ত্রাণ নিয়ে আরেক ইউএনও দেখলেন তিনতলা বাড়ি

ত্রাণ নিয়ে আরেক ইউএনও দেখলেন তিনতলা বাড়ি

ইউএনও জানান, সাকিব তাকে বলেছেন, তাদের আসলে ত্রাণের প্রয়োজন নেই,বরং তারাই এলাকার মানুষকে ত্রাণ দিয়ে সহায়তা করেন। ৩৩৩ নম্বরে কল করে সরকারি ত্রাণ সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি আদৌ সত্য কি না তা পরীক্ষা করে দেখতেই এই কাজ করেন তিনি।

৩৩৩ নম্বরে খাবার চেয়ে ফোন করে নারায়ণগঞ্জে তোলপাড়ের রেশ কাটতে না কাটতেই একই রকম আরও একটি ঘটনার সাক্ষী হলো চট্টগ্রাম।

তবে খানিকটা অমিলও আছে। নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ী ফরিদ আহমেদ খাদ্য সহায়তা চেয়ে ফোন করেন বিপাকে পড়ে। তবে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে এক তরুণ ফোন করেন কৌতুহল মেটাতে।

অবশ্য নারায়ণগঞ্জের ফরিদ আহমেদের জন্য ত্রাণ নিয়ে গিয়ে সরকারি কর্মকর্তারা যে ঘটনা ঘটান, তেমন কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি হাটহাজারীতে। অকারণে ফোন করায় সেই তরুণকে সতর্ক করে ক্ষমা করে দেয়া হয়।

প্রয়োজন না থাকলেও সোমবার দুপুরের দিকে ৩৩৩ নম্বরে ফোন করেন সেই তরুণ। নিজের নাম বলেন সাকিব। ঠিকানা দেন উপজেলার উত্তর মার্দাশা এলাকার পশ্চিম বাড়িয়াঘোনা। এলাকায় পৌঁছতে হলে পেরুতে হয় নদী।

ফোন পেয়ে ত্রাণ নিয়ে ছুটলেন ইউএনও রুহুল আমিন। সঙ্গে নিলেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যকে।

উপজেলা সদর থেকে গাড়িতে যান নদী পর্যন্ত, নদী পার হন ডিঙি নৌকায়। সেখান থেকে অটোরিকশায় করে যান সেই বাড়িতে।

কিন্তু গিয়ে দেখেন তিন তলা বাড়ি সেটি। নিচতলায় থাকেন সাকিবরা। অন্য দুই তলায় থাকেন তার দুই চাচা।

ত্রাণ নিয়ে আরেক ইউএনও দেখলেন তিনতলা বাড়ি
ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার পর ইউএনও দেখতে পান ৩৩৩-এ কল করা তরুণ থাকে তিনতলা বাড়িতে

ইউএনও জানান, সাকিব তাকে বলেছেন, তাদের আসলে ত্রাণের প্রয়োজন নেই, বরং তারাই এলাকার মানুষকে ত্রাণ দিয়ে সহায়তা করেন। ৩৩৩ নম্বরে কল করে সরকারি ত্রাণ সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি আদৌ সত্য কি না, তা পরীক্ষা করে দেখতেই এই কাজ করেন তিনি।

সেই তরুণের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে- জানতে চাইল ইউএনও বলেন, ‘সেই তরুণ তার ভুল স্বীকার করে এই ঘটনায় অনুতপ্ত হয়েছেন। এরপর ভবিষ্যতে এই ধরনের কাজ আর করতে অনুৎসাহিত করা হয়েছে।

তবে এই ঘটনায় সেই তরুণকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ইউএনও জানান, গত এক মাসে ৩৩৩ তে কল পেয়ে অন্তত ৭০ টি পরিবারকে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

এই হটলাইন নম্বরটি স্বাস্থ্যসেবার জন্য চালু করা হলেও করোনাকালে খাদ্য সংকটে ভোগা মানুষদেরকে এই নম্বরে ফোন করতে বলা হয়েছে।

