মাদক নিরাময় কেন্দ্রে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

মাদক নিরাময় কেন্দ্রে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, প্রতিষ্ঠানটির সিসিটিভির ফুটেজ দেখে মাহফুজকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। মারধরের কারণে ছেলেটি মলত্যাগ করে ফেলে। তখন তাকে দিয়েই মল পরিষ্কার করানো হয়।’

যশোরে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তাজুল ইসলাম।

শহরের জেএল রোডের যশোর মাদক নিরাময় কেন্দ্রে শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত মাহফুজুর রহমান চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকার মনিরুজ্জামানের ছেলে।

মনিরুজ্জামান রোববার দুপুরে ১৪ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা হলেন ওই মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের পরিচালক পূর্ব বারান্দীপাড়ার আবুল কাসেমের ছেলে মাসুম করিম, অপর পরিচালক বারান্দীপাড়া বটতলা এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে আশরাফুল কবির, রেজাউল করিম, ওহেদুজ্জামান, ওহিদুল ইসলাম, আল শাহরিয়া, শাহিন, ইসমাইল হোসেন, শরিফুল ইসলাম, সাগর আলী, অহেদুজ্জামান সাগর, নুর ইসলাম, হৃদয় ওরফে ফরহাদ ও আরিফুজ্জামান।

কোতোয়ালি থানার ওসি জানান, প্রতিষ্ঠানটির সিসিটিভির ফুটেজ দেখে মাহফুজকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। মারধরের কারণে ছেলেটি মলত্যাগ করে ফেলে। তখন তাকে দিয়েই মল পরিষ্কার করানো হয়।

তিনি বলেন, পুলিশের কয়েকটি টিম সারা রাত অভিযান চালিয়ে ওই ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।

কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শংকর বিশ্বাস বলেন, সুরতহাল রিপোর্ট করার সময় মৃতের পিঠ, ঘাড় ও পশ্চাৎদেশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

নিহতের বাবা মনিরুজ্জামান বলেন, ‘মাহফুজ মাদক সেবন করত। সে যাতে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে, সে কারণে ২৬ এপ্রিল তাকে যশোরের মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করে দিই। শনিবার বিকেলে খবর পাই, তাকে ওই প্রতিষ্ঠানের লোকজন মারধর করে মেরে ফেলেছে। পরে তার মরদেহ অজ্ঞাত হিসেবে যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেখে তারা চলে গেছে। আমরা যশোরে এসে মাহফুজের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাই।’

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তন্ময় বিশ্বাস বলেন, শনিবার দুপুরে মাদক নিরাময় কেন্দ্র থেকে একটি মৃতদেহ জরুরি বিভাগে আনা হয়। মরদেহ বহনকারী ও নিহত ব্যক্তির নাম-ঠিকানা লিপিবদ্ধ না করে তারা কৌশলে হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

আরও পড়ুন:
কারাবিধি অনুযায়ী বাবুল আকতারকে চিকিৎসার নির্দেশ
‘নির্বাচনকেন্দ্রিক’ বিরোধে কুপিয়ে হত্যা
মধ্যপাড়া গণহত্যা দিবস: ক্ষতিগ্রস্তদের খবর নেয়নি সরকার
‘জামরুল পাড়া’ নিয়ে কুপিয়ে হত্যা
ত্রিশালে ছেলেদের হাতে বাবা খুন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সমর হত্যাকাণ্ডে ইউপিডিএফ কর্মী গ্রেপ্তার: অর্ধদিবস হরতাল

সমর হত্যাকাণ্ডে ইউপিডিএফ কর্মী গ্রেপ্তার: অর্ধদিবস হরতাল

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাঘাইছড়িতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে ঢুকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য সমর বিজয় চাকমাকে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

রূপায়ন চাকমাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বুধবার সকাল ৬ থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অর্ধদিবস হরতালের ডাক দিয়েছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-প্রসিত গ্রুপ)।

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে ঢুকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য সমর বিজয় চাকমাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় রূপায়ন চাকমা নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করেছে বাঘাইছড়ি থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার মাচালং বাজার থেকে রূপায়ন চাকমাকে নিরাপত্তা বাহিনী আটকের পর সন্ধ্যায় বাঘাইছড়ি থানায় হস্তান্তর করেছে বলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে জানিয়েছেন বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন।

