নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় দুই ফিসিং বোট জব্দ

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় দুই ফিসিং বোট জব্দ

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরায় আটক বোট। ছবি: নিউজবাংলা

সদর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন জানান, সাগরে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাগরে মাছ শিকার শেষে বোট দুটি চট্টগ্রাম ও বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের উদ্দেশে যাচ্ছিল। এ সময় মেঘনার তুলাতুলি এলাকায় বিপুল মাছসহ বোট দুটি আটক করা হয়।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাগরে মাছ ধরে ফেরার পথে ভোলায় দুটি ফিসিং বোট জব্দ করেছে মৎস্য বিভাগ।

শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার মেঘনা নদীর তুলাতুলি এলাকা থেকে সামুদ্রিক মাছসহ বোট দুটি জব্দ করা হয়। এর মধ্য একটি বোট চট্টগ্রামের অন্যটি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের।

সদর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন জানান, সাগরে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাগরে মাছ শিকার শেষে বোট দুটি চট্টগ্রাম ও বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের উদ্দেশে যাচ্ছিল। এ সময় মেঘনার তুলাতুলি এলাকায় বিপুল মাছসহ বোট দুটি আটক করা হয়।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় দুই ফিসিং বোট জব্দ

তিনি জানান, বোটে থাকা জেলেরা সাগরে মাছ ধরার কথা শিকার করেছে। ইলিশ, কোড়াল, রূপচাঁদাসহ বিপুল পরিমাণ সামুদ্রিক মাছ জব্দ করা হয়েছে। এগুলো নিলামে বিক্রি করা হবে।

মেরিন আইনে বোটের মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত সমুদ্রে মাছের প্রজনন, উৎপাদন, মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই মৎস্য আহরণের জন্য সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার।

আরও পড়ুন:
১০০ মণ ই‌লিশ জব্দ, নিলামের সমপরিমাণ জরিমানা
‘মোগো ক্যানো অবরোধের মধ্যে হান্দাইলো’
নিষেধাজ্ঞার সময়ে সহায়তা নিশ্চিতের দাবি জেলেদের
বৃহস্পতিবার থেকে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ
‘শত্রুতার’ বিষে আবার নিধন পুকুরের মাছ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পরিত্যক্ত ঘরেই প্রাণ গেল প্রিয় শিক্ষকের

পরিত্যক্ত ঘরেই প্রাণ গেল প্রিয় শিক্ষকের

পরিত্যক্ত ঘরে শিক্ষক জয়নুল আবেদিন। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে বুড়িরবাঁধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওই পরিত্যক্ত ঘরে থাকতেন শিক্ষক জয়নুল। অনেক দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচায় পরিত্যক্ত একটি ঘরেই ১৫ বছরের বেশি কাটিয়ে দেন শিক্ষক জয়নুল আবেদিন। সেই ঘরেই সোমবার ভোরে মারা যান তিনি।

এলাকার প্রিয় এই শিক্ষক ৮৫ বছর বয়সেও ছিলেন অবিবাহিত। ছিল না পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আচকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুব্রত কুমার বর্মণ।

সুব্রত কুমার বর্মণ জানান, চাঁদপুরে জন্ম হলেও জয়নুল মাস্টার পরিবারের সঙ্গে অভিমান করে দিনাজপুরে চলে যান। এরপর ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে পড়া শেষে প্রথমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাইভেট পড়ানো শুরু করেন।

১৯৭৫ সালে উপজেলার খড়িবাড়ী উচ্চবিদ্যালয়ে ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আদর্শ শিক্ষক হিসেবে এলাকায় পরিচিতি পান। তবে কয়েক বছর পর মানসিক সমস্যা দেখা দিলে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে বুড়িরবাঁধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওই পরিত্যক্ত ঘরেই থাকতেন তিনি। অনেক দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। গত ফেব্রুয়ারিতে তাকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।

এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন তাকে বয়স্কভাতার একটি কার্ড করে দেন। একইসঙ্গে একটি ঘর বানিয়ে দেয়ার আশ্বাস দেন। তিনি সে ঘর নিতে রাজি হননি।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, সকালে পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় জয়নুল মাস্টারকে তিনি অনেকবার ডাকেন। সাড়া না পেয়ে ঘরে ঢুকে তাকে মৃত দেখতে পান।