তবে যারা ফোন করেন, তাদের সবাইকেই ত্রাণ দেয়া হয় না। ফোন করলে স্থানীয় পর্যায়ে যাচাই বাছাই করে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হয়।

বরিশালে খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে এক নারীর ভাঙা ঘর দেখে তাকে বিনামূল্যে ঘর দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

তবে ৩৩৩ নম্বরে খাদ্য চেয়ে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটেছে নারায়ণগঞ্জে।

গত বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার দেওভোগ এলাকার ফরিদ আহমেদ খাবার চেয়ে ফোন করার পর সরকারি কর্মকর্তারা দেখেন তিনি চার তলা একটি বাড়ি থেকে বের হয়েছেন। তারা জানতে পারেন, তার গেঞ্জি কারখানা আছে।

এরপর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাকে ১০০ জনকে ত্রাণ বিতরণ করতে বলেন।

সে সময় ফরিদ আহমেদের করুণ কাহিনি জানা যায়নি।

শনিবার তিনি ত্রাণ বিতরণ করার পর জানা যায়, সেই বাড়ির পুরোটার মালিক তিনি নন। ছয় ভাই বোনের মধ্যে তার হিস্যা কমই। আবার গেঞ্জি কারখানা থাকলেও সেটি গত বছর করোনার প্রাদুর্ভাবের পরেই বন্ধ হয়ে গেছে।

এরপরেও কারাগারে যাওয়ার ভয়ে স্ত্রীর অলঙ্কার বন্ধক রেখে তিনি ত্রাণ বিতরণ করেন। আর এই বিষয়টি জানাজানি হলে প্রশাসন তার টাকা ফেরত দেয়। পুরো ঘটনাটি তদন্তে গঠন করা হয়েছে কমিটি।

আরও পড়ুন:
সেই ফরিদকে টাকা ফেরত চুপিচুপি
ভুল ইউএনওর, দায় মেটাচ্ছে রাষ্ট্রীয় তহবিল
ত্রাণ বিতরণে সেই ব্যবসায়ীকে বাধ্য করার ঘটনা তদন্তে কমিটি
ইউএনওর ভুলে ত্রাণ: টাকা ফেরত পাচ্ছেন সেই ব্যবসায়ী
ত্রাণ সত্যিই দরকার ছিল ফরিদের, ভুল ইউএনওর

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বকেয়া বেতন-ভাতা চেয়ে সড়কে পোশাকশ্রমিকরা

বকেয়া বেতন-ভাতা চেয়ে সড়কে পোশাকশ্রমিকরা

শিল্প পুলিশ-১-এর এসপি মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘হালকা কাঁদানে গ্যাস ও পানি ছিটিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়া হয়। তারা বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করলেও তেমন কিছু হয়নি। অল্প সময় শুধু সড়কে যানচলাচল বিঘ্নিত হয়েছে।’

সাভারের নতুন ইপিজেডে বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।

নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে রোববার সকাল পৌনে ৭টার দিকে সড়ক অবরোধ করেন লেনি ফ্যাশন নামের একটি তৈরি পোশাক কারখানার প্রায় ৩০০ শ্রমিক।

ওই সময় তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আসাদুজ্জামান নিউজবাংলাকে জানান, সকালে লেনি ফ্যাশনের কয়েক শ শ্রমিক বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে নতুন ইপিজেডের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় ব্যস্ততম এই সড়কটিতে যানচলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের সড়ক ছেড়ে দেয়ার জন্য বোঝালেও তারা বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে জলকামান নিক্ষেপ করে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।

তিনি বলেন, ‘সকালে ঘটনাস্থলে আমাদের পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য ছিল। আমরা শ্রমিকদের সড়ক থেকে বুঝিয়ে সরিয়ে দেয়ার অনেকবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা শোনেননি। তার পরে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাস্তা ক্লিয়ার করা হয়েছে।

‘হালকা কাঁদানে গ্যাস ও পানি ছিটিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়া হয়। তারা বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করলেও তেমন কিছু হয়নি। অল্প সময় শুধু সড়কে যানচলাচল বিঘ্নিত হয়েছে।’

পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘লেনি ফ্যাশন কারখানার মালিক একজন ভারতীয়। অনেক দিন আগে থেকেই করোনার কারণে মালিক ফ্যাক্টরিতে আসেন না। ওই মালিকের দুটি কারখানায় প্রায় ৬০০ শ্রমিক কাজ করেন।

‘চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারখানা দুটি বন্ধ। জানুয়ারি মাসের বেতনও তারা পাননি। তাদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকাও আটকে আছে। এখন করণীয় কিছু নাই। ফ্যাক্টরি বিক্রি করতে হবে। এই মুহূর্তে সেই প্রচেষ্টাও চলছে।’

আরও পড়ুন:
সেই ফরিদকে টাকা ফেরত চুপিচুপি
ভুল ইউএনওর, দায় মেটাচ্ছে রাষ্ট্রীয় তহবিল
ত্রাণ বিতরণে সেই ব্যবসায়ীকে বাধ্য করার ঘটনা তদন্তে কমিটি
ইউএনওর ভুলে ত্রাণ: টাকা ফেরত পাচ্ছেন সেই ব্যবসায়ী
ত্রাণ সত্যিই দরকার ছিল ফরিদের, ভুল ইউএনওর

শেয়ার করুন

নবীনগর হেফাজতের সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার

নবীনগর হেফাজতের সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগরের হেফাজতে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কাইয়ূম ফারুকী।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‌‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের চালানো তাণ্ডবের ঘটনায় তিনি প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। এ কারণে শনিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগরের হেফাজতে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কাইয়ূম ফারুকীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জেলা শহরের কান্দিপাড়া থেকে শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‌‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের চালানো তাণ্ডবের ঘটনায় তিনি প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। এ কারণে শনিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় জেলা সদরে ৪৯টি, আশুগঞ্জে ৪, সরাইলে ২ ও আখাউড়া রেলওয়ে থানায় ১টি মামলা হয়।

এসব মামলায় ৪১৪ জনের নামে ও অজ্ঞাতপরিচয় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার লোককে আসামি করা হয়। এ পর্যন্ত আবদুল কাইয়ূম ফারুকীকে নিয়ে ৫৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ বছর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত জেলায় ব্যাপক ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালায়।

এ সময় হামলাকারীরা সরকারি, বেসরকারি অর্ধশতাধিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।

আরও পড়ুন:
সেই ফরিদকে টাকা ফেরত চুপিচুপি
ভুল ইউএনওর, দায় মেটাচ্ছে রাষ্ট্রীয় তহবিল
ত্রাণ বিতরণে সেই ব্যবসায়ীকে বাধ্য করার ঘটনা তদন্তে কমিটি
ইউএনওর ভুলে ত্রাণ: টাকা ফেরত পাচ্ছেন সেই ব্যবসায়ী
ত্রাণ সত্যিই দরকার ছিল ফরিদের, ভুল ইউএনওর

শেয়ার করুন

গৃহবধূ ধর্ষণের মামলায় দুই ভাই গ্রেপ্তার

গৃহবধূ ধর্ষণের মামলায় দুই ভাই গ্রেপ্তার

প্রতীকী ছবি

ওই নারীর স্বামী বিদেশে থাকেন। সেই সুযোগে ওই নারীর ভাশুর গত বছরের ২১ জুন তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরে ঘটনাটি পারিবারিকভাবে ধামাচাপা দেয়া হয়। চলতি বছরের ১০ মে রাতে ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণ করেন তার দেবর। এরপর ৭ জুন রাতে ওই ব্যক্তি আবার ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তখন বাধা দেয়ায় ওই ব্যক্তি তাকে মারধর করেন।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টার ও ধর্ষণ মামলায় দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা ওই নারীর দেবর ও ভাশুর।