আনোয়ার হোসেন আরও জানান, রূপায়ন চাকমা ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-প্রসিত গ্রুপ) সমর্থিত সাজেক ইউনিয়নের পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ’র(পিসিপি) সভাপতি। তিনি সমর বিজয় চাকমার হত্যা মামলার একজন আসামি।

এদিকে রূপায়ন চাকমাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বুধবার সকাল ৬ থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অর্ধদিবস হরতালের ডাক দিয়েছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-প্রসিত গ্রুপ)।

মঙ্গলবার বিকেলে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-প্রসিত গ্রুপ) সাজেক থানা ইউনিটের পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সদস্য কালোবরন চাকমা ও এল্টু চাকমা এই হরতালের ডাক দেন।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে ঢুকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য সমর বিজয় চাকমাকে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পরদিন ইউপি সদস্য বিনয় চাকমা বাঘাইছড়ি থানায় ১০ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৮ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

প্রধান আসামি করা হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) নেতা মনিময় চাকমাকে। ২১ দিনের মাথায় বাঘাইছড়ি চৌমুহনী বাজার থেকে সুমন চাকমা নামে একজনকে আটক করে পুলিশ। মঙ্গলবার আটক করা হলো রূপায়ন চাকমাকে।

আরও পড়ুন:
কারাবিধি অনুযায়ী বাবুল আকতারকে চিকিৎসার নির্দেশ
‘নির্বাচনকেন্দ্রিক’ বিরোধে কুপিয়ে হত্যা
মধ্যপাড়া গণহত্যা দিবস: ক্ষতিগ্রস্তদের খবর নেয়নি সরকার
‘জামরুল পাড়া’ নিয়ে কুপিয়ে হত্যা
ত্রিশালে ছেলেদের হাতে বাবা খুন

শেয়ার করুন

নিখোঁজ ত্ব-হাকে ফলো করা দুই যুবক কে?

নিখোঁজ ত্ব-হাকে ফলো করা দুই যুবক কে?

পরিবারের দাবি, যদি অপরিচিত দুই ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করে থাকে, সেটা যদি তিনি বুঝতে পারেন, তাহলে কেন তিনি সেটা পুলিশকে জানালেন না? এই দুই ব্যক্তি কে? তারা কি তার অনুসারী নাকি তার বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নতা পোষণ করেন? দুই স্ত্রীর পরিবারের মধ্যে কি কোনো অমিল ছিল?

গত বৃহস্পতিবার ( ১০ জুন) সকালে আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান তার মাকে জানিয়েছিলেন, বেশ কদিন ধরে দুই অপরিচিত ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করছে। এ নিয়ে জীবন শঙ্কায় আছেন তিনি। তারা তার ক্ষতি করতে পারে। ঢাকায় গেলে তিনি নিরাপদে থাকবেন।

মঙ্গলবার নিউজবাংলার সঙ্গে কথা বলেন ত্ব-হার মা আজেদা বেগম। তিনি বলেন, ওইদিন বিকেল ৪টার দিকে ত্ব-হা তার তিন অনুসারীসহ ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। শুক্রবার সাভারের একটি মসজিদে বক্তৃতা শেষ করে কিছুদিন ঢাকায় থাকার কথা ছিল তার।

আজেদা বেগম বলেন, ‘ঢাকায় যাবার সময় হঠাৎ আমাকে বুকে জড়িয়ে খুব কান্না করছিল ত্ব-হা। নামাজে সেজদায় পড়ে তার নিরাপত্তা ও নিরাপদে ফিরে আসার জন্য দোয়াও করতে বলেছিল। এরপর ওই রাত থেকেই নিখোঁজ ত্ব-হা।

‘আমার ছেলের একটি মোবাইল ফোন ছিল। সেটি দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ। হঠাৎ শুক্রবার বিকালে সেই ফোন নম্বর থেকে কল আসে। আমার সঙ্গে মেহেদী হাসান পরিচয়ে এক ব্যক্তি কথা বলে। এরপর তারা একটি ইমো আইডি খুলতে বললে আমার মেয়ে সেই আইডি খোলে।’