তিনি আরও বলেন, মাস্টারের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউ আসতে রাজি হয়নি। এ জন্য নিজেদের উদ্যোগেই পরিত্যক্ত ওই ঘরের পাশেই তাকে দাফন করা।

আরও পড়ুন:
১০০ মণ ই‌লিশ জব্দ, নিলামের সমপরিমাণ জরিমানা
‘মোগো ক্যানো অবরোধের মধ্যে হান্দাইলো’
নিষেধাজ্ঞার সময়ে সহায়তা নিশ্চিতের দাবি জেলেদের
বৃহস্পতিবার থেকে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ
‘শত্রুতার’ বিষে আবার নিধন পুকুরের মাছ

শেয়ার করুন

ডেঙ্গুর রোগী ময়মনসিংহেও

ডেঙ্গুর রোগী ময়মনসিংহেও

আক্রান্তরা হলেন মহানগরের নওমহল এলাকার খায়রুল বাসার, উপজেলা সদরের পরানগঞ্জের ওহাব আলী, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আইনজীবী আতিকুর রহমান। অপরজন একটি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের কর্মীরা।।

ঢাকায় উদ্বেগ তৈরি করা মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন চারজন।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত চারজন ভর্তি হয়েছেন, যাদের একজন আবার স্থানীয় একটি উপজেলার বাসিন্দা। অন্য তিনজন ঢাকার বাসিন্দা ছিলেন।

আক্রান্তরা হলেন মহানগরের নওমহল এলাকার খায়রুল বাসার, উপজেলা সদরের পরানগঞ্জের ওহাব আলী, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আইনজীবী আতিকুর রহমান। অপরজন একটি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের কর্মীরা।

অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান ভর্তি হন গত ২৭ জুলাই, খায়রুল বাসার আসেন পরদিন আর ওহাব আলী ভর্তি হন গত ৩০ জুলাই। তবে মেডিক্যাল শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তির তারিখ ও তার নাম জানা যায়নি।

হাসপাতালের ডেঙ্গুবিষয়ক ফোকাল পার্সন হরিমোহন পন্ডিত নিউটন জানান, হাসপাতালের তৃতীয়তলার ১৫ নম্বর মেডিসিন ইউনিটে তিনজন ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে একজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে তিনজন ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করতেন।

আরও পড়ুন:
১০০ মণ ই‌লিশ জব্দ, নিলামের সমপরিমাণ জরিমানা
‘মোগো ক্যানো অবরোধের মধ্যে হান্দাইলো’
নিষেধাজ্ঞার সময়ে সহায়তা নিশ্চিতের দাবি জেলেদের
বৃহস্পতিবার থেকে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ
‘শত্রুতার’ বিষে আবার নিধন পুকুরের মাছ

শেয়ার করুন

তাস খেলে আটক উপজেলা চেয়ারম্যান, মুচলেকায় মুক্তি

তাস খেলে আটক উপজেলা চেয়ারম্যান, মুচলেকায় মুক্তি

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ তোতা বলেন, নয়াকান্দি বাজারে বসে তাস খেলছিল রনি মিয়া, পৌরসভার কুশেরচর এলাকার ইদ্রিস আলী ও আলাল মিয়াসহ কয়েকজন। পরে খেলতে শুরু করেন তিনিও। এ সময় তাদের আটক করা হয়। 

মানিকগঞ্জ তাস খেলা অবস্থায় তিন সঙ্গীসহ আটক হওয়ার পর মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ তোতা। তবে আটক ও ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি র‌্যাবের পক্ষ থেকে গোপন করা হয়েছে।

রোববার রাতে পৌর এলাকার নয়াকান্দি বাজারে একটি টংঘর থেকে তাস খেলা অবস্থায় তাদের আটক করা হয়।

তারা হলেন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ তোতা, পার্শ্ববতী বেতিলা-মিতরা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রনি মিয়া, পৌরসভার কুশেরচর এলাকার ইদ্রিস আলী ও আলাল মিয়া।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ তোতা বলেন, নয়াকান্দি বাজারে বসে তাস খেলছিল রনি মিয়া, পৌরসভার কুশেরচর এলাকার ইদ্রিস আলী ও আলাল মিয়াসহ কয়েকজন। পরে খেলতে শুরু করেন তিনিও।

