেন, ‌‘ছাগল বিক্রি করা হয়নি। একজনের জিম্মায় রাখা হয়েছে। মালিক চাইলে টাকার বিনিময়ে ছাগল ফেরত পাবেন।’

অবৈধ জরিমানা, বললেন আইনজীবী নেতা

ছাগলের মালিকের অনুপস্থিতিতে এভাবে জরিমানা করা যায় কি না, জানতে চাইলে বগুড়া জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোজ্জাম্মেল হক বলেন, ‌‘‌ভ্রাম্যমাণ আদালতের আইনমতে, অভিযুক্ত ব্যক্তির দোষ স্বীকার করতে হবে। তখন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যাবে। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠান বা সম্পদের (ছাগল) মালিকের বিরুদ্ধে এভাবে জরিমানা করা ঠিক হয়নি। এই ঘটনায় প্রচলিত বৈধ রীতি খোঁয়াড়ে ছাগল রাখতে পারতেন। অথবা বেশি ক্ষতি হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থানায় কিংবা আদালতে মামলা করতে পারেন।’

আরও পড়ুন:
ছাগল ছানার আট পা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বঁটি নিয়ে মোটরসাইকেল নিতে এসে আটক

বঁটি নিয়ে মোটরসাইকেল নিতে এসে আটক

ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর শরীফ হোসেন একটি ধারাল বটি সঙ্গে নিয়ে টিএসআই বেলাল হোসেনের কাছে আসেন এবং বলেন জরিমানা পরিশোধ করে তিনি মোটরসাইকেল ফিরিয়ে নিতে চান। তাকে ট্রাফিক অফিসে গিয়ে অনলাইনে টাকা পরিশোধ করে মোটরসাইকেলটি ফিরিয়ে নেয়ার জন্য বলা হলে তিনি তার হাতে থাকা বটি নিয়ে বেলাল হোসেনের ওপর চড়াও হন।

মোটরসাইকেল থামিয়ে কাগজপত্র দেখতে চেয়েছিল পুলিশ। কিন্তু মোটরসাইকেলের চালক শরীফ হোসেন শেখ তা দেখাতে ব্যর্থ হন। তাই ছোট মামলা দিয়ে পুলিশ মোটরসাইকেলটিকে ট্রাফিক অফিসে পাঠায়। এতে প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হন শরীফ হোসেন শেখ। ধারাল বঁটি নিয়ে ভয় দেখিয়ে তার জব্দ করা মোটরসাইকেল ফেরত নিতে আসেন। কিন্তু এবার তিনি আটক হন পুলিশের হাতে।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে নওগাঁ শহরের ব্রিজের মোড় এলাকায়।

আটক শরীফ হোসেন শেখ নওগাঁ পৌরসভার খাস-নওগাঁ ৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার আব্দুল মালেক শেখ খোয়াজের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে শহরের ব্রিজের মোড় থেকে যুবক শরীফ হোসেনসহ তিনজন মোটরসাইকেলে করে তাজের মোড়ের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় ব্রিজের মোড়ে কর্তব্যরত টিএসআই বেলাল হোসেন মোটরসাইকেলটি থামিয়ে কাগজপত্র দেখতে চাইলে শরীফ হোসেন দেখাতে ব্যর্থ হন। তিনি টিএসআইকে বলেন যে, কাগজপত্র বাসায় আছে। তারপর শরীফ হোসেন পরিচয় দেন তার বাবা পৌরসভার একজন কমিশনার। পরিচয় পাওয়ার পর তার মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে ছোট মামলা দিয়ে মোটরসাইকেলটি ট্রাফিক অফিসে পাঠানো হয়।

ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর শরীফ হোসেন একটি ধারাল বঁটি সঙ্গে নিয়ে টিএসআই বেলাল হোসেনের কাছে আসেন এবং বলেন জরিমানা পরিশোধ করে তিনি মোটরসাইকেল ফিরিয়ে নিতে চান। তাকে ট্রাফিক অফিসে গিয়ে অনলাইনে টাকা পরিশোধ করে মোটরসাইকেলটি ফিরিয়ে নেয়ার জন্য বলা হলে তিনি তার হাতে থাকা বটি নিয়ে বেলাল হোসেনের ওপর চড়াও হন। এ সময় সেখানে থাকা ট্রাফিক সার্জেন্ট মাহাবুব ইবনে হায়দার ছুটে আসেন এবং শরীফের হাতে থাকা বটিটি কেড়ে নিয়ে আটক করেন। এর পর থানা পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে বটি জব্দ করে এবং শরীফকে থানায় নিয়ে যায়।

