‘ইয়াস’: ভঙ্গুর বেড়িবাঁধে আতঙ্কে উপকূলবাসী

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ থেকে সাইক্লোনে পরিণত হওয়া ইয়াসের অবস্থান। ছবি: ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর

‘ইয়াস’: ভঙ্গুর বেড়িবাঁধে আতঙ্কে উপকূলবাসী

বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে পরিণত হওয়ার খবর জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর প্রভাবে ২৫ থেকে ২৭ মে দেশের উপকূলসহ ৩০টি জেলায় ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

সাতক্ষীরায় বেড়িবাঁধ রয়েছে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার। ষাটের দশকে নির্মিত এসব বেড়িবাঁধ ২০২০ সালে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২৯টি পয়েন্ট ভেঙে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে জোয়ারের পানি। আম্পানের পরে এগুলো সংস্কার হলেও এখনও ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে ১৯টি পয়েন্ট।

শ্যামনগর উপজেলার সুভদ্রাকাটি গ্রামের আমজাদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের যাতায়াতের একমাত্র পথ বেড়িবাঁধ। যা ভাঙতে ভাঙতে এক হাতের মধ্যে চলে এসেছে। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস আসলি আমাদের বিপদের শেষ থাকে না। না পারি কোথাও যেতে। আবার আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় উঠতি পারি না সেখানে।‘

সাতক্ষীরা জলবায়ু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী জানান, জেলার উপকূলীয় এলাকার সাড়ে তিন লাখ জনগোষ্ঠীকে ঘূর্ণিঝড়ের সময় আশ্রয়কেন্দ্রে আনতে হয়। প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৬০০ থেকে ৭০০ মানুষ থাকতে পারেন। জেলায় আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে মাত্র ১৪৫টি। সেই হিসাবে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার মানুষকে ঠাঁই দেয়া সম্ভব। দীর্ঘদিন এ রকম সংকট থাকলেও সমাধানের উদ্যোগ নেই প্রশাসনের।‘

বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে পরিণত হওয়ার খবর জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর প্রভাবে ২৫ থেকে ২৭ মে দেশের উপকূলসহ ৩০টি জেলায় ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জি এম মাসুদ হোসেন জানান, তার ইউনিয়নের ১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। সেগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। তবে ইউনিয়নে আশ্রয়কেন্দ্রের সংকট রয়েছে। ৪০ হাজার মানুষের জন্য নূন্যতম ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র দরকার।

আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে মাত্র দুটি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর চাপ মোকাবিলায় যা একেবারে নগণ্য।’

এদিকে জেলায় সকালে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে।

‘ইয়াস’: ভঙ্গুর বেড়িবাঁধে আতঙ্কে উপকূলবাসী
সোমবার বেলা আড়াইটায় ইয়াস-এর অবস্থান। ছবি: উইন্ডিডটকম

আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী জানান, সাতক্ষীরায় দুপুরে তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৩৬.৫ সেন্টিগ্রেড। বাতাসের আর্দ্রতা রয়েছে ৫২ শতাংশ। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে এমন ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে ১৪৫টি। আশ্রয়কেন্দ্রে সবাইকে জায়গা দেয়া সম্ভব নয়। এ কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, জেলায় ১৮৩ টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। এটি দিয়ে দুর্যোগের সময় মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেয়া যাবে। এ ছাড়া সহায়তা হিসেবে এসেছে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ২২ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত করা হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের বলেন, ‘সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আশাশুনির কুড়িকাহুনিয়া এলাকায় ৭৪ কোটি টাকার বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। এ ছাড়া জাইকার অর্থায়নে ১৭ কোটি টাকার কাজও চলছে।’

তিনি বলেন, ‘পরিকল্পনা কমিশনের জমা করা ১ হাজার ২৩ কোটি টাকার প্রকল্পটি একনেকের বৈঠকে পাস হলে বেড়িবাঁধ সংকট অনেকাংশে সমাধান হবে।’

পিরোজপুরে প্রস্তুত ৫৫৭ আশ্রয়কেন্দ্র

উপকূলীয় জেলা পিরোজপুরে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৫৫৭ আশ্রয়কেন্দ্র। এর মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র ২৩৫টি এবং বাকি ৩২২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘হতাহতের সংখ্যা শূন্যের কোঠায় রাখতে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের পরে প্রতিটি ইউনিয়নে তাৎক্ষণিক আর্থিক সাহায্য দেয়ার জন্য আড়াই লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে।’

তিনি বলেন, ‘গোখাদ্য ও শিশুখাদ্যের জন্য সরকারি বরাদ্দ রয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় সতর্কবার্তা জারির কার্যক্রমও চলছে। প্রতিটি ইউনিয়নে মেডিক্যাল টিম গঠনেরও প্রস্তুতি চলছে।’

এদিকে রোববার মঠবাড়িয়া উপজেলায় আধুনিক সুবিধাসহ তিনটি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মুজিববর্ষ উপলক্ষে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের গোলবুনিয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, হোগলপাতি নেছারিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র এবং উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নে খায়েরঘটিচোরা হামিদিয়া দাখিল মাদ্রাসা বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