তিনি জানান, সেখান থেকে র‌্যাব সদস্যরা হাতকড়া পরিয়ে তাদের আটক করে। খবর পেয়ে স্থানীয় নয়াকান্দি জামে মসজিদের সভাপতি দেওয়ান আব্দুল মতিন ও নয়াকান্দি বাজার সমিতির পক্ষে দেলোয়ার হোসেন মুচলেকা দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে রাখেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের ভাই ও মানিকগঞ্জ পৌর মেয়র মো. রমজান আলী বলেন, র‌্যাব সদস্যরা তাকে ফোন করে জানালে ঘটনাস্থলে যান তিনি। পরে র‌্যাবের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের ছাড়ানো হয়।

র‌্যাব-৪-এর মানিকগঞ্জ অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরিফ জানান, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাস খেলা অবস্থায় তাদের আটক করে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়। পরিচয় পাওয়ার তাদের হ্যান্ডকাফ খুলে দেয়া হয়। তিনি যে জনপ্রতিনিধি তা জানা ছিল না।’

আরও পড়ুন:
১০০ মণ ই‌লিশ জব্দ, নিলামের সমপরিমাণ জরিমানা
‘মোগো ক্যানো অবরোধের মধ্যে হান্দাইলো’
নিষেধাজ্ঞার সময়ে সহায়তা নিশ্চিতের দাবি জেলেদের
বৃহস্পতিবার থেকে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ
‘শত্রুতার’ বিষে আবার নিধন পুকুরের মাছ

শেয়ার করুন

ছোট ভাইকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

ছোট ভাইকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

মধুখালীতে খুন হওয়া সাদ্দামের স্বজনদের আহাজারি। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলতাফ শেখের ৬ ছেলে। ২২ জুলাই মারা যান আলতাফ শেখ। শুক্রবার তার মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল হওয়ার কথা। রোববার আলতাফ শেখের চতুর্থ সন্তান আনিছ শেখ ছোট ভাই সাদ্দামকে পিটিয়ে হত্যা করেন।

ফরিদপুরের মধুখালীতে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে ছোট ভাইকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার রাত ৮টার দিকে উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের দাড়ির পাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবকের নাম সাদ্দাম শেখ। গ্রামের মৃত আলতাফ শেখের পঞ্চম সন্তান তিনি। গ্রামেই কৃষি কাজ করতেন। ছয় মাস আগে বিয়ে করেন সাদ্দাম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলতাফ শেখের ৬ ছেলে। ২২ জুলাই মারা যান আলতাফ শেখ। শুক্রবার তার মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল হওয়ার কথা। রোববার আলতাফ শেখের চতুর্থ সন্তান আনিছ শেখ ছোট ভাই সাদ্দামকে পিটিয়ে হত্যা করেন।

তবে পরিবারের সদস্যদের দাবি, আনিছ মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ছিলেন। দীর্ঘদিন তার চিকিৎসা চলছে।

সাদ্দামের বড় ভাই আওয়াল শেখ জানান, আনিছ দীর্ঘদিন ধরেই মানসিকভাবে অসুস্থ।

রোববার রাতে হঠাৎ করেই সে পাগলামি শুরু করে। এসময় তাকে থামাতে গেলে আনিছ বাঁশের মোথা দিয়ে সাদ্দামকে পিটিয়ে আহত করে। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাদ্দামের স্ত্রী মদিনা বেগম বলেন, বিয়ের মাত্র ছয় মাস হয়েছিল। এর মধ্যেই স্বামীকে হারাতে হলো।

জাহাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইসহাক আলী মোল্যা বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় বড় ভাই ছোট ভাইকে হত্যা করেছে। ঘটনাটি হৃদয়বিদারক।

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, রাতেই আনিছকে আটক করা হয়েছে। তবে সে মানসিক ভারসাম্যহীন। সাদ্দামের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আরও পড়ুন:
১০০ মণ ই‌লিশ জব্দ, নিলামের সমপরিমাণ জরিমানা
‘মোগো ক্যানো অবরোধের মধ্যে হান্দাইলো’
নিষেধাজ্ঞার সময়ে সহায়তা নিশ্চিতের দাবি জেলেদের
বৃহস্পতিবার থেকে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ
‘শত্রুতার’ বিষে আবার নিধন পুকুরের মাছ