নওগাঁ ট্রাফিক ইন্সপেক্টর রাহাত হোসেন তরফদার বলেন, ওয়্যারলেসে কল পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি থানার কিলোডিউটি গাড়ি সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে একজন যুবককে আটক করা আছে। পরে তাকে থানায় পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, ‘মোটরসাইকেলটিতে কোনো নম্বরপ্লেট ছিল না। তার ওপর তিনজন একসঙ্গে যাচ্ছিল, যা বেআইনি। দায়িত্ব পালনের সময় ট্রাফিক পুলিশের প্রতি এমন ভয়াবহ আচরণ সত্যিই দুঃখজনক।’

আরও পড়ুন:
ছাগল ছানার আট পা

শেয়ার করুন

শেরপুরে ট্রলিচালকের পুরুষাঙ্গ কর্তন

শেরপুরে ট্রলিচালকের পুরুষাঙ্গ কর্তন

এলাকাবাসীর দাবি, পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এক প্রবাসীর স্ত্রী এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তবে যুবকের স্বজনদের দাবি, পূর্ব শত্রুতার জেরে স্থানীয় কয়েকজন যুবক ওই ট্রলিচালকের পুরুষাঙ্গ কেটে দেন।

শেরপুরে এক যুবকের পুরুষাঙ্গ কর্তনের ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসীর দাবি, পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এক প্রবাসীর স্ত্রী এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

তবে যুবকের স্বজনদের দাবি, পূর্ব শত্রুতার জেরে স্থানীয় কয়েকজন যুবক ওই যুবকের পুরুষাঙ্গ কেটে দেন। তিনি পেশায় একজন ট্রলিচালক।

সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে সদর উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ট্রলিচালকের বাড়ি রৌহা ইউনিয়নের একটি গ্রামে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে ওই ট্রলিচালক যুবকের ঘনিষ্ঠতা হয়। এই সুবাদে ওই গৃহবধূর কাছ থেকে তিনি নানা অজুহাতে অনেক টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেন। এ টাকার জন্যই সম্প্রতি তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়। একপর্যায়ে যুবকের প্রতি ক্ষুব্ধ হন ওই গৃহবধূ।

এই প্রেক্ষাপটে সোমবার রাতে যুবককে খবর দিয়ে নিজের বাড়িতে ডেকে আনেন ওই গৃহবধূ। পরে কৌশলে তার পুরুষাঙ্গ কেটে দেন। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে যুবককে উদ্ধার করেন। পরে তাকে শেরপুর ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

জেলা হাসপাতালের আরএমও খায়রুল কবীর সুমন জানান, যুবকের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তবে যুবকের বড় ভাই বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাকে স্থানীয় বাজার থেকে ডেকে পাশের একটি মাঠে নিয়ে কয়েকজন যুবক এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহাম্মদ বলেন, ‘ঘটনাটি শোনার পরপরই ওই এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়। প্রাথমিক তদন্তের কাজ শুরু হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
ছাগল ছানার আট পা

শেয়ার করুন

নিখোঁজের ৪ মাস পর তরুণী উদ্ধার

নিখোঁজের ৪ মাস পর তরুণী উদ্ধার

চলতি বছরের ৬ ফ্রেরুয়ারি নিখোঁজ হন ২২ বছর বয়সী ওই তরুণী। তাকে অপহরণের অভিযোগে তার মা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।

নিখোঁজের চার মাস পর এক তরুণীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ঢাকা মহানগরীর খিলগাঁও এলাকা থেকে এই নারীকে উদ্ধার করা হয়।

ওই তরুণী নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা।

সোমবার রাত ৯টার দিকে এ তথ্য জানিয়েছেন পিবিআই নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম।

তিনি নিউজবাংলাকে জানান, চলতি বছরের ৬ ফ্রেরুয়ারি নিখোঁজ হন ২২ বছর বয়সী ওই তরুণী। তাকে অপহরণের অভিযোগে তার মা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।

মামলায় আসামি করা হয় দুই নারীকে। তারা ওই তরুণীর বান্ধবী। পরবর্তীতে আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয় পিবিআইকে। মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর উপপরিদর্শক টিপু সুলতান আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। রোববার রাতে ঢাকা মহানগরীর খিলগাঁও চৌরাস্তা এলাকায় একটি বাসা থেকে তরুণীকে উদ্ধার করা। তবে কাউকে আটক করা যায়নি।

সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কাওসার আলমের আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন তরুণী। পরে আদালত তাকে তার মায়ের জিম্মায় দেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত চলমান রেখেছে বলে জানান পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম।

আরও পড়ুন:
ছাগল ছানার আট পা

শেয়ার করুন

ট্রাক্টরচাপায় নারীর মৃত্যু

ট্রাক্টরচাপায় নারীর মৃত্যু

ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্র জানায়, ছেলে রায়হান আলীর মোটরসাইকেলে করে বাড়িতে ফিরছিলেন ৬৫ বছর বয়সী রশিদা। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই একটি ট্রাক্টর তাদের বহনকারী মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে মারা যান রশিদা। 

নীলফামারীর ডোমারে সড়ক দুর্ঘটনায় রশিদা বেগম নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বিকেলে পাঙ্গা মটকপুর ইউনিয়নের মটকপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রশিদা বেগম জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ি ইউনিয়নের খেড়কাঠি এলাকার রশিদপুর এলাকার রহিদুল ইসলামের স্ত্রী।

ট্রাক্টরচালক আতিকুল হককে আটক করেছে পুলিশ। তিনি হরিণচড়া ইউনিয়নের বটতলী এলাকার আতিয়ার

রহমানের ছেলে।

ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্র জানায়, ছেলে রায়হান আলীর মোটরসাইকেলে করে বাড়িতে ফিরছিলেন ৬৫ বছর বয়সী রশিদা। এ সময়

বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই একটি ট্রাক্টর তাদের বহনকারী মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে মারা যান রশিদা।

এ সময় আহত হন ছেলে রায়হান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ডোমার থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ট্রাক্টরটি থানায় রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ছাগল ছানার আট পা

শেয়ার করুন

থানার গ্যারাজে ফেনসিডিলের খালি বোতল

থানার গ্যারাজে ফেনসিডিলের খালি বোতল

সোমবার সকালে থানার গ্যারাজে স্ট্যান্ড করে রাখা মোটরসাইকেলে ফাঁকে ফাঁকে ভারতীয় নিষিদ্ধ ফেনসিডিলের বহু খোলা বোতল ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ছবি: নিউজবাংলা।  

কে বা কারা থানা চত্বরের ভিতরে এই ফেনসিডিল খেয়ে এগুলো স্তূপ করে রেখেছে তা স্পষ্ট নয়। সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত থানার ভিতরে কীভাবে এই ফেনসিডিলের বোতলগুলো জমে আছে তা নিয়ে থানায় সেবা নিতে আসা সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তবে গ্যারাজে কোনো সিসি ক্যামেরা নেই।

নওগাঁর মান্দা থানার গ্যারাজে ফেনসিডিলের বহু খালি বোতল পাওয়া গেছে।

সোমবার সকালে থানার গ্যারাজে গিয়ে দেখা যায়, স্ট্যান্ড করে রাখা মোটরসাইকেলে ফাঁকে ফাঁকে ভারতীয় নিষিদ্ধ ফেনসিডিলের বহু খোলা বোতল ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে।

কে বা কারা থানা চত্বরের ভিতরে এই ফেনসিডিল খেয়ে এগুলো স্তূপ করে রেখেছে তা স্পষ্ট নয়। সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত থানার ভিতরে কীভাবে এই ফেনসিডিলের বোতলগুলো জমে আছে তা নিয়ে থানায় সেবা নিতে আসা সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তবে গ্যারাজে কোনো সিসি ক্যামেরা নেই।

পুলিশ মাদকসেবীদের ধরে জেলহাজতে পাঠায়। অথচ সেই থানা চত্বরে অসংখ্য পরিত্যক্ত ফেনসিডিলের বোতল জমা হয়ে আছে।

নওগাঁ মাদক নির্মূল কমিটির সভাপতি হাফিজার রহমান বলেন, ‘থানার মতো একটি সুরক্ষিত স্থানে কীভাবে ফেনসিডিলের বোতল পড়ে থাকে? এটা থানার কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলার সামিল। পুলিশের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা এবং আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।’

এ ব্যাপারে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান জানান, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই, যদি ছবি থাকে তবে পাঠান।’

থানার গ্যারাজে ফেনসিডিলের খালি বোতল
সোমবার সকালে থানার গ্যারাজে স্ট্যান্ড করে রাখা মোটরসাইকেলে ফাঁকে ফাঁকে ফেনসিডিলের বহু খোলা বোতল ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ছবি: নিউজবাংলা

এর পর মেসেঞ্জারে ছবি পাঠিয়ে তাকে একাধিকবার কল দিলেও পরে আর তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মান্দা সার্কেল) মতিয়ার রহমান জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনার কাছে থেকে প্রথম জানলাম।