ভোলায় প্রস্তুত ১৩ হাজার স্বেচ্ছাসেবক

ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ মোকাবিলায় ভোলায় মাঠে কাজ করবে ১৩ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে নিরাপদে নেয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৭০৯টি আশ্রয়কেন্দ্র। এগুলোতে আশ্রয় নিতে পারবেন প্রায় ৫ লাখ ৩৬ হাজার মানুষ।

রোববার জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এ তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মো. তৌফিক-ইলাহী চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ৪০টি স্পট ঠিক করা হয়েছে, যেখান থেকে ৩ লাখ ১৮ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেয়া হবে।’

‘ইয়াস’: ভঙ্গুর বেড়িবাঁধে আতঙ্কে উপকূলবাসী
জেলা প্রশাসক জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলায় মোট ৭৬টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে স্যালাইন, ওষুধসহ অন্যান্য ব্যবস্থা। জেলায় একটি ও সব উপজেলায় একটি করে ৭টি কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে। এখান থেকে ঝড়ের সব ধরনের তথ্য পাওয়া যাবে।
দুর্যোগকে কেন্দ্র করে কেউ যদি গুজব ছড়ায়, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

করোনা ঠেকাতে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হবে ধারণক্ষমতার অর্ধেক

ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ মোকাবিলায় খুলনায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১ হাজার ৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র। একই সঙ্গে প্রস্তুত রয়েছে ১১৬টি মেডিকেল টিম।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে আশ্রয়কেন্দ্রের সক্ষমতার অর্ধেক মানুষকে একটি কেন্দ্রে রাখা হবে। তাদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে শুকনা খাবার, অর্থ, চাল-ডাল প্রস্তুত রয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আজিজুল হক জোয়ার্দ্দার বলেন, ‘৯ উপজেলায় ১ হাজার ৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সাইক্লোন শেল্টার, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা রয়েছে, যেখানে পাঁচ লাখ লোকের ধারণক্ষমতা রয়েছে। প্রস্তুত রয়েছে ১১৬টি মেডিকেল টিম। প্রস্তুত রয়েছেন ৫ হাজার ৩২০ জন স্বেচ্ছাসেবক।

ঘূর্ণিঝড়ের খবরে আতঙ্কে রয়েছেন উপকূলীয় উপজেলা কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছার মানুষ। এর আগে আইলা, সিডর, ফণী, বুলবুল ও আম্পানে এই অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

চট্টগ্রামে প্রস্তুত ৫০০ আশ্রয়কেন্দ্র

ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ মোকাবিলায় চট্টগ্রামে প্রস্তুত রয়েছে ৫০০টি আশ্রয়কেন্দ্র। এ ছাড়া পর্যাপ্ত ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী মজুত রয়েছে। পর্যাপ্তসংখ্যক মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের স্টাফ অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক।

তিনি বলেন, ‘ইয়াস নামের ঘূর্ণিঝড়টি ২৫ বা ২৬ মে আঘাত হানতে পারে। এ জন্য ১ নম্বর দূরবর্তী বিপৎসংকেত জারি করা হয়েছে।

তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড়ের সময় গো-খাদ্য কেনার জন্যে প্রতি উপজেলায় এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচার-প্রচারণাসহ মাইকিং করা হচ্ছে।

জোয়ারের পানি বাড়ছে পায়রা নদীতে

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে পটুয়াখালীর পায়রা নদীতে জোয়ারের পানি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হালিম সালেহী।

তি‌নি বলেন, ‘পায়রা নদীর বিপৎসীমা ২ দশ‌মিক ৮১ ‌সে‌ন্টি‌মিটার। কিন্তু রোববার রাত থে‌কে সোমবার দুপুর পর্যন্ত পায়রা নদীর জোয়া‌রের উচ্চতা ছিল ২ দশ‌মিক শূন‌্য ৮‌ সেন্টি‌মিটার। অর্থাৎ জোয়ারের পানি বিপৎসীমার ৭৩ ‌সে‌ন্টি‌মিটার নিচ দি‌য়ে প্রবা‌হিত হচ্ছে।

জোয়ারের চাপ ধীরে ধীরে বাড়ছে বলেও জানান তিনি।

প্রকৌশলী হা‌লিম সা‌হেলী জানান, জেলায় মোট বে‌ড়িবাঁধ র‌য়ে‌ছে ১ হাজার ৩৪১ কিলো‌মিটার। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ১৬ ‌কি‌লো‌মিটার। সম্ভাব‌্য ঝুঁকিতে রয়েছে ৬২ কি‌লো‌মিটার বেড়িবাঁধ, যেগু‌লোর সংস্কারকাজ চলছে।

ঘূর্ণিঝড় ৩৯১‌টি সাই‌ক্লোন শেল্টারসহ ৮০৩টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী জানান, পটুয়াখালী সদ‌রে ১৯টি, দুমকিতে ৪৩, মির্জাগ‌ঞ্জে ২৭, বাউফ‌লে ১৩৫, দশ‌মিনায় ৫৭, গলা‌চিপায় ১০৭, কলাপাড়ায় ১৬০ এবং রাঙ্গাবালী‌তে ৫৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হ‌য়ে‌ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ দ্রুত মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিশেষ নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