উপজেলার একটি এলাকা থেকে শনিবার রাত ১১টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে রাত ৮টার দিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দুটি মামলা করেন ওই নারী।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ জানান, ওই গৃহবধূর করা ধর্ষণচেষ্টা মামলায় তার ভাশুরকে ও ধর্ষণ মামলায় দেবরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের রোববার আদালতে পাঠানো হবে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ওই নারীর স্বামী বিদেশে থাকেন। সেই সুযোগে ওই নারীর ভাশুর গত বছরের ২১ জুন তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরে ঘটনাটি পারিবারিকভাবে ধামাচাপা দেয়া হয়।

চলতি বছরের ১০ মে রাতে ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণ করেন তার দেবর। এরপর ৭ জুন রাতে ওই ব্যক্তি আবার ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তখন বাধা দেয়ায় ওই ব্যক্তি তাকে মারধর করেন। পরদিন ওই নারী তার বাবার বাড়ি চলে যান। এরপর শনিবার রাতে তিনি রূপগঞ্জ থানায় তার ভাশুর ও দেবরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালায়। রাত ১১টার পর অভিযুক্ত দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
সেই ফরিদকে টাকা ফেরত চুপিচুপি
ভুল ইউএনওর, দায় মেটাচ্ছে রাষ্ট্রীয় তহবিল
ত্রাণ বিতরণে সেই ব্যবসায়ীকে বাধ্য করার ঘটনা তদন্তে কমিটি
ইউএনওর ভুলে ত্রাণ: টাকা ফেরত পাচ্ছেন সেই ব্যবসায়ী
ত্রাণ সত্যিই দরকার ছিল ফরিদের, ভুল ইউএনওর

শেয়ার করুন

বাসের ধাক্কায় লরি উল্টে আগুন, পুড়ল ২ জন

বাসের ধাক্কায় লরি উল্টে আগুন, পুড়ল ২ জন

বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর পুড়ে যাওয়া লরির এই ছবি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে নেয়া

ঘটনাটি শনিবার রাত ৩টার দিকের। বঙ্গবন্ধু সেতুর ১৯ নম্বর পিলারের কাছে উত্তরবঙ্গগামী লেনে শ্যামলী পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস একটি লরিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। লরিটি উল্টে পড়ে গেলে আগুন ধরে যায়। এতে লরিতে থাকা দুইজন পুড়ে মারা যান।    

টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর বাসের ধাক্কায় উল্টে যাওয়া লরিতে আগুন লাগায় দুইজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন সাতজন।

দুর্ঘটনার পর থেকে সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই পারে যানজট লেগে যায়।

দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন মো. মজনু ও নজরুল ইসলাম। তাদের বাড়ি নীলফামারীর ডিমলায়।

তথ্যগুলো নিশ্চিত করেছেন বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, ঘটনাটি শনিবার রাত ৩টার দিকের। বঙ্গবন্ধু সেতুর ১৯ নম্বর পিলারের কাছে উত্তরবঙ্গগামী লেনে শ্যামলী পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস একটি লরিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। লরিটি উল্টে পড়ে গেলে আগুন ধরে যায়। এতে লরিতে থাকা দুইজন পুড়ে মারা যান।

এ ঘটনায় আহত হন বাসের সাত আরোহী। তাদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুড়ে যাওয়া মরদেহ দুটি সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক আরিফুল রহমান জানান, দুর্ঘটনায় কবলিত পরিবহন দুটি সরানোর পর সেতুর ওপর দিয়ে ভোর থেকে যান চলাচল শুরু হয়।

তবে সকাল ৮টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম টোল প্লাজা থেকে কড্ডার মোড় পর্যন্ত মহাসড়কে এক লেনে গাড়ির চাপ রয়েছে বলে জানান এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ইয়াসির আরাফাত।

আরও পড়ুন:
সেই ফরিদকে টাকা ফেরত চুপিচুপি
ভুল ইউএনওর, দায় মেটাচ্ছে রাষ্ট্রীয় তহবিল
ত্রাণ বিতরণে সেই ব্যবসায়ীকে বাধ্য করার ঘটনা তদন্তে কমিটি
ইউএনওর ভুলে ত্রাণ: টাকা ফেরত পাচ্ছেন সেই ব্যবসায়ী
ত্রাণ সত্যিই দরকার ছিল ফরিদের, ভুল ইউএনওর

