খুলনায় দুই ফুট বেড়ে লোকালয়ে জোয়ারের পানি

কয়রার দশহালিয়া গ্রামে ভঙ্গুর অবস্থায় থাকা বেড়িবাঁধ। ছবি: নিউজবাংলা

খুলনায় দুই ফুট বেড়ে লোকালয়ে জোয়ারের পানি

খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল জানান, সাধারণত বেড়িবাঁধগুলো চার মিটার উচ্চতা পর্যন্ত পানি ঠেকিয়ে রাখতে সক্ষম। তবে কোথাও কোথাও বাঁধের অবস্থা খারাপ হওয়ায় তা অনেক নিচু অবস্থায় রয়েছে। ফলে বেড়িবাঁধ উপচে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’-এর প্রভাব এবং ভরা পূর্ণিমায় নদ-নদীতে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের থেকে প্রায় দুই ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। জোয়ারের পানির তোড়ে উপকূলের অনেক স্থানে বেড়িবাঁধে দেখা দিয়েছে ভাঙন।

জেলার কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছার বিভিন্ন এলাকায় এরই মধ্যে বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করলেও তা বেশির ভাগ স্থানে সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ ছুটছেন আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে।

খুলনার আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে ভারতের ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হানতে পারে। বাংলাদেশ উপকূলে এর প্রভাবের কারণে মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ইয়াসের প্রভাবে খুলনায় ঘণ্টায় পাঁচ-ছয় কিলোমিটার বেগে দমকা থেকে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। যা বুধবার ও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় লোকজন জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ধেয়ে আসার খবরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ঘূর্ণিঝড় আম্পানে বিধ্বস্ত খুলনার সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলবাসী। দাকোপ, কয়রা, পাইকগাছাসহ নদী তীরবর্তী বেড়িবাঁধের বাইরে ও কাছাকাছি থাকা বাসিন্দারা আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। মানুষের মধ্যে জলোচ্ছ্বাস ও বাঁধ ভাঙার আতঙ্ক বিরাজ করছে।

খুলনায় দুই ফুট বেড়ে লোকালয়ে জোয়ারের পানি
বাঁধ উপচে লোকালয়ে ঢুকছে পানি

তারা আরও জানান, কয়রা উপজেলার আংটিহারা, মঠবাড়ি লঞ্চঘাটের পশ্চিমপাশ ও একই এলাকার মোসলেম সরদারের বাড়িসংলগ্ন বাঁধ উপচে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। নাজুক অবস্থায় রয়েছে গোবরা ঘাটাখালী, কয়রা সদরের তহশিল অফিসসংলগ্ন বেড়িবাঁধ, দশহালিয়া, কাটকাটা, কাশিরহাটখোলা, দাকোপের নলিয়ান ও আন্ধারমানিক এলাকা, পাইকগাছার গড়ইখালীসহ বিভিন্ন এলাকার বেড়িবাঁধ। স্থানীয় লোকজন বস্তা ও মাটি দিয়ে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ড ১ ও ২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম জানান, খুলনাঞ্চলের নদ-নদীতে পানির স্বাভাবিক উচ্চতা থাকে তিন মিটারের কাছাকাছি। ঘূর্ণিঝড় ও পূর্ণিমার জোয়ারের কারণে পানি আরও দুই ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, সাধারণত বেড়িবাঁধগুলো চার মিটার উচ্চতা পর্যন্ত পানি ঠেকিয়ে রাখতে সক্ষম। তবে কোথাও কোথাও বাঁধের অবস্থা খারাপ হওয়ায় তা অনেক নিচু অবস্থায় রয়েছে। ফলে বেড়িবাঁধ উপচে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে।

খুলনায় দুই ফুট বেড়ে লোকালয়ে জোয়ারের পানি
বাঁধ ছুঁই ছুঁই জোয়ারের পানি

স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জিও ব্যাগ ও বালুর বস্তা ফেলে পানি আটকানোর চেষ্টা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী দুই দিনে পানির উচ্চতা আরও বাড়তে পারে। এর সাথে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাস হলে পানি আটকানো সম্ভব হবে না।

