রংপুরে খাদেম হত্যা: জেএমবির মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি চান্দু গ্রেপ্তার

রংপুরে খাদেম হত্যা: জেএমবির মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি চান্দু গ্রেপ্তার

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রাতে বাজার থেকে বাসায় ফেরার পথে মাজারের খাদেম রহমত আলীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার ছেলে শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।

রংপুরের কাউনিয়ায় মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলায় নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আব্দুর রহমান ওরফে চান্দু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) বলছে, সোমবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২৬ বছর বয়সী এই যুবক পলাতক ছিলেন।

এটিইউর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আসলাম খান নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, রাজধানীর বারিধারায় এটিইউর প্রধান কার্যালয়ে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রাতে বাজার থেকে বাসায় ফেরার পথে মাজারের খাদেম রহমত আলীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার ছেলে শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা কাউনিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মামুন অর রশীদ ২০১৭ সালের ৩ জুলাই জেএমবির রংপুর অঞ্চলের কমান্ডার মাসুদ রানা ওরফে মামুনসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

২০১৮ সালে মামলায় সাতজনের ফাঁসির আদেশ হয়। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন জেএমবির রংপুর অঞ্চলের কমান্ডার মাসুদ রানা, জেএমবির সদস্য এছাহাক আলী, লিটন মিয়া ওরফে রফিক, বিজয় ওরফে আলী ওরফে দর্জি, সাখাওয়াত হোসেন, সরওয়ার হোসেন ওরফে সাবু ও রহমত আলী ওরফে চান্দু মিয়া।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

উদ্বোধনের আগেই সংযোগ সড়কে ধস

উদ্বোধনের আগেই সংযোগ সড়কে ধস

২ কোটি ৭৩ লাখ টাকায় নির্মিত সংযোগ সড়কটি উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

সোমবার সকাল ৯টার দিকে সেতুর দক্ষিণ পাশের সংযোগ সড়কটি ধসে পড়ে। একটি ট্রাক সড়কটি পার হওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়েছে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বনগ্রামে আত্রাই নদীর ওপর নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক। এই প্রকল্পে খরচ হয়েছে ২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

বানগ্রামের হাটকে যানজট মুক্ত রাখতে হাটের পূর্ব পাশে মহাসড়কের উত্তরে আত্রাই নদীর ওপর চলতি অর্থ বছরে সড়কটি নির্মাণ করে এলজিইডি।

সোমবার সকাল ৯টার দিকে সেতুর দক্ষিণ পাশের সংযোগ সড়কটি ধসে পড়ে। একটি ট্রাক সড়কটি পার হওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, পণ্যবাহী ট্রাকটি উল্টে দুটি বসত বাড়িতে আঘাত হানে। এতে আহত হন তিনজন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাড়ি দুটি।

এ ঘটনায় ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনিয়মের অভিযোগ জোরালো হয়। স্থানীয়দের দাবি, কাজের শুরু থেকেই সংযোগ সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ করে আসছিলেন তারা।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে প্রকল্পের ঠিকাদারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, তাকে পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন

ধর্ষণের তিন মামলায় গ্রেপ্তার ২

ধর্ষণের তিন মামলায় গ্রেপ্তার ২

প্রতীকী ছবি।

পুলিশ বলছে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় মামলাটি হয় গোপনে গোসলের ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে আরেক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগের। এ ছাড়া জাম খাওয়ানোর কথা বলে ৫ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে।

রংপুর মেট্রোপলিটনের হারাগাছ থানায় রোববার পৃথক তিনটি ধর্ষণের অভিযোগে তিনটি মামলা হয়েছে।

ওই দিনই ২ আসামীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় মামলাটি হয় গোপনে গোসলের ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে আরেক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগের।

এ ছাড়া জাম খাওয়ানোর কথা বলে ৫ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে।

হারাগাছ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) একেএম জাহিদ হোসেন জানান, রোববার সকালে জাম খাওয়ানোর কথা বলে এক শিশুকে ধানক্ষেতে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে সাহেবগঞ্জের আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

