‘তাজা মানুষ আমি, মৃত ঘোষণা করে দিল’

‘তাজা মানুষ আমি, মৃত ঘোষণা করে দিল’

‘বাবা আমি মূর্খ মানুষ। বুঝতে পারছিনি। দেখো তো বাপ। আমার আইডি কাডে নাকি আমি মরে গেছি। এখন কোথায় গেলে এইডি ঠিক করা হবে? তা না হলে আমার ভাতা যে বন্ধ হয়ি যাবে।’

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের প্রায় ৭৪ বছর বয়সী রবগুল মণ্ডল। কানে শোনেন না।

বয়স্ক ভাতার কার্ড আছে। এত দিন টাকা তুলতেন হাতে হাতে। কিন্তু সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এখন থেকে টাকা যাবে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তে ভাতার টাকা পাওয়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তার।

রবগুলের মোবাইল ফোন আছে। ভাতা আসবে বলে ‘নগদ’-এর অ্যাকাউন্ট খুলতে লাগবে কেবল স্মার্টকার্ড। আর এই কার্ড আনতে আট কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাচন কমিশন অফিসে এসে আক্কেলগুড়ুম। তিনি নাকি মৃত!

তার সঙ্গে কার্ড নিতে আসা মুর্শিদা খাতুনেরও একই সমস্যা। তিনিও কাগজকলমে মৃত।

দুইজন জলজ্যান্ত মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কিন্তু মানতেই চাইছেন না নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তারা।

মুর্শিদা দুইবার ভোট দিতে পারেননি। অন্যদিকে বরগুলের দুশ্চিন্তা ভাতার টাকার কী হবে?

তারা ঘুরে বেড়াচ্ছেন কর্মকর্তাদের সামনে, তার পরে আর কীভাবে বেঁচে থাকার প্রমাণ দিতে হবে, ভেবে পাচ্ছেন না দুইজন।

গাংনী উপজেলায় ৯ জন ও মুজিবনগর উপজেলায় আরও ৬ জন মানুষ পাওয়া গেছে, এদের মতো। তারা কাগজকলমে মৃত।

রবগুল মণ্ডলের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ৫৭১৪৭২১৩৭৭১৯১। অভাবের সংসার। ছেলেরা যার যার মতো আলাদা থাকে। এই বয়সে টুকটাক যা কিছু আয় করেন, তার সঙ্গে বয়স্ক ভাতার টাকাটা যোগ হওয়ায় দিন কেটে যায় কোনোভাবে।

স্মার্টকার্ড নিতে এসে নিজেকে মৃত দেখে হতাশবদনে তিনি বসেছিলেন নির্বাচন অফিসের পাশে আমগাছের নিচে।

নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাবা আমি মূর্খ মানুষ। বুঝতে পারছিনি। দেখো তো বাপ। আমার আইডি কাডে নাকি আমি মরে গেছি। এখন কোথায় গেলে এইডি ঠিক করা হবে? তা না হলে আমার ভাতা যে বন্ধ হয়ি যাবে।’

সঙ্গে বসে থাকা মুর্শিদা খাতুনের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ৫৭১৪৭২১৩৭৬৩৩১। তিনিও রবগুল মণ্ডলের গ্রামেরই মানুষ। তার সঙ্গেই এসেছিলেন স্মার্টকার্ড নিতে।

তিনি বলেন, ‘হায়রে ডিজিটাল! তাজা মানুষ আমি, আমাকে মৃত ঘোষণা করে দিল! ‘আমি মেয়ে মানুষ। এখন কোথায় দৌড়াব, কার কাছেই বা যাব এইতা ঠিক করতে?’

কিছুদিন আগে একই সমস্যায় পড়েন বামন্দী ইউনিয়নের ৮৫ বছর বয়সী মরজ্জেম আলী এবং মটমুড়া ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের ৭১ বছর বয়সী মুনসুর আলী। তারাও বয়স্ক ভাতা পেতেন। কিন্তু এখন আর আসবে না।

সমাধানের পথ খুঁজতে অফিস ও জনপ্রতিনিধিনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।

‘তাজা মানুষ আমি, মৃত ঘোষণা করে দিল’

কীভাবে এই সমস্যা?