আজেদা বেগম বলেন, শনিবার আবার সেই ফোন নম্বর থেকে তার কাছে কল আসে। যিনি ফোন করেছেন, তিনি বলেন, তার ছেলে ও তার তিন সঙ্গী ভালো আছে। আজেদা বেগম জানতে চান, ত্ব-হা কোথায় আছে। তিনি ছেলের সঙ্গে কথা বলতে চান।

‘তখন তারা টাকা দাবি করে,’ বলেন আজেদা বেগম। ‘যখন টাকা দাবি করছিল তখন আমরা ইমো আইডিটি বন্ধ করে দেই।’

‘আমার প্রশ্ন, আমার ছেলের বন্ধ নম্বর তারা পেল কী করে? আসলে তারা কারা?’

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান বৃহস্পতিবার রাত ২টা ৩৭ মিনিটে রাজধানীর গাবতলী থেকে সর্বশেষ যোগাযোগ করেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন নাহার সারার সঙ্গে।

গুগল ম্যাপে দেখা গেছে, ত্ব-হার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসা থেকে তার গাড়ির দূরত্ব ছিল ৬ দশমিক ৪ কিলোমিটার দূরে। সেখানে পৌঁছাতে সময় লাগতো ১৮ মিনিট। এর কিছুক্ষণ পর থেকেই তার ফোন বন্ধ, তিনি নিঁখোজ।

আদনানের দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন নাহার সারা মিরপুর আল ইদফান ইসলামী গার্লস মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক। তিন মাস আগে তাদের বিয়ে হয়েছিল।

সাবিকুন নাহার সারা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুরে আমার স্বামী আমাকেও জানিয়েছে যে, দুই মোটরসাইকেল আরোহী তাকে ফলো করছে। খুব চিন্তিত ছিলেন তিনি।’

প্রথম স্ত্রী আবিদা নুরকে নিয়ে তিনি রংপুরের শালবনের চেয়ারম্যানের গলিতে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

আরও পড়ুন:তিন সঙ্গীসহ ধর্মীয় বক্তা নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ

পুলিশ জানিয়েছে, আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনানের সঙ্গে নিখোঁজ অপর তিন ব্যক্তির নাম আব্দুল মুহিত, মোহাম্মদ ফিরোজ ও গাড়িচালক আমির। তারা সবাই তার অনুসারী। ওই রাত থেকে তাদের সবার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।

ত্ব-হার মা আজেদা বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাতে ছেলের নম্বর যখন বন্ধ পাই, তখন থেকেই দুশ্চিন্তা বাড়তে শুরু করে। তাকে দুইজন ফলো করছিল, সেই কথা মনে পড়ে। আমি ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়ি। এরপর যখন কোথাও তার খোঁজ মিলছে না, তখন আমি শুক্রবার রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ জিডি করি।’

তিনি বলেন, ‘আমার সংসারে একমাত্র আয়ের উৎস ত্ব-হা। তার বাবা নেই। সে-ই সংসার চালায়। একমাত্র বোনের পড়াশুনার খরচও সে-ই চালাত।

সে নগরীর সুরভী উদ্যানের বিপরীতে প্রজন্ম নামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। সেটির প্রধান সে। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কুরআন শিক্ষা দেয়া হতো ওই স্কুলে। করোনার কারণে স্কুলটি দেড় বছর ধরে বন্ধ। আমি একজন মা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ছেলের সন্ধান চাই।’

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ত্ব-হার খোঁজ পেতে এরই মধ্যে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) রাজিবুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের চার সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়েছে। তারা মাঠে কাজ করছেন। সীমান্তের থানা ও ব্যক্তিগত সোর্সে তার ছবি দেয়া হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে নজরদারিও।

যে সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ

পরিবারের দাবি, যদি অপরিচিত দুই ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করে থাকে, সেটা যদি তিনি বুঝতে পারেন, তাহলে কেন তিনি সেটা পুলিশকে জানালেন না? এই দুই ব্যক্তি কে? তারা কি তার অনুসারী নাকি তার বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নতা পোষণ করেন? দুই স্ত্রীর পরিবারের মধ্যে কি কোনো অমিল ছিল?