‘ইয়াস’: ভঙ্গুর বেড়িবাঁধে আতঙ্কে উপকূলবাসী
ইয়াস মোকাবিলায় প্রস্তুত করা হচ্ছে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের গাবুরার ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রটি। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা আবহাওয়া অ‌ফি‌সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, সোমবার বেলা ৩টা পর্যন্ত পটুয়াখালী‌তে বাতা‌সের আর্দ্রতা ছিল ৭২ শতাংশ। এ ছাড়া তাপমাত্রা ৩৫ দশ‌মিক ৭ ‌ডি‌গ্রি সেল‌সিয়াস। বাতা‌সের গ‌তি‌বেগ ছিল ঘণ্টায় ৪ কি‌লো‌মিটার।

জেলা সি‌ভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম শিপন জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকা‌বিলায় পটুয়াখালী‌তে মোট ৯৩‌টি মে‌ডি‌ক্যাল টিম প্রস্তুত রাখা হ‌য়ে‌ছে। এ ছাড়া প্রতি‌ উপ‌জেলায় প্রয়োজনীয় খাওয়ার স‌্যালাইন, পা‌নি বিশুদ্ধকরণ ট‌্যাব‌লেটসহ অন‌্যান‌্য ওষুধ মজুত রাখা আ‌ছে।

পটুয়াখালী নৌবন্দর কর্মকর্তা মো. ম‌হি উ‌দ্দিন খান জানান, জেলার অভ‌্যন্তরীণ রু‌টে ৬৫ ফু‌টের নিচে সব ধর‌নের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হ‌য়ে‌ছে। ঢাকাগামী দোতলা লঞ্চ চলবে। সে‌ ক্ষে‌ত্রে পরে নি‌র্দেশনা এলে প্রয়োজনীয় ব‌্যবস্থা নেয়া হ‌বে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা রন‌জিৎ কুমার সরকার বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষ‌তি থে‌কে ক্ষ‌তিগ্রস্তদের তাৎক্ষ‌ণিক সহ‌যো‌গিতার জন্য ২ ‌কো‌টি ৩০ লাখ টাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

‘ইয়াস’ আতঙ্কে সুন্দরবনের উপকূলবাসী

সিডর, আইলা, আম্পানের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা বাগেরহাটের শরণখোলা, মোংলা, রামপাল ও মোড়েলগঞ্জ উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার জেলে ও বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন আতঙ্ক এখন ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। প্রবল এই ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানলে উপকূলীয় এলাকার মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে জেলা প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বুধবার ভারতের উড়িষ্যার উপকূল ও বাংলাদেশের সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম করবে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’। ইতিমধ্যে সুন্দরবনের পাশের উপজেলা শরণখোলা, মোংলা, রামপাল ও মোড়েলগঞ্জকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রস্তুত রাখা হয়েছে জেলার ৩৪৪টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র।

বাগেরহাট ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) খাদিজা আক্তার বলেন, ‘জেলার ৭৫টি ইউনিয়নে ২৫ হাজার টাকা ও তিনটি পৌরসভায় ২ লাখ টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রতি উপজেলায় শিশুখাদ্যের জন্য এক লাখ ও গোখাদ্যের জন্য এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া অধিক ঝুঁকিপূর্ণ শরণখোলা, মোড়েলগঞ্জ, মোংলা ও রামপালে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৪৬টি মেডিক্যাল টিম।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস-আতঙ্কে রয়েছেন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন রায়েন্দা ও সাউথখালী ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

ইউনিয়নের উত্তর কদমতলা গ্রামের বাসিন্দা আম্বিয়া বেগম বলেন, ‘প্রতিবছরই মোগো এইহানে ঝড় আয়। মোরা নদীর ধারে থাহি। ঝড় আইলে সাইক্লোন সেন্টারে যাই। এর আগে যে ঝড়-তুফান আইছে, হ্যাতে মোগো গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি ব্যাবাগ কিছু ভাসাইয়া লইয়া গেছে।’

শরণখোলার রাজেসর গ্রামের বাসিন্দা আসলাম শেখ বলেন, ‘সিডরে মোগো বাড়িঘর সবকিছু গেছে। এহন মোরা এই বলেশ্বর নদীর পাড়ে ঘর বানাইয়া থাকি। নতুন কইরা নাহি আবার ঝড় আইতাছে। এই ঝড়ে যদি মোগো ঘর-দুয়ার আবার ভাসাইয়া লইয়া যায়, মোরা কই গিয়া থাকমু।’

শরণখোলা উপজেলা চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন শান্ত বলেন, ‘রোববার রাতে বৃষ্টি ছাড়া এখন পর্যন্ত ঝড়ের তেমন কোনো আলামত দেখা যাচ্ছে না। উপজেলার প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। ঝড়ের আলামত দেখা দিলেই প্রথমে সুন্দরবন উপকূলের জেলে ও বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হবে।’

বরিশাল বিভাগে প্রস্তুত প্রায় ৫ হাজার আশ্রয়কেন্দ্র

ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে বরিশাল বিভাগের ৪ হাজার ৯১৫ আশ্রয়কেন্দ্র। এর মধ্যে রয়েছে সাইক্লোন শেল্টার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আশ্রয় নিতে পারবেন বিভাগের ২০ লাখ মানুষ।

