ঝুঁকিতে চার বাঁধ, আশ্রয়কেন্দ্রে জায়গা হবে না ৫০ হাজার মানুষের

সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কয়রায় বাঁধ মেরামত করা হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

ঝুঁকিতে চার বাঁধ, আশ্রয়কেন্দ্রে জায়গা হবে না ৫০ হাজার মানুষের

উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলার সাত ইউনিয়নে প্রায় চার লাখ মানুষের বসবাস। এর মধ্যে ঝুঁকিতে রয়েছে লক্ষাধিক মানুষ। কিন্তু ১১০টি আশ্রয়কেন্দ্রের ধারণ ক্ষমতা ৫০ হাজারেরও কম।’

খুলনা উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’। আগামী সোমবারে আঘাত হানার সম্ভাবনা থাকা এই সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে খুলনার কয়রা উপজেলা। জোয়ারের পানি বাড়লে ভেঙে যেতে পারে চারটি পয়েন্টের বাঁধ।

এর আগে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্থ বেশ কিছু বাঁধ মেরামত হলেও ঝুঁকি কমেনি। উপজেলা প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ওই বাঁধগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, কয়রা ইউনিয়নের কাঠমারচর, হাজৎখালি, গাজিপাড়া এলাকায় বাঁধের বেশ কয়েকটি জায়গা এখনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যদি জোয়ারের পানির তীব্রতা বাড়ে তাহলে যে কোনো মুহূর্তে পুরো এলাকা নোনা পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।

তারা অভিযোগ করেন, এখনও বাঁধের বিভিন্ন জায়গায় ফুটো করে পাইপ দিয়ে ঘেরে লবণ পানি ওঠানোয় বাঁধগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে।

খুলনার জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেন, ‘উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় বর্তমানে লঘুচাপ পরিস্থিতিতে রয়েছে। এটি ঝূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। পরে এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশের খুলনা উপকূলে পৌঁছতে পারে।’

খুলনা জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ৩৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে কয়রা উপজেলা।

কয়রার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিমেষ বিশ্বাস জানান, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় শুক্রবার উপজেলা পর্যায়ে প্রস্তুতি সভা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ২০ জন কর্মীকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারা উপজেলার ১১০টি আশ্রয়কেন্দ্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে মানুষ থাকার উপযোগি করছে।

উপজেলার চারটি বাঁধ ঝুকিপূর্ণ হিসাবে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ইউএনও বলেন, ‘শনিবার আমরা এগুলো পরিদর্শন করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধে মাটি ও জিও ব্যাগ দিয়ে সংরক্ষণ করছেন। এর মধ্যে উত্তর বেদকাশী ও দশালিয়ার বাঁধ দুটি বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।’

কয়রা উপজেলা চেয়াম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। তবে ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাবে যদি জোয়ারের পানির উচ্চতা বেড়ে যায়, বাঁধ টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বেশ কিছু এলাকায় বাঁধের উচ্চতা কম রয়েছে। জোয়ারের পানির উচ্চতা বাড়লে বাঁধ উপচে পানি ঢুকে পড়ে এবং বাঁধ ভেঙে যায়। বর্তমানে উপজেলার চারটি পয়েন্টে বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।’

ইতোমধ্যে এগুলো সংরক্ষণে পাউবো কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

উপজেলা চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘উপজেলার সাত ইউনিয়নে প্রায় চার লাখ মানুষের বসবাস। এর মধ্যে ঝুঁকিতে রয়েছে লক্ষাধিক মানুষ। কিন্তু ১১০টি আশ্রয়কেন্দ্রের ধারণ ক্ষমতা ৫০ হাজারেরও কম।’

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আজিজুল হক জোয়ারদার বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় জেলার ৩৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্রের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগানোর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। খাদ্যসামগ্রীও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকাগুলোতে মাইকিং করে সতর্ক করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ঝড়ের সংকেত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মন্ত্রীপুত্রের বাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন গ্যাসের অবৈধ ২২ সংযোগ

মন্ত্রীপুত্রের বাড়ি থেকে বিচ্ছিন্ন গ্যাসের অবৈধ ২২ সংযোগ

শুক্রবার বিকেলে ও শনিবার সকালে দুই দফায় এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় বলে জানিয়েছেন কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নূরুল আবসার সিকদার।

সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলামের ছেলে মুজিবুর রহমানের বাড়িতে থাকা গ্যাসের অবৈধ ২২টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

চান্দগাঁও সানোয়ারা আবাসিক এলাকা থেকে এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল)।

শুক্রবার বিকেলে ও শনিবার সকালে দুই দফায় এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় বলে জানিয়েছেন কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (কোম্পানি সচিব) মোহাম্মদ নূরুল আবসার সিকদার।

জালিয়াতি করে মুজিবুর রহমানকে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেয়া এবং স্থানান্তরের অভিযোগে বৃহস্পতিবার কেজিডিসিএল বর্তমান ও সাবেক দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে দুদক।

তারা হলেন মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং ও সার্ভিসেস) সরোয়ার হোসেন ও সাবেক ব্যবস্থাপক মুজিবুর রহমান।

শুক্রবার তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এই মামলায় অন্য তিন আসামি হলেন কেজিডিসিএলের সাবেক মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, টেকনিশিয়ান দিদারুল আলম এবং অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেয়া মুজিবুর রহমান।

দুদকের এজাহারে বলা হয়, হালিশহরে এমএ সালাম নামে একজনের নামে বরাদ্দ করা ১৮টি দ্বৈত চুলার সংযোগ থেকে ১২টি সংযোগ চান্দগাঁও সানোয়ারা আবাসিক এলাকায় স্থানান্তর করা হয়। মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ‘ভুয়া চুক্তিনামা’ দেখিয়ে এটি করা হয়। অথচ এক গ্রাহকের নামে বরাদ্দ সংযোগ অন্য গ্রাহককে দেয়ার বিধান নেই।

২০১৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাস সংযোগ দেয়া বন্ধ থাকলেও সানোয়ারা আবাসিক এলাকায় মুজিবুর রহমানের নামে আরও ১০টি সংযোগ দেয়া হয়।

২০১৬ সালের ২ মার্চ থেকে পরের বছরের ২ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব সংযোগ দেয়া হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় গত ৯ জুন দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিন পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

শেয়ার করুন

এবারও হচ্ছে না শাহজালাল মাজারের ওরস

এবারও হচ্ছে না শাহজালাল মাজারের ওরস

হযরত শাহজালাল (র.) মাজার প্রাঙ্গণ। ফাইল ছবি।

সংবাদ সম্মেলনে ফতেহ উল্লাহ বলেন, আগামী ১ ও ২ জুলাই শাহজালাল (র.) এর ৭০২ তম ওরস মোবারক যথাযথ আনুষ্ঠানিকতায় পালিত হওয়ার কথা। তবে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় অন্যান্য বছরের মতো আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হবে না। ভক্ত ও আশেকানদের স্ব স্ব স্থানে থেকে ইবাদত বন্দেগি করার অনুরোধ জানান তিনি।

সিলেটের সাতশ' বছরের ঐতিহ্য হযরত শাহজালাল (র.) মাজারের ওরস এবারও হচ্ছে না। করোনা সংক্রমণ উর্ধমুখী থাকায় গত বছরের মতো এবারও উরস আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাজার কমিটি।

সংবাদ সম্মেলনে শনিবার দুপুরে এ তথ্য জানান শাহজালাল (র.) মাজারের মতোয়াল্লি ফতেহ উল্লাহ আল আমান।

সাতশ' বছরের ধারাবাহিকতায় ছেদ ঘটিয়ে গত বছরই প্রথমবারের মতো ওরসের আয়োজন করা হয়নি। এবারও ওরস মোবারকের কোনো আনুষ্ঠানিকতা থাকছে না।