এমনকি তার দেয়া বক্তব্য (ফেসবুক ও ইউটিউব) বিশ্লেষণ করছে পুলিশ।

যেভাবে আলোচিত বক্তা হন ত্ব-হা

আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান রংপুর লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি, রংপুর সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। দর্শন বিষয়ে অনার্স মাস্টার্স পড়েন রংপুর কারমাইকেল কলেজে। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি আহলে হাদিস সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ইসলামী বই প্রচুর পড়তেন। নিজের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউবে ধর্মীয় আলোচনা করতেন। বিভিন্ন মসজিদে নামাজও পড়াতেন তিনি।

তার ধর্মীয় আলোচনার পক্ষে-বিপক্ষে আলাচনা এবং সমালোচনা দুটোই হতো।

নগরীতে মানববন্ধন

‘সচেতন রংপুর’, ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে রংপুর’সহ বিভিন্ন ব্যানারে মঙ্গলবার বিকেলে রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন হয়। অংশগ্রহণকারীরা আগামী ২৪ ঘণ্টায় মধ্যে আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের সন্ধান দাবি করেন। না হলে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেন তারা।

সেখানে বক্তব্য রাখেন ত্ব-হার বন্ধু রাজিব আহমেদ পিয়াল, ফয়সাল আহমেদ (নিখোঁজ চালকের ভাই), আরিফুল আবির, রাকিবুলসহ অনেকে।

যা বলছে পুলিশ

রংপুর মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আলতাব হোসেন জানান, ত্ব-হার নিখোঁজের বিষয়ে থানায় জিডি করা হয়েছে। তার মা থানায় জিডিটি করেন। জিডির বিষয়ে তদন্ত চলছে।

আরও পড়ুন:
কারাবিধি অনুযায়ী বাবুল আকতারকে চিকিৎসার নির্দেশ
‘নির্বাচনকেন্দ্রিক’ বিরোধে কুপিয়ে হত্যা
মধ্যপাড়া গণহত্যা দিবস: ক্ষতিগ্রস্তদের খবর নেয়নি সরকার
‘জামরুল পাড়া’ নিয়ে কুপিয়ে হত্যা
ত্রিশালে ছেলেদের হাতে বাবা খুন

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন শান্ত থেকে কাজ করতে : মির্জা

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন শান্ত থেকে কাজ করতে : মির্জা

আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘একটা ষড়যন্ত্রকারী চক্র বলাবলি করছে আমাকে নাকি দল থেকে বহিষ্কার করেছে। আমাকে বহিষ্কারের বিষয়টা হাস্যকর। আমাকে কেন বহিষ্কার করবে? আমার বিরুদ্ধে এত ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত হওয়ার পরেও আমি শান্ত থেকে সব পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছি।'

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, ‘আজকে সন্ধ্যার একটু আগে বাংলার প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আমাকে মেসেজ দিয়েছেন। বলেছেন, তুমি শান্ত থেকে কাজ করতে থাকো। নিজের শরীরের প্রতি যত্ন নিও। কোম্পানীগঞ্জের সকল সমস্যা অচিরেই সমাধান করা হবে।’

মঙ্গলবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

কাদের মির্জা বলেন, ‘একটা ষড়যন্ত্রকারী চক্র বলাবলি করছে আমাকে নাকি দল থেকে বহিষ্কার করেছে। আমাকে বহিষ্কারের বিষয়টা হাস্যকর। আমাকে কেন বহিষ্কার করবে? আমার বিরুদ্ধে এত ষড়যন্ত্র চক্রান্ত হওয়ার পরেও আমি শান্ত থেকে সব পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছি।'

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কোম্পানীগঞ্জে যে সমস্যা বিরাজ করছে, তা যদি আরও আগে থেকে বিভিন্ন পর্যায় থেকে হস্তক্ষেপ করা হতো, তাহলে এর সমাধান হতো। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এ বিষয়ে যাদের দায়িত্ব ছিল তারা হস্তক্ষেপ করেননি।’

