বৃষ্টি চেয়ে নামাজ, আহাজারি

বৃষ্টি চেয়ে নামাজ, আহাজারি

বৃষ্টির জন্য বিশেষ নামাজের এই ছবি নোয়াখালীর। ছবি: নিউজবাংলা

‘বৃষ্টি না হওয়ায় খাল-পুকুর-মাঠঘাট সব শুকিয়ে রয়েছে। খালের জমিতে ফাটল ধরেছে। আল্লাহ সবকিছুর মালিক। এ জন্য নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে রহমতের বৃষ্টির জন্য কেঁদেছি।’

বৃষ্টি চেয়ে ‘এস্তেস্কার’ নামাজ আদায় করা হয়েছে লক্ষ্মীপুর, খুলনা ও নোয়াখালীতে। তপ্ত রোদের মধ্যে মোনাজাতে বৃষ্টির জন্য মুসল্লিরা আহাজারি করেছেন। সবার কণ্ঠে ভেসে আসে রহমতের বৃষ্টি জন্য আবেদন।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের মুনছুর আহম্মদ বিদ্যালয়ের মাঠে শনিবার সকাল ১০টার দিকে নামাজ আদায় করেন দুই শতাধিক মুসল্লি। নামাজ শেষে দোয়া পরিচালনা করেন স্থানীয় চরমটুয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু তাহের।

খুলনার দৌলতপুরের ঐতিহ্যবাহী দেয়ানা উত্তরপাড়া স্কুলমাঠে স্থানীয় মুসল্লিদের উদ্যোগে বিশেষ নামাজ আদায় ও দোয়া হয়। নামাজ পরিচালনা করেন দৌলতপুর বাজার জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মুফতি রশিদ আহমেদ। নামাজ শেষে মুসল্লিরা আল্লাহর নৈকট্য লাভের ও গুনাহ মাফের প্রার্থনায় কান্নায় ভেঙে পড়েন।

নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বোর্ড স্কুলসংলগ্ন আল ফালাহ এরিয়া মসজিদ চত্বরে শনিবার বেলা ২টার দিকে বৃষ্টির জন্য এই বিশেষ নামাজ আদায় করা হয়। এতে শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন।

দেশের কয়েকটি জেলায় মাঝারি দাবদাহ চলছে। আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি হওয়ায় গরমের অনুভূতিও বেশি।

আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন শনিবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখন যে গরম আছে, সেটি শিগগিরই কমবে না। কাল বা পরশু কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। ২২ ও ২৩ মে একই রকম থাকবে। তবে এর চেয়ে গরম বাড়বে না। ২৪ তারিখের পর থেকে আশা করা যাচ্ছে তাপমাত্রা কমে যাবে, সঙ্গে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়বে।’

বৃষ্টি চেয়ে নামাজ, আহাজারি


বৃহস্পতিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে, যা উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। রংপুর, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগের কয়েক জায়গায় এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলসহ ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে দমকা, ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

মাঠে নামাজ শেষে কয়েকজন মুসল্লি বলেন, ‘কুশাখালীর অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। খালে পানি নেই। বৃষ্টি না হওয়ায় খাল-পুকুর-মাঠঘাট সব শুকিয়ে রয়েছে। খালের জমিতে ফাটল ধরেছে। আল্লাহ সবকিছুর মালিক। এ জন্য নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে রহমতের বৃষ্টির জন্য কেঁদেছি।’

কুশাখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মো. করিম বলেন, ‘দুই শতাধিক মুসল্লির উপস্থিতে বৃষ্টির জন্য নামাজ ও দোয়া করা হয়েছে। বৃষ্টি না হলে জমি আবাদ করা যাবে না। মাঠঘাট সব শুকিয়ে চৌচির হয়ে পড়েছে। আল্লাহর রহমতের আশায় সবাই যার যার অবস্থান থেকে দোয়া করছেন।’

লঘুচাপের বর্তমান অবস্থা

ভারতের উত্তর আন্দামান সাগর ও পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে, যে ঝড়ের নাম হবে ‘যশ’।

ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। সবশেষ উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ হয়ে আগামী ২৬ মে বুধবার বাংলাদেশের খুলনা উপকূলে পৌঁছতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আরিফ হোসেন বলেন, ‘যে লঘুচাপের কথা বলা হয়েছে, তা এখনও উৎপত্তি হয়নি। তবে এটার সম্ভাবনা রয়েছে। কাল (২২ মে) রাত বা পরশুদিন লঘুচাপ তৈরি হতে পারে। ২৪ মের দিকে একটা সাইক্লোন হতে পারে। এরপর ২৫ তারিখ মধ্যরাত বা ২৬ তারিখ সকাল নাগাদ এটা উপকূল অতিক্রম করবে। তবে সঠিকভাবে কোন উপকূল দিয়ে এটি অতিক্রম করবে, তা আর একটু সময় না গেলে বলা যাবে না। এটা হতে পারে উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গে প্রভাব ফেলতে পারে। আবার বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল দিয়েও বয়ে যেতে পারে।’

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী বুধবার সকালের দিকেই পশ্চিম বাংলায় আছড়ে পড়তে চলেছে ঘূর্ণিঝড় ‘যশ’। তার আগে মঙ্গলবার থেকেই উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে অল্প থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত শুরু হবে। ফাঁকা এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
তাপমাত্রায় স্বস্তি, বৃষ্টির অস্বস্তিতে কাটতে পারে ঈদ
বৃষ্টি হতে পারে ঈদের দিনও
সাত মাস পর বৃষ্টি এলো ‘আমের রাজধানীতে’
টানা তাপদাহের পর খুলনায় স্বস্তির বৃষ্টি
খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে বৃষ্টির জন্য নামাজ

শেয়ার করুন

মন্তব্য