নিষেধাজ্ঞাই আশীর্বাদ, নিরাপদে জেলেরা

নিষেধাজ্ঞাই আশীর্বাদ, নিরাপদে জেলেরা

‘সরকার নিষুদ (নিষেধ) করছে হেইতে গেদুর বাফে এইবার সাগরে যায় নাই। যদি মাছ ধরার সুযোগ থাকত, হেইলে তো হে সাগরে যাইয়া বইন্নায় ডুইব্বা মরতে। নাইলে মোর ভাশুরের নাহান নিখোঁজ অইয়া আর ফেরতে না।’

বরগুনার পাথরঘাটার বাদুরতলা গ্রামের জেলে খলিলুর রহমান। ২০০৭ সালে সিডরের সময় তিনি মাছ ধরতে গিয়েছিলেন বঙ্গোপসাগরে। সেই ঝড় থেমেছে ১৪ বছর হয়ে গেল। কিন্তু খলিল আর ফেরেননি।

তিন সন্তান নিয়ে স্ত্রী কমলা বেগম এখনও তার ফেরার অপেক্ষায়। সাগরে ডুবে সে সময়ই মারা গেছেন খলিল। তারপরও অপেক্ষা তাকে কিছুটা সাহস দেয়।

ঝড়ের মধ্যে মাছ ধরতে গিয়ে বিভিন্ন সময় সাগরে নিখোঁজ হয়েছেন খলিলের মতো অনেক জেলে। মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও জেলেরা সাগরে যান। তবে এবার নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাব। এ কারণে বেশ সতর্ক হয়েছেন জেলেরা। তাতে পরিবারগুলো কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে। প্রিয়জনকে সাগরে হারানোর ভয় এবার নেই তাদের।

সামু‌দ্রিক মা‌ছের প্রজনন ও সংরক্ষণে ২০ মে থেকে ৬৫ দিনের জন্য মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার।

নিষেধাজ্ঞাই আশীর্বাদ, নিরাপদে জেলেরা

উপকূলীয় ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা চৌধুরী জানান, ২০০৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ভয়াবহ ঝড়ে প্রায় আড়াই হাজার জেলের প্রাণহানি ঘটে। এর মধ্যে পাথরঘাটারই ১৭৬ জন জেলে নিখোঁজ হন।

কিন্তু এবারই প্রথম সরকারের আরোপ করা মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার ৬৫ দিনের মধ্যে এসেছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস।

তাই তীরেই অবস্থান করছেন জেলেরা। যার ফলে ট্রলারডুবি, নিখোঁজ ও প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেয়েছেন তারা।

জেলে সমিতির সভাপতি দুলাল মাঝি বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা মোগো লইগ্গা আশীর্বাদ হইছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞায় কোনো জাইল্লা (জেলে) বোট লইয়া সাগরে যায় নায়। হেইয়ার লইগ্গা মোরা নিশ্চিন্তে বাড়তে (বাড়ি) থাকতে পারতেছি।’

পাথরঘাাটা সদর ইউনিয়নের বাদুরতলা এলাকার জেলে হানিফ। স্ত্রী ও তিনি সন্তান নিয়ে তার পরিবার।

স্ত্রী আয়েশা বলেন, ‘সরকার নিষুদ (নিষেধ) করছে হেইতে গেদুর বাফে এইবার সাগরে যায় নাই। যদি মাছ ধরার সুযোগ থাকত, হেইলে তো হে সাগরে যাইয়া বইন্নায় ডুইব্বা মরতে। নাইলে মোর ভাশুরের নাহান নিখোঁজ অইয়া আর ফেরতে না।’

হানিফের বড় ভাই ইলিয়াস সিডরে নিখোঁজ হয়েছিলেন। তাকে ফিরে পাবার আশা ছেড়ে দিয়েছে পরিবার।