কয়রা সদর ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির জানান, সোমবার রাত থেকে কয়রায় থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নদীতে ভাটা শুরু হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আবারও জোয়ার শুরু হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত কয়রা উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে ইয়াসের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাস নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। লোকজন আশ্রয় কেন্দ্রের দিকে যাচ্ছেন। এলাকায় মাইকিং করাসহ স্বেচ্ছাসেবীরা তাদের আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে সহযোগিতা করছেন।

খুলনা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আজিজুল হক জোয়ার্দ্দার জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১ হাজার ৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র এবং ১১৬টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পাঁচ লাখ মানুষ অবস্থান করতে পারবে।

তিনি আরও জানান, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) আওতায় পাঁচ হাজার ৩২০ জন ও রেড ক্রিসেন্টের ৫০ কর্মী দুর্যোগ মোকাবিলায় সহযোগিতা করবেন। ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত দেয়া হলে উপকূলীয় এলাকার মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হবে। এ ছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণ শুকনো খাবার, চাল-ডাল ও অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
ভাঙা বেড়িবাঁধে ঢুকছে পানি
বরগুনায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ঢুকছে পানি
সারা দেশে নৌ-চলাচল বন্ধ
৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
‘ইয়াস’-এর পূর্ণিমাযোগে উপকূলে প্লাবন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জীবননগর উপজেলায় ৭ দিনের লকডাউন

জীবননগর উপজেলায় ৭ দিনের  লকডাউন

মঙ্গলবার দুপুরে লকডাউন সংক্রান্ত একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন জেলা প্রশাসক।  উপজেলা করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কমিটির সভায় লকডাউন কার্যকর করতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা ৭দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছে প্রশাসন।

বুধবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া লকডাউন চলবে আগামী ৩০ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত।

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় করোনার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক। প্রায় আড়াই ঘণ্টা চলে ভিডিও কনফারেন্স। এ সময় চুয়াডাঙ্গা জেলার করোনার সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার। পরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে জীবননগর উপজেলাকে কঠোর লকডাউনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে লকডাউন সংক্রান্ত একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন জেলা প্রশাসক। উপজেলা করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কমিটির সভায় লকডাউন কার্যকর করতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মুনিম লিংকন জানান, জীবননগর উপজেলায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার ও মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। তাই অবশেষে জীবননগর উপজেলাকে লকডাউন ঘোষনা করা হয়েছে। লকডাউন বাস্তবায়ন করতে মাঠে কঠোর অবস্থানে থাকবে প্রশাসন।

উল্লেখ্য, এর আগে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় গত ১৫ জুন থেকে ১৪ দিনের জন্য লকডাউন করা হয় জেলার সীমান্তবর্তী দামুড়হুদা উপজেলা। ২০ জুন লকডাউন করা হয় চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকা ও সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়ন। ১৮ জুন থেকে ৭ দিনের বিশেষ বিধি নিষেধ জারি করা হয় জীবননগর উপজেলায়। পরে ২৩ জুন থেকে ওই উপজেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন:
ভাঙা বেড়িবাঁধে ঢুকছে পানি
বরগুনায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ঢুকছে পানি
সারা দেশে নৌ-চলাচল বন্ধ
৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
‘ইয়াস’-এর পূর্ণিমাযোগে উপকূলে প্লাবন

শেয়ার করুন

দর্শনা দিয়ে ফিরলেন আরও ৩৪ বাংলাদেশি

দর্শনা দিয়ে ফিরলেন আরও ৩৪ বাংলাদেশি

দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরেছেন ভারতে আটকে পড়া আরও ৩৪ বাংলাদেশি। ছবি: নিউজবাংলা

দর্শনা জয়নগর চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এস আই) আব্দুল আলিম জানান, ভারতের কোলকাতায় বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে নতুন অনাপত্তি পত্র (এনওসি) নিয়ে মঙ্গলবার ৩৪ জন বাংলাদেশি দর্শনা চেকপোস্টে প্রবেশ করেন। সেখানে আসার পর স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়। তবে এসময় তাদের মধ্যে কেউ করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়নি।

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরেছেন ভারতে আটকে পড়া আরও ৩৪ বাংলাদেশি। এ নিয়ে গত ৩৬ দিনে ওই চেকপোস্ট দিয়ে মোট ৯৮৭ জন দেশে ফিরলেন।