শেয়ার করুন

‘পিটিয়ে হত্যার’ পর মরদেহের মুখে বিষ

‘পিটিয়ে হত্যার’ পর মরদেহের মুখে বিষ

বাচ্চাকে নিয়ে বাগবিতণ্ডা হলে স্বামী শফিকুল ইসলাম লাঠি দিয়ে মর্জিনাকে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ বাড়িতে ফেরত নিয়ে এসে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে ঘরের সব আসবাবপত্র নিয়ে পালিয়ে যান স্বামী শফিকুল ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা করে মরদেহের মুখে বিষ ঢেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে।

রোববার গভীর রাতে উপজেলার গোড়ল ইউনিয়নের দুলালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগে জানা গেছে।

সোমবার সকালে উপজেলার গোড়ল ইউনিয়নের দুলালী গ্রাম থেকে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় শ্বশুর আজিজারকে আটক করে আনা হয়।

সদর উপজেলার হারাটি ইউনিয়নের বালাটারী গ্রামের মজিবর রহমানের মেয়ে মর্জিনা বেগমের সঙ্গে পাঁচ বছর আগে বিয়ে হয় শফিকুল ইসলামের। তাদের সংসারে কিরণবালা নামের এক মেয়ের জন্ম হয়।

রোববার বিকেলে কিরণ বালা বাড়ির উঠানে মলত্যাগ করে। কিন্তু তা পরিষ্কার করতে দেরি হওয়ায় মর্জিনাকে গালমন্দ করেন শাশুড়ি ও দেবর। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয় তাদের মধ্যে।

সন্ধ্যায় আবারও তাদের মধ্যে বাচ্চাকে নিয়ে বাগবিতণ্ডা হলে স্বামী শফিকুল ইসলাম মর্জিনাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

পরে মরদেহ বাড়িতে ফেরত নিয়ে এসে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে ঘরের সব আসবাবপত্র নিয়ে পালিয়ে যান স্বামী শফিকুল ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানায় মেয়েকে হত্যার অভিযোগ দেন মর্জিনার বাবা মজিবর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েকে তুচ্ছ ঘটনায় পিটিয়ে হত্যা করে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে আত্মহত্যার কথা বলে বাড়ির সবাই পালিয়ে যায়।’

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরজু মো. সাজ্জাদ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। মর্জিনার শ্বশুরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
১০০ মণ ই‌লিশ জব্দ, নিলামের সমপরিমাণ জরিমানা
‘মোগো ক্যানো অবরোধের মধ্যে হান্দাইলো’
নিষেধাজ্ঞার সময়ে সহায়তা নিশ্চিতের দাবি জেলেদের
বৃহস্পতিবার থেকে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ
‘শত্রুতার’ বিষে আবার নিধন পুকুরের মাছ

শেয়ার করুন

একের পর এক যৌন নিপীড়নের অভিযোগ একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে

একের পর এক যৌন নিপীড়নের অভিযোগ একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে

লালমনিরহাটে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এলাকার অনেক নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। এক গৃহবধূ থানায় মামলা করার পরেও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় পরিবারটি এসপির কাছে গিয়ে আবেদন করেছে। সেখানে কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে। এসপি বলেছেন, তিনি বিষয়টি দেখছেন।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নে রথিপুর কুঠির পাড় এলাকায় গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একজনের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিলেও সুবিচার না পেয়ে সোমাবার দুপুরে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানার কাছে অভিযোগ দেয় ভুক্তভোগীর পরিবার।

পরে স্থানীয় শেখ রাসেল স্মৃতিসৌধ পাদদেশে বিচার চেয়ে ঘণ্টাব্যাপী মৌন সমাবেশ করে ভূক্তভোগী ও তার পরিবার।

অভিযোগে জানা যায়, সদর উপজেলার রতিপুর গ্রামের সুমন্ত চন্দ্র বর্মন এই কাজ করেছেন। তিনি এর আগেও এলাকায় যৌন হয়রানি করেছেন।