শেয়ার করুন

রাজশাহীতে আরও ২৮২ জনের করোনা শনাক্ত

রাজশাহীতে আরও ২৮২ জনের করোনা শনাক্ত

করোনা পরীক্ষার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে। ছবি: নিউজবাংলা

শনিবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় ২৩০ জনের করোনা পজিটিভ হয়। আর অ্যান্টিজেন টেস্টে করোনা ধরা পড়ে ৫২ জনের।

রাজশাহীতে এক দিনে আরও ২৮২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

শনিবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় ২৩০ জনের করোনা পজিটিভ হয়। আর অ্যান্টিজেন টেস্টে করোনা ধরা পড়ে ৫২ জনের।

এর মধ্যে রাজশাহীর দুই পিসিআর ল্যাবে ৬৫৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনিবার রাতে এ ফল প্রকাশ করা হয়।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ল্যাব ইনচার্জ ডা. সাবেরা গুলনাহার জানান, শনিবার ল্যাবে মোট ৪৬৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২২ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। এখানে রাজশাহীর ১৫৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে করোনা শনাক্ত হয় ৭৫ জনের। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৫৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ ২৬, নওগাঁর চারজনের নমুনা পরীক্ষায় দুইজনের পজিটিভ, নাটোরের ১৫০ জনের নমুনা করে ১৯ জনের করোনা ধরা পড়েছে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, শুক্রবার হাসপাতাল ল্যাবে ১৮২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১০৮ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে।

শনিবার নগরীতে ৫৫৯ জনের অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, বক্ষব্যাধি হাসপাতালের জিন এক্সপার্ট ও নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে অ্যান্টিজেন টেস্টে ৩০৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়।

করোনার উচ্চ সংক্রমণ ঠেকাতে শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে শুরু হওয়া সর্বাত্মক লকডাউনে অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে রাজশাহী শহর।

আরও পড়ুন:
সেই ফরিদকে টাকা ফেরত চুপিচুপি
ভুল ইউএনওর, দায় মেটাচ্ছে রাষ্ট্রীয় তহবিল
ত্রাণ বিতরণে সেই ব্যবসায়ীকে বাধ্য করার ঘটনা তদন্তে কমিটি
ইউএনওর ভুলে ত্রাণ: টাকা ফেরত পাচ্ছেন সেই ব্যবসায়ী
ত্রাণ সত্যিই দরকার ছিল ফরিদের, ভুল ইউএনওর

শেয়ার করুন

টিকা নেয়ায় কম ঝুঁকিতে চিকিৎসকরা

টিকা নেয়ায় কম ঝুঁকিতে চিকিৎসকরা

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় রোগীর চাপ বাড়ছে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ছবি: নিউজবাংলা

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘করোনা মহামারির শুরুতে বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক আক্রান্ত হন। হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম পড়ে ঝুঁকির মুখে। তবে এবার চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা আক্রান্ত কম হচ্ছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, তারা ভালো থাকার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণ।’

সীমান্তবর্তী রাজশাহী এখন করোনাভাইরাস সংক্রমণের হটস্পট। প্রতিদিনই হু হু করে বাড়ছে রোগী। দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর তালিকা। তবে ভ্যাকসিন নেয়ায় চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘করোনা মহামারির শুরুতে রাজশাহীর বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক আক্রান্ত হন। হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম পড়ে ঝুঁকির মুখে। তবে এবার চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা আক্রান্ত কম হচ্ছেন। এখন পর্যন্ত আমরা রোগীদের ভালোভাবেই সেবা দিতে পারছি। আগের বছরের মত পরিস্থিতি খারাপ হলে এত রোগী সামলানো কঠিন হয়ে যেত। চিকিৎসকরা বলছেন, তারা ভালো থাকার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণ।’