সংবাদ সম্মেলনে ফতেহ উল্লাহ বলেন, আগামী ১ ও ২ জুলাই শাহজালাল (র.) এর ৭০২ তম ওরস মোবারক যথাযথ আনুষ্ঠানিকতায় পালিত হওয়ার কথা। তবে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় অন্যান্য বছরের মতো আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হবে না। ভক্ত ও আশেকানদের স্ব স্ব স্থানে থেকে ইবাদত বন্দেগি করার অনুরোধ জানান তিনি।

এর আগে, করোনা পরিস্থিতিতে গত বছরও ৭০১ তম ওসর মোবারক আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়নি।

দরগাহ কর্তৃপক্ষ জানায়, করোনার কারণে কর্তৃপক্ষ কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের নিয়ে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা পালিত হবে। এ সময় মাজারের মূল ফটক বন্ধ থাকবে। ফলে সাধারণ মানুষজন প্রবেশ করতে পারবেন না।

প্রতিবছর ওরসের সপ্তাহখানেক আগে 'লাকড়ি ভাঙা' নামে এক ধরণের অনুষ্ঠান করা হয়। এবার লাকড়ি ভাঙা অনুষ্ঠানও হয়েছে সীমিত পরিসরে।

ইয়েমেন থাকা আসা পীর হযরত শাহজালাল (র.)-এর মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রতিব্ছর এই ওরসের আয়োজন করা হয়। দেশ-বিদেশ থেকে শাহজালালের লক্ষাধিক ভক্ত ওরস চালাকালে মাজার প্রাঙ্গণে সমেবত হন। দুইদিনব্যাপী ওরসে জিকির আসকার ও ধর্মীয় নানা আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন তারা।

শেয়ার করুন

‘সিরিয়াফেরত জঙ্গি’ ৩ দিনের রিমান্ডে

‘সিরিয়াফেরত জঙ্গি’ ৩ দিনের রিমান্ডে

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) রাছিব খান জানান, সাখাওয়াতের পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত তিনদিন দিয়েছে। তাকে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার ‘সিরিয়াফেরত জঙ্গির’ তিনদিনের রিমান্ড আবেদন গ্রহণ করেছে আদালত।

চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম হোসেন মো. রেজার আদালত শনিবার বিকেল ৪টার দিকে সাখাওয়াত আলীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) রাছিব খান নিউজবাংলাকে জানান, সাখাওয়াতের পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। তাকে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন শাখার উপপরিদর্শক (এসআই) আবছার উদ্দিন রুবেল জানান, ২০১২ সালে ভায়রাভাই আরিফ মামুনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামে যোগ দেন সাখাওয়াত। ওই সংগঠনের নেতা চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াসহ অন্যদের মাধ্যমে জিহাদি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

এরই অংশ হিসেবে ২০১৭ সালে সাখাওয়াত তুরস্কে যান। সেখান থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত দিয়ে সিরিয়ায় গিয়ে জঙ্গিনেতা হায়াত তাহরির আশরাকের কাছ থেকে ভারী অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নেন। সিরিয়ার ইদলিব এলাকায় প্রায় ছয় মাস প্রশিক্ষণ নেন তিনি।

পরে সিরিয়া থেকে ইন্দোনেশিয়ায় আসেন। সেখান থেকে শ্রীলঙ্কা হয়ে আবার ইন্দোনেশিয়ায় যান। চলতি বছর মার্চে তিনি দেশে ফিরে আসেন।

নগরীর দক্ষিণ খুলশী এলাকা থেকে শুক্রবার রাতে তাকে আটক করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। এ সময় তার কাছ থেকে নিষিদ্ধঘোষিত বই ও নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়।

আটকের পর শুক্রবার রাতেই এসআই রাছিব তার বিরুদ্ধে খুলশী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন।

আবছার উদ্দিন রুবেল বলেন, ‘আমরা আদালতে বলেছি, যদি তাকে রিমান্ডে নেয়া যায় তাহলে তার কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়া যাবে এবং এই নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের আরও সক্রিয় কর্মী যারা আছেন তাদেরকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হবে পুলিশ।’

শেয়ার করুন

আ.লীগের দুই পক্ষের হাতাহাতি, পুলিশের লাঠিচার্জ

আ.লীগের দুই পক্ষের হাতাহাতি, পুলিশের লাঠিচার্জ

মাদারীপুরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের হাতাহাতির ঘটনায় পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ছবি: নিউজবাংলা

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এহসানুল রহমান ভূঁইয়া বলেন, প্রতিবাদ থেকে একটা সময় উত্তেজিত নেতা-কর্মীরা পাশের বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের ঘটকচর শাখা এবং বেশ কয়েকটি দোকান-ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেন।

সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী ও মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান খানের বাবা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মৌলভি আছমত আলী খানকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে মানববন্ধনে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন তিন পুলিশসহ অন্তত ১৫ জন।

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সদর উপজেলার কলাবাড়ি এলাকায় শনিবার সকাল ১০টায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় মহাসড়কে ঘণ্টাখানেক যান চলাচল বন্ধ ছিল।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সম্প্রতি রাজৈরে এক অনুষ্ঠানে আছমত আলী খানকে নিয়ে কটূক্তি করে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লা। এ জন্য তার পদত্যাগের দাবিতে সকালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের কলাবাড়ি এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভের ডাক দেন শাজাহান খান সমর্থিত কর্মীরা।

একই সময় একই স্থানে সাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লার সমর্থকরা প্রতিবাদ সভার আয়োজন করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

পুলিশ জানায়, উত্তেজনার একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকেরা হাতাহাতি শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এহসানুল রহমান ভূঁইয়া বলেন, প্রতিবাদ থেকে একটা সময় উত্তেজিত নেতা-কর্মীরা পাশের বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের ঘটকচর শাখা এবং বেশ কয়েকটি দোকান-ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেন।

তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এ সময় নেতা-কর্মীদের হামলায় তিন পুলিশও আহত হয়।

এখন ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

নৌকার প্রার্থীর প্রচারে হামলা

নৌকার প্রার্থীর প্রচারে হামলা

বরগুনার আয়লা-পাতাকাটা ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর প্রচারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর হয় মোটরসাইকেল। ছবি: নিউজবাংলা

আওয়ামী লীগ মনোনীত ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মজিবুল হক কিসলু বলেন, ‘কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রচারে নেমেছিলাম। পথে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোশাররফ হোসেনের সন্ত্রাসী বাহিনী আমার সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। তাদের হামলায় অন্তত ১০ সমর্থক আহত হয়েছে। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে মোটরসাইকেল।'

বরগুনার আয়লা-পাতাকাটা ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর প্রচারে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

ইউনিয়নের নয়বাজার এলাকায় শনিবার দুপুর দুইটার দিকে এই হামলা হয়।

নৌকার প্রার্থীর অভিযোগ, স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা হামলা চালিয়ে ১০ জনকে আহত করে। এ সময় অন্তত ১২টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।

আয়লা-পাতাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার আশশাকুর ফিরোজ জানান, নৌকার প্রার্থী মজিবুল হক কিসলু দুপুর দুইটার পর মোটরসাইকেলে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচারে বের হন। নয়াবাজার এলাকায় পৌঁছালে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে তার সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালিয়ে দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়, ভাঙচুর করে ১২টি মোটরসাইকেল।

স্থানীয় বাসিন্দা জুলহাস মিয়া জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বেশ কিছু মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে চলে যায়।

নৌকার প্রার্থীর প্রচারে হামলা

আওয়ামী লীগ মনোনীত ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মজিবুল হক কিসলু বলেন, ‘কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রচারে নেমেছিলাম। পথে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোশাররফ হোসেনের সন্ত্রাসী বাহিনী আমার সমর্থকদের উপর হামলা চালায়। তাদের হামলায় অন্তত ১০ সমর্থক আহত হয়েছে। মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, ভাঙচুর করা হয়েছে ১২ টি মোটরসাইকেল।’

তিনি বলেন, ‘মোশাররফ হোসেন পরাজয় নিশ্চিত জেনে শুরু থেকেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। আজকের হামলাও তারই ধারাবাহিকতা।’

