টেকনাফের লোকালয়ে বন্য হাতি 

টেকনাফের লোকালয়ে বন্য হাতি 

শুক্রবার আনুমানিক রাত সাড়ে আটটার দিকে হাতিটি প্রথমে সদরের মিঠাপানির ছড়া এলাকার রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। পরে সেখান থেকে গ্রামবাসী ধাওয়া দিলে হাতিটি বনের দিকে চলে যায়। শনিবার সকালে আবার হাতিটি লেঙ্গর বিল এলাকার লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে বেশ কয়েকটি বসতঘর ও আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।

কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড় থেকে লোকালয়ে চলে এসেছে একটি বন্য হাতি।

টেকনাফ সদরের লেঙ্গর বিল এলাকার একটি পাহাড় থেকে শনিবার সকাল ৮টার দিকে হঠাৎ লোকালয়ে হানা দেয় বন্য হাতিটি।

এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকাবাসীদের মধ্যে। হাতিটি দেখতে ভিড় করেছেন তারা।

স্থানীয় লোকজন বন বিভাগকে হাতিটির সম্পর্কে জানায়। তবে বন বিভাগের লোকজন আসার আগেই গ্রামবাসী হাতিটিকে ধাওয়া দিয়ে পাশের বনে তাড়িয়ে দেয়।

স্থানীয় মো. আবদুল্লাহ জানান, শুক্রবার আনুমানিক রাত সাড়ে আটটার দিকে হাতিটি প্রথমে সদরের মিঠাপানির ছড়া এলাকার রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। পরে সেখান থেকে গ্রামবাসী ধাওয়া দিলে হাতিটি বনের দিকে চলে যায়।

তিনি আরও জানান, শনিবার সকালে আবার হাতিটি লেঙ্গর বিল এলাকার লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে বেশ কয়েকটি বসতঘর ও আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।

এদিকে, হাতিটি বনের দিকে চলে গেলেও আশঙ্কা কাটেনি এলাকাবাসীর।

স্থানীয় বাসিন্দা একরামুল হক জানান, হাতিটি খাবারের খোঁজে এসে সম্ভবত দলছুট হয়ে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করছে। হাতিটি আবারও লোকালয়ে এসে তাণ্ডব চালাতে পারে।

আবাসস্থল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ও চলাচলের পথ হারিয়ে সাধারণত বন্য হাতিগুলো লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে আক্রান্ত হন বাসিন্দারা। পাশাপাশি মানুষের হাতে মারাও পড়ছে হাতি।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে হত্যা করা হয়েছে ১২টি হাতি। এর মধ্যে ৮টি মারা গেছে বিদ্যুস্পৃষ্টে। বাকি ৪টিকে গুলি করে মারা হয়েছে।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত হাতির আক্রমণের শিকার হয়েছেন ৮৮ জন ব্যক্তি। এর মধ্যে মারা গেছেন অন্তত ৫১ জন।

আইইউসিএনের বাংলাদেশ কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ রাকিবুল আমীন বলেন, ২০১৯ সালে আইইউসিএনের গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশে হাতি চলাচলের পথ ও বিচরণের বনভূমিগুলো দখল হয়ে যাচ্ছে। ফলে খাদ্যসংকটে পড়েছে হাতি। প্রবেশদ্বার বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং খাবারসংকটের কারণে নিয়মিতভাবে লোকালয়ে হানা দিচ্ছে বিপন্ন এশিয়ান হাতি।

আইইউসিএনের হিসাবে, চট্টগ্রামের দক্ষিণ বন বিভাগে ৬৫টি হাতি রয়েছে। এরপরে কক্সবাজার দক্ষিণে ৬৩টি, উত্তরে ৫৪টি, লামা বন বিভাগের ৩০টি, বান্দরবানে ১১টি, পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণে ২৮টি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তরে ১৩টি বুনো হাতি বসবাস করে।

আইইউসিএনের বিপন্ন প্রাণীদের তালিকায় রয়েছে এশিয়ান হাতি।

আরও পড়ুন:
হাতির আক্রমণে কৃষকের মৃত্যু
ঈদ জমে হাতিরঝিলে
বন্যহাতির আক্রমণে দিশেহারা কৃষক
বন্যহাতির মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা
হাতির ছানার বাজে অভ্যাস

শেয়ার করুন

মন্তব্য