গাংনী উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসলে এমনটি হতে পারে মৃত মানুষের নামের পাশে তথ্য সংগ্রহের সময় ভুলের কারণে জীবিত মানুষের নাম বসে গেছে।’

তিনি নিজেই জানান, এমন সমস্যায় ভুগছেন গাংনী উপজেলায় ৯ জন ও মুজিবনগর উপজেলার ৬ জন।

ভোটার তালিকা করার সময় তথ্য সংগ্রহের কাজে তত্ত্বাবধায়ক পদে কাজ করেছিলেন মাহাবুব হক। তিনি বলেছেন, তথ্য সংগ্রহকারীদের কাজে ফাঁকির কারণে এই ঘটনা ঘটেছে।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমার অধীনে থাকা ওয়ার্ডভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত তথ্য সরবরাহকারীরা যখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করত, তখন তারা একটি নির্দিষ্ট ফরমে থাকা প্রতিটি ঘর পূরণ করে তাদের সই নিয়ে নিত। একাধিকবার বাড়িতে গিয়ে কাউকে না পেলে তার পক্ষে অন্য কেউ ফরম পূরণ করে দিত। তবে এখন কী হয় জানি না।’

ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য সংগ্রহের কাজে কর্মরত সজিবুল হক অবশ্য একে নির্বাচন কমিশন অফিসের ভুল হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘অনেক সময় সার্ভারের সমস্যার কারণে তথ্য ভুল দেখায়। সে ক্ষেত্রে এমনটি হয়ে থাকে।’

ধানখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখেরুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের বসবাসকারী একাধিক নাগরিকের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছে। আমি তাদের জীবিত হিসেবে প্রত্যয়নপত্র দিতে পারি। কিন্তু বাকি কাজ তো নির্বাচন অফিসের। তবে এই ভুলগুলো তথ্য সংগ্রহকারীদের না নির্বাচন কমিশন অফিসের, এটা সঠিকভাবে বলা কঠিন।’

সমাধান জানেন না খোদ নির্বাচন কর্মকর্তা

এখন এই মানুষদের কী হবে?

গাংনী উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ বলেন, ‘এটি সংশোধনযোগ্য, তবে সময়সাপেক্ষ।’

তবে সময়সাপেক্ষ সেই প্রক্রিয়া কী, সেই বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বিস্তারিত বলতে পারেননি এই কর্মকর্তা।

জেলা নির্বাচন অফিসার আহমেদ আলী বলেন, ‘লকডাউনের কারণে সংশোধনী বন্ধ রয়েছে। লকডাউন শেষে নির্বাচন অফিসে আবেদন করলে আবেদন করার এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে তা সংশোধন করা সম্ভব। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন আবেদন করেছেন তাদেরগুলো সংশোধনীর কাজ চলমান রয়েছে।

তবে আবেদনের ৯ বছরেও মৃতের তালিকা থেকে নাম কাটতে না পারার উদাহরণও আছে।

সমস্যা জেলায় জেলায়

নেত্রকোণার মদন পৌরসভার জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের আব্দুল আওয়াল ৯ বছর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্যে মৃত ছিলেন। আউয়াল ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকার প্রতিনিধি। নির্বাচন অফিসের তথ্যে তার মৃত থাকার বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে এলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

৯ বছর ধরে নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়া এই গণমাধ্যমকর্মীকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর অবশ্য কয়েক দিনের মধ্যেই ভুল সংশোধন হয়ে যায়। এপ্রিলের শেষে মৃতের তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেয়া হয়।

তার মতো বাবা-ছেলেসহ জীবিত আরও চারজনের ‘মৃত’ থাকার তথ্য মিলেছে। তারাও চান শিগগির ‘জীবিত’ হতে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে নির্বাচন অফিসে ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত।

এই চারজন হলেন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কেশজানী গ্রামের রামকৃষ্ণ দেবনাথ, তার ছেলে প্রভাত চন্দ্র দেবনাথ এবং মদন ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাপাসাটিয়া গ্রামের হাবিবুল রহমান ও মদন পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাড়িভাদেরা গ্রামের মোসা. রেজিয়া আক্তার।

রামকৃষ্ণ দেবনাথ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি ছেলেডারে সাথে নিয়া নির্বাচন অফিসে গেছিলাম। তারা কইছে, আমরা বাপপুতেরে মৃত ঘোষণা করা অইছে। তালিকায় নাম নাই। অফিসের লোকেরা আমারে ও আমার ছেলেরে দেখে অবাক অইয়া যায়। আমি ও আমার ছেলে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে ২০১৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আবেদন করছি।