নিষেধাজ্ঞাই আশীর্বাদ, নিরাপদে জেলেরা

একই এলাকার জেলেবধূ কল্পনা বেগম বলেন, ‘হ্যারা সাগরে গ্যালে মোগো পড়ানডা ছাতছাত (ধড়ফড়) করে। দাবি দয়া ছাড়াইয়াই হেরা সাগরে যায়। এমন জাগায় মাছ ধরতে যায় যে ফোনে এট্টু কতা কমু হেইয়াও পারি না, নেটওয়্যারে (নেটওয়ার্ক) থাহে না। এই ফির সরকারের নিষেধের কারণে যায় নায়, নাইলে মোর স্বামীরে খুয়াইলহাম।’

পাথরঘাটার স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা সংকল্প ট্রাস্টের পরিচালক মীর্জা এস. আই. খালেদ বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের সময় জেলেপল্লিগুলোতে কান্নার রোল পড়ে যায়। নানা শঙ্কা আর দুশ্চিন্তায় দিন পার করেন জেলেদের স্ত্রী-সন্তান। কিন্তু এ বছর নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন ঘূর্ণিঝড় হওয়ায় জেলেরা বাড়িতে অবস্থান করছেন।’

তিনি জানান, পাথরঘাটায় ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ সাগরে ইলিশ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।

কোস্টগার্ড পাথরঘাটা স্টেশনের কমান্ডার লে. ফাহিম শাহরিয়ার বলেন, ‘২০ মে থেকে নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। যে কারণে এ সময় সাগরে কোনো জেলে ট্রলার নেই। আর নিষেধাজ্ঞার কারণেই জেলেরা এই ঝড়ের সময় নিরাপদে পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করছেন।’

আরও পড়ুন:
ওড়িশার দিকে ধেয়ে আসছে ইয়াস
ইয়াস: ভোলায় গাছচাপায় কৃষকের মৃত্যু
ইয়াস: তীব্র বাতাসে জলোচ্ছ্বাসের ভয়
দুপুরে ওড়িশায় আঘাত হানবে ইয়াস

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পুকুরে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু

পুকুরে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু

নিহতদের নানী জোছনা বেগম জানান,বিকেলে বৃষ্টি হচ্ছিল। বাড়ির উঠানে খেলা করছিল রাসেল ও শিমু। এরপর বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ ফুট দূরে বরেন্দ্র বহুমুর্খী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পুকুরে গোসল করতে যায় তারা। সে সময় আমরা বাড়িতে পারিবারিক কাজে একটু ব্যস্ত ছিলাম।

নওগাঁয় পুকুরে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে। শহরের বরেন্দ্র বহুমুর্খী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পুকুরে শনিবার বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতদের নানী জোছনা বেগম জানান,বিকেলে বৃষ্টি হচ্ছিল। বাড়ির উঠানে খেলা করছিল রাসেল ও শিমু। এরপর বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ ফুট দূরে বরেন্দ্র বহুমুর্খী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পুকুরে গোসল করতে যায় তারা। সে সময় আমরা বাড়িতে পারিবারিক কাজে একটু ব্যস্ত ছিলাম।

‘কিছুক্ষণ পর আমরা তাদের খুঁজতে থাকি। এক পর্যায়ে পুকুর ঘাটে জুতা ও গামছা দেখে নিশ্চিত হই তারা পুকুরে গোসল করতে নেমেছিল। এ সময় পুকুর ও আশে পাশে কেউ ছিলনা।’

পরে নওগাঁ ফায়ার সার্ভিস ইউনিটে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে আসে। তবে তার আগেই স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নওগাঁ সদর মডেল থানার (ওসি) নজরুল ইসলাম জুয়েল জানান,নিহতদের মধ্যে রাসেল শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ওড়িশার দিকে ধেয়ে আসছে ইয়াস
ইয়াস: ভোলায় গাছচাপায় কৃষকের মৃত্যু
ইয়াস: তীব্র বাতাসে জলোচ্ছ্বাসের ভয়
দুপুরে ওড়িশায় আঘাত হানবে ইয়াস