পরে শিশুটি বাড়িতে গিয়ে তার মাকে পুরো ঘটনা জানিয়ে দেয়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আমিরুলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

এর আগে শনিবার দুপুরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জের এসএসসি পরীক্ষার্থী সুমন বারি দাসের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী মেয়েটির মা রোববার রাতে হারাগাছ থানায় নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আশিকা সুলতানা জানান, মোবাইল ফোনে ছেলে ও মেয়ের পরিচয় হয়। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

‘৬ জুন কুড়িগ্রামের উলিপুরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মেয়েটির সঙ্গে দেখা হয় সুমন বারি দাসের। এরপর ১২ জুন সুমন মেয়েটির বাড়িতে যায়। এ সময় মেয়েটিকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে সুমন। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে তাকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সুমন বারি দাসকে আটকসহ ভিকটিমকে উদ্ধার করে।’

এছাড়াও নগরীর সিগারেট কোম্পানি এলাকায় এক গৃহবধূ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে মামলা হয়েছে।

রোববার রাতে ওই গৃহবধূ অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম ও তার বাবা আব্দুর রাজ্জাকসহ দুই চাচাকে আসামি করে হারাগাছ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

হারাগাছ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন বলেন, সম্প্রতি ওই গৃহবধূর গোসলের দৃশ্য গোপনে ভিডিওতে ধারণ করেন একই এলাকার আরিফুল ইসলাম। সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে আরিফুল বিভিন্ন সময় তাকে ধর্ষণ করেন এবং ভিডিও মুছে ফেলার কথা বলে গৃহবধূর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকাও আদায় করেন। পরে ওই গৃহবধূ ঘটনাটি পরিবারের লোকজনকে জানালে তারা আরিফুলের পরিবারকে জানায়। স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করার কথা ছিল কিন্তু হয়নি।

পরে ওই গৃহবধূ রোববার রাতে আরিফুলসহ চারজনের বিরুদ্ধে নারী শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নগ্রাফী আইনে মামলা করেছেন।

তিনি বলেন, মামলা পর আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রংপুর মেট্টোপলিটন পুলিশের হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল

করিম জানান, ধর্ষণ ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে রোববার রাতে হারাগাছ থানায়

পৃথক তিনিট মামলা হয়েছে। দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।

রংপুর মেট্রপলিটন আমলী আদালতে (হারাগাছ) সাধারণ নিবন্ধক মুনির হোসেন জানান, এ ঘটনায় দুই আসামীকে আদালতে নেয়া হলে হাকিম শুনানী শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

শেয়ার করুন

শ্বশুরবাড়িতে ‘চারমাস বন্দি’ নারী দুই সন্তানসহ উদ্ধার

শ্বশুরবাড়িতে ‘চারমাস বন্দি’ নারী দুই সন্তানসহ উদ্ধার

এই বাড়িতে ‘চারমাস বন্দি’ থাকার পর ওই নারীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় এক গৃহবধূকে দুই সন্তানসহ চার মাস গৃহবন্দি রাখার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকের বিরুদ্ধে। পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করেছে।

উপজেলার নয়মাইল এলাকা থেকে সোমবার দুপুরে শ্বশুরবাড়ির তৃতীয় তলা থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়।

শাজাহানপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহমান নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ১১ বছর আগে শাহাজানপুরের আড়িয়া ইউনিয়নের নয়মাইল মন্ডলপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে হয়। তাদের দুটি কন্যা শিশু আছে।

ওই নারীর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। এরপর গত চার মাস ওই নারীকে তার বাবার বাড়ির কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেয়া হয়নি।

স্বামী রফিকুল ইসলাম তাকে ওই বাড়ির ৩য় তলায় সন্তানসহ বন্দি করে রাখেন। তাদের ঠিকমতো খাবার দেয়া হতো না। কৌশলে তিনি বাবা-মাকে বিষয়টি জানালে তারা মেয়েকে নিতে এলে দেখা করতে দেয় না শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