‘চেয়ারম্যানের প্রত্যয়নপত্রসহ ছয় ধরনের দরকারিসহ কাগজ দিছি। বারবার যাইতাছি। কিন্তু এখনও সুরাহা পাই নাই। আমি ভোট দিতাম পারতাছি না। শিগগিরই আমরার আইডি কার্ড ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানাই।’

হাবিবুল রহমান আবেদন করেছেন ২০১৭ সালের ২৮ আগস্ট আর মোসা. রেজিয়া আক্তার ২০১৯ সালের ২৩ জুন।

লালমনিরহাটে একজন স্কুলশিক্ষকসহ অন্তত ১৯ জন জীবিত মানুষকে মৃত দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেয়া হয়।

তাদের একজন হলেন আদিতনারী উপজেলার বালাপুকুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লক্ষ্মী কান্ত রায়।

তিনি সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

তালিকায় মৃত থাকায় গত মার্চে করোনার টিকার জন্য নিবন্ধন করতে পারছিলেন না এই শিক্ষক। তবে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তাদের আইডি আবার সচল হয়।

‘তাজা মানুষ আমি, মৃত ঘোষণা করে দিল’

সংখ্যাটি কয়েক লাখ

নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, ২০১৬ সালের ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় ৭ লাখ ৩৫ হাজার ৮৭১ জন মৃত ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তাদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ পরবর্তী সময়ে নিজেদের জীবিত বলে দাবি করেন।

এ রকম জীবন্মৃত কয়েক লাখ মানুষের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কোনো সহজ সমাধান নেই।

প্রতি বছর ভোটার তালিকা হালনাগাদ করলেও সেই ভূতুড়ে বিষয় দূর হচ্ছে না। এখনও প্রতি বছর অনেক জীবিত ব্যক্তি ভোটার তালিকায় ‘মারা পড়ছেন’।

নির্বাচন কমিশন এখন দায় চাপাচ্ছে তথ্য সংগ্রহকারী আর আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ভাড়া করা ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের ওপর।

প্রভাব ব্যাপক

ভোটার তালিকায় মৃত হিসেবে চিহ্নিত হলে জাতীয় পরিচয়পত্র ব্লক হয়ে যায়। ফলে এখন এমন কারও পক্ষে মোবাইল সিম কেনা, ব্যাংক হিসাব খোলা, পাসপোর্টের আবেদন, বিদেশ যাত্রা, টিকার নিবন্ধন, চাকরিতে আবেদনসহ সরকারি অনেক সেবাই গ্রহণ করা সম্ভব নয়। এমনকি ব্যবসা করতে ট্রেড লাইসেন্সও করা যাবে না।

বহু মানুষ বয়স্ক, বিধবা ভাতাসহ সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধাও পাচ্ছেন না তালিকায় মৃত থাকায়। যাদের এই সমস্যা আছে এবং এতদিন যারা ভাতা পেতেন হাতে হাতে, তাদের ভাতাও বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তার ভাতা যাবে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সরাসরি। কিন্তু তারা কেউ সিম কিনতে পারবেন না, মোবাইল ব্যাংকিং সেবাও চালু করতে পারবেন না।

আরও পড়ুন:
এনআইডি জালিয়াতি: উপসচিবসহ ৫ জনের নামে মামলা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নানা-নানির সঙ্গে রাস্তায় প্রাণ গেল নাতির

নানা-নানির সঙ্গে রাস্তায় প্রাণ গেল নাতির

বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের ওসি খায়রুল ইসলাম জানান, গাইবান্ধার সাঘাটা থেকে অটোরিকশায় করে বগুড়ায় বাড়ি ফিরছিলেন তারা। অটোরিকশাটি একটি ট্রাককে ওভারটেক করতে দিয়ে আহসান পরিবহন নামে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।

বগুড়ার শিবগঞ্জে নানা-নানির সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে দুই মাস বয়সী রেজওয়ান আহমেদ।

বগুড়া-রংপুর মহাসড়কে উপজেলার মহাস্থান হাতিবান্ধা এলাকায় শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন দুইজন।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন আশরাফুল ইসলাম, তার স্ত্রী পারুল আক্তার ও তাদের নাতি রেজওয়ান আহমেদ।

আহত দুজন হলেন রেজওয়ানের বাবা-মা। তাদের নাম মো. রাশেদুল ও গোলাপি। হতাহত সবাই বগুড়া সদরের নওদাপাড়া এলাকায় বাসিন্দা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ইসলাম জানান, গাইবান্ধার সাঘাটা থেকে অটোরিকশায় করে বগুড়ায় বাড়ি ফিরছিলেন তারা। অটোরিকশাটি একটি ট্রাককে ওভারটেক করতে দিয়ে আহসান পরিবহন নামে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।

এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান আশরাফুল ও পারুল। আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে নেয়া হলে মারা যায় শিশু রেজওয়ান।

ওসি আরও জানান, আহতরা শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আরও পড়ুন:
এনআইডি জালিয়াতি: উপসচিবসহ ৫ জনের নামে মামলা

শেয়ার করুন

‘মহাসড়কে মহাসাগর’

‘মহাসড়কে মহাসাগর’

চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণে কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর পর্যন্ত পানি উঠেছে। ছবি: নিউজবাংলা

বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে নগরের জিইসি, দুই নম্বর গেট, প্রবর্তক মোড়, চকবাজার, বাকলিয়া, হালিশহর, আগ্রাবাদ সিডিএসহ বিভিন্ন এলাকা। এসব এলাকার সড়কে কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর পর্যন্ত পানি উঠেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে পথচারী ও অফিসগামীরা।

এক দিনের বৃষ্টিতে ফের জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে চট্টগ্রামের নিচু এলাকাগুলোতে।

শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসে ১২১.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে নগরীর জিইসি, দুই নম্বর গেট, প্রবর্তক মোড়, চকবাজার, বাকলিয়া, হালিশহর, আগ্রাবাদ সিডিএসহ বিভিন্ন এলাকা। এসব এলাকার সড়কে কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর পর্যন্ত পানি উঠেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে পথচারী ও অফিসগামীরা।

নগরের দুই নম্বর গেট এলাকার বাসিন্দা সাব্বির হোসেন কাজ করেন দেওয়ানহাট এলাকার একটি পোশাক কারখানায়।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল রাত থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। আর বৃষ্টি হওয়ার আগেই ডুবে যায় চট্টগ্রাম শহর। সকাল থেকে বাস কমে গেছে, রাস্তায়ও পানি।

‘কিন্তু অফিস তো এটা বুঝবে না। রাস্তায় পানি থাকায় হেঁটেও যেতে পারছি না। তাই এখানে দাঁড়িয়ে মহাসড়কে মহাসাগর দেখি।’

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ হারুনুর রশীদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১২১.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সাধারণত বৃষ্টিপাত ৮০ বা তার কাছাকাছি হলে আমরা ভারী বর্ষণ বলে থাকি। কিন্তু যেহেতু এটা ৮০ পেরিয়ে গেছে, তাই এটাকে অতি ভারী বর্ষণ বলছি আমরা।’

তিনি জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টাও চলবে এই ভারী বর্ষণ। তবে রোববার বিকেল থেকে কমতে পারে বৃষ্টিপাত। মূলত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দেশের ওপর অবস্থান করায় এই বৃষ্টি হচ্ছে।

‘মহাসড়কে মহাসাগর’

চট্টগ্রাম মহানগরের দীর্ঘদিনের সমস্যা জলাবদ্ধতা। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জলাবদ্ধতা নিরসনে চারটি প্রকল্প নিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকল্পটি সিডিএর।

জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়নে পাঁচ হাজার ৬১৬ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার টাকার প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এখনও এর কাজ শেষ হয়নি।

প্রকল্প পরিচালক ও সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী আহমদ মাঈনুদ্দিন বলেন, প্রকল্পের কাজ ৫৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। এই বছর সুফল না মিললে ২০২২ সালে সুফল মিলবে। কাজের জন্য খালে বাঁধ দেয়াতে নগরের কিছু কিছু জায়গায় জলাবদ্ধতা হচ্ছে।

এদিকে কর্ণফুলী নদীর তীর কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সাড়ে আট কিলোমিটার সড়ক ও স্লুইস গেট নির্মাণের আরেকটি প্রকল্পও বাস্তবায়ন করছে সিডিএ। ২ হাজার ৩১০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পের অগ্রগতি ৪৮ শতাংশ।