মঙ্গলবার ভারতের গেদে চেকপোস্ট হয়ে দর্শনা চেকপোস্টে প্রবেশ করেন ওই বাংলাদেশিরা।

দেশে প্রবেশের পর ওই চেকপোস্টেই অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্পে তাদের র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি টিম। তবে এদিন তাদের কারও শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়নি।

দর্শনা জয়নগর চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এস আই) আব্দুল আলিম জানান, ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে নতুন অনাপত্তি পত্র (এনওসি) নিয়ে মঙ্গলবার ৩৪ জন বাংলাদেশি দর্শনা চেকপোস্টে প্রবেশ করেন। সেখানে আসার পর স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়।

তবে কেউ করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়নি। সেখান থেকে নির্ধারিত পরিবহনযোগে ২৭ জনকে জেলা যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ও ৭ জনকে স্থানীয় হোটেল ভিআইপিতে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।

করোনা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত উপকমিটির আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনিরা পারভীন জানান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশের অভিবাসনবিষয়ক শাখা (ইমিগ্রেশন) ও শুল্ক বিভাগের (কাস্টমস) আনুষ্ঠানিকতা শেষে সেখান থেকে ভারতফেরতদের নির্ধারিত পরিবহনযোগে (মাইক্রোবাস) জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত কোয়ারেন্টিন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তারা ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকবেন।

আরও পড়ুন:
ভাঙা বেড়িবাঁধে ঢুকছে পানি
বরগুনায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ঢুকছে পানি
সারা দেশে নৌ-চলাচল বন্ধ
৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
‘ইয়াস’-এর পূর্ণিমাযোগে উপকূলে প্লাবন

শেয়ার করুন

আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: বরিশালে বর্ণাঢ্য আয়োজন

আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: বরিশালে বর্ণাঢ্য আয়োজন

রাত পৌনে ১টায় নগরীর ঈশ্বরবসু রোডে ১৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ কেক কেটে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

বরিশালে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হচ্ছে আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

রাত ১২টা ১মিনিটে নগরীর ৭২টি স্থান থেকে একযোগে আতশবাজির প্রদর্শন করা হয়।

মধ্যরাতে কিছু সময়ের জন্য বরিশাল নগরীর আকাশ ছিল রঙে রঙিন আলোকোজ্জ্বল। আতশবাজির শব্দে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে নগরী। উৎসুক মানুষ আতশবাজির প্রদর্শন উপভোগ করতে বাইরে বের হয়ে আসে।

রাত পৌনে ১টায় নগরীর ঈশ্বরবসু রোডে ১৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ কেক কেটে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আফজালুল করিমসহ মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে বুধবার বিকাল তিনটায় আলোচনা সভা রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে দলের স্থায়ী কার্যালয় স্থাপনেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগ।

বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় মাসব্যাপী ৭২ হাজার বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে নগরীর বধ্যভূমি এলাকায়।

এদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নগরজুড়ে আলোকসজ্জা করেছে মহানগর আওয়ামী লীগ।

আরও পড়ুন:
ভাঙা বেড়িবাঁধে ঢুকছে পানি
বরগুনায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ঢুকছে পানি
সারা দেশে নৌ-চলাচল বন্ধ
৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
‘ইয়াস’-এর পূর্ণিমাযোগে উপকূলে প্লাবন

শেয়ার করুন

গৌরনদীতে নির্বাচন: দুজন নিহতের ঘটনায় মামলা

গৌরনদীতে নির্বাচন: দুজন নিহতের ঘটনায় মামলা

গৌরনদীর একটি ইউপি নির্বাচনে সহিংসতায় দুজন নিহত হন। ছবি: নিউজবাংলা

সোমবার দুপুরে উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের কমলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের বাইরে ককটেল হামলায় মৌজে আলী মৃধা নামে একজন নিহত হন। একই ইউনিয়নে সন্ধ্যায় পাঙ্গাসিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ফল ঘোষণার পর সদস্য প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন মৃধার বিজয় মিছিলে ককটেল হামলায় আবু বক্কর নামে আরেকজন নিহত হন।

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় ইউপি নির্বাচনে সহিংসতায় দুজন নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে।

একটি মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। তবে বাদীর অভিযোগ মূল আসামিরা এখনও অধরা।

স্থানীয় লোকজন জানান, সোমবার দুপুরে উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের কমলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের বাইরে ককটেল হামলায় মৌজে আলী মৃধা নামে একজন নিহত হন।

একই ইউনিয়নে সন্ধ্যায় পাঙ্গাসিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ফল ঘোষণার পর সদস্য প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন মৃধার বিজয় মিছিলে ককটেল হামলায় আবু বক্কর নামে আরেকজন নিহত হন। দুই ঘটনায় আহত হন সাতজন।

মৌজে আলী হত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার তার ছেলে নজরুল মৃধা ২১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ৭০-৮০ জনকে আসামি করে গৌরনদী থানায় মামলা করে। এ মামলার তিন আসামি ফিরোজ মৃধা, মাহফুজুর রহমান ইমন ও নয়ন মৃধাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তবে বাদীর অভিযোগ, তার দেয়া আসামিদের নাম পরিবর্তন করে মামলা নিয়েছে থানা পুলিশ।

গৌরনদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. তৌহিদুজ্জামান অবশ্য দাবি করেছেন, বাদীর সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেই মামলায় আসামি করা হয়েছে। বাদী যদি অন্যকিছু বলে থাকেন, তাহলে তিনি আদালতে লিখিত আবেদন করতে পারেন।

অপরদিকে আবু বক্কর হত্যার ঘটনায় তার বাবা আনজু ফকির অর্ধশতাধিক ব্যক্তির নামে মঙ্গলবার দুপুরে গৌরনদী থানায় মামলা করেন। এই মামলার কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে পাঠানো হবে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন:
ভাঙা বেড়িবাঁধে ঢুকছে পানি
বরগুনায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ঢুকছে পানি
সারা দেশে নৌ-চলাচল বন্ধ
৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
‘ইয়াস’-এর পূর্ণিমাযোগে উপকূলে প্লাবন

শেয়ার করুন

১২ হাজার ছাড়াল গাজীপুরে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা

১২ হাজার ছাড়াল গাজীপুরে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা

সিভিল সার্জন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার ৩১৩ জনের দেহে নমুনা পরীক্ষায় ৫৬ জনের করোনা শনাক্ত  হয়। এর মধ্যে গাজীপুর সদর ও সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩০ জন, কালিয়াকৈর উপজেলায় ৬ জন, কাপাসিয়া উপজেলায় ৬ জন ও শ্রীপুর উপজেলায় ১৪ জন। তবে কালীগঞ্জ উপজেলায় নতুন করে আক্রান্তের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

গাজীপুরে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১২ হাজার ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে নতুন করে ৫৬ জন আক্রান্ত হয়েছে।

এ নিয়ে জেলায় করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১২ হাজার ৩৬জনে দাঁড়াল। জেলায় করোনায় মোট মারা গেছে ২২৭ জন। মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুর সিভিল সার্জন ডা. মো. খাইরুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সিভিল সার্জন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার ৩১৩ জনের দেহে নমুনা পরীক্ষায় ৫৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এর মধ্যে গাজীপুর সদর ও সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩০ জন, কালিয়াকৈর উপজেলায় ৬ জন, কাপাসিয়া উপজেলায় ৬ জন ও শ্রীপুর উপজেলায় ১৪ জন। তবে কালীগঞ্জ উপজেলায় নতুন করে আক্রান্তের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত গাজীপুর জেলায় ৮৭ হাজার ৯৮৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১২ হাজার ৩৬ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুর সদর ও সিটি করপোরেশন এলাকায় ৭ হাজার ৮৮৩ জন, কালীগঞ্জে ৮৬৩ জন, কালিয়াকৈরে ১ হাজার ২২২, কাপাসিয়ায় ৭৬০ ও শ্রীপুরে ১ হাজার ৩০৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১০ হাজার ৫৯৬ জন।

আরও পড়ুন:
ভাঙা বেড়িবাঁধে ঢুকছে পানি
বরগুনায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ঢুকছে পানি
সারা দেশে নৌ-চলাচল বন্ধ
৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
‘ইয়াস’-এর পূর্ণিমাযোগে উপকূলে প্লাবন