এরপর তার বাবা শাজাহানপুর থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ গিয়ে তাকে সন্তানসহ উদ্ধার করে বাবা-মায়ের জিম্মায় দেয়।

এসআই আব্দুর রহমান জানান, তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই নারীর স্বামীসহ শশুর বাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

ওই নারীর স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

শেয়ার করুন

ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল পথচারীর

ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল পথচারীর

পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ একেএম বানিউল আনাম জানান, রোববার সকালে মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন ফণীন্দ্র নাথ। ওই সময় ঢাকাগামী দ্রুতগতির একটি মালবাহী ট্রাক তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়।

বগুড়ার শেরপুরে ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন ফণীন্দ্র নাথ নামে এক পথচারী মারা গেছেন।

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসাপাতলে সোমবার বিকেলে অবস্থায় মারা যান তিনি।

এর আগে উপজেলার শেরুয়া বটতলা বাজার এলাকায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে রোববার সকালে এক দুর্ঘটনায় তিনি আহত হন।

নিহত ফণীন্দ্র নাথ ধুনট উপজেলার বিলকাজলী গ্রামের বাসিন্দা।

শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ একেএম বানিউল আনাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রোববার সকালে মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন ফণীন্দ্র নাথ। ওই সময় ঢাকাগামী দ্রুতগতির একটি মালবাহী ট্রাক তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে গুরুতর আহত হন তিনি।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার বিকেলে মারা যান তিনি।

মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন

জলাবদ্ধতা: ফতুল্লায় পানিবন্দি হাজারো মানুষ

জলাবদ্ধতা: ফতুল্লায় পানিবন্দি হাজারো মানুষ

পৌষারপার এলাকার বাসিন্দা চিকিৎসক মোহাম্মদ দুলাল বলেন, ‘গত তিন বছর ধরে বর্ষা আসার আগে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায় পুরো এলাকা। গত দুই বছর নানাভাবে পানি নিষ্কাশন করা হয়েছে, কিন্তু এ বছর এলাকার মানুষের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে। ঘরের ভেতর পানি, রাস্তা কোমর পর্যন্ত পানি। ঘর থেকে বের হলে সাথে করে একটি অতিরিক্ত পোশাক নিয়ে বের হতে হয়। নৌকায় বা ভ্যানে করে চলাচল করতে হয়।’

জলাবদ্ধতার কারণে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বাড়িঘর ও রাস্তা পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে তিনটি ইউনিয়নের কয়েকটি ওয়ার্ডের হাজারো মানুষ। নৌকায় ও ভ্যানে করে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয় লোকজনদের।

সোমবার সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর উপজেলার ফতুল্লা ইউনিয়নের লালপুর, পৌষার পাড়, এনায়েত নগর ইউনিয়নের উত্তর মাসদাইর ও কুতুবপুর ইউনিয়নের আলীগঞ্জ, নয়ামাটি, চিতাশাল, নুরবাগ ও দক্ষিণ দেলপাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব গ্রামের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় ইট দিয়ে ঘরের আসবাপত্র উঁচু করা হয়েছে। ঘরের ভেতর পানি থাকায় রান্না করতে ভোগান্তিতে পড়েছেন নারীরা। ময়লা ও দূষিত কালো পানি পেরিয়ে চলাচল করছে এলাকবাসী।

পৌষারপার এলাকার বাসিন্দা চিকিৎসক মোহাম্মদ দুলাল বলেন, ‘গত তিন বছর ধরে বর্ষা আসার আগে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায় পুরো এলাকা। গত দুই বছর নানাভাবে পানি নিষ্কাশন করা হয়েছে, কিন্তু এ বছর এলাকার মানুষের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে। ঘরের ভেতর পানি, রাস্তা কোমর পর্যন্ত পানি। ঘর থেকে বের হলে সাথে করে একটি অতিরিক্ত পোশাক নিয়ে বের হতে হয়। নৌকায় বা ভ্যানে করে চলাচল করতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘কালো ও পচা পানিতে এলাকার মানুষের ডায়রিয়া, আমাশয়সহ নানা রোগে ভুগছে। বিশেষ করে অসুস্থরা সবচেয়ে বিপদে পড়ছেন। কারণ তাদের এ পানি পার হয়ে হাসপাতালে যেতে হয়। আমরা অতিষ্ঠ হয়ে গেছি। অনেকে এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।’

