খামারির ‘লাভের অর্ধেক চান’ প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা

খামারির ‘লাভের অর্ধেক চান’ প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা

রবিউল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, মুরগি মারা যেতে শুরু করলে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামকে ফোনে বিষয়টি জানানো হয়। তিনি ভিজিটের বিনিময়ে খামারে আসতে রাজি হন।

নওগাঁর পোরশায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঠিক পরামর্শের অভাবে ও অসহযোগিতার কারণে মুরগি মারা যাওয়ার অভিযোগ করেছেন এক খামারি।

খামারের প্রায় সব মুরগি মারা যাওয়ায় উপজেলার জালুয়া গ্রামের উদ্যোক্তা খামারি রবিউল ইসলাম কীভাবে ঋণের টাকা শোধ করবেন তা নিয়ে পড়েছেন দুর্ভাবনায়।

৩০ বছর বয়সী রবিউলের একসময় প্লাস্টিকের দোকান ছিল। তবে এই ব্যবসায় লাভ কম হওয়ায় ২০১৮ সালে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে ব্রয়লার মুরগির খামার শুরু করেন। সেবার প্রায় ১২ হাজার টাকা লাভ করেন। তবে ব্রয়লার মুরগিতে পরিশ্রম ও খরচের পরিমাণ বেশি হওয়ায় সোনালি মুরগি পালনের দিকে ঝোঁকেন।

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। লাভ যত বাড়ে খামারও তত বড় হয়। তৈরি করেন পাঁচটি শেড। এতে বিভিন্ন বয়সের ১২ হাজার ৭০০ মুরগি ছিল। তিনি প্রাণিসম্পদ অফিসের ‘এ শ্রেণির’ নিবন্ধিত খামারি।

এই খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে অন্যদেরও। মাসিক ৭ থেকে ৮ হাজার বেতনে কাজ করেন পাঁচজন কর্মচারী।

কিন্তু গত ১৭ মে রাতে একটি শেডের চারটি মুরগি মারা যায়। এরপর এক সপ্তাহের ব্যবধানে দফায় দফায় মুরগি মারা যায়।

এখন তার খামারে জীবিত আছে ৬০০ মুরগি।

রবিউল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, মুরগি মারা যেতে শুরু করলে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামকে ফোনে বিষয়টি জানানো হয়। তিনি ভিজিটের বিনিময়ে খামারে আসতে রাজি হন।

খামারে এসে তিনি মুরগিগুলোকে ২৪ ঘণ্টা ফ্যান দিয়ে বাতাস দেয়ার ও ভিটামিন ওষুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেন।

কিন্তু তার এই পরামর্শে কোনো কাজ হয়নি।

খামারির ‘লাভের অর্ধেক চান’ প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা
রবিউলের খামারে মারা যাওয়া মুরগি। ছবি: নিউজবাংলা

বিষয়টি জেলা কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি সোমবার সকালে খামার পরিদর্শন করেন ও কিছু মরা মুরগি পরীক্ষার জন্য নিয়ে যান।

রবিউলের অভিযোগ, ওই কর্মকর্তা ভিজিট ছাড়া কোনো পরামর্শ দেন না। যতদিন নিয়মিত টাকা দিয়েছেন ততদিন এসেছেন। প্রতিবার তাকে ৫০০ টাকা করে দেয়া হয়েছে। এমনকি একবার ২০০০ টাকাও দিতে হয়েছে। টাকা দেয়া বন্ধ করে দিলে তিনি আসাও ছেড়ে দেন। ফোনেও পরামর্শ দিতে চান না।

রবিউলের আরও অভিযোগ, ‘পরামর্শ দেয়ার বিনিময়ে লাভের ভাগও চেয়েছেন ওই কর্মকর্তা।’

পোরশা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, মুরগি অসুস্থ হওয়ার ব্যাপারে ওই খামারি আমাকে আগে জানায়নি। পরে তাকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। অফিসের বাইরে কোথাও সেবা দিতে গেলে দূরত্ব ও রোগের ধরনের ওপর নির্ভর করে খামারিরা কিছু টাকা দিয়ে থাকেন। তবে আমি কোনো টাকা চেয়ে নেইনি। অফিসে কেউ সেবা নিতে আসলে কোনো টাকা নেয়া হয় না।

রবিউলের খামারের লাভের অর্ধেক অংশ দিলে সেই শর্তে সেবা প্রদান করব এমন অভিযোগ সঠিক নয় বলে তিনি ফোন কেটে দেন। এর পর বেশ কয়েকবার তাকে ফোন দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি।

নওগাঁ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মহির উদ্দিন বলেন, সোমবার দুপুরে রবিউলের খামার পরিদর্শন করা হয়। মারা যাওয়ার মুরগির কিছু নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য জয়পুরহাট ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছিল।

রিপোর্টে রাণীক্ষেত, কক্সিডিওসিস ও গামবুরো এ তিনটি রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। এ ছাড়া ওই খামারিকে রোগ প্রতিরোধে কিছু ওষুধ ও পরামর্শ দিয়েছি।

এক প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা বলেন, খামারি রবিউল যদি আমাকে লিখিত অভিযোগ দেয় তবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
বেড়ার রাস্তায় দুধ ঢালার দিন শেষ
লকডাউনে পশুর খামারিদের মাথায় হাত
দুধ নিয়ে বিপাকে খামারিরা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কারাগারে কয়েদির মৃত্যু

 ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কারাগারে কয়েদির মৃত্যু

জেল সুপার ইকবাল হোসেন জানান, বাবুল মাদক মামলায় পাঁচ বছরের সাজায় জেলা কারাগারে বন্দি ছিলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে বাবুল নামের সাজাপ্রাপ্ত এক কয়েদির মৃত্যু হয়েছে।

অসুস্থ অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে কুমিল্লা নেয়ার পথে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মারা যান।

৪৯ বছর বয়সী বাবুল কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের বায়েক গ্রামের বাসিন্দা।

জেল সুপার ইকবাল হোসেন বলেন, বাবুল আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কুমিল্লা হাসপাতালে নেয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যান।

তিনি আরও জানান, বাবুল মাদক মামলায় পাঁচ বছরের সাজা পেয়ে জেলা কারাগারে বন্দি ছিলেন।

আরও পড়ুন:
বেড়ার রাস্তায় দুধ ঢালার দিন শেষ
লকডাউনে পশুর খামারিদের মাথায় হাত
দুধ নিয়ে বিপাকে খামারিরা

শেয়ার করুন

রাজশাহীতে করোনায় আরও ১৪ মৃত্যু, অর্ধেকই নারী

রাজশাহীতে করোনায় আরও ১৪ মৃত্যু, অর্ধেকই নারী

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত করোনায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, মৃত ১৪ জনের মধ্যে ৫ জনের করোনা পজেটিভ ছিল। বাকিরা মারা যান উপসর্গ নিয়ে। তাদের মধ্যে ৭ জন নারী; ৭ জন পুরুষ।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে এক দিনে আরও ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকালের মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়।

এর আগের ২৪ ঘণ্টাতে হাসপাতালটিতে ১৮ জনের মৃত্যু হয়। যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ মৃত্যু।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, মৃত ১৪ জনের মধ্যে ৫ জনের করোনা পজেটিভ ছিল। বাকিরা মারা যান উপসর্গ নিয়ে। মৃতদের মধ্যে ৭ জন নারী; ৭ জন পুরুষ।

এ নিয়ে চলতি মাসের ২৫ দিনে (১ জুন থেকে ২৫ জুন) এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ২৭৭ জন।

এর মধ্যে শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছেন ১৩৮ জন। বাকিদের মৃত্যু হয়েছে উপসর্গ নিয়ে।

হাসপাতাল পরিচালক আরও জানান, মৃতদের মধ্যে ৬ জনের বাড়ি রাজশাহীতে, ৩ জনের নওগাঁ, ৪ জনের চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ১ জন নাটোরের।

বয়স বিশ্লেষনে দেখা গেছে, মৃত ১৪ জনের মধ্যে ৪ জনের বয়স ষাটোর্ধ। এছাড়া ত্রিশোর্ধ ১ জন, চল্লিশোর্ধ ৪ জন, পঞ্চাশোর্ধ ৫ জন মারা গেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৬৫ জন। এ সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৪৩ জন।

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন ৪২৩ জন। গতকাল এ সংখ্যা ছিল ৪০৪জন।

আরও পড়ুন:
বেড়ার রাস্তায় দুধ ঢালার দিন শেষ
লকডাউনে পশুর খামারিদের মাথায় হাত
দুধ নিয়ে বিপাকে খামারিরা

শেয়ার করুন

চোরাই পথে গরু আসার শঙ্কায় খামারিরা

চোরাই পথে গরু আসার শঙ্কায় খামারিরা

ঈদ সামনে রেখে আগাম প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছেন মেহেরপুরের ছোট-বড় গরু খামারিরা। ছবি: নিউজবাংলা

ঈদ সামনে রেখে লোকসান পুষিয়ে লাভের মুখ দেখার স্বপ্ন দেখছেন খামারিরা। তবে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু আসায় ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন তারা।  

‘আমি গত বছর তিনটা গরু বেশি দামের আশায় ঢাকায় নিয়ে গিয়েছিলাম। একটা গরু বেচতে পারলেও কম দাম বুলায় বাকি দুটো গরু নি বাড়ি চইলি আসি।

‘আমার খামারে এখন দশটা গরু। গতবারের ফেরত আসা গরু দুটোর এবার দাম ধরেছি আট লাখ টাকা। গ্রামের গরু ব‍্যাপারী আমাকে সাড়ে ছয় লাখ টাকা দিতে চাহিছে তা-ও আমি গরু দিনি। যা আছে কপালে আবার ঢাকায় নি যাব।’

নিউজবাংলাকে এভাবেই কোরবানি ঈদ নিয়ে নিজের প্রস্তুতির কথা জানালেন খামারমালিক এ‍্যামেলি।

ঈদ সামনে রেখে আগাম প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছেন মেহেরপুরের ছোট-বড় গরু খামারিরা। খামারগুলো এখন ব্যাপক ব‍্যস্ততা। ঈদের আগে ভারত সীমান্ত দিয়ে গরু না এলে লাভবান হবেন বলে আশা করছেন খামারিরা।

শেষ মুহূর্তে খামারে পশু চিকিৎসক এনে সেরে নিচ্ছেন গবাদিপশুগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা। এখন শুধু বিক্রির অপেক্ষা।

এরই মধ্যে অনেক খামারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে গরুর ওজন, দাম ও সৌন্দর্য উল্লেখ করে বিক্রির জন‍্য প্রচার শুরু করেছেন। কেউ আবার খামারে গিয়ে নিজেই দাম যাচাই করছেন।

তবে শেষ সময়ে করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ আসায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেক খামারি। তারা বলছেন, পুঁজি টিকিয়ে রাখতে হলে অবৈধ পথে গরু আনা বন্ধ করতে হবে। তা না হলে দেশের খামারিরা পশুর ন্যায্য মূল্য পাবেন না। এছাড়া অনেক খামারি এখনও গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারেননি।

চোরাই পথে গরু আসার শঙ্কায় খামারিরা

গরুর ব‍্যাপারী জামরুল গত কোরবানির ঈদে ১৫টি গরু গ্রামের পালনকারীদের কাছ থেকে দাম চুক্তি করে লাভের আশায় ঢাকায় নিয়ে আসেন। শেষমেশ তাকে তিন লাখ টাকা লোকসান গুনতে হয়। এখনও গত বছরের ঋণ শোধ করতে পারেননি তিনি। লাভের ওপর টাকা নিয়ে এ বছর গরু কিনেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি পনেরো পিস গরু দাম ঠিক কইরি কিনি নি। কিছু টেকা বাইনা করি গরু নি ঢাকায় গিছুনি। কিন্তু তিন লাখ টেকার মতো লছ হইছে। এখনও গতবারেরই কিছু টেকা বাকি আছে। তারপরে ও লাভের উপর টেকা নি দশটা গরু কিনিছি।’

কখন গরুর ব‍্যাপারীর লোকসান হয় এমন প্রশ্নের উত্তরে জামরুল বলেন, ‘যদি গরুর বাজারে গরুর চাহিদা না থাকে কিংবা ভারতীয় গরু দেশে ঢোকে তাহলে আমরা গরুর ব‍্যাপারীরা শেষ। লাভ তো দূরের কথা টেকা দেয়ার ভয়ে পালি বেড়াতে হয়।’

মা অ্যাগ্রো ফার্মের আবু বক্কর নিউজবাংলাকে জানান, তাদের ফার্মটিতে গত বছর ১০০টির ওপরে গরু ছিল। তবে গত বছর আশানুরূপ লাভ না পাওয়ায় এ বছর গরুর সংখ্যা কিছুটা কমে গেছে। বর্তমানে ফার্মে ৭০টির মতো গরু আছে।

তিনি বলেন, ‘সারা বছর দেশীয় পদ্ধতিতে গরু লালনপালন করি কোরবানির ঈদে লাভের মুখ দেখার আশায়। অথচ ঈদের কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু প্রবেশ করে। এতে কষ্ট করে লালনপালন করা গরুর বাজার পড়ে যায়। কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে লোকসানের মুখে পড়তে হয়।’

চোরাই পথে গরু আসার শঙ্কায় খামারিরা

‌জেলা প্রাণ‌িসম্পদ কর্মকর্তা সাইদুর রহমানের দেয়া তথ‍্য অনুযায়ী, মেহেরপুর জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে খামারির সংখ্যা ২৮ হাজার ৮১০ জন।