দুর্যোগ মোকাবিলায় সোমবার দুপুরে বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসনের সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় বরিশালে ১০৭১টি আশ্রয়কেন্দ্র, পটুয়াখালীতে ৯২৫, ভোলায় ১১০৪, পিরোজপুরে ৭১২, বরগুনায় ৬২৯ এবং ঝালকাঠিতে ৪৭৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসনগুলো থেকে ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ২০ লাখ মানুষের পাশাপাশি কয়েক লাখ গবাদিপশুকেও স্থান দেয়া যাবে।

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: কৃষি বাঁচাতে পরামর্শ
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: সুন্দরবনে বন্ধ ৮ টহলফাঁড়ি
কখন, কোথায় আঘাত হানতে পারে ইয়াস
ইয়াস দিক বদলালে শুরু হবে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া
ইয়াস আরও শক্তিশালী, ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত

শেয়ার করুন

মন্তব্য

টয়লেটে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ

টয়লেটে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ

রাহিমার স্বজনদের বরাতে ওসি বলেন, ১২ বছর বয়সে রাহিমাকে রওশন আলীর বাসায় কাজে পাঠানো হয়। বছরে দুই বার করে রাহিমা বাড়ি ফিরতেন। তবে গত ছয় মাসে তাকে বাড়িতে আসতে দেননি রওশন আলীর স্ত্রী। প্রায়ই রাহিমাকে তিনি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মারধর করতেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে একটি বাড়ির টয়লেট থেকে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পৌর এলাকার পশ্চিম পাইকপাড়ায় রওশন আলীর বাড়ি থেকে সোমবার রাত পৌনে ১২টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

মৃত গৃহকর্মীর নাম রাহিমা। তার বাড়ি সিলেটে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল ইসলাম এই তথ্যগুলো নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে রাহিমা গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে রাহিমার পরিবার বলছে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

রাহিমার স্বজনদের বরাতে ওসি বলেন, ১২ বছর বয়সে রাহিমাকে রওশন আলীর বাসায় কাজে পাঠানো হয়। বছরে দুই বার করে রাহিমা বাড়ি ফিরতেন। তবে গত ছয় মাসে তাকে বাড়িতে আসতে দেননি রওশন আলীর স্ত্রী। প্রায়ই রাহিমাকে তিনি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মারধর করতেন।

স্বজনদের অভিযোগ, কয়েকদিন আগে রাহিমাকে মারধর করায় তিনি রাগ করে নানুর বাড়িতে চলে আসেন। তার নানুর বাড়ির উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামে। পরে আবার রওশন আলী গিয়ে রাহিমাকে ফিরিয়ে নিয়ে যান। এরপর সোমবার রাতে তারা খবর পান যে রাহিমা আত্মহত্যা করেছে।

ওসি জানান, হত্যা না আত্মহত্যা, তা জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসাপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

টয়লেটে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: কৃষি বাঁচাতে পরামর্শ
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: সুন্দরবনে বন্ধ ৮ টহলফাঁড়ি
কখন, কোথায় আঘাত হানতে পারে ইয়াস
ইয়াস দিক বদলালে শুরু হবে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া
ইয়াস আরও শক্তিশালী, ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত

শেয়ার করুন

রামেকে ১৩ মৃত্যু, রাজশাহীরই ১২

রামেকে ১৩ মৃত্যু, রাজশাহীরই ১২

ফাইল ছবি

রামেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানিয়েছেন, মৃত ১৩ জনের মধ্যে পাঁচজনের করোনা পজেটিভ ছিল। বাকি আটজন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (রামেক) করোনা ইউনিটে একদিনে আরও ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে তিনজন নারী ও ১০ জন পুরুষ।

সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানিয়েছেন, মৃত ১৩ জনের মধ্যে পাঁচজনের করোনা পজেটিভ ছিল। বাকি আটজন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

তিনি আরও জানান, মৃতদের মধ্যে ১২ জনের বাড়িই রাজশাহীতে আর ১ জন নাটোরের। অধিকাংশরই বয়স ৬১ বছরের উপরে।

সোমবারও হাসপাতালটিতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে চলতি মাসে এখন পর্যন্ত এই হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ২২৯ জন। এর মধ্যে শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছেন ১১৭ জন। বাকিরা মারা যান উপসর্গ নিয়ে।

বয়স বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মৃত ১৩ জনের মধ্যে ৯ জনের বয়সই ৬১ বছরের উপরে। এর মধ্যে ৭ জন পুরুষ এবং ২ জন নারী। এ ছাড়া ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে মারা গেছেন ১ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে একজন মারা গেছেন।

এদিকে হাসপাতালের প্রতিবেদনে দেখা যায়, রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে রোগী ভর্তি সামান্য কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ৫৬ জন। আগের ২৪ ঘন্টায় এ সংখ্যা ছিল ৬২ জন। সোমবার সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৬১ জন।

সোমবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ ও রামেক হাসপাতাল ল্যাবে ৪৪৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৫২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: কৃষি বাঁচাতে পরামর্শ
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: সুন্দরবনে বন্ধ ৮ টহলফাঁড়ি
কখন, কোথায় আঘাত হানতে পারে ইয়াস
ইয়াস দিক বদলালে শুরু হবে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া
ইয়াস আরও শক্তিশালী, ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত

শেয়ার করুন

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু

নলুয়াপাড়া এলাকার কাউসার মিয়ার নির্মাণাধীন ভবনে রড উঠানোর সময় রাস্তার পাশে থাকা হাই ভোল্টেজের তারে জড়িয়ে পড়েন রাজু ও ফরহাদ। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা গিয়ে তাদের হাসপাতালে নেয়।

নারায়ণগঞ্জ নগরীর নলুয়াপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের বিদ্যুতের তার জড়িয়ে দুই নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নলুয়া পাড়া এলাকায় সোমবার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত শ্রমিকরা হলেন, মো. রাজু ও ফরহাদ হোসেন। তাদের বাড়ি সুনামগঞ্জে।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার উপপরির্দশক শিবলী কায়েত।

তিনি নিউজবাংলাকে জানান, নলুয়াপাড়া এলাকার কাউসার মিয়ার নির্মাণাধীন ভবনে রড উঠানোর সময় রাস্তার পাশে থাকা হাই ভোল্টেজের তারে জড়িয়ে পড়েন রাজু ও ফরহাদ।

স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে ফোন করলে কর্মীরা গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেয়। সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. আসাদুজ্জামান নিউজবাংলাকে জানান, ওই দুই যুবক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন। হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তারা মারা গেছেন। তাদের মধ্যে একজনের শরীর পুড়ে গেছে।

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: কৃষি বাঁচাতে পরামর্শ
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: সুন্দরবনে বন্ধ ৮ টহলফাঁড়ি
কখন, কোথায় আঘাত হানতে পারে ইয়াস
ইয়াস দিক বদলালে শুরু হবে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া
ইয়াস আরও শক্তিশালী, ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত

শেয়ার করুন

একে একে প্রাণ হারাল বৃষ্টির ৫ নবজাতক

একে একে প্রাণ হারাল বৃষ্টির ৫ নবজাতক

হাসপাতালের চিকিৎসক আব্দুস সালাম তারেক জানান, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বৃষ্টি পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে আসেন। আল্ট্রাসনোগ্রাম করে তার গর্ভে পাঁচ শিশুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে পাঁচ শিশুর জন্ম হয়। এর মধ্যে তিনটি ছেলে ও দুটি মেয়ে।

গাজীপুরের শ্রীপুরে একসঙ্গে জন্ম নেয়ার কিছুক্ষণ পরই মৃত্যু হয়েছে এক মায়ের পাঁচ নবজাতকের।

শ্রীপুর পৌর এলাকার মাওনা চৌরাস্তার মাদার্স কেয়ার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে সোমবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

ওই নবজাতকদের মায়ের নাম বৃষ্টি আক্তার। তার বয়স ২১, বাড়ি কাপাসিয়ার নয়ানগর গ্রামে।

হাসপাতালের চিকিৎসক আব্দুস সালাম তারেক জানান, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বৃষ্টি পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে আসেন। আল্ট্রাসনোগ্রাম করে তার গর্ভে পাঁচ শিশুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে পাঁচ শিশুর জন্ম হয়। এর মধ্যে তিনটি ছেলে ও দুটি মেয়ে।

তিনি আরও বলেন, জন্মের কিছু সময় পরই নবজাতকরা একে একে মারা যায়। মূলত অপরিণত বয়সে জন্ম হওয়ায় তারা বাঁচেনি। বৃষ্টি এখন ওই হাসপাতারে ভর্তি আছেন।

বৃষ্টি নিউজবাংলাকে জানান, রোববার রাত থেকেই তার প্রসবব্যথা শুরু হয়। সোমবার সকালে রক্তক্ষরণও হয়। এরপর তিনি হাসপাতালে যান।

তিনি বলেন, গর্ভধারণের পর প্রাথমিক আল্ট্রাসনোগ্রামে তিনটি শিশুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। সোমবারই তিনি জানতে পারেন, তিনটি নয়, পাঁচটি সন্তান তার গর্ভে।

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: কৃষি বাঁচাতে পরামর্শ
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: সুন্দরবনে বন্ধ ৮ টহলফাঁড়ি
কখন, কোথায় আঘাত হানতে পারে ইয়াস
ইয়াস দিক বদলালে শুরু হবে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া
ইয়াস আরও শক্তিশালী, ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত

শেয়ার করুন

ব‌রিশা‌লের ৫০ ইউপির ৮০ শতাংশ আ.লীগের

ব‌রিশা‌লের ৫০ ইউপির ৮০ শতাংশ আ.লীগের

বরিশালে প্রথম ধাপে ইউপি নির্বাচনে সকাল থেকেই ভিড় ছিল ভোটকেন্দ্রগুলোতে। ছবি: নিউজবাংলা

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সাত ইউনিয়নের ছয়টিতেই আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন। অন্য উপজেলারও বেশ কিছু ইউপিতে বিনা ভোটে জয় পেয়েছেন নৌকার প্রার্থী।

প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ব‌রিশা‌লের ৫০টির মধ্যে ৪১টি‌তে চেয়ারম্যান হয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। অন্য ৯টি ইউপিতে জয় পেয়েছেন জাতীয় পা‌র্টির তিনজন, ইসলামী আ‌ন্দোলন বাংলা‌দে‌শের একজন এবং পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

জেলার ৯টি উপজেলার ৫০টি ইউনিয়নে সোমবার সকাল ৮টায় শুরু হয়ে ভোট চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। গণনা শেষে রাতে ঘোষণা করা হয় বেসরকারি ফল।

বেসরকারি ফলে ইউপি চেয়ারম্যান হলেন যারা-

বরিশাল সদর উপজেলা

কাশিপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের কামাল হোসেন মোল্লা লিটন ৩ হাজার ৯৫৬, জাগুয়া ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হেদায়েত উল্লাহ খান ২ হাজার ৩৯৬, চরবাড়িয়া ইউনিয়নে নৌকার মাহতাব হোসেন সুরুজ ৬ হাজার ৮৯৯ এবং টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী না‌দিরা রহমান চশমা প্রতীকে ৫ হাজার ৫৪ ভোট পে‌য়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

ব‌রিশা‌লের ৫০ ইউপির ৮০ শতাংশ আ.লীগের
বরিশাল জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়

বাবুগঞ্জ উপজেলা

বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল আহসান খান আনারস প্রতীকে ৬ হাজার ৭৩৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান হয়েছেন।

এ ছাড়া কেদারপুর ইউনিয়নে নৌকার নূ‌রে আলম ৬ হাজার ৬৮৮, দেহেরগতিতে আওয়ামী লীগের ম‌শিউর রহমান ৮ হাজার ৩৮৮ এবং মাধবপাশা ইউনিয়নে জাতীয় পা‌র্টির ছি‌দ্দিকুর রহমান লাঙল প্রতীকে ৭ হাজার ২৮২ ভোট পে‌য়ে নির্বাচিত হন।

গৌরনদী উপজেলা

উপজেলার সাত ইউনিয়নের ছয়টিতেই আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন। তারা হলেন খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের নূর আলম সেরনিয়াবাত, বাটাজোরের আব্দুর রব হাওলাদার, বার্থীর আব্দুর রাজ্জাক, মহিলারার সৈকত গুহ পিকলু, চাঁদশীর নজরুল ইসলাম এবং নলচিড়ার গোলাম হাফিজ মৃধা।

আর সরিকল ইউনিয়নে ১৩ হাজার ২৬৭ ভোট পে‌য়ে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফারুক হো‌সেন মোল্লা।

বানারীপাড়া উপজেলা

এই উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ও দুটিতে ভোটে জিতে চেয়ারম্যান হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় লাভ করা প্রার্থীরা হলেন উদয়কাঠি ইউনিয়নের রাহাদ আহম্মেদ ননী, বিশারকান্দির সাইফুল ইসলাম শান্ত, ইলুহারের শহিদুল ইসলাম, বানারীপাড়া সদরের আবদুল জলীল ঘরামী ও সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের সিদ্দিকুর রহমান।

এ ছাড়া চাখার ইউনিয়নে ৮ হাজার ৬৭৫ ভোট পে‌য়ে নৌকার ম‌জিবুল হক টুকু ও বাইশারী ইউনিয়নে ৬ হাজার ২১৪ ভোট পে‌য়ে নৌকার শ‌্যামল চক্রবর্তী নির্বাচিত হয়েছেন।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা

চরাদি ইউনিয়নে ৬ হাজার ২৭৮ ভোট পে‌য়ে নৌকার শ‌ফিকুল ইসলাম, দাড়িয়ালে ৫ হাজার ৪৩২ ভোট পেয়ে নৌকার শহিদুল ইসলাম হাওলাদার, ফরিদপুরে ৪ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়ে নৌকার শ‌ফিকুর রহমান এবং কবাই ইউনিয়নে ৫ হাজার ৩৯ ভোট পেয়ে নৌকার জ‌হিরুল হক তালুকদার চেয়ারম্যান হয়েছেন।

এ ছাড়া নলুয়ায় নৌকার ফি‌রোজ আলম খান ৩ হাজার ৯২৬, কলসকাঠিতে নৌকার ফয়সাল ওয়া‌হিদ মুন্না ৬ হাজার ৩৫৪, গারুড়িয়ায় লাঙল প্রতী‌কের এসএম কাইয়ুম খান ৬ হাজার ৮৬৭, ভরপাশায় নৌকার আশ্রাফুজ্জামান খোকন ৮ হাজার ৯৬৬, রঙ্গশ্রীতে নৌকার ব‌শিরউ‌দ্দিন ৭ হাজার ৯৪৪ এবং পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নে নৌকার জা‌হিদুল হাসান ৯ হাজার ৬৪৯ ভোট পে‌য়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

উপজেলায় দুধল ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম মোর্শেদ।

ব‌রিশা‌লের ৫০ ইউপির ৮০ শতাংশ আ.লীগের

হিজলা উপজেলা

বড়জালিয়া ইউনিয়নে ১২ হাজার ৮৫৪ ভোট পে‌য়ে নৌকার এনা‌য়েত হো‌সেন তালুকদার চেয়ারম্যান হয়েছেন।

এ ছাড়া গুয়াবাড়িয়ায় নৌকার শাহজাহান তালুকদার ৬ হাজার ৩৪৩ ভোট, হরিনাথপুরে ঘোড়া প্রতী‌কে স্বতন্ত্র প্রার্থী তৌ‌ফিকুর রহমান ৫ হাজার ৪৯২ ভোট এবং মেমানিয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী না‌সির উ‌দ্দিন ৪ হাজার ৫৩৫ ভোট পে‌য়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা

মেহেন্দিগঞ্জ সদর ইউনিয়নে আনারস প্রতী‌কে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজাম উ‌দ্দিন। পেয়েছেন ৩ হাজার ১৫৯ ভোট। আর ভাষানচর ইউনিয়নে ৫ হাজার ৮০৭ ভোট পে‌য়ে নির্বাচিত হয়েছেন নৌকার নজরুল ইসলাম চুন্নু।

মুলাদী উপজেলা

এই উপজেলার সদর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুল আহসান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী লাভ করেছেন।

এ ছাড়া নাজিরপুর ইউনিয়নে নৌকার মোস্তা‌ফিজুর রহমান ৮ হাজার ৫৩৩ ভোট, সফিপুরে নৌকার আবু মুসা ১৩ হাজার ৩৪৬, গাছুয়ায় নৌকার জসীম উ‌দ্দিন ৫ হাজার ৭৮৫ ভোট, চরকালেখায় লাঙল প্রতী‌কে মিরাজুল ইসলাম ৪ হাজার ৬২৭ ভোট এবং কাজিরচর ইউনিয়নে ৯ হাজার ৪৬৭ ভোট পে‌য়ে নির্বাচিত হয়েছেন নৌকা প্রতী‌কের মন্টু বিশ্বাস।

উজিরপুর উপজেলা

শোলক ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল হালিম সরদার বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় লাভ করেছেন।

এ ছাড়া সাতলা ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী শাহীন হাওলাদার ১১ হাজার ৮৮৪ ভোট, জল্লায় নৌকা প্রতী‌কের বেবী রানী দাস ১০ হাজার ২২২, ওটরায় নৌকার এম এ খা‌লেক ১২ হাজার ২১৯ এবং বড়াকোঠা ইউনিয়নে নৌকার স‌হিদুল ইসলাম ১৪ হাজার ৮৪ ভোট পে‌য়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

ভোটের এ ফল নিশ্চিত করেছেন বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবদুল মান্নান, বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, গৌরনদীর মিজানুর রহমান তালুকদার, বানারীপাড়ার মো. মনিরুজ্জামান, বাকেরগঞ্জের সাইদুল ইসলাম, হিজলার দেলোয়ার হোসেন, মেহেন্দিগঞ্জের জহিরুল ইসলাম, মুলাদীর শওকত আলী এবং উজিরপুরের উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আলীমদ্দিন।

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: কৃষি বাঁচাতে পরামর্শ
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: সুন্দরবনে বন্ধ ৮ টহলফাঁড়ি
কখন, কোথায় আঘাত হানতে পারে ইয়াস
ইয়াস দিক বদলালে শুরু হবে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া
ইয়াস আরও শক্তিশালী, ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত

শেয়ার করুন

ইয়াবা সেবন করে ফাঁসছেন ইউপি চেয়ারম্যান

ইয়াবা সেবন করে ফাঁসছেন ইউপি চেয়ারম্যান

গত ১৬ ডিসেম্বর আব্দুস ছালাম ইউনিয়ন পরিষদের কক্ষে সহযোগীদের নিয়ে জুয়া ও মাদক সেবনের সংবাদ প্রকাশ হয়। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের দৃষ্টিতে এলে ইউএনওকে তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

ভাইরাল হওয়া ইয়াবা সেবনের ভিডিও-র ফরেনসিক রিপোর্টে প্রমাণ পাওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস ছালামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) যোবায়ের হোসেন।

গত ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশ সিআইডি ঢাকার ফরেনসিক ল্যাবরেটারিতে পাঠানো ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা পেয়েছে মর্মে উল্লেখ করে ইউএনওকে একটি প্রতিবেদন দেয় আইটি ফরেনসিক শাখা সিআইডি।

সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা ইউএনও যোবায়ের হোসেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক বরাবরে ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করে গত ১৫ জুন চিঠি দেন।

এতে বলা হয়, গত ১৬ ডিসেম্বর আব্দুস ছালাম ইউনিয়ন পরিষদের কক্ষে সহযোগীদের নিয়ে জুয়া ও মাদক সেবনের সংবাদ প্রকাশ হয়। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের দৃষ্টিতে এলে ইউএনওকে তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

ইউএনও কয়েক দফায় প্রতিবেদনও দাখিল করেন। কিন্তু তাতে সু-স্পষ্ট মন্তব্য না থাকায় আবার প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয় জেলা প্রশাসন।

এসময় ভাইরাল হওয়া ইয়াবা সেবনের ভিডিওটি কাটছাঁটের অভিযোগ করেন চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম। পরে সেটি যাচাই বাছাই করতে গত ৩ জানুয়ারি সিআইডির ঢাকার ফরেনসিক ল্যাবরেটারিতে পাঠান ইউএনও জোবায়ের।