লালপুর এলাকার বাসিন্দা মজিবুর রহমান বলেন, ‘এলাকার মানুষ পানিতে মরলেও কারও কিছু যায় আসে না। চেয়ারম্যান, মেম্বারের বাড়িতে তো পানি ওঠে নাই, তাই তারা বোঝে না মানুষের কষ্ট। এলাকার মানুষ চেয়ারম্যানদের কাছে গেলে তারা কয় দেখতাছি, কিন্তু পানি তো যায় না।’

চিতাশাল এলাকার সবজি দোকানি সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘এলাকার অধিকাংশ দোকান বন্ধ। করোনা মহামারির জন্য এমনতেই ব্যবসার অবস্থা খারাপ তার ওপর এই পানি। তাই ইট দিয়ে মাচা করে সবজি রাখছি। আশপাশের মানুষ ময়লা দিয়ে আইসা কিনে নিয়ে যায়। অনেক কষ্টে আছি, কারে কমু এই কষ্ট।‘

ঘরের মধ্যে পানি থাকায় রান্না করতে নানা সমস্যায় ভুগছেন নারীরা। পৌষার পাড় এলাকার আলেয়া বেগম বলেন, ‘ময়লা পানি দিয়ে হাইটা দূর থেইকা ভালা পানি কিন্যা আনতে হয়। তারপর সেই পানি দিয়া রান্না করি। প্রতিবছর এই সময় রাস্তা, বাড়িঘরে পানি উঠে। বাচ্চারা ঘর থেকে বের হতে পারে না। শুনছি দুইটা মোটরের পাম্প দিয়ে পানি সরাইতাছে কিন্তু তারা কী পাম্প লাগাইছে যে এত দিনেও পানি যায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত বছরও এমন হইছে দেড় মাস মানুষ পানির নিচে আছিল। এরপর মোটর দিয়া পানি সরানো হইছে। কিন্তু পানি সরানোর কোনো ব্যবস্থা নেয় না নেতারা। তাদের কাছে গেলে শুধু কয় সব ঠিক কইরা দিব।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পানি নিষ্কাশনের জন্য দুইটি মোটরের পাম্প বসানো হয়েছে কিন্তু তাতেও পানি সরানো সম্ভব হচ্ছে না। তার কারণ এলাকাটা নিচু। পাশের আরও দুইটা ইউনিয়নেও একই সমস্যা। আলাদিনের চেরাগ না পাইলে পানি সরানো সম্ভব না। এলাকার মানুষ অনেক কষ্ট করছে তা তো নিজের চোখেই দেখছি কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে এর চেয়ে বেশি কিছু করার সামর্থ্য নেই। তাই জেলা প্রশাসনের কাছে পাম্প বাড়ানোর আবেদন করেছি। পাম্প বাড়ানো হলে পানি কমে যাবে।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মুস্তাইন বিল্লাহ নিউজবাংলাকে জানান, ‘ফতুল্লার কয়েকটি ওয়ার্ডের মানুষ জলবদ্ধতায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে একটি পাম্প দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে উপজেলা প্রশাসনকে। আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যে পানি নেমে যাবে।’

ডিসি আরও বলেন, ‘এসব এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। এই কমিটিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে দ্রুত পানি নিষ্কাশন করে জলবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের উপায় খুঁজতে, যাতে করে আগামীতে মানুষ পানিবন্দি না হয়।’

শেয়ার করুন

বিজিবির অভিযানে ইয়াবা জব্দ

বিজিবির অভিযানে ইয়াবা জব্দ

বিজিবির কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অভিযানে প্রায় আড়াই লাখ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