প্রকল্প পরিচালক ও সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী রাজীব দাশ বলেন, ‘আমার প্রকল্পের আওতায় ৮টি স্লুইস গেট নির্মাণ করা হবে। সব গেটের কাজ শুরু হয়েছে।

‘তিনটি গেট নির্মাণকাজ শেষ। চাক্তাই খালের মুখের গেটের কাজ শেষ হওয়াতে এবার খাতুনগঞ্জে জলাবদ্ধতা হচ্ছে না। বাকিগুলোর কাজ শেষ হলে সুফল মিলবে।’

‘মহাসড়কে মহাসাগর’

চট্টগ্রাম মহানগরে নতুন করে একটি খাল খননের প্রকল্প নিয়েছে সিটি করপোরেশন। বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত ২ দশমিক ৯ কিলোমিটার লম্বা ও ৬৫ ফুট চওড়া হবে এই খাল। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা। তবে এর কাজ এখনও শুরু হয়নি।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, ‘টাকার অভাবে আমরা ভূমি অধিগ্রহণ করতে পারছি না। সরকার টাকা বরাদ্দ দিচ্ছে না।’

বন্দরনগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে আরেকটি প্রকল্প নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ১ হাজার ৬২০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পটিরও কাজ শুরু হয়নি।

পাউবো চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী ত্রয়ন ত্রিপুরা বলেন, প্রকল্পের অবকাঠামো কাজে সহযোগিতা করবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বর্ষার পর এর কাজ শুরু হবে।

আরও পড়ুন:
এনআইডি জালিয়াতি: উপসচিবসহ ৫ জনের নামে মামলা

শেয়ার করুন

করোনা: রাজশাহী মেডিক্যালে ১৯ দিনে ১৯৩ মৃত্যু

করোনা: রাজশাহী মেডিক্যালে ১৯ দিনে ১৯৩ মৃত্যু

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।

চলতি মাসের ১৯ দিনে এই হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ১৯৩ জন। এর মধ্যে শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছেন ১০৫ জন। বাকিদের মৃত্যু হয় উপসর্গ নিয়ে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে এক দিনে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকালের মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

এ নিয়ে চলতি মাসের ১৯ দিনে এই হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ১৯৩ জন। এর মধ্যে শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছেন ১০৫ জন। বাকিদের মৃত্যু হয় উপসর্গ নিয়ে।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন করোনা পজিটিভ ছিলেন। বাকিরা মারা গেছেন উপসর্গ নিয়ে। তার মধ্যে রাজশাহীর ৫ জন আর চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫ জন।

হাসপাতাল পরিচালক আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৬ জন। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১৮ জন। শনিবার সকালে করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন ৩৬৫ জন।

শুক্রবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও রামেক হাসপাতাল ল্যাবে ৫৬৩ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা পজেটিভ এসেছে ১৯২ জনের।

রাজশাহীর ৩৭৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১১৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। আর নওগাঁর ১৮৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৭৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
এনআইডি জালিয়াতি: উপসচিবসহ ৫ জনের নামে মামলা

শেয়ার করুন

বাড়িতে ঢুকে ২ ভাইকে কুপিয়ে জখম

বাড়িতে ঢুকে ২ ভাইকে কুপিয়ে জখম

পরিবারের লোকজনের সঙ্গে জানা যায়, শনিবার ভোর ৩ টায় বাড়িতে একদল ডাকাত হামলা চালায়। তাদের বাধা দিতে গেলে কোপানো হয় হরেন্দ্রকে। তাকে বাঁচাতে গেলে আহত হন বড়ভাই গরচান।  

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে বাড়িতে ঢুকে দুই ভাইকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। পরিবারের লোকজন জানিয়েছে, হামলাকারীরা ডাকাত।হামলা করলেও বাড়ির লোকজনের চিৎকারে তারা ডাকাতি না করেই পালিয়ে যায়।

সদর উপজেলার কাশিনগর গ্রামে শনিবার ভোরে এই ঘটনা ঘটে।

আহতদের নাম গরচান ও হরেন্দ্র বলে জানিয়েছেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল ইসলাম।

তাদের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে জানা যায়, শনিবার ভোর ৩ টায় বাড়িতে একদল ডাকাত হামলা চালায়। তাদের বাধা দিতে গেলে কোপানো হয় হরেন্দ্রকে। তাকে বাঁচাতে গেলে আহত হন বড়ভাই গরচান।

তাদের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন জড়ো হতে শুরু করলে ডাকাতদল পালিয়ে যায়। আহতদের নেয়া হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়।

হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক নাজমুল হক রনি বলেন, আহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত আছে। তাদের মধ্যে গরচানের বুকে জখম মারাত্মক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

ওসি এমরানুল জানান, ঘটনার বিস্তারিত জানতে খোঁজ নেয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
এনআইডি জালিয়াতি: উপসচিবসহ ৫ জনের নামে মামলা

শেয়ার করুন

গারো পাহাড়ে উৎসবের আমেজ

গারো পাহাড়ে উৎসবের আমেজ

শেরপুরে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর। ছবি: নিউজবাংলা

গারো পাহাড়ের হলদিগ্রামে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে রোববার আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপহারের ঘর হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ কারণে পাহাড়ে উৎসবের আমেজ। পাকা ঘর বুঝে পাওয়ার খবরে আনন্দে ভাসছে গৃহহীন পরিবারগুলো।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে শেরপুরে দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপহার হিসেবে আরও ১৬৭টি পরিবার পাচ্ছে দুই শতক করে জমি ও আধাপাকা ঘর।

গারো পাহাড়ের হলদিগ্রামে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে রোববার এসব ঘর হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ কারণে পাহাড়ে উৎসবের আমেজ।

মুজিববর্ষে বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না—প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ভূমি ও গৃহহীনদের দ্বিতীয় পর্যায়ে ৬৪ জেলার ৪৫৯ উপজেলার ৫২ হাজার ৯৪৫ পরিবারকে ২ শতক জমি ও একটি করে আধাপাকা ঘর তুলে দেয়া হচ্ছে।

এবার শেরপুর জেলার ১৬৭টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবার পাচ্ছে ঘর ও জমি।

শেরপুর সদরসহ পাঁচ উপজেলায় প্রতিটি বাড়ি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে এক লাখ ৯০ হাজার টাকা। মোট ব্যয় তিন কোটি ১৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

গৃহহীনদের একজন সালেহা বেগম বলেন, ‘আমাগো জাগা-জমি কিছুই নাই। ঢলে ঢলে ঘুরতাম। কেউ থাকবার এল্লাহানি জাগা দেয় নাই।

‘প্রধানমন্ত্রী আমাগো জাগা দিতাছে, ঘর দিল। আমরা খুব খুশি অইছি।’

আরেক গৃহহীন জমিলা বেগম বলেন, ‘আমাগো তো কিছুই আছিল না। প্রধানমন্ত্রী আমাগো নিজ হাতে ঘর ও জমি তুলে দিতাছে; আমরা খুশি অইছি। আমরা দোয়া করি প্রধানমন্ত্রী মেলা দিন বাইছা থাহুক।’

নিশা রানী হাজং বলেন, ‘পাহাড়ের ঢালুতে এডা ঝুপড়া ঘর তুইলা থাকতাম। হাতি আইসা ঘর ভাইঙ্গা দিছে। মেলা জায়গায় ঘুরছি। কেউ থাহার জাগা দেয় নাই।

‘প্রধানমন্ত্রী ঘরও দিতাছে; জাগাও দিব। তাও তিনি আমাগো এ হলদি গেরামের মানুষের ভিডিওর মাধ্যমে নিজের হাতে দিব। আমরা খুব খুশিতে আছি।’

জেলা প্রশাসক (ডিসি) আনার কলি মাহবুব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দেশের একজন মানুষকেও গৃহহীন রাখবেন না। এ জন্য তিনি ভূমিহীন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।’

আরও পড়ুন:
এনআইডি জালিয়াতি: উপসচিবসহ ৫ জনের নামে মামলা

শেয়ার করুন

দুঃসহ জীবন অবসান হচ্ছে নীলফামারীর ১২৫০ পরিবারের

দুঃসহ জীবন অবসান হচ্ছে নীলফামারীর ১২৫০ পরিবারের

সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

নীলফামারী সদরে ২২০টি, সৈয়দপুরে ৬০টি, কিশোরগঞ্জে ১৭০টি, জলঢাকা ও ডোমারে ৩০০ করে এবং ডিমলায় ২০০টি পরিবারকে দেয়া হবে বিনা মূল্যের ঘর।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে দ্বিতীয় দফায় নীলফামারী জেলায় এক হাজার ২৫০টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার জমি ও ঘর পাচ্ছে।

এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় সুবিধাভোগীদের হাতে ঘরের চাবি ও দলিল তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি জানান জেলা প্রশাসক (ডিসি) হাফিজুর রহমান চৌধুরী।

তিনি জানান, নীলফামারী সদরে ২২০টি, সৈয়দপুরে ৬০টি, কিশোরগঞ্জে ১৭০টি, জলঢাকা ও ডোমারে ৩০০ করে এবং ডিমলায় ২০০টি পরিবারকে দেয়া হবে এই ঘর।

৩৯৪ বর্গফুটের একেকটি ঘর নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। আর পরিবারগুলোকে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে ২১.৭০ শতাংশ জমি।

ডিসি জানান, ঘরগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ ও টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। দুই কক্ষের ঘরগুলোতে একটি করে টয়লেট, রান্নাঘর ও ইউটিলিটি স্পেস রয়েছে।

১১ হাজার ২৮৫টি তালিকাভুক্ত পরিবারের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৬৩৭টি পরিবারকে ঘর ও জমি হস্তান্তর করা হয়।

প্রথম পর্যায়ে নির্মিত ঘরের ব্যয় হয়েছিল ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আব্দুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজহারুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খন্দকার নাহিদ হাসান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা মুরাদ হাসান, নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এলিনা আকতার, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) বেলায়েত হোসেন, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) জাহাঙ্গীর হোসাইন, ম্যাজিস্ট্রেট জায়িদ ইমরুল মুজাক্কিন, মাসুদুর রহমান।

আরও পড়ুন:
এনআইডি জালিয়াতি: উপসচিবসহ ৫ জনের নামে মামলা

শেয়ার করুন

চুয়াডাঙ্গায় ১ দিনে ৭৬ জন শনাক্ত

চুয়াডাঙ্গায় ১ দিনে ৭৬ জন শনাক্ত

চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, ১৯৩ জনের নমুনা পরীক্ষার ফল শুক্রবার রাতে পেয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এর মধ্যে ৭৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় করোনায় মারা গেছেন আরও দু’জন।

চুয়াডাঙ্গায় বেড়েই চলেছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। নতুন করে এ জেলায় আরও ৭৬ জনে করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে চুয়াডাঙ্গায় এটিই একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

শনাক্তের হার বিবেচনায় ৩৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। গত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন আরও দু’জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৭৭ জনে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, ১৯৩ জনের নমুনা পরীক্ষার ফল শুক্রবার রাতে পেয়েছে চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগ। এর মধ্যে ৭৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫২৩ জনে।

জেলায় নতুন শনাক্ত ৭৬ জনের মধ্যে সদর উপজেলায় ৩৫ জন, দামুড়হুদায় ৩৫, আলমডাঙ্গায় চার ও জীবননগরে দুই জন।

চুয়াডাঙ্গায় করোনা সংক্রমণ রোধে সীমান্তবর্তী দামুড়হুদা উপজেলা ১৪ দিনের জন্য বিশেষ লকডাউন করা হয়েছে। বিশেষ বিধি নিষেধ জারি করা হয়েছে জীবননগর উপজেলাতেও। লকডাউন ও বিধি নিষেধ জারি করা এলাকা নিয়মিত তদারকি করছে প্রশাসন। স্বাস্থ্যবিধি অমান্যকারীদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হচ্ছে।

সিভিল সার্জন এএসএম মারুফ হাসান জানান, চুয়াডাঙ্গায় সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। অনেকে সর্দি কাশি জ্বরে আক্রান্ত হয়েও পরীক্ষায় আগ্রহী হচ্ছে না। অসুস্থতার মাত্রা বেড়ে যখন শ্বাসকষ্ট তীব্র হচ্ছে তখন স্বজনরা তড়িঘড়ি করে হাসপাতালে নিচ্ছেন। এ ধরনের রোগীর মৃত্যু হচ্ছে বেশি।

করোনাভাইরাস থেকে নিজেকে রক্ষা করতে এবং সংক্রমণ রোধে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার।

আরও পড়ুন:
এনআইডি জালিয়াতি: উপসচিবসহ ৫ জনের নামে মামলা

শেয়ার করুন