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, করোনার প্রথম ঢেউ আসার পরই গত বছর একের পর এক চিকিৎসক আক্রান্ত হতে থাকেন। নার্স, আয়াসহ দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীরাও আক্রান্ত হন। তখন সেবা কার্যক্রম পড়ে ঝুঁকির মুখে। প্রথম ঢেউয়ে রাজশাহীতে চিকিৎসায় জড়িত ৬১২ জন করোনায় আক্রান্ত হন। এর মধ্যে চিকিৎসক ছিলেন ২৩২ জন, নার্স ২৬২ জন। হাসপাতালের কর্মচারী আক্রান্ত হন ১১৮ জন।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় ঢেউয়ে সাধারণ মানুষের সংক্রমণ ও মৃত্যু অনেক বেড়ে গেলেও চিকিৎসাসংশ্লিষ্টরা অনেকটা ঝুঁকি মুক্ত আছেন। এবার এখন পর্যন্ত এক চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন। আর নার্স আক্রান্ত হয়েছেন ২০ জন। তবে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আব্দুল হান্নান করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৭ মার্চ মারা যান। তারপর আর কেউ আক্রান্ত হননি।

ডা. সাইফুল বলেন, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত আছেন ২৫৮ জন চিকিৎসক ও নার্স ৪৫২ জন। আর হাসপাতালে দৈনিক মজুরীভিত্তিক কর্মচারী ২১৬ জন। তারা নিয়মিত সেবা দিচ্ছেন।

ব্রিগেডিয়ার শামীম ইয়াজদানী বলেন, হাসপাতালের ১০টি ওয়ার্ড নিয়ে করোনা ইউনিট গঠন করা হয়েছে। এখানে বেড রয়েছে ২৭১টি। কয়েকদিন ধরেই রোগীর সংখ্যা বেশি। সবশেষ শনিবার সকালে এখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন ২৮৯ জন।

তিনি জানান, যারা করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসা দিচ্ছেন তারা ১৪ দিন পর পর কোয়ারেন্টিনে থাকছেন। কোয়ারেন্টিইন থেকে আবার চিকিৎসার কাজে যোগ দিচ্ছেন। চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী সবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী বলেন, দ্বিতীয় ঢেউয়ে চিকিৎসা সম্পৃক্তরা করোনায় কম আক্রান্ত হওয়ার কারণ ভ্যাকসিন গ্রহণ। এখানকার ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারীরা দুই ডোজ করে ভ্যাকসিন নিয়েছেন। এ কারণে তাদের আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কম। তাছাড়া, যে কয়জন নার্স আক্রান্ত হয়েছেন তাদের উপসর্গ উল্লেখযোগ্য নয়।

রাজশাহীতে ঈদের পর থেকেই বাড়তে শুরু করে করোনা রোগী। বিভিন্ন উপজেলার পাশাপাশি আশপাশের জেলাগুলোতেও রোগী বাড়ছে। করোনা শনাক্ত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাপ বেড়েছে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ওয়ার্ড একের পর এক করোনা ওয়ার্ডে রূপান্তর করা হয়।

এদিকে, করোনার উচ্চ সংক্রমণ ঠেকাতে শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে রাজশাহী শহরে সর্বাত্মক লকডাউন চলছে। স্থানীয় প্রশাসন আগামী ১৭ জুন পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করে। জেলা প্রশাসনের চার জন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত শহরে কাজ করছে।

আরও পড়ুন:
সেই ফরিদকে টাকা ফেরত চুপিচুপি
ভুল ইউএনওর, দায় মেটাচ্ছে রাষ্ট্রীয় তহবিল
ত্রাণ বিতরণে সেই ব্যবসায়ীকে বাধ্য করার ঘটনা তদন্তে কমিটি
ইউএনওর ভুলে ত্রাণ: টাকা ফেরত পাচ্ছেন সেই ব্যবসায়ী
ত্রাণ সত্যিই দরকার ছিল ফরিদের, ভুল ইউএনওর