ছয়জন ইয়াবা পাচারকারী বিজিবি টহল দলের অবস্থান টের পেয়ে যায়। এ সময় তারা বিজিবির সদস্যদের দিকে গুলি ছুড়তে শুরু করে। বিজিবিও পাল্টা গুলি চালায়। পাচারকারীরা সঙ্গে থাকা ব্যাগ ফেলে দিয়ে মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়। ব্যাগের ভেতর থেকে উদ্ধার ইয়াবার আনুমানিক মূল্য সাত কোটি ২০ লাখ টাকা।

বিজিবির কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অভিযানে প্রায় আড়াই লাখ পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে।

সোমাবার বিজিবির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) রেজুআমতলী বিওপির সদস্যরা জানতে পারেন, কয়েকজন ইয়াবা ব্যবসায়ী বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে।

এ খবরের ভিত্তিতে রেজুআমতলী বিওপির একটি টহল দল কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলাধীন ৪নং রাজাপালং ইউপির গোলডেবার পাহাড় নামক স্থানে কৌশলগত অবস্থান নিয়ে ফাঁদ পেতে থাকে।

সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে ছয়জন ইয়াবা পাচারকারী বিজিবি টহল দলের অবস্থান টের পেয়ে যায়। এ সময় তারা বিজিবির সদস্যদের দিকে গুলি ছুড়তে শুরু করে।

বিজিবিও পাল্টা গুলি চালায়। পাচারকারীরা সঙ্গে থাকা ব্যাগ ফেলে দিয়ে মিয়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়।

ওই ব্যাগ তল্লাশি করে ২ লাখ ৪০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য সাত কোটি ২০ লাখ টাকা।

এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুন

কবরস্থানে গোলাগুলি: বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

কবরস্থানে গোলাগুলি: বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

চট্টগ্রামে কবরস্থানে গোলাগুলির ঘটনার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন। ছবি: নিউজবাংলা

আহমেদ ইলিয়াছ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পুলিশ পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করলেও আসল অভিযুক্তরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে আছেন। অবিলম্বে অবৈধ অস্ত্রগুলো জব্দ করে সন্ত্রাসী ইয়াকুবসহ জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাই।’

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় কবরস্থানে সাইনবোর্ড টাঙানো নিয়ে গোলাগুলির ঘটনায় বিচারের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে একটি পক্ষ।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে এই দাবি জানান তারা।

‘বাকলিয়ার জনসাধারণের’ ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আহমেদ ইলিয়াছ বলেন, ‘৭০ বছরের ঐতিহ্য বড় মৌলভী কবরস্থান ক্রয়সূত্রে আমাদের পারিবারিক কবরস্থান, যা এলাকার জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। তবে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইয়াকুব আলী কবরস্থান নিয়ে চাঁদাবাজি শুরু করেন। কবরস্থানে মরদেহ দাফন করতে হলে তাকে চাঁদা দিতে হচ্ছে। শুধু তাই নয় ইয়াকুব দীর্ঘদিনের পরিচিত মৌলভী করবস্থানটির নাম পরিবর্তনের চেষ্টাও চালাচ্ছে।’

আহমেদ ইলিয়াছ অভিযোগ করেন, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ইয়াকুব আলীর লোকজন হামলার একপর্যায়ে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ চারজনসহ আহত নয় জন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় শনিবার সকাল ১১টার দিকে বাকলিয়া থানায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫০-৬০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এখন পর্যন্ত পুলিশ পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করলেও আসল অভিযুক্তরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে আছেন। অবিলম্বে অবৈধ অস্ত্রগুলো জব্দ করে সন্ত্রাসী ইয়াকুবসহ জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য ইয়াকুব আলীর বাড়িতেও গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তারও প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

এর আগে রোববার সংঘর্ষের মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘শনিবার সকালে মামলার পর অভিযান চালিয়ে ওই পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা ইয়াকুব আলীর লোকজন। তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’

মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন