ট্রাকের চাকা বিস্ফোরণে ঝরল যুবকের প্রাণ

চাকা বিস্ফোরণে যুবকের মৃত্যু

নওগাঁর পত্নীতলায় ট্রাকের চাকা বিস্ফোরণে এক যুবক মারা গেছেন। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ জানায়, দুপুরে ওয়ার্কশপে ট্রাকের চাকায় হাওয়া দিচ্ছিলেন জয়। এ সময় হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে তিনি ওপরের দিকে ছিটকে পড়েন। এতে মাথায় মারাত্মক জখম হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান জয়।

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় ট্রাকের চাকায় হাওয়া দিতে গিয়ে বিস্ফোরণে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

পত্নীতলা রোডের হোসেন মর্টরস ওয়ার্কশপে শনিবার দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জয় চন্দ্র মণ্ডল উপজেলার বহবলপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই ওয়ার্কশপের কর্মচারী ছিলেন।

পুলিশ জানায়, দুপুরে ওয়ার্কশপে ট্রাকের চাকায় হাওয়া দিচ্ছিলেন জয়। এ সময় হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে তিনি ওপরের দিকে ছিটকে পড়েন। এতে মাথায় মারাত্মক জখম হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান জয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আবজাল হোসেন জানান, জয় অনেক দিন ধরে এই দোকানে কাজ করেন। বিস্ফোরণে আহত হলে তাকে পত্নীতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার আগেই মৃত্যু হয়।

পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম শাহ্ নিউজবাংলাকে জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ শনিবার বিকেল ৪টার দিকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে গৃহবধূ নিহত
ফতুল্লায় ভবনে বিস্ফোরণ: স্ত্রীর পর চলে গেলেন স্বামী
ফতুল্লায় ভবনে বিস্ফোরণ, আহত একজনের মৃত্যু
ফতুল্লায় ভবনের বিস্ফোরণ তদন্তে তিতাসের কমিটি
ফতুল্লায় বিস্ফোরণ রান্নাঘরের লিক হওয়া গ্যাস থেকে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ম্যাজিস্ট্রেট কি কম্পিউটার পোড়ানোর ক্ষমতা রাখেন?

ম্যাজিস্ট্রেট কি কম্পিউটার পোড়ানোর ক্ষমতা রাখেন?

ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনে ‘প্রয়োজনে জব্দকৃত বস্তু বিলিবন্দেজ (disposal)’ করার ক্ষমতা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের রয়েছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ডিজপোজালের অর্থ জব্দ করা বস্তু তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করে দেয়া নয়। রেজওয়ানের কম্পিউটারের পর্নোগ্রাফি ধ্বংসের আইনি এখতিয়ার রাখেন ম্যাজিস্ট্রেট, এর পরিবর্তে তিনি কম্পিউটার পুড়িয়ে দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।  

সাতক্ষীরায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় এক দোকানিকে জরিমানা করার পাশাপাশি জনসমক্ষে তার কম্পিউটার পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা নিয়ে চলছে আলোচনা।

শাটডাউনের মধ্যে রোববার বিকেলের এ ঘটনা ছড়িয়েছে ফেসবুকে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জব্দ করা মালামাল এভাবে পুড়িয়ে দিতে পারেন কি না, এমন প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তবে ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামানের দাবি, আইনের মধ্যে থেকেই তিনি কম্পিউটার পুড়িয়েছেন। আগামীতেও এ ধরনের অভিযান চলবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আবাদেরহাট এলাকায় টেলিকম ব্যবসায়ী রেজওয়ান সরদারের দোকানে রোববার অভিযান চালায় উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রেজওয়ান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিকেল ৪টার দিকে আমার বাড়িতে বিদ্যুতের সমস্যার কারণে দোকানে সরঞ্জাম নিতে আসি। এ সময় দোকান খোলা দেখে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান আসেন। তিনি আমাকে এক হাজার টাকা জরিমানা করেন। এরপর আমার একমাত্র আয়ের উৎস দোকানে থাকা কম্পিউটারটি জব্দ করে জনসমক্ষে পুড়িয়ে দেন।’

তিনি বলেন, ‘এই কম্পিউটারের ওপর চলত আমার ছয় সদস্যের সংসার। দাদি, বাবা-মা, স্ত্রী নিয়ে আমার সেই সংসার এখন প্রায় অচল। লকডাউনে এমনিতেই খুব খারাপ অবস্থা, তার ওপর ব্যবসায়ার কম্পিউটার পুড়িয়ে দেয়ায় আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি।’

ম্যাজিস্ট্রেট কি কম্পিউটার পোড়ানোর ক্ষমতা রাখেন?
ব্যবসায়ী রেজওয়ানের পুড়িয়ে দেয়া কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ

অভিযানের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, রেজওয়ানের দোকানের কম্পিউটারে পর্নোগ্রাফি ছিল। এ জন্য সেটি জব্দ করে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ২৯২ ধারা অনুযায়ী পুড়িয়ে ফেলা হয়।

অশ্লীল পুস্তকাদি বিক্রয়কেন্দ্রিক অপরাধ ও এ-সংক্রান্ত ক্ষেত্রে অপরাধের শাস্তির বিষয়টি ফৌজদারি দণ্ডবিধির ২৯২ ধারায় উল্লেখ রয়েছে। তবে ওই ধারা অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি তিন মাসের কারাদণ্ড অথবা জরিমানা বা উভয় দণ্ড। দণ্ডবিধির এই ধারায় জব্দ করা আলামত ধ্বংসের কোনো বিধান নেই।

বিষয়টি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামানকে জানানোর পর মঙ্গলবার তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসির ১২ ধারা অনুসারে তিনি কম্পিউটারটি পোড়ানোর আদেশ দিয়েছিলেন।

মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ অনুসারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময়ে পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা প্রদানের বাধ্যবাধকতার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে ১২ ধারায়।

১২ (২) ধারায় বলা হয়েছে, ‘মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে, উক্ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বা ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট এর সংশ্লিষ্ট অপরাধ সংশ্লেষে তল্লাশি (search), জব্দ (seizure) এবং প্রয়োজনে জব্দকৃত বস্তু বিলিবন্দেজ (disposal) করিবার ক্ষমতা থাকিবে।’

আইন বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন

ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনে ‘প্রয়োজনে জব্দকৃত বস্তু বিলিবন্দেজ (disposal)’ করার ক্ষমতা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের রয়েছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ডিজপোজালের অর্থ জব্দ করা বস্তু তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করে দেয়া নয়। রেজওয়ানের কম্পিউটারে পর্নোগ্রাফি থাকলে সেগুলো ধ্বংসের আইনি এখতিয়ার রাখেন ম্যাজিস্ট্রেট, এর পরিবর্তে কম্পিউটার পুড়িয়ে দিয়ে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।

ম্যাজিস্ট্রেট কি কম্পিউটার পোড়ানোর ক্ষমতা রাখেন?

আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি নিজামুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি মনে করি কম্পিউটার পোড়ানো ঠিক হয়নি। মোবাইল কোর্ট এমনভাবে একটা জিনিস পুড়িয়ে দেবে বা ধ্বংস করে দেবে তা গ্রহণ করা যায় না।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভিডিও যেখানে পাওয়া গেল, সেটা তো ধ্বংস করা যাবে না। কেউ ক্যামেরায় ছবি তুললে ক্যামেরা তো ভেঙে ফেলা যাবে না, বরং ক্যামেরার ছবিগুলো ধ্বংস করা যাবে। যে ম্যাটেরিয়ালটা সাবজেক্ট ম্যাটার, সেটার বাইরে কেন যাবেন। এটা তার (ম্যাজিস্ট্রেট) এখতিয়ার নাই।’

এ অবস্থায় আইনি প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ আছে কি না, জানতে চাইলে জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘যার কম্পিউটার পুড়িয়েছে, তিনি সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে দেওয়ানি মামলা করতে পারবেন।’

‘এ ক্ষেত্রে পদ্ধতি হলো, মোবাইল কোর্টে মামলাটি যখন নিষ্পত্তি হয়ে যাবে, সেটা তো আর লংটার্ম না, সামারি প্রসিডিং। তার কম্পিউটারটা যে জব্দ করা হয়েছে সেটার তো ডকুমেন্টে থাকবে। জব্দ তালিকা দেখিয়েই তিনি (রেজওয়ান) ক্ষতিপূরণ চাইতে পারবেন।’

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেজওয়ানকে কম্পিউটার জব্দসংক্রান্ত কোনো নথি দেননি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান। তাকে কেবল এক হাজার টাকা জরিমানা করার একটি রসিদ দেয়া হয়েছে।

ম্যাজিস্ট্রেট কি কম্পিউটার পোড়ানোর ক্ষমতা রাখেন?
উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে চলে অভিযান

মোবাইল কোর্ট আইনের ১৪ ধারায় ‘সরল বিশ্বাসে কৃত কার্য রক্ষণ’ সংক্রান্ত সুরক্ষা দেয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধির অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত, বা কৃত বলিয়া বিবেচিত, কোন কার্যের জন্য কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে তিনি মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বা ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট বা মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সহিত সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা বা অন্য কোনো প্রকার আইনগত কার্যধারা রুজু করিতে পারিবেন না।’

এমন অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত কেউ কী করে আইনি প্রতিকার পাবেন, এমন প্রশ্নে জ্যোতির্ময় বড়ুয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আইনে তো আর সবকিছু লেখা থাকে না। আর এটা তো সরল বিশ্বাসে হয়েছে এমন কিছুও না।’

সাতক্ষীরার জজ কোর্টের অতিরিক্ত পিপি ফাহিমুল হক কিসলু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর কোনো বেআইনি দ্রব্য বা পণ্য পুড়িয়ে বা অন্য কোনোভাবে বিনষ্ট করতে গেলে আদালতের নির্দেশ থাকতে হবে। সে ক্ষেত্রে নিয়মিত মামলা হতে হবে, সেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থাকবেন। তারপর আদালত আলামত ধ্বংসের নির্দেশ দিলে তা ধ্বংস করা যেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘কম্পিউটারে কোনো অশ্লীল ছবি বা ভিডিও থাকলে শুধু সেগুলো নষ্ট করা যেতে পারে। তাই বলে কম্পিউটার পুড়িয়ে দেয়া আইনসিদ্ধ নয়।’

আরও পড়ুন:
রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে গৃহবধূ নিহত
ফতুল্লায় ভবনে বিস্ফোরণ: স্ত্রীর পর চলে গেলেন স্বামী
ফতুল্লায় ভবনে বিস্ফোরণ, আহত একজনের মৃত্যু
ফতুল্লায় ভবনের বিস্ফোরণ তদন্তে তিতাসের কমিটি
ফতুল্লায় বিস্ফোরণ রান্নাঘরের লিক হওয়া গ্যাস থেকে

শেয়ার করুন

‘ছেলের খুনের বিচার দেখে মরতে চাই’

‘ছেলের খুনের বিচার দেখে মরতে চাই’

ছুরিকাঘাতে নিহত এসএসসি পরীক্ষার্থী গোলাম রসুল। ছবি: নিউজবাংলা

রসুলের বাবা কাজী রওমোত বলেন, ‘আমার কোনো টাকা নাই। তাও আমি যেভাবেই হোক মামলা চালাব। যতই ভয় দেখাক, ছেলের খুনের বিচার দেখে মরতে চাই।’

মাগুরা সদরের বেরইলপলিতা গ্রামে ছুরিকাঘাতে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী খুনের মামলার ছয় দিন হয়ে গেলেও এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

নিহত গোলাম রসুলের বাবা কাজী রওমোত ২৮ জুলাই বেলা তিনটার দিকে মাগুরা সদর থানায় মামলাটি করেন। মামলার আসামি রসুলেরই ছয় সহপাঠী।

হত্যার সাত দিন হয়ে গেলেও মা সোহাগী বেগম এখনও ছেলের মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি। তিনি বারবার আহাজারি করে বলেন, ‘আমার বাজান মরে নাই। ওরে তোরা লুকায়ে রাখছিস।’

মামলার এজাহারে বলা হয়, ১৬ বছর বয়সী রসুল গঙ্গারাম কালীপ্রসন্ন টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র ছিল। তার বাবার স্থানীয় বাজারে চায়ের দোকান আছে।

২৭ জুলাই রাত পৌনে আটটার দিকে রসুল বাবার দোকান থেকে বাড়ির দিকে রওনা হয়। পথে বেরইলপলিতা দক্ষিণপাড়ায় নূর আলমের পাকা রাস্তার ব্রিজের পাশে তার বন্ধুরা তাকে থামায়।

সেখানে ফ্রি ফায়ার গেম নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। তারা তাকে মারধর করে। গেম নিয়ে আগে থেকেই রসুলের সঙ্গে বন্ধুদের বিরোধ ছিল। মারামারির একপর্যায়ে কেউ একজন তার বুকে ছুরিকাঘাত করে।

স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, মামলায় ছয়জনকে আসামি করা হলেও পুরো ঘটনার পরিকল্পনা করেছিল তার বন্ধু দশম শ্রেণির এক ছাত্র। রসুল তার মেইল আইডি ও পাসওয়ার্ড গোপনে ব্যবহার করে ফ্রি ফায়ার খেলত বলে সে প্রায়ই তাকে হুমকি দিত। এর জেরেই হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

রসুলের বড় বোন লিপিকা বেগম নিউজবাংলাকে জানান, রসুল তাদের দুই বোনের আদরের একমাত্র ভাই। সামনে বছর সে কলেজে যেত। স্বপ্ন ছিল, একদিন অভাবের এই সংসারের হাল ধরবে রসুল। বোনদের বিয়ের পর কে বাবা-মায়ের দেখাশোনা করবে, সেটিও তাদের ভাবিয়ে তুলছে।

লিপিকার অভিযোগ, ভাইয়ের মৃত্যুর পর ইদানীং অপরিচিত লোকজন তার বাবার দোকানে এসে শাসিয়ে যায়। তারা দরিদ্র মানুষ। ক্ষমতাসীনদের একটি বড় অংশ আসামিদের পক্ষ নিয়ে মামলা তুলে নিতে তাদের চাপ দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভাই খুন হওয়ার দুই দিন আগে কারা যেন তাকে উপজেলার মহম্মদপুরের পানিঘাটায় আটকে রেখেছিল। গলাও ছুরিও ধরেছিল। পুলিশ তাদের আটক করেছে বলে শুনেছি।’

এ বিষয়ে মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন জানান, পুলিশ এ ঘটনায় কাউকে আটক করেনি।

রসুলের বাবা কাজী রওমোত বলেন, ‘আমার কোনো টাকা নাই। তাও আমি যেভাবেই হোক মামলা চালাব। যতই ভয় দেখাক, ছেলের খুনের বিচার দেখে মরতে চাই।’

এ ঘটনায় মাগুরা সদর থানার ওসি জয়নাল আবেদীন জানান, অনেক কিছুই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের বয়স কম। পুলিশ আসামিদের পরিবারকে নজরে রেখেছে। চেষ্টা করা হচ্ছে তাদের আইনের আওতায় আনার।

এই খুনের ঘটনার মূলে যে মোবাইল গেম ছিল, সে বিষয়ে পুলিশ নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন ওসি।

আরও পড়ুন:
রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে গৃহবধূ নিহত
ফতুল্লায় ভবনে বিস্ফোরণ: স্ত্রীর পর চলে গেলেন স্বামী
ফতুল্লায় ভবনে বিস্ফোরণ, আহত একজনের মৃত্যু
ফতুল্লায় ভবনের বিস্ফোরণ তদন্তে তিতাসের কমিটি
ফতুল্লায় বিস্ফোরণ রান্নাঘরের লিক হওয়া গ্যাস থেকে

শেয়ার করুন

খাতুনগঞ্জে ক্রেতা নেই, পচে যাচ্ছে পণ্য

খাতুনগঞ্জে ক্রেতা নেই, পচে যাচ্ছে পণ্য

ক্রেতার অভাবে খাতুনগঞ্জের আড়তে পচে যাচ্ছে পণ্য। ছবি: নিউজবাংলা

খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাবেক সভাপতি ও তৈয়্যবিয়া ট্রেডার্সের মালিক সোলায়মান বাদশা বলেন, বাজারে ক্রেতা নেই। আড়তে পণ্য পচে যাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

ক্রেতার অভাবে দেশের বৃহৎ ভোগপণ্যের বাজার খাতুনগঞ্জের আড়তে পচে যাচ্ছে পণ্য। কাঁচাপণ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এরই মধ্যে এক হাজার বস্তা আদা ও রসুন পচে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

কাঁচা মসলার আড়ত হামিদুল্লাহ মিঞা মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, প্রতিবছর ঈদুল আজহা উপলক্ষে মার্কেটে কাঁচা মসলার চাহিদা থাকে। এই বছরও ঈদের আগে ব্যবসায়ীরা মসলার যোগান বাড়ান, কিন্তু লকডাউনে ক্রতা না থাকায় বিক্রি হয়নি। সব মসলা পচে যেতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে এক হাজার বস্তা আদা-রসুন পচে গেছে।

পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আরও পণ্য পচে যাবে বলে জানান এ ব্যবসায়ী।

খাতুনগঞ্জের আড়তে চীনের রসুন কেজি প্রতি ৮০ থেকে ৮২ টাকা, আদা বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৭৭ টাকায়। আর মিয়ানমারের আদা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪২ টাকা ও পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩২ টাকা কেজিতে।

ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের আগে যে আদা বিক্রি হয়েছিল ১৬০ টাকা কেজিতে, এখন সেই আদা ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। মিয়ানমারের আদা বিক্রি হয়েছিল ৬৫ টাকা করে, এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। রসুনও কেজিপ্রতি এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮২ টাকায়। যা ঈদের আগে বিক্রি হয়েছিল ১৭০ টাকায়। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়।

খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাবেক সভাপতি ও তৈয়্যবিয়া ট্রেডার্সের মালিক সোলায়মান বাদশা বলেন, বাজারে ক্রেতা নেই। আড়তে পণ্য পচে যাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

কাঁচাপণ্যের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ছিদ্দিক ট্রেডার্সের মালিক ওমর ফারুক বলেন, ‘বাজারে টান নেই। এজন্য আমদানি করা আদা-রসুন বন্দরে ফেলে রেখেছি। খালাস করেও লাভ নেই। বিক্রি হচ্ছে না।’

আরও পড়ুন:
রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে গৃহবধূ নিহত
ফতুল্লায় ভবনে বিস্ফোরণ: স্ত্রীর পর চলে গেলেন স্বামী
ফতুল্লায় ভবনে বিস্ফোরণ, আহত একজনের মৃত্যু
ফতুল্লায় ভবনের বিস্ফোরণ তদন্তে তিতাসের কমিটি
ফতুল্লায় বিস্ফোরণ রান্নাঘরের লিক হওয়া গ্যাস থেকে

শেয়ার করুন

খুলনা ও রাজশাহীতে ডেঙ্গু রোগী

খুলনা ও রাজশাহীতে ডেঙ্গু রোগী

কিছু দিন ধরে আতঙ্কজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা। ফাইল ছবি

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সোমবার ভর্তি হওয়া তিন রোগীর মধ্যে দুজনই শিশু। তাদের কারও বাড়ি খুলনা জেলার না হলেও পার্শ্ববর্তী এলাকায় হওয়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাজশাহীতে ভর্তি রোগী অবশ্য ঢাকা থেকেই আক্রান্ত হন।

ঢাকায় উদ্বেগ তৈরি করা মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিন এবং রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এক রোগী ভর্তি হয়েছে।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সোমবার ভর্তি হওয়া তিন রোগীর মধ্যে দুজনই শিশু। তাদের কারও বাড়ি খুলনা জেলার না হলেও পার্শ্ববর্তী এলাকায় হওয়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

রাজশাহী মেডিক্যালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগী হিলাড়ি স্বপন কর্মকারও একইদিন বিকেলে সেখানে যান। তার বাড়ি রাজশাহীতে হলেও পড়াশোনার জন্য ঢাকায় ছিলেন। সেখান থেকেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন তিনি।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সেখানে ভর্তি তিন রোগী হলো বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ৩২ বছরের সজীব, রামপাল উপজেলার বাঁশতলি এলাকার অপু বিশ্বাসের চার বছরের ছেলে অতিস ও নড়াইল লোহাগড়ার লুটিয়া এলাকার কানু ঘোষের ১০ বছরের ছেলে লিংকন ঘোষ।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘খুলনায় এখনও ডেঙ্গু প্রভাব বিস্তার করেনি। তবুও সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালে স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

‘প্রাথমিকভাবে ১০ শয্যার একটি ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করে ডেঙ্গু ওয়ার্ডের বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

খুলনার সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, ‘খুলনায় এখনও ডেঙ্গু আক্রান্ত কারও সন্ধান পাওয়া যায়নি। উপজেলাগুলোতে জ্বরের উপসর্গ নিয়ে কোনো রোগী আসলে করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গু টেস্টও করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত কিটের ব্যবস্থা রাখা আছে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ভর্তি স্বপনের বাড়ি নগরীর ডিঙ্গাডোবা বাগানপাড়া এলাকায়। তিনি ঢাকায় নর্দান ইন্টারন্যাশনাল নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী। সোমবার ভোরে তিনি রাজশাহীতে পৌঁছান। বিকেলেই হাসপাতালটিতে ভর্তি হন তিনি।

স্বপন জানান, তিনি নার্সিং কলেজের হোস্টেলে থাকেন। কয়েকদিন আগে তিনি অসুস্থ হওয়ায় সেখানে ডেঙ্গু পরীক্ষা করালে পজেটিভ রেজাল্ট আসে। এর পরই তিনি রাজশাহীতে চলে আসেন।

সোমবার রামেক হাসপাতালে ভর্তির পর ফের পরীক্ষা করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, এখানেও পরীক্ষায় পজেটিভ এসেছে। এখন ডেঙ্গুর চিকিৎসা চলছে। তবে শারীরিকভাবে এখনও ভালো আছেন।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘তিনি ঢাকাতেই আক্রান্ত হয়েছিলেন। এখানে আসার পর আমরা তাকে ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছি।

‘চলতি মৌসুমে এই হাসপাতালে এটিই প্রথম ডেঙ্গু রোগী। আমরা তাকে সুরক্ষা দিয়ে রাখছি। বুধবার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডকে ডেঙ্গু ওয়ার্ড করার পর তাকে সেখানে রাখা হবে।’

ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অবশ্য আগেই প্রস্তুতি নিয়েছে। ঈদের আগে ঢাকা থেকে অনেকেই যাওয়ায় ডেঙ্গু ছড়াতে পারে এমন আশঙ্কায় গত মাসের শেষ সপ্তাহেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নিয়ে রাখে।

আরও পড়ুন:
রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে গৃহবধূ নিহত
ফতুল্লায় ভবনে বিস্ফোরণ: স্ত্রীর পর চলে গেলেন স্বামী
ফতুল্লায় ভবনে বিস্ফোরণ, আহত একজনের মৃত্যু
ফতুল্লায় ভবনের বিস্ফোরণ তদন্তে তিতাসের কমিটি
ফতুল্লায় বিস্ফোরণ রান্নাঘরের লিক হওয়া গ্যাস থেকে

শেয়ার করুন

তিনি কখনও এসপি কখনও ডাক্তার

তিনি কখনও এসপি কখনও ডাক্তার

প্রতারণার অভিযোগে কামরুল হাসান সাদ্দাম নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ বলছে, প্রেমর সম্পর্কের এক পর্যায়ে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও তুলে রাখতেন সাদ্দাম। পরে তাদের সেসব দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করতেন।

কখনো পুলিশ সুপার, কখনো সেনা কর্মকর্তা আবার কখনো ডাক্তার পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে বেড়ানো এক যুবককে আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দুপুরে নওগাঁর পুলিশ সুপার (এসপি) প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।

নওগাঁ শহরের মল্লিকা ইন হোটেল থেকে সোমবার রাত ৮টার দিকে সদর থানা পুলিশ কামরুল হাসান সাদ্দামকে আটক করে।

২৮ বছর বয়সী সাদ্দাম যশোরের ঝিকরগাছা থানার আটুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, সাদ্দাম বিভিন্ন সময় নিজেকে পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক, গোয়েন্দা পুলিশ, ডাক্তার, সেনাবাহিনীর অফিসার, বড় ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে মেয়েদের সঙ্গে সখ্যতা বাড়তেন।

প্রেমর সম্পর্কের এক পর্যায়ে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও তুলে রাখতেন। পরে তাদের সেসব দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করতেন।

এসপি মান্নান বলেন, ছেলের মৃত্যুর পর বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন নওগাঁর এক উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যান। এ সুযোগে সাদ্দাম নিজেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পরিচয় দিয়ে ওই নারীর সঙ্গে মোবাইলে মা-ছেলের সম্পর্ক গড়ে তুলে যাতায়াত শুরু করেন।

তাকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনি টিকিটসহ বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে গত বছরের নভেম্বরে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেন সাদ্দাম। এরপর থেকে তাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন ওই নারী।

ওই ভাইস চেয়ারম্যান জানতে পারেন, সোমবার সাদ্দাম নওগাঁ শহরের একটি আবাসিক হোটেলে স্ত্রীকে নিয়ে অবস্থান করছেন। পরে তিনি থানাকে জানালে পুলিশ সাদ্দামকে আটক করে।

এসপি মান্নান জানান, এক বছর আগে শহরের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক করেন সাদ্দাম। পরে তার ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে রাখেন। তাকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে দেড় লাখ টাকা ও দুইটি ফাঁকা চেক হাতিয়ে নেন।

এরপর মেয়েটির দোতলা বাড়ির দিকে নজর পড়ে সাদ্দামের। ফাঁকা চেক ও গোপনে ধারণ করা ভিডিও দেখিয়ে মেয়েটিকে ব্ল্যাকমেইল করে গত রোববার তাকে বিয়ে করতে বাধ্য করেন।

পুলিশ প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিজ এলাকায় সাদ্দামের দুই স্ত্রীর সন্ধানে পায়। এ ছাড়া তার গ্রামের বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সাদ্দাম। তিনি অবৈধ ভার্চুয়াল মুদ্রা (বিট কয়েন) ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত।

এসপি বলেন, সাদ্দামের বিরুদ্ধে নওগাঁ সদর থানায় দুইটি মামলা হয়েছে। আদালতে তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম মামুন খান চিশতী, গাজিউর রহমান, সাবিনা ইয়াসমিন ও সদর মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম।

আরও পড়ুন:
রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে গৃহবধূ নিহত
ফতুল্লায় ভবনে বিস্ফোরণ: স্ত্রীর পর চলে গেলেন স্বামী
ফতুল্লায় ভবনে বিস্ফোরণ, আহত একজনের মৃত্যু
ফতুল্লায় ভবনের বিস্ফোরণ তদন্তে তিতাসের কমিটি
ফতুল্লায় বিস্ফোরণ রান্নাঘরের লিক হওয়া গ্যাস থেকে

শেয়ার করুন

সাগরে জেলেদের সংঘর্ষে প্রাণহানি

সাগরে জেলেদের সংঘর্ষে প্রাণহানি

খানখানাবাদ ইউপির চেয়ারম্যান বদর উদ্দিন জানান, সাগরে মাছ ধরা নিয়ে আনোয়ারার গহিরা এলাকার ও বাঁশখালীর খানখানাবাদ এলাকার জেলেদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে একজনের মৃত্যু হয়। খানখানাবাদ এলাকার জেলেদের একটি নৌকা ডুবিয়ে দেয়ায় এতে থাকা পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছেন।

চট্টগ্রামে বঙ্গোপসাগরে জেলেদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে এক জেলে নিহত হয়েছেন। সাগরে ডুবে নিখোঁজ আরও পাঁচ জেলে।

বঙ্গোপসাগরের বাঁশখালীর খানখানাবাদ অংশে মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নাছির উদ্দিনের বাড়ি খানখানাবাদ ইউনিয়নের কদম রসুল এলাকায়। নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি।

খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বদর উদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, সাগরে মাছ ধরা নিয়ে আনোয়ারার গহিরা এলাকার ও বাঁশখালীর খানখানাবাদ এলাকার জেলেদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে একজনের মৃত্যু হয়। খানখানাবাদ এলাকার জেলেদের একটি নৌকা ডুবিয়ে দেয়ায় এতে থাকা পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছেন।

নিহত নাছিরের মরদেহ তীরে আনতেও বাধা দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল কবির বলেন, ‘সংঘর্ষে বোট ডুবে এক জেলে নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়েছি। এখনও মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারিনি।’

আরও পড়ুন:
রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে গৃহবধূ নিহত
ফতুল্লায় ভবনে বিস্ফোরণ: স্ত্রীর পর চলে গেলেন স্বামী
ফতুল্লায় ভবনে বিস্ফোরণ, আহত একজনের মৃত্যু
ফতুল্লায় ভবনের বিস্ফোরণ তদন্তে তিতাসের কমিটি
ফতুল্লায় বিস্ফোরণ রান্নাঘরের লিক হওয়া গ্যাস থেকে

শেয়ার করুন

মিতু হত্যা: বাবুলের ‘প্রেমিকা’র তথ্য পেয়েছে পিবিআই

মিতু হত্যা: বাবুলের ‘প্রেমিকা’র তথ্য পেয়েছে পিবিআই

স্ত্রী মিতু নিহতের পর এক সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবুল আক্তার। ফাইল ছবি

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ‘মামলার এজাহারে ওই নারীর তথ্য রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে আমরা মনে করছি। এ জন্য ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশপ্রধান বরাবর রোববার একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে তার বর্তমান অবস্থানসহ একাধিক বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে।’

চট্টগ্রামে আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার আসামি সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের কথিত প্রেমিকা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

মঙ্গলবার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা নিউজবাংলাকে জানান, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) পক্ষ থেকে এসব তথ্য দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘তাদের কাছ থেকে আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি, যা মামলার তদন্তকাজকে এগিয়ে নেবে। তবে ওই নারী বর্তমানে কোথায় আছেন, সেটি নিয়ে আমাদের কোনো তথ্য দিতে পারেনি সংস্থাটি।’