সেখানে ভিডিওটির সত্যতার প্রমাণ মেলে। ভিডিওটিতে কোনো রকম কাটছাঁট করা হয়নি উল্লেখ করে গত ১ জুন সিআইডি প্রতিবেদন পাঠায়।

এরপর ইউএনও ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করে স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালকের কাছে প্রতিবেদন দেন।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার এর উপ-পরিচালক রামকৃষ্ণ বর্মণ বলেন, ইউএনওর প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে দ্রুতই পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: কৃষি বাঁচাতে পরামর্শ
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: সুন্দরবনে বন্ধ ৮ টহলফাঁড়ি
কখন, কোথায় আঘাত হানতে পারে ইয়াস
ইয়াস দিক বদলালে শুরু হবে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া
ইয়াস আরও শক্তিশালী, ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত

শেয়ার করুন

ঝালকাঠির একটি ছাড়া সব ইউপি আ.লীগের

ঝালকাঠির একটি ছাড়া সব ইউপি আ.লীগের

ঝালকাঠিতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ফল ঘোষণা করছেন নির্বাচন কর্মকর্তা শারমীন আফরোজ। ছবি: নিউজবাংলা

ঝালকাঠিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের তিন চেয়ারম্যান। তারা হলেন ঝালকাঠি সদরের কেওড়া ইউনিয়নের আবু সাইদ খান, নলছিটি উপজেলার নাচনমহলের সিরাজুল ইসলাম সেলিম ও রাজাপুর উপজেলার গালুয়ায় গোলাম কিবরিয়া পারভেজ।

ঝালকাঠি জেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ৩০টিতে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। শুধু একটি ইউপিতে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী।

দেশে প্রথম ধাপে ইউপি নির্বাচনে সোমবার সকাল ৮টা থেকে ভোট শুরু হয়। শেষ হয় বিকেল ৪টায়। ঝালকাঠিতে ভোট গণনা শেষে রাতে ফল ঘোষণা করেন বিভিন্ন উপজেলা নির্বাচনি কর্মকর্তা।

বেসরকারি এ ফলে ৩১টি ইউপির মধ্যে ৩০টিতেই জয় তুলে নেন নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নে শুধু জয় পান স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুর রহীম মিয়া।

নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা হলেন-

ঝালকাঠি সদরের বিনয়কাঠি ইউনিয়নে এ জে এম মঈন উদ্দিন, শেখেরহাটে নুরুল আমিন খান সুরুজ, গাবখান ধানসিঁড়িতে আবুল কালাম মাসুম, গাভারামচন্দ্রপুরে গোলাম মাওলা মাসুম শেরওয়ানী, নবগ্রামে মুজিবুরল হক আকন্দ, নথুল্লাবাদে নজরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, বাসন্ডায় মোবারক হোসেন মল্লিক। আর কীর্ত্তিপাশায় নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুর রহীম মিয়া।

নলছিটি উপজেলার রানাপাশা ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন শাহজাহান হাওলাদার, ভৈরবপাশায় এ কে এম আবদুল হক, দপদপিয়ায় সোহরাব হোসেন বাবুল মৃধা, সুবিদপুরে আবদুল গফফার খান, কুশঙ্গলে আলমগীর হোসেন, সিদ্ধকাঠিতে জেসমিন আক্তার, মগরে এনামুল হক শাহীন, মোল্লারহাটে এ কে এম মাহাবুবুর রহমান, কুলকাঠিতে এইচ এম আখতারুজ্জামান বাচ্চু।

রাজাপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নে নজরুল ইসলাম, সাতুরিয়ায় সৈয়দ মইনুল হায়দার নিপু, বড়ইয়ায় সাহাব উদ্দিন হাওলাদার, মঠবাড়িতে শাহজালাল হাওলাদার, শুক্তাগড়ে বিউটি সিকদার জয় পেয়েছেন।

কাঁঠালিয়া উপজেলায় জয়ী আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যানরা হলেন সদর ইউনিয়নে মাহামুদুল হক নাহিদ, পাটিখালঘাটায় শিশির দাস, চেঁচরীরামপুরে হারুন অর রশিদ, আমুয়ায় আমিরুল ইসলাম সিকদার, শৌলজালিয়ায় মাহমুদ হোসেন রিপন ও আওড়াবুনিয়ায় মিঠু সিকদার।

এ ছাড়া জেলায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের তিন চেয়ারম্যান। তারা হলেন ঝালকাঠি সদরের কেওড়া ইউনিয়নের আবু সাইদ খান, নলছিটি উপজেলার নাচনমহলের সিরাজুল ইসলাম সেলিম ও রাজাপুর উপজেলার গালুয়ায় গোলাম কিবরিয়া পারভেজ।

আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: কৃষি বাঁচাতে পরামর্শ
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: সুন্দরবনে বন্ধ ৮ টহলফাঁড়ি
কখন, কোথায় আঘাত হানতে পারে ইয়াস
ইয়াস দিক বদলালে শুরু হবে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া
ইয়াস আরও শক্তিশালী, ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত

শেয়ার করুন