কাদের মির্জা বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে খারাপ মানুষদের বের করে দিলে প্রতিষ্ঠানের কোনো ক্ষতি হয় না। ঠিক তেমনি আওয়ামী লীগের মধ্যে যে সকল অপরাজনীতির হোতারা রয়েছেন, তাদেরকে বের করে দিলে আওয়ামী লীগ দুর্বল হবে না বরং শক্তিশালী হবে।'

আরও পড়ুন:
কারাবিধি অনুযায়ী বাবুল আকতারকে চিকিৎসার নির্দেশ
‘নির্বাচনকেন্দ্রিক’ বিরোধে কুপিয়ে হত্যা
মধ্যপাড়া গণহত্যা দিবস: ক্ষতিগ্রস্তদের খবর নেয়নি সরকার
‘জামরুল পাড়া’ নিয়ে কুপিয়ে হত্যা
ত্রিশালে ছেলেদের হাতে বাবা খুন

শেয়ার করুন

প্রচারণায় নারী প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর ‘হামলা’

প্রচারণায় নারী প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর ‘হামলা’

সংরক্ষিত আসনে মহিলা মেম্বার পদপ্রার্থী আকলিমা বেগম বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে আমার জনপ্রিয়তা ও সমর্থন দেখে সালেহা বেগম আমার বিরুদ্ধে নানানভাবে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে আমি বিপুল ভোটে নির্বাচনে বিজয়ী হবো।’

ভোলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সংরক্ষিত আসনে মহিলা মেম্বার পদপ্রার্থী আকলিমা বেগম প্রচারণায় নামায় ওই প্রার্থী ও তার সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় প্রার্থী ও তার সমর্থকসহ প্রায় ১৩ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে ভোলা শহরের একটি পত্রিকা অফিসে এসে এমন অভিযোগ করেন বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের মহিলা মেম্বার প্রার্থী আকলিমা বেগম।

আকলিমা বেগম অভিযোগ করেন, আগামী ২১ জুন আসন্ন ওই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি তার প্রতীক (বক) নিয়ে প্রচারণায় নামতে চাইলে তার প্রতিপক্ষ প্রার্থী মোসা. ছালেহা বেগম তাকে প্রাণনাশের হুমকী দেন। তাদের ভয়ে প্রচারণা শুরু করতে সাহস পাননি তিনি।

‘মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় ভোটারদের সমর্থনে নির্বাচনী প্রচারণায় নামি। দুপুরের দিকে সাচড়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাবর্চি বাড়ির সামনে আসলে ছালেহা বেগমের ছেলে মো. রুবেল প্রায় ৩০টি মোটরসাইকেল নিয়ে আমাকে প্রচারণা না করে বাড়ি ফিরে যেতে বলে। এসময় আমি প্রতিবাদ করলে রুবেলের নেতৃত্বে তার ক্যাডার বাহিনী আমাকেসহ আমার সমর্থকদের রড, লাঠি ও হকিস্টিক দিয়ে মারধর করেন। পরে স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেন।’

এসময় তিনি আরও বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে আমার জনপ্রিয়তা ও সমর্থন দেখে সালেহা বেগম আমার বিরুদ্ধে নানানভাবে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে আমি বিপুল ভোটে নির্বাচনে বিজয়ী হবো।’

এসময় তিনি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও প্রশাসনের সহযোগিতা দাবি করেন।

এব্যাপারে অভিযুক্ত মোসা. ছালেহা বেগমের ছেলে মো. রুবেল অভিযোগ অস্বীকার করেন বলেন, ‘আমি বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসে চাকরি করি। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অফিসের কাজে ব্যস্ত ছিলাম। আমার মায়ের নির্বাচনের কোন প্রচারণায় আমি যাই না।’

ভোলা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলউদ্দিন আল মামুন বলেন, ‘ওই প্রার্থী উপজেলা বা জেলা নির্বাচন অফিসে লিখিত অভিযোগ করলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিবো।’

আরও পড়ুন:
কারাবিধি অনুযায়ী বাবুল আকতারকে চিকিৎসার নির্দেশ
‘নির্বাচনকেন্দ্রিক’ বিরোধে কুপিয়ে হত্যা
মধ্যপাড়া গণহত্যা দিবস: ক্ষতিগ্রস্তদের খবর নেয়নি সরকার
‘জামরুল পাড়া’ নিয়ে কুপিয়ে হত্যা
ত্রিশালে ছেলেদের হাতে বাবা খুন