নৌকার প্রার্থীর প্রচারে হামলা

এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মোশাররফ হোসেনের মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম তারিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নৌকার প্রার্থীর প্রচারে হামলা

মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও পুড়িয়ে দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ওসি তারিক বলেন, ‘আলামত হিসেবে মোটরসাইকেলগুলো থানায় নিয়ে আসব। এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ করলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।’

শেয়ার করুন

সাত দিনের লকডাউনে নড়াইল

সাত দিনের লকডাউনে নড়াইল

শনিবার থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্তু আগামী সাতদিন নড়াইল পৌরসভা,লোহাগড়া পৌরসভা ও কালিয়া পৌরসভাসহ সদর উপজেলার কলোড়া,সিংগাশোলপুর,বিছালি ইউনিয়ন এবং লোহাগড়া উপজেলার শাল নগর ইউনিয়ন এলাকায় লকডাউন চলবে।

নড়াইলে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাত দিনের লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে করোনা প্রতিরোধ কমিটির এক জরুরি সভায় শুক্রবার রাত ৮টার দিকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় জানানো হয়, শনিবার থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্তু আগামী সাতদিন নড়াইল পৌরসভা, লোহাগড়া পৌরসভা ও কালিয়া পৌরসভাসহ সদর উপজেলার কলোড়া, সিংগাশোলপুর,বিছালি ইউনিয়ন এবং লোহাগড়া উপজেলার শালনগর ইউনিয়ন এলাকায় লকফডাউন চলবে।

লোহাগড়া উপজেলা প্রশাসন ও কালিয়া উপজেলা প্রশাসন করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এছাড়া করোনা ঠেকাতে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবে জেলা প্রশাসন।

করোনায় নড়াইলে ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত হয়েচেন ৫১ জন। এদের মধ্যে সদর উপজেলায় ৩৬, লোহাগড়া উপজেলায় ১২ ও কালিয়া উপজেলায় ৩ জন।

শেয়ার করুন

বেতন দাবিতে সড়কে চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা, পুলিশের লাঠিপেটা

বেতন দাবিতে সড়কে চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা, পুলিশের লাঠিপেটা

নারায়ণগঞ্জে বকেয়া পাওনার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছে পোশাককারখানার শ্রমিকরা। ছবি: নিউজবাংলা

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী নিউজবাংলাকে জানান, মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের জন্য আন্দোলনরত শ্রমিকদের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শ্রমিকরা এ আশ্বাস না মেনে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী ইপিজেড এলাকায় বকেয়া বেতনের দাবিতে শনিবার সকাল আটটা থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে একটি পোশাক কারখানার চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা।

স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, আদমজী ইপিজেডের সামনে কুনতুং এ্যাপারেলস লি. (ফ্যাশন সিটি) নামের পোশাক কারখানার চাকরিচ্যুত দুই শতাধিক শ্রমিক শনিবার সকাল আটটার দিকে নারায়ণগঞ্জ-আদমজী সড়কে এ বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বেতনের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। এতে দুই পাশে দীর্ঘ যানজট লেগে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বেলা ১১টার দিকে লাঠিপেটা ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় অন্তত ৫ শ্রমিক আহত হন। দুপুর ২টার দিকে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

গত মাসের বেতন চেয়ে কারখানা মালিকদের পক্ষ থেকে কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনরত এক শ্রমিক।

তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করেই আমাদের দুই শতাধিক শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। কিন্তু গত মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়নি আজও। এ জন্য চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে সকালে নারায়ণগঞ্জ-আদমজী সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় পুলিশ আমাদের লাঠিপেটা করে ও টিয়ার শেল মারে। এতে আমাদের অন্তত পাঁচ শ্রমিক আহত হয়েছেন।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী নিউজবাংলাকে জানান, মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের জন্য আন্দোলনরত শ্রমিকদের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শ্রমিকরা এ আশ্বাস না মেনে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা সড়ক অবরোধ করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন। পরে পুলিশ তাদের ধাওয়া, লাঠিপেটা ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

শেয়ার করুন