শেয়ার করুন

স্বাভাবিক জীবনের আশ্বাসে ডাকাতের আত্মসমর্পণ  

স্বাভাবিক জীবনের আশ্বাসে ডাকাতের আত্মসমর্পণ

 

ফারুকের বিরুদ্ধে তিন থানায় ৭ মামলা রয়েছে। ছবি:নিউজবাংলা

পুলিশ জানায়, ডাকাত ফারুকের বিরুদ্ধে শ্রীপুর,কেন্দুয়া ও পাগলা থানায় হত্যা, ডাকাতি,অপহরণ ও মাদকসহ সাতটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে পাগলা থানায় পাঁচটি মামলায় তিনি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। চার বছর ধরে পুলিশ তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল।

স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দেয়া হবে পুলিশের এমন আশ্বাসে ফারুক নামের ২৫ বছরের এক ডাকাত আত্মসমর্পণ করেছেন ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানায়। শনিবার সকালে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুজ্জামান।

তিনি বলেন,‘দুর্ধর্ষ ডাকাত ফারুকের বিরুদ্ধে শ্রীপুর,কেন্দুয়া ও পাগলা থানায় হত্যা, ডাকাতি,অপহরণ ও মাদকসহ সাতটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে পাগলা থানায় পাঁচটি মামলার তিনি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। চার বছর ধরে পুলিশ তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল। এই অবস্থায় ফারুককে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দেওয়া হবে পরিবারের সঙ্গে এমন আলোচনা হয়। এরপর ফারুক শনিবার সকালে নিজে থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন।’

কীভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া হবে এমন প্রশ্নে ওসি বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে থাকা সব মামলার কার্যক্রম শেষ করেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে। তবে আমরা আইনের মাধ্যমেই চেষ্টা করবো সে যেন দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে এসে ভালো পথে চলতে পারে।

এদিকে শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ফারুককে ময়মনসিংহের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে তোলা হলে বিচারক দেওয়ান মনিরুজ্জামান তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন:
ওড়িশার দিকে ধেয়ে আসছে ইয়াস
ইয়াস: ভোলায় গাছচাপায় কৃষকের মৃত্যু
ইয়াস: তীব্র বাতাসে জলোচ্ছ্বাসের ভয়
দুপুরে ওড়িশায় আঘাত হানবে ইয়াস

শেয়ার করুন

দুই‌ যুবকের মরদেহ উদ্ধার

দুই‌ যুবকের মরদেহ উদ্ধার

ভূঞাপুর থানার ওসি জানান, তিন থেকে চার‌ দিন আগের হওয়ায় স‌জিবের মরদেহ পচে গেছে। এদিকে সদর থানার এসআই মনির হোসেন জানান, ধারণা করা হচ্ছে, পাঁচ থেকে ছয় দিন আগে হত্যা করে মরদেহটি ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা।

টাঙ্গাই‌ল সদর ও ভূঞাপুর থে‌কে দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার ক‌রে‌ছে পু‌লিশ।

ভূঞাপুর থেকে শ‌নিবার বিকেলে এবং সদরে ঢাকা-টাঙ্গাই‌ল মহাসড়‌কের পাশ থেকে সন্ধ্যায় মরদেহ দুটি উদ্ধার ক‌রা হয়।

ভূঞাপুর উপ‌জেলার গাবসারা ইউ‌নিয়নের রাজাপুর থে‌কে উদ্ধার করা মরদেহ স‌জিব নামের ২৩ বছরের এক যুবকের।

স‌জিব ওই উপ‌জেলার ফলদা ইউ‌নিয়‌নের ধুব‌লিয়া গ্রা‌মের বাসিন্দা। তিনি মধুপু‌রে এক‌টি মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন।