পরিবারটি জানায়, গত ২২ জুন মাসির শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য নিজ বাড়ি থেকে তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন সেই গৃহবধূ। বিকেলে তিনি ঘরে অবস্থান করার সময় সুমন্ত চন্দ্র রায় পেছন থেকে জাপটে ধরেন তাকে।

সেই গৃহবধূ সে সময় চিৎকার করলে তার শাশুড়ি ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে সুমন্ত চন্দ্র পালিয়ে যান।

ভুক্তভোগী পরিবার প্রথমে মুখ খুলতে রাজি না হলেও পরে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। সুমন্ত আপোষ মীমাংসার চেষ্টা করেন।

পরে গত ১৩ জুলাই বুধবার লালমনিরহাট সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেয় গৃহবধূর পরিবার। আর ১৮ জুলাই সদর থানা রেকর্ড করে।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ বলেন, ‘এতদিন সম্মানের ভয়ে চুপ ছিলাম, তবে আর না। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

কর্মসূচিতে উপস্থিত স্থানীয় এক নারী বলেন, ‘সুমন্ত আমার স্বামীর পরিচিত ও ভাসুর হওয়ায় আমার বাড়িতে যাওয়া আসা করত। আমি গোসল করছিলাম, সে সময় সুমন্ত এসে আমার গোসল করা দেখে এবং কুনজরে তাকিয়ে থাকে। এই সুমন্ত প্রায় প্রতিদিন একটা না একটা বাড়িতে ঢুকে আর মহিলাদের মধ্যে যাকে পায় তার উপরই যৌন নির্যাতন করি বেড়ায়।’

আরেক নারী বলেন, ‘সুমন্ত একদিন আমার ঘরে হঠাৎ প্রবেশ করে। ঐ সময় বাড়িতে শাশুড়ি ছাড়া আর কেউ ছিল না। আমি ঘরের বাহিরে ছিলাম হঠাৎ ঘরে ঢুকে দেখি সুমন্ত বসে আছে। পরে আমাকে জাপটে ধরার চেষ্টা করলে ভয়ে আমি সেখান থেকে সটকে পড়ি।’

তিনি বলেন, ‘টাকা থাকায় এলাকার মেম্বার চেয়ারম্যানরা তার বিচার করে না। পুরো এলাকার মহিলাদের খালি শারীরিক নির্যাতনই করে চলছে।’

আরেক নারী বলেন, ‘উয়ার টাকা ম্যালা সবায় খালি ওর টাকায় খায় কিন্তু বিচার হয় না। হামরা বিচার চাই সুমন্তের।’

একই এলাকার বৃদ্ধ মনোরঞ্জন বলেন, ‘থানাত মামলা হইছে পুলিশও যায় না। তারে জন্য হামরা আজ সোমবার এসপির কাছত আচ্চি।’

একই এলাকার আরও এক বৃদ্ধ সুবল চন্দ্র বলেন, ‘ওমার (তার) টাকা পয়সা আছে। ওমার কাও বিচার করে না। এলাকাবাসীক বিচার দিছি, তার কিছু হলো না। শেষ পর্যন্ত থানাত বিচার দিলাম থানাও এখন পর্যন্ত গেল না।’

আরেক এলাকাবাসী বিষ্ণু পদো বলেন, ‘আমরা গরিব হতে পারি। এজন্য কি আমরা কোন ফল পাব না? এলাকায় যখন বিচার হলো না, তাই আমরা থানায় মামলা দিছি, কিন্তু কোনো বিচার পাইলাম না। দেখি যে দেশে বিচার নাই।

‘আবার বাদীর এর মধ্যে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এ জন্য আজ এসপি স্যারের কাছে আসনো দেখি ওনি কী করেন, বিচার আছে কি না।’

এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহা আলম বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি, মামলা রেকর্ডও করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা বলেন, ‘আমি বিষয়টি এতদিন শুনিনি। তবে আজ ভুক্তভোগীর পরিবার মামলার কপি আমাকে দিয়েছে। এ রকম একের পর এক যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে অথচ বিচার পাবে না, এটি হতে পারে না। আমি বিয়ষটি দেখছি।’