শেয়ার করুন

ভাসানচর থেকে পালানোর সময় ১৪ রোহিঙ্গা আটক

ভাসানচর থেকে পালানোর সময় ১৪ রোহিঙ্গা আটক

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর হোসেন মামুন জানান, মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে তাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের আনসার সদস্য ও স্থানীয়রা এই ১৪ জনকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

ভাসানচর থেকে পালানোর সময় চার শিশুসহ ১৪ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর এলাকার স্লুইস গেইট এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর হোসেন মামুন জানান, মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে তাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের আনসার সদস্য ও স্থানীয়রা এই ১৪ জনকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক রোহিঙ্গারা ভাসানচর থেকে কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সাগরপথে মিরসরাই এসেছেন বলে জানায়।

আরও পড়ুন:
ভাঙা বেড়িবাঁধে ঢুকছে পানি
বরগুনায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ঢুকছে পানি
সারা দেশে নৌ-চলাচল বন্ধ
৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
‘ইয়াস’-এর পূর্ণিমাযোগে উপকূলে প্লাবন

শেয়ার করুন

দরজায় ফোন নম্বর, কল দিলেই হাজির হবে পুলিশ

দরজায় ফোন নম্বর, কল দিলেই হাজির হবে পুলিশ

‘বিট পুলিশিং বাড়ি বাড়ি, নিরাপদ সমাজ গড়ি’ স্লোগানে মধুখালী উপজেলার প্রতিটি বাড়ির দরজায় সাঁটানো হয়েছে বিট পুলিশের স্টিকার। সেখানে রয়েছে সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তা ও থানার ওসির মোবাইল নম্বর। এখন থেকে যেকোনো প্রয়োজনে তাদের ফোন করে সহযোগিতা নিতে পারবে এলাকাবাসী।

পুলিশের সেবা পেতে নাগরিকদের ভোগান্তি পোহানোর অভিযোগ নতুন নয়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বা সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করা অথবা তার মোবাইল নম্বর পেতে ছুটতে হয় এখানে-সেখানে।

তবে ফরিদপুরে এখন থেকে আর কোনো অভিযোগ জানাতে বা পুলিশের জরুরি সেবা পেতে থানায় ছুটতে হবে না। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও পুলিশের সেবা সাধারণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ফরিদপুরের মধুখালীতে উদ্বোধন করা হয়েছে বিট পুলিশিং কার্যক্রম।

‘বিট পুলিশিং বাড়ি বাড়ি, নিরাপদ সমাজ গড়ি’ স্লোগানে উপজেলার প্রতিটি বাড়ির দরজায় সাঁটানো হয়েছে বিট পুলিশের স্টিকার। সেখানে রয়েছে সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তা ও থানার ওসির মোবাইল নম্বর। এখন থেকে যেকোনো প্রয়োজনে ফোন করে তাদের সহযোগিতা নিতে পারবে এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার দুপুরে মধুখালী থানা সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন বসতবাড়ির ঘরের দরজায় এ স্টিকার লাগানোর কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মধুখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা মনোয়ার, মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুমন কর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক বকু, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামসহ কর্মকর্তারা।

মধুখালী থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে এবং পৌর এলাকায় বিট অফিসার রয়েছেন। তারা প্রতিটি ইউনিয়নের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘরের দরজায় মোবাইল নম্বর-সম্বলিত স্টিকার লাগিয়ে দেবেন। সাধারণ মানুষ যেন ঘরে বসেই তাদের সমস্যার কথা জানাতে পারেন এজন্যই এ ব্যবস্থা।

সহকারী পুলিশ সুপার সুমন কর বলেন, ‘এ সেবা চালুর মাধ্যমে এলাকার মানুষ দ্রুততম সময়ে পুলিশের সহযোগিতা পাবেন। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও পুলিশের সেবা সাধারণ মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতেই এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হলো। এতে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ভালো থাকবে।’

আরও পড়ুন:
ভাঙা বেড়িবাঁধে ঢুকছে পানি
বরগুনায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ঢুকছে পানি
সারা দেশে নৌ-চলাচল বন্ধ
৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
‘ইয়াস’-এর পূর্ণিমাযোগে উপকূলে প্লাবন

শেয়ার করুন