গবাদিপশু মহিষের সংখ্যা ৫৭৬টি, গরু ৪৭ হাজার ১৫৫টি, খাসি ও ভেড়ার সংখ্যা ১ লাখ ২৫ হাজার ৭০৬।

জেলায় এবার কোরবানির পশুর লক্ষ‍্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৮ হাজার ৮০০টি। এসব পশু জেলার বাইরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে চলে যাবে।

খামারিদের সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি গবাদিপশুকে স্টেরয়েডমুক্ত খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

দেশের খামারিরা যাতে পশু বিক্রির ন্যায্য দাম পান সেজন্য সীমান্তে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মুনসুর আলম বলেন, ‘সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে যেন ভারতীয় গরু ঢুকতে না পারে সেজন‍্য বিজিবির সঙ্গে কথা হয়েছে। জেলায় পর্যাপ্ত কোরবানির পশু আছে, যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হবে।

আরও পড়ুন:
বেড়ার রাস্তায় দুধ ঢালার দিন শেষ
লকডাউনে পশুর খামারিদের মাথায় হাত
দুধ নিয়ে বিপাকে খামারিরা

শেয়ার করুন

মাদ্রাসা বন্ধ করে মার্কেট, ভাড়ার টাকা নিচ্ছেন আ. লীগ নেতা

মাদ্রাসা বন্ধ করে মার্কেট, ভাড়ার টাকা নিচ্ছেন আ. লীগ নেতা

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ আকন্দ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমিই খাচ্ছি সকল টাকা, তাতে কী? মার্কেটের দোতালায় মাদ্রাসা নির্মান করা হবে সময় হলে। এমপি কিছু টিআর বরাদ্দ দিয়েছে। বাকি টাকা হলে কাজ শেষ করে মাদ্রাসা চালু করা হবে।’

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ব্রিটিশ আমলের একটি কওমি মাদ্রাসা বন্ধ করে মার্কেট নির্মাণ ও এর ভাড়ার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে রাজাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ আকন্দের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাত বছর ধরে মাদ্রাসা ও সরকারি জায়গায় মার্কেট বানিয়ে ভাড়া তুলছেন গোলাম আকন্দ।

তারা জানান, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার প্রবেশদ্বার সমেশপুর বাজারে ব্রিটিশ আমলে সরকারি জায়গায় সমেশপুর দারুল উলুম কওমী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর হাজী আজগড় আলী নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি মাদ্রাসার পাশে থাকা তার ২০ শতক জায়গা দান করেন।

এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় এলাকাবাসী আরও ৪৫ শতক জায়গা এই মাদ্রাসাকে দান করেন। মাদ্রাসার উন্নয়ন আর খরচ জোগাতে বেলকুচি-কড্ডার মোড় আঞ্চলিক সড়কের সঙ্গে ১২টি দোকান করে ভাড়া দেয় মাদ্রাসা কমিটি। ধীরে ধীরে মাদ্রাসার লেখাপড়ার মান ভালো হলে বাড়তে থাকে ছাত্রসংখ্যা।

একটি টিনেরচালা ঘরে মাদ্রাসার চার জন শিক্ষক প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীকে পড়াতে ও আবাসিক সুবিধা দিতে সমস্যার মুখে পড়েন।

এর সমাধানের কথা বলে হাজী আজগড় আলীর দান করা ২০ শতক জায়গার ওপর একটি তিনতলা মাদ্রাসার ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন কমিটির সভাপতি বদিউজ্জামান এবং সাধারণ সম্পাদক ও রাজাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ আকন্দ।

মাদ্রাসা বন্ধ করে মার্কেট, ভাড়ার টাকা নিচ্ছেন আ. লীগ নেতা
রাজাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ আকন্দ

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসার নামে থাকা ৪৫ ডিসিমাল জায়গা ২০ লাখ টাকায় বিক্রি করে কাজ শুরু করেন ওই দুই নেতা। এরই মধ্যে সরকারিভাবে ও স্থানীয়দের অনুদান মেলে আরও ২৮ লাখ টাকা। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে এই ভবনটি নির্মাণের কথা বলে সাময়িকভাবে মাদ্রাসা বন্ধ করে দেয় কমিটি।

তারা বলছেন, মাদ্রাসা ভবনের নিচতলা নির্মাণ শেষ হলে সেখানে শ্রেণিকক্ষ না বানিয়ে মার্কেট হিসেবে ২৮টি দোকান করে মোটা অংকের টাকা নিয়ে ভাড়া দেন মাদ্রাসা কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোহাম্মদ আকন্দ।

সমেশপুর গ্রামের মনিরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ছোটবেলায় এই মাদ্রাসায় মক্তব পড়েছি। উন্নয়নের কথা বলে নেতারা মাদ্রাসা বন্ধ করে দিয়ে মার্কেট বানিয়ে প্রতিমাসে ভাড়া তুলে ভাগ বাটোয়ারা করে খাচ্ছে। অথচ মাদ্রাসা চালু করছে না। স্থানীয় এমপির মদদে তারা এসব অপকর্ম করতে পারছে।’

রাজাপুর গ্রামের আক্তার হোসেন বলেন, ‘মানুষ বিভিন্ন জায়গা থেকে ভিক্ষা করে টাকা তুলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান করে সওয়াবের আশায় আর এরা প্রতিষ্ঠান বিলুপ্তি করে মার্কেট নির্মাণ করে মাদ্রাসার নামে প্রকল্প এনে লুটেপুটে খাচ্ছে। এরা মারা গেলে কবরে কী জবাব দেবে? আমরা দ্রুত এই মাদ্রাসা চালু দেখতে চাই।’

মাদ্রাসা মার্কেটের দোকানদার সঞ্জয় সাহা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সমেশপুর দারুল উলুম কওমী মাদ্রাসা নেই, তবুও মার্কেটের দোকানের অ্যাডভান্স ও সব ভাড়া নেন আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোহাম্মদ আকন্দ। আমি প্রতিমাসে আড়াই হাজার টাকা ভাড়া দেই আর অ্যাডভান্স দিয়েছি দুই লাখ টাকা।’

মাদ্রাসা বন্ধ করে মার্কেট, ভাড়ার টাকা নিচ্ছেন আ. লীগ নেতা


আরেক দোকানদার সামাদ ভুঁইয়া বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়ে এসেছি, তবুও নেতাকে ভাড়া দিতে হয় প্রতি মাসে। আমার কাছ থেকে দুইবার মাদ্রাসার ঘর নির্মাণের কথা বলে দেড় লাখ টাকা অ্যাডভান্স নিয়েছে। আমরা এখানে অসহায়। ব্যবসা-বাণিজ্য করে খাই, তাদের সাথে ঝগড়া করে তো এখানে থাকতে পারব না। তাই তাদের কথামতোই চলতে হয়।’

মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য আব্দুল হাকিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই মাদ্রাসা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে একবারও কমিটি নিয়ে কোনো মিটিং করেনি। পরে আমরা কমিটির সাথে তিন বার মিটিং করার জন্য সাধারণ সভা করি। এতে কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোহাম্মদ আকন্দ উপস্থিত হননি।

তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসা ভবন নির্মাণের আয়-ব্যয় সম্পর্কে আমরা কিছুই জানিনা। সে এখন মাদ্রাসা চালু করবে কিনা তাও জানিনা। কারণ সে আমাদের কমিটি থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছে।’

মার্কেটে সরেজমিনে সংবাদ সংগ্রহে গেলে নিউজবাংলার প্রতিবেদকের ক্যামেরা দেখে আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোহাম্মদের ভাই আব্দুল হাই আকন্দ ক্যামেরা বন্ধ করে চলে যেতে হুঁশিয়ারি দেন।

মার্কেটের টাকা আত্মসাৎ নিয়ে সংবাদ প্রচার করলে অনেক খারাপ পরিণতি হবে বলেও হুমকি দেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, রাজাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ আকন্দ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমিই খাচ্ছি সকল টাকা, তাতে কী? মার্কেটের দোতালায় মাদ্রাসা নির্মান করা হবে সময় হলে। এমপি কিছু টিআর বরাদ্দ দিয়েছে। বাকি টাকা হলে কাজ শেষ করে মাদ্রাসা চালু করা হবে।’

মাদ্রাসা বন্ধ করে মার্কেট, ভাড়ার টাকা নিচ্ছেন আ. লীগ নেতা


তিনি বলেন, ‘আমি এই মাদ্রাসার মার্কেট নির্মাণ করতে গিয়ে অনেক টাকা ঋণ করেছি। ঋণ শোধ করে মার্কেটের দোতালায় যে পিলার দেখছেন সেখানে ছাদ করেই মাদ্রাসা চালু করব। আমাকে নিয়ে এসব লিখে-টিকে কিছুই করতে পারবেন না।’

রাজাপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান সোনিয়া সবুর আকন্দ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাদ্রাসা নেই তবুও সরকারি অনুদান ও মার্কেটের সকল টাকা আত্মসাৎ করছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসা কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোহাম্মদ আকন্দ।’

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছিনা। স্থানীয় এমপির ছত্রছায়ায় থাকায় তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো যা খুশি তাই করে বেড়াচ্ছে। আমি বারবার চেষ্ট করেও এই কমিটির কোনো মিটিং করাতে পারিনি।

‘তাই বাধ্য হয়ে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমরা চাই এই ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসাটি দ্রুত চালু হোক।’

বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ আব্দুল মমিন মণ্ডলকে তার মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেন নি।

বেলকুচির সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম রবিন বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি তাই ভালো করে জানিনা। তবে এলাকাবাসী ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের কিছু লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলেছি। আমরা যৌথভাবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’

তিনি বলেন, ‘যদি মাদ্রাসা না থাকে তাহলে অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দেয়া হবে।’

বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনিছুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমি এখনও অবগত নই। সহকারী কমিশনারকে পাঠিয়ে তদন্ত করে দেখছি। ঘটনা সত্য হলে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
বেড়ার রাস্তায় দুধ ঢালার দিন শেষ
লকডাউনে পশুর খামারিদের মাথায় হাত
দুধ নিয়ে বিপাকে খামারিরা

শেয়ার করুন

করোনা: তাড়িয়েছেন বাড়িওয়ালা, আমবাগানে রাতযাপন

করোনা: তাড়িয়েছেন বাড়িওয়ালা,  আমবাগানে রাতযাপন

করোনার কারণে সোহরাবকে তার বাবা জায়গা দেননি বাড়িতে। অবশেষে পুলিশ উদ্ধার করে তার আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে।

করোনা আক্রান্ত হওয়ায় ভাড়াবাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন বাড়ির মালিক। বাবার বাড়িতে গিয়েও জায়গা হয়নি। শেষ পর্যন্ত স্ত্রীকে নিয়ে দুই রাত কাটল আমবাগানে।

শেষ পর্যন্ত ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা পেয়ে অবশেষে বাবার বাড়িতে তার জায়গা হয়েছে। পরে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে খাদ্যসহায়তা।

ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার আলীপুর গ্রামে। ওই গ্রামের খয়বর আলীর ছেলে সোহরাব আলী (৩৫) পেশায় অটো মেকানিক। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে দিনমজুরের কাজও করেন তিনি। দুই স্ত্রীর মধ্যে ছোট স্ত্রীকে নিয়ে আলীপুর বাজারের পাশেই একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন সোহরাব।

সোহরাব আলী জানান, হঠাৎ সর্দিজ্বর হওয়ায় গত মঙ্গলবার উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে নমুনা পরীক্ষার পর তার শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। তবে তার স্ত্রীর করোনা হয়নি।

করোনা পজিটিভ হওয়ার পর সোহরাব আলী তার ভাড়াবাড়িতে গেলে বাড়ির মালিক তাকে সেখানে থাকতে দিতে রাজি হননি। এরপর সোহরাব তার বাবার বাড়িতে যান থাকার জন্য। কিন্তু বাবা খয়বর আলীসহ পরিবারের অন্যরাও সেখানে জায়গা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

বাধ্য হয়ে সোহরাব তার স্ত্রীকে নিয়ে বাবার বাড়ির পাশের একটি আমবাগানে টিনের ছাপরাঘরে আশ্রয় নেন।

করোনা: তাড়িয়েছেন বাড়িওয়ালা,  আমবাগানে রাতযাপন


দুই দিন অতিবাহিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার হটলাইন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন সোহরাব আলী। সেখানে তিনি জানান, তিনি বাড়িতে জায়গা পাননি। তার খাবারের প্রয়োজন। খবর পেয়ে দুর্গাপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলী জানান, ৯৯৯ হটলাইনে ফোন পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখানে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়। বাড়িতে জায়গা না পাওয়ায় আমবাগানে একটি টিনের ছাপরাঘরের নিচে তারা অবস্থান করছিলেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সোহরাব আলীকে স্ত্রীসহ উদ্ধার করে তার বাবার বাড়িতে একটি ঘরে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। সেখানে তার হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা হয়েছে। তাকে খাদ্যসামগ্রীও দেয়া হয়েছে। তার স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
বেড়ার রাস্তায় দুধ ঢালার দিন শেষ
লকডাউনে পশুর খামারিদের মাথায় হাত
দুধ নিয়ে বিপাকে খামারিরা

শেয়ার করুন

কুরিয়ারে ১৫ টাকা, ম্যাঙ্গো ট্রেনে ২ টাকা

কুরিয়ারে ১৫ টাকা, ম্যাঙ্গো ট্রেনে ২ টাকা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকায় আম পাঠাতে কুরিয়ার সার্ভিসের তুলনায় এই বিশেষ ট্রেনে খরচ অনেক কম। কুরিয়ারে প্রতি কেজি আম পাঠাতে খরচ পড়ে ১২ থেকে ১৫ টাকা। আর ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে খরচ পড়ে সর্বোচ্চ ২ টাকা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন’ উদ্বোধনের পর এক মাসের কম সময়ে ট্রেনটি ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৯২৬ কেজি আম পরিবহন করেছে।

রাজধানী ঢাকায় আম পাঠাতে কুরিয়ার সার্ভিসের তুলনায় এই বিশেষ ট্রেনে খরচ অনেক কম। কুরিয়ারে প্রতি কেজি আম পাঠাতে খরচ পড়ে ১২ থেকে ১৫ টাকা। আর ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে খরচ পড়ে সর্বোচ্চ ২ টাকা।

জেলার রেলস্টেশনের মাস্টার মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৭ মে এই ম্যাঙ্গো ট্রেন উদ্বোধন করেন। গত ২১ জুন পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে এই ট্রেনের মাধ্যমে রেকর্ড পরিমাণ (৪ লাখ ৫৬ হাজার ৯২৬ কেজি) আম পরিবহন করা হয়েছে মাত্র ২৬ দিনে। গত বছর গোটা আম মৌসুমে ট্রেনে আম গিয়েছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার ৭২ কেজি।

তিনি মনে করেন, খরচ কম হওয়ায় ট্রেনে আম পরিবহনে আগ্রহ বাড়ছে বাগানমালিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোক্তাদের।

উদ্বোধনের পর থেকেই সপ্তাহের সাত দিনই চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আম নিয়ে রাজধানী ঢাকায় যাচ্ছে ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন। প্রথম দিন ৯৬০ কেজি আম নিয়ে যাত্রা করলেও দিন যত গড়িয়েছে, ততই বেড়েছে পরিমাণ।

ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে বুকিং দিতে রেলস্টেশনে এসেছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের অনুপনগর গ্রামের নাঈম আলী। অনলাইনে অর্ডার নিয়ে আম সরবরাহ করেন তিনি।

নিউজবাংলাকে নাঈম বলেন, ‘আমি এক ক্যারেট (২৫ কেজি) আম পাঠালাম (ঢাকায়) ৫০ টাকায়। যেখানে কুরিয়ারে এক কেজি আমেই লাগত ১২ টাকা। ট্রেনের আরেকটা সুবিধা হলো, পরের দিনই আম পৌঁছে যাচ্ছে। সেখানে কুরিয়ারে অনেক সময় দুই-তিন লেগে যায়। অনেক সময় আম পচেও যায়। অন্যদিকে ট্রেনে আম খুব সুন্দর থাকে।’

তিনি বলেন, ‘আম পৌঁছানোর পর স্টেশন থেকে গ্রাহককে ফোন করে খবরটা জানানো হলে আরও ভালো হতো। ঠিক যেমন কুরিয়ার সার্ভিসের ক্ষেত্রে হয়।’

কুরিয়ারে ১৫ টাকা, ম্যাঙ্গো ট্রেনে ২ টাকা


স্পেশাল ট্রেনে আম বুকিং দিতে এসেছিলেন সাহাদাত হোসেন নামে সদর উপজেলার আরেক লোক। তিনি ঢাকায় মামার বাসায় আম পাঠাতে চান।

নিউজবাংলাকে সাহাদত বলেন, ‘কোনো কোনো কুরিয়ারে ঢাকায় এক কেজি আম পাঠাতে ১৫ টাকা লেগে যায়। অন্যদিকে ট্রেনে কুলি খরচসহ দুই টাকাতেই আম পাঠাতে পারছি। ট্রেনে বেশি সুবিধা, তাই ট্রেনেই পাঠাচ্ছি। এর আগেও একবার ১০ মণ আম পাঠিয়েছি।’

করোনার কারণে অনেক দিন রেলসেবা বন্ধ ছিল। এতে দীর্ঘ সময় বেকার ছিলেন কুলি, মজুর ও শ্রমিকরা। ম্যাঙ্গো ট্রেনের কারণে কাজ ফিরে পাওয়ায় তারাও এখন বেশ খুশি।

রেলস্টেশনে প্রায় ৩৬ বছর ধরে কুলির কাজ করেন আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে কোনো কাজ ছিল না। ম্যাঙ্গো ট্রেন চালু হওয়ায় কাজের সুযোগ হয়্যাছে, হ্যামরা খুশি… এ্যাতে খুশি, আল্লাহ আছে, আলহামদুল্লিহ, ভালো আছি।’

ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে আম পরিবহনের সুযোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমকেন্দ্রিক বাণিজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করেন জেলার কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রেনের মাধ্যমে প্রতি কেজি আম ১ টাকা ৩০ পয়সায় পরিবহনের সুযোগ এখানকার আমচাষিরা ভালোভাবেই গ্রহণ করেছেন। আমরা প্রত্যাশা করি, সারা বছরই এ সেবা অব্যাহত রাখবে রেলওয়ে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাল্টা, পেয়ারাসহ অন্য কৃষি পণ্য পরিবহনে সারা বছরই এমন সেবা চালু থাকলে উপকৃত হবে কৃষি খাত।’

আরও পড়ুন:
বেড়ার রাস্তায় দুধ ঢালার দিন শেষ
লকডাউনে পশুর খামারিদের মাথায় হাত
দুধ নিয়ে বিপাকে খামারিরা

শেয়ার করুন

ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কার করলেন স্বেচ্ছাসেবীরা

ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কার করলেন স্বেচ্ছাসেবীরা

টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার উড়াল সেতুর নিচের সড়ক সংস্কারে নামেন নোয়াগাঁও ক্রীড়া ও সমাজকল্যান সংঘের কর্মীরা। ছবিটি বৃহস্পতিবার সকালে তোলা। ছবি: নিউজবাংলা

নোয়াগাঁও ক্রীড়া ও সমাজকল্যাণ সংঘের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কে খানাখন্দ ও গর্তের কারণে নতুন বাজার থেকে সমবায় কমপ্লেক্স পর্যন্ত অংশ চলাচলের অনুপযোগী ছিল। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে নোয়াগাঁও ক্রীড়া ও সমাজকল্যাণ সংঘের সদস্যরা স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেন।

খানাখন্দে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল গাজীপুরের টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার উড়াল সেতুর নিচের সড়ক। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সড়কে হাঁটু পানি জমে বেশ কয়েকটি বড় গর্তের সৃষ্টি হয়।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সড়কটি সংস্কার শুরু করেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নোয়াগাঁও ক্রীড়া ও সমাজকল্যাণ সংঘের ১৫ কর্মী। একই সময়ে সংস্কারে আসেন সড়ক ও জনপদের লোকজনও। পরে যৌথভাবে ইট ও বালি দিয়ে ভাঙা গর্তগুলো ভরাট করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা হয়।

স্থানীয় লোকজন জানান, বিসিক শিল্পনগরীসহ কালীগঞ্জ-নরসিংদী যাতায়াতের অন্যতম সড়ক এটি। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার গাড়ি যাতায়াত করে এ সড়কে। গর্তে পড়ে অহরহ ঘটছিল দুর্ঘটনা।

সবশেষ গত বুধবার বিকেলে সড়কের গর্তে পড়ে উল্টে যায় দুটি মালবাহী পিকআপ ও ট্রাক। এতে রাত পর্যন্ত সড়কটি বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। উল্টে যাওয়া মালবাহী পিকআপের ছবি ফেসবুকে দেখে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এক পর্যায় বিষয়টি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের নজরে আসে। তিনি নোয়াগাঁও ক্রীড়া ও সমাজকল্যাণ সংঘের সদস্যদের ডেকে স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কটি সংস্করের নির্দেশ দেন।

প্রতিমন্ত্রী জাহিদ রাতেই সড়ক ও জনপদের কর্মকর্তাদের দ্রুত সড়কটি সংস্কারের নির্দেশ দিলে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কাজ শুরু হয়।

নোয়াগাঁও ক্রীড়া ও সমাজকল্যাণ সংঘের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কে খানাখন্দ ও গর্তের কারণে নতুন বাজার থেকে সমবায় কমপ্লেক্স পর্যন্ত অংশ চলাচলের অনুপযোগী ছিল। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে নোয়াগাঁও ক্রীড়া ও সমাজকল্যাণ সংঘের সদস্যরা স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেন।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের টঙ্গী জোনের প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান জানান, ভারী বৃষ্টির কারণে খানাখন্দ ও গর্ত সৃষ্টি হয়েছিল সড়কটিতে। প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে সংস্কার শুরু হয়েছে। এ কাজে স্থানীয় নোয়াগাঁও ক্রীড়া ও সমাজকল্যাণ সংঘের স্বেচ্ছাসেবীরা সহযোগিতা করেছে।

আরও পড়ুন:
বেড়ার রাস্তায় দুধ ঢালার দিন শেষ
লকডাউনে পশুর খামারিদের মাথায় হাত
দুধ নিয়ে বিপাকে খামারিরা

শেয়ার করুন