আরও পড়ুন:
১০০ মণ ই‌লিশ জব্দ, নিলামের সমপরিমাণ জরিমানা
‘মোগো ক্যানো অবরোধের মধ্যে হান্দাইলো’
নিষেধাজ্ঞার সময়ে সহায়তা নিশ্চিতের দাবি জেলেদের
বৃহস্পতিবার থেকে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ
‘শত্রুতার’ বিষে আবার নিধন পুকুরের মাছ

শেয়ার করুন

নবজাতক রেখে মা-বাবা উধাও, দত্তক নিতে ভিড়

নবজাতক রেখে মা-বাবা উধাও, দত্তক নিতে ভিড়

বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জন্মের পর এক নবজাতককে ফেলে চলে গেছেন তাদের বাবা মা। ছবি: নিউজবাংলা

হাসপাতালের রেজিস্ট্রার খাতায় নবজাতকের মায়ের নাম অর্চনা বড়ুয়া ও বাবার নাম সুবোধ বড়ুয়া বলে লিপিবদ্ধ করা হয়। তাদের ঠিকানা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের জলদী লেখা আছে। তবে সেই এলাকায় গিয়ে এই নামে কাউকে পাওয়া যায় না।

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জন্মের পর এক মেয়ে নবজাতককে ফেলে রেখে চলে গেছেন তাদের বাবা মা। হাসপাতালে তারা যে নাম ও ঠিকানা লিপিবদ্ধ করেছেন, এলাকায় গিয়ে তার সত্যতা পাওয়া যায়নি।

বাবা-মা ছেড়ে গেলেও শিশুটিকে আপন করে নিতে হাসপাতালে এসে ধরনা দিচ্ছেন নিঃসন্তান দম্পতিরা। তবে আদালতের আদেশ ছাড়া কাউকে শিশুটি দেয়া যাবে না বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শিশুটি পুরোপুরি সুস্থ আছে। তাকে দেখভাল করছেন নার্স ও চিকিৎসকরা।

রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে বিষয়টি সোমবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের রেজিস্ট্রার খাতায় নবজাতকের মায়ের নাম অর্চনা বড়ুয়া ও বাবার নাম সুবোধ বড়ুয়া বলে লিপিবদ্ধ করা হয়। তাদের ঠিকানা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের জলদী লেখা আছে।

বাঁশখালী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তপন বড়ুয়া বলেন, ‘ওই নবজাতকের পিতা-মাতার সঠিক সন্ধানে পুলিশ ও পৌরসভার লোকজন অনেক অনুসন্ধান চালিয়েছে। অর্চনা বড়ুয়া নামে আমার ওয়ার্ডের উত্তর জলদী বড়ুয়া পাড়া এলাকায় কাউকে পাওয়া যায়নি।’

বাবা-মা পরিত্যাগ করলেও শিশুটিকে আপন করে নেয়ার মানুষের অভাব নেই। নিঃসন্তান বেশ কয়েকজন দম্পতি ওই নবজাতককে দত্তক নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

সকাল থেকেই বাচ্চাটি নেয়ার জন্য অনেকে ভিড় জমায় হাসপাতালে।

বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিউর রহমান মজুমদার বলেন, ‘রোববার রাত ৮টার দিকে হাসপাতালে নবজাতকের জন্ম হয়। এরপর তার বাবা-মা নবজাতককে রেখে চলে যান। বর্তমানে ওই নবজাতক হাসপাতালের হেফাজতে রয়েছে। সুস্থ আছে।’

বাচ্চাটিকে নিয়ে কী করা হবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া দত্তক দেয়া যায় না। আমরা শিশুটিকে তার মা-বাবার কাছে ফেরত দেয়ার চেষ্টা করছি।’

কোনো শিশুকে দত্তক নিতে হলে আদালতে আবেদন করতে হয়। আর স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেন বিচারক।

আরও পড়ুন:
১০০ মণ ই‌লিশ জব্দ, নিলামের সমপরিমাণ জরিমানা
‘মোগো ক্যানো অবরোধের মধ্যে হান্দাইলো’
নিষেধাজ্ঞার সময়ে সহায়তা নিশ্চিতের দাবি জেলেদের
বৃহস্পতিবার থেকে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ
‘শত্রুতার’ বিষে আবার নিধন পুকুরের মাছ

শেয়ার করুন