শেয়ার করুন

শ্রমিক বিক্ষোভে কাঁদানে গ্যাস, ছত্রভঙ্গ শ্রমিকের মৃত্যু

শ্রমিক বিক্ষোভে কাঁদানে গ্যাস, ছত্রভঙ্গ শ্রমিকের মৃত্যু

নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে রোববার সকাল পৌনে ৭টার দিকে সড়ক অবরোধ করে লেনি ফ্যাশন নামের একটি তৈরি পোশাক কারখানার প্রায় তিন শ শ্রমিক। ওই সময় তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে।

সাভারের বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভে শিল্প পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়লে ছত্রভঙ্গ হয়ে দৌড়াতে গিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কায় নারী পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম জিয়াসমিন আক্তার।

জিয়াসমিন নতুন ইপিজেডের গোল্ড টেক্স কারখানার সুইং অপারেটর ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের সময় আমরা যখন ছত্রভঙ্গ করে দিচ্ছিলাম, আমাদের তখন করার কিছুই ছিল না। ওই শ্রমিক তখন দৌড়ে পালাতে গিয়েছিলেন। এ সময় তিনি খেয়াল না করায় বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে লেগে তিনি মাথায় আঘাত পান। পরে তিনি মারা যান বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিহত ওই শ্রমিক লেনী ফ্যাশনে চাকরি করতেন না। আর সকালে আন্দোলনের সময় লেনি ফ্যাশনের শ্রমিকদের সাথে তিনি যোগ দিয়েছিলেন।’

এর আগে, নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে রোববার সকাল পৌনে ৭টার দিকে সড়ক অবরোধ করে লেনি ফ্যাশন নামের একটি তৈরি পোশাক কারখানার প্রায় তিন শ শ্রমিক। ওই সময় তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে।

শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আসাদুজ্জামান নিউজবাংলাকে জানান, সকালে লেনি ফ্যাশনের কয়েক শ শ্রমিক বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে নতুন ইপিজেডের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় ব্যস্ততম এই সড়কটিতে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের সড়ক ছেড়ে দেয়ার জন্য বোঝালেও তারা বিক্ষোভ করতে থাকে। পরে জলকামান নিক্ষেপ করে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

তিনি বলেন, ‘সকালে ঘটনাস্থলে আমাদের পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য ছিল। আমরা শ্রমিকদের সড়ক থেকে বুঝিয়ে সরিয়ে দেয়ার অনেকবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা শোনেনি। তার পরে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাস্তা ক্লিয়ার করা হয়েছে।

‘হালকা কাঁদানে গ্যাস ও পানি ছিটিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়া হয়। তারা বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করলেও তেমন কিছু হয়নি। অল্প সময় শুধু সড়কে যানচলাচল বিঘ্নিত হয়েছে।’

পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘লেনি ফ্যাশন কারখানার মালিক একজন ভারতীয়। অনেক দিন আগে থেকেই করোনার কারণে মালিক ফ্যাক্টরিতে আসেন না। ওই মালিকের দুইটি কারখানায় প্রায় ৬০০ শ্রমিক কাজ করে।

‘চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারখানা দুটি বন্ধ। জানুয়ারি মাসের বেতনও তারা পাননি। তাদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকাও আটকে আছে। এখন করণীয় কিছু নাই। ফ্যাক্টরি বিক্রি করতে হবে। এই মুহূর্তে সেই প্রচেষ্টাও চলছে।’

আরও পড়ুন:
সেই ফরিদকে টাকা ফেরত চুপিচুপি
ভুল ইউএনওর, দায় মেটাচ্ছে রাষ্ট্রীয় তহবিল
ত্রাণ বিতরণে সেই ব্যবসায়ীকে বাধ্য করার ঘটনা তদন্তে কমিটি
ইউএনওর ভুলে ত্রাণ: টাকা ফেরত পাচ্ছেন সেই ব্যবসায়ী
ত্রাণ সত্যিই দরকার ছিল ফরিদের, ভুল ইউএনওর

শেয়ার করুন