খুলি ও মগজবিহীন শিশুর জন্ম

খুলি ও মগজবিহীন শিশুর জন্ম

সোমবার বিকেলে প্রসব বেদনা উঠলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে তানজিনাকে ভর্তি করা হয়। পরে গাইনি বিভাগে স্বাভাবিকভাবে শিশুটির জন্ম হয়। তখন দেখা যায়, জন্ম নেয়া শিশুটির মাথায় খুলি ও মগজ নেই। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাথায় খুলি ও মগজবিহীন এক কন্যাশিশুর জন্ম হয়েছে। সোমবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় শিশুটির জন্ম হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর গ্রামের শহীদ মিয়ার মেয়ে তানজিনা বেগমের সঙ্গে এক বছর আগে একই উপজেলার ভুলাকুটের বাসিন্দা মৃত সফিল উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিনের বিয়ে হয়। বিয়ের এক মাসের মাথায় তানজিনা অন্তঃসত্ত্বা হন। এরপর থেকে একজন গিইনি চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। অন্তঃসত্ত্বার সাত মাসে তানজিনার আল্ট্রাসনোগ্রাফী করা হয়। এরপর তানজিনাকে জানানো হয় যে তার গর্ভের শিশুর শারীরিক অবস্থা ভালো নয় এবং তার মাথার খুলি হবে না। তবে সেই ডাক্তারের কথার তোয়াক্কা করেননি তানজিনা ও তার স্বামী।

সোমবার বিকেলে প্রসব বেদনা উঠলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে তানজিনাকে ভর্তি করা হয়। পরে গাইনি বিভাগে স্বাভাবিকভাবে শিশুটির জন্ম হয়। তখন দেখা যায়, জন্ম নেয়া শিশুটির মাথায় খুলি ও মগজ নেই।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের গাইনি বিভাগের চিকিৎসক মাহফিদা আক্তার হ্যাপি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তানজিনার কন্যাশিশুর জন্ম হয়েছে। তবে শিশুটির মাথায় খুলি ও মগজ নেই। এই শিশুদের অ্যানেনসেফ্যালি বলা হয়। এমন শিশুগুলো সচারচর ২৪ ঘন্টা থেকে ৪৮ ঘন্টা বাঁচে। এ ধরনের শিশু জন্ম হওয়ার কারণ হচ্ছে মায়েদের ফলিক অ্যাসিডের অভাব। তাই সকল অন্তঃসত্ত্বা মায়ের ফলিক অ্যাসিড খাওয়া খুবই প্রয়োজন। শিশুটিকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য