শেয়ার করুন

জঙ্গি সন্দেহে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক আটক

জঙ্গি সন্দেহে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক আটক

কাউন্টার টেরোরিজমের উপপরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ হোসেন জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর দক্ষিণ খুলশী এলাকা থেকে সিরিয়াফেরত ‘জঙ্গি’ এবং আনসার আল ইসলামের সদস্য সাখাওয়াত আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শামীমুর রহমানকে আটক করা হয়েছে।

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য সন্দেহে কওমি মাদ্রাসার এক শিক্ষককে আটক করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরেরিজম ইউনিট।

নগরীর ফিরোজ শাহ কলোনির নিজ বাসা থেকে মঙ্গলবার বিকেলে তাকে আটক করা হয়।

আটক মোহাম্মদ শামীমুর রহমান প্রকাশ ফিরোজ শাহ কলোনি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক।

কাউন্টার টেররিজমের উপপরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ হোসেন জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর দক্ষিণ খুলশী এলাকা থেকে সিরিয়াফেরত ‘জঙ্গি’ এবং আনসার আল ইসলামের সদস্য সাখাওয়াত আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে শামীমুর রহমানকে আটক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সাখাওয়াতকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা শামীমকে আটক করেছি। আনসার আল ইসলামের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন শামীম। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’

কাউন্টার টেররিজমের উপকমিশনার হাসান শওকত আলী বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার একটি পদে ছিলেন শামীম। আমরা এমন তথ্য পেয়েছি। তবে আমরা এখনও নিশ্চিত নেই, তিনি হেফাজতের সঙ্গে ছিলেন কি না। তার বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে।’

শুক্রবার রাতে সাখাওয়াতকে গ্রেপ্তারের পর তিনি আনসার আল ইসলামের তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক শাখার কর্মী বলে জানিয়েছিল পুলিশ।

তার বিরুদ্ধে খুলশী থানায় করা মামলায় বলা হয়, ২০১২ সালে ভায়রা ভাই আরিফ মামুনের মাধ্যমে জঙ্গি তৎপরতায় সম্পৃক্ত হন সাখাওয়াত। সংগঠনের নেতা চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াসহ অন্যদের মাধ্যমে জিহাদি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

এরই অংশ হিসেবে ২০১৭ সালে তুরস্কে যান। সেখান থেকে সিরিয়ায় গিয়ে জঙ্গি নেতা হায়াত তাহরির আশরাকের কাছ থেকে ভারী অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নেন। গত মার্চে দেশে ফেরেন তিনি।

আরও পড়ুন:
কারাবিধি অনুযায়ী বাবুল আকতারকে চিকিৎসার নির্দেশ
‘নির্বাচনকেন্দ্রিক’ বিরোধে কুপিয়ে হত্যা
মধ্যপাড়া গণহত্যা দিবস: ক্ষতিগ্রস্তদের খবর নেয়নি সরকার
‘জামরুল পাড়া’ নিয়ে কুপিয়ে হত্যা
ত্রিশালে ছেলেদের হাতে বাবা খুন

শেয়ার করুন

মেহেরপুরের তিন গ্রামে এ কেমন লকডাউন

মেহেরপুরের তিন গ্রামে এ কেমন লকডাউন

মেহেরপুরে লকডাউন করা গ্রামে করোনা রোগীও আড্ডা দিচ্ছে চায়ের দোকানে। ছবি: ‍নিউজবাংলা

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় মেহেরপুরের দুটি উপজেলার তিনটি গ্রামে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে এটি কার্যকর করার কথা থাকলেও কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। সুস্থ মানুষের সঙ্গে করোনা রোগীরাও ঘুরে বেড়াচ্ছেন যত্রতত্র।

করোনা আক্রান্ত, অথচ বাজারে যাচ্ছেন ওষুধ আনতে। আরেকজন চায়ের দোকানে দিচ্ছেন আড্ডা। ঘরে আবদ্ধ থাকার কথা থাকলেও বাড়ির পাশের মাচা বা গাছের নিচে বসে থাকছেন কেউ কেউ।

অনেকে আবার করোনা রোগীকে দেখতে আসছেন ফলমূল নিয়ে। এই হলো মেহেরপুরের তিন গ্রামে ‘কঠোর লকডাউন’-এর চিত্র।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ায় মুজিবনগর উপজেলার আনন্দবাস এবং গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া ও হিন্দা গ্রামে মঙ্গলবার থেকে লকডাউন ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। তবে তিন গ্রাম ঘুরে কোথাও ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জানানো হয়, উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামে ১৮ জন ও হিন্দা গ্রামে ২৩ জন করোনায় আক্রান্ত। গত ১২ জুন ওই এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্প করে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষায় ২৯ জনের মধ্যে ১৬ জনের দেহেই করোনা শনাক্ত হয়। তবে পরদিন থেকে কেউ আর নমুনা দেয়নি।

করোনা সংক্রমণের এমন অবস্থায় সোমবার দুপুরে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি ওই দুই গ্রামসহ মুজিবনগরের আনন্দবাসে লকডাউন ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপনের জারি করে।

বিকেলেই দুই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার পুলিশ নিয়ে লকডাউনের আওতায় থাকা এলাকাগুলোতে লাল পতাকা টাঙিয়ে দেয়। বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয় সড়ক যোগাযোগ।

তবে মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লকডাউন এলাকা ঘুরে দেখা যায়নি স্বাস্থ্যবিধি মানার লক্ষণ। অধিকাংশ মানুষের মুখেই ছিল না মাস্ক। শারীরিক দূরত্ব রক্ষাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাইও ছিল না। এমনকি করোনা পরীক্ষার নমুনা দেয়া লোকজনও ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন যত্রতত্র।

মেহেরপুরের তিন গ্রামে এ কেমন লকডাউন
যাতায়াতে মানা হচ্ছে না শারীরিক দূরত্ব

তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামে ইউপি সদস‍্য কটা আহমেদ নিউজবাংলাকে জানান, তার ওয়ার্ডে করোনা রোগীরাও ঘরে থাকছেন না। বাড়ির পাশে মাচায় বা চায়ের দোকানে বসে থাকছেন। কেউ কেউ গোখাদ্য সংগ্রহের জন্য ক্ষেত-খামারেও যাচ্ছেন। আবার তাদের আত্মীয়রাও অন্য রোগী দেখতে আসার মতো ফলমূল নিয়ে বাড়িতে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এ মুহূর্তে পরীক্ষা করলে গ্রামে শতকরা ৮০ জনের করোনা পজিটিভ হবে।’

তিনি জানান, তার গ্রামে ভারত ও বাংলাদেশের মানুষ একই সঙ্গে এক মাঠে মরিচ তোলার কাজ করছে। তার পাশের গ্রামেও অনেক মানুষ জ্বর, ঠাণ্ডা ও কাশিতে ভুগছে। তবে বাড়ি লকডাউনের ভয়ে কেউ করোনা পরীক্ষা করছে না।

হিন্দা গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, করোনা আক্রান্ত রিপন আলী বাড়িতে নেই। তিনি ওষুধ কিনতে গাংনী বাজারে গেছেন।

রিপনের বাবা ইউনুস আলীর অভিযোগ, স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন তাদের খোঁজখবর নেন না। বাধ্য হয়ে অন্য চিকিৎসক ও ফার্মেসিতে যেতে হচ্ছে।

ঠিকমতো স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় লোকজনও। ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারে মাস্ক ছাড়া অন্য সেবা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের। করোনা রোগীর চিকিৎসায় গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসোলেশন সেন্টার নেই বলেও দাবি করেছেন তারা।

তারা জানান, গত বছর দেশে করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরোনো ভবনে ১০ শয্যার একটি কক্ষ আইসোলেশন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে ভবনটি সংস্কার করার কারণে তিন মাস আগে কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এম কে রেজার দাবি, এলাকার লোকজন যে অভিযোগ করেছে, তা সঠিক নয়। হিন্দা ও তেঁতুলবাড়িয়া এলাকায় করোনা আক্রান্তদের স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য মোবাইল ফোন নম্বরও দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া হাসপাতালের অন্য ভবনে আইসোলেশন ওয়ার্ড চালুর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী খানম জানান, দুটি গ্রামে করোনা আক্রান্তদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। নিয়মিত পরিদর্শন করে খাদ্যসামগ্রী দেয়া হচ্ছে। আক্রান্তদের বাড়ি লকডাউন করে লাল পতাকাও টাঙানো হয়েছে। যারা বুঝতে না পেরে ঘরের বাইরে গেছেন, তাদের বিষয়টি বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

মেহেরপুরের সিভিল সার্জন নাসির উদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, জেলায় এখন করোনা রোগীর সংখ্যা ১৯৭ জন। তাদের মধ‍্যে সদর উপজেলায় ৫০, গাংনী উপজেলায় ৮৯ ও মুজিবনগর উপজেলায় ৫৮ জন রয়েছেন।

আরও পড়ুন:
কারাবিধি অনুযায়ী বাবুল আকতারকে চিকিৎসার নির্দেশ
‘নির্বাচনকেন্দ্রিক’ বিরোধে কুপিয়ে হত্যা
মধ্যপাড়া গণহত্যা দিবস: ক্ষতিগ্রস্তদের খবর নেয়নি সরকার
‘জামরুল পাড়া’ নিয়ে কুপিয়ে হত্যা
ত্রিশালে ছেলেদের হাতে বাবা খুন

শেয়ার করুন

বিশেষ বিধিনিষেধে কুড়িগ্রাম শহর

বিশেষ বিধিনিষেধে কুড়িগ্রাম শহর

কুড়িগ্রাম শহরে যানচলাচল নিয়ন্ত্রণে সড়কে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, গত এক সপ্তাহে কুড়িগ্রাম পৌর এলাকায় ৪৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। করোনা নিয়ন্ত্রণে শহরের তিন ওয়ার্ডে বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে সামাজিক অনুষ্ঠানসহ সব ধরণের গণজমায়েত।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় কুড়িগ্রাম পৌর শহরের তিন ওয়ার্ডে এক সপ্তাহের জন্য বিধিনিষেধ আরোপ করেছে প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের এই বিধিনিষেধ আপাতত তিন ওয়ার্ডের ৩১টি পাড়ায় সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২১ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম সোমবার বিকেলে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পৌরসভার ২, ৩ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বিশেষ বিধিনিষেধ জারি করেন।

জেলা প্রশাসক জানান, গত এক সপ্তাহে কুড়িগ্রাম পৌর এলাকায় ৪৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। করোনা নিয়ন্ত্রণে শহরের তিন ওয়ার্ডে বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে সামাজিক অনুষ্ঠানসহ সব ধরণের গণজমায়েত।

তবে হাটবাজারে খাদ্য দ্রব্য পরিবহণে ব্যবহৃত যানবাহন রাত ১০টার পর থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত সুবিধাজনক সময়ে আনলোড করা যাবে।

ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, বিদ্যুৎ ও সরকারি কাজে নিযুক্ত গাড়ি, ওষুধের দোকান এ আদেশের আওতামুক্ত থাকবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী কুড়িগ্রাম পৌরসভায় সব ধরনের যানবাহন আসন সংখ্যার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করতে পারবে।

বিশেষবিধি নিষেধে এলাকাগুলোতে এরই মধ্যে যানচলাচল নিয়ন্ত্রণে মূল সড়কে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে।

পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা জানান, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি লক ডাউনের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেবে।

বিধিনিষেধে শহরের দাদামোড়, পৌরবাজার, হাসপাতালপাড়া ও জিয়াবাজারের মূল প্রবেশ পথ দিয়ে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে।

আরও পড়ুন:
কারাবিধি অনুযায়ী বাবুল আকতারকে চিকিৎসার নির্দেশ
‘নির্বাচনকেন্দ্রিক’ বিরোধে কুপিয়ে হত্যা
মধ্যপাড়া গণহত্যা দিবস: ক্ষতিগ্রস্তদের খবর নেয়নি সরকার
‘জামরুল পাড়া’ নিয়ে কুপিয়ে হত্যা
ত্রিশালে ছেলেদের হাতে বাবা খুন

শেয়ার করুন