থানা একটি সুরক্ষিত স্থান হওয়ার পরও এর গ্যারাজে ফেনসিডিলের খালি বোতল কী করে পড়ে থাকে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আসলে সেটাতো আলমত সংরক্ষণের স্থান। তবুও আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’

আরও পড়ুন:
ছাগল ছানার আট পা

শেয়ার করুন

অনির্দিষ্টকালের লকডাউনে মাগুরা

অনির্দিষ্টকালের লকডাউনে মাগুরা

মাগুরা সিভিল সার্জন শহীদুল্লাহ দেওয়ান জানান, সর্বশেষ রোববার ৫৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। একই সাথে মহম্মদপুর উপজেলা সদরে তিনদিনে ২৯ নমুনায় ১৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্তের হার শতকরা ৪২ ভাগ।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সোমবার সকাল থেকে মাগুরা শহরকে অনির্দিষ্টকালের জন্য লকডাউনের আওতায় আনা হয়েছে। সেই সঙ্গে জেলার মহম্মদপুর উপজেলা সদরেও লকডাউন ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ছাড়া মাগুরার একমাত্র পৌরসভার ২, ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ডে রেড অ্যালার্ট ঘোষণা করা হয়েছে। মহম্মদপুর উপজেলা সদর ইউনিয়নকে রেড অ্যালার্টের আওতায় আনা হয়েছে।

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা শহরের প্রবেশপথে বাঁশের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে দেখা যায়। সেখfনে পুলিশের পাশাপাশি আনসার ও স্কাউট সদস্যদের তদারকি করতে দেখা যায়। বিশেষ করে ভায়না মোড় থেকে ঢাকা রোড ও নতুন বাজার এলাকায় রিকশা, অটোরিকশা, মোটর সাইকেল প্রবেশে বাধা দেয়া হয়। তবে জরুরি পরিষেবাগুলোর যান প্রবেশে বাধা ছিল না।

মাগুরা সিভিল সার্জন শহীদুল্লাহ দেওয়ান জানান, সর্বশেষ রোববার ৫৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। একই সাথে মহম্মদপুর উপজেলা সদরে তিনদিনে ২৯ নমুনায় ১৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্তের হার শতকরা ৪২ ভাগ।

তিনি বলেন, কঠোর লকডাউন দেয়া না হলে সংক্রমণ জেলার সবখানে ছড়িয়ে যাবে। জেলার এমন পরিস্থিতিতে জেলা স্বাস্থ্যবিভাগের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে লকডাউনের সুপারিশ করা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক সোমবার থেকে মাগুরা শহর ও মহম্মদপুর উপজেলা সদরে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম জানান, লকডাউন কঠোরভাবে পালনে শহরের প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের বেশ কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে। লকডাউন কার্যকর, রেডজোনে জনসাধারনের যাতাযাত সীমিতকরণ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হচ্ছে কি না তা নজরদারি করা হচ্ছে। বিশেষ করে শতভাগ মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে প্রশাসন মাঠে কাজ করছে।

আরও পড়ুন:
ছাগল ছানার আট পা

শেয়ার করুন

উদ্বোধনের আগেই সংযোগ সড়কে ধস

উদ্বোধনের আগেই সংযোগ সড়কে ধস

২ কোটি ৭৩ লাখ টাকায় নির্মিত সংযোগ সড়কটি উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

সোমবার সকাল ৯টার দিকে সেতুর দক্ষিণ পাশের সংযোগ সড়কটি ধসে পড়ে। একটি ট্রাক সড়কটি পার হওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়েছে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বনগ্রামে আত্রাই নদীর ওপর নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক। এই প্রকল্পে খরচ হয়েছে ২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

বানগ্রামের হাটকে যানজট মুক্ত রাখতে হাটের পূর্ব পাশে মহাসড়কের উত্তরে আত্রাই নদীর ওপর চলতি অর্থ বছরে সড়কটি নির্মাণ করে এলজিইডি।

সোমবার সকাল ৯টার দিকে সেতুর দক্ষিণ পাশের সংযোগ সড়কটি ধসে পড়ে। একটি ট্রাক সড়কটি পার হওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, পণ্যবাহী ট্রাকটি উল্টে দুটি বসত বাড়িতে আঘাত হানে। এতে আহত হন তিনজন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাড়ি দুটি।

এ ঘটনায় ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনিয়মের অভিযোগ জোরালো হয়। স্থানীয়দের দাবি, কাজের শুরু থেকেই সংযোগ সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ করে আসছিলেন তারা।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে প্রকল্পের ঠিকাদারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, তাকে পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
ছাগল ছানার আট পা

শেয়ার করুন