স্থানীয় লোকজন জানান, বি‌কে‌লে রাজাপু‌রে কৃষকরা ক্ষে‌তে কাজ করার সময় মরদেহটি দেখে পু‌লি‌শে খবর দেন। এ সময় মরদেহটি থেকে দুর্গন্ধ ছ‌ড়ি‌য়ে প‌ড়ে‌। পু‌লিশ মরদেহটি উদ্ধার ক‌রে ময়নাতদ‌ন্তের জন‌্য টাঙ্গাইল জেনা‌রেল হাসপাতা‌লে পা‌ঠিয়েছে।

ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওহাব জানান, তিন থেকে চার‌ দিন আগের হওয়ায় স‌জিবের মরদেহ পচে গেছে। ময়নাতদ‌ন্তের পর প্রকৃ‌ত ঘটনা জানা যা‌বে।

এদিকে সদর উপ‌জেলার ঘা‌রিন্দায় ঢাকা-টাঙ্গাই‌ল মহাসড়‌কের পাশ থেকে সন্ধ্যায় আনুমানিক ৩৫ বছরের অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মরদেহের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়‌নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সদর থানার এসআই মনির হোসেন জানান, ধারণা করা হচ্ছে, পাঁচ থেকে ছয় দিন আগে হত্যা করে মরদেহটি ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা। মরদেহ পচে গেছে। ময়নাতদ‌ন্তের জন‌্য মরদেহ টাঙ্গাইল জেনা‌রেল হাসপাতালের ম‌র্গে পাঠানো হ‌য়ে‌ছে।

আরও পড়ুন:
ওড়িশার দিকে ধেয়ে আসছে ইয়াস
ইয়াস: ভোলায় গাছচাপায় কৃষকের মৃত্যু
ইয়াস: তীব্র বাতাসে জলোচ্ছ্বাসের ভয়
দুপুরে ওড়িশায় আঘাত হানবে ইয়াস

শেয়ার করুন

প্রার্থীর বাড়ি থেকে ফেরার পথে কর্মী খুন, মরদেহ খালে

প্রার্থীর বাড়ি থেকে ফেরার পথে কর্মী খুন, মরদেহ খালে

হোসনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সদস্য প্রার্থী আবদুল মোতালেব মধুর একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন ইউসুফ। শুক্রবার রাত ১২টার পর মধুর বাড়ি থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তিনি। রাতে বাড়ি না ফেরায় সকাল থেকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্বজনরা।

বরগুনার বেতাগীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থীর বাড়ি থেকে গভীর রাতে বের হওয়া এক কর্মীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডসংলগ্ন উত্তর করুণা গ্রামের একটি খাল থেকে শনিবার বেলা ১১টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ইউসুফ আলী আকনের বাড়ি একই গ্রামে।

ইউসুফের স্বজনদের অভিযোগ, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, হোসনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সদস্য প্রার্থী আবদুল মোতালেব মধুর একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন ইউসুফ। শুক্রবার রাত ১২টার পর মধুর বাড়ি থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তিনি। তবে রাতে বাড়ি না ফেরায় সকাল থেকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্বজনরা।

তারা আরও জানান, বেলা ১১টার দিকে বাড়ির পাশের খালে জাল দিয়ে পেঁচানো অবস্থায় ইউসুফের মরদেহ দেখতে পান স্বজনরা। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

ইউসুফের স্ত্রী হেলেনা বেগম অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে। ওই ওয়ার্ডের আরেক প্রার্থী নাসির তালুকদার বেশ কয়েক দিন আগে তার স্বামীকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘মধুর নির্বাচন কীভাবে করে আমি দেখে নেব।’

স্থানীয় বাসিন্দারা অবশ্য জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড হতে পারে, আবার ইউসুফের সঙ্গে তার স্বজনদের জমিজমাসংক্রান্ত জটিলতা ছিল, তার জেরেও এই হত্যাকাণ্ড হতে পারে।

ওই ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য বশির আলম বলেন, ‘ইউসুফ পেশায় একজন কৃষক ও সাধারণ মানুষ ছিলেন। তাকে উদ্দেশ্যমূলক হত্যাকাণ্ড সত্যিই বেদনাদায়ক। তবে কী করণে এ হত্যা হয়েছে, আমার কোনো ধারণা নেই।’

বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন তপু জানান, মামলার প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর বিষয়ে কিছুই বলা যাচ্ছে না।

বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান জানান, তদন্ত চলছে। সঠিক কারণ উন্মোচন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
ওড়িশার দিকে ধেয়ে আসছে ইয়াস
ইয়াস: ভোলায় গাছচাপায় কৃষকের মৃত্যু
ইয়াস: তীব্র বাতাসে জলোচ্ছ্বাসের ভয়
দুপুরে ওড়িশায় আঘাত হানবে ইয়াস

শেয়ার করুন

‘ছিনতাইয়ের মাইক্রো’ নিয়ে ঢাকায় পালানোর চেষ্টা, গ্রেপ্তার ১

‘ছিনতাইয়ের মাইক্রো’ নিয়ে ঢাকায় পালানোর চেষ্টা, গ্রেপ্তার ১

‘ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত’ মাইক্রোবাসসহ আটক আরিফুজ্জামান রুবেল। ছবি: নিউজবাংলা

গৌরনদী হাইওয়ে থানার চার্জ অফিসার সার্জেন্ট মাহাবুব ইসলাম বলেন, ‘গোপনে জানতে পারি উজিরপুর উপজেলার ইচলাদী এলাকা থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস নিয়ে এক ছিনতাইকারী ঢাকায় পালিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় গৌরনদীর মাহিলারা এলাকা থেকে মাইক্রোবাস ও ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়।’

বরিশালে ‘ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত’ মাইক্রোবাসসহ একজনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, শনিবার দুপুরে গৌরনদী উপজেলার মাহিলারা থেকে ওই ছিনতাইকারী ও মাইক্রোবাসটি আটক করা হয়। আটক আরিফুজ্জামান রুবেল নড়াইল জেলার লোহাগড়ার বাসিন্দা।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার চার্জ অফিসার সার্জেন্ট মাহাবুব ইসলাম বলেন, ‘গোপনে জানতে পারি উজিরপুর উপজেলার ইচলাদী এলাকা থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস নিয়ে এক ছিনতাইকারী ঢাকায় পালিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় গৌরনদীর মাহিলারা এলাকা থেকে মাইক্রোবাস ও ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়।’

আটক ছিনতাইকারীকে ও গাড়িটি উজিরপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান গৌরনদী হাইওয়ে থানা-পুলিশের এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
ওড়িশার দিকে ধেয়ে আসছে ইয়াস
ইয়াস: ভোলায় গাছচাপায় কৃষকের মৃত্যু
ইয়াস: তীব্র বাতাসে জলোচ্ছ্বাসের ভয়
দুপুরে ওড়িশায় আঘাত হানবে ইয়াস

শেয়ার করুন

নির্বাচনি সংঘাত, বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মারধরের অভিযোগ

নির্বাচনি সংঘাত, বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মারধরের অভিযোগ

মোল্লারহাট ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক মেম্বার প্রার্থীর বাড়িতে চেয়ারম্যান প্রার্থীর লোকজনের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক মোল্লাকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার ছেলে মেম্বার প্রার্থী মিজানুর রহমান মোল্লা।

ঝালকাঠির নলছিটিতে মোল্লারহাট ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক মেম্বার প্রার্থীর বাড়িতে চেয়ারম্যান প্রার্থীর লোকজনের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক মোল্লাকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার ছেলে মেম্বার প্রার্থী মিজানুর রহমান মোল্লা।

শনিবার বিকেলে উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মিজানুর রহমান জানান, এবারের নির্বাচনেও সদস্যপদে প্রার্থী হয়েছেন তিনি। ২১ জুন নির্বাচন সামনে রেখে তিনি প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান সেন্টুর ভাই মিজানুর রহমান ব্যাপারী তার ওপর ক্ষিপ্ত হন। তার নেতৃত্বে ১৫-২০ জন শনিবার বিকেলে তার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে মিজানুরের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক মোল্লাকে পিটিয়ে আহত করা হয়।

হামলাকারীরা তখন বসতঘর ভাঙচুর করে বলেও অভিযোগ করেন মিজানুর মোল্লা।

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে মিজানুর ব্যাপারী বলেন, ‘মেম্বার মিজানের বাড়িতে হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি বরং মিজানের নেতৃত্বে আমার ছেলে আহমেদ আল রাজির ওপর হামলা হয়েছে।’

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) মাহসুদ প্রিন্স জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
ওড়িশার দিকে ধেয়ে আসছে ইয়াস
ইয়াস: ভোলায় গাছচাপায় কৃষকের মৃত্যু
ইয়াস: তীব্র বাতাসে জলোচ্ছ্বাসের ভয়
দুপুরে ওড়িশায় আঘাত হানবে ইয়াস

শেয়ার করুন

করোনা: নওগাঁয় ২৪ ঘন্টায় শনাক্তের হার ২৫.৫৪ শতাংশ

করোনা: নওগাঁয় ২৪ ঘন্টায় শনাক্তের হার ২৫.৫৪ শতাংশ

শুক্রবার বিকেল থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ৪৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

নওগাঁয় ২৪ ঘণ্টায় ২৩১টি নমুনা পরীক্ষায় ৫৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ২৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এই সময়ে করোনায় কারো মৃত্যু হয়নি।

নওগাঁ সিভিল সার্জনের অফিস সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ৪৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

এ ছাড়া অ্যান্টিজেন পদ্ধতিতে ১২৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়। অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় শনাক্তের হার ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

নতুন শনাক্তদের মধ্যে সদর উপজেলার ১৬ জনের, রাণীনগরের একজনের, বদলগাছীর একজনের, আত্রাইয়ের চারজনের, মহাদেবপুরের চারজনের, মান্দার ছয়জনের, ধামইরহাটের ছয়জনের, পত্নীতলার সাতজনের, সাপাহারের সাতজনের, নিয়ামতপুরের দুইজনের ও পোরশার পাঁচজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

নওগাঁ জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির ফোকাল পারসন ও ডেপুটি সিভিল সার্জন মঞ্জুর-এ মোর্শেদ বলেন,‘ঈদুল ফিতরের পর থেকে জেলায় আশঙ্কাজনকহারে করোনা সংক্রমণের হার বাড়লেও, মানুষের মধ্যে নমুনা দেয়ার আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। জেলার করোনা পরিস্থিতি জানার জন্য এবং মানুষকে নমুনা দিতে আগ্রহী করতে বিনা মূল্যে র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হচ্ছে। উন্মুক্ত স্থানে ক্যাম্প করে পথ চলতি মানুষের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

‘যেখানে এ জেলায় প্রতিদিন অন্তত ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ নমুনা সংগ্রহ হওয়া উচিত, সেখানে প্রতিদিন নমুনা সংগ্রহ হচ্ছে মাত্র ৩০০ থেকে ৩৫০টি করে। কম পরিমাণ নমুনা সংগ্রহ হওয়ায় জেলার সঠিক চিত্র এখনও বোঝা সম্ভব হচ্ছে না।’

নওগাঁ জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত বছরের ২৩ এপ্রিল। এ পর্যন্ত ১৮ হাজার ৫২৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে দুই হাজার ৮০৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৪৯ জনের।

আরও পড়ুন:
ওড়িশার দিকে ধেয়ে আসছে ইয়াস
ইয়াস: ভোলায় গাছচাপায় কৃষকের মৃত্যু
ইয়াস: তীব্র বাতাসে জলোচ্ছ্বাসের ভয়
দুপুরে ওড়িশায় আঘাত হানবে ইয়াস

শেয়ার করুন