২৩ মে ওই নারী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে ইউএনএইচসিআরকে চিঠি দিয়েছিল পিবিআই। গত জুলাই মাসের শেষ দিকে ওই চিঠির উত্তর পায় সংস্থাটি।

সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ‘মামলার এজাহারে তার তথ্য রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে ওই নারীর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে আমরা মনে করছি। এ জন্য ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশপ্রধান বরাবর রোববার একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে তার বর্তমান অবস্থানসহ একাধিক বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে।’

এর আগে বাবলুকে দেয়া তার কথিত প্রেমিকার দুটি বই ফরেনসিক পরীক্ষার কথা জানিয়েছে পিবিআই। তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, বই ল্যাবে পাঠানোর জন্য শিগগিরই আদালতে আবেদন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘বই দুটি আমরা জব্দ করেছি। এগুলোতে কিছু লিখিত বিষয় রয়েছে, যেগুলো পরকীয়ার সম্পর্ক নির্দেশ করে। মামলার তদন্তের স্বার্থে বই দুটির ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। এ জন্য আদালতের অনুমতি লাগবে। আমরা শিগগিরই পরীক্ষার জন্য আদালতে আবেদন করব।’

মিতু হত্যা মামলায় বাবুল আক্তারের সঙ্গে ইউএনএইচসিআরের ওই নারীকর্মীর পরকীয়া ছিল বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী ও মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থাকার সময় ২০১৩ সালে ইউএনএইচসিআরের কর্মীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন বাবুল। এ নিয়ে মিতুর সঙ্গে দাম্পত্য কলহ শুরু হয় বাবুলের। মিতুকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনও করেন বাবুল।

২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত সুদানে জাতিসংঘ শান্তিমিশনে ছিলেন বাবুল। এ সময় বাবুলের মোবাইল ফোনটি চট্টগ্রামের বাসায় ছিল। ওই মোবাইল ফোনে মোট ২৯ বার ম্যাসেজ দেন বাবুলের কথিত প্রেমিকা।

পিবিআই কর্মকর্তা জানান, বাবুলকে তার কথিত প্রেমিকার উপহার দেয়া একটি বইয়ের তৃতীয় পৃষ্ঠায় লেখা রয়েছে ‘05/10/13, Coxs Bazar, Bangladesh. Hope the memory of me offering you this personal gist. shall eternalize our wonderful bond, love you...’

শেষ পৃষ্ঠায় বাবুল আক্তার নিজের হাতে ইংরেজিতে তার কথিত প্রেমিকার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা লেখেন।

তিনি (বাবুল) লিখেছেন ‘First Meet: 11 Sep, 2013, First Beach walk 8th Oct 2013, G Birth day 10 October, First kissed 05 October 2013, Temple Ramu Prayed together, 13 October 2013, Ramu Rubber Garden Chakaria night beach walk.’

এজাহারে বলা হয়েছে, এই পরকীয়া প্রেমের কারণে বাবুল-মিতুর দাম্পত্য অশান্তি চরমে পৌঁছে। মিতু বাবুলের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়।

বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে স্ত্রী মিতুকে হত্যার অভিযোগে বাবুলের বিরুদ্ধে ১২ মে পাঁচলাইশ থানায় মামলা হয়। মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের করা ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সেদিনই বাবুলকে আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বের হওয়ার পর চট্টগ্রাম শহরের জিইসি মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মিতুকে।

ঘটনার পর তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তার পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে বাবুলের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ এই হত্যার জন্য বাবুলকে দায়ী করে আসছিলেন।

শুরু থেকে চট্টগ্রাম পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটির তদন্ত করে। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলাটির তদন্তের ভার পিবিআইকে দেয়।

আরও পড়ুন:
রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে গৃহবধূ নিহত
ফতুল্লায় ভবনে বিস্ফোরণ: স্ত্রীর পর চলে গেলেন স্বামী
ফতুল্লায় ভবনে বিস্ফোরণ, আহত একজনের মৃত্যু
ফতুল্লায় ভবনের বিস্ফোরণ তদন্তে তিতাসের কমিটি
ফতুল্লায় বিস্ফোরণ রান্নাঘরের লিক হওয়া গ্যাস থেকে

শেয়ার করুন